বাংলাদেশ
রাজউকের প্লট বরাদ্দে দুর্নীতি মামলায় হাসিনা-রেহানার রায় ১ ডিসেম্বর
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা এবং আরও ১৫ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় আগামী ১ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হবে।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. রবিউল আলম এই তারিখ নির্ধারণ করেন। মামলার একমাত্র কারাগারে থাকা আসামি রাজউকের সদস্য খোরশেদ আলম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। অন্য সকল আসামি পলাতক থাকায় তারা যুক্তিতর্কে অংশ নিতে পারেননি।
আদালত গত ১৮ নভেম্বর এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত করেছেন। বিচার চলাকালে ৩২ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর আগে, আদালত গত ৩১ জুলাই চার্জ গঠন করেছেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনা ও কামালের মৃত্যুদণ্ড, মামুনের ৫ বছরের কারাদণ্ড
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবার সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ নিয়েছিলেন। এই বিষয়টি নিয়ে মোট ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
এ ছাড়া, তিনটি মামলার রায় ২৭ নভেম্বর ঘোষণা হওয়ার দিন ধার্য রয়েছে।
১০১ দিন আগে
গাজীপুরে পোশাক কারখানা বন্ধের নোটিশ, প্রতিবাদে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ
গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকার হানিওয়েল গার্মেন্টসের শ্রমিকরা কারখানা বন্ধের নোটিশ দেওয়ার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২’র (কনাবাড়ি জোন) ইন্সপেক্টর মোর্শেদ জামান জানান, সোমবার সন্ধ্যায় কারখানার প্রধান গেটে নোটিশ দেওয়ার পর মঙ্গলবার সকালেই শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন এবং সড়ক অবরোধ করে যান চলাচল ব্যাহত করেন।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, কিছু শ্রমিকের ‘অযৌক্তিক দাবি’ ও কারখানার কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করার কারণে কারখানায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে এবং রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কারখানা পুনরায় চালু হবে।
এর আগে সোমবার শ্রমিকরা কারখানার জেনারেল ম্যানেজার ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বরখাস্তের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করেছিলেন।
পুলিশ বলছে, পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা চলমান।
১০১ দিন আগে
ফরিদপুরে পদ্মায় মিলল কুষ্টিয়ার শ্রমিকনেতার লাশ
ফরিদপুরের সদর উপজেলার পদ্মা নদীসংলগ্ন ডিক্রির চর ইউনিয়নের কবিরপুর এলাকা থেকে শ্রমিক দল নেতার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ।
মৃত আবেদুর রহমান আন্নু (৫৩) কুষ্টিয়া জেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সম্পাদক ও সদর থানা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি গত ১৬ নভেম্বর কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীতে ডুবে নিখোঁজ হন বলে জানা যায়।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) ফরিদপুর অঞ্চলের কোতোয়ালি নৌ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক নাসিম আহম্মেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাতে নদীতে লাশ ভাসছে এমন খবরে পদ্মা নদীসংলগ্ন ডিক্রির চর ইউনিয়নের কবিরপুর এলাকায় সেখানে যাই। পরে লাশটি উদ্ধার করে ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয় ।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন বলেন, গত ১৬ নভেম্বর বেলা পৌনে ১২টার দিকে আবেদুর রহমান সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন এলাকার পদ্মা নদী থেকে নিখোঁজ হন। পরদিন ১৭ নভেম্বর আন্নুর স্ত্রী জিয়াসমিন আরা রুমা কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর ফায়ার সার্ভিস ও খুলনা থেকে আসা ডুবুরি দল টানা দুই দিন উদ্ধার অভিযান চালিয়েও তাকে খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়।
