বাংলাদেশ
চাঁদাবাজির তথ্য দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
চাঁদাবাজি বেড়ে যাওয়ার দাবি করা বিরোধীদলীয় নেতার উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, চাঁদাবাজির তথ্য দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে মঙ্গলবার (১২ মে) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, কোরবানির পশুরহাটের নিরাপত্তা ও সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে অনুষ্ঠিত সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার কাছে যদি চাঁদাবাজি বেড়েছে—সেই খতিয়ান থাকে, তা আমার কাছে আপনারা দিলে সেই জায়গাটা মোকাবিলা করতে পারব। কোথায় চাঁদাবাজি বৃদ্ধি পেল, সেই তালিকা পেলে ব্যবস্থা নেব।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সম্প্রতি দাবি করেছেন, চাঁদাবাজির কারণে বাজারে পণ্যের দাম বেড়েছে, এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মন্ত্রী বলেন, ‘চাঁদাবাজি কোথায় বেড়েছে, সেই তথ্য পেলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারব।’
তিনি বলেন, গত ৩০ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী, মাদক কারবারি ও জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলছে। বিশেষ করে মাদক ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তারে জোর দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর, ডিএমপি ও জেলা পুলিশ সুপারদের নিয়মিতভাবে অভিযানের অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, সেই তালিকাটা আপনাদের মাধ্যমে বিরোধীদলীয় নেতার কাছে যেতে পারে। অথবা পত্রিকায় আমরা আরও বেশি করে প্রকাশ করতে পারি। কোথায় চাঁদাবাজি বৃদ্ধি পেলো, সেই তালিকা পেলে ব্যবস্থা নেব।
এর আগে, রাজধানীর মিরপুর-১-এর শাহ আলী পাইকারি বাজার পরিদর্শন করেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। পরিদর্শনকালে ব্যবসায়ীরা বিরোধীদলীয় নেতার কাছে অভিযোগ তুলে বলেন, সরকারিভাবে ৫ হাজার টাকায় ভাড়া দেওয়া রাজধানীর মিরপুর শাহআলী কাঁচাবাজারে দোকান দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ভাড়া দিচ্ছেন বরাদ্দ পাওয়া মালিকরা, যা ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। দোকান ভাড়ার সঙ্গে চলছে নীরব চাঁদাবাজি। কারা চাঁদাবাজি করছে, তা বলতেও ভয় পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
এ প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, চাঁদাবাজি সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ করতে হবে। ব্যবসায়ীরা চাইলে প্রতিরোধের জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।
২৩ দিন আগে
দুই মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে দুই মামলায় জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে আপাতত তার কারামুক্তিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার কাজল ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু এবং অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
এর আগে, গত ২৮ এপ্রিল জুলাই আন্দোলনের সময় যুবদলকর্মী হত্যা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রায় জালিয়াতি এবং দুদকের করা পাঁচ মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন। হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন খারিজ করে আদালত এ আদেশ দেন।
গত ৮ মার্চ বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল মঞ্জুর করে চার মামলায় তাকে জামিন দেন। পরে ১১ মার্চ দুদকের মামলায়ও তিনি জামিন পান। সে সময় জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। পরে নিম্ন আদালতে আরও দুই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আজ সেই দুই মামলায় তিনি জামিন পেলেন।
গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমণ্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সে সময় তার বিরুদ্ধে আরও চারটি মামলা হয়। একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে গত ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীনের করা মামলা। ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় আরেকটি মামলা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী ভূঁইয়া।
একই অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় ২৫ আগস্ট আরেকটি মামলা করেন নুরুল ইসলাম মোল্লা। এর আগে, ৪ আগস্ট প্লট জালিয়াতিতে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকও একটি মামলা করে।
এসব মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন নামঞ্জুরের পর তিনি হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। পরে হাইকোর্ট পাঁচ মামলায় জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেন।
