সারাদেশ
চাঁদার দাবিতে গলাচিপার খেয়াঘাটে হামলা-ভাঙচুর, লুটপাট
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার হরিদেবপুর খেয়াঘাটে প্রকাশ্যে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুর্বৃত্ত ও সন্ত্রাসীদের হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পরপর হুমকি আর ভয়ভীতির কারণে ঘাটের ইজারাদার শিবু লাল দাস এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) রাতে গলাচিপা উপজেলার হরিদেবপুর খেয়াঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার স্পষ্ট সিসি টিভির ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ প্রশাসনের কাছে ভাইরাল হয়ে গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে একদল দুর্বৃত্ত ঘাটের ভাড়া উত্তোলন কাউন্টার-সংশ্লিষ্টদের ওপর হামলা চালায়। সে সময় তারা ক্যাশবাক্স খুলে টাকাপয়সা লুট করে।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা ঘাটের বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করে এবং নগদ টাকা ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় খেয়াঘাটে অবস্থানরত কর্মচারীদের বেধড়ক মারধর ও অস্ত্র দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা। দুদিন আগে ওই ঘটনা ঘটলেও এখনও এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই নিরাপত্তার অভাবে এলাকা ছেড়েছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঘাট এলাকায় চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। সর্বশেষ দাবি না মানায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে জেলা পরিষদ প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি জানান, বিষয়টি প্রশাসনের সব মহলকে জানানো হয়েছে। তিনি জানান, বৈধ ইজারাদার শিবু দাসকে ঘাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনকে বলা হয়েছে।
পটুয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাজ্জাদুল ইসলাম সজল বলেন, আমরা আবেদন পেলে ঘাট দখলের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে মামলা নিতে প্রস্তুত রয়েছি।
এ বিষয়ে ইজারাদার শিবু লাল দাস বলেন, থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। পুলিশ সুপারকেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হলে ঘাট মুক্ত হবে বলে তিনি জানান। শিবু বলেন, ‘তালেব আকনের নেতৃত্বে খেয়াঘাট দখল করা হয়েছে।’
৭৬ দিন আগে
বান্দরবানের পাহাড়ি খাদ থেকে মা মেয়ের লাশ উদ্ধার
বান্দরবানে পাহাড়ি খাদের ১৫০ ফুট গভীর থেকে মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে জেলা শহরের মেঘলা লালমোহন বাগান তঞ্চঙ্গ্যা পাড়ার গহীন এলাকা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন— মা রমেসিং মার্মা (৩০) ও মেয়ে বৃষ্টি মার্মা (৪)। তাদের বাড়ী মেঘলার কানাপাড়া এলাকায়। তবে এটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা, না কি খুন, সে বিষয়ে এখনও জানা যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার রাত থেকে রমেসিং মার্মা ও তার মেয়েকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না স্বজনেরা। অনেক খোঁজাখুজির পর বৃহস্পতিবার দুপুরে গহীন এলাকার দেড়শ ফুট পাহাড়ের নিচে মা-মেয়েকে পড়ে থাকতে দেখতে পান স্থানীয়রা। এরপর বিষয়টি পুলিশকে জানালে ঘটনাস্থল থেকে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে সদর হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ বিষয়ে বান্দরবান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) সার্কেল মান্না দে বলেন, ঘটনাটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা, না কি খুন, তা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
৭৭ দিন আগে
পদ্মায় তেলবাহী জাহাজের সঙ্গে লঞ্চের ধাক্কা, অল্পের জন্য রক্ষা পেল দুই শতাধিক যাত্রী
পদ্মা নদীতে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া এবং মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথে তেলবাহী জাহাজের সঙ্গে যাত্রীবাহী লঞ্চের ধাক্কায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন লঞ্চটিতে থাকা দুই শতাধিক যাত্রী।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। লঞ্চটি দৌলতদিয়া ঘাটে নোঙর করে রাখা হয়েছে।
লঞ্চে থাকা যাত্রীদের অভিযোগ, আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পাটুরিয়া ঘাট থেকে দৌলতদিয়া ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে আসা এমভি রেজোয়ান লঞ্চটি মাঝ নদীতে পৌঁছালে তেলবাহী একটি জাহাজের পেছনের অংশের সঙ্গে লঞ্চটির ধাক্কা লাগে। এতে প্রায় ১০ জনের মতো যাত্রী কমবেশি আহত হন। কেউ হাতে-পায়ে গুরুতর আঘাত পান, কেউ মাথায় আঘাত পান।
দুই যাত্রী এ সময় নদীতে পড়েও যান। তবে তারা স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরে সাঁতরে লঞ্চে উঠতে সক্ষম হন। লঞ্চের মাস্টারের গাফিলতির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
তেলবাহী জাহাজটি সিরাজগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল বলে জানা গেছে।
দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটে কর্মরত রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ওয়্যার হাউজ ইন্সপেক্টর মো. জিল্লুর রহমান প্রামাণিক বলেন, মাঝ নদীতে তেলবাহী জাহাজের সঙ্গে এমভি রেজোয়ান লঞ্চের ধাক্কা লাগে। এতে কিছু সংখ্যক যাত্রী আহত হন। আহত যাত্রীরা দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটে ঘাটে পৌঁছালে আমরা তাদের নিরাপদে লঞ্চ থেকে নামিয়েছি।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) আরিচা কার্যালয়ের টার্মিনাল তত্বাবধায়ক মো. শিমুল ইসলাম বলেন, জাহাজ বা লঞ্চ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হওয়ায় সংঘর্ষ ঘটে। তবে কয়েকজন যাত্রী সামান্য আহত হলেও বড় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি নৌপুলিশ দেখভাল করছে।
দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ত্রিনাথ সাহা দুপুর ১২টার দিকে বলেন, আহত যাত্রীদের ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সহযোগিতায় তার স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে সবাই প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। ঈদের সময় হওয়ায় লঞ্চটি আটকে না রেখে যাত্রীর ট্রিপ নিতে ইতোমধ্যে বহরে যুক্ত করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে।
৭৭ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে মিলল নবজাতকের মরদেহ
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পুকুর থেকে এক নবজাতকের ( মেয়ে শিশু) বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের খাগড়বাড়িয়া গ্রামের আজিজুর রহমানের পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য সেটি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মাছ ধরতে গিয়ে স্থানীয় ছেলেরা পুকুরে একটি বস্তা পান। পরে তা উপরে তুলে দেখা যায় একটি নবজাতক শিশুর মরদেহ। শিশুটির ওজন প্রায় দুই কেজি হলেও তার বাবা-মায়ের পরিচয় জানা যায়নি। এতে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে একনজর মরদেহটি দেখতে ছুটে আসেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে পান্টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ আলী বাদল জানান, সড়কের ধারেই আজিজুরের বড় পুকুর রয়েছে। সেখানে কয়েকজন হাত দিয়ে মাছ ধরছিল। এ সময় এক ছেলের হাতে একটি বস্তা উঠে আসে। তখন তারা ভেবেছিল বস্তায় মাছ আছে। কিন্তু বস্তার মুখ খুলে দেখা যায় একটি মেয়ে নবজাতকের মরদেহ। এ খবর মুহূর্তেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতা ভিড় করেন।
বাদলের ভাষ্য, কেউ হয়তো শিশুটিকে বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে গেছেন। শিশুটির ওজন প্রায় দুই কেজি। তবে বাবা-মায়ের পরিচয় জানা যায়নি।
ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, স্থানীয়রা মাছ ধরতে গিয়ে পুকুর থেকে এক মেয়ে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি মর্গে পাঠানো হয়েছে।
৭৭ দিন আগে
ঈদের আগমূহুর্তে চট্টগ্রামে মার্কেটে আগুন: নিহত ২
চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী থানার টেরিবাজার এলাকায় একটি বহুতল মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডে দুজন নিহত হয়েছেন। ঈদের আগমুহূর্তে সৃষ্ট ঘটা এ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত সাতটি দোকান পুড়ে গেছে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে টেরিবাজারের কেবি অর্কিড প্লাজা নামে ১০ থেকে ১২ তলাবিশিষ্ট ভবনের চতুর্থ তলায় একটি টেইলার্সের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
নিহত দুজন হলেন— পটিয়া উপজেলার বধুপুর এলাকার মোহাম্মদ ইউনুস (৫২) এবং বোয়ালখালী এলাকার সোলাইমান। তারা দুজনই চতুর্থ তলার একটি টেইলার্সের কর্মচারী ছিলেন।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে দুটি স্টেশনের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ১০টা ৫৩ মিনিট থেকে বেলা ১১টার মধ্যে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।
আগুনে আহত কয়েকজনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম সদর হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল মন্নান জানান, মার্কেট-কাম-রেসিডেন্স ধরনের ভবনটির চতুর্থ তলায় আগুন লাগলেও দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে এনে ওই ফ্লোরেই সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হয়েছে। তবে আগুনের তীব্রতা ও ধোঁয়ার কারণে ওপরের কয়েকটি তলাও আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আগুনে চতুর্থ তলার দর্জি এবং কাপড়ের দোকানসহ অন্তত সাতটি দোকান পুড়ে গেছে। আরও চারটি দোকানের ক্ষতি হয়েছে। ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়া অন্তত তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেহরির পর থেকে এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিদ্যুৎ ফিরে আসার পরপরই আগুন লাগে।
টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, যে দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত, সেখানে কর্মচারীদের বেতন-বোনাস দেওয়ার জন্য আনুমানিক ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা নগদ রাখা ছিল।
কেবি অর্কিড প্লাজার নিচের পাঁচ তলায় শপিং মল এবং ওপরের তলাগুলোতে আবাসিক ফ্ল্যাট রয়েছে। ভবনটিতে জুয়েলারি দোকান, ব্যাংকের শাখা, দর্জির দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। আগুন লাগার সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
৭৭ দিন আগে
কয়েক সেকেন্ডের ঝড়ে লণ্ডভণ্ড আলমডাঙ্গার দুই গ্রাম, নিহত ১
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় কয়েক সেকেন্ডের ঝড়ে দুইটি গ্রাম লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। এ সময় দেওয়াল চাপা পড়ে আকমান আলী (৭০) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন, তবে আহতদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানা যায়নি।
বুধবার (১৯ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার হারদি ইউনিয়নের হারদি ও উদয়পুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ে অন্তত ২০টি বাড়িঘর আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি। এতে কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন।
কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টির কারণে গৃহহীন হয়ে পড়া অন্তত অর্ধশতাধিক পরিবার দুর্ভোগে পড়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল এবং হারদি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশিকুজ্জামান ওল্টু।
আলমডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়। সড়কের ওপর পড়ে থাকা গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণ করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পরে নিরূপণ করা হবে।
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানান, ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
৭৭ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় মা-চাচির ঝগড়ার বলি আড়াই বছরের নুজাইফা
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মা-চাচির ঝগড়ার জেরে প্রাণ দিতে হলো আড়াই বছরের শিশু নুজাইফা আক্তারকে। অভিযোগ উঠেছে, নিজের ছোট চাচি কল্পনা আক্তার (১৫) শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তার মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে রেখে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেলে উপজেলার দক্ষিণ দাড়ের পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নুজাইফা ওই গ্রামের আব্দুর রহমানের মেয়ে বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান।
তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কল্পনা আক্তার স্বীকার করেছেন যে, শিশু নুজাইফার মা প্রিয়া খাতুনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। সেই ক্ষোভ থেকে তিনি নুজাইফাকে বাড়ির পাশের একটি মেহগনি বাগানে নিয়ে যান। সেখানে নিজের ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে শিশুটিকে হত্যা করেন। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে শিশুটির মরদেহ গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যান।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার বিকেল ৪টার দিকে বাগানে শিশুটিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় গ্রামবাসী। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় স্থানীয়রা অভিযুক্ত কল্পনা ও তার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে কল্পনা তার অপরাধ স্বীকার করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল।
ওসি আরিফুর রহমান জানান, শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
৭৭ দিন আগে
১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাত আয়োজনে প্রস্তুত শোলাকিয়া
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের জামাত আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ঈদের দিন সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই জামাত।
শতবর্ষের ধারাবাহিকতায় এবার শোলাকিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাত। এতে দেশ-বিদেশ থেকে আগত লাখো মুসল্লির সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। এবারের জামাতে ইমামতি করবেন মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।
জামাতকে কেন্দ্র করে মাঠের দাগ কাটা, মেহরাব নির্মাণ, দেয়ালে চুনকাম, ওজুখানা স্থাপন এবং সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আয়োজকরা জানান, একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক মুসল্লির নামাজ আদায় ও দোয়া কবুলের বিশেষ গুরুত্বের কারণে শোলাকিয়ায় নামাজ পড়তে মুসল্লিদের আগ্রহ থাকে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ২০১৬ সালের জঙ্গি হামলার অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবারও নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মাঠ ও আশপাশে বসানো হয়েছে ৬৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা। ছয়টি ওয়াচ টাওয়ার থেকে পুলিশ ও র্যাব সার্বক্ষণিক নজরদারি করবে। মোতায়েন থাকবে প্রায় এক হাজার ১০০ পুলিশ সদস্য, র্যাবের ছয়টি টিম, পাঁচ প্লাটুন বিজিবি, পাঁচ প্লাটুন আনসার ও চার প্লাটুন সেনাবাহিনী। এছাড়া থাকবে ড্রোন নজরদারি, মেটাল ডিটেক্টর, আর্চওয়ে এবং একাধিক চেকপোস্ট। মুসল্লিদের ঈদগাহে প্রবেশের আগে পুলিশের চারটি নিরাপত্তা স্তর অতিক্রম করতে হবে।
