মিরপুরের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পির নির্দেশে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা শেষে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে তিনি এ তথ্য জানান।
চার্জশিটে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা ফয়সাল করিমসহ মোট ১৭ জনের অভিযোগ প্রমাণ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে জানিয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলেই চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। চার্জশিট দেওয়া ১৭ জনের মধ্যে ১২ জন গ্রেপ্তার এবং ৫ জন পলাতক রয়েছেন।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই হাদিকে হত্যা করা হয় বলে জানান তিনি।
অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের কথিত ভিডিওবার্তা নিয়ে এ সময় ডিবিপ্রধান বলেন, ভিডিও বার্তা দিতেই পারে, কিন্তু তার বিরুদ্ধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এর আগে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছিলেন, চার্জশিট আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে অবশ্যই দাখিল করা হবে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে এ কথা তিনি জানান।
স্বরাষ্ট্র সচিব বলেন, হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট ৭ তারিখের (জানুয়ারি) মধ্যে অবশ্যই ইনশাআল্লাহ আমরা দিয়ে দেব। এটি চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত হয়ে গেছে। আমরা একটু দেখছি। দেখে ইনশাল্লাহ ফাইনাল চার্জশিট চলে যাবে।
সেদিন সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এরই মধ্যে হাদি হত্যা মামলায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার এ মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই এ হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিহত করতে যথাযথ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। পরের দিন তার মরদেহ দেশে আনার পর গত ২০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের কাছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।