২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান খায়রুল হক। একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে তার নিয়োগ কার্যকর হয়। ২০১১ সালের ১৭ মে তিনি অবসরে যান। এরপর তিনবার তিনি আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হন।
২৩ দিন আগে
ঈদে চাঁদাবাজি রোধে থাকবে বডি-ওর্ন ক্যামেরা, গোয়েন্দা নজরদারি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, আসন্ন ঈদুল আজহায় সড়ক ও নৌপথে পশুবাহী যানবাহনে চাঁদাবাজি রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবে।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আসন্ন ঈদুল আজহা ২০২৬ এর প্রাক্কালে দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, ঈদের পূর্বে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন-ভাতাদি পরিশোধ ও ছুটি প্রদান, সড়ক-মহাসড়ক যানজট মুক্ত রাখা ও কোরবানির পশুর হাটের নিরাপত্তা প্রদানসহ প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ক এক সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ঈদুল আজহার প্রাক্কালে এবং পরবর্তী সময়ে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। এই সেল ঈদের আগের ৭ দিন এবং পরের ৭ দিন সার্বক্ষণিক কার্যকর থাকবে। এছাড়া র্যাব, পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও কোস্টগার্ডসহ সকল গোয়েন্দা সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে জনসাধারণের জন্য পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস (১০২) ও বিআইডব্লিউটিএ (১৬১১৩) সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর হটলাইন নম্বরগুলো চালু থাকবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এবার সারাদেশে ৪ হাজার ২৫৯টি পশুর হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৫টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১১টি হাট থাকবে। হাটগুলোতে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জালনোট শনাক্তে প্রতিটি হাটে ব্যাংকগুলোর বুথ ও মেশিন থাকবে। এছাড়া ইজারাদারদের চাহিদানুযায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অঙ্গীভূত আনসার’ নিয়োজিত করা হবে।
সভায় সড়ক ও নৌপথে পশুবাহী যানবাহনে যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজি কঠোরহস্তে দমনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজি রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবে এবং সিভিল ড্রেসে গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, চামড়া পাচার রোধে বিজিবিকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, চামড়ার গুণগত মান রক্ষায় কোরবানি পরবর্তী দুই ঘণ্টার মধ্যে লবণ দিয়ে সংরক্ষণের জন্য দেশব্যাপী প্রচারণা চালানো হবে। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহের অনুমোদন দিয়েছেন।
মন্ত্রী বলেন, ঈদের ছুটির আগেই পোশাক শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করতে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সড়ক ও নৌপথে দুর্ঘটনা রোধে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং মহাসড়কের গর্তগুলো দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে। ফেরি ও লঞ্চে যাত্রী ও পশু পরিবহনে হেনস্তা বন্ধে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারের গৃহীত এসব পদক্ষেপের ফলে দেশবাসী অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ।
ভারতের অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন বা অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে বাংলাদেশে কোনো সাম্প্রদায়িক প্রভাব পড়ার শঙ্কা নাকচ করে দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখে। সীমান্ত দিয়ে কোনো প্রকার অবৈধ অনুপ্রবেশ বা ‘পুশ-ইন’ রোধে বিজিবি সর্বদা জাগ্রত রয়েছে।’
২৩ দিন আগে
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু
দেশে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৯২টি শিশু।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৩টি শিশু।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৩৫৬টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৬৮টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৪২৪টি শিশু মারা গেছে।
এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ৮৭টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১০৫। এই সময়ে ৯৩৯টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৮৫টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৫১ হাজার ৫৬৭, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৭ হাজার ২৪। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৩৬ হাজার ৮৮১ রোগী, যাদের মধ্যে ৩২ হাজার ৮৮৭ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
