বাংলাদেশ
সুন্দরবন থেকে উদ্ধার বাঘটি সংকটাপন্ন, চিরুনি অভিযান জোরদার
সুন্দরবনের চোরশিকারীদের ফাঁদ থেকে উদ্ধার করা বাঘটি চরম সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। কয়েকদিন ধরে ফাঁদে আটকে থাকার কারণে বাঘটির সামনের বাঁ পায়ে পচন ধরেছে এবং রক্তনালী নষ্ট হয়ে গেছে। দীর্ঘ অনাহারে থাকার কারণে শরীরের মাংস ও শরীরের চর্বি ভেঙে বাঘটি হাড্ডিসার হয়ে গেছে।
খুলনা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে বাঘটির চিকিৎসা চলছে। এ বিষয়ে বন বিভাগ এবং পশু চিকিৎসকরা বলেছেন, প্রাণীটি ট্রমার মধ্যে রয়েছে। তাকে সুস্থ করতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা
উদ্ধার করা বাঘটি পুর্ণবয়স্ক স্ত্রী প্রজাতির এবং আনুমানিক বয়স ৩–৪ বছর। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৩–৪ দিন আগে মোংলা উপজেলার শরকির খাল-সংলগ্ন এলাকায় চোরা হরিণ শিকারীদের ফাঁদে আটকা পড়ে বাঘটি। শনিবার বিকেলে এক জেলে বিষয়টি দেখে বন বিভাগকে খবর দেয়। রবিবার বিকেল ৩টার দিকে ট্রানকুইলাইজার ব্যবহার করে বাঘটিকে অচেতন করে উদ্ধার করা হয় এবং লোহার খাঁচায় খুলনা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে আনা হয়।
গাজীপুর সাফারি পার্কের পশু চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. জুলকারনাইন জানান, নাইলনের সুতা দিয়ে তৈরি ফাঁদে বাঘটির পা আটকে গভীর ক্ষত হয়েছে। পায়ের ওই অংশে পচন ধরা এবং রক্তনালী নষ্ট হওয়ার কারণে রক্ত চলাচল করছে না। শরীরে খনিজ ও লবণের ঘাটতিও দেখা দিয়েছে। নাক দিয়ে পানি ঝরে এবং অনাহারে থাকায় বাঘটি হাড্ডিসার হয়ে গেছে। স্প্রে ও ড্রেসিং প্রয়োগের মাধ্যমে চিকিৎসা চলছে, তবে তার শারীরিক অবস্থা এখনও স্থিতিশীল নয়।
ডা. জুলকারনাইন বলেন, ‘চিকিৎসার জন্য বাঘটিকে অন্যত্র নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই। চেষ্টা চলছে সুস্থ করার। চিকিৎসায় সে সুস্থ হতে পারে, আবার নাও হতে পারে।’
চিরুনি অভিযান ও নিরাপত্তাব্যবস্থা
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের ডিএফও মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানিয়েছেন, চোরশিকারীদের ফাঁদ উদ্ধার এবং তাদের ধরার জন্য সোমবার সকাল থেকে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে। বন বিভাগের স্টাফরা কর্ডন তৈরি করে তল্লাশি চালাচ্ছে। আগামী দুই দিন অভিযান চলবে। তবে সোমবার বিকেল পর্যন্ত কোনো শিকারী আটক বা ফাঁদ জব্দ করার খবর পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, গত ৮ মাসে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের আওতাধীন এলাকায় প্রায় ৩৫ হাজার ফুট হরিণ শিকারের ফাঁদ জব্দ করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন শিকারীকে আটক করা হয়েছে।
বাঘের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ
খুলনা বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের ডিএফও নির্মল কুমার পাল বলেন, রবিবার সন্ধ্যার পর বাঘটির জ্ঞান ফিরেছে। তবে ট্রমার মধ্যে থাকায় সেটি হাঁটতে পারছে না; খাবারও খাচ্ছে না। পানির সাথে স্যালাইন এবং বিভিন্ন ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানো হচ্ছে। তবে বাঘটি খাবার খাচ্ছে না। সোমবার সকাল থেকে কয়েকবার বাঘটির মুখের সামনে মুরগির মাংস দিলেও খায়নি। বাঘটিকে সুস্থ করার জন্য চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, বাঘটি তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। বিশেষজ্ঞ টিম বাঘটির চিকিৎসা দিচ্ছে। প্রয়োজনে বাঘটিকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হবে। সুন্দরবনের যে এলাকা থেকে বাঘটিকে উদ্ধার করা হয়েছে, সুস্থ হলে বাঘটিকে বনের ওই এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হবে।
এই বাঘটির মতো আর কোনো বাঘ যেন সুন্দরবনে চোরা শিকারীদের ফাঁদে আটকা না পড়ে, সে বিষয়ে বন বিভাগ সতর্ক রয়েছে বলে জানান তিনি।
খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ জানান, ফাঁদে আটকে থাকায় কয়েকদিন ধরে খাবার না খাওয়ায় বাঘটি দুর্বল হয়ে গেছে। তার চিকিৎসায় দেশি-বিদেশি পশু চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মত
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ও ওয়াইল্ডটিমের প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবন থেকে উদ্ধার বাঘটির চিকিৎসায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হবে। দেশের সব বন বিভাগ, চিড়িয়াখানা, পশুসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুরোগ বিশেষজ্ঞরা একত্রিত হয়ে বাঘটির চিকিৎসা এবং করণীয় নির্ধারণ করবেন।
তিনি বলেন, ‘সুন্দরবন, বন্যপ্রাণী এবং বনের সম্পদ রক্ষায় স্থানীয় জনগণকে আস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে সুন্দরবন বিভাগকে কাজ করতে হবে।’
অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম আরও বলেন, বাঘ সুন্দরবনের অভিভাবক এবং স্থানীয় জনগণ বাঘের অভিভাবক। বাঘ না থাকলে সুন্দরবন বাঁচবে না। বর্তমানে সুন্দরবনে ১২৫টি বাঘ রয়েছে। বাঘ রক্ষা করা দেশের জন্য অত্যাবশ্যক।
সুন্দরবনের বাঘ ও বন সংরক্ষণ
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনের মোট আয়তন ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার, যার মধ্যে ৪ হাজার ১৪৩ বর্গকিলোমিটার স্থলভাগ। সুন্দরবনে প্রতিটি বাঘ তাদের আবাসস্থলের জন্য ১৪ থেকে ১৬ বর্গকিলোমিটার চিহ্নিত করে থাকে। পুরো সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার বিচরণ করে। চোরা শিকার, জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে এই ম্যানগ্রোভ বনে বাঘের অস্তিত্ব হুমকির মুখে রয়েছে।
বিগত কয়েক বছর ধরে ক্যামেরা ট্রাপিংয়ের মাধ্যমে বাঘের সংখ্যা নিরীক্ষণ করা হয়। ২০১৫ সালে সুন্দরবনে বাঘ ছিল ১০৬টি, ২০১৮ সালে ১১৪টি এবং ২০২৪ সালের অক্টোবরের জরিপ অনুসারে বর্তমানে সুন্দরবনে ১২৫টি বাঘ রয়েছে।
৫৯ দিন আগে
গভীর সমুদ্র গবেষণা ও সমস্যা চিহ্নিতকরণে গুরুত্বারোপ প্রধান উপদেষ্টার
গভীর সমুদ্রের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও টেকসই মৎস্য আহরণ নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত গবেষণা, তথ্যভিত্তিক নীতি সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার, (৬ জানুয়ারি) সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গবেষণা জাহাজ আর ভি ড. ফ্রিডজফ ন্যানসেন সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ ও ইকোসিস্টেমের ওপর পরিচালিত জরিপ ও গবেষণা প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দিয়েছে এ সংক্রান্ত কমিটি। এরপর এ সংক্রান্ত একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের দেশের স্থলভাগ যতটুকু তার সমপরিমাণ অঞ্চল জলভাগেও আছে। কিন্তু এই সম্পদগুলো আমরা ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারিনি; এমনকি সম্পদের পরিমাণ কী, সম্ভাবনা কেমন তাও জানতে পারিনি। আমাদের এ সম্পদকে ভালোভাবে কাজে লাগাতে হবে। সেজন্য পর্যাপ্ত গবেষণা, পলিসি সাপোর্ট প্রয়োজন হবে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসের অধ্যাপক সায়েদুর রহমান চৌধুরী ও মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
এই গবেষণা করতে গত বছরের ২১ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জরিপ চালানো হয়। আট দেশের ২৫ জন বিজ্ঞানী এ জরিপ পরিচালনা করেন, যার মধ্যে ১৩ জন বাংলাদেশের।
অধ্যাপক সায়েদুর রহমান আজকের বৈঠকে গবেষণা-সংক্রান্ত তথ্য উপাত্ত তুলে ধরেন। তিনি জানান, নতুন ৬৫ প্রজাতির জলজ প্রাণির অস্তিত্ব এই গবেষণায় পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে গভীর সমুদ্রে জেলি ফিশের আধিক্য মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গেছে। এটা ইমব্যালেন্সের লক্ষণ। ওভারফিশিংয়ের কারণে এটি হয়েছে।’
এছাড়া দুই হাজার মিটার গভীরতায়ও প্লাস্টিক পাওয়া গেছে যা গভীর উদ্বেগের বলে জানান তিনি।
২০১৮ সালের এক গবেষণার সাথে তুলনায় দেখা গেছে, গভীর সমুদ্রে বড় বড় মাছ কমে যাচ্ছে। স্বল্প গভীরে সমুদ্রে আশঙ্কাজনকভাবে মাছ কমছে।
