বাংলাদেশ
পাটের ব্যাগ বাজারে এনে প্লাস্টিক ও পলিথিন ব্যাগ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হবে: পাটমন্ত্রী
সোনালি ব্যাগ ও পাট ইনস্টিটিউটের আবিষ্কৃত পণ্য বাণিজ্যিকভাবে বাজারে এনে প্লাস্টিক ও পলিথিন ব্যাগ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক।
বুধবার (৩ জুলাই) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, মানুষের অন্যতম শত্রু পলিথিন বন্ধ করতে বিকল্প ব্যাগ হিসেবে সোনালি ব্যাগ আবিষ্কার করা হয়েছে। শিগগিরই এই ব্যাগ বাজারে এনে বাণিজ্যিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
নানক বলেন, ‘পলিথিনের বিকল্প আবিষ্কার করেছে পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট। সেটিও বাণিজ্যিকভিত্তিতে উৎপাদনে আনা হবে। এক্ষেত্রে সফল হলে প্লাস্টিক ও পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করে বাজার থেকে উঠিয়ে নেওয়া হবে।’
সোনালি ব্যাগ ও পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের আবিষ্কৃত ব্যাগের দাম কমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।
পাটমন্ত্রী বলেন, ‘পলিথিন এখন বাজারে এমনভাবে গেড়ে বসেছে যে, এটি মানবজীবনের জন্য এটি খুবই ক্ষতিকারক। এ নিয়ে পরিবেশমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীর সঙ্গেও কথা বলেছি।’
তিনি আরও বলেন, চাল, ডাল, আলু ও পেঁয়াজসহ ৮২টি পণ্য আছে, যা বহন করতে পাটের ব্যাগ ব্যবহারে সরকারের নির্দেশনা রয়েছে। খুলনা, দিনাজপুর, রংপুর, ফরিদপুর, নরসিংদী ও সিলেটে শতভাগ পাটের বস্তা ব্যবহার করা হচ্ছে।
আওয়ামী লীগের এই সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা ছিল পাট দিয়ে চা উৎপাদনে। এরইমধ্যে ‘রোজেলা টি’ ও ‘পাটপাতার চা’ নামে দুটি চা আবিষ্কার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এই রোজেলা টিতে অনেক উপকার আছে। এগুলো শিগগিরই বাজারজাত করা হবে।
পাটপণ্য রপ্তানি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পাটপণ্য রপ্তানি করতে হলে দেশে পাট উৎপাদন আরও বাড়াতে হবে। পাট উৎপাদনের এলাকাও আরও বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পাটপণ্যে বৈচিত্র্যও আনতে চেষ্টা করা হচ্ছে।
৬১১ দিন আগে
সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সাড়ে ৩ লাখ ডলার সহায়তা
জুন মাসের মৌসুমি বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করতে ইউনাইটেড স্টেটস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ইউএসএআইডি) মাধ্যমে ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার মানবিক সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
বহুমুখী নগদ সহায়তা হিসেবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই অর্থ বিতরণ করবে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।
বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী বর্ষণের কারণে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৫ লাখের বেশি মানুষ। বাস্তুচ্যুত হয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে আছে ৩০ হাজার মানুষ।
ভারী বৃষ্টিতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে আরও একটি স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে জরুরি সহায়তার প্রয়োজন এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেন, ‘৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউএসএআইডির মাধ্যমে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সঙ্গে অংশীদারিত্বের মধ্যে দিয়ে বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে খাদ্য ও পানি কেনা, জীবিকা নির্বাহ, আশ্রয়কেন্দ্র মেরামত এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য নগদ অর্থ দিয়ে সহায়তা করতে পেরে আমরা গর্বিত।’
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে দেশটির মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে ৮ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। বাংলাদেশের জন্য ইউএসএআইডি উন্নয়নখাতে ২০০ মিলিয়ন ডলার এবং মানবিক সহায়তায় আরও ১০০ মিলিয়ন ডলারের বার্ষিক বাজেট করেছে। এ অর্থ বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়ানো, দুর্যোগ ঝুঁকি কমানো, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও অনুশীলনের প্রচার, পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনে সহনশীলতা বাড়ানোতে ব্যয় করা হবে।
৬১১ দিন আগে
উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গলাকেটে যুবককে হত্যা
কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নূর মোহাম্মদ (৩১) নামে এক যুবককে গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (৩ জুলাই) ভোরে ৪ নম্বর ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নূর মোহাম্মদ উখিয়া ৪ নম্বর ক্যাম্পের এক্সটেনশন-৪ ডি ব্লকের অলি আহমেদের ছেলে।
হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হোসেন।
আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে আ.লীগ নেতা হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার ২
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এক যুবককে গলাকেটে হত্যা করেছে দৃর্বৃত্তরা। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ জানা যায়নি।
এই ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে বলে জানান ওসি।
আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্ত্রীকে ‘কুপিয়ে হত্যা’, স্বামী আটক
৬১১ দিন আগে
পেনশন স্কিম: বাকৃবিতে শিক্ষকদের তৃতীয় দিনের কর্মবিরতি
সর্বজনীন পেনশনে প্রত্যয় স্কিম বাতিলের দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন করছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এরই ধারাবাহিকতায় তৃতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
বুধবারও বাকৃবিতে কোনো ক্লাস বা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।
মঙ্গলবার (৩ জুলাই) দুপুর ১২টা থেকে বাকৃবি করিডোরের বিভিন্ন অংশে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও বাকৃবির কর্মচারী সংগঠনের সদস্যরা পৃথকভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।
আরও পড়ুন: দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতিতে ববি
এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সর্বজনীন পেনশনের প্রত্যয় স্কিম নিয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করেন।
বাকৃবির শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান বলেন, ‘চলমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করেছেন বাকৃবি শিক্ষক সমিতি। প্রত্যয় স্কিম বাতিল না হলে অথবা বিদ্যমান পেনশন স্কিম থেকে ভালো অন্য কোনো স্কিম না আসা পর্যন্ত শিক্ষকরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।’
পরিষদের সভাপতি কৃষিবিদ আরীফ জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমাদের দাবিগুলো হলো স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানকে প্রত্যয় স্কিম থেকে প্রত্যাহার, অভিন্ন নীতিমালা এবং কর্মকর্তাদের স্কেল সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এসব বৈষম্য চাই না। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন চলবে।’
বুধবার অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করেন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী পরিষদ, চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী সমিতি ও কারিগরি কর্মচারী সমিতির কর্মচারীরা।
বাকৃবির বাকৃবি শ্রেণি কর্মচারী পরিষদের সভাপতি মো. মোশারফ বলেন, ‘আমরা বৃহস্পতিবার পূর্ণদিবস কর্মবিরতিতে যাব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগামীকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি ও প্রশাসনিক ভবন বন্ধ থাকবে। আমরা অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাখান করলাম।’
আরও পড়ুন: প্রত্যয় পেনশন স্কিম: তৃতীয় দিনে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কর্মবিরতি
বাকৃবি শিক্ষকদের সর্বাত্মক কর্মবিরতি ও কর্মচারীদের অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন
৬১১ দিন আগে
কোটা পদ্ধতি বাতিল চেয়ে বাকৃবি শিক্ষার্থীদের রেলপথ অবরোধ
সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ অবরোধ করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (৩ জুলাই) দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত বাকৃবির জব্বারের মোড় সংলগ্ন এলাকায় রেলপথ অবরোধ করে রাখেন তারা।
আরও পড়ুন: পেনশন বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদে অর্ধদিবস কর্মবিরতিতে বাকৃবির শিক্ষকরা
বুধবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনের মুক্তমঞ্চের সামনে থেকে মিছিল বের করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
এসময় মোহনগঞ্জগামী মহুয়া এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্রায় এক ঘণ্টা থেমে থাকে। এতে শতশত ট্রেন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন।
মিছিলটি বাকৃবির কে. আর মার্কেটসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ভবন ঘুরে জব্বারের মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এরপর রেলপথ অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা প্রতিবন্ধী ও অনগ্রসর জাতিগোষ্ঠী বাদে সব কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবি জানায়।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, বর্তমানে প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটা ছাড়া আর কোনো কোটার প্রয়োজন নেই। মেধাবীদের প্রতিযোগিতার মাঠ সমান্তরাল করতে হবে। মেধাবীরা বেকার থাকলে দেশ পিছিয়ে যাবে। সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সমতা সবার সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার। বর্তমানে আবার পুরনো সেই কোটা প্রথা ফিরিয়ে আনার যে প্রয়াস দেখা যাচ্ছে তাতে এই মৌলিক অধিকার লাভের পথ ব্যাহত হবে। এমন বৈষম্যের বিরুদ্ধেই রুখে দাঁড়িয়েছে সচেতন ছাত্র সমাজ।
বাকৃবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা রেলপথ অবরোধ করেছিল। এখন পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।’
আরও পড়ুন: বাকৃবি শিক্ষকদের সর্বাত্মক কর্মবিরতি ও কর্মচারীদের অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন
কোটা বাতিলের দাবিতে বাকৃবিতে আবারও মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ
৬১১ দিন আগে
ডেঙ্গুতে আরও ৬১ জন আক্রান্ত
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশে বুধবার (৩ জুলাই) সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় কারো মৃত্যু হয়নি।
তবে এই সময়ের মধ্যে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬১ জন।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে আরও ৯ জন আক্রান্ত