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, মেডিক্যাল টিম এবং কুইক রেসপন্স ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের যাতায়াত সহজ করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে ‘শোলাকিয়া স্পেশাল’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেন সার্ভিস চালু করেছে।
ঐতিহ্য অনুযায়ী, ঈদ জামাত শুরুর আগে বন্দুকের গুলির মাধ্যমে সংকেত দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগে তিনটি, ১০ মিনিট আগে দুটি এবং ৫ মিনিট আগে একটি গুলি ছুড়ে মুসল্লিদের সতর্ক করা হবে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবারও মুসল্লিদের শুধুমাত্র জায়নামাজ সঙ্গে নিয়ে মাঠে প্রবেশ করতে হবে।
৭৮ দিন আগে
টাঙ্গুয়ার হাওরে ঢুকছে পানি, শঙ্কায় কৃষক
সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের অরক্ষিত নজরখালী বাঁধ দিয়ে হাওরে পানি প্রবেশ করছে। টানা তিন দিনের বৃষ্টিপাতে বৌলাই ও পাটলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোর থেকে বাঁধ দিয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে।
নজরখালী বাঁধসংলগ্ন গোলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা খসরুল আলম জানান, নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ভোর থেকেই বাঁধ দিয়ে হাওরে পানি প্রবেশ করছে।
টাঙ্গুয়ার হাওরের আওতায় উত্তর বংশীকুন্ডা ও দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের পুরো এলাকা এবং শ্রীপুর উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়নের একাংশ রয়েছে। এসব এলাকার প্রায় ২০ হাজার একর জমি এ হাওরের অন্তর্ভুক্ত।
নজরখালী বাঁধের আওতায় সোনাডুবি, তেকুনিয়া, লামারবিল, বালর ডোবা, গইন্যাকুড়ি, হানিয়া কলমা, হাতিরগাতা, খাউজ্যাউরি, সামসাগর, চটাইন্না, রউয়্যা, রুপাভূই, মুক্তারখলা ও বাগমারা হাওর রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বহু বছর ধরে কৃষকেরা নজরখালী বাঁধটি পাউবোর তালিকাভুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু সরকারি উদ্যোগ না থাকায় প্রতিবছর নিজেরাই চাঁদা তুলে বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতের কাজ করে থাকেন।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তালিকাভুক্ত না হওয়ায় নজরখালী বাঁধ নিয়ে এবারও স্থানীয়দের উদ্বেগ বেড়েছে। বরাবরের মতো এবারও কৃষকেরা নিজেদের উদ্যোগেই বাঁধ রক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাহিরপুর উপজেলার ৮২টি গ্রামের কৃষক স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ মেরামতের প্রস্তুতি নিয়েছেন।
রুপনগর গ্রামের কৃষক আব্দুছ সালাম বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরটি রামসার সাইট হওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড এখানে কাজ করে না। ফলে জমির ফসল রক্ষায় প্রতি বছর আমাদেরই বাঁধ নির্মাণ করতে হয়। প্রতি কিয়ার (৩০ শতক) জমির জন্য ৩০০ টাকা করে চাঁদা তুলে প্রায় ১০ লাখ টাকা সংগ্রহ করে কাজ শুরু করা হয়।
শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হায়দার বলেন, কৃষকেরা স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধের কাজ করে থাকেন। প্রশাসনের কাছে বারবার আবেদন করেও নজরখালী বাঁধটি পাউবোর আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।
খসরুল আলম জানান, দুয়েক দিনের মধ্যেই স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধের কাজ শুরু করা হবে এবং প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে তা শেষ করা সম্ভব।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন, ‘নজরখালী বাঁধটি পাউবোর তালিকাভুক্ত না থাকায় আমাদের পক্ষে এ বাঁধ নির্মাণ করা সম্ভব নয়।’
৭৮ দিন আগে
রাজশাহীতে ট্রাকচাপায় বাবা-ছেলে নিহত
রাজশাহীর পুঠিয়ায় বালুবাহী ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা-ছেলে নিহত হয়েছেন।
বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে উপজেলার বানেশ্বর কলাহাটা এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— কাওসার (২৬) ও তার ছেলে রেদোয়ান (৫)। তাদের বাড়ি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের শলুয়া গ্রামে।
দুর্ঘটনার বিষয়ে পবা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক খান জানান, রাজশাহী থেকে নাটোরগামী একটি বালুবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাবা ও ছেলে মারা যান।
দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি জব্দ করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
৭৮ দিন আগে