জানা গেছে, ২৭০ থেকে ২৮০টি বড় মাছ ধরার ট্রলার গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ করে থাকে। এর মধ্যে ৭০টি ‘সোনার’ (শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করে মাছের অবস্থান, সংখ্যা এবং পানির নিচের গঠন শনাক্ত করা) এর মাধ্যমে টার্গেটেড ফিশিং করছে। এটি অত্যন্ত আগ্রাসী একটি পদ্ধতি। এর ফলে গভীর সমুদ্রে বড় মাছ যারা ধরেন, তাদের লাভ হলেও যারা স্বল্প গভীর পানিতে মাছ ধরেন তারা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
মৎস্য উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, ‘এভাবে টার্গেটেড ফিশিং হলে বঙ্গোপসাগর মাছ শূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করে মাছ ধরা নিয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।’
বাংলাদেশে ডিপ সি ফিশিংয়ের টুনা মাছের আধিক্য পাওয়া গেছে এবং এর সম্ভাবনাও আছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষণায় সুন্দরবনের নিচে একটি ফিশিং নার্সারি পাওয়া গেছে, যা সংরক্ষণের জন্য সরকারের পক্ষ
বৈঠকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাজ্যের রয়্যাল নেভির একটি বহুমুখী হাইড্রোগ্রাফিক ও ওশেনোগ্রাফিক সার্ভে ভেসেল এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ভেসেলটি সমুদ্রের তলদেশ, গভীরতা এবং অন্যান্য সামুদ্রিক তথ্য সংগ্রহ করবে, যা বাংলাদেশের সামুদ্রিক গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
জাপান, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপের সাথে যৌথ গবেষণা সমন্বয় করতে গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে হবে। এ বিষয়ে যাদের বিশেষজ্ঞ জ্ঞান আছে তাদের সাথে গবেষণা সমন্বয় করতে হবে। এর মধ্য দিয়েই অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন হবে।’
৫৯ দিন আগে
সাবেক কাউন্সিলর বাপ্পির নির্দেশে হাদিকে হত্যা করা হয়: ডিবি প্রধান
মিরপুরের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পির নির্দেশে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা শেষে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে তিনি এ তথ্য জানান।
চার্জশিটে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা ফয়সাল করিমসহ মোট ১৭ জনের অভিযোগ প্রমাণ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে জানিয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলেই চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। চার্জশিট দেওয়া ১৭ জনের মধ্যে ১২ জন গ্রেপ্তার এবং ৫ জন পলাতক রয়েছেন।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই হাদিকে হত্যা করা হয় বলে জানান তিনি।
অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের কথিত ভিডিওবার্তা নিয়ে এ সময় ডিবিপ্রধান বলেন, ভিডিও বার্তা দিতেই পারে, কিন্তু তার বিরুদ্ধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এর আগে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছিলেন, চার্জশিট আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে অবশ্যই দাখিল করা হবে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে এ কথা তিনি জানান।
স্বরাষ্ট্র সচিব বলেন, হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট ৭ তারিখের (জানুয়ারি) মধ্যে অবশ্যই ইনশাআল্লাহ আমরা দিয়ে দেব। এটি চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত হয়ে গেছে। আমরা একটু দেখছি। দেখে ইনশাল্লাহ ফাইনাল চার্জশিট চলে যাবে।
সেদিন সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এরই মধ্যে হাদি হত্যা মামলায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার এ মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই এ হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিহত করতে যথাযথ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। পরের দিন তার মরদেহ দেশে আনার পর গত ২০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের কাছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
