সারাদেশ
বেনাপোলে ধানখেত থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার
যশোরে বেনাপোলে ধানখেত থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে পোর্ট থানার বড় আঁচড়া গ্রামের হরিনাপোতা মাঠের একটি খেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, স্থানীয় কৃষকরা মাঠে কাজ করতে গিয়ে ধানখেতে একটি মরদেহ দেখতে পান। পরে তারা থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে রাতের কোনো একসময়ে হরিনাপোতা মাঠের ধানখেতে ফেলে রাখা হয়েছে। মরদেহের গলায় কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।
৪২ দিন আগে
নাটোরে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ৬
নাটোরে মাদকবিরোধী অভিযানে ৬ জনকে আটক করেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এর মধ্যে ৪ জনকে কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত পুলিশের বিশেষ দল উপজেলার বিভিন্ন মাদকের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন মাদকের আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশের বিশেষ দল। এ সময় বাবুল, আসলাম ও সাইদুর নামে ৩ মাদক ব্যবসায়ী ও আশরাফুল নামে এক মাদকসেবীকে গাঁজাসহ হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রত্যেককে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে, একই রাতে বাগাতিপাড়া উপজেলার হিজলী পাবনাপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে ৫৫টি ইয়াবাসহ আশিকুল ইসলাম ও আশিকুর রহমান নামে ২ জনকে আটক করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন- র্যাব। পরে তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।
৪২ দিন আগে
ঝিনাইদহে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১৫
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি সমর্থিত দুপক্ষের সংঘর্ষে মোহন শেখ (৬৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ সময় সংঘর্ষে আহত হয়েছেন উভয় গ্রুপের ১৫ জন।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মাধবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা মফিজ উদ্দিন জানান, মাধবপুর গ্রামের বিএনপির সমর্থক শের আলী মাতুব্বরের সঙ্গে একই গ্রামের মশিউর রহমান মাতুব্বরের দীর্ঘদিন ধরে সামাজিকভাবে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জের ধরে আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মোহন শেখ নামে একজন নিহত হন। এছাড়া সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১৫ জন আহত হন। সংঘর্ষের সময় কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, আহতদের উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে আব্বাস নামের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
এ ব্যাপারে শৈলকূপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, মাধবপুর গ্রামে সামাজিক দুই মাতুব্বরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ১ জন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বর্তমানে গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৪২ দিন আগে
মমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে হামের উপসর্গ নিয়ে দশ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ১৬ শিশুর মৃত্যু হলো।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৭ শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ৬৫ শিশু। আইসোলেশন ওয়ার্ডে শয্যা সংকট থাকায় রোগীরা মেঝে ও বারান্দায় স্থান নিয়েছেন।
হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, গত ১৮ এপ্রিল ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে দশ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে হাম পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত ব্যর্থতায় শিশুটি মারা যায়।
