রাজনীতি
৭ জানুয়ারির নির্বাচনের খেসারত আ. লীগকে দিতে হবে: ফারুক
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদের ‘একতরফা’ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আওয়ামী লীগকে খেসারত দিতে হবে।
শনিবার এক মানববন্ধনে তিনি একথা জানান।
বিএনপিকে অবমূল্যায়ন না করতে ক্ষমতাসীন দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দলটি যেকোনো সময় রাজপথে ফিরে আসতে পারে। কারণ দেশের জনগণের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে বিএনপির।
আরও পড়ুন: পর্যটন শিল্পে ফিলিপাইনকে বিনিয়োগের আহ্বান জানালেন ফারুক খান
ফারুক বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের সাহেব, আপনি কীভাবে বলেন যে- ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে না আসার জন্য বিএনপিকে অনেক খেসারত দিতে হবে? উল্টো আমি বলতে চাই, এর মূল্য আপনাদেরই দিতে হবে। যুগ যুগ ধরে আপনাদের মাশুল দিতে হবে, কারণ আপনারা জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়াই নির্বাচন করে সরকার গঠন করেছেন।’
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা দখল করে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ফারুক বলেন, ‘গণতন্ত্র ধ্বংস করে আপনারা বাংলাদেশের ইতিহাসে যে কলঙ্ক লেপন করেছেন তার দায়ভার আপনাদেরই নিতে হবে। সুতরাং আপনাদের এর জন্য খেসারত দিতে হবে।’
সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ফারুক বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ক্রমবর্ধমান ঊর্ধ্বগতির মধ্যে সীমান্তে অব্যাহত গোলাগুলি চলছে এবং জনগণের সমর্থন ছাড়াই আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় থাকায় দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে আওয়ামী লীগ যে কলঙ্ক লেপন করেছে তার জন্য জনগণের মুখোমুখি হওয়ার সময় খুবই নিকটে।
আরও পড়ুন: আ.লীগ সরকারই ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট তৈরি করেছে: বিএনপি নেতা ফারুক
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ দলের কারাবন্দি নেতা-কর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি আয়োজন করে জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ ফোরাম।
ফারুক অভিযোগ করেন, একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের ‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের’ অংশ হিসেবেই সরকার গত ২৮ অক্টোবর রাজধানীতে বিএনপির মহাসমাবেশ বানচাল করে দেয় এবং ফখরুলসহ বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের গ্রেপ্তার করে সরকার।
তিনি সরকারকে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। ‘অন্যথায় জনগণের ক্ষোভ উস্কে গেলে আপনারা শ্রীলঙ্কার চেয়েও ভয়ংকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হবেন।’
ফারুক বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও হারানো অধিকার ফিরে না আসা পর্যন্ত তাদের দল জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে থাকবে।
আরও পড়ুন: হুমকি সত্ত্বেও বিএনপি আন্দোলন চালিয়ে যাবে: জয়নুল আবেদিন ফারুক
৭৫৫ দিন আগে
বাংলাদেশে ভঙ্গুর গণতন্ত্র দেখতে চায় ভারত: রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বাংলাদেশে ভঙ্গুর গণতন্ত্র চায় ভারত। সে কারণেই তারা গত মাসের (৭ জানুয়ারি) নির্বাচনে সমর্থন দিয়েছে।
তিনি দাবি করেন, জনগণ ও সবচেয়ে গণতান্ত্রিক দেশগুলো সেই নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
রিজভী বলেন, 'পররাষ্ট্রমন্ত্রী (বৃহস্পতিবার) বলেছেন, গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষায় (৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত) নির্বাচনকে ভারত সমর্থন করেছে।’
শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
রিজভী প্রশ্ন তোলেন, ভারত কি তার প্রতিবেশী দেশগুলোতে দুর্বল গণতন্ত্র চায়?