সাধারণ ডায়েরি সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকাল ৯টার দিকে আন্নু পদ্মা নদীর হাটশ হরিপুর মোহনায় মাছ কেনার জন্য যান। বেলা ১১টার দিকে চর ভবানীপুর এলাকায় যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই বাল্কহেড ট্রলারের সঙ্গে তার ডিঙি নৌকার ধাক্কা লাগে। এতে আন্নু ও নৌকার মাঝি পানিতে পড়ে যান। স্থানীয় জেলেরা নৌকার মাঝিকে উদ্ধার করলেও আন্নুর আর খোঁজ পাওয়া যায়নি।
মৃত আন্নুর ভাইয়ের ছেলে অর্ণব হাসান বলেন, রাতেই লাশের ছবি দেখে আমরা নিশ্চিত হয়েছি উদ্ধার হওয়া লাশ আমার চাচার।
ফরিদপুর নৌ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক নাসিম আহম্মেদ বলেন, পরিবারের সদস্যরা লাশ শনাক্ত করেছেন। লাশের শরীরে আঘাতের তেমন কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। কিছু আইনগত প্রক্রিয়া আছে। সেগুলো শেষ করে লাশ হস্তান্তর করা হবে।
১০২ দিন আগে
আজ থেকে ঘরে বসেই মেট্রোরেলের কার্ড রিচার্জ করা যাবে
রাজধানীর মেট্রোরেলে ভ্রমণের জন্য ব্যবহৃত র্যাপিড ও এমআরটি পাস এখন থেকে অনলাইনেই রিচার্জ করা যাবে। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়া এই সেবার ফলে স্টেশনে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা ছাড়াই যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গা থেকে রিচার্জ করা সম্ভব হবে।
সকালে আগারগাঁও স্টেশনে অনলাইন রিচার্জের উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী শেখ মইনউদ্দিন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটি (ডিটিসিএ)-র নির্বাহী পরিচালক নীলিমা আখতার বলেন, ‘আজকের দিনটি আমাদের জন্য অনেক প্রত্যাশিত। অনলাইন রিচার্জ চালুর মাধ্যমে গণপরিবহন আরও আধুনিক, সহজ, নিরাপদ ও সময়োপযোগী হবে।’
বিয়ারিং প্যাড পড়ে পথচারীর মৃত্যু, মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ
তিনি জানান, মেট্রোরেলের ১৬টি স্টেশনের প্রতিটিতে দুইটি করে ভ্যালিডেশন মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। ‘আপনি বাড়ি থেকে বা স্টেশনের বাইরে বসেই রিচার্জ করতে পারবেন। এরপর স্টেশনে এসে মেশিনে ট্যাপ করলে রিচার্জ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে কি না দেখে নিতে পারবেন,’ বলেন তিনি।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নিখিল কুমার দাস বলেন, সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে নীতিগত সহায়তা দেওয়া। ডিএমটিসিএল দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। ‘ভবিষ্যতে যাত্রীরা যেন স্বচ্ছতা ও স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে টিকিট কেনা থেকে শুরু করে ভ্রমণ পর্যন্ত নির্বিঘ্ন অভিজ্ঞতা পান, সেটিই আমাদের লক্ষ্য,’ বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএমটিসিএলের পরিচালক (প্রশাসন) এ কে এম খায়রুল আলম, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক মো. শরাফত উল্লাহ খান, বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা এবং এসএসএল কমার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম।
১০২ দিন আগে
ভূমিকম্পের ঘটনায় আতঙ্কিত নয়, সচেতন হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের
দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপকরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের কারণে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই; বরং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
গত শুক্রবার ও শনিবার কয়েক দফায় ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আজ সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে নিজ কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় বিশেষজ্ঞরা এ মতামত দেন।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বিশেষজ্ঞদের আহ্বান জানান, তারা যেন স্বল্পতম সময়ের মধ্যে সরকারের করণীয় সম্পর্কে লিখিত পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা হাত গুটিয়ে রাখতে চাই না, আবার অবৈজ্ঞানিক কোনো পদক্ষেপও নিতে চাই না। আপনাদের পরামর্শগুলো দ্রুত লিখিত আকারে আমাদের দিন; সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে প্রস্তুত।’
