সারাদেশ
চাঁদা আদায় নিয়ে বিরোধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে দুই শ্রমিক সংগঠনের বিরোধের জেরে দূরপাল্লাসহ সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল থেকে এক শ্রমিক সংগঠনের ডাকা কর্মবিরতির কারণে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে, হঠাৎ করে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ যাত্রীরাও পড়েছেন দুর্ভোগে।
শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন এবং জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা আদায় নিয়ে দ্বন্দ চলে আসছে। উভয় সংগঠনই জেলার বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস থেকে চাঁদা আদায় করছে বলে দাবি উঠেছে। এই বিরোধের জের ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা সকাল থেকে কর্মবিরতি শুরু করেছে। ফলে আজ (শুক্রবার) সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আনারুল ইসলাম আনার জানান, আগে দুটি সংগঠন সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত হারে চাঁদা আদায় করত। তবে সম্প্রতি মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের একটি পক্ষ পৌরসভার হরিপুর এলাকায় আলাদাভাবে চাঁদা আদায় শুরু করলে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে। এর প্রতিবাদে শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন। তিনি বলেন, টার্মিনালের বাইরে সড়কে চাঁদা আদায়ের কোনো বৈধতা নেই।
অন্যদিকে, জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ জুলমত দাবি করেন, তাদের সংগঠন নিয়ম মেনেই কেবল বাস থেকে চাঁদা আদায় করছে। বরং ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন তাদের নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে বাস থেকেও চাঁদা নিচ্ছে, যা অনুমোদিত নয়।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ জানান, বিরোধ নিরসনে উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করা হলেও এখনও কোনো সমঝোতা হয়নি। বিষয়টি সমাধানে পুলিশ কাজ করছে এবং সড়কে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি না করতে উভয় পক্ষকেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
৪১ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় হামে আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যু
চুয়াডাঙ্গায় হামে আক্রান্ত হয়ে ৯ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে একই উপসর্গ নিয়ে সদর হাসপাতালে আরও ৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত হুমাইরা খাতুন সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের দীননাথপুর গ্রামের নিমতলাপাড়ার বাসিন্দা হুমায়ুন ইকবাল আহমেদের মেয়ে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুস সাকিব বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জেলায় এটিই হামে আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা। শিশুটির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। হাম শনাক্তের রিপোর্ট পজিটিভ আসে।
সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ এপ্রিল হামের উপসর্গ নিয়ে হুমাইরাকে সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৯ এপ্রিল তাকে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। পরে পরীক্ষায় তার শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) চিকিৎসা শেষে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়ে বাড়িতে নেওয়া হয়। তবে আজ সকালে তার শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি ঘটে। এ অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৫০ জন রোগী হাম আক্রান্ত বা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
৪১ দিন আগে
ঝিনাইদহে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল নারীর
ঝিনাইদহে ট্রাকচাপায় শাম্মী আক্তার (৪০) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। কুষ্টিয়া থেকে স্বামীর সঙ্গে ঝিনাইদহ শহরে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসার পথে ট্রাকের নিচে চাপা পড়েন তিনি।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে শহরের আরাপপুর জামতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শাম্মী কুষ্টিয়া জেলার মিনাপাড়া এলাকার মিজানুর রহমানের স্ত্রী।
ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, কুষ্টিয়া থেকে মোটরসাইকেলে চড়ে শাম্মী আক্তার তার স্বামীর সঙ্গে ঝিনাইদহ শহরের হামদহ এলাকায় মেয়ের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। তারা শহরের আরাপপুর জামতলা এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এতে শাম্মী আক্তার ছিটকে রাস্তায় পড়ে যান। এ সময় পেছন থেকে আসা বালুবোঝাই একটি ট্রাক তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামসুল আরেফিন জানান, মরদেহটি ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ট্রাকটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