তিনি দাবি করেন, এটা সারা বিশ্ব স্বীকার করেছে যে, বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পাতানো এবং কারচুপি করা হয়েছে। একইসঙ্গে দেশের জনগণ তা প্রত্যাখ্যান ও বর্জন করেছে।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন যদি সুষ্ঠু হয়... ওই নির্বাচন যদি গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষায় সহায়ক হয় এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী ভারত যদি ওই নির্বাচনকে সমর্থন করে, তাহলে আমাদের ভাবতে হবে যে, ভারত তার নিজের দেশে ইস্পাতের মতো শক্তিশালী গণতন্ত্র চায়, কিন্তু তারা বাংলাদেশে দুর্বল গণতন্ত্র চায়।’
আরও পড়ুন: বিকালে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় হাসপাতাল যাবেন খালেদা জিয়া
রিজভী বলেন, সরকার উচ্চ স্বরে বলছে কোন কোন দেশ তাদের অভিনন্দন জানাচ্ছে, নির্বাচনকে সমর্থন করছে। ‘এতে প্রমাণিত হয়েছে যে, তারা জনসমর্থনহীন একটি বিচ্ছিন্ন সরকার।’
তিনি আরও বলেন, গত নির্বাচন জনগণ বর্জন করায় সরকারের মন্ত্রীরা ক্ষমতা হারানোর ভয়ে অন্য দেশের সমর্থন নিয়ে বড়াই করছেন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার জনসমর্থন নিয়ে গঠিত হয়নি বলেই দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পারছে না। ‘এটা এখন দৃশ্যমান। প্রযুক্তির যুগে প্রতিটি মানুষ এখন দেখছে কীভাবে মর্টার শেল (মিয়ানমার থেকে) এসে বাংলাদেশের মানুষকে হত্যা করছে। কিন্তু সরকার নীরব। এমনকি তারা কোনো বিবৃতিও দিতে পারছে না (সীমান্তের ঘটনার প্রতিবাদ)।’
আরও পড়ুন: সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকরা চরম নিরাপত্তাহীনতায়: বিএনপি
তিনি বলেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও জোরালো প্রতিবাদ করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখার নজির স্থাপন করতে পারেনি সরকার। ‘এর মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণিত হলো যে, সরকারের জনসমর্থন না থাকায় বিশ্ব এমন একটি সরকারের তোয়াক্কা করে না।’
রিজভী অভিযোগ করেন, কারাগারে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন-নিপীড়ন ও হয়রানি করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের কারাগারগুলোতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের উপচে পড়া ভিড় এবং কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি বন্দি রাখা হচ্ছে। কারাগারের সেলগুলো শ্বাসরুদ্ধকর কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে পরিণত হয়েছে।’
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অভিযোগ করেন, অতি উৎসাহী কর্মকর্তারা কারাবন্দি বিএনপির নেতা-কর্মীদের জেলকোড অনুযায়ী প্রাপ্য সব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে তাদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে রাতেই বাসায় ফিরেছেন খালেদা জিয়া
৭৫৬ দিন আগে
স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে রাতেই বাসায় ফিরেছেন খালেদা জিয়া
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, সন্ধ্যা ৬টা ৪৮ মিনিটের দিকে তিনি গুলশানের বাসা থেকে হাসপাতালে আসেন এবং সেখানে প্রায় ৫ ঘণ্টা অবস্থান করেন।
তিনি বলেন, মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী বিএনপি চেয়ারপার্সনের বেশ কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়েছে। পরে হাসপাতাল ছেড়ে রাত সোয়া ১২টার দিকে তিনি বাসায় পৌঁছান।
খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, এর আগে অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাকে হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
আরও পড়ুন: বিকালে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় হাসপাতাল যাবেন খালেদা জিয়া
তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে তার বিভিন্ন প্রয়োজনীয় মেডিকেল টেস্ট করানো হয়েছে।’
জাহিদ বলেন, রিপোর্ট পর্যালোচনা করে মেডিকেল বোর্ড তার চিকিৎসার পরবর্তী বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
পাঁচ মাসেরও বেশি সময় শারীরিক নানা জটিলতায় চিকিৎসা শেষে ১১ জানুয়ারি এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরেন তিনি।
আরও পড়ুন: পাঁচ মাস পর হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরলেন খালেদা জিয়া
এরপর থেকে তিনি তার গুলশানের বাসায় এভারকেয়ার হাসপাতালে আগে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
গত বছরের ৯ আগস্ট হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
৭৮ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস এবং কিডনি, ফুসফুস, হার্ট ও চোখের সমস্যাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছেন।
