সারাদেশ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোটরসাইকেলে ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ২
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হয়েছেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উপজেলার সোনারামপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে সাইমন (২০) এবং একই গ্রামের মাকরুল মোল্লার ছেলে আব্দুর রহমান (২৩)।
আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল আলম চৌধুরী জানান, মোটরসাইকেলটির আরোহী ২ জন রাতে ওই মহাসড়কের সরাইলের বিশ্বরোড থেকে আশুগঞ্জ আসার পথে সোনারামপুর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ঘটনাস্থলে দুইজনই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। পরে পরিবাররের লোকজন তাদের মৃত্যুর খবর শুনে হাসপাতাল এসে তাদের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান ওসি।
৫০ দিন আগে
শরীয়তপুরে বোমা বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ৩, গ্রেপ্তার ১২
শরীয়তপুরের জাজিরায় ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ল। সর্বশেষ গুরুতর আহত নয়ন মোল্লা (২৫) রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ৯টার দিকে মারা যান। এ নিয়ে মোট ৩ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত ৮ জানুয়ারি ভোরে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই বেপারীকান্দি গ্রামে বোমা তৈরির সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই সোহান বেপারী (৩২) নিহত হন। ওইদিন বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নবীন হোসেন সরদার (২২)।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, ভোরে বোমা তৈরির সময় একটি টিনের ঘরে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে। ঘরের চালা উড়ে গিয়ে পাশের রসুনখেতে প্রায় আধা কিলোমিটার দূর থেকে সোহান বেপারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় নয়ন মোল্লা ও নবীন হোসেনকে প্রথমে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
ঘটনার পরদিন ৯ জানুয়ারি ভোরে জাজিরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় ৫৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামে আরও ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
‘এরপর শনিবার ও সোমবার ঘটনাস্থলে পুলিশ, সেনাবাহিনী, ডগ স্কোয়াড, অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের বোমা ডিসপোজাল টিম ও সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট যৌথ অভিযান চালায়। অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে গান পাউডার, স্প্রিন্টার, কাচের টুকরা, তারকাঁটা, স্কচটেপ, জর্দার কৌটা ও মার্বেল পাথরসহ বোমা তৈরির নানা আলামত উদ্ধার করা হয়।
পরে বিলাসপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান থেকে ৪৫টি বোমাসদৃশ বস্তু, ককটেল, বোমা তৈরির সরঞ্জাম, দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি, বড় হ্যামার, কুড়াল, মাছ ধরার কোচ, বিদেশি চাকু এবং একটি ড্রোন উদ্ধার করা হয়।’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যেখানে বিস্ফোরণ ঘটে সেই টিনশেড ঘরটি দুই মাস আগে আবু সিদ্দিক বেপারীর ছেলে সাগর বেপারী নির্মাণ করেন। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামী লীগের এক সহ-সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারী এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য আবদুল জলিল মাদবরের অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে অতীতে সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে।
গত বছরের ৫ এপ্রিল ও ২ নভেম্বর একই ইউনিয়নে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পৃথক মামলা হয়। তখন কুদ্দুস বেপারী ও জলিল মাদবর গ্রেপ্তার হলেও পরে কুদ্দুস জামিনে মুক্ত হয়ে আত্মগোপনে চলে যান। জলিল মাদবর এখনও কারাগারে রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, বোমা তৈরির সময় নিহত সোহান বেপারী কুদ্দুস বেপারীর অনুসারী ছিলেন এবং মামলার প্রধান আসামি নুরুল ইসলাম বেপারীর নির্দেশে কাজ করতেন। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় পুনরায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মদ বলেন, বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৫০ দিন আগে
নড়াইলে মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়ায় কিশোরের আত্মহত্যা
নড়াইলের কালিয়ায় মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়ায় মো. বাদল মোল্যা (১৪) নামে এক স্কুলছাত্র গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে কালিয়া উপজেলার চাঁচুড়ি ইউনিয়নের কালডাঙ্গা গ্রামে নিজের বাড়িতে আত্মহত্যা করে ওই কিশোর। আজ (বুধবার) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী।
বাদল কালডাঙ্গা গ্রামের মিঠু মোল্যার একমাত্র ছেলে এবং স্থানীয় পল্লীমঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল।
