বাংলাদেশ
বিদ্যুৎ সরবরাহ ৩-৪ দিনের মধ্যে স্বাভাবিক হবে ও গ্যাস সরবরাহ জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে: নসরুল হামিদ
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আর জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে গ্যাস সরবরাহও স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
জ্বালানি পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে চলমান প্রচেষ্টার বিষয়ে জনগণকে আশ্বস্ত করে নসরুল হামিদ বলেন, ‘আমরা এখন সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ১৫-১৬ জুলাইয়ের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন থাকবে।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহের উন্নতি এরইমধ্যে দেখা যাচ্ছে। আদানির পক্ষ থেকে পুনরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে। পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রও আবার চালু হয়েছে।
সেপ্টেম্বরে সম্ভাব্য বন্যার ক্ষতি কমাতে প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন প্রতিমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: কারিগরি ও অন্যান্য কারণে মাঝেমধ্যে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল আসতে পারে: নসরুল হামিদ
এই ক্ষতি কমিয়ে আনতে কাজ চলছে জানিয়ে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ৭০০ নদীর দেশ। সাম্প্রতিক ঝড় ও বন্যায় সিলেট অঞ্চলের ৩০ হাজার বিদ্যুতের খুঁটি ধ্বংস হয়েছে এবং সব সাবস্টেশন ডুবে গেছে।’
গ্যাসের চাপ কম থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে হামিদ বলেন, ‘ঝড়ের কারণে আমাদের একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৪ থেকে ১৫ জুলাই টার্মিনালে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হলে গ্যাস সমস্যার সমাধান হবে।’
বিদ্যুতের মূল্য বাড়ার বিষয়টি তুলে ধরে নসরুল হামিদ বলেন, ‘আইএমএফ বছরে চারবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর শর্ত দিয়েছে। এ কারণে দুইবার দাম বাড়ানো হয়েছে। এটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। সরকার চাইলে আমরা দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেব।’ তবে এখনই গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে না বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
আগামী ৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্ধারিত চীন সফরকে সামনে রেখে জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার পরিকল্পনার কথা জানান জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী।
মহেশখালী থেকে গ্রিডের সমান্তরালে ৮টি পাইপলাইন সংযুক্ত করার চেষ্টা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, সম্ভাব্য এক বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ও চুক্তি আশা করা হচ্ছে। মূলত বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ প্রকল্পগুলোর জন্য এই চুক্তিগুলো করা হবে।
২০২৭ সালের মধ্যে গ্যাস সংকট সমাধান, আরও দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা এবং স্থল ও অগভীর সমুদ্র এলাকায় নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন নসরুল হামিদ।
আরও পড়ুন: ২০৩৫ সালের মধ্যে হাইড্রোজেন থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায় বাংলাদেশ: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
৬১০ দিন আগে
বাংলাদেশে দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে এসএমই: অক্সফাম
দেশের প্রায় ৭৮ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) ফাউন্ডেশন ও অক্সফাম ইন বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করবে।
এ উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) ঢাকার আগারগাঁওতে এসএমই ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৭৮ লাখ এসএমই রয়েছে, যা দেশের মোট শ্রমশক্তির ২৫ শতাংশ এবং শিল্প খাতের কর্মসংস্থানের ৮০ শতাংশ। সেই ধারাবাহিকতায়, এসএমই ফাউন্ডেশন ও অক্সফাম ইন বাংলাদেশের মধ্যে হওয়া এই সমঝোতা স্মারক দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে ব্যবসায়িক পরিষেবা ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।
সমঝোতা স্মারক সই প্রসঙ্গে এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘এই সমঝোতা স্মারক বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। অক্সফামের সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে, আমরা সার্বিকভাবে এসএমইর উন্নয়নে কাজ করতে পারব, আর্থিক প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য অর্জনে সহায়তা করতে পারব।’
