সারাদেশ
হাতিরঝিলে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর হাতিরঝিল-সংলগ্ন পশ্চিম চৌধুরী পাড়ার একটি বাসার দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে সোনিয়া (১৭) নামে এক কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সে ওই বাড়িতে গৃহ পরিচারিকার কাজ করত।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ (সোমবার) সকালের দিকে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
নিহত সোনিয়া ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বেপারী বাড়ির দুলাল ব্যাপারীর মেয়ে। সে হাতির ঝিলের চৌধুরী পাড়ার একটি বাসার দ্বিতীয় তলায় ইকবাল হোসেনের বাড়িতে গৃহ পরিচারিকার কাজ করত।
বাড়িওয়ালা ইকবাল হোসেনের মেয়ে নুসরাত জাহান জানান, গতরাতে তাদের কাজের মেয়ে সোনিয়া শয়নকক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে ছিল। পরে তার চিৎকারে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ওই কক্ষে গিয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে হাতিরঝিল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আইনি প্রক্রিয়ার শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেকের মর্গে পাঠায়।
তবে কী কারণে সোনিয়া এমন ঘটনা ঘটিয়েছে তা বাড়ির মালিকপক্ষের কেউ জানেন না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হাতিরঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দ্বীনবন্ধু রায় জানান, ‘রাতে খবর পেয়েই ওই বাসায় গিয়ে কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করি। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, নিজের ওপর অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে সে। এ বিষয়ে আমাদের তদন্ত শুরু হয়েছে।’
মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেকের মর্গে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৪৬ দিন আগে
মানিকগঞ্জে গরুচোর সন্দেহে দুইজনকে পিটিয়ে হত্যা
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে গরুচোর সন্দেহে দুইজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের ইমাননগর গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে।
নিহতরা হলেন— উপজেলার দশআনি গ্রামের মজনু মিয়া (৩৫) এবং ছয়আনি গ্রামের দ্বীন ইসলাম (২৩)।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, রাত ২টার দিকে ইমামনগর গ্রামের শাকিলের বাড়িতে গরু চুরি করতে যান মজনু ও দ্বীন ইসলাম। এ সময় বাড়ির লোকজন ও গ্রামবাসী টের পেয়ে তাদের ধাওয়া করে ধরে ফেলেন। এরপর উত্তেজিত জনতা তাদের পিটুনি দেন। এতে গুরুতর আহত হন মজনু ও দ্বীন ইসলাম।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত দুজনকে উদ্ধার করে সিংগাইর উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করার পরামর্শ দেন। এরপর রাতেই তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়। তবে আজ (সোমবার) সকাল ৬টার দিকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয় বলে জানান ওসি।
তিনি আরও জানান, লাশের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। নিহত মজনু ও দ্বীন ইসলামের বিরুদ্ধে সিংগাইর থানায় একাধিক চুরির মামলা রয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৪৬ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে খালে ভাসছিল ড্রাম, খুলতেই মিলল মরদেহ
সিদ্ধিরগঞ্জে খালে ভাসতে থাকা একটি ড্রামের ভেতর থেকে এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে দক্ষিণ কদমতলীর নয়াপাড়া খাল থেকে উদ্ধার করা হয় বলে জানান সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক।
নিহতের নাম মো. আলী (৩২)। তিনি ভোলার চরফ্যাশনের সাহাবুদ্দিনের ছেলে। মরদেহের আঙুলের ছাপ নিয়ে প্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানান ওসি।
ঘটনাস্থলে যাওয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুর আলম সিদ্দিকী বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খালে ড্রামটি ভাসতে দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। পরে তারা পুলিশে খবর দিলে ড্রামটি তীরে নিয়ে খুললে ভেতরে মরদেহ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে ওসি আব্দুল বারিক বলেন, নীল রঙের ড্রামটির ভেতর একটি রশি এবং নিহতের শরীরে আঘাতের বেশকিছু চিহ্নও পাওয়া গেছে। ওই ব্যক্তিকে হত্যার পর রাতের কোনো একসময় ড্রামের ভেতর লাশ ভরে খালে ফেলা হয়েছে বলে নিজের ধারণার কথা জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।
৪৬ দিন আগে
মুরগির দাম বেড়েছে, গিলা-কলিজায় সাধ মেটাচ্ছেন খুলনার নিম্ন আয়ের মানুষেরা
খুলনার বাজারগুলোতে শাকসবজির দাম কমলেও সব ধরনের মুরগির দাম বেড়েছে। দাম বাড়ায় নিম্ন আয়ের অনেকে ঝুঁকছেন মুরগির গলা, গিলা, কলিজা ও পা কেনার দিকে।