স্থানীয়রা জানান, বাদল মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার জন্য তার পরিবারের সদস্যদের জানায়। তবে তার পরিবার মোটরসাইকেল কিনে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেলে ছেলেটি বাড়ির পাশে বন্ধুদের সঙ্গে খেলা করে। এরপর বাড়ি ফিরে কোনো একপর্যায়ে নিজের ঘরে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেচিয়ে ফাঁস নেয়। পরে পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজতে ওই ঘরে গেলে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তিনি জানান, বাদল আর বেঁচে নেই।
পরে কালিয়া থানা পুলিশ খবর পেয়ে গতকাল রাতেই মরদেহটি হেফাজতে নেয়। মরদেহের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পরবর্তী সময়ে নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়।
ওসি ইদ্রিস আলী জানান, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে সেটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৫১ দিন আগে
বরিশালে জাল টাকাসহ ৪ কিশোর আটক
বরিশালে বিপুল অংকের জাল টাকাসহ ৪ কিশোরকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে কয়েক ঘণ্টা বরিশাল নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় জাল টাকা তৈরির একটি কম্পিউটার ও প্রিন্টার জব্দ করা হয়।
আটক কিশোররা হলেন— নগরীর হাসপাতাল রোড এলাকার শাওন (১৭), নথুল্লাবাদ এলাকার আলভি (১৮), ভাটিখানা এলাকার তানভীর (১৮) ও আলিফ (১৬)। তারা সবাই শিক্ষার্থী।
গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, গতকাল রাতে নগরীর বগুড়া রোড এলাকার বেলালের চায়ের দোকানে একশ টাকার একটি নোট দিয়ে শাওন ও আলিফ নামের দুই কিশোর সিগারেট কেনেন। তখন দোকানদারের নোটটি জাল মনে হলে তাৎক্ষণিক স্থানীয়দের জানান।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত বগুড়া রোডের বাসিন্দা মুন্না বলেন, ‘একশ টাকার নোটটি দেখে সন্দেহ হয়। এরপর তাদের একজনের শরীর তল্লাশি করে একশ টাকার আরও ৭টি নোট পাওয়া যায়। এ সময় তাদের আটকে রেখে পরে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়।’
নগর গোয়েন্দা পুলিশ কর্মকর্তা ফিরোজ জানান, ‘বগুড়া রোডের কয়েকজন বাসিন্দা ওই দুই কিশোরকে জাল টাকাসহ আটক করে তাদের হেফাজতে দেন। পরবর্তীতে শাওনের দেওয়া তথ্যে প্রথমে তানভীর নামের আরেক কিশোরের বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল অঙ্কের জাল টাকার একশ ও ৫০ টাকার নোট উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় জাল টাকা তৈরির একটি কম্পিউটার ও প্রিন্টার জব্দ করা হয়।’
তানভীরের দেওয়া তথ্যনুযায়ী নথুল্লাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আলভিকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৫১ দিন আগে
টঙ্গীতে আন্দোলন চলাকালে শতাধিক পোশাক শ্রমিক অসুস্থ
বেতন পরিশোধের দাবিতে গাজীপুরের টঙ্গীতে আন্দোলন চলাকালে ব্রাভো অ্যাপারেলস লিমিটেডের দুইটি কারখানার অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
বুধবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে হঠাৎ করে একের পর এক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়া হয় তাদের।
অসুস্থ শ্রমিকদের মধ্যে মা আওয়ার টাওয়ার ও আলম টাওয়ারে অবস্থিত কারখানার শ্রমিকরাই বেশি আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের দ্রুত টঙ্গী সরকারি হাসপাতালসহ আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, আক্রান্ত শ্রমিকদের অধিকাংশই বমি, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা ও অস্বস্তিজনিত উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। জরুরি বিভাগে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক রোগী আসায় কিছু সময়ের জন্য হাসপাতাল চত্বরে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও কারখানা সূত্র জানায়, নভেম্বর মাসের বেতন পরিশোধ না হওয়ায় শ্রমিকরা রবিবার (১১ জানুয়ারি) সারা দিন কর্মবিরতি ও আন্দোলন করেন। একই দাবিতে পরদিন সোমবার সকালে কাজে যোগ দিয়েও তারা পুনরায় আন্দোলন শুরু করেন। আন্দোলনের মধ্যেই হঠাৎ একে একে শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়তে শুরু করেন। তবে কী কারণে তারা অসুস্থ হয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাহিদ সুলতানা বলেন, আক্রান্ত শ্রমিকদের মধ্যে প্যানিক অ্যাটাক, বমি ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে অধিকাংশ শ্রমিকই আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, অসুস্থতার পরিপ্রেক্ষিতে গার্মেন্টস কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বসহ তদন্ত করছে।
৫১ দিন আগে
যশোরে সন্ত্রাসী গোল্ডেন সাব্বির আটক, অস্ত্র ও ককটেল উদ্ধার
যশোরে আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাব্বির হোসেন ওরফে গোল্ডেন সাব্বিরকে আটক করেছে র্যাব-৬ যশোরের সদস্যরা। অভিযানে তার ব্যবহৃত ফ্ল্যাট থেকে একটি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগাজিন ও ১৫টি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের একটি চারতলা ভবনের চতুর্থ তলার ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় র্যাব। অভিযানে নেতৃত্ব দেন র্যাব-৬ যশোরের কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফজলে রাব্বি।
আটক সাব্বির যশোর শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া এলাকার বাসিন্দা।