২৩ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিল নয়, পর্যালোচনা করবে সরকার: ডা. জাহেদ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তি বাতিল নয়, বরং সরকার সেটি পর্যালোচনা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। চুক্তির বিভিন্ন দিক তদন্ত করে দেখা হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১২ মে) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘চুক্তি যদি দেখি, তাহলে দেখব এটা বাতিল করার অপশন আছে। মানে ৬০ দিনের নোটিশ দিয়ে বাতিল করে দেওয়া যাবে; এটা হলো এক নম্বর। দুই নম্বর হচ্ছে, এই চুক্তির মধ্যে আরেকটা কন্ডিশন আছে—দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির বিভিন্ন শর্তে পরিবর্তন করতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘আমি আমার জায়গা থেকে মনে করি, অন্তত আমরা পরে যে অপশনটা বললাম, অর্থাৎ চুক্তিটা পর্যালোচনা করা, আগে সরকারি পর্যায়ে এটার পর্যালোচনা করা উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি দেখলাম পত্রিকায় কলাম লেখা হচ্ছে যে এখানে কোন কোন ক্ষেত্রে সমস্যা আছে, ভিডিও তৈরি হচ্ছে—এগুলো চলতে থাকুক।’
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমি এই ইস্যুতে কথা বলেছি। আমরা সরকারের মধ্যেও এই চুক্তি নিয়ে কিছু পর্যালোচনা করব। এটা খুবই শক্তিশালী চুক্তি এবং এটা বাতিল করে দেওয়ার প্রভাব কী হতে পারে, নিশ্চয়ই আমরা বুঝতে পারি। আবার কোন প্রেক্ষাপটে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেটাও আমরা বুঝতে পারি।’
তিনি বলেন, ‘তবে আমরা ওই সুযোগটা নিতে পারি যে, চুক্তির কিছু কিছু জায়গা পুনর্বিবেচনা করা যায় কি না, যে জায়গাগুলোকে আমরা বেশি সমস্যাজনক বা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর মনে করি। সেগুলো নিয়ে আমরা আগে প্রাথমিক বিবেচনা করব। আমরা আশা করি, এ বিষয়ে আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনায় যেতে চাই।’
চুক্তি বাতিল করলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বা পারস্পরিক শুল্কসংক্রান্ত সংকট আবারও তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা অনেকে সবকিছুকেই কমনলি (সাধারণভাবে) চুক্তি বলে ফেলি। কিন্তু চুক্তির অনেক ধরন আছে; কিছু আছে এগ্রিমেন্ট, কিছু আছে সমঝোতা স্মারক; বিভিন্ন ক্যাটাগরি রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘যেগুলো এগ্রিমেন্ট হয়ে গেছে, সেগুলো থেকেও যে বেরিয়ে যাওয়া যাবে না তা নয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই আইনি বাধ্যবাধকতা এতটাই কঠোর থাকে যে বেরিয়ে যাওয়াটা অনেক সময় থাকার চেয়ে বেশি ক্ষতিকর হতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, কোনো কোনো চুক্তির কিছু অংশ গোপন রাখার শর্তও থাকে। যদিও জনগণের জানার অধিকার রয়েছে এবং সংসদে উপস্থাপনের সাংবিধানিক বিধানও আছে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমাদের জনগণের জন্য ক্ষতিকর যেকোনো চুক্তি—আগে যেগুলো হয়েছে—সরকার সেগুলোর মূল্যায়ন করবে। এর মধ্যে সমঝোতা স্মারকও থাকতে পারে, যেগুলো থেকে বেরিয়ে আসা তুলনামূলক সহজ। কিন্তু এগ্রিমেন্টের ক্ষেত্রে বিষয়টি এতটা সহজ নয়। তারপরও আমরা অবশ্যই মূল্যায়ন করব।’
২৩ দিন আগে
রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত থাকবে আর্থিক খাত: অর্থমন্ত্রী
পুঁজিবাজারসহ দেশের বিনিয়োগ ও আর্থিক খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের আর্থিক খাত স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে এবং বিনিয়োগ ও ঋণ বরাদ্দে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা হবে না।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ স্টার্ট-আপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানির (বিএসআইসি) উদ্বোধনী ফান্ড ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের উদ্যোক্তা খাতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে ৩৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংক যৌথভাবে বিএসআইসি চালু করেছে, যা বাংলাদেশের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পরিচালিত ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্ল্যাটফর্ম। প্রাথমিকভাবে ৪২৫ কোটি টাকার তহবিল নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য স্টার্টআপ খাতের বিদেশি অর্থায়নের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আর্থিক খাতে সরকার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। বিনিয়োগ বরাদ্দের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক প্রভাব থাকবে না—এটি সরকারের স্পষ্ট নীতিগত অবস্থান।
