সারাদেশ
জুলাই যোদ্ধা সুরভী রিমান্ডে, মুক্তির দাবিতে গাজীপুরে বিক্ষোভ
প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেপ্তার আলোচিত জুলাই যোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (৫ জানুয়ারি) আদালতের বিচারক এই আদেশ দেন।
এদিকে, তার মুক্তির দাবিতে অভ্যুত্থানকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ব্যানারে আদালত এলাকায় বিক্ষোভ করা হয়েছে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের নেতারা সেখানে বক্তব্য রাখেন। এছাড়া, গারদখানা থেকে প্রিজনভ্যানে তোলার সময় তাহরিমা নিজেও নানা কথা বলে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন।
গত বছরের ২৬ নভেম্বর গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় তার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। পরে গত ২৫ ডিসেম্বর টঙ্গীর বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন তাহরিমা জামান সুরভী।
৬০ দিন আগে
দুপুর থেকে গ্যাস থাকবে না সিলেটের যেসব এলাকায়
জরুরি সংস্কার কাজের কারণে আজ সোমবার সিলেট মহানগরীর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
জালালাবাদ গ্যাস টি অ্যান্ড ডি সিস্টেম লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. আব্দুল মুকিতের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খাদিম ডিআরএস থেকে চামেলিবাগ, নূরপুর, মোহাম্মদপুর, পূরবী আবাসিক এলাকা, ইসলামপুর, শ্যামলি আবাসিক এলাকা, টেক্সটাইল রোড, রাজপাড়া, মেজরটিলা, টিলাগড় পয়েন্ট, লামাপাড়া ও তৎসংলগ্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কারিগরি কারণে কাজ শেষ হওয়ার সময় কিছুটা কম বা বাড়তে পারে।
মো. আব্দুল মুকিত গ্রাহকদের সাময়িক এই অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
৬০ দিন আগে
যশোরে এবার জুলাই যোদ্ধা এনাম সিদ্দিকিকে ছুরিকাঘাত
জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হওয়া যশোরের এনাম সিদ্দিকিকে এবার ছুরিকাঘাত করেছে দুর্বৃত্তরা।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়নের এনামের নিজ গ্রাম এনায়েতপুরে এ ঘটনা ঘটে।
আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের মৃত খন্দকার আমিনুল্লাহর ছেলে। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় উত্তরায় পুলিশের গুলিতে মাথায় আঘাত পেয়ে তিনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন।
এনামের স্বজনেরা জানান, রবিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এনাম সিদ্দিকি হাঁটাহাঁটির উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। এ সময় এনায়েতপুর পীরবাড়ির সামনে অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি তার গতিরোধ করে। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা প্রথমে লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে, পরে ডান বুকে, বাঁ হাতের বাহু ও কাঁধে চাকু দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায়। এতে তিনি গুরুতর জখম হন। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে আহত অবস্থায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিচিত্র মল্লিক জানান, এনামের শরীরের কয়েকটি স্থানে জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে তিনি এখন আশঙ্কামুক্ত।
ঘটনার খবর শুনে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। তার নির্দেশে দলীয় নেতা-কর্মীরা দ্রুত হাসপাতালে ছুটে আসেন এবং এনাম সিদ্দিকির চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বানচাল করতেই পরিকল্পিতভাবে জুলাই যোদ্ধাদের টার্গেট করা হচ্ছে। দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৬১ দিন আগে
শরীয়তপুরে খোকন দাস হত্যার ঘটনায় তিন অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