অক্সফাম ইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আশিষ দামলে বলেন, ‘বাংলাদেশের দারিদ্র নিরসন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে এসএমই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসএমই ফাউন্ডেশনের সঙ্গে এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প; বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তা, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নেতৃত্বে একটি সমতার পরিবেশ গড়ব। আমাদের এই যৌথ প্রচেষ্টা আরও বেশি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়তে অবদান রাখবে।’
এই সমঝোতা স্মারকের অধীনে, উভয়পক্ষ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা ব্যবহারের মাধ্যমে এসএমই উদ্যোক্তাদের ব্যবসা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল ও ভৌত বাজার একীকরণ ও প্রাপ্য আর্থিক উৎসের সুযোগ নিয়ে কাজ করবে। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এসএমই তহবিল উন্নয়নে বেসরকারি খাতের বাধা মোকাবিলায় দুইপক্ষই বিশেষভাবে জোর দেবে।
এসএমই ফাউন্ডেশন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের জাতীয় কৌশল গঠন; বিশেষ করে নারী ও তরুণ উদ্যোক্তা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট নীতিগুলো নিয়ে অক্সফামের সঙ্গে কাজ করবে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয় সেগুলো চিহ্নিত করে, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্ত করার মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের সাশ্রয়ী ও পর্যাপ্ত আর্থিক সুযোগ তৈরিতেও কাজ করবে এসএমই ফাউন্ডেশন এবং অক্সফাম ইন বাংলাদেশ। বিশেষ করে ব্যবসায়িক সহযোগিতা শক্তিশালীকরণ, যুব-অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক মডেলের পাইলটিং করা ইত্যাদির বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
৬১০ দিন আগে
মিঠাপুকুরে সেপটিক ট্যাংকে পড়ে মা-ছেলেসহ ৩ জনের মৃত্যু
রংপুরের মিঠাপুকুরে সেপটিক ট্যাংকে পড়ে মা ও ছেলেসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) ভোর ৬টার দিকে উপজেলার শাল্টি গোপালপুর ইউনিয়নের ধাপ উদয়পুর গ্রামে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতরা হলেন- ওই গ্রামের বাদশা মিয়ার স্ত্রী দেলোয়ারা বেগম (৫৫), ছেলে ইদা মিয়া (৩৫) ও তোবারক হোসেনের ছেলে ইবলুল মিয়া (৩৫)।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে সেফটিক ট্যাংক থেকে ২ শিশুর লাশ উদ্ধার
ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দেলোয়ারা বেগমের বাড়ির পেছনে গরুর মলমূত্র যাওয়ার জন্য একটা সেপটিক ট্যাংক খোঁড়া হয়েছিল। ওই ট্যাংকের পাশে মই দিয়ে ঘরের সানশেডের ওপর লাউয়ের পাতা তুলছিলেন দেলোয়ারা বেগম। এসময় মই ভেঙে নিচে সেপটিক ট্যাংকের গর্তে পড়ে যান তিনি। তাকে বাঁচাতে গিয়ে ছেলে ইদা মিয়াও সেখানে পড়ে যান। এরপর ওই দুজনকে বাঁচাতে গেলে প্রতিবেশী ইবলুল মিয়াও ওই ট্যাংকে পড়ে মারা যান।
খবর পেয়ে মিঠাপুকুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনের লাশ উদ্ধার করেন।
মিঠাপুকুর ফায়ার সার্ভিসের গুদাম পরিদর্শক মশিউর রহমান বলেন, সেপটিক ট্যাংকটি সরু ও গভীর ছিল। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওই সেপটিক ট্যাংক থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করে। পরে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন: সেফটিক ট্যাংক পরিষ্কার করার সময় বিস্ফোরণে নওগাঁয় শ্রমিক নিহত
৬১০ দিন আগে
দেশে আরও ২১ জনের করোনা শনাক্ত
দেশে বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কারো মৃত্যু হয়নি।
তবে নতুন করে ২১ জনের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৫১ হাজার ৭৫ জনে।
এখন পর্যন্ত ভাইরাসটিতে মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ৪৯৮ জনের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: দেশে আরও ১৭ জনের করোনা শনাক্ত
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৭৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। একই সময় শনাক্তের হার ৪ দশমিক শূন্য ৪০ শতাংশ।
মোট পরীক্ষায় এ পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মোট মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৮ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ১৮ হাজার ৫৫০ জনে।
আরও পড়ুন: দেশে আরও ১৩ জনের করোনা শনাক্ত
৬১০ দিন আগে
দুই ঘণ্টা পর ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক
প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) বেলা সোয়া ৩টার দিকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) জব্বারের মোড় থেকে জামালপুরগামী জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি রওনা দেয়।
সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে দ্বিতীয় দিনে দুপুর ১টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ অবরোধ করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা হাইকোর্টের রায় বহাল রাখায় নিন্দা জানিয়েছেন। অতি দ্রুত ওই মামলার নিষ্পত্তি না হলে সারা দেশের ছাত্র সমাজ দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
বাকৃবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, প্রায় দুই ঘণ্টা ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এ ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন রয়েছে প্রশাসন।
এখন ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে গত বুধবার সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত বাকৃবির জব্বারের মোড় সংলগ্ন এলাকায় রেলপথ অবরোধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। এতে প্রায় এক ঘণ্টা বন্ধ ছিল ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে রেল যোগাযোগ।
৬১০ দিন আগে
তিস্তা প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশের যেকোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেবে চীন: রাষ্ট্রদূত ইয়াও
তিস্তা প্রকল্প নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্পূর্ণ অধিকার একমাত্র বাংলাদেশের উল্লেখ করে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, তিস্তা প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশের সিদ্ধান্তকে অবশ্যই সম্মান জানাতে হবে।
তিনি বলেন, ‘তিস্তা নদী নিয়ে যে প্রকল্পই হোক না কেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের। এই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাতে হবে।’
বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের তিস্তা নদী নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডিক্যাব টকে কূটনৈতিক সংবাদদাতাদের তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন চীন সফর নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ডিক্যাব সভাপতি নুরুল ইসলাম হাসিব ও সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান অপু।
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর বিভিন্ন সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি নতুন রূপরেখা দেবে এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে দুই দেশের অবস্থানের সমন্বয় করার সুযোগ দেবে বলে আশা ব্যক্ত করেন চীনা রাষ্ট্রদূত।
আরও পড়ুন: চীন-বাংলাদেশের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে শেখ হাসিনার আসন্ন সফর: রাষ্ট্রদূত
বাংলাদেশের অনুরোধে চীন তিস্তা নদী নিয়ে প্রস্তাব দিয়েছে এবং যেকোনো সিদ্ধান্ত মেনে নিতে প্রস্তুত উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত ইয়াও বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত। পরবর্তী ধাপে কী করা যায়, তা সম্পূর্ণ বাংলাদেশেরই সিদ্ধান্ত।’
ভারতও তিস্তা প্রস্তাবে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং তিস্তা নদী সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আলোচনার জন্য একটি কারিগরি দল শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে।
এর আগে গত ২৫ জুন সাম্প্রতিক ভারত সফর নিয়ে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রকল্পে অর্থায়ন প্রস্তাব গ্রহণের ক্ষেত্রে দেশের জন্য সবচেয়ে লাভজনক কোনটি সেটি বিবেচনা করা হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা তিস্তা প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এতে অর্থায়নের জন্য চীন ও ভারত পৃথক প্রস্তাব দিয়েছে। যে প্রস্তাব আমাদের দেশের জনগণের জন্য আরও লাভজনক হবে অবশ্যই সেটি গ্রহণ করতে হবে।’
রাষ্ট্রদূত ইয়াও পৃথক এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ও এর প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সুসম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, ‘এটা আপনাদের জাতীয় পররাষ্ট্রনীতির সফলতা। তাই আমরা সুসম্পর্ক দেখতে চাই। আমরা চাই আমাদের সম্পর্ক ইতিবাচক ভূমিকা পালন করুক এবং অন্যান্য দেশ এটিকে ইতিবাচকভাবে দেখুক। সুতরাং এটি একটি উভয় পক্ষের জয়সূচক সহযোগিতা এবং এটি সব পক্ষকে উপকৃত করবে।’
এই প্রকল্প নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে উত্তেজনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, 'আমি কোনো উত্তেজনা দেখছি না। আমরা চাই শিগগিরই প্রকল্পের কাজ শুরু হোক। প্রায় ৩০ মিলিয়ন মানুষের এই প্রকল্প প্রয়োজন, তাই এটি শিগগিরই শুরু ও সময়মতো শেষ করা যায় কি না সেটিই দেখছি আমরা।’
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের বিষয়ে রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন যে, এটি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব এবং এই উন্নয়নে সহায়তার মাধ্যমে চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
তিনি বলেন, 'বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়নে চীনের সম্পৃক্ত হওয়ার এটি একটি ভালো সুযোগ এবং এ প্রস্তাবে আমাদের খুব সক্রিয় ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে।’
আরও পড়ুন: ইকোনোমিক জোনে ২১.৮৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে চীনের কোম্পানির চুক্তি সই