৫৯ দিন আগে
মোস্তাফিজ বিতর্কে ঢাকার অবস্থান ‘দৃঢ় ও যথাযথ’
মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনার পর বাংলাদেশে টুর্নামেন্টটির সম্প্রচার বন্ধ রাখা এবং ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত দুটিকে ‘যথাযথ’ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তবে এসব পদক্ষেপ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে মত তার।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে মোস্তাফিজ ইস্যু নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন অর্থ উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, এটা তো বাংলাদেশ থেকে করা হয়নি! ওরা হঠাৎ করে একজন খেলোয়াড়কে বাদ দিল। এটা তো সাধারণভাবে ভালো নয়। (মোস্তাফিজ) একজন ভালো খেলোয়াড়, এমন নয় যে দয়াদাক্ষিণ্য করে তাকে দলে নিয়েছে (কেকেআর)। সে সেরা খেলোয়াড়দের একজন। সেটা সবাই স্বীকার করে, ওরাও (ভারত) করে।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এ জন্য তাকে যেতে দেওয়া হয়নি। অতএব বাংলাদেশ যে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ ‘রোবাস্ট’ (দৃঢ়) এবং ওইটাই ‘অ্যাপ্রোপ্রিয়েট’ (যথাযথ)।
তার ভাষ্য, ‘এই ধরনের অ্যাকশন কেউ যদি শুরু করে, তার একটা রিয়্যাকশন হবে। নিউটনের ল, অ্যাকশন-রিয়্যাকশন। এটাই বললাম।’
পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আইপিএলের আগামী আসরে কলকাতার হয়ে খেলার কথা ছিল মোস্তাফিজ। দলের প্রয়োজনে চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে লড়াইয়ে জিতে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে বাংলাদেশি পেসারকে দলে টানে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। তবে চাইলেও আগামী মৌসুমে তাকে খেলাতে পারছে না তারা। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন হচ্ছে এমন দাবি তুলে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আইপিএল থেকে বাদ দিতে বলে ভারতের বেশ কিছু ধর্মীয় সংগঠন ও রাজনৈতিক দল।
তাদের সঙ্গে পেরে না উঠে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে শেষ পর্যন্ত মোস্তাফিজকে ছেড়ে দিয়েছে কলকাতা। বাঁহাতি পেসারের সঙ্গে এমন ঘটনায় ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলাও অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
বিসিবি গতকাল (সোমবার) বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো খেলতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে ভারতে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমনকি এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিশ্ব ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা আইসিসিকেও ই-মেইল বার্তার মাধ্যমে জানিয়েছে বিসিবি।
এ ধরনের কর্মকাণ্ড দুই দেশের রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে কী না, সে বিষয়েও অর্থ উপদেষ্টার কাছে জানতে চাওয়া হয়।
জবাবে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, যৌক্তিকভাবেই আমরা সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছি। ফলে আমার কাছে মনে হয় না যে অর্থনৈতিকভাবে, বিশেষ করে (ভারতের সঙ্গে) আমাদের ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব পড়বে।
সামনে নির্বাচন; বিষয়টি রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে কী না জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুরুটা কিন্তু বাংলাদেশ থেকে করা হয়নি! এটা আপনি স্বীকার করবেন। খেলাধুলা, খেলোয়াড়দের আমরা দেশের প্রতিনিধি বলি। একজন ভালো খেলোয়াড়, বিখ্যাত একজন খেলোয়াড় (ভারতে খেলতে) যাবে, তাকে তো কৌশলগত কারণেই নেওয়া হয়েছিল, দয়াদাক্ষিণ্য করে তো নয়! একটা কারণে সেটা হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়া, বিষয়টি খুব দুর্ভাগ্যজনক। এটা দুঃখজনক, দুই দেশের কারো জন্যই এটা ভালো নয়।
