বাংলাদেশ
রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারে গাড়ির ধাক্কায় নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু
রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় এক নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
মফিজুল ইসলাম নামে ওই ভবনের এক বাসিন্দার সাদা রঙের গাড়ির ধাক্কায় নিহত হন ফজলু মিয়া। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, গাড়ির ধাক্কায় গেটের একাংশ ভেঙে পড়ে ফজলু গুরুতর আহত হন।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ফজলুকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে তার লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: দক্ষিণ কোরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ জনের মৃত্যু, আহত ৮
মফিজুল ইসলামের বয়স ৫৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হবে বলে জানা গেছে।
পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক ডা. শফিউর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমাকে কেউ বলেনি। দুর্ঘটনা ঘটলে তবেই আমাকে জানানো হবে।’
এসআই আনোয়ার হোসেন জানান, ফজলুর বড় বোন মিনারা বাদী হয়ে গাড়ির মালিক মফিজুল ইসলামকে আসামি করে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।আরও পড়ুন: সিলেটে জুন মাসে ২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩০ জন নিহত
৬১০ দিন আগে
চীনে ৮-১০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফর ঘোষণা বেইজিংয়ের
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৮ থেকে ১০ জুলাই চীন সফর করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছে চীন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেছেন, 'স্টেট কাউন্সিলের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৮ থেকে ১০ জুলাই চীনে সরকারি সফর করবেন।’
ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, এই সফর বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘বাস্তব সহযোগিতার নতুন রূপরেখা’ তৈরি করবে এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে তাদের অবস্থান সমন্বয়ের সুযোগ করে দেবে।
ডিক্যাব টকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এই সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীনা নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বেশ কয়েকটি সহযোগিতার নথি সই এবং যৌথভাবে বড় ধরনের সহযোগিতার অগ্রগতির ঘোষণা দেবেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, এই সফরের মাধ্যমে উভয় পক্ষ বাস্তবসম্মত সহযোগিতায় নতুন অগ্রগতি অর্জন করবে, যা উভয় দেশের জনগণের জন্য আরও সুবিধা বয়ে আনবে। আসন্ন সফরকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন রাষ্ট্রদূত ইয়াও।
মাও নিং বলেন, নতুন মেয়াদ শুরু হওয়ার পর এবং চীনে তার শেষ সফরের পাঁচ বছর পর এটি হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রথম চীন সফর।
সফরকালে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং একটি অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন এবং তার সঙ্গে আলোচনা করবেন।
দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী সহযোগিতার নথি সই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
মুখপাত্র বলেন, 'দুই দেশের নেতারা কীভাবে ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব গভীর করা যায় এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সহযোগিতা প্রসারিত করা যায়। পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে গভীরভাবে মত বিনিময় করবেন।’
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য, ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুযোগবিষয়ক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন।
বেইজিং বলেছে, বাংলাদেশ ও চীন ভালো প্রতিবেশী, ভালো বন্ধু ও ভালো অংশীদার।
আরও পড়ুন: তিস্তা প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশের যেকোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেবে চীন: রাষ্ট্রদূত ইয়াও
তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কৌশল নিয়ে আমাদের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। ৪৯ বছর আগে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে দুই দেশ একে অপরকে সম্মান ও সমতার সঙ্গে আচরণ করেছে। পারস্পরিক উপকারী সহযোগিতায় জড়িত হয়েছে। আমাদের নিজ নিজ মূল স্বার্থ সম্পর্কিত ইস্যুতে একে অপরকে সমর্থন করেছে এবং যৌথভাবে আধুনিকীকরণ করেছে।’
তিনি বলেন, তারা উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার একটি সুন্দর উদাহরণ স্থাপন করেছেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমাদের দুই দেশের নেতাদের কৌশলগত দিকনির্দেশনা ও অঙ্গীকারের মাধ্যমে দুই পক্ষ বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্ব গভীর করেছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ ও বাস্তব সহযোগিতা করেছে।
মুখপাত্র বলেছেন, ‘এই সফরের মাধ্যমে পাঁচটি মূলনীতির চেতনা সামনে রেখে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে চীন। মূলনীতিগুলো হলো- শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা গভীর করা, উন্নয়ন কৌশল আরও সমন্বয় করা, উচ্চমানের বেল্ট-রোড সহযোগিতাকে এগিয়ে নেওয়া, বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ, বৈশ্বিক নিরাপত্তা উদ্যোগ-বৈশ্বিক সভ্যতা উদ্যোগ বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন স্তরে উন্নীত করা।'
আরও পড়ুন: ভালো প্রতিবেশী, ভালো বন্ধু, ভালো অংশীদার: বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র
৬১০ দিন আগে
প্রত্যয় স্কিম: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কেন এটি বাস্তবায়নের বিরোধিতা করছেন
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বা ক্লাস বর্জনের কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। কিন্তু ৩৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান অচলাবস্থার পেছনে এবার ভিন্ন কারণ রয়েছে। এবারের এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে নতুন পেনশন স্কিমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তির প্রতিবাদে শিক্ষক ও কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের কারণে।
‘প্রত্যয়’ স্কিমে কী আছে এবং কেন এই নতুন প্রকল্পটি নিয়ে প্রতিবাদ হচ্ছে?