আরও পড়ুন: খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে এভারকেয়ারের সিসিইউতে স্থানান্তর
৭৫৬ দিন আগে
মিয়ানমার সীমান্তে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করা হয়েছে: ওবায়দুল কাদের
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে সীমান্তে বাংলাদেশ তার অবস্থার শক্তিশালী করেছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা সীমান্ত খুলে দেওয়ার পক্ষে নই এবং আমরা কাউকে এই সুযোগ দিতে দেব না। মিয়ানমার সংঘাত নিয়ে বাংলাদেশ তাদের উদ্বেগের কথা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জাতিসংঘে চিঠি দেবে।’
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, 'যারা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে তারা তাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্য, মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছিল এবং তারা তাদের ফিরিয়ে নেবে এবং অবশ্যই ফিরিয়ে নিতে হবে। তাদের ফিরিয়ে না নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।’
কাদের বলেন, ‘আমরা আমাদের সীমান্তে আতঙ্ক জিইয়ে রাখতে পারি না। আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে এবং জাতিসংঘে চিঠি দেবে। ভারতের সঙ্গেও মিয়ানমারের সীমান্ত রয়েছে। আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এখন ভারতে আছেন। এরই মধ্যে ভারতের সঙ্গে মায়ানমার সীমান্ত ইস্যুসহ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।’
বিরোধী দল বিএনপির বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করার কথা বলায় বিএনপির মাথা খারাপ হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক বার্তা দিয়েছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্টও একটি বার্তা দিয়েছেন। এখন বিএনপির সব আশা শেষ। তারা ভেবেছিল বিদেশি বন্ধুরা তাদের পাশে দাঁড়াবে। তাদের আশা একেবারেই শেষ হয়ে গেছে।’
আরও পড়ুন: মিয়ানমারে সংঘাত ও সীমান্ত সমস্যা নিয়ে যা বললেন কাদের
বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অবস্থান ও অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি প্রথম ক্ষমতায় থাকাকালে রোহিঙ্গাদের এখানে আসার অনুমতি দিয়েছিল। ‘তারা কি তাদের অতীত ইতিহাস ভুলে গেছে?’
তিনি বলেন, ‘আমাদের নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যা করেছেন, জাতিসংঘসহ সবাই তার প্রশংসা করেছেন।’
দ্বাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিতরণ ও জমা প্রসঙ্গে দলটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, গত তিন দিনে মোট ১ হাজার ৫৪৯টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে।
দলটির আয় হয়েছে ৭ কোটি ৭৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি দলের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা প্রবেশের ক্ষেত্রে উদারতার সুযোগ নেই: ওবায়দুল কাদের
৭৫৭ দিন আগে
সড়ক থেকে বিদ্যুৎচালিত অটোরিকশা সরানোর দাবি নাকচ করলেন নসরুল হামিদ
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় যে পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হয় তার তুলনায় তাদের আয় বহুগুণ বেশি বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।
মার্কিন বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘এই ৪০ লাখ থ্রি হুইলারকে আমি বাংলার টেসলা বলি। তারা তাদের নিজস্ব সৃজনশীলতা ব্যবহার করে এগুলো তৈরি করছে। আমরা তাদের থামাচ্ছি না।’
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে নারায়ণগঞ্জ থেকে নির্বাচিত সরকার দলীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘এতে যান্ত্রিক ত্রুটি থাকতে পারে। তারা যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে তার তুলনায় রিটার্ন অনেক বেশি। প্রায় ৪০ লাখ রিকশাচালক বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আয় করছেন।’
তিনি বলেন, সরকার সীসা ব্যাটারি থেকে লিথিয়াম ব্যাটারির দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, 'আমরা এ বিষয়ে একটি প্রকল্প নিয়ে কাজ করছি। আমরা তাদের লিথিয়াম ব্যাটারি সরবরাহ করব এবং সীসা ব্যাটারি নিয়ে যাব।’
ওসমান তার সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ এবং এগুলো চলতে দেওয়া উচিত নয়।
তিনি বলেন, ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার জন্য এসব অটোরিকশা তার ৯০ শতাংশ বিদ্যুৎ চুরি করে।
তারা আমাদের ৭০০-৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। সারাদেশে এগুলো বন্ধে বিশেষ কোনো উদ্যোগ নেন কি না?'