এ সময় প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ কমিটি এবং এক বা একাধিক টাস্কফোর্স গঠনের বিষয়ে কাজ চলছে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ পাওয়ামাত্রই সে অনুযায়ী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
বৈঠকে উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, দুর্যোগ ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) প্রফেসর মো. জয়নুল আবেদীন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী, বুয়েটের অধ্যাপক তাহমীদ মালিক আল-হুসাইনী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. জিল্লুর রহমান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আখতার, বুয়েটের অধ্যাপক ড. তানভীর মনজুর, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. মমিনুল ইসলাম, আবহাওয়াবিদ মো. রুবাইয়াত কবীর, ভূতত্ত্ববিদ ড. রেশাদ মো. ইকরাম আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিশেষজ্ঞ ড. মো. শাখাওয়াত হোসাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকিপূর্ণতা ইনস্টিটিউটের পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান খান এবং বুয়েটের অধ্যাপক ইসরাত ইসলাম।
বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘কদিন আগে ভয়াবহ ভূমিকম্পে যাদের মৃত্যু হলো, যারা আহত হলেন, এটা খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। এমনটি যেন আর না হয়, তার জন্য আমাদের অবশ্যই প্রস্তুতি নিতে হবে।’
বিশেষজ্ঞদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা পত্র-পত্রিকায় লিখেছেন, পরামর্শ দিয়েছেন, অভিজ্ঞতা ভাগ করেছেন। এই আতঙ্ক থেকে জনগণকে রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। এই পরিস্থিতিতে আমাদের কী করা প্রয়োজন, সরকারকে তা জানান। কী কী প্রস্তুতি নিতে হবে, কোন কোন বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে—সব জানান। দুর্ঘটনা যেভাবেই আসুক, আমরা যেন সকল পূর্বপ্রস্তুতি নিতে পারি।’
ভূমিকম্পের প্রস্তুতি হিসেবে কী ধরনের মহড়া প্রয়োজন হবে, সে বিষয়েও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, পাশাপাশি ভূমিকম্পের প্রস্তুতি নিয়ে আমরা কোন পর্যায়ে আছি, সেটিও মূল্যায়ন করতে হবে।
এ সময় বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ও ভূমিকম্প-বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও সমন্বয়ের পরামর্শ দেন প্রধান উপদেষ্টা। বলেন, ভূমিকম্প নিয়ে যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করছে তাদের বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান বলেন, “আমরা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ‘শুভেচ্ছা’ নামে একটি অ্যাপ করেছি। এই অ্যাপের মাধ্যমে বিদেশে থাকা বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যুক্ত হোন। অ্যাপটিতে আরও কী ধরনের ফিচার আনা যেতে পারে, সে বিষয়েও আমাদের পরামর্শ দিন।”
১০২ দিন আগে
ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে জরুরি বৈঠক
ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি গ্রহণ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে আজ এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।
বৈঠকে ভূমিকম্পের ঝুঁকি, প্রস্তুতি, সমন্বয় এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
শুক্র (২১ নভেম্বর) ও শনিবার (২২ নভেম্বর) প্রায় ৩১ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা ও এর আশপাশে চারটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
শুক্রবারের ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। এতে কেঁপে ওঠে ঢাকা, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা। এতে শিশুসহ ১০ জন নিহত এবং ছয় শতাধিক মানুষ আহত হন। আতঙ্কে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়া, ভবন হেলে যাওয়া ও ফাটল সৃষ্টি হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে বেশি—৫ জনের মৃত্যু হয় নরসিংদীতে; ঢাকায় মারা যান ৪ জন এবং নারায়ণগঞ্জে ১ জন।