তিনি বলেন, পুঁজিবাজার ও আর্থিক খাতকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে যাতে এটি তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যেতে পারে। সরকারের লক্ষ্য হলো বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিক রূপান্তরের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যেখানে উৎপাদনশীলতা, প্রযুক্তি ও বেসরকারি খাতের উদ্ভাবন হবে প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি।
তিনি আরও বলেন, বিএসআইসি বৈশ্বিক মানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে তরুণ উদ্যোক্তাদের সক্ষমতার প্রতি আমাদের আস্থার প্রতিফলন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশের ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান জানান, ৩০ জুনের পর বাংলা কিউআর কোড ছাড়া পেমেন্ট করা যাবে না।
গভর্নর আশাপ্রকাশ করে বলেন, নতুন প্রজন্মের অর্থায়নে সফল হবে স্ট্যার্টআপ কোম্পানি। পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারে, এমন প্রকল্প বাছাইয়ের আহ্বান জানান তিনি।
ব্যাংকগুলোর প্রাথমিক ৪২৫ কোটি টাকার বিনিয়োগের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক ভেঞ্চার ক্যাপিটালের জন্য পুনঃঅর্থায়ন তহবিল হিসেবে আরও ৫০০ কোটি টাকা দেবে।
গত পাঁচ বছরের নিট মুনাফার ১ শতাংশ অবদান রেখে ব্যাংকগুলো এ তহবিল গঠন করেছে। এটি সিড, লেট সিড ও সিরিজ-এ পর্যায়ের বিনিয়োগের জন্য ধারাবাহিক তহবিলচক্র হিসেবে পরিচালিত হবে।
বিএসআইসির চেয়ারম্যান এবং সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাশরুর আরেফিন বলেন, ২০১০ সাল থেকে ৪৫০টির বেশি চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের স্টার্টআপ খাতে ১০০ কোটির বেশি ডলার বিনিয়োগ এলেও এর ৭ শতাংশেরও কম এসেছে দেশীয় উৎস থেকে।
তিনি জানান, বিএসআইসি শুধু একটি তহবিল নয়; এটি এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম, যা স্থানীয় আস্থার সঙ্গে বৈশ্বিক ভেঞ্চার মানদণ্ডের সংযোগ ঘটাবে। প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতেও এ সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানান তিনি।
বিএসআইসি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ তারা প্রথম তিনটি বিনিয়োগ সম্পন্ন করতে চায়। এ বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের মধ্যে একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল খাতে দেশীয় ব্যাংকগুলোর এই প্রাতিষ্ঠানিক প্রবেশ করপোরেট সুশাসনকে শক্তিশালী করবে এবং স্থানীয় স্টার্টআপগুলোকে বিদেশি অংশীদারদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।
২৩ দিন আগে
বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনে জোর দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
উচ্চ শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার বৃদ্ধির কারণ হিসেবে দক্ষতা অর্জনে ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে গবেষণা ও উদ্ভাবনে জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেধাপাচার রোধ করে মেধা লালন করে দেশ গড়তে চায় সরকার। আমরা এমন শিক্ষাব্যবস্থা গড়তে চাই যেন প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারেন। আমরা মনে করি, প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তরে কারিকুলাম নতুন করে সাজানো সময়ের দাবি।
এ সময় আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানের উৎকর্ষ অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান এখনও প্রত্যাশিত উচ্চতায় পৌঁছেনি।
তারেক রহমান বলেন, র্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে সাধারণত গবেষণা প্রকাশনা, সাইটেশন এবং উদ্ভাবনকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়। শুধু পুথিগত শিক্ষা নয়, গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নজর না দিলে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকা কষ্টকর হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবন ও গবেষণা এগিয়ে নিতে সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি অ্যালামনাইদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ, আর অ্যালামনাইরা হলো তার মেরুদণ্ড। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব অ্যালামনাই বর্তমানে দেশে-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত, তাদের শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিতে তিনি শিক্ষাবিদদের প্রতি আহ্বান জানান।
সরকারপ্রধান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রতি বছর লাখ লাখ শিক্ষার্থী বের হয়। উচ্চ শিক্ষা নিয়েও অনেককে বেকার থাকতে হয়। এর কারণ সম্পর্কে নানা মত রয়েছে। তবে, এ ব্যাপারে অনেকেই একমত যে অ্যাকাডেমিক শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন করতে না পারাই বেকারত্বের হার বেশির অন্যতম কারণ।
উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সেতুবন্ধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করতে বর্তমান সরকার অ্যাপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক স্থাপনের কাজ শুরু হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী আইডিয়া বাস্তবায়নে সিড ফান্ডিং বা ইনোভেশন গ্রান্ট প্রদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে তারা ক্যাম্পাস থেকেই উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারে এবং অন্যের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে।
শুধু উচ্চশিক্ষা নয়, স্কুল পর্যায় থেকেই কারিগরি এবং ব্যবহারিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও প্রযুক্তির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং বা বিগ ডাটার মতো প্রযুক্তি একদিকে প্রথাগত চাকরির বাজার সংকুচিত করছে, অন্যদিকে নিত্যনতুন কর্মসংস্থান তৈরি করছে।
এ সময় তিনি উবার, ফেসবুক, আলিবাবা ও এয়ারবিএনবির মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ টেনে বলেন, এদের নিজস্ব কোনো ট্যাক্সি, কন্টেন্ট, পণ্য বা রিয়েল এস্টেট নেই। শুধুমাত্র একটি স্মার্ট ইন্টারফেস ও উদ্ভাবনী আইডিয়া দিয়ে তারা বিশ্ব শাসন করছে। আমাদের প্রচুর মেধাবী মানুষ রয়েছেন, সুযোগ পেলে তাদের পক্ষেও বিশ্বমানের কিছু করা অসম্ভব নয়।
ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে হাজারো প্রাণের বিনিময়ে দেশে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এই সরকার একটি জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণের কাজ শুরু করতে চায়। যেখানে মেধা, যোগ্যতা এবং সৃজনশীলতাই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।
প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতাকে আলিঙ্গন করার পাশাপাশি দেশজ মূল্যবোধ রক্ষার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, আমরা সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথে হাঁটব, তবে আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজের আবহমান কালের ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ যেন হারিয়ে না ফেলি সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এ বিষয়ে শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
২৩ দিন আগে
ময়লার বিল ১০০ টাকার বেশি নিলে বাতিল হবে লাইসেন্স
বাসাবাড়ি থেকে নির্ধারিত ১০০ টাকার বেশি বর্জ্য সংগ্রহ বিল আদায় এবং প্রতিদিনের ময়লা প্রতিদিন সংগ্রহ না করলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
সোমবার (১১ মে) রাজধানীর নগর ভবন অডিটরিয়ামে বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (পিসিএসপি) সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ এবং নিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও নাগরিক ভোগান্তির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে যে অনেক প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা আদায় করছে এবং প্রতিদিন ময়লা সংগ্রহ করছে না।
তিনি বলেন, ‘এটি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। প্রতিটি ফ্ল্যাট বা বাসাবাড়ি থেকে মাসিক সর্বোচ্চ ১০০ টাকা এবং তা অবশ্যই নির্ধারিত রশিদের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে।’
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, নির্ধারিত ১০০ টাকার বেশি বিল আদায় এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং লাইসেন্স বাতিল করা হবে।
একইসঙ্গে ‘দিনের বর্জ্য দিনেই’ অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়। কোনো এলাকায় ময়লা জমে থাকতে পারবে না বলেও এ সময় জানানো হয়।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিশেষ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ঈদ-পরবর্তী তিন দিন কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মী বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ছুটিতে থাকতে পারবেন না। প্রতিটি ওয়ার্ড বর্জ্যমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত কর্মীদের মাঠে থাকতে হবে।
এছাড়া পিসিএসপি ঠিকাদারদের সরাসরি মাঠে উপস্থিত থেকে কাজ তদারকি করতে হবে এবং পর্যাপ্ত ভ্যান ও জনবল নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সভায় নাগরিকদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের যথাসম্ভব পরিচ্ছন্ন পোশাকে দায়িত্ব পালনের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
