সারাদেশ
হবিগঞ্জে সার্টিফিকেট জালিয়াতি চক্রের এক সদস্য আটক
হবিগঞ্জে সার্টিফিকেট জালিয়াতি চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার অলিপুর এলাকায় এক অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার অলিপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে র্যাবের একটি আভিযানিক দল। এ সময় সার্টিফিকেট জালিয়াতি চক্রের সদস্য আব্দুল বাছিত রিয়ানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি জেলার বানিয়াচং উপজেলার দক্ষিণ যাত্রাপাশা গ্রামের বাসিন্দা।
র্যাব আরও জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র ভুয়া শিক্ষাগত সনদ তৈরি করে প্রতারণা করে আসছিল। অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে গ্রাহক সংগ্রহ ও সনদের পিডিএফ কপি তৈরি করে বিক্রি করতেন আটক ওই যুবক। মুল সনদ রাজশাহী থেকে প্রিন্ট করে কুরিয়ারে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হতো।
র্যাব-৯-এর সিপিসি-৩ শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোশাররফ হোসেন সাগর বলেন, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তে অভিযান চলছে।
৫৭ দিন আগে
রামেকে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাসপাতালের হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ৪৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুর ১২টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় এই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ২৩ জন। একই সময় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১০ জন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ১৩৩। হামের সংক্রমণ শুরুর পর এ পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ৪৫২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে মারা গেছেন ৪৬ জন।
এদিকে, রামেকে শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। শয্যা না পেয়ে অপেক্ষারত অবস্থায় গত এক মাসে ৯১টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ১৮টি শিশু আইসিইউ শয্যা রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি হামে আক্রান্ত শিশুদের জন্য রাখা হয়েছে। বাকি ছয়টি রাখা হয়েছে অন্য রোগীদের জন্য।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মার্চ মাসে শিশু আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন ১১৯ জন এবং অপেক্ষমাণ তালিকায় ছিলেন ৩৮৬ জন। এদের মধ্যে ৯১টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়ার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় শিশুদের স্বাস্থ্য জটিলতা দ্রুত বাড়ছে। ফলে আইসিইউয়ের চাহিদাও অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সঙ্কট নিরসনে হাসপাতাটিতে অতিরিক্ত অক্সিজেন লাইন স্থাপনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন ডা. শংকর কে বিশ্বাস। তিনি বলেন, আগে শিশু আইসিইউ শয্যা ছিল ১২টি, যা বাড়িয়ে ১৮টি করা হয়েছে। এছাড়া, এই হাসপাতালের তিনটি শিশু ওয়ার্ডের অনুমোদিত শয্যা সংখ্যা ১৬০ হলেও প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। এতে চিকিৎসা ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, রাজশাহী বিভাগের বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকেও রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। এ অঞ্চলে শিশু আইসিইউ সুবিধা সীমিত থাকায় প্রতিদিন গড়ে ৩০টির বেশি শয্যার চাহিদা থাকে। তবে মার্চ মাসে হাম ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় এই চাহিদা দৈনিক প্রায় ৫০টিতে পৌঁছেছে।
৫৭ দিন আগে
সুনামগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে যাত্রী ছাউনি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল মমিনের বিরুদ্ধে যাত্রী ছাউনি দখল ও ছাউনি ভেঙে ব্যক্তিগত মার্কেটের জন্য রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন পাথারিয়া এলাকার পথচারী, যাত্রীসহ স্থানীয় সুরমা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন পাথারিয়া বাজারের ব্যবসায়ী আঙ্গুর মিয়া।
অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, পাথারিয়া এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি আব্দুল মমিন তার বাড়ির সামনের পূর্ব দিকের মার্কেটে যাতায়াতের রাস্তার জন্য পাথারিয়া বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকার পথচারী ও শিক্ষার্থীদের একমাত্র আশ্রয়স্থল যাত্রী ছাউনি গত ডিসেম্বর থেকে দখলে নিয়েছেন। ছাউনি দখলের পর পর্যায়ক্রমে ছাউনি ভেঙে তার ব্যক্তিগত মার্কেটের রাস্তা নির্মাণ করেন। এই ঘটনায় পাথারিয়া বাজারের অনেকেই বাধা দিলেও তার তোয়াক্কা করেননি আব্দুল মমিন। ফলে রোদ-বৃষ্টির সময় আশ্রয় নেওয়া এবং গাড়িতে উঠার জন্য অপেক্ষা করা যাত্রী ও শিক্ষার্থীদের বসার জায়গার সংকট দেখা দিয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন পথচারী, যাত্রী ও শিক্ষার্থীরা।