নতুন প্রকল্প সম্পর্কে কী বলছে সরকার:
অর্থ মন্ত্রণালয় ২০২৪ সালের ২০ মার্চ একটি বিজ্ঞপ্তিতে ঘোষণা করেছিল স্বশাসিত, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত এবং সংবিধিবদ্ধ বা অনুরূপ সংস্থা এবং তাদের অধীনস্থ সংস্থায় ২০২৪ সালের ১ জুলাই বা তার পরে চাকরিতে যোগ দেওয়া কর্মী, তাদের সর্বজনীন পেনশন প্রকল্পের আওতায় প্রত্যয় স্কিমের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “চলতি বছরের ১ জুলাই এবং তার পরে নতুন যোগদানকারী কর্মকর্তা, কর্মচারীদের ভবিষ্যতের আর্থিক সুরক্ষা ‘প্রত্যয়’ প্রকল্পে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে কারণ তারা অবসরকালীন মাসিক পেনশনের অধিকারী হবেন।”
আরও পড়ুন: পেনশন স্কিম বাতিলের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আন্দোলন অযৌক্তিক: অর্থমন্ত্রী
এই ধরনের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বেশিরভাগ কর্মচারী গ্র্যাচুইটি এবং কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ডের (সিপিএফ) আওতাভুক্ত। সেই ব্যবস্থায়, কর্মচারীরা চাকরি শেষে অবসর সুবিধা হিসেবে একসঙ্গে টাকা পাবেন, তবে কোনো মাসিক পেনশন নেই।
'প্রত্যয়' পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীর মূল বেতনের ১০ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা, বা এর চেয়ে কম কর্তন করা হবে এবং প্রকল্পে অংশগ্রহণের জন্য সমপরিমাণ অর্থ প্রতিষ্ঠান দেবে।
এরপর উভয় অর্থ জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় উক্ত কর্মকর্তা/কর্মচারীর পরিমাণ অ্যাকাউন্টে জমা হবে।
উদাহরণস্বরূপ, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠান থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত টাকা জমা দিলে ৬০ বছর বয়সে অবসর গ্রহণের পর প্রতি মাসে ৬২ হাজার ৩৩০ টাকা পেনশন পাবেন।
এক্ষেত্রে ৩০ বছর মেয়াদে কর্মচারীর নিজস্ব বেতন থেকে পরিশোধিত মোট চাঁদার পরিমাণ ৯ লাখ টাকা (প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা জমা) এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান/প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পরিশোধিত চাঁদার মোট পরিমাণ ৯ লাখ টাকা।
প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জন্য মোট চাঁদার পরিমাণ হবে ১৮ লাখ টাকা। উপকারভোগী ৭৫ বছর বয়সে মারা গেলে ওই ব্যক্তি ১৫ বছরে ১ কোটি ১২ লাখ টাকা বা তার বেশি পেনশন পাবেন, যা কর্মচারীর নিজস্ব আমানতের ১২ দশমিক ৪৭ গুণ।
আরও পড়ুন: প্রত্যয় পেনশন স্কিম: তৃতীয় দিনে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কর্মবিরতি
সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, অবসর পরবর্তী জীবনে কর্মীদের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা দিতে বর্তমান ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে 'প্রত্যয় স্কিম' চালু করা হয়েছে।
এই স্কিমে নিবন্ধিত কর্মচারী পেনশনযোগ্য বয়সে পৌঁছানোর পরের মাস থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মাসিক পেনশনের পরিমাণ পাবেন। মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমেও তাকে এ বিষয়ে জানানো হবে।
এক্ষেত্রে তাকে ন্যাশনাল পেনশন অথরিটি বা অন্য কোনো অফিসে গিয়ে কোনো ধরনের প্রমাণ দাখিল করতে হবে না।
এর বিরুদ্ধে শিক্ষকদের অবস্থান
মার্চ মাসে এই প্রকল্প সম্পর্কে ঘোষণার পরে শিক্ষকরা এটি প্রত্যাখ্যান করেন এবং তাদের এটি থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান। তারা বেশ কয়েকদিন আংশিক কর্মবিরতি পালন করার পর ৩০ জুন আল্টিমেটাম দেন যে, এটি বাতিল না করা হলে ১ জুলাই থেকে তারা কর্মবিরতিতে যাবেন।
সরকার অনড় থাকায় এবং ১ জুলাই থেকে প্রত্যয় স্কিম কার্যকর হওয়ায় বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের ব্যানারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ ৩৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন।
এছাড়া স্কিমটি বাতিলের দাবিতে একযোগে কর্মবিরতি শুরু করলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যা বলছেন
গত ৩০ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘আমাদের আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার আন্দোলন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনে হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন।’
এতে বলা হয়, ‘বৈষম্যমূলক ও অবমাননাকর পেনশন স্কিম থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বাদ দেওয়া, শিক্ষকদের জন্য ব্যক্তি বেতন স্কেল প্রবর্তন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের প্রতিশ্রুত 'সুপার গ্রেডে' অন্তর্ভুক্ত করার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই সর্বাত্মক কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।’
আরও পড়ুন: পেনশন স্কিম: বৃহস্পতিবার শিক্ষকদের সঙ্গে বসবেন ওবায়দুল কাদের