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালটিতে মোট ৭৪৮ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৬৬৭ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এবং ১৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪৭ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী রোগী ভর্তি আছে। তবে ৩ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সব রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই হাসপাতালে লোকবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে শিশুদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে বাবল সিপ্যাপের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
৪২ দিন আগে
চট্টগ্রামে মাটিচাপা পড়ে দুই শ্রমিক নিহত
চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর থানাধীন আগ্রাবাদ বি-ফোর এক্সেস রোড এলাকায় মাটি খননের সময় দুর্ঘটনায় দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
বুধবার (২২ এপ্রিল) একটি হাইড্রো কোম্পানির কাজ চলাকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রাকিবের পরিচয় জানা যায়নি তবে নিহত তুষারের বাড়ি দিনাজপুর জেলায়।
স্থানীয় সূত্র্রে জানা যায়, গত রাতে খননকাজের সময় হঠাৎ মাটি ধসে পড়ে চার শ্রমিক মাটির নিচে চাপা পড়েন। পরে সহকর্মীরা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আরও দুই শ্রমিক আহত হয়ে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চমেকের পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক নুরুল আলম আশেক বলেন, আহত দুই শ্রমিক সাগর ও এরশাদকে হাসপাতালের ক্যাজুয়াল্টি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিক বিস্তারিত জানা যায়নি।
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।
৪২ দিন আগে
‘প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায়’ স্কুলছাত্রী অপহরণ, যুবক গ্রেপ্তার
প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে তৌকির রহমান নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব)-১৩। অভিযানে অপহৃত শিক্ষার্থীকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১৩-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
গ্রেপ্তার তৌকির নগরীর পূর্ব বোতলা এলাকার বাসিন্দা।
র্যাব জানায়, ভুক্তভোগী সপ্তম শ্রেণির একজন নিয়মিত ছাত্রী। স্কুলে যাতায়াতের সময় দীর্ঘদিন ধরে তাকে উত্যক্ত করাসহ প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন অভিযুক্ত তৌকির রহমান। বিষয়টি ভুক্তভোগী তার পরিবারকে জানালে পরিবারের পক্ষ থেকে তৌকিরকে অনুরোধের পর সতর্কও করা হয়। কিন্তু তাদের কথায় গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো ওই শিক্ষার্থীকে অপহরণ করার হুমকি দেন তৌকির।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ এপ্রিল সকালে ভুক্তভোগী ইউনিফর্ম পরে স্কুলের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়। সে সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে তৌকির রহমান ও তার ৩-৪ জন সহযোগী মিলে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার একাধিকবার মেয়েটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে তারা রংপুর কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি অপহরণ মামলা করেন।
এদিকে, মামলার পর থেকেই গ্রেপ্তার এড়াতে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ ও র্যাব-১১ যৌথভাবে গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে কুমিল্লা জেলার লালমাই থানার পূর্ব অশোকতলা গ্রামের অভিযান চালায়। অভিযানে ওই গ্রামের জনৈক ক্বারী আজিজের বাড়ি থেকে তৌকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখান থেকেই ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-১৩-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, গ্রেপ্তার তৌকির রহমানকে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৪৩ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিদ্যুৎ অভিযোগকেন্দ্রে ভাঙচুর
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিদ্যুতের অভিযোগকেন্দ্রে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে অজ্ঞাত কয়েকজন বিদ্যুৎ গ্রাহকের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিবাগত রাতে শহরের দাতিয়ারায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিতরণ বিভাগ-১-এর অভিযোগকেন্দ্রে কয়েকজন এসে হামলা চালিয়ে কাঁচের দরজা ভাঙচুর করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অভিযোগকেন্দ্রে কর্তব্যরত কর্মচারী খলিলুর রহমান। তিনি জানান, রাত সাড়ে ১২টার পরপর এ ঘটনা ঘটে। সে সময় তিনি ছাড়া অভিযোগকেন্দ্রে আর কেউ ছিলেন না। কর্মচারীরা ৩ জায়গায় ট্রান্সফরমারের ফিউজ ঠিক করার কাজে গিয়েছিলেন। তখনই ৩/৪ জন লোক এসে দরজাটি ভেঙে চলে যান। খবর পেয়ে আজ (বুধবার) দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