এই অবস্থায় ঘটনাস্থল সরজমিন পরিদর্শন করে যাত্রী ছাউনি পুনরুদ্ধার করে সেটি জনগণের জন্য পুনরায় স্থাপনের অনুরোধ জানিয়েছেন অভিযোগকারী আঙ্গুর মিয়া।
স্থানীয় পাথারিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য নুর মিয়া বলেন, ৩৯ নম্বর পাথারিয়া বাসস্ট্যান্ডে সরকারি যাত্রী ছাউনি ছিল। সেখানে এলাকার শিক্ষার্থী, পথচারী, দূর পথের যাত্রীরা বিশ্রাম নিতেন, কিন্তু মমিন মিয়া সেটি দখল করে ভেঙে শেষ করে দিয়েছেন।
গাজীনগর গ্রামের জিয়াউদ্দিন তুহিন বলেন, পাথারিয়া বাজারের একমাত্র যাত্রী ছাউনি বাজারের যাত্রী, পথচারী ও সুরমা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। জনগুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনা দখলমুক্ত করে পুনরায় নির্মাণ করা অতি জরুরি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল মমিন বলেন, যাত্রী ছাউনি ভাঙার বিষয়ে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। যাত্রী ছাউনিটি সরকারিভাবে স্থাপন করা হলেও জায়গাটি আমার নিজের। কে বা কারা সেটি ভেঙেছে তা আমি জানি না। দীর্ঘদিন ধরে এটি পরিত্যক্ত ছিল।
এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জের ইউএনও মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ভূমি কর্মকর্তার (এসিল্যান্ড) নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৫৭ দিন আগে
রাজধানীতে বাসের ধাক্কায় সিএনজিচালক নিহত
রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় লাব্বাইক পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় মোহাম্মদ মামুন ফরাজী নামে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক নিহত হয়েছে। ঘটনার পর থেকে বাসের চালক পলাতক থাকলেও বাসটিকে জব্দ করেছে পুলিশ।
বুধবার (৮ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুপুর ১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মামুন ফরাজী নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার হিরাগঞ্জ এলাকার শিকদার ফরাজীর ছেলে।
মামুনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা পথচারী কাজী ফয়সাল বলেন, ফার্মগেট এলাকায় লাব্বাইক পরিবহনের একটি বাস সিএনজিটিকে ধাক্কা দিলে এর চালক গুরুতর আহত হন। এরপর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তেজগাঁও জোনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার আক্কাস আলী বলেন, ঘটনাটি জানার পর ঘটনাস্থলে আমাদের পুলিশের টিম পাঠানো হয়েছে। ঘাতক লাব্বাইক বাসটিকে জব্দ করা গেলেও চালক পালিয়ে গেছেন।
৫৭ দিন আগে
বৈসাবিকে স্বাগত জানিয়ে খাগড়াছড়িতে বর্ণিল আয়োজন
পাহাড়জুড়ে উৎসবের আমেজ। পুরোনো বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে বরণ করে নিতে রঙ, সুর আর ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে খাগড়াছড়িতে শুরু হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান সামাজিক উৎসব ‘বৈসাবি’র আয়োজন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনের সূচনা হয়।
জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে শান্তির প্রতীক পায়রা ও রঙিন বেলুন উড়িয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা। এ সময় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
শোভাযাত্রাটি জেলা পরিষদ চত্বর থেকে শুরু হয়ে টাউন হল প্রাঙ্গণে গিয়ে এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় মিলিত হয়। পাহাড়ি ও বাঙালি—সব সম্প্রদায়ের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এটি পরিণত হয় উৎসবের এক অনন্য বহির্প্রকাশে। ঐতিহ্যবাহী পোশাক, রঙিন অলংকার আর বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে হাজারো নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী ও শিশু-কিশোর অংশ নেয় এই আনন্দযাত্রায়।
৫৮ দিন আগে
সিলেট সীমান্তে আটক ৯ বাংলাদেশিকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর বিএসএফের
সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে ৯ জন বাংলাদেশিকে আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে আটকদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে রবিবার দুপুরে হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষে বিকেলে তাদের গোয়াইনঘাট থানায় সোপর্দ করে বিজিবি।
আটকরা হলেন— বাগেরহাট জেলার কালিকা বাড়ি গ্রামের হাসান গাজি ও তার স্ত্রী আয়শা খাতুন, ছোট বাদুরা গ্রামের শুকুর আলী, হাসিনা আক্তার, কিশোরগঞ্জ জেলার ভেইয়ার কোন গ্রামের রোজিনা আক্তার, মুন্সিগঞ্জ জেলার ভাগ্যকুল গ্রামের পারুল রাজবংশী, সিলেটের জৈন্তাপুর থানার ডিবির হাওর গ্রামের নাহিদ আহমেদ নাঈম, হেলাল আহমেদ ও শিশু আবীর গাজি (১৫ মাস)।