বিষয়টি রাজনৈতিক দিকে চলে যাচ্ছে প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, আমি বলি যে এটা আর সামনে এগোনো উচিৎ নয়। দুই দেশের পক্ষ থেকেই বিষয়টি বিবেচনা করা দরকার।
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, হিটলারের সময় তো অলিম্পিক হয়েছিল, তাই না? পৃথিবীর লোকজন (জার্মানি) যায়নি? হিটলারকে ঘৃণা করত সবাই, কিন্তু ওখানে গিয়েছিল তো!
ড. সালেহউদ্দিন বলেন, আমার মনে হয়, এখানে একটা আবেগ কাজ করেছে। এটা দুই পক্ষই বিবেচনা করে সমাধান করবে। রাজনৈতিক সম্পর্ক হোক কিংবা অর্থনৈতক, আমরা কোনোভাবেই ক্ষতি চাই না।
এ সময় জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানও তার মতামত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ওরা (ভারত) আমাদের খেলোয়াড়কে ডেকে নিয়ে আবার প্রত্যাহার করছে। আমরা সেটার প্রতিবাদে বলেছি যে, না, যেহেতু আইপিএল এ খেলা নিয়ে, তো এখানে এই খেলার সম্প্রচার বন্ধ।
জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, এজন্য আমি মনে করি, এটা একটা যথাযথ প্রতিক্রিয়া। এটা ছাড়াও আমাদের (টি-টোয়েন্টি) বিশ্বকাপ ভেন্যু পরিবর্তন করার কথা বলা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে আমি মনে করি, আমাদের প্রতিক্রিয়া ‘দৃঢ় ও যথাযথ’। এটা ওদেরও ভাবাচ্ছে।
তবে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পক্ষে মত দিয়ে তিনি বলেন, আমরা যেটা আশা করি যে দুই পক্ষ—প্রধানত ওখান থেকে যেখান থেকে এটা শুরু হয়েছে, সেখানে শুভ বুদ্ধির উদয় হবে এবং আমরা খেলা চালিয়ে যেতে পারব। আমাদের অর্থনৈতিক-বাণিজ্যিক সম্পর্ক চালিয়ে যেতে পারব।
৫৯ দিন আগে
জকসুর শিবির-সমর্থিত প্যানেলের ওপর ছাত্রদলের হামলা চেষ্টার অভিযোগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের ওপর হামলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ছাত্রদলের দিকে উঠেছে এই অভিযোগের আঙুল।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন শিবির-সমর্থিত প্যানেলের সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে রিয়াজ উল ইসলাম বলেন, ইংরেজি বিভাগে ছাত্রদল তাদের প্যানেল পরিচিতি দিচ্ছিল। এটা আচরণবিধির লঙ্ঘন বলে আমাদের প্রার্থীরা অবহিত করেন, তখন ছাত্রদল আমাদের প্রার্থীদের ওপর মারার জন্য চড়াও হয়ে এগিয়ে আসে।
তিনি বলেন, দর্শন বিভাগে আমাদের এজেন্টের সঙ্গেও একই ঘটনা ঘটেছে। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কিত। নির্বাচন কমিশন ছাত্রদলের প্রতি পক্ষপাত করছে। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে রাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রদলের ভাইয়েরা প্রথম থেকে প্রধান ফটকে ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। আমাদের যে ভাইয়েরা স্লিপ দিচ্ছিলেন, তাদের হেনস্তা করা হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা করা হয়। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে নারী শিক্ষার্থীদের থেকে শিবিরের স্লিপ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ছাত্রদল তাদের প্যানেল পরিচিতি অন্যান্য বিভাগের মতো দর্শন বিভাগে দিতে থাকে। আমাদের এজেন্ট বাধা দিলে কেন্দ্রের ভেতরেই তাকে মারতে আসে।
৫৯ দিন আগে
উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জকসুর ভোটগ্রহণ চলছে
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী (জকসু) সংসদের প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে যা চলবে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। মোট ৩৯টি কেন্দ্রে ১৭৮টি বুথে ভোটগ্রহণ হচ্ছে।
শীতের মধ্যেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র আবাসিক হল নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হল সংসদ নির্বাচনও হচ্ছে।