রাস্তা বা খালে ময়লা ফেলা বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, কোনো বাসা থেকে নির্ধারিত স্থানে ময়লা না রেখে রাস্তা বা খালে ফেললে সংশ্লিষ্ট বাসায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শুধু একটি সেবা নয়, এটি মানবিক ও সামাজিক দায়িত্বও। চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করলে ডিএসসিসি আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
সভায় ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
২৪ দিন আগে
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, ভ্রাম্যমাণ আদালত ও বিশেষ নজরদারির সিদ্ধান্ত
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা-২০২৬ উপলক্ষে দেশব্যাপী যাত্রীদের নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।
সোমবার (১১ মে) অনুষ্ঠিত এক প্রস্তুতিমূলক সভায় এ সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ঈদযাত্রা নিরাপদ ও যানজটমুক্ত রাখতে আগামী ২০ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সদর কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু থাকবে।
এই নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ও যানজটপ্রবণ এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রতিরোধ এবং পুলিশ, স্বাস্থ্য বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
এছাড়া ঈদ উপলক্ষে সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য বিআরটিএ’র ১৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি অতিরিক্ত ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ বা পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল পরিবহন এবং বিভিন্ন অনিয়ম প্রতিরোধে রাজধানীর সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলী ও ফুলবাড়িয়াসহ দেশের সব বাস টার্মিনালে বিশেষ ভিজিল্যান্স ও মনিটরিং টিম গঠন করা হবে।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ টোল প্লাজা এবং যানজটপ্রবণ এলাকায় ঈদের সাত দিন আগে থেকে ঈদের পরবর্তী তিন দিন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সংখ্যক বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও রোভার স্কাউট সদস্যদেরও দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত রাখা হবে।
ঈদযাত্রায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) ঢাকা মহানগরী থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা ও গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে বিশেষ ঈদ সার্ভিস পরিচালনা করবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত স্ট্যান্ডবাই বাসও প্রস্তুত রাখা হবে। এছাড়া পিক আওয়ারে যাত্রীচাপ বিবেচনায় মেট্রোরেলের হেডওয়ে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে দুর্ঘটনাপ্রবণ মহাসড়কে ‘কনভেক্স ব্লাইন্ড স্পট মিরর’ স্থাপন, ব্ল্যাক স্পটগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং চালকদের ডোপ টেস্ট কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের ১০টি বিশেষ মেডিকেল টিম পেশাদার চালকদের ডোপ টেস্ট পরিচালনা করবে।
সভাপতির বক্তব্যে সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘ঈদযাত্রাকে নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো, সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
কোনো ধরনের অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলা বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর অধিক্ষেত্রে কোনো দুর্ঘটনা বা নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে তদন্তসাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি তদারককারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ আয়োজিত এ সভায় রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক ও পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ পরিবহন মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতির নেতারা এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২৪ দিন আগে
তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়ে এত কাজ করছেন, অনেকে সহ্য করতে পারছে না: ধর্মমন্ত্রী
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবার সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রী হয়ে ব্যাপক কাজ করছেন, যা অনেকেই সহ্য করতে পারছে না। তাই ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হক। সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।
ধর্মমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশংসা করে বলেন, সমাজে কিছু ব্যক্তি ভুল করলেও পুরো সাংবাদিক সমাজকে দায়ী করা যায় না। তিনি প্রয়াত সাংবাদিক আলতাফ মাহমুদের সততা, সরল জীবনযাপন ও দেশপ্রেমের কথা স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, ‘তিনি বড় সাংবাদিক হয়েও অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করতেন। তার সততা ও নিষ্ঠা আমাকে মুগ্ধ করত। আমি জনগণের একজন কর্মী। সাংবাদিকরা যেকোনো প্রয়োজনে সরাসরি আমার কাছে আসতে পারবেন।’