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. নিজামুল হক ভূঁইয়া বলেন, প্রত্যয় পেনশন স্কিম সম্পূর্ণ বৈষম্যমূলক।
তিনি বলেন, ‘এটিতে কাউকে সুবিধা দেবে আবার কাউকে বঞ্চিত করা হবে। এই পেনশন প্রকল্প আমাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে এবং আমাদের আর্থিক বিষয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।’
শিক্ষকদের এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা গেলে তারা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখানে এসেছি আমাদের অধিকারের জন্য নয়, আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকারের জন্যে এসেছি। শিক্ষকদের পেনশন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হলে অনেকেই এ পেশায় আসতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হুমকি? আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হতে দিতে পারি না।’
বৃহস্পতিবার(৪ জুলাই) বিকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে শিক্ষকদের বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও পরে তা স্থগিত করা হয়।
আরও পড়ুন: পেনশন স্কিম: বাকৃবিতে শিক্ষকদের তৃতীয় দিনের কর্মবিরতি
৬১০ দিন আগে
এলডিসি-পরবর্তী যুগের জন্য বাংলাদেশের প্রস্তুতি দেখে উৎসাহিত: এডিবি ভাইস প্রেসিডেন্ট
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে উত্তরণের পরবর্তী সময়ের জন্য বাংলাদেশের অগ্রিম প্রস্তুতি দেখে উৎসাহিত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) ভাইস প্রেসিডেন্ট ইংমিং ইয়াং।
তিনি বলেছেন, ‘এর মধ্যে অর্থায়ন ও বাজার নিয়ন্ত্রণের মতো চ্যালেঞ্জগুলোও রয়েছে। এর মধ্যে আগামী পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার রূপরেখাও থাকবে।’
বাংলাদেশ সফর শেষ করার আগে বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) ইউএনবিকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
এডিবির মধ্য ও পশ্চিম এশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ইংমিং ইয়াং বলেন, ‘ইতোমধ্যে মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অর্থপূর্ণ সংস্কারের জন্য আমি বাংলাদেশে জোরালো প্রচেষ্টা লক্ষ্য করেছি।’
‘জলবায়ু পরিবর্তনের স্থিতিস্থাপকতা তৈরি করতে সরকারের আন্তরিকতা প্রশংসনীয়। এটি দেশটির সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক ঝুঁকি কমাতে সহযোগিতা করবে।’
তিনি বলেন, ‘রাজস্বভিত্তিক আর্থিক একত্রীকরণ, মানসম্পন্ন অবকাঠামো ও মানবসম্পদ উন্নয়ন, বাণিজ্য বহুমুখীকরণ, সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আর্থিক খাতের দুর্বলতা হ্রাসসহ নন-পারফর্মিং ঋণের পরিমাণ কমানো, বিনিয়োগের পরিবেশ বাড়ানো এবং সুশাসন জোরদার করার বিষয়ে ব্যাপকভাবে আলোচনা ও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।’
বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে এডিবি বাংলাদেশের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনে এসব গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সরকারকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এডিবি ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ব্যাংকের সুদ ও বিনিময় হার উদার করার লক্ষ্যে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাহসী সংস্কার করেছে। এরপর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আহরণ এবং ব্যয় অগ্রাধিকারের মাধ্যমে একটি বিচক্ষণ রাজস্ব ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা করা হয়েছে।’
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জিং বাহ্যিক পরিবেশ বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও জিডিপি প্রবৃদ্ধির গড় হার ৬.৬ শতাংশসহ (২০২১ থেকে ২০২৩) অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের ইতিবাচক লক্ষণ দেখিয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশের মাথাপিছু জিডিপি ২ হাজার ৬৪৩ ডলারে পৌঁছেছে।’
‘তবে কাঠামোগত সংস্কারে কিছু অগ্রগতি হলেও বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা এবং আন্তর্জাতিক পণ্য ও খাদ্যমূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বাংলাদেশে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হ্রাস অব্যাহত রয়েছে।’
ইয়াং বলেন, সম্প্রতি, রিজার্ভ পরিস্থিতিতে লাগাম টানতে এবং বাহ্যিক স্থিতিস্থাপকতা পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংক আপৎকালীন পদক্ষেপ হিসেবে ক্রলিং পেগ নীতির মতো সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে। এছাড়া, অব্যাহত উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদহার উদারীকরণের পর মুদ্রানীতি আরও কঠোর করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
‘বৈদেশিক মুদ্রা ও মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়লে মুদ্রানীতি আরও কঠোর করতে প্রস্তুত রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আরও বেশি রাজস্ব সংগ্রহের মাধ্যমে এই প্রচেষ্টা সফল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