এই নির্বাচনে মোট ১৬ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এছাড়া হল সংসদে ১ হাজার ২৪২ জন শিক্ষার্থী ভোট প্রদান করবেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি ভবনের ৩৯টি ভোটকেন্দ্রে ১৭৮টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৮টি কেন্দ্র কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের জন্য এবং একটি পৃথক কেন্দ্র হল সংসদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্বাচনে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবক দল মোতায়েন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে তোলা ও নেতৃত্ব বিকাশে এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি আশা করি, ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে শৃঙ্খলার সঙ্গে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক জানান, নির্বাচন উপলক্ষে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে লড়ছেন মোট ১২ জন প্রার্থী। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯ জন। আর সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে লড়ছেন ৮ জন।
অন্যদিকে, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র সম্পাদক পদে ৪ জন, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক পদে ৯ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে ৫ জন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে ৫ জন, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে ৪ জন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে ৮ জন, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ৭ জন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ৭ জন, পরিবহন সম্পাদক পদে ৪ জন, সমাজসেবা ও ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক পদে ১০ জন, গপাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক পদে ৭ জন এবং সাতটি কার্যনির্বাহী সদস্য পদে মোট ৫৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অপরদিকে, নারী হল সংসদে ১৩টি পদের মধ্যে ভিপি পদে ৩ জন, জিএস পদে ৩ জন, এজিএস পদে ২ জন, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ২ জন, সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ৪ জন, পাঠাগার সম্পাদক পদে ২ জন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ২ জন, সমাজসেবা ও ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক পদে ২ জন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে ৪ জন এবং চারটি সদস্য পদে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
কেন্দ্রীয় সংসদ ও হল সংসদের ভোট দুটি আলাদা ব্যালটে নেওয়া হবে। আবাসিক হলের ছাত্রীরা দুটি ব্যালটে হল সংসদের ১৩ পদের ভোটসহ মোট ৩৪টি ভোট দিতে পারবেন। আর অনাবাসিক ভোটাররা শুধু কেন্দ্রীয় সংসদের ২১টি পদে ভোট দিতে পারবেন।
উল্লেখ্য, জবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে তা স্থগিত করা হয়েছিল।
৫৯ দিন আগে
যেকোনো সময় ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে পারবেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো বা নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিরোধে ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ভোটকেন্দ্রসহ যেকোনো স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যেকোনো সময় প্রবেশ করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ১৯তম সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। ব্রিফিংয়ের সময় তিনি এ কথা জানান।
উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব বাহিনীকে সমন্বিতভাবে ও মাঠ পর্যায়ে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কর্মসূচি ও প্রচার-প্রচারণাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থার গ্রহণের জন্য সভায় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি এ সময় সাধারণ জনগণসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহযোগিতা এবং নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, রাস্তাঘাট বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশব্যাপী গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম আরও জোরদার করাসহ আরও বেশি সক্রিয় ও তৎপর থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি সকল বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্য-উপাত্ত সমন্বয় করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
