সারাদেশ
নরসিংদীতে অবৈধ ব্যাটারি কারখানায় বিস্ফোরণ, ৭ শ্রমিক দগ্ধ
নরসিংদীতে সীসা তৈরির একটি কারখানায় বিস্ফোরণে ৭ শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ৩ জনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
গতকাল রবিবার সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার পাঁচদোনা এলাকায় অবস্থিত কারখানাটিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গুরুতর আহত শ্রমিকরা হলেন— দক্ষিণ শীলমান্দি এলাকার কাদির মিয়ার ছেলে মোজাম্মেল হোসেন (১৯), সাদ্দাম মিয়ার ছেলে হোসেন আলী (২৪) এবং সাদ্দাম হোসেনের ছেলে তাইজুল ইসলাম (২৫)। এ ছাড়াও আরও চার শ্রমিক আহত হয়েছেন যাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই পাঁচদোনা এলাকায় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে ব্যাটারি কারখানা পরিচালনা করে আসছে একটি চীনা প্রতিষ্ঠান। কারখানাটিতে পুরাতন ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা সংগ্রহ ও তৈরি করা হয়ে থাকে।
রবিবার সকালে কাজ করার সময় কারখানাটিতে আগুন লেগে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ৭ জন শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক চারজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাকি তিনজনকে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকার জাতীয় বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ফরিদা গুলশানারা কবির জানান, সকালে পাঁচদোনা থেকে ৭ জন অগ্নিদগ্ধ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্বজনরা। এর মধ্যে দুইজনের শরীরের ৬০ ভাগ এবং ১ জনের ৫০ ভাগ দগ্ধ হয়েছে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় জাতীয় বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারী ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। বাকী চারজনকে সাধারণ চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে।
নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান, আগুনের খবর পেয়ে পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।
১৪৫ দিন আগে
জিরানী বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ১৭ দোকান ভস্মীভূত
আশুলিয়ার জিরানী বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। আগুনে টিনের দোকান, লাইব্রেরি, কাপড়ের দোকান, জুতার দোকান ও মুদি দোকানসহ অন্তত ১৭টি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান এবং দোকানে থাকা সমস্ত মালামাল ভস্মীভূত হয়েছে। এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন দোকানমালিকরা।
শনিবার (১১ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে আশুলিয়ার ও গাজীপুর মহানগরীর সীমান্তবর্তী জিরানী বাজারে আগুনের এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট প্রায় ৪০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
তবে আগুন নির্বাপণ করতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা সময় লেগে যায় বলে রোববার সকালে ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার প্রণব চৌধুরী জানান।
তিনি জানান, আগুনের খবর পেয়ে ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিস থেকে প্রথমে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয়। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় পরে সারাবো ফায়ার সার্ভিস থেকে আরও দুটি ইউনিটসহ মোট ৫টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ করে এবং প্রায় ৪০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে মুদি দোকান, বইয়ের লাইব্রেরি, কাপড়ের দোকান, জুতার দোকান ও টিনের দোকান সহ অন্তত ১৭টি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ভস্মীভূত হয়েছে বলে জানান তিনি।
দোকানমালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাত ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ করে বাড়ি চলে যান তারা। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে ছুটে যান বাজারে। তারপর প্রথমে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তারা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।
সামি লাইব্রেরির মালিক আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তার দোকানে অন্তত এক কোটি টাকার উপরে বইখাতাসহ স্টেশনারি মালামাল ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
এছাড়া বাজারের বাইরে কেরু বেপারী মার্কেটের ইমরুলের কাপড়ের দোকান, লিজু মোল্লার কাপড়ের দোকান, মঞ্জুর কাপড়ের দোকান, আব্দুস সবুরের জুতার দোকান এবং আরিফের জুতার দোকানে আগুন লাগে। সেসব দোকানেরও সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
দোকানমালিকরা জানান, তারা বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে দোকানে মালামাল তুলেছিলেন।
ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার প্রণব কুমার চৌধুরী বলেন, ‘আগুনের খবর পেয়ে ডিইপিজেড থেকে তিনিটি এবং পরে সারাবো ফায়ার সার্ভিস থেকে আরও দুটি ইউনিট যোগ দেওয়ার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করতে সময় লাগে প্রায় আড়ায় ঘণ্টা। আগুনে প্রায় দুই কোটি টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না, তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে আগুনের সূত্রপাত ঘটতে পারে।’
১৪৫ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে সেই ভিক্ষুকের ঘরে মিলল আরও ১ বস্তা টাকা
সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার সালেহা পাগলী নামে সেই ভিক্ষুকের ঘর থেকে আরও ১ বস্তা টাকা পাওয়া উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (১১ অক্টোবর) সকালে রায়পুর ১ নম্বর মিলগেটে শ্রমিকদের পরিত্যক্ত কোয়ার্টারের বারান্দা থেকে টাকার বস্তাটি উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।
সালেহা পাগলী’ মাছুমপুর মহল্লার মৃত আব্দুস ছালামের স্ত্রী। রায়পুর ১ নম্বর মিলগেটে শ্রমিকদের পরিত্যক্ত কোয়ার্টারের বারান্দায় একাই থাকতেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় তিন যুগ ধরে সিরাজগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভিক্ষা করতেন সালেহা এবং সিরাজগঞ্জ কওমি জুট মিলের বারান্দায় একাই বসবাস করতেন। নিজের প্রয়োজনেও কখনো টাকা খরচ করতেন না।
এর আগে গেল বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে স্থানীয়রা ওই একই স্থানে ২ বস্তা টাকা পেয়ে জনসম্মুখে ওইদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত গণনা করে ১ লাখ ২৬ হাজার ২৫৩ টাকার হিসাব করেন। এরপর পুলিশের উপস্থিতিতে টাকাগুলো সালেহার মেয়ে স্বপ্না খাতুনকে দেওয়া হয়।
এদিকে, শনিবার সকালে উদ্ধার হওয়া সালেহার এক বস্তা টাকা গণনা করে সেখানে ৪৭ হাজার ৮২৬ টাকা পাওয়া গেছে।
ভিক্ষুক সালেহা বর্তমানে অসুস্থ হয়ে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে। আজকের উদ্ধার হওয়া টাকাও তার একমাত্র মেয়ে স্বপ্না খাতুনকে দিয়ে মায়ের চিকিৎসায় খরচ করতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর শাহরিয়ার শিপু।
১৪৬ দিন আগে
লালমনিরহাট, কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দি লাখো মানুষ
টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে উত্তরের দুই জেলা— লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এর ফলে ওই অঞ্চলের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে হাজারো ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ।
লালমনিরহাটে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে
তিন দিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে লালমনিরহাট জেলার পাঁচ উপজেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সেখানকার বাসিন্দারা পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন, রাত জেগে কাটছে তাদের নির্ঘুম সময়।
রোববার (৫ অক্টোবর) রাতে ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভাটির লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে প্লাবিত হয় শত শত ঘরবাড়ি। আজ সোমবার সকাল ৯টায়ও পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
তীব্র স্রোতের কারণে এখনো পানি দ্রুত গতিতে লোকালয়ের ভেতর প্রবেশ করছে। তবে দুপুর ১২টার পর থেকে পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা।
এদিকে, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার আদিতমারী, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, পাটগ্রাম ও সদর উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। নিচু এলাকার ঘরবাড়িতে বুকসমান পানি উঠেছে। অনেকে গবাদি পশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে স্পার বাঁধ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।
১৫১ দিন আগে
খাগড়াছড়িতে হত্যা ও সহিংসতার ঘটনায় পুলিশের তিন মামলা
খাগড়াছড়ির সদর ও গুইমারা উপজেলায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ভাঙচুর, দাঙ্গা সৃষ্টি এবং পুলিশের উপর হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে হত্যাসহ তিনটি মামলা করেছে। এসব মামলায় অজ্ঞাতনামা প্রায় নয় শত জনকে আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন মৃধা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ভাঙচুর, দাঙ্গা সৃষ্টি এবং পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে ৬০০ থেকে ৭০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেছেন সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহরিয়ার।
অন্যদিকে, গুইমারা থানায় হত্যাকাণ্ড ও পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। এতে অজ্ঞাত ২৫০-৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গুইমারা থানার ওসি এনামুল হক চৌধুরী জানান, বর্তমানে উপজেলায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