এর মধ্যে ঢাকার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৭ জন। আর ঢাকার বাইরের হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন আরও ৪৪ জন রোগী।
চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৪৬ জনের। এদের মধ্যে পুরুষ ২০ জন ও নারী ২৬ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৩ হাজার ৮১২ জন।
এদের মধ্যে পুরুষ ২ হাজার ৩১২ জন ও নারী ১ হাজার ৫০০ জন।
আরও পড়ুন: দেশে ডেঙ্গুতে আরও ১ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৪৯
দেশে ডেঙ্গুতে আরও ১ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৫১
৬১১ দিন আগে
জয়পুরহাটে কলেজ শিক্ষক হত্যা মামলায় ১১ জনের যাবজ্জীবন
জয়পুরহাটের পাঁচবিবির কলেজ শিক্ষক আলী হাসান বাবু হত্যা মামলায় ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৩ জুলাই) দুপুরে জয়পুরহাটের অতিরিক্ত দায়রা জজ-২ আদালতের বিচারক মো. নূরুল ইসলাম এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- আসাদুল, মজিবর রহমান, তোফাজ্জল হোসেন, আব্দুল হান্নান, আনিছুর, কালাম, খায়রুল, বাবু, সোহেল, মোর্শেদুল হাসান মশিউর ও আজিজুল।
দণ্ডপ্রাপ্ত মোর্শেদুল হাসান মশিউর ও আজিজুল ছাড়া বাকিরা পলাতক।
আরও পড়ুন: নাটোরে হেরোইন পাচার মামলায় একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
মামলার বিবরণে জানা যায়, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার কাঁকড়া গ্রামের আবুল কাশেম মণ্ডলের ছেলে আলী হাসান বাবু গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ শহরগাছি আদর্শ মহাবিদ্যালের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। তিনি পাইকরদরিয়া গ্রামে বিভিন্ন স্টক ব্যবসাও করতেন।
২০০৯ সালের ১৭ জুন রাতে তিনি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে কাঁকড়া সেতুর কাছে হামলার শিকার হন। ব্যবসার টাকা ছিনতাই করতে গলায় রশি পেঁচিয়ে ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে তাকে হত্যা করা হয়। পরে লাশ নদীতে ফেলে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
পরের দিন এ ঘটনায় নিহতের বড়ভাই আবু বক্কর পাঁচবিবি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত আজ এ রায় দেন।আরও পড়ুন: পঞ্চগড়ে মেয়েকে ধর্ষণ, বাবার আমৃত্যু কারাদণ্ড
৬১১ দিন আগে
বাংলাদেশে দ্রুত শিল্পায়নে চীনকে প্রয়োজন: শাহরিয়ার আলম
সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, দ্রুত শিল্পায়নের জন্য চীনকে বাংলাদেশের প্রয়োজন। গত ১৫ বছরে চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গত এক দশকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক গভীর হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'শিল্পোন্নত বাংলাদেশের জন্য চীনকে প্রয়োজন।’
উল্লেখ্য, গত এক দশকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে।
বুধবার (৩ জুলাই) এক গোলটেবিল আলোচনায় উদ্বোধনী বক্তব্যে শাহরিয়ার মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক সত্যের কথা স্মরণ করেন। পাশাপাশি গত দেড় দশকে চীনের অবদানের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ভারত ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের তুলনা করার কোনো কারণ নেই।
শাহরিয়ার ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ঐতিহাসিক ভূমিকা ও আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভারত সফরকে ঘিরে চলমান অপপ্রচারে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ফর রিজিওনাল স্টাডিজ (বিএফআরএস) আয়োজিত এই আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক বিশেষ সহকারী শাহ আলী ফরহাদ।
আরও পড়ুন: বাণিজ্য-বিনিয়োগ, অবকাঠামো ও নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশ-জাপানের আলোচনা
সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, সেন্টার ফর অল্টারনেটিভসের (সিএ) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক শাহাব এনাম খান, বিজিএমইএর পরিচালক শামস মাহমুদ, ঢাকা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, ওক্যাবের সাধারণ সম্পাদক জুলহাস আলম, অধ্যাপক রুমানা ইসলাম, ডিক্যাব সভাপতি নুরুল ইসলাম হাসিব, ডিক্যাবের সাবেক সভাপতি রাহীদ এজাজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সহ চালু করা নতুন বিষয়গুলোও আলোচনায় এসেছে।
আলোচনার শুরুতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইআইএসএসের গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবির।
প্রবন্ধে বলা হয়, ১৯৭৬ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ-চীন কূটনৈতিক সম্পর্ক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হলেও ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
এতে বলা হয়, ২০১০ ও ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফর দুই দেশের মধ্যে বর্তমান উষ্ণ সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন করেছে।
২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঐতিহাসিক বাংলাদেশ সফর দুই দেশের সম্পর্ককে 'সহযোগিতার কৌশলগত অংশীদারিত্বে' উন্নীত করেছে।
