সারাদেশ
ঝিনাইদহে নজর কাড়ছে বটগাছের ওপর ব্যতিক্রমী ক্যাফে
চোখের সামনে দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ মাঠ। পাশেই মৃদু হাওয়ায় দুলছে কাপাশহাটিয়া বাওড়ের জলরাশি। প্রকৃতির এই শান্ত, শীতল আবহাওয়া আর বাওড় পাড়ের উঁচু ঢিবির ওপর ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে এক প্রাচীন বটবৃক্ষ। সেই বটগাছের ডালে কাঠের মাচা বেঁধে তৈরি করা হয়েছে এক রেস্তোরাঁ; নাম ‘বৃক্ষ বিলাস ক্যাফে এন্ড রেস্টুরেন্ট’। যেখানে সিঁড়ি বেয়ে গাছের মগডালে উঠলেই দেখা মেলে চারপাশের সবুজ প্রকৃতি, কানে ভেসে আসে পাখির কিচিরমিচির।
ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার ঘোড়দহ গ্রামের বটগাছের ওপরে এই ব্যতিক্রমী রেস্তোরাঁটি ইতোমধ্যেই এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেছে। গ্রামের মেঠো পথ ধরে চলা মানুষ তো বটেই, শহরের যান্ত্রিক কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিন মানুষ যাচ্ছেন বৃক্ষ বিলাস ক্যাফে এন্ড রেস্টুরেন্টে।
এলাকার তরুণ সমাজকর্মী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ভিন্নধর্মী এই উদ্যোগ নিয়েছেন তার নিজ গ্রাম ঘোড়দাহ গ্রামের দুই কলেজপড়ুয়া তরুণ। কনক হোসেন ও আবির হাসান নামের এই উদ্যোক্তাদের সৃজনশীল চিন্তা ইতোমধ্যেই কৌতূহলী দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। চা ও কফিতে চুমুক দিতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছে বটগাছের উপর তৈরি করা এই রেস্তোরাঁয়।
২৬ দিন আগে
চট্টগ্রামে দুর্ঘটনায় নিহত দুই যুবকের বাড়ি ঝিনাইদহে
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় যাত্রীবাহী মারসা পরিবহনের দুটি বাসের সংঘর্ষে নিহতদের মধ্যে ঝিনাইদহের দুই যুবক রয়েছেন।
তারা হলেন— ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাজারগোপালপুর গ্রামের চাঁদ আলী বকসের ছেলে নাইমুর রহমান জিহাদ (২১) ও একই উপজেলার পোতাহাটী গ্রামের আনোয়ার হোসেনের একমাত্র ছিলে নাঈম (২২)।
তাদের নিহতের খবর নিশ্চিত করে সদর উপজেলার মধুহাটী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন জানান, জিহাদ ও নাঈমসহ তারা ৮ জনের একটি গ্রুপ কক্সবাজারে ঘুরতে গিয়েছিল। তাদের বহন করা যাত্রীবাহী বাসটি শনিবার (৯ মে) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের হোটেল ফোর সিজনের সামনে পৌঁছালে দুর্ঘটনা ঘটে। এতে তাদের আরও ৪ বন্ধু গুরুতর আহত হন বলেও ইউপি চেয়ারম্যান জানান।
এদিকে, পোতাহাটী গ্রামের গিয়াস উদ্দীন সেতু জানান, নাঈম ছিলেন সদা হাস্যোজ্জ্বল এক যুবক। তার আকস্মিক মৃত্যুতে গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে, নাঈম তার বাবার একমাত্র ছেলে ছিলেন বলে জানান তিনি।
সদর উপজেলার বাজারগোপালপুর গ্রামের মহিদুল ইসলাম জানান, যুবক নাইমুর রহমান জিহাদ বিজিবি সদস্য ছিলেন। তার চাকরির বয়সও বেশিদিন হয়নি। প্রশিক্ষণ চলাকালীন কষ্ট হয়ে যাওয়ায় জিহাদ তা ছেড়ে বাড়ি চলে আসেন। এরই মধ্যে এ দুর্ঘটনায় তার প্রাণ গেল। এমন মৃত্যুতে তার পরিবারসহ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নাইমুর রহমান জিহাদ ও নাঈম নামে দুই যুবকের মৃত্যুর তথ্য জানতে পেরেছেন। তাদের বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোতাহাটী ও বাজারগোপালপুর গ্রামে। তবে এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তর বা চট্রগ্রাম পুলিশ থেকে বিস্তারিত কোনো বার্তা পাওয়া যায়নি।
২৬ দিন আগে
চট্টগ্রামে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ৪
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন, যাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শনিবার (৯ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের ফোর সিজন এলাকায় দুই যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— মুহাম্মদ নাইম (২৩), নাইমুর ইসলাম জিহাদ (২৪), রেহানা বেগম ও মনির আহমদ (২৫)। নিহত জিহাদ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ—বিজিবির সদস্য বলে জানা গেছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন মুহাম্মদ মাসুম (৩০), আরাফাত (২২), দ্বীপ দত্ত (৩০) ও রিয়াজসহ (২৮) আরও অনেকে। গুরুতর আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের অনেকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত রয়েছে। কয়েকজনের হাত-পা ভেঙে গেছে এবং গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে।
লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অর্থোপেডিক্স বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. তাসফিক আহমেদ জানান, দুর্ঘটনায় আহত ৭ জনকে ট্রমা সেন্টারে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দ্রুতগতিতে আসা দুটি বাস ফোর সিজেন এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের বিকট শব্দে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়।
দুর্ঘটনায় আহত আরাফাত জানান, তারা মারছা পরিবহনের একটি বাসে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে একটি বিষয় নিয়ে বাসচালক মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। এরপরও একই চালক বাস চালাতে থাকেন। একপর্যায়ে কুয়াকাটা সড়ক এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একই কোম্পানির আরেকটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে তার দুই বন্ধু নিহত হন।
