সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে আসা রোগী ও তাদের স্বজনেরা।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে ইন্টার্নদের উপস্থিতি কম দেখা যায়। বহির্বিভাগে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেক রোগী চিকিৎসক দেখা পাননি। জরুরি বিভাগে চিকিৎসা পেলেও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় সেবা নিতে বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগীদের।
হাসপাতালে আসা কয়েকজন রোগীর স্বজন জানান, দূরদূরান্ত থেকে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেকেই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে কষ্ট বেড়েছে।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু দাবি আদায়ে তারা এই কর্মবিরতিতে গেছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা। তবে জরুরি রোগীদের সেবা ব্যাহত না করতে সীমিত পরিসরে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
হাসপাতাল প্রশাসন বলছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনও পূর্ণমাত্রায় সেবা স্বাভাবিক হয়নি।
এর আগে, শুক্রবার রাতে এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় টানা কর্মবিরতিতে রয়েছেন হাসপাতালটির ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। ঘটনার পর তিনজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। এটি আমরা প্রত্যাহার করিনি, কারণ হাসপাতাল প্রশাসন এখনও আমাদের এই আশ্বাস দিতে পারেনি যে তারা চিকিৎসকদের জন্য নিরাপত্তা বাড়াবে বা কী পরিমাণ ফোর্স (নিরাপত্তা বাহিনী) তারা আমাদের দেবে।’
তিনি বলেন, ‘আজকে আবারও প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। আশা করি, বৈঠকের পর একটি সিদ্ধান্ত আসলে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করবেন।’
এদিকে, শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে হাসপাতালে নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে সিলেট হাসপাতাল প্রশাসন।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঈনুল জাকির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘হাসপাতাল প্রশাসন থেকে তিনজনের নাম উল্লেখ করে জিডি করে গিয়েছেন। আটক হওয়া তিন আসামিকে আমরা ইতোমধ্যে ৫৪ ধারায় আদালতে সোর্পদ করেছি।’
অন্যদিকে, নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির বলেন, ‘হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীদের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ঘটনার পর থেকেই হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছে। আশা করছি, দ্রুত একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো যাবে।’