গত নভেম্বরে তিন বছরের জন্য নিয়োগ পাওয়া ইয়াং বলেন, আইএমএফ কর্মসূচির আওতায় গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের মাধ্যমে সামষ্টিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি সত্ত্বেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৬ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে বলে আশা করছে সরকার।
জলবায়ু সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে পরিবেশমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলেও জানান এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট।
ইয়াং বলেন, ‘বাণিজ্য ঘাটতি সংকুচিত হওয়া এবং রেমিট্যান্সের প্রবাহ বৃদ্ধির কারণে চলতি অর্থবছরে উদ্বৃত্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
দেশের মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে- নিম্ন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, স্বল্প রাজস্ব আহরণ, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের অপ্রতুলতা ও উচ্চ নন-পারফরমিং ঋণের সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা।
তিনি বলেন, সরকার ভবিষ্যতের দুর্বলতা হ্রাস করতে সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি জোরদার এবং কাঠামোগত সংস্কার ত্বরান্বিত করার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছে।
এলডিসি-পরবর্তী উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ
ইয়াং বলেন, ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আরও জটিল চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়। তাই এডিবির নতুন অপারেটিং মডেলের আওতায় বাংলাদেশকে আরও রূপান্তরমূলক সহায়তা দেওয়া হবে।’
‘এ অঞ্চলের ‘জলবায়ু ব্যাংক’ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের সাহসী পদক্ষেপে আর্থিক ও অন্যান্য সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে এডিবি। আমরা উপযোগী জ্ঞান ও পরামর্শের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের ওপর আরও বেশি মনোনিবেশ করব।’
তিনি বলেন, মূলধন কাঠামো হালনাগাদ করার পর এডিবির আসন্ন নবম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় (দেশগুলোর প্রতি) অর্থায়ন বাড়াবে।
‘প্রধান খাতগুলোতে অগ্রাধিকারভিত্তিতে জোরালো সহায়তা প্রদানে এডিবি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রেল, নদী পুনরুদ্ধার, পানি ব্যবস্থাপনা ও সঞ্চালন লাইনের মতো জলবায়ু সহিষ্ণু অবকাঠামোতে সহায়তা করা হবে। পাশাপাশি, মানব ও সামাজিক উন্নয়নে পরবর্তী প্রজন্মের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৃষিতে উচ্চশিক্ষা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষায় সহায়তা করা হবে। এ ছাড়াও, ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন, রাজস্ব আহরণ, আর্থিক খাতের উন্নয়ন, স্থানীয় মুদ্রা, বন্ড ও সবুজায়নে সহায়তা করতে গৃহীত নীতিগুলোর সংস্কার করা হবে।’
জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা
এডিবি বাংলাদেশের সাহসী ও শক্তিশালী জলবায়ু পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানায়, যা ডেল্টা প্ল্যান, মুজিব সমৃদ্ধি পরিকল্পনা এবং জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনায় প্রতিফলিত হয়েছে।
জলবায়ু এজেন্ডা বাস্তবায়নে সরকারের গৃহীত সার্বিক উদ্যোগ, বিশেষ করে বাংলাদেশ ক্লাইমেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপের (বিসিডিপি) প্রশংসা করেছে এডিবি।
এ বিষয়ে ইয়াং বলেন, ‘এটি সরকারের জলবায়ু পরিকল্পনাকে বিনিয়োগ প্রকল্পে রূপান্তর করবে; এর ফলে সরকারি ও বেসরকারি খাত থেকে অর্থায়নের মাধ্যমে নীতিগত ঘাটতি দূর, জ্ঞান বৃদ্ধি ও সক্ষমতা জোরদার করবে।’
বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয় করে এডিবি নদী পুনরুদ্ধার ও ব্যবস্থাপনা কর্মসূচিতে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশের জন্য ২০২৪ সালের রেয়াতি ঋণের (সিওএল) পরিমাণ ৩৭ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৫ দশমিক ২০ মিলিয়ন ডলার করবে এডিবি, যাতে জলবায়ু পরিবর্তন ও সামাজিক প্রকল্পে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
ব্যবসায়িক জলবায়ু এবং লজিস্টিক উন্নয়ন
ইয়াং বলেছেন, কিছু রপ্তানি পণ্যের জন্য বাংলাদেশের লজিস্টিক ব্যয় ৪৮ শতাংশের মতো হতে পারে, যা প্রতিবেশী ও প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি।
তিনি বলেন, ‘আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজ করা এবং লজিস্টিক ব্যয় হ্রাসের লক্ষ্যে সমন্বিত স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার রপ্তানি আয় বাড়াতে পারে।’
