বাংলাদেশ
মালয়েশিয়া ও প্রবাসী আর্ট মেলায় প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের অংশগ্রহণ
প্রথমবারের মতো মালয়েশিয়া ও প্রবাসী আর্ট মেলা-২০২৪ এ অংশগ্রহণ করছে বাংলাদেশ। কুয়ালালামপুরে প্যাভিলিয়ন দামানসারা হাইটসে ২২ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত চলমান এই মেলায় বাংলাদেশসহ ১১টি দেশ অংশ নিচ্ছে।
শুক্রবার(২৬ জুলাই) এ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনার মো. শামীম আহসান। অনুষ্ঠানে কর্পোরেট কমিউনিকেশন ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার পরিচালক মোহাম্মদ শাহরীর মোহাম্মদ আলী , কাতার দূতাবাসের কাউন্সিলের ইব্রাহীম আল-শেরাইম, প্যাভিলিয়নের পরিচালক ম্যাডাম সুয়ান ওয়াই, আর্ট মার্কেট মালয়েশিয়ার প্রতিষ্ঠাতা রিতা হাত্তা, বিভিন্ন দেশের শিল্পী ও মিডিয়া কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অংশগ্রহণকারী দেশগুলো হলো- কাজাখস্তান, হাঙ্গেরি, চীন, ভিয়েতনাম, কোরিয়া, ভারত, পাকিস্তান, মালদোভা, উগান্ডা এবং স্বাগতিক মালয়েশিয়া।
সোরিয়াতা রিসোর্সেস এবং আর্ট মার্কেট মালয়েশিয়া এ মেলা আয়োজন করে। মেলায় আর্ট, কারুশিল্প, পণ্যদ্রব্য এবং চিত্রপ্রদর্শনী হচ্ছে।
মেলায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের তত্ত্ববধানে ‘উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স ট্রাস্ট’, মালয়েশিয়া চ্যাপ্টার অংশগ্রহণ করছে। দু’টি প্রদর্শনী বুথে বৈচিত্র্যময় পরিসরে বাংলাদেশি হস্তশিল্প, গৃহসজ্জা, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, গহনা, খাবার এবং প্রাণ ফুডসের খাদ্য ও পানীয় পণ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার মো. শামীম আহসান বাংলাদেশের সমৃদ্ধ শিল্প ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরেন এবং মালয়েশিয়ায় শিল্প -সংস্কৃতি, ব্যবসা-বাণিজ্যেসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ততার ওপর আলোকপাত করেন। বাংলাদেশকে এ মেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ায় আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান হাইকমিশনার।
শামীম আহসান মেলায় সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশের ‘উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স ট্রাস্ট’, মালয়েশিয়া চ্যাপ্টার, প্রাণ, মৈত্রীসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়া, মালয়েশিয়া বাংলাদেশে বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম বিনিয়োগকারী দেশ। মালয়েশিয়ায় প্রায় ১৪ লাখ প্রবাসী এবং প্রায় ৫ হাজার বাংলাদেশী শিক্ষার্থী রয়েছেন।
৫৮৭ দিন আগে
মোবাইল ইন্টারনেট চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত রবিবার
মোবাইল ইন্টারনেট ফোরজি চালুর জন্য রবিবার (২৮ জুলাই) মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
শনিবার( ২৭ জুলাই) আগারগাঁওয়ে ডাকভবনে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫৪তম জন্মদিন উপলক্ষে সারাদেশে এক লাখ গাছের চারা রোপণে ‘শান্তির জন্য বৃক্ষ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামীকাল রবিবার মোবাইল ফোন অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করে মোবাইল ইন্টারনেট চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা আজ রাতেই পুরোপুরি চালু হতে পারে: পলক
কবে ইন্টারনেট চালু হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিগগরিই মোবাইল ইন্টারনেট খুলে দেওয়া হবে। আগামীকাল সকাল ৯টায় আমরা এমটবের সঙ্গে বৈঠক করব। বৈঠকে সন্তুষ্ট হলে রবিবার-সোমবার মোবাইলের ফোরজি নেটওয়ার্ক খুলে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আমরা ইন্টারনেট শাটডাউন করিনি। ইন্টারনেট বন্ধ হয়েছিল তিনটি ডেটা সেন্টার ও শত শত কিলোমিটার তার পুড়িয়ে দেওয়ার জন্য। এজন্য শুধু টেলিকম খাতে ৫০০ কোটি টাকা এবং সব মিলিয়ে শত শত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
তিনি বলেন, ঢাক বিভাগের ১৭টি জায়গায় হামলা হয়েছে। মহাখালীতে তিনটি ডেটা সেন্টারে ১৮টি আইআইজির সিস্টেম রয়েছে। সেখানে থাকা আইএসপির ৭০ শতাংশ সার্ভার থাকে। তাই ইন্টারনেট একা একাই বন্ধ হয়েছে। আমরা বন্ধ করিনি।