শরীয়তপুরের ফার্মেসির মালিক ও বিকাশের এজেন্ট খোকন দাস (৫০) হত্যার ঘটনায় প্রধান তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে আসামি সোহাগ, রাব্বি ও পলাশকে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ।
র্যাব-৮ ও ইন্ট উইং, জানায়, র্যাব-১৪, সিপিসি-২ ও কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের একটি অভিযানিক দল কোম্পানি কমান্ডার এএসপি শাহজাহানের নেতৃত্বে আসামি সোহাগ, রাব্বি ও পলাশকে কিশোরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে।
শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার রওনক জাহান জানান, পরেশ দাসের ছেলে খোকন দাস একজন ওষুধ ও বিকাশ ব্যবসায়ী। তিনি গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টায় কেহরভাঙ্গা বাজারস্থ নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির নিকটবর্তী তিলই এলাকায় পৌঁছানোমাত্র ৩–৪ জন ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে জখম করে এবং সঙ্গে থাকা নগদ টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়।
রওনক জাহান জানান, হামলাকারীদের মধ্যে কয়েকজনকে চিনে ফেলায় দুর্বৃত্তরা ভুক্তভোগীর শরীর ও মুখে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টা করে। ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
তিনি জানান, পরবর্তীতে স্থানীয়রা ভুক্তভোগীকে গুরুতর আহত ও দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান শেষে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরবর্তী সময়ে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রেপ্তাররা স্থানীয়ভাবে বখাটে হিসেবে পরিচিত। তারা নানা ধরনের মাদক সেবন করে বলেও জানা যায়। মৃত্যুর আগে খোকন দাস উল্লিখিত আসামিদের নাম বলে গেছেন বলে জানান তিনি।
৬১ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় শৈত্যপ্রবাহ কেটে গেলেও শীতজনিত দুর্ভোগ বাড়ছে
চুয়াডাঙ্গায় টানা চারদিন পর শৈত্যপ্রবাহ কেটে গেলেও শীতের তীব্রতা এখনও কাটেনি। তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও হিমেল হাওয়ার সঙ্গে ঘন কুয়াশা জনজীবনে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি করছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও খেটে খাওয়া মানুষ। ভোরের পর সকাল হলেও ঘন কুয়াশার কারণে যানবাহন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ।
গতকাল (শনিবার) এ জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি, তার আগের দিন শুক্রবার ৯ ডিগ্রি এবং বৃহস্পতিবার ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। অর্থাৎ গত কয়েকদিন ধরেই জেলাজুড়ে তাপমাত্রা বেড়ে চলেছে।
চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, টানা চার দিন মাঝারি থেকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেলেও চলতি সপ্তাহে আবার নতুন করে শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে। আগামী মঙ্গলবার অথবা বুধবার থেকে পুনরায় জেলার ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে সময় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে সাড়ে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যেতে পারে বলে নিজের ধারণার কথা জানান এ কর্মকর্তা।
এদিকে, ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। ঘন কুয়াশার মাঝে কোথাও কোথাও বৃষ্টির মতো ঝরছে শিশির। ঝুঁকি এড়াতে তাই হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষেরা।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় খোলা জায়গায় অনেককে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। শীত উপেক্ষা করেই দিনমজুর ও শ্রমিকদের কাজে যেতে হচ্ছে।