র্যাব সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে গোল্ডেন সাব্বির ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন এবং সেখান থেকেই তিনি তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা ও পরিচালনা করতেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে র্যাব সদস্যরা ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে তাকে আটক করেন। এ সময় ফ্ল্যাটের রান্নাঘর কার্নিশের ওপর বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ১৫টি ককটেল উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়াও ঘরের মধ্যে থেকে একটি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানায়, গোল্ডেন সাব্বিরের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক ও বিস্ফোরকসহ মোট ১০টি মামলা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে যশোরের অপরাধ জগতের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। এর আগেও ২০২০ সালে তাকে অস্ত্র, গুলি ও মাদকসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সে সময় তার সঙ্গে আরও দুই সহযোগীকেও আটক করা হয়েছিল।
র্যাবের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, আটক সাব্বিরের বিরুদ্ধে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া গেছে। উদ্ধার করা অস্ত্র ও ককটেল ব্যবহার করে যেকোনো সময় গুরুতর সহিংসতা ঘটানোর প্রস্তুতি ছিল তার। তাকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে মামলা দিয়ে যশোর কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
৫১ দিন আগে
পুলিশের ওপর হামলা করে আসামি ছিনতাই: ময়মনসিংহে গ্রেপ্তার ৭
ময়মনসিংহ সদরের দিঘারকান্দা এলাকায় মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়ার পথে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় আসামির বাবাসহ ৭ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতভর যৌথ বাহিনীর অভিযানে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে, ওইদিন বিকেলে দিগারকান্দা ফিশারি মোড় এলাকায় মামলার আসামি স্থানীয় আরিফুল ইসলামকে ধরতে গেলে তার পরিবারের লোকজন এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করেন। এ সময় হামলাকারীরা পাঁচ পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে জখম করে আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যান।
অভিযানে পুলিশের দলটির নেতৃত্বে ছিলেন ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ। আহত হয়ে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, কয়েকদিন আগে রাসেল নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগে দিঘারকান্দা এলাকার সাগর আলীর ছেলে আরিফুল ইসলামসহ কয়েকজনের নামে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা হয়। গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেলে আমার নেতৃত্বে পুলিশের পাঁচ সদস্যের একটি দল দিগারকান্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে নিয়ে আসার সময় আরিফুলের বাবা সাগর আলীর নেতৃত্বে এলাকাবাসী লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের পিটিয়ে গুরুতর জখম করে হাতকড়া পরিহিত আরিফুলকে ছিনিয়ে নিয়ে যান তারা।
খবর পেয়ে পুলিশ, র্যাব ও সেনা সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থল পৌঁছে আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমকে) হাসপাতালে ভর্তি করান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল রাতেই আরিফুলের বাবা সাগর আলীসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান তিনি।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ মমেক হাসপাতালের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
ওসি আরও জানান, পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ আরিফুল ইসলামকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। এছাড়া রাতভর অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
৫১ দিন আগে
পদ্মায় কুমির, রাজবাড়ীর নদীপাড়ে আতঙ্ক
রাজবাড়ী সদর উপজেলার পদ্মা নদীতে মাঝারি আকারের একটি কুমিরের দেখা মিলেছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) উপজেলার উড়াকান্দা এলাকায় পদ্মা নদীতে দুপুরের পর মাঝেমধ্যে কুমিরটিকে ভেসে উঠতে দেখেন স্থানীয়রা। এর আগেও একাধিকবার কুমিরটিকে দেখা গেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বরাট ইউনিয়নের ২৮ নম্বর উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পদ্মা নদীতে গত দুই দিন ধরে মাঝেমধ্যে একটি কুমির ভেসে উঠতে দেখা যাচ্ছে। নদীর ওই জায়গায় স্থানীয়রা নিয়মিত গোসল করেন। ফলে তাদের মধ্যে বাড়তি আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
উড়াকান্দা এলাকার বাসিন্দা শামীম মোল্লা জানান, গত তিন দিন ধরে মাঝেমধ্যে কুমিরটি ভেসে উঠছে। সকালে এক গৃহবধূ নদীতে কাপড় ধোয়ার জন্য গেলে কুমিরটি দেখে ভয়ে চিৎকার করে পালিয়ে যান।