জবাবে হামিদ বলেন, পরিবহন ব্যবস্থাকে কত দ্রুত বৈদ্যুতিক যানবাহনে রূপান্তর করা যায় তা নিয়ে সারা বিশ্বে এখন বিপ্লব চলছে।
তিনি উল্লেখ করেন, তেলচালিত গাড়ির কার্যক্ষমতা ২০ শতাংশ। অন্যদিকে বিদ্যুৎচালিত ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা ৮০ শতাংশ।
তিনি বলেন, ‘মূলত আমরা যত দ্রুত সম্ভব বৈদ্যুতিক গাড়ি বাজারে আনতে উৎসাহিত করি।’
আরও পড়ুন: বাজারের কোনো এনার্জি ড্রিংকে মাদকদ্রব্যের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি: শিল্পমন্ত্রী
তিনি উল্লেখ করেন, তেলচালিত গাড়িতে যে দূরত্ব যেতে ১০০ টাকা লাগে, বিদ্যুতচালিত গাড়িতে ওই দূরত্ব যেতে ২০ টাকা লাগবে।
‘বাংলাদেশে ৪০ লাখের বেশি যানবাহন রয়েছে যেগুলোতে সীসা ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। এগুলো চার্জ হতে সময় লাগে ৭/৮ ঘণ্টা। লিথিয়াম ব্যাটারি থাকলে সময় লাগবে মাত্র আধা ঘণ্টা।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগ বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জিং স্টেশন স্থাপনে একটি নীতিমালা করেছে। এই নীতি অনুসারে, যে কেউ চার্জ স্টেশন স্থাপন করতে পারে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের গণপরিবহনকে (বাস) দ্রুত বিদ্যুতে রূপান্তর করতে হবে। এটি সস্তা ও পরিবেশবান্ধব।’
হামিদ বলেন, বাংলাদেশের পরিবহন খাতে ১৮ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ হয়।
তবে বিদ্যুতের অবৈধ ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। কোথাও অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে কি না, সেদিকে নজর রাখছে বিদ্যুৎ সংস্থাগুলো। অধিকাংশই এখন অবৈধভাবে বিদ্যুৎ না নিয়ে মিটার ব্যবহার করছে।’
আরও পড়ুন: বিদেশ থেকে আসা ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী
৭৫৭ দিন আগে
বিদেশ থেকে আসা ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদেশ থেকে আসা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সরাসরি এখতিয়ার মন্ত্রণালয়ের নেই।
তিনি বলেন, তথ্য অধিদপ্তরের অধীনে একটি ফ্যাক্ট চেকিং কমিটি রয়েছে, যা দেশের বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে গুজব ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা প্রতিরোধে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ থেকে নির্বাচিত সরকারি দলের সংসদ সদস্য চয়ন ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভেতর থেকে দেশের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড বা অপপ্রচার চালানো হলে বিদ্যমান আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
আরাফাত বলেন, ‘বিদেশে অবস্থান করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্যের প্রচারণা চালানো ঠেকানোর ব্যবস্থা এখনও গড়ে ওঠেনি। তবে সরকার এ ব্যাপারে খুবই সতর্ক। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অপপ্রচার প্রতিরোধ করা সম্ভব তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে। প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে শিগগিরই অপপ্রচার বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ভুল তথ্য ও গুজবে শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বই খুব উদ্বিগ্ন। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সভায় ভুল তথ্য ও ভুল তথ্যকে ভবিষ্যতের এক নম্বর সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বঙ্গবন্ধুকন্যা আছেন বলেই দেশে সমৃদ্ধি ঘটছে: আরাফাত