বিতরণ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী লতিফুর রহমান জানান, তারা ঘটনাটি মৌখিকভাবে থানার উপপরিদর্শককে (এসপি) জানিয়েছেন। থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চাহিদার এক ভাগ বিদ্যুৎও সরবরাহ নেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। আজ দুপুর ২টার দিকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিতরণ বিভাগের-১ এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৩০ মেগাওয়াট। তবে এর বিপরীতে ওই এলাকায় সরবরাহ ছিল ১১ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার ৩ ভাগের এক ভাগ বিদ্যুৎত মিলছে না ওই এলাকায়।
এই বিতরণ বিভাগের অধীন এলাকায় ৮টি ১১ কেভি লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়। এর মধ্যে গড়ে ৫টি লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা।
তীব্র গরমের মধ্যে ব্যাপক লোডশেডিং হওয়ার কারণেই ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের কেউ কেউ এ কাজ করে থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
৪৩ দিন আগে
ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ৫ জাহাজ
চট্টগ্রাম বন্দরে তেল খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে ৫টি জাহাজ। এসব জাহাজে ১ লাখ ৭৭ হাজার টন ডিজেল রয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে ‘এমটি প্যাসিফিক ইন্ডিগো’ নামের জাহাজটি খালাসের জন্য বন্দরের ডলফিন জেটিতে বার্থিং করে তেল খালাস শুরু করেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিবের দায়িত্বে থাকা সৈয়দ রেফায়েত হামিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, ৩৫ হাজার ৩৪৬ টন ডিজেল নিয়ে আসা লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমটি অকট্রি’ তেল খালাস শেষে আজ (বুধবার) বন্দরের জেটি ত্যাগ করেছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানায়, গত ১৭ এপ্রিল ৪১ হাজার ৯০৭ টন ডিজেল নিয়ে আসা চীনের পতাকাবাহী ‘এমটি লিয়ান সং হো’ জাহাজটি বন্দরের আলফা অ্যাঙ্করে অবস্থান করছে। জাহাজটি থেকে লাইটারিং করা হচ্ছে। এছাড়া ২০ এপ্রিল ৩৩ হাজার টন ডিজেল নিয়ে আসে ‘এমটি প্যাসিফিক ইন্ডিগো’ জাহাজ। ১৯ এপ্রিল মালয়েশিয়া থেকে ৩৫ হাজার ২৮ টন ডিজেল নিয়ে আসে ‘এমটি গোল্ডেন হরাইজন’। ২১ এপ্রিল ৩২ হাজার ৫০০ টন ডিজেল নিয়ে আসে ‘এমটি হাফনিয়া চিত্তা’। একই দিনে সিঙ্গাপুর থেকে ৩৪ হাজার ৫৩৩ টন ডিজেল নিয়ে আসে ‘এমটি এফপিএমসি ৩০’।
এদিকে, চীন থেকে ৩৪ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে ‘এমটি জিং টং ৯৯’ নামের জাহাজটি ২২ এপ্রিল আসার কথা থাকলেও সেটি আগামী ২৪ এপ্রিল চট্টগ্রামে আসবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
৪৩ দিন আগে
জালিয়াতি ও অর্থ কেলেঙ্কারি: রেলওয়ের দুই কর্মচারীর ‘গুরুদণ্ড’
পরস্পরের যোগসাজশে জালিয়াতির মাধ্যমে একই ঠিকাদারি কাজের বিল দুইবার উত্তোলন করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগের দুই কর্মচারীকে চাকরিবিধি অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— তারিকুল ইসলাম ও রইছ উদ্দিন। তারা দুজনই লালমনিরহাট রেলওয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী (ডিইএন) দপ্তরের অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
লালমনিরহাট রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, শাস্তির অংশ হিসেবে তাদের দুজনকেই পাঁচ বছরের জন্য বেতন গ্রেডের সর্বনিম্ন ধাপে অবনমিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে বদলি করা হয়েছে।