৪১ দিন আগে
সিদ্ধেশ্বরীতে পিকআপের ধাক্কায় প্রাইভেটকারচালক নিহত
রাজধানীর রমনা থানাধীন সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় হারুন অর রশিদ (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি পেশায় একটি প্রাইভেটকারের চালক ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাত পৌনে ১১টার দিকে সিদ্ধেশ্বরী এলাকার মনোয়ার হাসপাতালের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত হারুনের বাড়ি কিশোরগঞ্জ সদরের পাটকা কাঠালিয়া এলাকায়। তার বাবার নাম তমিজ উদ্দিন। বর্তমানে তিনি পরিবারের সঙ্গে তেজগাঁওয়ের বেগুনবাড়ি এলাকায় বসবাস করতেন।
তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রাইভেটকারের মালিক কাজী লুৎফর জানান, হারুন তার গাড়ির চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। রাতের দিকে ডিউটি শেষে গাড়ি গ্যারেজে রেখে বাসায় ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। এ সময় গ্যারেজের সামনে অন্যান্য চালকদের সঙ্গে কথা বলার সময় পিছন থেকে একটি পিকআপ ভ্যান এসে তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
তিনি আরও জানান, প্রথমে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পিকআপ ভ্যানটি জব্দ করেছে পুলিশ। সেইসঙ্গে এর চালককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
৪১ দিন আগে
বরিশালে বাসায় ডেকে এনে প্রেমিকাকে হত্যার অভিযোগ
বরিশালে প্রেমিকাকে বাসায় ডেকে এনে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে নগরীর মুন্সিগ্রেজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত সানজিদা কবির আনিতা কলাপাড়া উপজেলার শাহিন হাওলাদারের মেয়ে। অভিযুক্ত হিমু ঝালকাঠি শহরের কাটপট্টি এলাকার বাসিন্দা মিল্টন আকনের ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, হিমুর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন সানজিদা কবির আনিতা। তারা দুজনই বরিশাল নগরীতে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টার দিকে নগরীর মুন্সিগ্রেজ এলাকার বরইতলা গলির রাফি মঞ্জিলে হিমুর বাসায় দেখা করতে আসেন আনিতা। এরপর দুপুর দেড়টার দিকে তাকে হত্যা করে হিমু পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, এর আগেও ঝালকাঠিতে এক মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক করে তাকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে হিমুর বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ঝালকাঠি আদালতে হত্যা মামলা চলমান আছে।
অভিযুক্ত হিমুর মা জাহানারা বেগম বলেন, আমার ছেলের সঙ্গে আনিতার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আজ সকালে আমাদের বাসায় আসে আনিতা। দুপুর দেড়টার দিকে হিমুর রুমে আনিতার মরদেহ দেখে ভয় পেয়ে যাই। ততক্ষণে হিমু বাসা থেকে পালিয়ে গেছে।
আনিতার বড় বোন বলেন, এবার নার্সিং কলেজে ভর্তি হয়েছিলো আমার বোন। সে কারণে সে বরিশালে থাকত। হিমুর সঙ্গে কয়েকমাস আগে প্রেমের সম্পর্কে জড়ায় আনিতা। বৃহস্পতিবার সকালে তার সঙ্গে দেখা করার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিল সে। এরপর দুপুরে খবর পাই, আমার বোনকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি করেছেন তিনি।
হত্যাকারীকে ধরতে অভিযান চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি আল মামুন।
৪২ দিন আগে
যান্ত্রিক ত্রুটিতে বড়পুকুরিয়ার বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ৩টি ইউনিটের মধ্যে একমাত্র সচল থাকা ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২ নম্বর ইউনিটটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এর ফলে ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
বুধবার (২৩ এপ্রিল) রাতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ২ নম্বর ইউনিটটি অচল হয়ে যায়।
তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, জ্বালানি চুল্লিতে কয়লা পোড়ানোর আগে মেশিনে কয়লা গুড়ো করার সময় ২ নম্বর ইউনিটটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। কয়লার মধ্যে পাথর থাকায় মেশিনে এ ত্রুটি দেখা দেয় বলে জানান তিনি।
এরপর গতকাল (বুধবার) দিবাগত রাত ২টার দিকে ওই ইউনিটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ নম্বর ইউনিটটি সচলের কাজ আগামী মে মাসে শুরু হবে। এ ছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিটটি ওভারহোলিং সাপেক্ষে সচল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবু বক্কর সিদ্দিক।
৪২ দিন আগে