এক কৃষিশ্রমিক বলেন, ভোরে মাঠে নামতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। ঠান্ডায় হাত ঠিকমতো চলে না। বাতাস থাকায় শীত আরও বেশি লাগছে। তারপরও কাজ না করলে চলবে না।
আরেক দিনমজুর বলেন, সকালবেলা কুয়াশা এত ঘন থাকে যে কিছুই দেখা যায় না। তবুও জীবিকার তাগিদে বের হতে হচ্ছে।
শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব সাময়িকভাবে কমলেও ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ার কারণে চুয়াডাঙ্গার জনজীবনে শীতজনিত দুর্ভোগ এখনও অব্যাহত রয়েছে।
৬১ দিন আগে
সুন্দরবনে ফাঁদে আটকা পড়েছে বাঘ, এক দিনেও উদ্ধার হয়নি
বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবনের মধ্যে হরিণ শিকারীদের পেতে রাখা ফাঁদে একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার আটকা পড়েছে। লোকালয় থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বাগেহরহাট জেলার মোংলা উপজেলাধীন বনের শরকির খাল-সংলগ্ন বৈরাগী বাড়ির কাছে বাঘটি আটকা পড়ে।
শনিবার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে এক জেলে প্রথম ফাঁদে আটকে থাকা বাঘটিকে দেখে বন বিভাগকে খবর দেন। এরপর সন্ধ্যা থেকে বন বিভাগ ওই এলাকা ঘিরে রেখেছে। আজ রবিবার দুপুর ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বন বিভাগ চেষ্টা চালিয়ে গেলেও এখনও বাঘটি উদ্ধার করতে পারেনি।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে সুন্দরবন বাঘের শেষ আশ্রয়স্থল। বাঘ আমাদের জাতীয় পশু। সুন্দরবনে ফাঁদে আটকে পড়া বাঘটিকে রবিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত উদ্ধার করতে না পারা অত্যন্ত দুঃখজনক।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দ্বীপন চন্দ্র দাস জানান, খবর পাওয়ার পর বন বিভাগের কর্মচারীদের গতকাল সন্ধ্যায় সেখানে পাঠানো হয়। তারা সেখানে গিয়ে দেখতে পান, সুন্দরবনের ভেতরে হরিণ শিকারীদের পেতে রাখা ফাঁদে একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার আটকে আছে। এর পর শরকির খালপাড় এলাকা কর্ডন করে (ঘিরে) রাখা হয়। শনিবার রাত থেকে তারা চেষ্টা চালাচ্ছেন বাঘটিকে ফাঁদ থেকে মুক্ত করতে।
ফাঁদে আটকে থাকলেও বাঘটি সুস্থ রয়েছে বলে জানান তিনি।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বাঘটিকে উদ্ধার করতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বাঘটি উদ্ধারের জন্য বন বিভাগের বিশেজ্ঞ টিম কাজ করছে। আজ সকালে বিশেজ্ঞ টিম সেখানে পৌঁছেছে। বাঘটিকে উদ্ধারে প্রয়োজনে ট্যাংকুলাইজার গান ব্যাবহার করা হবে।
তিনি আরও জানান, বাঘটি অসুস্থ হয়ে পড়লে লোহার খাঁচায় বন্দি করে খুলনা অথবা ঢাকায় বন বিভাগের রেসকিউ সেন্টারে পাঠানো হবে। আর সুস্থ থাকলে সুন্দরবনে ছেড়ে দেওয়া হবে। বাঘটি উদ্ধারের পর বিশেজ্ঞ টিমের পরমর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে, সুন্দরবনে হরিণ শিকারীদের ফাঁদে বাঘ আটকা পড়ার খবরে বন-সংলগ্ন গ্রামের মানুষ সেখানে জড়ো হতে শুরু করে। তবে ওই এলাকায় কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ও ওয়াইল্ডটিমের প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, পৌষ মাসের প্রচণ্ড শীতে শনিবার থেকে বাঘটি ফাঁদে আটকে খুব কষ্ট পাচ্ছে। আরও আগেই বাঘটিকে উদ্ধার করা উচিত ছিল। কিন্তু সুন্দরবন বিভাগের নিজস্ব ভেটেনারি সার্জন না থাকায় এখনও বাঘটিকে উদ্ধার করা যায়নি।
অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম আরও বলেন, সুন্দরবন পূর্ব এবং পশ্চিম বিভাগের জন্য নিজস্ব ভেটেনারি সার্জন থাকতে হবে। বন্যপ্রাণীদের যেকোনো আপৎকালীন সময়ের জন্য বন বিভাগের প্রস্তুতি নেই। বাঘটি ফাঁদে আটকা পড়ে ছুটাছুটি করছে। এ কারণে সেটি আহত হতে পারে। তাই ফাঁদ থেকে মুক্ত করার পরপরই বাঘটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে হবে। বন বিভাগের সঙ্গে ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম শনিবার রাত থেকে সেখানে পাহারা দিচ্ছে।