পলক বলেন, পরিকল্পিত নাশকতা ছিল। ১৮ জুলাইয়ের মোবাইল অপারেটরদের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঢাকার উত্তরা, রামপুরা, মোহাম্মাদপুর, যাত্রাবাড়ী ও গাজীপুরে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ নতুন সিম কার্ড ব্যবহার করা হয়েছে।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতে আঘাত আসায় এখনো কিছু ক্যাশ সার্ভার মেরামতের কাজ চলছে। হয়তো দুই চার দিনের মধ্যে টেলিযোগাযোগ পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরে আসবে। দেশে থাকা চার হাজারের ওপর ক্যাশ সার্ভার ঠিক হতে সময় লাগবে। গুগলের সব ক্যাশ সার্ভার পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে।
আইএসপিএবি সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, ইন্টারনেট এখন আমাদের মৌলিক অধিকার। কিন্তু দুর্বৃত্তদের হামলায় মহাখালীতে সার্ভার ও তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন ছিল। এই সেবা এখন ধীরে ধীরে চালু হচ্ছে। শিগগিরই ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা আগের অবস্থায় ফিরে আসবে। ৯০ শতাংশ সমস্যা সমাধান (রিস্টোর) করা হয়েছে। বাকিটা নির্ভর করছে ট্রান্সমিশনের ওপর।
ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক তরুণ কান্তি সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি সচিব মো. সামসুল আরেফিন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব ড. মুশফিকুর রহমান ও বিটিআরসি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মহিউদ্দিন আহমেদ।
আরও পড়ুন: অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে সাময়িকভাবে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ: পলক
৫৮৭ দিন আগে
কোটা সংস্কার আন্দোলন: আরও ২৯০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সহিংসতার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আরও ২৯০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
শনিবার(২৭ জুলাই) সকাল পর্যন্ত চালানো অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন র্যাবের সদর দপ্তরের গণমাধ্যম শাখার এএসপি ইমরান খান।
তিনি বলেন, অভিযানে ঢাকায় ৭১ জন এবং বাকিদের ঢাকার বাইরে থেকে ২১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: কোটা আন্দোলন: র্যাবের হেলিকপ্টারে করে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটিতে আটকে পড়া পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার
নরসিংদীতে সহিংসতায় ১১ মামলা দায়ের, গ্রেপ্তার ১৮৪: পুলিশ সুপার
৫৮৭ দিন আগে
সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপে পরিণত হওয়ায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে ধাপে ধাপে চাপ বাড়ছে।
আরও পড়ুন: লঘুচাপের প্রভাবে সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত
সমুদ্রবন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
৫৮৭ দিন আগে
কোটা সংস্কার আন্দোলন: ক্ষতিগ্রস্ত সেতু ভবন পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী
শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে জানতে শনিবার (২৭ জুলাই) সকালে সেতু ভবন পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি সকাল ১০টার দিকে সেখানে যান এবং ভবনের বিভিন্ন মেঝের ভাঙা অংশ ও প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেন।
এ সময় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তারা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা এবং সেসময় সেখানে পার্ক করে রাখা অনেক গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
আরও পড়ুন: জীবন নিয়ে খেলা বন্ধে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
গত ১৮ জুলাই প্রায় আড়াইশ’থেকে তিনশ’ অজ্ঞাত ব্যক্তি সেতু ভবনে হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকটি যানবাহন, মোটরসাইকেল এবং বিভিন্ন শেড ও কক্ষ ভাঙচুর করে। পরে তারা সেগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়। তারা সেখানে অনেক কর্মচারীর ওপর হামলা ও মারধর করে।
সেতু ভবনে অর্ধশতাধিক গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী পঙ্গু হাসপাতালে (ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ট্রমাটোলজি অ্যান্ড অর্থোপেডিক রিহ্যাবিলিটেশন) আহতদের দেখতে যান।
আরও পড়ুন: কোটা সংস্কার আন্দোলনে সহিংসতায় আহতদের দেখতে নিটোর পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী
৫৮৭ দিন আগে
কোটা সংস্কার আন্দোলনে সহিংসতায় আহতদের দেখতে নিটোর পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী
দেশব্যাপী সাম্প্রতিক সহিংসতায় আহতদের দেখতে শনিবার(২৭ জুলাই) সকালে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় হামলার শিকার হয়ে পঙ্গু হাসপাতাল নামে পরিচিত নিটোরে যান প্রধানমন্ত্রী। এসময় সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আহতদের সুচিকিৎসার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
তিনি আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
আরও পড়ুন: সাম্প্রতিক সংঘর্ষে আহতদের দেখতে ঢামেক হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী
নিটোরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী শামীম উজ্জামান আক্রান্তদের চিকিৎসার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
আহতদের অবস্থা দেখে প্রধানমন্ত্রী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং চোখের পানি ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করতে দেখা যায়।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরে ভাঙা মেট্রোরেল স্টেশন পরিদর্শন করেন।
শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবনে সহিংসতার সময় এসব স্থাপনায় হামলার ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দেখতে যান তিনি। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে গিয়ে সংঘর্ষের সময় আহতদের চিকিৎসার জন্য যারা ভর্তি হয়েছেন তাদের খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী।
এসময় সামন্ত লাল সেন এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী রোকেয়া সুলতানা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।
আরও পড়ুন: জীবন নিয়ে খেলা বন্ধে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
৫৮৮ দিন আগে
দাঙ্গাবাজ-নাশকতাকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না: ডিবিপ্রধান হারুন
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান হারুন-অর-রশীদ বলেছেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে যারা নাশকতা করেছে এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের হত্যা করেছে তারা যেখানেই থাকুক না কেন কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
শুক্রবার(২৬ জুলাই) ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ডিবিপ্রধান বলেন, যারা পুলিশ কর্মকর্তাদের হত্যা করেছে, বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছে এবং মেট্রোরেলসহ সরকারি স্থাপনায় নাশকতা চালিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা এসব কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং এগুলোতে অর্থায়ন করেছেন বা আর্থিক লেনদেনে সহায়তা করেছেন তাদের ছাড় দেওয়া হবে না, তারা যেখানেই থাকুক না কেন।
হারুন বলেন, পুলিশের মনোবল ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যে 'ওই লোকগুলো' বাড়ি বাড়ি অভিযান চালায়। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে অনেক পুলিশ কর্মকর্তা জনগণের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, যা তাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
আরও পড়ুন: হামলাকারীরা শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
তিনি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের কারণে তাদের তিন পুলিশ কর্মকর্তা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তাতে পুলিশের মনোবল ভাঙেনি।
পুলিশকে দুর্বল করতেই পরিকল্পিতভাবে হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এসব ঘটনাকে কোটা সংস্কার আন্দোলনের আড়ালে পরিকল্পিত হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত বারবার অন্যায়ভাবে গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত বা দেশকে অকার্যকর করার চেষ্টা করেছে। তবে পুলিশের কারণে তারা বারবার ব্যর্থ হয়েছে, যে কারণে এবার তারা পুলিশকে টার্গেট করেছে।
তিনি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় এই অপশক্তি জামায়াত-বিএনপি চক্র শনির আখড়া ও রায়েরবাগ এলাকায় হামলা চালায়। তারা যেখানেই পুলিশ কর্মকর্তাদের পেয়েছে সেখানেই হামলা চালিয়েছে।
আরও পড়ুন: রিমান্ড শেষে কারাগারে নুরুল হক নুর
৫৮৮ দিন আগে
সাঈদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
কোটা সংস্কারের আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় নিহত রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শুক্রবার (২৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাঈদের মা–বাবার হাতে সাড়ে সাত লাখ টাকার একটি চেক তুলে দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদল।