প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'গত ১৫ বছর ধরে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত। এ বিষয়ে আমরা সবাই জানি। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর এ বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলেছি। দেশকে মিথ্যাচার ও গুজবমুক্ত করতে পারলে দেশে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপশক্তির কোনো স্থান হবে না। কারণ মিথ্যা ও গুজবের ওপর ভিত্তি করেই এসব অপশক্তি তাদের জায়গা করে নিয়েছে।’
তিনি বলেন, গণতন্ত্রের স্বার্থে মত প্রকাশের স্বাধীনতা জরুরি। একই সঙ্গে গুজব প্রতিহত করা এবং ভুল তথ্য বন্ধ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আরাফাত আরও বলেন, ‘আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। এজন্য আইন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র ও আইসিটি বিভাগের সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা ইতোমধ্যে কিছু উদ্যোগ নিয়েছি।’
আরও পড়ুন: টিআইবির গবেষণা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পড়ে না: আরাফাত
৭৫৭ দিন আগে
বাজারের কোনো এনার্জি ড্রিংকে মাদকদ্রব্যের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি: শিল্পমন্ত্রী
শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বৃহস্পতিবার সংসদে বলেছেন, টাইগার, স্পিড ও গুরুর মতো যেসব কোমল পানীয় বাজারে পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো কার্বোনেটেড পানীয় হিসেবে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) থেকে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লাইসেন্স নিয়েছে।
তিনি আরও জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর পানীয় পণ্যের নমুনায় (স্পিড, রয়্যাল টাইগার, ব্ল্যাক হর্স, বুলডোজার, পাওয়ার, গুরু, গিয়ার, স্ট্রং ও রেড বুল) কোনো ধরনের মাদকদ্রব্যের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরীর (ভোলা-৩) প্রশ্নের উত্তরে এসব তথ্য জানান শিল্পমন্ত্রী।
প্রশ্নে সংসদ সদস্য বলেন, এনার্জি ড্রিংকগুলো এনার্জির নামে মানবদেহে ভয়াবহ রোগ প্রবেশ করাচ্ছে এবং অনেক ব্র্যান্ডের এনার্জি ড্রিংকে মাদকদ্রব্যও রয়েছে। ২৭টি এনার্জি ড্রিংক বিএসটিআইয়ের জাল লাইসেন্স ব্যবহার করে পণ্য বিক্রি করছে। এনার্জি ড্রিংকে যৌন উদ্দীপক উপাদান মেশানো হচ্ছে। কর ফাঁকি দেওয়ার জন্য এনার্জি ড্রিংকগুলো কোমল পানীয়তে পরিণত হয়েছে। এসব অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে বিএসটিআই এসবের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে কি না জানতে চান তিনি।
আরও পড়ুন: অবৈধ মাদক প্রতিরোধে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা করছে সরকার
উত্তরে শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার এ পর্যন্ত ২৭৩টি পণ্য বিএসটিআইয়ের আওতায় নিয়ে এসেছে। দেশে এনার্জি ড্রিংকসকে বাধ্যতামূলক পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। তবে, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত টাইগার, স্পিড, গুরু ও অন্যান্য পানীয়, যা দেশে বাজারজাত করা হচ্ছে, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কার্বনেটেড পানীয় হিসেবে বিএসটিআই লাইসেন্স সংগ্রহ করেছে।
গত এক বছরে ২৩৭টি পানীয়ের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়েছিল। বাংলাদেশের মান অনুযায়ী সবগুলো নমুনা উত্তীর্ণ হয়েছিল বলে জানান নুরুল মজিদ।
তবে তিনি আরও বলেন, পানীয়র সঙ্গে মাদকদ্রব্য মিশ্রণ এবং এনার্জি ড্রিংকসের নামে বাজারজাতকরণের বিরুদ্ধে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: সিলেটে বিএসটিআইয়ের অভিযানে ৩ লাখ টাকা জরিমানা
৭৫৭ দিন আগে
সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকরা চরম নিরাপত্তাহীনতায়: বিএনপি
মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলি ও মর্টার শেলের আঘাতে মানুষ নিহত ও আহত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, মিয়ানমার সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি মিয়ানমারের ছোড়া মর্টার শেলে এক বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুর জন্য সরকারকে দায়ী করেন।
বিএনপি নেতা বলেন, ‘সীমান্তে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোনো নারী-পুরুষ নিরাপদ নয়। মর্টার শেলের আঘাতে প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ। দেশ ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সার্বভৌমত্ব আরও শক্তিশালী করতে আমরা প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টা ও কার্যক্রম দেখতে চাই।’
অন্য দেশের ছোড়া মর্টার শেলের আঘাতে কেন বাংলাদেশি নারীর মৃত্যু হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি বলেন, 'এই ঘটনার উপযুক্ত জবাব কোথায়? জনসমর্থন না থাকায় বর্তমান সরকার একটি দুর্বল শাসন ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। ফলে লিখিত প্রতিবাদও করতে পারছে না।’
আরও পড়ুন: ধর্ষকদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান গয়েশ্বরের
রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকায় সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমনে কিছুই করতে পারছে না। ‘তারা তাদের (বিদেশি) প্রভুদের ভয় পায়, কিন্তু তারা দেশের জনগণকে সন্ত্রস্ত করার জন্য বন্দুক ব্যবহার করে।’
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ও তুমব্রু সীমান্তে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সামরিক জান্তার সশস্ত্র বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে তীব্র লড়াই, সংঘর্ষ ও গোলাগুলির কারণে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সীমান্তে সংঘাতের আশঙ্কায় বুধবার দুপুর পর্যন্ত মিয়ানমারের তিন শতাধিক সেনা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
এদিকে, সোমবার বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের জলপায়তলী গ্রামের একটি বাড়িতে মিয়ানমারের দিক থেকে ছোড়া মর্টার শেলের আঘাতে এক বাংলাদেশি নারী ও এক রোহিঙ্গা পুরুষ নিহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: সীমান্ত উত্তেজনায় ক্রসফায়ারের মুখে বাংলাদেশ: বিএনপি
রিজভী বলেন, বাংলাদেশের চারপাশের সীমান্ত এলাকায় রক্ত ঝরায় বাংলাদেশের মানুষের জীবন ও ভূমি এখন অরক্ষিত। তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশ থেকে দলে দলে মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার নীরব। এমনকি বিএসএফের গুলিতে বিজিবির এক সদস্য নিহত হলেও সরকার প্রতিবাদ করার সাহস পায় না।’
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংযম ও শান্তি বজায় রাখার আহ্বান এখন দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। ‘ফলে আমাদের সীমান্তরক্ষীরা প্রতিদিন পিছু হটছে, যা বাংলাদেশের মানুষকে বিপদে ফেলছে।’
রিজভী দাবি করেন, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার শাসনামলে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা ছিল সুরক্ষিত, দেশের মানুষ নিরাপদে ছিল।
তিনি বলেন, ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের নামে প্রহসনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতা দখল করেছে। যা দেশের ৯৫ শতাংশ জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি বলেন, 'কেবল ডামি সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও তার দোসররা ৭ জানুয়ারির নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু বলেছেন। কিন্তু এটা ছিল শতাব্দীর সবচেয়ে জঘন্যতম উপহাস।’