দোহাজারি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দীন চৌধুরী বলেন, দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ থাকলেও পরে পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
২৬ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় সালিশের আগেই প্রতিপক্ষের হামলা, নিহত ১
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র এলাকায় পাওনা টাকা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সালিস বৈঠকের আগেই সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনায় আলিম উদ্দিন (৫৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৮ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ডিঙ্গেদহ ইউনিয়নের মানিকডিহী গ্রামে শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মহিউল আলম সুজনের বাসভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত লিয়াকত আলীকে আটক করেছে।
নিহত আলিম উদ্দিন শংকরচন্দ্র গ্রামের মৃত ঝড়ু মণ্ডলের ছেলে।
নিহতের ভাই কালু মণ্ডল জানান, একই গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে আরিফ ব্যবসায়িক কাজে গোলাম রসুলের ছেলে জিয়ার কাছ থেকে ১৪ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা নেন। দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরতের আশ্বাস দিলেও তা পরিশোধ করা হচ্ছিল না। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিস বৈঠক হয়েছে।
তিনি বলেন, গতকাল (শুক্রবার) রাতে নতুন করে সালিসের আয়োজন করা হয়। জিয়া, তার চাচা আলিম উদ্দিনসহ কয়েকজন চেয়ারম্যানের বাসভবনের সামনে বসে ছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে আসেন লিয়াকত আলী, তার ছেলে আলামিন ও আরিফের ছেলে আরাফাত। তারা হঠাৎ করেই আলিম উদ্দিনের ওপর হামলা চালান।
কালু মণ্ডলের অভিযোগ, তারা আমার ভাইকে তলপেটে লাথি, কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে অভিযুক্ত লিয়াকত আলীকে নিজ হেফাজতে নেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. মহিউল আলম সুজন। পরে খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
শংকরচন্দ্র ইউপি চেয়ারম্যান মো. মহিউল আলম সুজন বলেন, পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষ আমার বাসভবনে এসেছিল। সালিস কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই হঠাৎ করে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে কিলঘুষি ও ইটের আঘাতে আলিম উদ্দিন মারা যান বলে জেনেছি।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাসিম বলেন, রাত সাড়ে ৯টার দিকে আলিম উদ্দিনকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, পাওনা টাকা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। অভিযুক্ত লিয়াকত আলীকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২৬ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুজন নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৮ মে) গভীর রাতে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— গোপীনাথপুর ইউনিয়নেন ধজনগরের বাতেনবাড়ি গ্রামের হেবজু মিয়ার ছেলে মোরছালিন। তিনি গোপীনাথপুর শাহআলম ডিগ্রী কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। অপরজন মধুপুর গ্রামের নবীর হোসেন (৪০)।
মরদেহ দুটি আগরতলার বিজিবি হাসপাতালে রয়েছে বলে নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
একই ঘটনায় বাংলাদেশি একাধিক তরুণ আহত হন। তবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চিকিৎসার জন্য তাদের কুমিল্লায় নেওয়া হয়েছে।
নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজন চোরাকারবারী রাতে মোরছালিনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে নিয়ে যায়। একই সময়ে নবীর হোসেনসহ কয়েকজন ওই সীমান্ত এলাকায় যান। এ সময় বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে গুলি করলে ঘটনাস্থলে মোরছালিন নিহত হন। পরে তার মরদেহ ভারতে নিয়ে যায় বিএসএফ। আহত নবীর হোসেনকেও ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. সবুর জানান, সীমান্তে গুলিতে দুজন মারা যাওয়ার খবর পেয়েছেন। এর মধ্যে নবীর হোসেনের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে তার কথা হয়েছে।
নবীর হোসেনের ছেলে মো. তপন জানান, তার বাবা সন্ধ্যা থেকেই বাড়িতে ছিলেন না। তিনি সীমান্ত এলাকায় যাওয়ার পর বিএসএফ গুলি করে তাকে নিয়ে যায়। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে বাবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন বলে তিনি জানান।
ধজনগর গ্রামের রিপন পাঠান বলেন, ‘আমি যতটকু জানি, রাতে ২০-২৫ জনের একটি দল কাটাতারের সামনে যায়। এ সময় তাদের লক্ষ্য করে বিএসএফ গুলি করলে মোরছালিন গুলিবিদ্ধ হয়। বাকিরা আহত হয়ে পালিয়ে যায়। মোরছালিন এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন বলে তার বড় ভাই আমাকে জানিয়েছেন।'
এ বিষয়ে চণ্ডিদ্বার বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার মো. মুইনুদ্দিন জানান, আমরা একজন নিহত হওয়ার খবর পেয়েছি। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম জানান, বিএসএফের গুলিতে একজন মারা যাওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।