গণতন্ত্র রক্ষায় সাংবাদিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে সহ্য করতে পারছে না যে তারেক রহমান প্রথমবার এমপি ও প্রধানমন্ত্রী হয়ে এত কাজ করছেন। তাই ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে চোখ-কান খোলা রাখতে হবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, যারা সরকারের স্বাদ গ্রহণ করতে পারেনি, তারাই নানা ধরনের বক্তব্য ও অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা বিভিন্নভাবে পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।’
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের ওপর হামলার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কায়কোবাদ বলেন, বাংলাদেশে কোনো সংখ্যালঘুর ওপর নির্যাতন সহ্য করা হবে না।
তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনবোধে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেব, কিন্তু এখানে কোনো সংখ্যালঘুদের ওপর, কোনো অন্য ধর্মাবলম্বীদের ওপর অত্যাচার, অবিচার, জুলুম-নির্যাতন সহ্য করবো না ইনশাআল্লাহ।’
একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিকভাবে উদ্যোগ নেবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘ভারত তো বিশাল দেশ। উনাদের আমি শ্রদ্ধা করি, যেহেতু উনাদের দেশে গণতন্ত্রটাকে উনারা খুব লালন করেন। তবে মনের থেকে আরও বেশি শ্রদ্ধা করব যদি উনারা ওই দেশের সংখ্যালঘুদের আপন করে নেয়, নিরাপত্তা দেয় এবং জনগণের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়।’
সামাজিক অবক্ষয় ও মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, গ্রামাঞ্চলেও মাদক, জুয়া ও ফেনসিডিলের বিস্তার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মাদক সম্রাটদের মুখোশ উন্মোচনে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। তবে নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সেটিও খেয়াল রাখতে হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠী ধর্মীয় গুজব ছড়িয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে।
এ প্রসঙ্গে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘স্বৈরাচার সরকারের সময় করা আইনটি অপব্যবহার হয়েছিল। কিন্তু আইনটি পুরোপুরি বাতিল করে অপপ্রচারকারীদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সাইবার অপরাধ ও অপপ্রচার ঠেকাতে নতুনভাবে আইন প্রয়োজন।’
তিনি দাবি করেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোনো মতপ্রকাশ দমনের পক্ষে নন। বিরোধী মত দমন বা সাংবাদিকদের হয়রানির জন্য আইন ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
রমজান ও ঈদের চাঁদ দেখা নিয়ে বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ইসলাম ধর্মে স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখেই রোজা রাখা ও ঈদ উদযাপনের নির্দেশনা রয়েছে। সৌদি আরবের সঙ্গে মিলিয়ে ঈদ করতেই হবে—এমন কোনো নির্দেশনা কোরআন-হাদিসে নেই।
হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, হজ মৌসুমে তিনি নিজেই গভীর রাত পর্যন্ত হাজী ক্যাম্পে অবস্থান করে হাজীদের সমস্যা পর্যবেক্ষণ ও সমাধানের চেষ্টা করছেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘যদি কোথাও খাবারের মান খারাপ হয়, প্রমাণ দিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেব। পর্যটন করপোরেশন খুব ভালো মানের খাবার সরবরাহ করছে এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে খাবারের দামও কম রাখা হয়েছে।’
হজযাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হাজীরা আল্লাহর মেহমান। আল্লাহই তাদের হেফাজত করবেন। যুদ্ধ পরিস্থিতিও অনেকটা কমে এসেছে। এ বছরও শান্তিপূর্ণভাবে হজ সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
হজ এজেন্সিগুলোর অনিয়ম ও হজের ব্যয় কমানোর বিষয়ে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে হজের খরচ কিছুটা কমিয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন, ভবিষ্যতে হজের খরচ আরও কমবে।
বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ প্রসঙ্গে ধর্মমন্ত্রী বলেন, মুসলমানদের মধ্যে বিভক্তি ইসলাম সমর্থন করে না। দুই পক্ষ একসঙ্গে কাজ করলে সরকার খুশি হবে। তবে সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘একজনকে জোর করে রাজি করানো যায় না। উদ্দেশ্য ভালো থাকলে তখন সম্ভব হয়। এখানে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে সহ্য করতে পারছে না। আল্লাহ পাক উনাদেরকে এই অবস্থা থেকে মুক্তি দিন। আল্লাহ উনাদের মিলের ব্যবস্থা করে দিন এবং আগের মতো সুন্দর পরিবেশে যেন তারা তাবলিগের কাজ করতে পারেন।’
২৪ দিন আগে