সুন্দরবনে হরিণ শিকার কেন বন্ধ করা যাচ্ছে না—বন বিভাগের উদ্দেশে এ প্রশ্নও রাখেন ড. আনোয়ারুল ইসলাম।
বন বিভাগের তথ্য অনুসারে, বিগত কয়েক বছর ধরে ‘ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের’ মাধ্যমে সুন্দরবনে বাঘ গণনা করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসের জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘের সংখ্যা ১২৫টি। এর আগে ২০১৮ সালে একইভাবে গণনা করে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ১১৪টি নির্ধারণ করা হয়। ২০১৫ সালে ক্যামেরা ট্রাপিংয়ের মাধ্যমে গণনার ফলাফল অনুসারে সুন্দরবনে বাঘ ছিল ১০৬টি।
জানা গেছে, সুন্দরবনের মোট আয়াতন ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে স্থলভাগের পরিমাণ ৪ হাজার ১৪৩ বর্গকিলোমিটার। বর্তমানে সুন্দরবনের মোট আয়াতনের অর্ধেকেরও বেশি এলাকা সংরক্ষিত বনাঞ্চল। বনে প্রতিটি বাঘ তাদের আবাসস্থলের জন্য ১৪ থেকে ১৬ বর্গকিলোমিটার (হোমরেঞ্জ) চিহ্নিত করে সেখানে বাস করে। তবে তাদের বিচরণ গোটা সুন্দরবনজুড়েই।
চোরা শিকারীদের তৎপরতা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে সুন্দরবনে বাঘ হুমকির মুখে রয়েছে। বন বিভাজ জানায়, গত ৮ মাসে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগ অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার ফুট হরিণ শিকারের বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ জব্দ করেছে। এ সময়ে বেশ কয়েকজন হরিণ শিকারীকে আটকও করা হয়।
৬১ দিন আগে
যশোরে বিএনপি নেতা খুন: বেনাপোল সীমান্তে সতর্ক বিজিবি
যশোর সদরের শংকরপুর এলাকায় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে (৫৫) গুলি করে হত্যার ঘটনায় বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি তল্লাশি কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকাল থেকেই অতিরিক্ত চেকপোস্ট স্থাপন করে সীমান্তের প্রতিটি পয়েন্টে তল্লাশি চালাচ্ছে বিজিবি।
গতকাল (শনিবার) রাত ৮টার দিকে শংকরপুর এলাকার হুদা মেমোরিয়াল একাডেমির সামনে আলমগীর হোসেনকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তিনি শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ এলাকার মৃত ইন্তাজ আলীর ছেলে ছিলেন। আলমগীর যশোর পৌরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং নগর বিএনপির সাবেক সদস্য ছিলেন। এলাকায় জমি কেনা-বেচার ব্যবসা করতেন তিনি।
নিহতের বড়ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, গতকাল সন্ধ্যার পর আলমগীর একটি মোটরসাইকেলে চড়ে শহরের বটতলা থেকে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন। হুদা মেমোরিয়াল একাডেমির সামনে পৌঁছালে তাকে গুলি করা হয়। সংবাদ পেয়ে আমি যশোর জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে ভাইয়ের মরদেহ দেখতে পাই।
সীমান্তে নরজদারি বৃদ্ধির বিষয়ে আজ সকালে যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী জানান, আলমগীর হোসেন হত্যার ঘটনায় জড়িত আসামিরা যাতে কোনোভাবেই সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পালাতে না পারে, সেজন্য বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তের প্রতিটি পয়েন্টে নজরদারি ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
তিনি জানান, সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিজিবির টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সেইসঙ্গে সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া যেসব স্থানে ভারতের কাঁটাতারের বেড়া নেই, সীমান্তের সেসব স্থানে ব্যাপক নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