আরও পড়ুন: বিকালে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় হাসপাতাল যাবেন খালেদা জিয়া
৭৫৭ দিন আগে
বিকালে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় হাসপাতাল যাবেন খালেদা জিয়া
স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আজ বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) বিকাল ৪টার দিকে এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন।’
তিনি বলেন, হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কিছু প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।
আরও পড়ুন: খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি, সিসিইউতে স্থানান্তর
পাঁচ মাসেরও বেশি সময় শারীরিক নানা জটিলতায় চিকিৎসা শেষে ১১ জানুয়ারি এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরেন তিনি।
এরপর থেকে তিনি তার গুলশানের বাসায় এভারকেয়ার হাসপাতালে আগে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
গত বছরের ৯ আগস্ট হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
৭৮ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস এবং কিডনি, ফুসফুস, হার্ট ও চোখের সমস্যাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছেন।
আরও পড়ুন: আবারও সিসিইউতে খালেদা জিয়া
খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার আবেদন নাকচ আইন মন্ত্রণালয়ের
৭৫৭ দিন আগে
সীমান্ত উত্তেজনায় ক্রসফায়ারের মুখে বাংলাদেশ: বিএনপি
মিয়ানমার ও ভারত সীমান্তে বাংলাদেশের নাগরিক হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপি অভিযোগ করেছে, বাংলাদেশ এখন ক্রসফায়ারের মুখে।
বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে দলের স্থায়ী কমিটি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করা হয়।
দলটির স্থায়ী কমিটি বলেছে, আওয়ামী লীগ ভারত, চীন ও রাশিয়ার সমর্থন নিয়ে এসব দেশকে বিভিন্ন 'অবৈধ অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক' সুবিধা দিয়ে ক্ষমতায় টিকে আছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সংবাদ সম্মেলনে বলেন, একদিকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে শুরু করে ভারতের সীমান্তে আমাদের বিজিবি সদস্য ও লোকজন গুলিবিদ্ধ হচ্ছে, অন্যদিকে মিয়ানমার থেকে ছোড়া ও মর্টার শেলের আঘাতে দুজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। রাখাইন রাজ্য থেকে সেনারা পালিয়ে এসে (আমাদের দেশে) আশ্রয় নিচ্ছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ এখন ক্রসফায়ারের মুখে।
বাংলাদেশ সীমান্তে বিরাজমান উত্তেজনার পেছনের কারণ কী হতে যাচ্ছে এবং কী হতে যাচ্ছে তা ভেবে দেখার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
নানা ব্যর্থতা ও সমস্যা থেকে বাংলাদেশের মানুষের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই মিয়ানমার সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হচ্ছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, 'যারা এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের গোপন সম্পর্ক আছে কি না... সরকার এর আগেও জনগণকে বিভ্রান্ত করতে একের পর এক ইস্যু তৈরি করেছে।’
মিয়ানমার সীমান্তে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার সঙ্গে সম্পর্ক না থাকলে সীমান্ত সমস্যা সমাধানে সরকার প্রয়োজনীয় ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: জনগণের কাছে তওবা করে বিএনপিকে রাজনীতিতে আসার আহ্বান নানকের
বিএনপি বলেছে, মিয়ানমারের মতো দেশ কখনো বাংলাদেশে গুলি চালানোর সাহস পায়নি। এখন কেন তারা এটা করার সাহস পাচ্ছেন? এই বিষয়টি আপনাদের সকলকে ভাবতে হবে... কোথায় যাচ্ছে আমাদের দেশ?