২৬ দিন আগে
ঠাকুরগাঁওয়ে ২ নতুন উপজেলা, মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলাকে ভাগ করে নতুন দুটি উপজেলা ‘রুহিয়া’ ও ‘ভুল্লী’ উপজেলা গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন হওয়ায় এলাকায় আনন্দের জোয়ার বইছে।
এ খবরে বৃহস্পতিবার (৭ মে) থেকে শুক্রবার (৮ মে) পর্যন্ত রুহিয়া ও ভুল্লী এলাকার সাধারণ মানুষ মিষ্টি বিতরণসহ আনন্দমিছিল করেছে। একইসঙ্গে এই সিদ্ধান্তের জন্য বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তারা।
গত ৭ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২০তম বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে দেশের বিভিন্ন জেলার আরও কয়েকটি উপজেলা পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে বগুড়াকে সিটি করপোরেশন, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলাকে ভাগ করে মোকামতলা, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলাকে ভাগ করে ‘মাতামুহুরী’ এবং লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলাকে ভাগ করে চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা গঠনের প্রস্তাবও অনুমোদন পায়।
২২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা ছিল একটি বৃহৎ উপজেলা । দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক সুবিধা বৃদ্ধি ও সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সদর উপজেলাকে বিভক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয়রা। অবশেষে সেই দাবি বাস্তবায়নের পথে এগোনোয় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
২০১৩ সালের ২২ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া, রুহিয়া পশ্চিম, আখানগর, ঢোলারহাট ও সেনুয়া ইউনিয়ন নিয়ে রুহিয়া থানার কার্যক্রম শুরু হয়। এদিকে ২০২২ সালে ২৯ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বালিয়া, বড়গাঁও, দেবীপুর, গড়েযা ও শুখানপুকুরী ইউনয়িন নিয়ে ভুল্লী থানার কার্যক্রম শুরু হয়। তারপর থেকেই এলাকাবাসী থানা দুটিকে উপজেলায় রুপান্তরের দাবি জানিয়ে আসছিল।
রুহিয়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রুহিয়াকে উপজেলা করার দাবি জানিয়ে আসছিলাম। নানা সময় স্মারকলিপি দিয়েছি, মানববন্ধন করেছি, জনপ্রতিনিধিদের কাছে গিয়েছি; কিন্তু বাস্তবায়ন হচ্ছিল না। আজ সরকারের এই সিদ্ধান্ত আমাদের দীর্ঘদিনের সেই স্বপ্ন পূরণের দ্বার খুলে দিয়েছে। আমরা আশা করছি, খুব দ্রুত প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হবে এবং সাধারণ মানুষ সরাসরি উপজেলা পর্যায়ের সব সেবা পাবে। এতে আমাদের সময়, খরচ ও ভোগান্তি অনেক কমে যাবে।
ভুল্লী বাজারের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, ভুল্লী উপজেলা বাস্তবায়ন হলে এ অঞ্চলের অর্থনীতি অনেক গতিশীল হবে। নতুন নতুন সরকারি অফিস, ব্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে। আমরা বিশ্বাস করি, এটি শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এ অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
স্থানীয় তরুণরা বলেন, আমরা বিশেষভাবে বিএনপির মহাসচিব ও এলজিইডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্যারকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি বারবার এই অঞ্চলের মানুষের দাবি ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং এলাকার প্রতি দায়বদ্ধতার ফলেই আজ আমরা এই সুখবর পেয়েছি। নতুন উপজেলা বাস্তবায়ন হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগসহ সব খাতে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন ও সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী জানান, রুহিয়া ও ভুল্লী উপজেলার দাবি অনেক দিনের। আমাদের নির্বাচনি প্রচার চলাকালে এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতিও ছিল। আমাদের মহাসচিবমির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক রফিকুল হক বলেন, চলতি বছরেই দুই নতুন উপজেলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদী।
২৬ দিন আগে
গাজীপুরে স্ত্রী-সন্তানসহ ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় এক ব্যক্তির স্ত্রী, তিন কন্যাসন্তান ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত নারীর স্বামী ফোরকান পলাতক রয়েছেন।
শুক্রবার (৮ মে) গভীর রাতে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— ফোরকানের স্ত্রী, তাদের তিন কন্যাসন্তান এবং স্ত্রীর ভাই। তারা গোপালগঞ্জের বাসিন্দা এবং কাপাসিয়ার রাহাতখানা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
ফেকরান গাড়িচালক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করেন। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুর আলম জানান, পারিবারিক বিরোধের জেরে স্বামী ফোরকান স্ত্রী ও সন্তানদের হত্যা করে পালিয়ে গেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। তদন্ত ছাড়া বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।’
২৬ দিন আগে
মানিকগঞ্জে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, নিহত ৩
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় ট্রাক ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৮ মে) বিকেল ৬টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোশাররফ হোসেন।