৬১ দিন আগে
রাতভর নাটকীয়তার পর সকালে জামিনে মুক্ত হবিগঞ্জের সেই বৈষম্যবিরোধী নেতা
রাতভর নানা নাটকীয়তার পর অবশেষে আজ রবিবার সকালে জামিন পেয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলার সদস্যসচিব মাহদী হাসান।
গতকাল (শনিবার) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরে তাকে হবিগঞ্জ থানায় সোপর্দ করা হয়। তবে কী অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা জানতে গতকালই সংবাদকর্মীরা যোগাযোগ করলেও, হবিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) থেকে শুরু করে পুলিশ সুপার, কেউই মুখ খোলেননি।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে মাহদীকে হবিগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় মাহদীর আইনজীবী আব্দুল মালেক হৃদয় মাহদির জামিনের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
এই নেতার বিরুদ্ধে বেআইনি লোকজন মিলিত হয়ে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এনে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় একটি মামলা দেখানো হয়েছে।
এদিকে, মাহদীর মুক্তির দাবিতে রাতভর হবিগঞ্জ থানার ফটকের সামনে অবস্থান নেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা। তারা মাহদীকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে স্লোগান দেন। থানা এলাকার পরিস্থিতির অবনতি যাতে না ঘটে, সেজন্য পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও র্যাব মোতায়েন করা হয়। এছাড়া গতরাতে রাজধানীর শাহবাগে জড়ো হয়েও মাহদীর মুক্তির দাবি জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা।
শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে রাত সোয়া ১টার দিকে পুলিশ একটি মাইক্রোবাসে করে মাহদীকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতেই তাকে আদালতের মাধ্যমে জামিন দেওয়ার প্রস্তুতির কথা শোনা গেলেও বিচারক না আসায় তাকে কোর্ট হাজতে রাখা হয়।
উল্লেখ্য, শায়েস্তাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এনামুল হাসান নয়নকে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন।
নয়নকে আটকের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলার নেতা-কর্মীরা তার মুক্তির দাবিতে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে শায়েস্তাগঞ্জ থানা ঘেরাও করেন। এ সময় জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্র অধিকার আন্দোলনের সদস্যসচিব মাহদী হাসানের নেতৃত্বে একদল নেতা-কর্মী ওসির কক্ষে অবস্থান নেন। তারা দাবি করেন, নয়ন একসময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও পরে তিনি জুলাই আন্দোলনে জড়িত হন। তারা নয়নকে ছেড়ে দেওয়ার দাবি করেন।
আটক ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নিতে একপর্যায়ে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় ওসির সঙ্গে তর্কে জড়ান মাহদী হাসান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ওই ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মাহদী ওসিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা সরকার গঠন করেছি। এই জায়গায় আপনারা আমাদের প্রশাসনের লোক। আপনারা আমাদের ছেলেদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে এসেছেন। আবার আমাদের সঙ্গে বার্গেনিং করছেন। আপনি (ওসি) বলেছেন, “আন্দোলনকারী হয়েছে তো কী হয়েছে?”’ একপর্যায়ে মাহদী হাসান ওসিকে বলেন, ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম; এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম। ওই জায়গা থেকে উনি (ওসি) কোন সাহসে এটা (আন্দোলনকারী হয়েছে তো কী হয়েছে) বললেন। আমি স্ট্রিকলি এখানে আসছি। আমরা এতগুলা ছেলে ভাইসা আসছে নাকি?’
খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে হবিগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম শায়েস্তাগঞ্জ থানায় ছুটে যান। তার মধ্যস্থতায় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এনামুল হাসানকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
এ বিষয়ে মাহদী হাসান বলেন, ‘আটক হওয়া ছাত্রনেতা একসময় ছাত্রলীগ করলেও তিনি জুলাই আন্দোলনে আমাদের সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন। শুধু তার অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে আসে।’
মাহদী প্রশ্ন তোলেন, ‘আমাদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে মূল সমন্বয়কারীদের একজন সারজিস আলম। তিনিও তো একসময় ছাত্রলীগ করেছেন। তাহলে তিনিও কি অপরাধী?’ তিনি দাবি করেন, তাদের তিন নেতা-কর্মীকে আটক করে শায়েস্তাগঞ্জ থানার পুলিশ আগেও ‘অপরাধ’ করেছে।
বানিয়াচং থানা জ্বালিয়ে দেওয়া ও পুলিশকে পুড়িয়ে ফেলার মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি স্লিপ অব টাং (মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে)।’
তবে, ওই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মাহদীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সুস্পষ্ট জবাব দিতে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেনের সই করা একটি শোকজ নোটিশ গতকাল বিকেলে প্রকাশিত হয়। একইসঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংগঠনের কার্যক্রম থেকে তাকে বিরত থাকতেও নোটিশে বলা হয়েছে। কারণ দর্শনোর নোটিশ মাহদী পেয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন।
শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম বলেন, ‘আমরা তাকে (এনামুল) বৈষম্যবিরোধী একটি মামলায় সন্দেহভাজন ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে আটক করি। ওই দিন রাত বেশি হওয়ায় আমরা যাচাই-বাছাই করতে পারিনি। পরদিন নানাভাবে তথ্য নিয়ে আমরা জানতে পেরেছি, আটক হওয়া ব্যক্তি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন। পরে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
৬১ দিন আগে
লালমনিরহাটে বৃষ্টির মতো পড়ছে শিশির, হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহন
লালমনিরহাটে জেঁকে বসেছে শীত, বৃষ্টির মতো পড়ছে শিশির। শীত ও ঘন কুয়াশায় যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ভোর থেকেই ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন।
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার (৪ জানুয়ারি) জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমে শীতের তীব্রতা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শীতের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, রিকশাচালক ও কৃষিশ্রমিকরা। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে অনেকেই ভোরে কাজে বের হতে পারছেন না।
স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ঠান্ডাজনিত সর্দিকাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি।
এদিকে, ঘন কুয়াশার কারণে সকালবেলায় সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে। এতে স্কুলগামী শিশু ও কর্মজীবী মানুষদের পড়তে হচ্ছে বাড়তি দুর্ভোগে।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, লালমনিরহাটে আজ (রবিবার) সকালে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। প্রতিদিনই শীতের সঙ্গে কুয়াশা বাড়ছে। এখন ঠান্ডা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলে শীতের এই প্রবণতা আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রা আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে।
৬১ দিন আগে
ঝিনাইদহে কুয়াশার মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাক নদীতে, নিহত ২
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর রেলিং ভেঙে নদীতে পড়ে ২ জন নিহত হয়েছেন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের গাড়াগঞ্জ এলাকার বড়দহ পুরাতন সেতুতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন—পাবনা সদর উপজেলার গাজামানিকুন্ডা গ্রামের আবুল কালাম শেখের ছেলে ট্রাকটির চালক সোহেল শেখ (২৭) এবং একই গ্রামের জাফর মিয়ার ছেলে ট্রাকের হেলপার মুবারক হোসেন (২০)।
ফায়ার সার্ভিসের যশোর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক আব্দুস সালাম জানান, রাতে যশোর থেকে একটি ডালবোঝাই ট্রাক পাবনা যাচ্ছিল। রাত ১টার দিকে গাড়াগঞ্জ এলাকার বড়দহ পুরাতন সেতুর ওপর পৌঁছালে ঘন কুয়াশার কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিং ভেঙে কুমার নদে পড়ে যায় ট্রাকটি।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, খবর পেয়ে শৈলকুপা ও ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিসের ২ টি ইউনিট উদ্ধার কাজ শুরু করে। আজ (রবিবার) ভোরে হেলপার মুবারক হোসেন ও সকাল ৮টার দিকে চালক সোহেল শেখের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
৬১ দিন আগে