আরও পড়ুন: খাগড়াছড়িতে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ: চলছে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ, এলাকাজুড়ে থমথমে অবস্থা
এদিকে, শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগে আটক শয়ন শীলকে ৬ দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়।
ওসি আব্দুল বাতেন মৃধা জানান, রিমান্ড শেষে আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, খাগড়াছড়ির পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে এবং ১৪৪ ধারা অব্যাহত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, হাটের দিনে সকাল থেকে বাজারে পাহাড়ি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের লোকজন স্বাভাবিকভাবে আসতে শুরু করেছে। খাগড়াছড়ির সব সড়কে যান চলাচল অনেকটা স্বাভাবিক রয়েছে, দোকানপাটও খোলা হয়েছে। পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে।
১৫৫ দিন আগে
ফেনীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস উল্টে পড়ল দোকানে, নিহত ৩
ফেনীর দাগনভূঞায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বাস উল্টে গিয়ে সড়কের পাশের দোকানে পড়েছে। এতে দুই নারীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের সিলোনিয়া বাজারসংলগ্ন লাকি রোডের মুখে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার খুশিপুর এলাকার শহিদুল্লাহর স্ত্রী শামীম আরা বেগম (৫০) ও একই উপজেলার দক্ষিণ জয়লস্কর গ্রামের আবদুল মতিনের ছেলে মো. শ্রাবণ (২০)। নিহত অন্য নারীর এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, ফেনীর মহিপাল থেকে নোয়াখালীগামী সুগন্ধা পরিবহনের বাসটি সিলোনিয়া বাজারসংলগ্ন লাকি রোডের মুখে পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। পরে বাসটি উল্টে একটি দোকানের ভেতরে পড়ে।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্র নিহত
স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত ডা. শাহরিয়ার মাহমুদ বলেন, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গুরুতর আহত একজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
মহিপাল হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুন অর রশিদ বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মরদেহ ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মূলত বেপরোয়া গতি ও বৃষ্টির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৫৫ দিন আগে
সুন্দরবনে কুমিরের আক্রমণে জেলে নিহত, ৭ ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধার
সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে কুমিরের আক্রমণে সুব্রত মণ্ডল (৩২) নামে এক জেলে নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল খালে ওই ঘটনা ঘটে। প্রায় সাত ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার লাশ উদ্ধার হয়েছে।
নিহত সুব্রত খুলনার দাকোপ উপজেলার ঢাংমারী এলাকার কুমুদ মণ্ডলের ছেলে। পেশায় তিনি একজন জেলে ছিলেন। সুব্রত মণ্ডল সুন্দরবনে নদী–খালে মাছ ও কাঁকড়া ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল (মঙ্গলবার) সকালে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী স্টেশন থেকে সরকারি রাজস্ব দিয়ে পাশ সংগ্রহ করে সুব্রতসহ কয়েকজন জেলে সুন্দরবনে প্রবেশ করেন। আমুরবুনিয়া গ্রাম থেকে হেঁটে জোংড়া এলাকায় যান তাঁরা। পথে নদী–খাল সাঁতরে পার হন তাঁরা।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় গরু বিক্রির দ্বন্দ্বে নিহত দুই ভাই
কাঁকড়া ও মাছ সংগ্রহ করে সুন্দরবন থেকে ফেরার পথে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে করমজল খাল সাঁতরে পার হওয়ার সময় একটি কুমির সুব্রতকে কামড়ে ধরে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য জেলেরা চেষ্টার পরও তাকে উদ্ধার করতে পারেননি। পরে বন বিভাগ ও স্থানীয় বাসিন্দারা খালে তল্লাশি শুরু করেন।
সুন্দরবনের করমজল পর্যটন ও বন্য প্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির জানান, অনেক খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে করমজল খালের গজালমারী এলাকায় পানির নিচ থেকে গ্রামবাসীরা সুব্রতের লাশ উদ্ধার করে।
তিনি আরও জানান, বন বিভাগের অনুমতি নিয়েই সুব্রত মণ্ডল মাছ ও কাঁকড়া ধরার জন্য সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিল। কুমিরের হামলায় নিহত হওয়ায় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তার পরিবার ক্ষতিপূরণ পাবে বলে আশ্বাস দেন।
১৫৭ দিন আগে
খাগড়াছড়িতে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ: চলছে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ, এলাকাজুড়ে থমথমে অবস্থা