আর্থিক সহায়তা প্রদানের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মণ্ডল আসাদ, অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফিরোজুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রক্টর শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ভিসি স্যারের নির্দেশে সাঈদের বাবা-মায়ের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রাখছে বিশ্বিবদ্যালয় প্রশাসন। তিনি নিজেও সাঈদের পরিবারের খোঁজ রাখছেন; পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে আজকে সাড়ে সাত লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ সহযোগিতার ধারা অব্যাহত থাকবে।’
এসময় নিহত আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এর আগে আরেকদিন আমাদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। সে সময় ভিসি স্যার আমার সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেন। আমাদের খোঁজ খবর নেন। আমাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। আমি স্যারকে বলেছিলাম, আমাদের পরিবারের একজনকে যেন বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়া হয়। ভিসি স্যার আশ্বস্ত করেছেন।’
প্রতিদিনই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেউ না কেউ খোঁজ রেখেছেন। এছাড়াও পরিচিত অপরিচিত অনেকেই সহায়তা করছেন বলেও জানান তিনি।
সাঈদের বাবা আরও বলেন, ‘আমার কলিজার টুকরা আবু সাঈদ। তার প্রাইভেট পড়ানোর (টিউশনের) জমানো টাকায় চলতাম আমরা। সন্তান হারিয়েছি, এ শোকের সান্ত্বনা নেই। পিতা হয়ে সবচেয়ে ভারী কাজ হলো সন্তানের লাশ কাঁধে নেওয়া।’
প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাইদ।
৫৮৮ দিন আগে
জাবি শিক্ষকের পদত্যাগ: শাস্তি এড়ানো, না কি বিবেকের ডাকে সাড়া?
শিক্ষার্থীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জাহিদুল করিম পদত্যাগ করেছেন।
বৃহস্পতিবার ই-মেইলের মাধ্যমে উপাচার্য নুরুল আলমের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন করিম।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জাহিদুল করিমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত চলমান থাকায় সম্ভাব্য শাস্তির আশঙ্কায় পদত্যাগ করেছেন।
আরও পড়ুন: পাঞ্জাবি-পায়জামা ইস্ত্রি করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সেনা সদস্যের মৃত্যু
জনসংযোগ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২১ সালের ২৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের বিশেষ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষের এমবিএ দ্বিতীয় সেমিস্টার পরীক্ষা কমিটি পুনর্গঠন এবং পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের সহযোগিতার অভিযোগ উঠে তৎকালীন বিভাগীয় সভাপতি জাহিদুল করিমের বিরুদ্ধে। এঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর সুপারিশ প্রদানের জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী দক্ষতা ও শৃঙ্খলা অধ্যাদেশের ৫(ক) (২) উপধারা মোতাবেক আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। যার কার্যক্রম বর্তমানে চলমান থাকা অবস্থায় তিনি চাকরি থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মনে করেন, জাহিদুল করিম তদন্তে শাস্তির আশঙ্কা থেকে চাকরি থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি ‘উদ্দেশ্যমূলক ও দূরভিসন্ধি’ থেকে দেশের সাম্প্রতিক ঘটনাকে কারণ হিসেবে অব্যাহতি পত্রে উল্লেখ করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দৃঢ়ভাবে জানায়, তার বিরুদ্ধে গঠিত আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলবে এবং তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর তদনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে জাহিদুল করিম বলেন, তার স্ত্রী ওই ব্যাচের ছাত্রী হলেও তিনি কোনো অ্যাকাডেমিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। তার পরীক্ষার সময় অসদুপায় অবলম্বন সম্পর্কে কিছুই জানতেন না এবং এটিকে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেন।
ব্যাচের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি (চতুর্থ এমবিএ, ২০১৭-১৮) অধ্যাপক আউয়াল আল কবির বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন।
এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি বলেন, পরীক্ষায় তার (জাহিদ করিমের) অনিয়মের বিষয়টি আমি বিশ্ববিদ্যালয়কে জানিয়েছি।
আরও পড়ুন: জাবিতে পুলিশের হাতে সাংবাদিক ‘লাঞ্ছিত’