এসময় গত এপ্রিলে সরকারের জাতীয় লজিস্টিক নীতি-২০২৪ অনুমোদনের প্রশংসা করে ইয়াং বলেন, ‘এটি উচ্চ লজিস্টিক ব্যয় কমিয়ে সমন্বিত সামগ্রিক সরকারি পদ্ধতির পথ প্রশস্ত করবে, যা এলডিসি-পরবর্তী যুগে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা বজায় রাখার চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করবে।’
তিনি বলেন, এলডিসি-পরবর্তী নীতি-নির্ভর ঋণের আওতায় সরকারের লজিস্টিক সংস্কার কর্মসূচিতে সহায়তা দিচ্ছে এডিবি, যা আগামী বছর বাস্তবায়ন হবে।
দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা
আঞ্চলিক সহযোগিতায়, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া উপআঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতায় (সাসেক) বাংলাদেশের নেতৃত্ব ও সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রশংসা করেন ইয়াং।
তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নত সড়ক, রেল, বিমান ও নৌ-যোগাযোগ এবং সাসেক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাণিজ্য উন্নয়নে এডিবি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশের বাণিজ্য ব্যয় হ্রাস এবং আঞ্চলিক বাজারে বৃহত্তর প্রবেশাধিকার নিশ্চিতে আমরা সহায়তা করব।
ইয়াংয়ের বক্তব্য অনুসারে, সাসেক, বিবিআইএন ও বিমসটেকের মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতায় এডিবি অব্যাহত সমর্থন দেবে এবং বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত ও নেপাল মোটরযান চুক্তি এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক জ্বালানি বাণিজ্যে আরও অগ্রগতির জন্য সহযোগিতায় জোর দেবে সংস্থাটি।
সুষ্ঠু অর্থনৈতিক উন্নয়ন
২০২৬ সালে এলডিসি থেকে উন্নীত হওয়ার পর কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়বে, যা বর্তমান বিশ্বে বাংলাদেশে সর্বনিম্ন।
এ বিষয়ে ইয়াং বলেন, ‘এলডিসি-পরবর্তী যুগে যখন রেয়াতি সম্পদ ও বাজারে প্রবেশাধিকার সীমিত হয়ে যাবে, তখন সুষ্ঠু রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বজায় রাখার চাবিকাঠিই হচ্ছে কর রাজস্ব বাড়ানো।’
নীতি ও প্রশাসন উভয় দিকের দুর্বলতা থেকেই রাজস্ব বৃদ্ধির মৌলিক বাধাগুলো সৃষ্টি হয়।
হিসাব অনুযায়ী, নিবন্ধিত করদাতাদের মাত্র ৪৭ শতাংশ কর রিটার্ন দাখিল করেন, যেখানে দেশের ৩ শতাংশেরও কম মানুষ আয়কর দেন।
ইয়াং বলেন, ‘আমি বুঝতে পারি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০২৩ সালের কর আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর ব্যয় যৌক্তিকীকরণ, কর ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও ডিজিটালাইজেশন এবং করের ভিত্তি সম্প্রসারণসহ শক্তিশালী নীতিগত পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। এলডিসি-পরবর্তী যুগে টিকে থাকার জন্য বৃহত্তর নীতিমালার অংশ হিসেবেই নতুন লজিস্টিক পলিসি পাস করেছে মন্ত্রিসভা।’
বাংলাদেশের কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন এবং উন্নত অটোমেশন, ডিজিটাইজেশন ও ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষণের মাধ্যমে কার্যকর কর নীতি বাস্তবায়নে প্রযুক্তিগত সহায়তা, বাজেট সহায়তা ও খাত উন্নয়ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে এডিবি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বেসরকারি খাতের উন্নয়ন
ইয়াং বলেন, ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে উন্নীত এবং ২০৩১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার যে আকাঙ্ক্ষা করছে বাংলাদেশ, তাতে প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে গতিশীল বেসরকারি খাত।
‘নতুন অপারেটিং মডেলের আওতায় এডিবি তার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের সার্বভৌম, অসার্বভৌম ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের সমন্বয়কে উৎসাহিত করবে। এই সমন্বয়ের মধ্যে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন (নবায়নযোগ্য শক্তি), সবুজায়ন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা। এ প্রেক্ষাপটে রাজস্ব আহরণে সরকারকে বন্ড ইস্যুতে সহায়তা করতে এডিবি প্রস্তুত রয়েছে।’
এডিবির লক্ষ্য হচ্ছে- অনুকূল পরিবেশের উন্নয়নে নীতি সংস্কার, সম্ভাময় প্রকল্প প্রস্তুতিতে পরামর্শ এবং অসার্বভৌম অর্থায়ন বৃদ্ধির মাধ্যমে বেসরকারি খাতকে সহায়তা করা।
বেসরকারি খাতের উন্নয়নে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে এডিবি দেশের বিনিয়োগ পরিবেশের সীমাবদ্ধতা মোকাবিলা, লজিস্টিক উন্নয়ন, আর্থিক খাতকে গভীর করা এবং সরকারি বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত কাঠামো সংস্কারে সহায়তা করবে।
তিনি জানান, এডিবি দেশের পরিবহন খাতে পিপিপি প্রকল্প চিহ্নিতকরণ ও প্রস্তুতিতে সহায়তা করছে এবং জ্বালানি, সামাজিক ও নগর উন্নয়ন খাতে সহায়তা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কাজ করছে। এছাড়া অসার্বভৌম পরিচালনা খাত, নবায়নযোগ্য শক্তি, ডিজিটাল অবকাঠামো, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, সবুজায়ন, পোশাক খাত, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মূল ক্ষেত্রগুলোতে ফোকাস করা হবে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করতে ১৬টি ব্যাংকের সঙ্গে কাজ করছে এডিবির ট্রেড অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্স প্রোগ্রাম। তাছাড়া পরিবহন, কৃষি ও অন্যান্য খাতে টেকসই উন্নয়নের অংশ হিসেবে ইক্যুইটি শেয়ার কিনছে এডিবি ভেঞ্চার।