স্কুলছাত্রী ধর্ষণের প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ চলছে, বন্ধ রয়েছে সব ধরনের যানবাহন চলাচল। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। এ ছাড়া অবরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতার পর এলাকাজুড়ে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। কেউ বের হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশির মুখে পড়ছেন। এমনকি শহরতলীর দোকানপাটও খোলেনি।
আজ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। গতকাল (শনিবার) সড়কে পিকেটারদের দেখা গেলেও আজ তা চোখে পড়ছে না।
তবে জেলা শহরসহ আশপাশ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। সেনাবাহিনী টহলের পাশাপাশি ৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।
এর আগে, শনিবার খাগড়াছড়ি পৌরসভা, সদর উপজেলা ও গুইমারায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।
আরও পড়ুন: খাগড়াছড়িতে চলমান অবরোধের মধ্যে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি
খাগড়াছড়ির জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি থাকবে।
প্রসঙ্গত, এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে খাগড়াছড়ি পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের সিঙ্গিনালায় প্রাইভেট পড়া শেষে বাড়ি ফেরার পথে ধর্ষণের শিকার হন ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রী। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করে খাগড়াছড়ি সদর থানায় মামলা করেন।
পরদিন সকালে সেনাবাহিনীর সহায়তায় সন্দেহভাজন যুবক শয়ন শীলকে (১৯) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শয়ন শীলকে গ্রেপ্তার করা হলেও বাকি দুইজন এখনো পলাতক রয়েছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে জুম্ম ছাত্র জনতা ২৪ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ সমাবেশ করে এবং পরদিন (২৫ সেপ্টেম্বর) খাগড়াছড়ি জেলায় অর্ধদিবস অবরোধ কর্মসূচি পালন করে।
অবরোধে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় সাজেকে প্রায় দুই হাজার এবং রাঙামাটি শহরে সহস্রাধিক পর্যটক আটকা পড়েন। আটকে পড়া পর্যটকদের রাতেই খাগড়াছড়িতে নিয়ে আসা হয়। তাদের অনেকেই ফিরে গেছেন গন্তব্যে।
১৬০ দিন আগে
দুর্গাপূজায় সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ৮ দিন বন্ধ থাকবে আমদানি-রপ্তানি
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে টানা আট দিন আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে এ সময়ে বন্দর অভ্যন্তরে থাকা আমদানি পণ্য খালাস কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে।
বৃহস্পতিবার ( ২৫ সেপ্টেম্বর) সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব রুহুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন: আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারত গেল ১২০০ কেজি ইলিশ
তিনি জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটি এবং ভারতের মহদিপুর স্থলবন্দর রপ্তানিকারক সমিতির ছুটি মিলে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ৮ দিন এই বন্দর দিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ৮ দিন বন্ধের পর ৪ অক্টোবর থেকে আবারও আমদানি-রপ্তানি শুরু হবে।
তবে এ সময়ে বন্দর অভ্যন্তরে থাকা আমদানি পণ্য খালাসের কাজ স্বাভাবিকভাবে চলবে বলে জানান তিনি।
১৬৩ দিন আগে
নরসিংদীর ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ড, ১ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণ
নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের চেষ্টায় ১ ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ট্রান্সফরমারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
পলাশ ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আব্দুল শহিদ জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) ভোরে ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ১৩২-৩৩ কেভির ট্রান্সফরমারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তারা খবর পেয়ে ভোর ৫টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে ২টি ইউনিটের ১ ঘণ্টায় চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে ট্রান্সফরমারটি পুড়ে গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: গাজীপুরের কাঁচাবাজারে ভয়াবহ আগুন, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা
শহিদ আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শর্ট সার্কিট থেকে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তদন্ত সাপেক্ষে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পরে জানা যাবে।
এদিকে, ভোরে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত পলাশ উপজেলা ও পাশ্ববর্তী কালীগঞ্জ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়।
ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী এনামুল হকের কাছে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে তিনি পরে ফোন দিতে বলেন।
১৬৩ দিন আগে