অধ্যাপক কবীর বলেন, 'এখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেই ব্যবস্থা নিতে হবে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের আরেক অধ্যাপক ইউএনবিকে বলেন, করিমের অসদাচরণের বিষয়টি নজরে এলে বিভাগে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরীক্ষা কমিটির সদস্যরা তার বিরুদ্ধে তৎকালীন উপাচার্য ফারজানা ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘তাকে বাঁচাতে তদন্ত প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করা হয় এবং তাকে শিক্ষা ছুটিতে বিদেশে পাঠানো হয়।’
'শিক্ষক সমাজের বিবেক নষ্ট হয়েছে'
এর আগে গত ২৫ জুলাই সহযোগী অধ্যাপক জাহিদুল করিম ই-মেইলের মাধ্যমে পদত্যাগপত্র জমা দেন। সম্প্রতি কোটা সংস্কার আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর সরকারের বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে তিনি স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়তে চান বলে জানান।
চিঠিতে তিনি লিখেছেন, তিনি প্রায় ১৪ বছর ধরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে শিক্ষকতা করছেন।
দেশে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা সম্পর্কে সরকারের অবহেলা এবং তার সহকর্মী শিক্ষকদের 'পক্ষপাতদুষ্ট মনোভাব' তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।
তিনি সর্বদা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিতে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কোটা সংস্কারের ন্যায্য দাবির বিরুদ্ধে সরকারের আগ্রাসী অবস্থানের কারণে অনেক শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছেন।
সরকার চাইলে দ্রুত শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিতে পারত, তাহলে এত প্রাণ হানির ঘটনা ঘটত না। যেসব শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে, তাদের নিয়ে তাদের পরিবারের অনেক স্বপ্ন ছিল। সন্তান হারানোর বেদনায় তারা আজ দিশেহারা। তাদের সাথে সাথে সমগ্র জাতি আজ শোকাহত। গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগ, পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি যে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, তা এই জাতির জন্য একটি কালো অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছে।
স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে হত্যা এবং কিছু সংখ্যক প্রতিবাদী শিক্ষকদের রক্তাক্ত করার মধ্যদিয়ে ১৯৭১ সালের বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে।
‘এই হত্যাকাণ্ড দেখেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং শিক্ষকদের আমি নির্লিপ্ত থাকতে দেখেছি। শিক্ষকদের ভূমিকা আজ জাতির কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। রাজনৈতিক দলীয় করণের কারণে শিক্ষক সমাজের বিবেক লোপ পেয়েছে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক ভুলুণ্ঠিত হয়েছে। শহীদ সব শিক্ষার্থী এবং আহত সব শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা প্রকাশ করছি এবং তাদের জন্য দোয়া করছি। সমগ্র বাংলাদেশের শিক্ষক সমাজের মূল্যবোধ এবং নৈতিকতাবোধ কে জাগ্রত করতে আমি সহযোগী অধ্যাপক, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিস বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিচ্ছি।’
আরও পড়ুন: সার্ক কালচারাল সেন্টারের উপপরিচালক হলেন জাবি অধ্যাপক
৫৮৮ দিন আগে
রিমান্ড শেষে কারাগারে নুরুল হক নুর
রাজধানীর বনানীতে সেতু ভবনে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গণঅধিকার পরিষদের একাংশের সভাপতি নুরুল হক নুরকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শাকিল আহমেদ শুনানি শেষে জামিন আবেদন নাকচ করে নুরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আরও পড়ুন: এমপি আনার হত্যা: গ্রেপ্তার ৩ আসামি ৮ দিনের রিমান্ডে
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিমের পরিদর্শক আবু সাইদ মিয়া পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে নুরকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
নুরের পক্ষে খাদেমুল ইসলাম জামিন চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে নুরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত ২১ জুলাই নুরের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত।
আরও পড়ুন: এমপি আনার হত্যা: দুই আসামি ৬ দিনের রিমান্ডে
বারিধারায় কনস্টেবল হত্যা: সাত দিনের রিমান্ডে কাওসার
৫৮৮ দিন আগে