রাষ্ট্রদূত বলেন, ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের মানবিক চেতনার ভূয়সী প্রশংসা করে চীন।
চীন যুদ্ধবিরতি ও সংলাপের জন্য মিয়ানমার সংঘাতে জড়িত সব পক্ষকে সক্রিয়ভাবে চাপ দিচ্ছে। এভাবে দেশটি শরণার্থীদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের পথ প্রশস্ত করছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত।
ইয়াও বলেন, ‘বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে চীন। পাশাপাশি যৌথভাবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার উন্নয়নে কাজ করতে আগ্রহী চীন।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন সফরে শিক্ষা, গণমাধ্যম, অবকাঠামো, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ, বাংলাদেশ থেকে কৃষি আমদানি এবং ডিজিটাল ইকোনমির মতো খাতে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক বর্তমানে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় আছে এবং উন্নয়নেরও অনেক সুযোগ রয়েছে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আগামী বছর বাংলাদেশ ও চীন কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করবে। কীভাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও বাড়ানো যায়, বিনিময়ের পরিধি বাড়ানো যায়, সহযোগিতার সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যায় এবং দুই দেশ ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও ভালো, গভীর ও ঘনিষ্ঠ করা যায় সে বিষয়ে উভয় পক্ষেরই চেষ্টার প্রয়োজন রয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে এবং অতীতের অর্জনগুলোর ওপর ভিত্তি করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘এই সফর নিঃসন্দেহে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার ক্ষেত্রে সাহায্য করবে। পাশাপাশি চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতার কৌশলগত অংশীদারিত্বে নতুন সাফল্য এনে দেবে এবং সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করবে।’
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফর সবার কাছে বহুল প্রত্যাশিত। ‘এই সফর আগামী পাঁচ বছর বা তারও বেশি সময় চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীনা নেতাদের সঙ্গে বৈঠক, বেশ কয়েকটি সহযোগিতা দলিল সই এবং যৌথভাবে বড় ধরনের সহযোগিতার বিষয়ে ঘোষণা দেবেন।
এই সফরের মাধ্যমে উভয় পক্ষ দৃঢ়ভাবে একে-অপরকে সমর্থন করবে এবং সব ক্ষেত্রে যোগাযোগ আরও গভীর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের চতুর্থ বৈদেশিক ঋণদাতা চীন; ঋণ পরিশোধের সময়কাল নিয়ে উদ্বেগ বিশেষজ্ঞদের
৬১০ দিন আগে
আঞ্চলিক সম্পর্ক জোরদারে মিয়ানমারের সমর্থনের প্রত্যাশা রাষ্ট্রপতির
আগামী সেপ্টেম্বরে বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের (বিমসটেক) সভাপতির দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ কারণে আঞ্চলিক সম্পর্ক জোরদারে মিয়ানমারের সমর্থন ও সহযোগিতার প্রত্যাশা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) বাংলাদেশে মিয়ানমারের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত কিয়াও সোয়ে মোয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে তার পরিচয়পত্র পেশ করার সময় এ প্রত্যাশা তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি।
এসময় মিয়ানমারের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে গার্ড অব অনার দেয় প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের একটি চৌকস দল।
মিয়ানমারের নতুন রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, মিয়ানমার বাংলাদেশের সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী।
বাংলাদেশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেয় বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি আরও বলেন, যদিও সরকার মানবিক কারণে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে তবে এটি বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সমস্যা দাঁড়িয়েছে।
জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষ যেন নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে তাদের মাতৃভূমিতে ফিরে যেতে পারে এমন পরিবেশ মিয়ানমার তৈরি করবে বলে আশা ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন নতুন রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগগুলো অনুসন্ধানে কাজ করার আহ্বান জানান।
আগামী সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিমসটেককে শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ আসিয়ানের ডায়লগ পার্টনার হতে চায়। এ ব্যাপারে মিয়ানমারের সমর্থন ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে মিয়ানমারের নতুন রাষ্ট্রদূত দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষের কারণে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে কাজ করছে তার দেশ।