তিনি সীমান্ত সমস্যার বিষয়ে সরকারকে যথাযথ উদ্যোগ নিতে বাধ্য করতে জনগণকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের নাগরিকরা এখন যেভাবে চারদিক থেকে আক্রান্ত হচ্ছেন, তা থেকে রক্ষা করতে হবে।
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি ঘুমধুম ও তুমব্রু সীমান্তে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সামরিক জান্তার সশস্ত্র বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে তীব্র লড়াই, সংঘর্ষ ও গোলাগুলির মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সীমান্তে সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার দুপুর পর্যন্ত মিয়ানমারের অন্তত ৩২৭ জন সেনা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
এদিকে, সোমবার বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের জলপৈতলী গ্রামের রান্নাঘরে মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টার শেলের আঘাতে এক বাংলাদেশি নারী ও এক রোহিঙ্গা পুরুষ নিহত হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে গয়েশ্বর দাবি করেন, বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিক বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ‘ফ্যাসিবাদী সরকার নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য ভারত, চীন ও রাশিয়াকে অবৈধ অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক সুবিধা দিয়ে তাদের সমর্থন নিয়েছে।’
তিনি বলেন, তাদের দল দেশবাসীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে। তিনি বলেন, ‘আমরা চলমান আন্দোলনে আছি। আন্দোলনের গতি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দিকে রূপ নেয়।’
বিএনপি নেতা বলেন, বিরোধী দলের আহ্বানে সাড়া দিয়ে জনগণ নির্বাচন ও এর ফলাফল প্রত্যাখ্যান করায় ৬২টি রাজনৈতিক দলের ৭ জানুয়ারি 'একতরফা' নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত সঠিক ও যৌক্তিক ছিল।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ ভোটকেন্দ্রে না গিয়ে একতরফা নির্বাচনের বিরুদ্ধে নীরব প্রতিবাদ জানিয়েছে। ‘জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন বিএনপির রাজনীতির সফলতা ও বিজয়ের বহিঃপ্রকাশ।’
গয়েশ্বর দাবি করেন, ৭ জানুয়ারির 'প্রহসনমূলক' নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ‘বরং অবৈধ, অনৈতিকতা ও অসাংবিধানিকভাবে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে নির্বাচনের নামে জাতির সঙ্গে চরম প্রতারণা করা হয়েছে। ২০২৪ সালে ডামি প্রার্থী, ডামি পার্টি, ডামি ভোটার এবং ডামি পর্যবেক্ষকদের নিয়ে একটি ডামি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।’
বিএনপির মতো পৃথিবীতে এমন কোনো রাজনৈতিক দল আছে কি না, যেখানে ৫০ লাখের বেশি নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা রাজনৈতিক মামলা দেওয়া হয়েছে। সেই প্রশ্নও তোলেন বিএনপির এই নেতা।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ও তার অনুগত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আমাদের ২ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি নেতা-কর্মীকে হত্যা করেছে এবং প্রায় ৭০০ নিরীহ মানুষকে গুম করেছে। গয়েশ্বর প্রশ্ন তুলে বলেন, আসন ভাগাভাগির নির্বাচনের আগে ফ্যাসিস্ট সরকার কেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ২৫ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করল?
কারাগারে তাদের দলের ১১ জন নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, বিএনপির ৫০ লাখ নেতা-কর্মী তাদের জীবনে নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তারা পুলিশ ও বিচার বিভাগের অবিচার ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন।
নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের আকাশছোঁয়া মূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতির জন্য সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।
গয়েশ্বর আরও বলেন, 'দেশের ১৮ কোটি মানুষ রাষ্ট্র পরিচালনায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ শেখ হাসিনার দুঃশাসন থেকে মুক্তি চায়। জনগণও আশা করে, বিএনপির আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনবিরোধী ও ফ্যাসিবাদী সরকারকে উৎখাত করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে বিএনপির নেতৃত্বে রাজপথে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অচিরেই বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: সরকারের নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় বিপদাপন্ন হয়ে পড়েছে সীমান্ত : বিএনপি
নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করছে বিএনপি-জামায়াত: প্রধানমন্ত্রী
৭৫৮ দিন আগে