৬০ দিন আগে
রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা ৮ জুলাই শহিদের পরিচয় শনাক্ত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে নিহতদের অনেককে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ১১৪ শহিদের মরদেহ উত্তোলন, ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর ৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বীর প্রতীক।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ১১৪ শহিদের মরদেহ উত্তোলনের পর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরপর ৯টি পরিবারের থেকে সংগৃহীত ডিএনএ নমুনার মাধ্যমে ওই ৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
তিনি বলেন, এই কঠিন ও সংবেদনশীল কাজটি সম্পন্ন করতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে। বিশিষ্ট ফরেনসিক বিজ্ঞানী ড. মরিস টিডবল-বিনজ বাংলাদেশে এসে সিআইডির ফরেনসিক, ডিএনএ ও মেডিক্যাল ফরেনসিক টিমগুলোকে দুই দিনব্যাপি কর্মশালার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।
পরবর্তীতে ইউএনএইচসিআর সহায়তায় ড. লুইস ফন্ডিব্রিডারের নেতৃত্বে পরিচালিত এই কার্যক্রমে মিনেসোটা প্রোটোকল অনুসরণ করা হয়েছে। কবর থেকে মোট ১১৪টি মৃতদেহ উত্তোলন, ময়নাতদন্ত এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের মতো সংবেদনশীল কাজ অত্যন্ত সততা ও স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি।
উপদেষ্টা ফারুক বলেন, এই শনাক্তকরণের ফলে শহিদদের পরিবারগুলো অন্ততপক্ষে জানতে পারছেন যে তাদের প্রিয়জনের ভাগ্যে কী ঘটেছে বা তারা ঠিক কোন স্থানে শায়িত আছেন। এটি তাদের এবং জাতির জন্য এক বিরাট মানসিক শান্তির কারণ হবে।
তিনি আরও বলেন, এই কার্যক্রম কেবল আইন, মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের প্রতি আমাদের অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন নয়, এটি নিখোঁজ শহিদদের পরিচয় নির্ধারণ, পরিবারগুলোর অনিশ্চয়তা দূরীকরণ এবং ভবিষ্যতের বিচারিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক প্রমাণ সংরক্ষণেও সহায়ক হবে।
উপদেষ্টা বলেন, যদিও এখনো কিছু শহিদের পরিচয় উদঘাটন বাকি রয়েছে, এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং সকল শহিদকে তাদের আপনজনের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা বদ্ধপরিকর।
পরে শনাক্ত হওয়া শহিদদের কবর তাদের আত্মীয়দের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয় এবং সেখানে একটি করে গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ ছাড়াও উপদেষ্টা শহিদদের স্মরণে কবরস্থানে স্থাপিত নামফলকের উদ্বোধন এবং মোনাজাত করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান, সিআইডি প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ সোহেল রানার মা। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
৬০ দিন আগে
ফাঁদ থেকে উদ্ধার হওয়া বাঘটির জ্ঞান ফিরেছে, সুস্থ হলে ফিরবে আবাসস্থলে
সুন্দরবনে ফাঁদে আটকে পড়া বাঘটিকে উদ্ধারের পর সেটিকে উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল। বাঘটির জ্ঞান ফিরেছে, তবে সুস্থ হওয়ার পর সেটিকে আবাসস্থলে উন্মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা উম্মুল খায়ের ফাতেমার সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকাল (রবিবার) সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের চিলা ইউনিয়নের শোরকির খাল-সংলগ্ন এলাকা থেকে আধা কিলোমিটার বনের ভেতর ফাঁদে আটকে পড়া বাঘটিকে উদ্ধার করা হয়েছে।