ওই সফরে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ২১টি চুক্তি সই হয়। পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেলসহ বড় বড় প্রকল্পে সহযোগিতা করে অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য অংশীদার হয়ে উঠেছে চীন। এ পর্যন্ত ২১টি সেতু, ১১টি মহাসড়কসহ ৫৫০ কিলোমিটার সড়ক এবং ২৭টি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণে বাংলাদেশকে সহায়তা করেছে চীন।
আরও পড়ুন: আইওসি এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের বৈঠক: আইওসিইন্ডিও কার্যক্রমের জন্য বাজেটের বিধান নির্ধারণ
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যও বাড়ছে। ২০২০ সালের ১ জুলাই বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে চীন। পরে তা বাড়িয়ে ৯৮ শতাংশ করা হয়।
২০২২-২৩ অর্থবছরে, চীন ছিল বাংলাদেশের একক বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৬৭৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং আমদানির পরিমাণ ছিল ২২ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ জিয়ানচাও তার সাম্প্রতিক ঢাকা সফরে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন চীন সফর খুবই ফলপ্রসূ হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, 'আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফর খুবই ফলপ্রসূ হতে যাচ্ছে।’
চীনের মন্ত্রী বলেছেন, 'সুতরাং আমাদের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে এবং আমি নিশ্চিত যে আমাদের দুই দেশের সরকার ও সরকারি সংস্থাগুলো আগামীতে আমাদের দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার জন্য একটি সাধারণ পরিকল্পনা তৈরি করবে।’
তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, সম্পর্কের ইতিহাস এবং বন্ধুত্ব নিয়ে তাদের মধ্যে অত্যন্ত গভীর ও বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে।
জিয়ানচাও বলেছিলেন, ‘প্রায় ৫০ বছরে এই বন্ধুত্ব পাকাপোক্ত হয়েছে। যেহেতু আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সমৃদ্ধি অর্জনের অভিযান, ভিশন-২০৪১ এবং স্মার্ট বাংলাদেশ অর্জনে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ ও দৃঢ় অনুপ্রেরণা ও উৎসাহের অংশীদার চীন।
তিনি বলেন, ‘আপনাদের আধুনিকায়ন অভিযানে প্রতিবেশী ও অংশীদার হিসেবে চীন একটি ব্র্যান্ড হিসেবে রয়েছে। তাই বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের কাঠামোর মধ্যেই আমরা এটা করব।’আরও পড়ুন: রোহিঙ্গাদের জন্য ভালো সুযোগের পক্ষে ফ্রান্স
৬১১ দিন আগে
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জামের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
রোগীদের প্রকৃত চাহিদা বিবেচনা করেই সরকারি হাসপাতালের জন্য চিকিৎসা সরঞ্জাম কিনতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘চিকিৎসা সরঞ্জামের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।’
চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বানও জানান তিনি।
আরও পড়ুন: বন্যা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
বুধবার (৩ জুলাই) গণভবনে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠায় স্বাস্থ্য খাতের রূপান্তরবিষয়ক একটি উপস্থাপনা দেখার সময় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব কে এম সাখাওয়াত মুন সাংবাদিকদের জানান, উপস্থাপনাটি দেখে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
স্বাধীনতার পর স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর যুগান্তকারী পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, গত দেড় দশকে দেশের অন্যান্য খাতগুলোর মতো স্বাস্থ্য খাতেও ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।
তার সরকার স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বর্তমান সরকারের অর্জনকে টেকসই করে স্বাস্থ্য খাতে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় আরও ছিলেন- স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সামন্ত লাল সেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী রোকেয়া সুলতানা, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. আ ফ ম রুহুল হক, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এম নাঈমুল ইসলাম খান।
আরও পড়ুন: ব্লু ইকোনমি বাস্তবায়নে এডিবিকে সহায়তার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক অন্যদের জন্য মডেল: প্রধানমন্ত্রী
৬১১ দিন আগে
উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে: এফএফডব্লিউসি
বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিম্নাঞ্চলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)।
এতে বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ জেলায় যমুনা নদীর পানি কিছুটা বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।
এছাড়া কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির সামান্য অবনতি হতে পারে।আরও পড়ুন: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা ও ভূমিধসে নিহত ১৬
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি বাড়ছে। আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত এটি অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা, ভূগাই ও কংশ নদীতে পানি কমছে। আগামী ২৪ ঘণ্টা কুশিয়ারা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও এর উজানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত এবং আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।আরও পড়ুন: সিলেটে তৃতীয় দফা বন্যায় পানিবন্দি ৭ লাখ মানুষ
৬১১ দিন আগে