খুলনার কয়েকটি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সপ্তাহখানেক ধরেই দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রোটিনের সস্তা উৎস ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়তি। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি এখন ১৭০ টাকা, সাদা লেয়ার মুরগি ২৫০ টাকা এবং সোনালী ২৪০ টাকা দরে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ২০ টাকা। অন্যদিকে দেশি মুরগি ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাঝেমধ্যেই দাম বাড়ার কারণে নগরীর কয়েকটি বাজারে গত দুই-তিন বছরে জনপ্রিয়তা বেড়েছে মুরগির গলা, গিলা, কলিজা ও পায়ের। দামে তুলনামূলক সস্তা হওয়ায় নগরীর নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের নজর এখন এগুলোর দিকে।
মিস্ত্রীপাড়া বাজারে কথা হয় শিউলী বেগম নামের এক নারীর সঙ্গে। তিনি জানান, তার স্বামী একজন দিনমজুর। প্রতিদিন আয় করেন ৪০০ টাকা। ঘরভাড়া ও অনুসঙ্গিক খরচের কারণে সঞ্চয় বলতে কিছুই থাকে না। তাছাড়া অনেকদিন ভালোমন্দও খাওয়া হয় না তাদের। এদিন তিনি বাজার-সদাই শেষে যান মুরগির গিলা, গলা, কলিজা ও পা (সেট) কেনার জন্য।
তিনি বলেন, ‘প্রতি কেজি সেটের দাম একমাস আগেও ১০০ টাকা ছিল। বর্তমানে এর দামও বেড়ে গিয়ে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আজকে দোকানদারের সাথে ঝগড়া করে ১১০ টাকায় কিনেছি।’
শিউলী বেগম বলেন, ‘এক বছরের বেশি হয়ে গেল, গরুর মাংস তো দূরের কথা, মুরগিই কিনতে পারি না। গরুর মাংসের দাম বর্তমানে ৭৫০ টাকা। আমাদের মতো গরীব মানুষের পক্ষে কিনে খাওয়া সম্ভব না।’
রিকশাচালক হামিদ আলী বলেন, ‘আগে কখনো গিলা-কলিজা কিনতাম না। মুরগির দাম বেড়ে যাওয়ায় মুরগির স্বাদ এখন গিলা-কলিজা দিয়ে পূরণ করছি।’
ওই বাজারের গিলা-কলিজা ব্যবসায়ী ইয়াসিন হাওলাদার বলেন, গত কয়েক বছর ধরে তিনি এ ব্যাবসা করেন। করোনা মহামারীর পর থেকে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে মুরগির সেটের প্রতি চাহিদা বেড়েছে। প্রতিদিন ‘একশ থেকে দেড়শ’ মুরগির সেট বিক্রি করেন তিনি।
সাধারণ ক্রেতারা বলেন, বর্তমানে শাকসবজির দাম নিম্নমুখি হলেও মাছ, মাংসসহ অন্যান্য পণ্য ঊর্ধ্বমুখী। এতে এক ধরনের অর্থনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। বাজারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ভোক্তা অধিকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খুব একটা তদারকিমূলক অভিযান নেই বলে জানান সাধারণ ক্রেতারা।
৪৭ দিন আগে
ওসমানী হাসপাতালে ইন্টার্নদের কর্মবিরতি অব্যাহত, রোগীদের ভোগান্তি
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে আসা রোগী ও তাদের স্বজনেরা।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে ইন্টার্নদের উপস্থিতি কম দেখা যায়। বহির্বিভাগে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেক রোগী চিকিৎসক দেখা পাননি। জরুরি বিভাগে চিকিৎসা পেলেও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় সেবা নিতে বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগীদের।
হাসপাতালে আসা কয়েকজন রোগীর স্বজন জানান, দূরদূরান্ত থেকে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেকেই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে কষ্ট বেড়েছে।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু দাবি আদায়ে তারা এই কর্মবিরতিতে গেছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা। তবে জরুরি রোগীদের সেবা ব্যাহত না করতে সীমিত পরিসরে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
হাসপাতাল প্রশাসন বলছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনও পূর্ণমাত্রায় সেবা স্বাভাবিক হয়নি।
এর আগে, শুক্রবার রাতে এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় টানা কর্মবিরতিতে রয়েছেন হাসপাতালটির ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। ঘটনার পর তিনজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। এটি আমরা প্রত্যাহার করিনি, কারণ হাসপাতাল প্রশাসন এখনও আমাদের এই আশ্বাস দিতে পারেনি যে তারা চিকিৎসকদের জন্য নিরাপত্তা বাড়াবে বা কী পরিমাণ ফোর্স (নিরাপত্তা বাহিনী) তারা আমাদের দেবে।’
তিনি বলেন, ‘আজকে আবারও প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। আশা করি, বৈঠকের পর একটি সিদ্ধান্ত আসলে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করবেন।’
এদিকে, শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে হাসপাতালে নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে সিলেট হাসপাতাল প্রশাসন।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঈনুল জাকির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘হাসপাতাল প্রশাসন থেকে তিনজনের নাম উল্লেখ করে জিডি করে গিয়েছেন। আটক হওয়া তিন আসামিকে আমরা ইতোমধ্যে ৫৪ ধারায় আদালতে সোর্পদ করেছি।’