রেলওয়ের একাধিক সূত্র জানায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে লালমনিরহাট স্টেশন থেকে আদিতমারী পর্যন্ত রেললাইনের ‘প্রোটেকশন ওয়াল’ নির্মাণ কাজ পায় মেসার্স রিচ ডেভলপমেন্ট অ্যান্ড হেভি ইঞ্জিনিয়ারিং নামের একটি প্রতিষ্ঠান। কাজ শেষে প্রতিষ্ঠানটিকে ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি একটি অর্থনৈতিক কোডের মাধ্যমে ১৭ লাখ ৮৯ হাজার ৭৫৫ টাকা ২৭ পয়সা পরিশোধ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর ভিন্ন অর্থনৈতিক কোড ব্যবহার করে একই পরিমাণ অর্থ পুনরায় উত্তোলন করে ওই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান যা গুরুতর অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির শামিল।
বিষয়টি উদঘাটন করেন লালমনিরহাটের বিভাগীয় প্রকৌশলী (ডিইএন) মো. শিপন আলী। এরপর ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় মামলা করা হয়। এ ঘটনা তদন্তের জন্য সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলীকে (এইএন) আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্তে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও তার প্রতিনিধি দ্বিতীয়বার বিল উত্তোলনের বিষয়টি স্বীকার করেন। তারা জানান, তারিকুল ইসলাম ও রইছ উদ্দিনের পরামর্শে প্রলুব্ধ হয়ে তারা এ কাজ করেছেন। তবে ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর দ্বিতীয়বার উত্তোলিত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, প্রথম বিল প্রক্রিয়াকরণে তারিকুল ইসলাম জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলেও দ্বিতীয়বার বিল প্রদানের সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন না বলে দাবি করেন। কিন্তু নথিপত্রে দেখা যায়, দ্বিতীয়বার বিল পাঠানোর ক্ষেত্রেও তার সই রয়েছে।
অন্যদিকে, রইছ উদ্দিন নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করলেও তদন্তে প্রমাণিত হয় যে বিল প্রক্রিয়াকরণ, রেজিস্টার সংরক্ষণ, অগ্রায়ন পত্র প্রেরণ এবং হিসাব বিভাগের প্রত্যয়ন সংগ্রহসহ পুরো প্রক্রিয়ায় তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল।
এছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, রইছ উদ্দিন রেলওয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী দপ্তরে কর্মরত অবস্থায়ই নিজের ভাইয়ের নামে লাইসেন্স ব্যবহার করে ঠিকাদারি কাজ করতেন এবং গত পাঁচ বছরে একাধিক টেন্ডার লাভ করেন। এসব কাজ তিনি অন্যের মাধ্যমে সম্পন্ন করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তদন্ত কমিটি সাক্ষ্য, জবানবন্দি ও দাপ্তরিক নথিপত্র পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্তে দেয়, একই কাজের বিল পুনরায় উত্তোলনের ক্ষেত্রে তারিকুল ইসলাম ও রইছ উদ্দিনই মূল পরিকল্পনাকারী এবং অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। ফলে ‘রেলওয়ে কর্মচারী (দক্ষতা ও শৃঙ্খলা) বিধি, ১৯৬১’ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ‘গুরুদণ্ড’ প্রদানের সুপারিশ করা হয়।
তদন্ত কমিটির প্রধান সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমরা প্রায় আটজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছি। সব তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয়েছি যে অভিযুক্তরা অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শিপন আলী বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধে এবং দৃষ্টান্ত স্থাপনের লক্ষ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
৪৩ দিন আগে
নাটোর-রাজশাহী রুটে বাস চলাচল শুরু
দুই জেলার বাস মালিক সমিতির ফলপ্রসু বৈঠকের পর রাজধানীসহ নাটোর-রাজশাহী রুটে পুনরায় বাস চলাচল শুরু হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে রাজশাহী বাস মালিক সমিতির কার্যালয়ে নাটোর ও রাজশাহী জেলার বাস মালিক সমিতির নেতাদের মধ্যে বৈঠকের পর বাস চলাচল স্বাভাবকি হয়।
বৈঠকে রাজশাহী বাস মালিক সমতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল ও নাটোর বাস মালিক সমিতির সভাপতি লক্ষণ পোদ্দার উপস্থতি ছিলেন।
এর আগে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নাটোর হয়ে রংপুর রুটে বাস চলাচল নিয়ে উভয় বাস মালিক সমিতির মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরপর এই বিরোধের জেরে গতকাল (মঙ্গলবার) থেকে রাজধানীসহ নাটোর-রাজশাহী রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন উভয় জেলার বাস মালিকরা।
৪৩ দিন আগে