জামালপুরে গৃহবধূকে অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
জামালপুরে গৃহবধূ অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় ৩ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ আদেশ দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— জামালপুর পৌর এলাকার খুপিবাড়ী গ্রামের বুলবুল আহমেদ (৪৭), পাথালিয়া নাওভাঙ্গা চর গ্রামের কালাম ওরফে মাক্কু (৫২) এবং একই গ্রামের রুকু (৫৭)।
জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, শহরের পাথালিয়া নাওভাঙ্গা চর গ্রামের মো. ফরহাদ তার স্ত্রীকে নিয়ে বাসার পাশে শাহ জামাল (রহ.) মাজারের সামনে একটি চায়ের দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। সে সময় বুলবুল আহমেদ, কালাম ওরফে মাক্কু ও রুকু প্রায়ই তাদের দোকানের সামনে এসে ওই গৃহবধূর দিকে খারাপ নজর ও কুপ্রস্তাব দিতেন। এতে বাধা দিলে তারা ওই নারীকে অপহরণ করে ধর্ষণ করার হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
এর জের ধরে ২০২৩ সালের ১৪ মে রাত ১০টার দিকে শাহ জামাল (রহ.) মাজারের সামনে থেকে ভুক্তভোগীকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে অপহরণ করেন আসামিরা। তারা প্রথমে তাকে খুপিবাড়ী গ্রামের বুলবুলের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে রুকুর সঙ্গে তাকে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। ভুক্তভোগী বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে বৈদ্যুতিক তার দিয়ে মারধর করেন। এরপর তিন আসামি মিলে তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেন।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে তারা অটোরিকশায় করে নাওভাঙ্গা চর গ্রামের রুকুর বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাকে আবারও ধর্ষণ করা হয়। পরদিন ১৫ মে ওই গৃহবধূ পালিয়ে এসে তার স্বামীকে ঘটনার বিস্তারিত জানান।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীর স্বামী ফরহাদ বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলা করেন। পরে মামলাটি জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ স্থানান্তর করা হয়।
মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক আজ এ রায় ঘোষণা করলেন।
এ ঘটনায় রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট ফজলুল হক এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোকাম্মেল হক ও এস এম কামরুল হাসান উল্লাস।
৪২ দিন আগে
মোটরসাইকেলচালককে ‘থাপ্পড় মারার’ পর সেই ইউএনওর ‘লাঠি হাতে’ ভিডিও ভাইরাল
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আক্তার জাহানকে ঘিরে একের পর এক বিতর্কিত ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পাম্পে তেল নিতে আসা এক মোটরসাইকেলচালককে থাপ্পড় মারার অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তার লাঠি হাতে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে চাপারহাট বাজারের লুবানা ফিলিং স্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে আসা নদী নামে এক গ্যারেজ কর্মচারীকে থাপ্পড় মারার অভিযোগ ওঠে ইউএনও শামীমার বিরুদ্ধে। অসুস্থ এক কলেজ শিক্ষকের ফুয়েল কার্ড ব্যবহার করে নদী তেল নিতে গেলে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান স্থানীয়রা।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, গত ২১ এপ্রিল কালীগঞ্জের ভুল্যারহাট এলাকায় অবস্থিত মোজাহার ফিলিং স্টেশনে শামীমা আক্তার জাহান লাঠি হাতে তদারকি করছেন। ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে তার আক্রমণাত্মক ভঙ্গি ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে অপেশাদার আচরণ স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, কালীগঞ্জে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ইউএনওর বিরুদ্ধে বিভিন্ন হাটবাজার ইজারা ও উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ বণ্টনে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে বলে মনে করছেন তারা।
ভুক্তভোগী নদীর দাবি, কোনো ধরনের অপরাধ ছাড়াই তাকে মারধর করা হয়েছে। তিনি জানান, গ্যারেজ মালিকের নির্দেশে একজন অসুস্থ শিক্ষকের কার্ড নিয়ে তিনি তেল নিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ইউএনও কোনো কথা না বলেই তাকে থাপ্পড় মারেন।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউএনও শামীমা আক্তার জাহান। তার দাবি, তিনি কাউকে মারেননি, বরং নিয়ম না মানায় মোটরসাইকেলের চাবি জব্দ করেছিলেন। পরবর্তীতে অভিভাবকদের উপস্থিতিতে চাবি ফেরত দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান জানিয়েছেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, বর্তমান কর্মস্থলের পাশাপাশি পূর্ববর্তী কর্মস্থল জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর একটি প্রকল্পে ভুয়া শিক্ষাকেন্দ্র দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলা চলমান রয়েছে বলেও জানা গেছে।