পরের তিনটি ভূমিকম্প তুলনামূলক মৃদু ছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভূমিকম্পগুলো বড় মাত্রার ভূমিকম্পের বার্তা দিচ্ছে। তাই যথাযাথ প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অবহেলার সময় নেই।
এদিকে, সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), বিমসটেক, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ও ফ্রান্স দূতাবাসের মতো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।
১০২ দিন আগে
২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে সব আর্থিক প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় আসবে: গভর্নর
ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা কোম্পানিসহ সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আন্তঃলেনদেন ব্যবস্থা চালু করে সম্পূর্ণ ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থায় পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে এই ব্যবস্থা চালুর সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) ঢাকার ঢাকার ওয়েস্টিন হোটেলে আয়োজিত ‘ইনস্ট্যান্ট পেমেন্ট ইন বাংলাদেশ: আনভেইলিং ইনক্লুশন অপরচুনিটিজ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন।
অনুষ্ঠানে গেটস ফাউন্ডেশন-সমর্থিত মোজোলুপের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন আন্তঃলেনদেন প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার বিষয়ে একটি ভার্চুয়াল চুক্তি সই করে। নতুন প্ল্যাটফর্মটির নাম হবে ‘ইনক্লুসিভ ইনস্ট্যান্ট পেমেন্ট সিস্টেম (আইআইপিএস)।
গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘বর্তমান ইন্টারঅপারেবল সিস্টেমটি চালু করা হলেও তা সফল হয়নি। বহু ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এখনো এতে অংশ নেয়নি। বড় মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোরও কেউ কেউ এখনো যুক্ত হয়নি, ফলে ব্যবহার সীমিত। তাই আমরা আরও আধুনিক ও ব্যাপকতর একটি প্ল্যাটফর্মে যাচ্ছি।’
তিনি জানান, ২০২৭ সালের জুলাই মাসের মধ্যে ব্যাংক, এমএফএস, এজেন্ট ব্যাংকিং, এনবিএফআই, বিমা কোম্পানি—সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ আন্তঃলেনদেন ব্যবস্থা চালু করা হবে, যাতে ক্যাশ আউটের প্রয়োজনীয়তাও ধীরে ধীরে কমে আসে।
গভর্নরের বলেন, ‘ক্যাশলেস অর্থনীতি আমাদের ভবিষ্যৎ। ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়বে, দুর্নীতি কমবে এবং সরকারের রাজস্ব সংগ্রহও বৃদ্ধি পাবে। এজন্য সব প্রতিষ্ঠানকে একই চ্যানেলের আওতায় আনতে হবে। গেটস ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় নতুন প্ল্যাটফর্ম সেই লক্ষ্যই পূরণ করবে।’
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, নতুন আইআইপিএস প্ল্যাটফর্ম চালুর মাধ্যমে ব্যাংক থেকে ব্যাংক, ব্যাংক থেকে এমএফএস, এমএফএস থেকে বিমা—সবকিছু একই প্রযুক্তি কাঠামোর আওতায় আসবে। এতে সাধারণ গ্রাহক থেকে শুরু করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান—সবাই দ্রুত, নিরাপদ ও কম খরচে লেনদেন করতে পারবে।
১০২ দিন আগে
হলফনামায় প্রার্থীদের বিদেশি সম্পদের হিসাবও দিতে হবে: দুদক চেয়ারম্যান
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামায় দেশের পাশাপাশি বিদেশে থাকা সম্পদেরও বিবরণ দিতে হবে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন।
দুদকের সিলেট বিভাগের অফিস উদ্বোধনকালে রবিরার (২৩ নভেম্বর) সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘দুদক সম্পদের বিবরণী চাচ্ছে, সেখান বিদেশি সম্পদের হিসাব না দিলে তা অন্যায় হবে। পাশাপাশি অনুপার্জিত সম্পদ যাদের থাকবে তাদের বিরুদ্ধেও দুদক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
এ সময় দুদকের নানা সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘২০০৮ সালে শেখ হাসিনার কৃষি সম্পত্তি ছিল ৫ দশমিক ২১ একর, তবে আমরা অনুসন্ধান করে পাই ২৯ একর। শুরুতে সেই নমিনেশন বাতিল হওয়ার কথা কিন্তু তা বাতিল হয় নাই। দুদক সেটি তদন্ত করে বের করলেও শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেন, সৎ লোককে নির্বাচিত করতে হবে। কে কোন দল করে সেটা, বড় ব্যাপার না, দেখতে হবে লোকটা সৎ কী না?