এ বিষয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের কথা সরকারকে জানাবেন এবং সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেবেন বলে জানান মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত।
সাক্ষাৎকালে আরও ছিলেন রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিবরা।
আরও পড়ুন: বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাণিজ্য সহযোগিতার প্রশংসা রাষ্ট্রপতির
৬১০ দিন আগে
বাংলাদেশ-স্পেনের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
পারস্পরিক সহযোগিতা ও সুবিধা বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ ও স্পেনের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘আমরা বাংলাদেশ ও স্পেনের মধ্যে বাণিজ্য বাড়াতে চাই।’
বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) গণভবনে স্পেনের রাষ্ট্রদূত গাব্রিয়েল মারিয়া সিস্তিয়াগা ওচোয়া দে চিনচেত্রুর সঙ্গে বৈঠককালে প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এম নাঈমুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।
প্রেস সচিব জানান, বর্তমানে স্পেন বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক আমদানি করে জানিয়ে সিমেন্ট খাতে স্প্যানিশ বিনিয়োগের কথাও উল্লেখ করেন স্পেনের রাষ্ট্রদূত।
আরও পড়ুন: দুই দেশের অর্থনীতিতেই অবদান রাখছেন ওমানে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা: প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশে স্পেনের বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে রাষ্ট্রদূতকে আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এসময় তিনি সারা দেশে প্রায় ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য তার সরকারের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্পেনের বিনিয়োগকারীরাও এই অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগ করতে পারে। আমরা স্পেন থেকে আরও বিনিয়োগ দেখতে চাই।’
স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা থেকে উন্নীত হওয়ার পরও বাংলাদেশকে সহায়তা করার জন্য স্পেনের রাষ্ট্রদূতকে এসময় অনুরোধ করেন তিনি।
বৈঠকে জানা গেছে, সেপ্টেম্বরে দুই দেশের মধ্যে একটি অংশীদারত্ব চুক্তির জন্য আলোচনা শুরু হবে।
বর্তমানে ৬০ হাজার বাংলাদেশি স্পেনে বসবাস করছেন। প্রধানমন্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আরও বাংলাদেশিকে স্পেনে কর্মসংস্থানের জন্য রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ জানান।
বৈঠকে বাংলাদেশের বাজেটের ভূয়সী প্রশংসা করেন স্পেনের রাষ্ট্রদূত। তিনি শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সরকারের মনোযোগের কথাও উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন: ২০৩৫ সালের মধ্যে হাইড্রোজেন থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায় বাংলাদেশ: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
রাষ্ট্রদূত গাব্রিয়েল বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে আপনার আগ্রহ এবং বরাদ্দ আমাদের দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’
আসন্ন দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে আমন্ত্রণের জন্য প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অ্যাম্বাসেডর-অ্যাট-লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন ও মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া এসময় উপস্থিত ছিলেন।
৬১০ দিন আগে
কোটা বাতিলের দাবিতে বাকৃবি শিক্ষার্থীদের ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ অবরোধ
সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ অবরোধ করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) দুপুর সোয়া ১টার দিকে জব্বারের মোড়-সংলগ্ন এলাকা অবরোধ করে এ বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। এসময় রেলপথ দিয়ে আটকে পড়া যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ঢাকা-মময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
আরও পড়ুন: কোটা আন্দোলন: তৃতীয় দিনের মতো শিক্ষার্থীদের শাহবাগ অবরোধ
বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থী মো. ইরান মিয়া বলেন, ‘হাইকোর্ট শুনানি পিছিয়ে সারা দেশের ছাত্রসমাজের রক্তে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। খুব দ্রুত এই মামলার নিষ্পত্তি না হলে ছাত্রসমাজ দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে। সংবিধান অনুযায়ী সুযোগের সমতা না দেওয়া হলে ছাত্রসমাজ ছেড়ে কথা বলবে না।’
কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী মো. হাসিবুল হাসান বলেন, ‘বর্তমান সরকারের অগ্রযাত্রায় বৈষম্য থাকা কখনোই উচিত নয়। এতে করে মেধাবীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে না। প্রধানমন্ত্রী ২০১৮ সালে মেধাবীদের মূল্যায়ন বুঝতে পেরেই জাতীয় সংসদে কোটা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিলেন। আবার সেই কোটা পদ্ধতি পুনর্বহালের রায় তরুণ সমাজের মেধাকে হত্যা করার শামিল।’