বিজিবি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ এপ্রিল দিবাগত রাত ২টার দিকে ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে তাদের আটক করে বিএসএফের ৪ ব্যাটালিয়নের মুক্তারপুর ক্যাম্পের টহলদল। পরদিন ৫ এপ্রিল দুপুরে তামাবিল সীমান্তের ১২৭৫ নম্বর পিলার এলাকায় বিএসএফের মুক্তারপুর ক্যাম্প ও বিজিবির তামাবিল ক্যাম্পের সদস্যদের উপস্থিতিতে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে ৪ জন নারী, ৪ জন পুরুষ ও এক শিশুকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে বিকেলে তাদের গোয়াইনঘাট থানায় সোপর্দ করে বিজিবি।
এ ঘটনায় তামাবিল বিওপি ক্যাম্পের হাবিলদার হুমায়ুন কবীর বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় পাসপোর্ট আইনে একটি মামলা করেছেন।
গোয়াইনঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কবীর হোসেন বলেন, ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে বিএসএফ নারী ও শিশুসহ আটক ৯ জনকে বিএসএফ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। পরে রবিবার বিকেলে বিজিবি তাদের থানায় সোপর্দ করে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে আজ (সোমবার) সকালে সিলেট আদালতে পাঠানো হয়েছে।
৫৮ দিন আগে
নড়াইলে প্রধান শিক্ষকের ‘নিষেধ সত্ত্বেও’ শিক্ষার্থীকে মারধর
শিক্ষক-শিক্ষিকার হাতে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে নড়াইলের লোহাগড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র কৃষ্ণ হালদার (১১)। নিষেধ করার পরও ওই দুই শিক্ষক ছেলেটিকে মারধর করেছেন বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বিদ্যালয়ের ক্লাস চলাকালীন এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, কৃষ্ণ হালদারকে শিক্ষক রানী চক্রবর্তী ব্ল্যাকবোর্ডের কালি মোছার ডাস্টার দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেদম মারধর করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও ক্ষত সৃষ্টি হয়। পরে অসুস্থ অবস্থায় তাকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এর আগে, গত ১ এপ্রিল বিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষক দীপক কুমারের বিরুদ্ধেও কৃষ্ণকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
ভুক্তভোগীর পরিবার আরও জানায়, বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুমানা আক্তারকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষিপ্ত হয়ে পুনরায় তাকে মারধর করা হয়।
কৃষ্ণের বাবা উত্তম হালদার বলেন, ‘পড়া না পারার অজুহাতে আমার ছেলেকে বারবার মারধর করা হচ্ছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
মা পল্লবী হালদার বলেন, ‘আমার ছেলে এখন আতঙ্কে রয়েছে। সে স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে। মারধরের কারণে তার শরীরে অনেক ক্ষত হয়েছে।’
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুমানা আক্তার বলেন, শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাটি দুঃখজনক। দুই শিক্ষককে সতর্ক করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নিষেধ করা সত্ত্বেও ওই শিক্ষকরা ছেলেটিকে মারধর করেছেন।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
৫৮ দিন আগে
অকটেন না পেয়ে ট্যাগ কর্মকর্তাকে পিটিয়ে হাত ভেঙ্গে দেওয়ার অভিযোগ
খাগড়াছড়িতে অকটেন না পাওয়ায় ফিলিং স্টেশনের দায়িত্বে থাকা ট্যাগ কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তাকে পিটিয়ে হাত ভেঙ্গে দিয়েছে কয়েকজন যুবক।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুর পৌনে ৩টার দিকে জেলা সদরের মহাজন পাড়া এলাকায় মেহেরুন্নেছা ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ট্যাগ কর্মকর্তা হেমন্ত চাকমা খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মচারী।
স্থানীয়রা জানান, খাগড়াছড়ি পৌর শহরের মেহেরুন্নেছা ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে জ্বালানি তেল বিতরণ শুরু হয়। এ সময় ৫০০ টাকার অকটেন বিতরণ করা হলেও কয়েকজন যুবক প্লাস্টিকের বোতলে অতিরিক্ত অকটেন দাবি করেন। তবে হেমন্ত চাকমা সরকারি নির্দেশনা মেনে অতিরিক্ত তেল দিতে অস্বীকৃতি জানান।
এ ঘটনার পর যুবকেরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরে দুপুরে মহাজন পাড়া এলাকায় দুপুরের খাবার খেতে এটি হোটেলে গেলে ওই যুবকরা হেমন্ত চাকমাকে সেখান থেকে বের করে লাঠিসোঠা দিয়ে হামলা চালিয়ে হাত ভেঙ্গে দেয়। আহত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয়রা তাকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারিয়া সুলতানা জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
৫৮ দিন আগে