দুদকের মামলার আসামি হতে পারে, এমন লোককে গ্রহণ করলে বিগত সময়ের মতোই পরিণতি হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রার্থীরা হলফনামায় দেশি-বিদেশি আয়ের হিসাব দিতে হয়। কেউ গোপন করলে, তা খুঁজে বের করে দেশবাসীর কাছে উপস্থাপনের জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহবান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, দুদক বিচারকারী নয়। দুদকের দায়িত্ব মামলার তথ্য-উপাত্ত আদালতে উপস্থাপন, বিচারের দায়িত্ব আদালতের।
এদিন সিলেটে দুদকের গণশুনানিতে ৭৩টি অভিযোগের শুনানি হয়। এ সময় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পাসপোর্ট অফিস ও জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষসহ সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনেকে অভিযোগ করেন।
১০৩ দিন আগে
ভূমিকম্পে করণীয় নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৮ নির্দেশনা
দেশে শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এরপর দিন আরও কয়েকটি হালকা ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে করণীয় মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।
রবিবার (২৩ নভেম্বর) বিকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (মিডিয়া সেল) শাহজাহান শিকদার জানিয়েছেন, ভূমিকম্প চলাকালীন সঠিক পদক্ষেপ নিলে প্রাণহানি ও ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
দেশের সবাইকে ভূমিকম্পের সময় আটটি করণীয় পালনে সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বিভাগ।
ভূমিকম্পের সময় করণীয়
১. ভূকম্পন অনুভূত হলে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত ও স্থির থাকতে হবে। ভবনের নিচতলায় থাকলে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে খোলা জায়গায় আশ্রয় নিতে হবে।
২. বহুতল ভবনে থাকলে ড্রপ কভার হোল্ড পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। নিচু হয়ে শক্ত টেবিল বা ডেস্কের নিচে ঢুকে খুঁটি শক্ত করে ধরতে হবে। অথবা কলামের পাশে, বিমের নিচে আশ্রয় নিতে হবে। সম্ভব হলে বালিশ, কুশন বা এ জাতীয় বস্তু দিয়ে মাথা ঢেকে রাখতে হবে।
৩. ভূমিকম্প চলাকালীন লিফট ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। ভূমিকম্প থামার সঙ্গে সঙ্গে বৈদ্যুতিক ও গ্যাস সংযোগ দ্রুত বন্ধ করতে হবে।
৪. বারান্দা, ব্যালকনি, জানালা, বুকশেলফ, আলমারি, কাঠের আসবাবপত্র বা কোনো ঝুলন্ত ভারী বস্তু থেকে দূরে থাকতে হবে। হাতের কাছে টর্চ, হেলমেট, জরুরি ওষুধ এবং বাঁশি সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে প্রয়োজন হলে ব্যবহার করা যায়।
৫. ঘরের বাইরে থাকলে গাছ, উঁচু ভবন, বৈদ্যুতিক খুঁটি ইত্যাদি থেকে দূরে খোলা স্থানে আশ্রয় নিতে হবে।
৬. গাড়িতে থাকলে ওভারব্রিজ, ফ্লাইওভার, গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে গাড়ি থামাতে হবে। ভূকম্পন না থামা পর্যন্ত গাড়ির ভেতরেই থাকতে হবে।
৭. একটি ভূমিকম্পের পর আবারও ভূকম্পন হতে পারে। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত ভবন, ব্রিজ ও বিভিন্ন অবকাঠামো থেকে দূরে থাকতে হবে।
৮. জরুরি সেবার প্রয়োজনে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স হটলাইন নম্বর ১০২ নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
১০৩ দিন আগে
ভূমিকম্প হলে করণীয় বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার
ভূমিকম্পের সময়ে সাধারণ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, এমন কোনো দেশের কথা তিনি জানেন না যে দেশ ভূমিকম্পের ব্যাপারে আগাম জানাতে পারে।
রবিবার (২৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ভূমিকম্প নিয়ে কোনো দেশে আগাম সতর্কতা আছে কি না, আমার জানা নেই। তবে অনেক দেশ কিছু অ্যাপ তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে ভূমিকম্প সংঘটিত হওয়ার ১০ সেকেন্ড আগেই সতর্কতামূলক বার্তা জানানো হয়। আমাদের দেশেও এ ধরনের আগাম সতর্কতামূলক মোবাইল অ্যাপ চালু করা যায় কি না, সে বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে, বিশেষ করে, নগর এলাকায় উন্মুক্ত বা খোলা জায়গার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। তাছাড়া জলাশয় ভরাট করে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ভূমিকম্প প্রতিরোধে আমাদের এসব বিষয়ে নজর দিতে হবে। তিনি এ সময় সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিল্ডিং কোডে মেনে ভবন নির্মাণের আহ্বান জানান।
ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্যোগের সময় ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন অগ্নিদুর্ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস যথেষ্ট সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে। তবে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে সেটা ভিন্ন বিষয়। সবাইকে মিলে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমরা ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করছি।
নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসবে, সেই সময়ে বিভিন্ন দলের মিছিল-মিটিংয়ের সংখ্যা বেড়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা যখন দায়িত্ব নিয়েছি, তখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির মধ্যেই ছিল। আমাদের গত দেড় বছরের প্রচেষ্টায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত বিশেষ সহকারী খোদা বখস চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনি ও মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১০৩ দিন আগে