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ৬ বিচারপতির বেঞ্চ সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহালে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখার আদেশ দেন।
আরও পড়ুন: কোটা বাতিলের দাবিতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ ববি শিক্ষার্থীদের
৬১০ দিন আগে
দুই দেশের অর্থনীতিতেই অবদান রাখছেন ওমানে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওমানে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রশংসা করে বলেছেন, তারা দু'দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখছে।
তিনি বলেন, ‘আপনাদের অর্থনীতিতে যেমন বাংলাদেশি শ্রমিকদের অবদান রয়েছে, তেমনি বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও অবদান রয়েছে। উভয় অর্থনীতিই শ্রমশক্তির সুফল পাচ্ছে।’
বাংলাদেশে নিযুক্ত ওমানের রাষ্ট্রদূত আবদুল গাফফার বিন আবদুল করিম আল-বুলুশি বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণভবনে সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এম নাঈমুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
পশ্চিম এশিয়ার দেশটিতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের পারফরম্যান্সের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একমত পোষণ করেন ওমানের রাষ্ট্রদূত।
তিনি বলেন, ‘এটা সত্য এবং তারা উভয় অর্থনীতির জন্য কাজ করছে।’
আরও পড়ুন: আমরা আমাদের দরজা বন্ধ রাখতে পারি না: ভারতকে ট্রানজিট দেওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী
তিনি বলেন, ওমান দীর্ঘদিন ধরে ৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে এবং বর্তমানে দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রত্যাশা করছে।
তিনি বলেন, ‘আগামী দিনে জিডিপি প্রবৃদ্ধি দ্বিগুণ হতে পারে।’
এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময় ওমানের সহায়তার বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।
বাংলাদেশিদের ওপর ভিসা বিধিনিষেধের বিষয়ে রাষ্ট্রদূত জানান, ওমানে প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি কাজ করছেন।
তিনি বলেন, 'এটা (বিধিনিষেধ) সুনির্দিষ্ট করে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারণ করা হয়নি। চাহিদা নির্ধারণের জন্য আমরা পর্যায়ক্রমে শ্রমবাজার পর্যালোচনা করি। সেই পর্যালোচনার ভিত্তিতে আমরা অনেক সময় যেসব দেশে জনবল বেশি, সেসব দেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া স্থগিত করি। স্থগিতাদেশ শিথিল করার জন্য আপনাকে পরবর্তী পর্যালোচনা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’
বাংলাদেশের ওপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে- বিষয়টি যে এমন নয় তা স্পষ্ট করেন তিনি।
'কিন্তু বাস্তবে ব্যাপারটা এমন ছিল না। জনশক্তি ভিসা ছাড়া ফ্যামিলি ভিসা ও ট্যুরিস্ট ভিসাসহ অন্য সব ভিসা দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশিদের জন্য বর্তমানে ১০টি ক্যাটাগরিতে ওমানের ভিসার দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তার সরকারের কাছে চিঠি পাঠানোর পরামর্শ দেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত বলেন, এটি তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশের পক্ষে আলোচনা করতে সহায়তা করবে।
তিনি বলেন, 'আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছি, যাতে শিগগিরই ওয়ার্কিং ভিসা চালু করা যায়।’
সার আমদানি ইস্যুতে রাষ্ট্রদূত বলেন, তার সরকার এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে সরকারের আলোচনা করার প্রস্তাব করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার প্রস্তাবটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং জানুয়ারিতে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রদূত।
তিনি আরও বলেন, হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উত্তরণ করলে ভালো হবে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আপনাকে নিয়ে গর্ব করতেন।’
রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীকে একটি ওমানি নৌকার রেপ্লিকা উপহার দেন।
সেখানে লেখা ছিল, 'দৃঢ়তা ও সাহসিকতার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর মশাল বহনকারী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ওমানের রাষ্ট্রদূত আব্দুল গাফফার আলবুলুশির পিক্ষ থেকে অভিনন্দন।’
বৈঠকে অ্যাম্বাসেডর-অ্যাট-লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: ২০৩৫ সালের মধ্যে হাইড্রোজেন থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায় বাংলাদেশ: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
৬১০ দিন আগে