গত পরশু (শনিবার) বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয় জেলে বাওয়ালি মারফত জানা যায়, উল্লিখিত এলাকায় বাঘটি দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করছিল। একই স্থানে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করায় এলাকার কমিউনিটি পেট্রোল গ্রুপ, ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম ও বন বিভাগের কর্মকর্তাসহ সবাইকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার জন্য বন বিভাগের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে রাতেও বাঘটি স্থান ত্যাগ না করায় ওই স্থানের পাহারা জোরদার করা হয় এবং কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী বন অধিদপ্তরের পশুসম্পদ কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি অভিজ্ঞ দল জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা থেকে সুন্দরবন যায়। গতকাল সকালে দলটিসহ খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিশেষজ্ঞগণ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাঘটি উদ্ধারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
প্রাথমিকভাবে বাঘটিকে পর্যবেক্ষণের পর বোঝা যায় যে, এটি কোনো ফাঁদে আটকা পড়ে আছে। এই অবস্থায় বাঘটিকে অবচেতন করে চিকিৎসা দিয়ে অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ঘন বন ও মাংসাশী বন্যপ্রাণী হওয়ায় এটিকে অবচেতন করার ক্ষেত্রে কিছুটা বেগ পেতে হয়। পরে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের চেষ্টায় সফলভাবে বাঘটিকে তার স্বাস্থ্যগত অবস্থা বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে সুন্দরবনে অবমুক্ত না করে বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র খুলনায় স্থানান্তর করে চিকিৎসা প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী বাঘটিকে বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র খুলনায় স্থানান্তর করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে বাঘটির জ্ঞান ফিরেছে এবং রেসকিউ সেন্টারে পশুসম্পদ কর্মকর্তা হাতেম সাজ্জাদ জুলকারনাইনের তত্ত্বাবধানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। বাঘটি সুস্থ হলে তার আবাসস্থলে ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে জানায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।
৬০ দিন আগে
‘হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট প্রস্তুত, ৭ জানুয়ারির মধ্যে দাখিল’
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে অবশ্যই দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনি।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে তিনি এ কথা জানান। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সভায় সভাপতিত্ব করেন।
স্বরাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট ৭ তারিখের (৭ জানুয়ারি) মধ্যে অবশ্যই ইনশাআল্লাহ আমরা দিয়ে দেব। এটি চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত হয়ে গেছে। আমরা একটু দেখছি। দেখে ইনশাল্লাহ ফাইনাল চার্জশিট চলে যাবে।’
এর আগে, এই মামলার বিচার নিয়ে তাড়াহুড়া করার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেছিলেন, ‘বিচার এমন একটি বিষয়, যেটি নিয়ে তাড়াহুড়া করার কোনো সুযোগ নেই। তবে অবশ্যই আমরা তাদের (আসামি) ফেরত আনার চেষ্টা করছি।’
হাদি হত্যা মামলার আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে শনিবার (৩ জানুয়ারি) উপদেষ্টা বলেন, ‘এখনো শতভাগ নিশ্চিতভাবে আমরা বলতে পারছি না। অন্তত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আমাকে এখনো নিশ্চিত করে বলা হয়নি যে জড়িতরা নির্দিষ্ট কোনো জায়গায় অবস্থান করছেন।
‘ইন্টারোগেশন (জেরা) থেকে আমরা কিছু ইঙ্গিত পেয়েছি যে, তারা সম্ভবত সীমান্ত পার হয়ে গেছে। যদি আমরা খুব সুনির্দিষ্ট কোনো অবস্থান শনাক্ত করতে পারি, তাহলে ভারতকে বলতে পারব যে অমুক জায়গায় তিনি আছেন, তাকে ধরে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হোক।’
তিনি বলেন, ‘এমনিতেই ভারতের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ বজায় রয়েছে। দেখা যাক, এ ব্যাপারে আমরা কতটা অগ্রগতি করতে পারি।’
৬০ দিন আগে