অন্যদিকে, নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির বলেন, ‘হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীদের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ঘটনার পর থেকেই হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছে। আশা করছি, দ্রুত একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো যাবে।’
৪৮ দিন আগে
সিলেট নগরীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ যুবক নিহত
সিলেট নগরীর তালতলা এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই তরুণ নিহত হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— সিলেট নগরীর মির্জাজাঙাল এলাকার বাসিন্দা ইমন দাস এবং জিন্দাবাজার এলাকার বাসিন্দা গৌরাঙ্গ দাসের ছেলে দীপ্ত দাস। দীপ্ত দাস একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের তালতলা শাখা জানায়, রাত ১টা ২৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পড়ে। দুর্ঘটনায় ২২ থেকে ২৩ বছর বয়সী দুই তরুণ ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খোরশেদ আলম জানান, নিহতদের লাশ ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পরিবারের সঙ্গে আলোচনার পর ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে, গতকাল (শনিবার) সকালে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরে তিনটি বাসের সংঘর্ষে দুজন নিহত হন। সুনামগঞ্জ সড়কে বাস ও পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে আরও একজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া জকিগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশুর প্রাণহানি ঘটে। রাতে তালতলার দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যুতে একদিনে মোট ছয়জনের মৃত্যু দেখল সিলেটবাসী।
৪৮ দিন আগে
মিরপুরের বাসায় ঝুলছিল শিক্ষার্থীর মরদেহ
রাজধানীর মিরপুর এলাকার একটি বাসায় সানজানা ইসলাম মিম (১৯) নামে এক শিক্ষার্থীর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি মিরপুরের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল ও কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান তার স্বজনরা। সেখানে জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক মেয়েটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত মিম বরগুনার চাঁদখালি এলাকার সাখাওয়াত মৃধার মেয়ে। বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি।
নিহতের ভাই জানান, ‘আমার বোন মেধাবী ছাত্রী ছিল। আমাদের সকলের অগোচরে একটি ছেলের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক হয়েছিল। পরে ওই ছেলের সঙ্গে অভিমান করে আজ সকালে নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে রাখে সে। বেশ কিছু সময় পেরিয়ে গেলে তার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে আমরা দরজা ভেঙে দেখি ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে আছে মিম। পরে দ্রুত অচেতন অবস্থায় তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জানান, আমার বোন আর বেঁচে নেই।
পুলিশ কর্মকর্তা মো. ফারুক বলেন, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
৪৮ দিন আগে
কুমিল্লায় সমাহিত হলেন উত্তরায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৩ জন
রাজধানীর উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের তিনজনকে কুমিল্লায় তাদের নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া কাজী বাড়ি প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
এর আগে, গতকাল (শুক্রবার) রাতে কুমিল্লা নগরীর দারোগা বাড়ি মাজার প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে নানুয়াদিঘীর বাসভবনে মরদেহগুলো রাখা হয়।
আজ সকালে মরদেহগুলো তাদের নিজ গ্রামে নিয়ে গেলে এলাকায় শোকের আবহ সৃষ্টি হয়। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশীসহ এলাকাবাসী নিহতদের এক নজর দেখার জন্য কাজী বাড়িতে ছুটে আসেন।
জানাজার নামাজে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ এলাকার শত শত মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
গতকাল রাজধানীর উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের একটি বহুতল ভবনে আগুন লেগে কাজী ফজলে রাব্বী (৩৭), তার স্ত্রী আফরোজা বেগম সুবর্ণা (৩০) এবং তাদের সন্তান কাজী ফায়াজ রিশান (৩) নিহত হন।
একমাত্র ছেলে রাব্বী, পুত্রবধূ ও আদরের নাতিকে হারিয়ে শোকে কাতর হয়ে পড়েছেন কাজী খোরশেদল আলম ও ফেরদৌস আরা বেগম দম্পতি। রাব্বীর মা কুমিল্লার নবাব ফয়জুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