এর আগে, আজ (শুক্রবার) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার উত্তর পাড়তিল্লী বিলপাড়া সেতুর পূর্ব পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে দুজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যান।
ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলের আরোহী আলমের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন মোটরসাইকেলচালক সোনা মিয়া (২২) ও অপর আরোহী কালু মিয়া (১৬)। পরে তাদের উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ২টার দিকে কালু মিয়া এবং বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সোনা মিয়া মারা যান।
ওসি মো. মোশাররফ হোসেন জানান, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
২৭ দিন আগে
রাজধানীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে ডেন্টাল হাসপাতালের কর্মচারী গুলিবিদ্ধ
রাজধানীর বনানীর মহাখালী পুরাতন কাঁচাবাজার এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে মো. রফিকুল ইসলাম (৪০) নামে মিরপুর ডেন্টাল হাসপাতালের আউটসোর্সিং কর্মচারী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।
গুলিবিদ্ধ রফিকুল বরগুনা সদরের ঘরবাড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুল রশিদের ছেলে। তিনি পরিবারের সঙ্গে মহাখালী আইপিএস স্টাফ কোয়ার্টারে বসবাস করতেন।
রফিকুলের বোন রাশেদা বেগম জানান, গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে মহাখালী পুরাতন কাঁচাবাজার এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলে চড়ে এসে ৫ থেকে ৬ জন লোক রফিকুলের পায়ে গুলি করেন। এরপর তারা পালিয়ে যান। আমার ভাইয়ের বাম পায়ে হাঁটুর নিচে গুলি লাগলে তিনি আহত হন। পরে আমরা খবর পেয়ে তাকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাই। তবে কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, আমরা সে বিষয়ে কিছুই জানি না।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, গত রাতে বাম পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়। বর্তমানে হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানিয়েছি।
২৭ দিন আগে
সিলেটে হাম উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়। মারা যাওয়া তিন শিশুর মধ্যে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। তাদের বয়স ছিল পাঁচ থেকে সাত মাসের মধ্যে।
মৃত শিশুরা হলো— সিলেট মহানগরীর আখালিয়া সুরমা আবাসিক এলাকার আবদুল মুমিনের ছেলে মাহাদি হাসান (৫ মাস), সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার সুন্নাহ মিয়ার ছেলে মুসতাকিন (৬ মাস) এবং সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সুরেশনগর এলাকার জাকারিয়ার মেয়ে জারা (৭ মাস)।
সর্বশেষ এই তিন শিশুসহ সিলেট বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ জনে।
এরই মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে একজন হাম আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে হাম শনাক্তকরণ পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪২ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সিলেটে ল্যাব টেস্টের সীমিত সুযোগ থাকায় উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীদের প্রাথমিকভাবে হামের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে কারও অবস্থা গুরুতর হলে তার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৫৩ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২৯ শিশু, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শিশু এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৮ শিশু ভর্তি রয়েছে। এছাড়া রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ শিশু এবং ফেঞ্চুগঞ্জ, শান্তিগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন করে ভর্তি হয়েছে।
আজ (শুক্রবার) সকাল পর্যন্ত বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ২৪১ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ১০৪ শিশু শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে রয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৫৮ শিশু, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৭ শিশু, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৫ শিশু, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯ শিশু, রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭ শিশু এবং সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এছাড়া, বাহুবল ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন করে, আজমিরিগঞ্জ, জামালগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন করে চিকিৎসা নিচ্ছে। আরও কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুইজন করে এবং কিছু স্থানে একজন করে রোগী ভর্তি রয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বিভাগজুড়ে প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ মানুষকে হামের টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে সাড়ে ১২ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৯৬ শতাংশের বেশি। আগামী ২০ তারিখ পর্যন্ত এই টিকাদান কার্যক্রম চলবে।
২৭ দিন আগে