তনু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে কুমিল্লা আদালতে তলব
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই, ঢাকার পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলামকে আজ সোমবার কুমিল্লার আদালতে তলব করা হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘ ১০ বছরেও বিচার না হওয়া এ মামলায় নতুন করে আশার আলো দেখছে তনুর পরিবার।
মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানতে সম্প্রতি কুমিল্লার সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে পিবিআইকে (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) চিঠি দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (৬ এপ্রিল) তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির হয়ে মামলার তদন্তের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার কথা রয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, আদালত মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। তবে এখনই মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) কিংবা চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) দেওয়া হচ্ছে না। আদালতে গিয়ে মামলার তদন্তের কিছু বিষয়ে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরব। এখন এর বেশি কিছু মন্তব্য করা যাচ্ছে না।
সর্বশেষ গত বছরের ৭ এপ্রিল বিকালে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ওই তদন্ত কর্মকর্তা। সে সময় পিবিআইয়ের তদন্ত দল মামলার বাদী তনুর বাবা, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অবসরপ্রাপ্ত অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেনের সঙ্গে তার অফিসে গিয়ে কথা বলেন। মো. তরিকুল ইসলাম এ মামলার ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলে তার মরদেহ পাওয়া যায়। পরদিন নিহতের বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
শুরুতে থানাপুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি। পরে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি। গত প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পান পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।
মামলার বাদী তনুর বাবা বলেন, মেয়ে হত্যাকাণ্ডের ১০ বছর পার হয়েছে। এ পর্যন্ত অসংখ্যবার সেনানিবাস এলাকা, কুমিল্লা পুলিশ অফিস ও ঢাকার বিভিন্ন দপ্তরে স্বাক্ষ্য দিয়েছি, কিন্তু কোনো ফলাফল পাইনি। তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেছেন আজ আদালতে থাকতে। আমি আদালতে যাব। মরার আগে নতুন সরকারের কাছে মেয়ে হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই।
৫৯ দিন আগে
রাজবাড়ীতে রিকশার চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে নারী নিহত
রাজবাড়ীতে রিকশার চাকার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে সেলিনা আক্তার ঝরনা (৬৫) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শহরের পান্না চত্বরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সেলিনা আক্তার ঝরনা রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা সদরের প্রয়াত মোজাম্মেল হোসেন মিয়ার স্ত্রী। তিনি অনলাইন সাংবাদ পোর্টাল বার্তা২৪-এর রাজবাড়ী স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সমকাল বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রতিনিধি এবং বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল মিয়ার মা।
স্থানীয়রা জানান, সেলিনা আক্তার ঝরনা সকালে বালিয়াকান্দির নিজ বাড়ি থেকে পালিত এক নাতনি ও জামাইয়ের সঙ্গে জরুরি কাজে রাজবাড়ী শহরে আসেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাদের আদালতপাড়া এলাকায় রেখে তিনি রিকশায় শহরের রেলগেট এলাকায় একটি হোটেলে নাশতা করার উদ্দেশ্যে রিকশায় চড়ে রওনা হন। পথে শহরের পান্না চত্বর পার হওয়ার সময় অসাবধানতাবশত তার গলায় পেঁচানো ওড়না রিকশার চাকার সঙ্গে পেঁচিয়ে যায়। এতে তার গলায় ফাঁস লেগে তিনি সড়কে পড়ে যান। এ সময় মাথায় আঘাত পেয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। তার মাথা ফেটে রক্ত ঝরছিল।
স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা রাজীব দে সরকার জানান, সকাল পৌনে ১০টার দিকে তাকে হাসপাতালে আনা হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা যায়, হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা গেছেন। মরদেহ এখনও হাসপাতালে রয়েছে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার জিয়াউর রহমান জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের জন্য দুপুরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে সাংবাদিক সোহেল মিয়া সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
৫৯ দিন আগে