ঢাকায় জানাজা শেষে মরদেহ রাতেই কুমিল্লায় নানুয়ার দিঘীরপাড়ের বাসায় আনা হয়। এরপর পার্শ্ববর্তী দারোগা বাড়ি জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। আজ (শনিবার) সকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া কাজী বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
৪৮ দিন আগে
উত্তরায় অগ্নিকাণ্ড: ময়মনসিংহে পাশাপাশি সমাহিত হলেন এক পরিবারের ৩ জন
রাজধানীর উত্তরায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৬ জনের মধ্যে তিনজনের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে। একই পরিবারের ৩ সদস্যের মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ পড়েছে পুরো গ্রাম। অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাবা, ছেলে ও ভাতিজিকে পাশাপাশি তিনটি কবরে দাফন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে বাড়ির পাশে জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, ঈশ্বরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের হাফিজ উদ্দিনের ছেলে হারেছ উদ্দিন (৪৭) ও শহীদুল ইসলাম (৪২) কাজের সন্ধানে ১৯৯৪ সালে ঢাকায় যান। দুই ভাই পরিবার নিয়ে রাজধানীর উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডের একটি বাসায় বসবাস করতেন। উত্তরা জমজম এলাকায় ফলের ব্যবসা করতেন তারা। গতকাল (শুক্রবার) সকালে ওই বাসায় অগ্নিকাণ্ডে হারেছ উদ্দিন, তার ছেলে রাহাব চৌধুরী (১৭) ও ভাই শহীদুল ইসলামের মেয়ে রোদেলা আক্তার (১৫) নিহত হয়। রাহাব উচ্চমাধ্যমিক ও রোদেলা অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ঈশ্বরগঞ্জের দড়িপাঁচাশি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, দড়িপাঁচাশি দারুর রহমান হাফিজিয়া মাদরাসা-সংলগ্ন মসজিদের পাশে পাশাপাশি তিনটি কবর খোঁড়া হয়েছে। মসজিদের সামনে বাঁশ কেটে রাখা হচ্ছে।
মসজিদের ইমাম ও খতিব আবদুল আজিজ বলেন, মাদরাসা ও মসজিদে নিয়মিত সহযোগিতা করতেন হারেছ উদ্দিন। এমন ভালো মানুষের মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না।
হারেছের দোকানে একসময় কাজ করতেন মনির হোসেন। তিনি বলেন, তিনি দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে এবং শহীদুল ইসলাম স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে বাসাটিতে থাকতেন। হারেছের তিন বছরের ছেলে আরহান চৌধুরীকে নিয়ে স্ত্রী মিরপুরে বেড়াতে গিয়েছিলেন। শহীদুলের স্ত্রী সকালে ছেলেকে নিয়ে হাঁটতে বের হয়েছিলেন। তিনি দোকানে চলে গিয়েছিলেন। এ সময় অগ্নিকাণ্ডে পরিবারের অন্য তিনজন মারা যান।
হারেছের চাচা নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা বেলা ১১টার দিকে মৃত্যুর খবর পাই। অগ্নিকাণ্ডে ৩ জন মানুষ মারা গেল। এমন মৃত্যুতে আমরা সবাই শোকাহত।
এই অগ্নিদুর্ঘটনায় মোট ৬ জন নিহত হয়েছে। অন্য তিনজনের বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায়। তাদেরও নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়েছে।
৪৮ দিন আগে
সুনামগঞ্জে বাস-পিকআপ সংঘর্ষ, পিকআপচালক নিহত, আহত ৮
সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি পিকআপ ভ্যানটির চালক ছিলেন। এ দুর্ঘটনায় বাসচালকসহ অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ এলাকার ঘোড়ারগাঁও গ্রামে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রাকিব হোসেন যশোরের মনিরামপুর উপজেলার বেগারিতলা বাজার এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সুনামগঞ্জগামী এনা পরিবহনের একটি বাস ঘোড়ারগাঁও এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের ফলে পিকআপ ভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে এবং এনা পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি ছোট খালে পড়ে যায়। এ সময় পিকআপের চালক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা এগিয়ে গিয়ে বাসের ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার কাজ শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়।
দুর্ঘটনায় আহত ৮ জনের মধ্যে বাসের চালক ও পিকআপের সামনের আসনে থাকা এক যাত্রী গুরুতর আহত হন। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের স্থানীয় ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
জয়কলস হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কুমার চৌধুরী জানান, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে ফাঁড়িতে নিয়ে আসি। বর্তমানে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। নিহতের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে, তারা যশোর থেকে সুনামগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।’
দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি সরিয়ে নিয়ে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন ওসি সুমন কুমার চৌধুরী।
৪৮ দিন আগে