শরীয়তপুরের জাজিরায় ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ল। সর্বশেষ গুরুতর আহত নয়ন মোল্লা (২৫) রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ৯টার দিকে মারা যান। এ নিয়ে মোট ৩ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত ৮ জানুয়ারি ভোরে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই বেপারীকান্দি গ্রামে বোমা তৈরির সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই সোহান বেপারী (৩২) নিহত হন। ওইদিন বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নবীন হোসেন সরদার (২২)।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, ভোরে বোমা তৈরির সময় একটি টিনের ঘরে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে। ঘরের চালা উড়ে গিয়ে পাশের রসুনখেতে প্রায় আধা কিলোমিটার দূর থেকে সোহান বেপারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় নয়ন মোল্লা ও নবীন হোসেনকে প্রথমে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
ঘটনার পরদিন ৯ জানুয়ারি ভোরে জাজিরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় ৫৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামে আরও ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
‘এরপর শনিবার ও সোমবার ঘটনাস্থলে পুলিশ, সেনাবাহিনী, ডগ স্কোয়াড, অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের বোমা ডিসপোজাল টিম ও সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট যৌথ অভিযান চালায়। অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে গান পাউডার, স্প্রিন্টার, কাচের টুকরা, তারকাঁটা, স্কচটেপ, জর্দার কৌটা ও মার্বেল পাথরসহ বোমা তৈরির নানা আলামত উদ্ধার করা হয়।
পরে বিলাসপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান থেকে ৪৫টি বোমাসদৃশ বস্তু, ককটেল, বোমা তৈরির সরঞ্জাম, দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি, বড় হ্যামার, কুড়াল, মাছ ধরার কোচ, বিদেশি চাকু এবং একটি ড্রোন উদ্ধার করা হয়।’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যেখানে বিস্ফোরণ ঘটে সেই টিনশেড ঘরটি দুই মাস আগে আবু সিদ্দিক বেপারীর ছেলে সাগর বেপারী নির্মাণ করেন। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামী লীগের এক সহ-সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারী এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য আবদুল জলিল মাদবরের অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে অতীতে সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে।
গত বছরের ৫ এপ্রিল ও ২ নভেম্বর একই ইউনিয়নে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পৃথক মামলা হয়। তখন কুদ্দুস বেপারী ও জলিল মাদবর গ্রেপ্তার হলেও পরে কুদ্দুস জামিনে মুক্ত হয়ে আত্মগোপনে চলে যান। জলিল মাদবর এখনও কারাগারে রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, বোমা তৈরির সময় নিহত সোহান বেপারী কুদ্দুস বেপারীর অনুসারী ছিলেন এবং মামলার প্রধান আসামি নুরুল ইসলাম বেপারীর নির্দেশে কাজ করতেন। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় পুনরায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মদ বলেন, বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।