৪২ দিন আগে
নরসিংদীতে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা, অনিশ্চয়তায় ২০ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ
নরসিংদীতে চলমান এসএসসি পরীক্ষায় একটি কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষের ভুলের মাশুল দিতে হচ্ছে ২০ জন পরীক্ষার্থীকে। যে স্বপ্ন নিয়ে তারা এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছিল, সে প্রস্তুতির হোঁচট খেয়েছে প্রথম দিনের পরীক্ষাতেই।
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার কারারচর মৌলভী তোফাজ্জল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে ওই শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা নরসিংদী প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের কাছে তাদের অভিযোগ উপস্থাপন করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ওই কেন্দ্রে বিভিন্ন কক্ষে তিন শতাধিক পরীক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে একটি কক্ষে ২০ জন পরীক্ষার্থীর হাতে দেওয়া হয় ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র, যে প্রশ্নপত্র নিয়মিত, অর্থাৎ ২০২৬ সালের পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য নয়। এমন সিলেবাস-বহির্ভূত প্রশ্নপত্রে প্রথম দিনের বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা দিয়েছে পরীক্ষার্থীরা।
ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষার দিনই তারা আপত্তি তুললে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা তাদের ধমক দিয়ে ওই প্রশ্নেই পরীক্ষা দেওয়ার জন্য বলেন। কিন্তু প্রশ্নপত্র সঠিক না হওয়ায় ২০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে সবাই এখন পরীক্ষায় নিশ্চিত ফেল করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে।
পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকেরা জানান, কারারচর মৌলভী তোফাজ্জল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ওই কক্ষে চারটি স্কুলের মোট ২০ জন পরীক্ষার্থী প্রথম দিনের বাংলা প্রথম পত্র বিষয়ে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়ছে। স্কুল চারটি হলো: পুটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, ফেমাস ইনস্টিটিউট, হাজী শমসের আলী উচ্চ বিদ্যালয় এবং ঘাগটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়।
শমসের আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী মাহিমা আক্তার মিম জানায়, ক্লাসে তার রোল নম্বর ছিল ১ এবং সে এসএসসির আগে স্কুলের টেস্ট পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে পাস করে। তবে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়ায় সে বাংলায় এখন ২০ নম্বরও পাবে না বলে ধারণা করছে। তার মতো এমন বাকি পরীক্ষার্থীরাও বাংলায় ফেল করবে বলে আশঙ্কা করছে।
ভুক্তভোগী নাদিরা সুলতানা, উম্মেহানি, নাজির আহমেদ, বিশাল দাস, সম্রাট ভূইয়া, সিয়াম হোসেন, আমিনুল, অভি, সাকিব, মো. শাহপরান জানায়, পরীক্ষার দিন প্রশ্নপত্র হাতে পেয়েই তারা কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের প্রশ্নপত্র ভুলের বিষয়টি জানিয়েছে, কিন্তু কেন্দ্রের দায়িত্বরত শিক্ষকরা তাদের ধমকিয়ে ওই প্রশ্নেই পরীক্ষা দিতে বলেন এবং এ বিষয়টি বাইরের কাউকে না জানাতে অনুরোধ করেন।
এ বিষয়ে নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. রাশেদুজ্জামান জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ আমরা সকলেই জেনেছি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রে দায়িত্বরতদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পরে ঊর্ধ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৪২ দিন আগে
নাটোরে পেট্রোল পাম্পে তেল নেওয়াকে কেন্দ্রে করে সংঘর্ষ, আহত ৩
নাটোরের লালপুরে পেট্রোল পাম্পে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৩ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে উপজেলার কদিমচিলান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যাক্ষদর্শীদের দাবি, সকালে কদিমচিলান এলাকার সাদিয়া পেট্রোল পাম্প থেকে বিভিন্ন যানবাহনে তেল দেওয়ার সময় ওই এলাকার স্থানীয় লোকজন প্রভাব সৃষ্টি করে জারকিনে জোর করে পেট্রোল নেওয়া শুরু করেন। এতে বড়াইগ্রাম উপজেলার কয়েন গ্রামের লোকজন প্রতিবাদ জানালে তাদের ওপর চড়াও হন কদিমচিলান এলাকার লোকজন। তারা তেল নিতে আসা কয়েন গ্রামের লোকদের এলোপাতাড়ি মারতে শুরু করেন। এ ঘটনায় কয়েন গ্রামের ৩ জন আহত হন।
এ ব্যাপারে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।
৪২ দিন আগে