ইয়াং বলেন, বেসরকারি খাতের উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নিতে বাংলাদেশকে মুদ্রা ও বিনিময় হার নীতি, অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ, জন-আর্থিক ব্যবস্থাপনা (পিএফএম), রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন উদ্যোগ (এসওই), পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) আর্থিক খাত, বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও সরবরাহ এবং সামাজিক সুরক্ষাসহ বেশ কয়েকটি খাতের সংস্কার ত্বরান্বিত করতে হবে।
৬১০ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনার ও ইইউ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) বিদায়ী রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) বিকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
গত ২১-২২ জুন ভারতে দ্বিপাক্ষিক সফর করায় দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ভারতের হাইকমিশনার।
আরও পড়ুন: দুই দেশের অর্থনীতিতেই অবদান রাখছেন ওমানে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকস এবং অন্যান্য ঘোষণা ও উদ্যোগ যথাসময়ে বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও ভারতের হাইকমিশনার একমত পোষণ করেন। এছাড়াও ভারতের লাইন অব ক্রেডিটের আওতাধীন প্রকল্পগুলো যথাসময়ে বাস্তবায়ন করার বিষয়ে উভয়েই বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
৬১০ দিন আগে
ভালো প্রতিবেশী, ভালো বন্ধু, ভালো অংশীদার: বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দৃঢ় ও সহযোগিতামূলক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করে, দুই দেশকে 'ভালো প্রতিবেশী, ভালো বন্ধু ও ভালো অংশীদার' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন সফর নিয়ে হুবেই মিডিয়া গ্রুপের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন মাও নিং।
পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে গড়ে ওঠা দুই দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন তিনি।
মাও বলেন, ‘আমরা উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার একটি সুন্দর উদাহরণ স্থাপন করেছি।’ ৪৯ বছর আগে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে উভয় দেশ মূল ইস্যুতে একে অপরকে সমর্থন করেছে এবং আধুনিকীকরণকে এগিয়ে নিতে একসঙ্গে কাজ করেছে।
আরও পড়ুন: চীন-বাংলাদেশের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে শেখ হাসিনার আসন্ন সফর: রাষ্ট্রদূত
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নেতাদের কৌশলগত দিকনির্দেশনায় চীন ও বাংলাদেশ তাদের কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব গভীর করেছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ সহযোগিতা পেয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরের লক্ষ্য এই প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নেওয়া, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা গভীর করা, উন্নয়ন কৌশল আরও সমন্বয় করা, উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা এগিয়ে নিতে চীন এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে একটি নতুন স্তরে উন্নীত করা।
পাঁচ বছর পর তার সরকারের নতুন মেয়াদের শুরুতে এই চীন সফর করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সফরকালে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। দুই প্রধানমন্ত্রী সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
এছাড়া ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব গভীর করা, পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবেন তারা।
প্রধানমন্ত্রী চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য, ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুযোগবিষয়ক একটি শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন। এতে দু'দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।
আরও পড়ুন: তিস্তা প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশের যেকোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেবে চীন: রাষ্ট্রদূত ইয়াও
৬১০ দিন আগে
সব স্থলবন্দরে ডিজিটাল সেবা কার্যক্রম চালু করা হবে: নৌপ্রতিমন্ত্রী
স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে দেশের সব স্থলবন্দরে ডিজিটাল সেবা কার্যক্রম চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) সাতক্ষীরা জেলায় ভোমরা স্থলবন্দরের ডিজিটালাইজেশন প্রকল্পের ই-পোর্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বন্দরের সেবা কার্যক্রম কাগজহীন করতে বেনাপোল ও বুড়িমারী স্থলবন্দরের পর তৃতীয় বন্দর হিসেবে ভোমরা স্থলবন্দরে অটোমেশন চালু করা হয়েছে।