২৮ নম্বর উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশেদুল হাসান বলেন, গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুরে স্থানীয় লোকজন কুমির দেখতে নদীর পাড়ে ভিড় করেন। হঠাৎ বিদ্যালয়ের সামনে নদীতে কুমির দেখতে পাওয়ায় আমরাও আতঙ্কের মধ্যে আছি। কারণ অনেক সময় স্থানীয়দের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও নদীতে গোসল করে থাকে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
আজ (বুধবার) সকালে রাজবাড়ী সামাজিক বনায়ন নার্সারি এবং প্রশিক্ষণকেন্দ্রের সহকারী বন সংরক্ষক (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) সানজিদা সুলতানা বলেন, গতকাল বিকেলে আমরা পদ্মা নদীতে কুমির দেখা পাওয়ার খবর জানতে পেরেছি। এলাকাবাসীর সচেতনতার জন্য আজ এলাকায় মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করেছি।
তিনি বলেন, কুমিরের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য বন বিভাগ কয়েকদিন নদীপাড়জুড়ে পাহারা দেবে। এরপর কুমিরটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিরুপমা রায় বলেন, গতকাল রাত ৮টার পর আমি কুমিরের বিষয়টি জানতে পারি। এরপর উড়াকান্দা এলাকার পদ্মা নদীতে আপাতত কেউ যাতে না নামেন, সেজন্য আজই নদীপাড়ে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড স্থাপন এবং লাল কাপড় টানাতে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের বলেছি।
পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন থেকেও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে বাড়তি নজরদারি করতে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।
৫১ দিন আগে
আলমগীর হত্যা মামলা: জামাই ও শুটারের স্বীকারোক্তিতে আরও একজন গ্রেপ্তার
যশোরের বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত শাহিন কাজী (২৫) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে শহরের লোন অফিস পাড়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুরে শাহিনকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম তার জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আটক শাহিন যশোর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁচড়া রায়পাড়া (তুলোতলা মোড়) এলাকার কিসলু কাজীর ছেলে। তিনি যশোর শহরের লোন অফিস পাড়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী (নিহতের জামাই) বাসেদ আলী পরশ ও তার সহযোগী আসাবুল ইসলাম সাগর রিমান্ডে থাকাকালীন শাহিন কাজীর নাম উল্লেখ করেন।
পরবর্তীতে গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার হওয়া শুটার ত্রিদিব চক্রবর্তী মিশুক আদালতে দেওয়া তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতেও শাহিননের নাম প্রকাশ করেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) অলক কুমার দে সোমবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে লোন অফিস পাড়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেন।
পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং আগে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শাহিন কাজী এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। ভাড়াটে খুনী ও পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে সমন্বয় এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার বিষয়ে তার বিরুদ্ধে তথ্য রয়েছে। শাহিন কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাদিসহ তিনটি মামলা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শামীমা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত নিহতের জামাই পরশ, সহযোগী সাগর, মূল শুটার ত্রিদিব এবং সর্বশেষ শাহিন কাজীসহ মোট ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অলক কুমার দে জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকিদের ধরতে এবং হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৫১ দিন আগে
রেলওয়ের অবহেলায় ধুঁকছে আমনুরা জংশন, যাত্রী দুর্ভোগ চরমে
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আমনুরা রেলওয়ে জংশন দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার হয়ে আছে। ১৯০৯ সালে আব্দুলপুর–মালদা রেললাইনের অংশ হিসেবে নির্মিত এই জংশনের যাত্রী ছাউনি প্রায় দেড় দশক আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে খোলা আকাশের নিচেই ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের।
স্টেশন এলাকায় নেই সুপেয় পানির ব্যবস্থা, নেই শৌচাগার কিংবা বসার উপযোগী অবকাঠামো। এতে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। যাত্রীদের ভাষ্য, বর্ষা ও শীত মৌসুমে এই দুর্ভোগ আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাইপাস রেললাইন নির্মাণের পর থেকে আমনুরা জংশনে ট্রেনের যাত্রাবিরতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর ফলে জেলা শহরের সঙ্গে রেল যোগাযোগে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ফলে স্থানীয় শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের চলাচলে বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
আব্দুর রাকিব নামে এক যাত্রী বলেন, ‘এক সময় এই স্টেশন ছিল এলাকার মানুষের প্রধান ভরসা। এখন এখানে কোনো সুবিধা নেই। রোদ–বৃষ্টি মাথায় নিয়েই ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।’
৫১ দিন আগে