প্রায় ১২শ কোটি টাকা ব্যয়ে ভোমরা স্থলবন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ভোমরা বন্দর আগামী দিনের প্রাণকেন্দ্র হয়ে যাবে। 'হিরো' পোর্ট হয়ে যাবে। বন্দরটি যেন কোনো সংকটে না পড়ে সেজন্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কাজ করতে হবে।”
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনের (জিএটিএফ) অর্থায়নে প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ভোমরা স্থলবন্দরে ডিজিটালাইজেশন করা হয়েছে। এই কার্যক্রম প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে পণ্য সরবরাহ সচল রাখতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।
খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ব্যবসাবান্ধব করে তুলতে ভোমরা বন্দরে ই-পোর্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম উদ্বোধন করা হয়েছে। স্থলবন্দরগুলোতে অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। আপডেট করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে নৌপ্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময় সড়ক, রেল, আকাশ, নৌপথে সর্বক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘মোংলা বন্দরকে লাভজনক করা হয়েছে। পায়রা বন্দর করা হয়েছে। মাতারবাড়ি সমুদ্র বন্দর করা হচ্ছে। এসব উন্নয়নের ফলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক নৌসংস্থায় 'সি' ক্যাটাগরিতে সদস্য নির্বাচিত হয়েছে।’
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন- সংসদ সদস্য ডা. আ ফ ম রুহুল হক, সংসদ সদস্য আশরাফুজ্জামান আশু, সংসদ সদস্য লায়লা পারভীন সেঁজুতি, সুইসকন্টাক্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মুজিবুল হাসান, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন (জিএটিএফ) ডিরেক্টর ফিলিপ আইলার, সুইসকন্টাক্টের ডিরেক্টর (গ্লোবাল প্রোগ্রামস) বেনজামিন ল্যাংসহ আরও অনেকে।
৬১০ দিন আগে
ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বৈঠক স্থগিত, কর্মবিরতি চলছে
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য শিক্ষক-কর্মচারীদের কর্মবিরতির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবারও ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব কার্যক্রম বন্ধ ছিল।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে শিক্ষকদের বৈঠকও স্থগিত করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত সমাবেশে ৩৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৯০ জন শিক্ষক প্রত্যয় পেনশন স্কিম থেকে পাবরিক বিশ্ববিদ্যালয়কে বাদ দেওয়ার দাবিতে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. নিজামুল হক ভূঁইয়া বলেন, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বৈষম্যমূলক। এটি কিছু লোককে সুবিধা দেবে এবং কাউকে বঞ্চিত করবে। ‘এই পেনশন প্রকল্প আমাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে এবং আমাদের আর্থিক বিষয় ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভাবতে বাধ্য করেছে।’
তিনি বলেন, ‘পেনশন স্কিমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি এ পেশার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। শিক্ষকদের এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হলে তারা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন।’
আরও পড়ুন: ছাত্র-শিক্ষকদের আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করেছে বিএনপি: হাছান মাহমুদ
তাদের প্রত্যাশার বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক নিজামুল হক বলেন, ‘আমরা আশা করছি কর্তৃপক্ষ আমাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলবে। আজ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু জরুরি কর্মসূচির কারণে তিনি আজ আমাদের সঙ্গে যোগ দিতে পারেননি। আমরা শিগগিরই তার সঙ্গে কথা বলব বলে আশা করছি। আমরা নিশ্চিত কিছু সরকারি কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রীকে মিথ্যা বা বানোয়াট তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেছেন, তার সঙ্গে কথা বলতে পারলে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’
সভা বাতিলের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আব্দুর রহিম বলেন, রাষ্ট্রীয় স্বার্থ জড়িত এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি থাকতে পারে। ‘কিন্তু আমাদের প্রয়োজনটাও গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা দেশের জন্য শুভ নয়। দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। এর কোনো বিকল্প পথ নেই।’
আরও পড়ুন: বিশ্বজুড়েই দুর্নীতি একটি বাস্তবতা: ওবায়দুল কাদের
৬১০ দিন আগে
কক্সবাজারের নারীদের আত্মকর্মসংস্থানে ল্যাপটপ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পলকের
তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোত্তম নিরাপদ ব্যবহারের মাধ্যমে নারীদের আত্মকর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে ল্যাপটপ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে উদ্যোক্তা হিসেবে তাদের টেকসই ক্ষমতায়ন নিশ্চিতকল্পে ‘হার পাওয়ার প্রকল্প: প্রযুক্তির সহায়তায় নারীর ক্ষমতায়ন (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় ল্যাপটপ দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) বিকালে হার পাওয়ার প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজারে নারী প্রশিক্ষণার্থীদের চলমান প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শনকালে এ আশ্বাস দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘২৫ হাজার নারী উদ্যোক্তা তৈরি করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের অধীনে ‘হার পাওয়ার’ প্রকল্পের বাস্তবায়ন করছি। যেখানে প্রশিক্ষণ ও মেন্টরশিপ শেষে নারী উদ্যোক্তাদের একটি করে ল্যাপটপ উপহার দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ আরও বড় করা গেলে স্কুলের শিক্ষার্থীদের ক্লাস শেষে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের রিসোর্সগুলো বেকার তরুণ-তরুণীদের ব্যবহার করার সুযোগ করে দেওয়া যায়। এছাড়াও শিক্ষকদেরও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেওয়া সম্ভব হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদে আইটি সেক্টরে আরও ১০ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে। পাশাপাশি নারী কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে আগামীতে ‘হার পাওয়ার-২’ প্রকল্প গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
এ প্রকল্পে আরও প্রায় দেড় লক্ষ তরুণীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে জানিয়ে পলক বলেন, আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্য পূরণে স্মার্ট নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে ‘হার পাওয়ার’ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
পরে প্রতিমন্ত্রী মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্কের মান যাচাইয়ের জন্য কক্সবাজার বিমানবন্দর এলাকায় চলমান ড্রাইভ টেস্টের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
৬১০ দিন আগে
মালয়েশিয়ায় যেতে না পারা কর্মীদের টাকা ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে ফেরতের নির্দেশ
বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে মালয়েশিয়ায় যেতে না পারা কর্মীদের টাকা আগামী ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে ফেরত দিতে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রতি নির্দেশ দিয়েছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মালয়েশিয়া পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত মত বিনিময় সভায় একথা জানান প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল (বুধবার) আমরা বায়রার (বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি) সঙ্গে বসেছিলাম। তারা আমাদের সঙ্গে একমত হয়েছেন। যেসব কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে পারেননি তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। তারা (বায়রা) ১৫ দিন সময় চেয়েছে। আমরা বলেছি, আগামী ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে টাকা ফেরত দিতে। এ সময়ের মধ্যে যারা টাকা দিতে পারবে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘১৫ দিন দেখি কতজনের টাকা উদ্ধার হয়। উদ্ধার না হলে আমরা ব্যবস্থা নেব। আমাদের উদ্দেশ্য, যারা যেতে পারেননি তারা যেন টাকাটা ফেরত পান। কতজন যেতে পারেনি সেটা বড় কথা নয়, এখন টাকা ফেরত পাওয়াটা বড় বিষয়। বায়রা ও রিক্রুটিং এজেন্সি বুঝতে পারছে তারা এবার ছাড় পাবে না।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ১০০টি রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠায়। তাদের কারো ১০ জন, কারো ৫০ জন, কারো ৫০০ জন, কারো ৪০০ জন কর্মী যেতে পারেননি। প্রায় ২ হাজার ২৫ জন অভিযোগ করেছেন। ১৭ হাজার ৭৭৭ হাজার জন কর্মী মালয়েশিয়া যেতে পারেনি। ৫ লাখ ৩২ হাজার ১৬২ কোটার মধ্যে ৪ লাখ ৭৬ হাজার চলে গেছে। এর মধ্যে ৪ লাখ ৯৩ জন বিএমইটির ছাড়পত্র পেয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এগুলো নিয়ে বায়রার সঙ্গে বসেছি, তারা টাকা নিল কিন্তু পাঠাতে পারল না। এই টাকার কী হবে তাদের কাছে জানতে চেয়েছি গতকাল বুধবার। তারা সবাই সম্মত হয়েছে যে প্রমাণ সাপেক্ষে যার কাছ থেকে যত টাকা নেওয়া হয়েছে সেটি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ফেরত দেওয়া হবে। এই একটি ধাপে আমরা মোটামুটি এগিয়েছি।’
৬১০ দিন আগে