রাজনীতি
সরকারে গেলে গণভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিশেষ বিভাগ খুলবে বিএনপি
বিএনপি আগামী দিনে সরকার গঠনে সক্ষম হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও শহিদের পরিবারগুলোর দেখভাল করার উদ্দেশ্যে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি বিভাগ তৈরি করবে বলে জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউটে জুলাই অভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি এর আগে যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিল, তারা মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় নামে একটি মন্ত্রণালয় তৈরি করে, যা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে যারা শহিদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন, এক কথায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের দেখভাল করে থাকে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, বাংলাদেশের মানুষের সমর্থনে বিএনপি আগামী দিনে সরকার গঠনে সক্ষম হলে জুলাই আন্দোলনের যারা শহিদ পরিবার বা যোদ্ধা আছেন, তাদের কষ্টগুলো যাতে আমরা কিছুটা হলেও কমাতে পারি, সেজন্য মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আমরা আরেকটি বিভাগ তৈরি করব।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা এদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য জীবন দিয়েছিলেন। ঠিক একইভাবে চব্বিশে যারা যুদ্ধ করেছেন, তারা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার যুদ্ধ করেছেন। স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল ১৯৭১ সালে, তাকে রক্ষা করা হয়েছে ২০২৪ সালে। তাই মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আমরা একটি বিভাগ তৈরি করব, যাদের দায়িত্ব হবে এই মানুষগুলোর দেখভাল করা।
৪৭ দিন আগে
পক্ষপাতসহ তিন অভিযোগে নির্বাচন ভবনের সামনে ছাত্রদলের অবস্থান
নির্বাচন কমিশনে (ইসি) একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং পোস্টাল ব্যালট নিয়ে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদে নির্বাচন কমিশনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ১০টার পর থেকে সংগঠনটির বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ইসি কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। পরে তারা পুলিশের বাধার মুখে সেখানে বসে পড়েন।
পূর্বনির্ধারিত ‘নির্বাচন কমিশন কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে’ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাসিরউদ্দিন নাসিরসহ কেন্দ্রীয় সংসদের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত রয়েছেন।
এ সময় নেতাকর্মীরা নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন ‘বিতর্কিত’ সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং তাদের দাবি আদায়ে অনড় অবস্থান জানান।
তাদের অভিযোগগুলো হলো— পোস্টাল ব্যালট বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নেওয়া সিদ্ধান্তকে পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ আখ্যা দিয়ে ছাত্রদল দাবি করেছে, এই সিদ্ধান্ত নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে।
বিশেষ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপে পড়ে দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বিরত থাকা। ছাত্রদলের অভিযোগ, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের জারি করা ‘নজিরবিহীন ও বিতর্কিত’ প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার। ছাত্রদল মনে করে, এই প্রজ্ঞাপন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য একটি অশনিসংকেত।
নির্বাচন ভবনের সামনে ছাত্রদলের এই অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এ সময় ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, আমরা দেখলাম ব্যালট পেপার নিয়ে একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী প্রভাব বিস্তার করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে। আর যারা এখানে (ইসি) বসে আছেন অবশ্যই তাদের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে এই কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে। যদিও তারা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে বলে আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছি। তারপর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নির্বাচন এবং হল নির্বাচন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নির্বাচনের মতো আবারও আমাদের এখানে হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রেও তারা (ইসি) ভূমিকা পালন করেছে। এ বিষয়টি হলো বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের ইচ্ছার প্রতিফলন।
ইসিতে শুনানি চলছে
এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থিতা বাতিল ও ফিরিয়ে দিতে নবম দিনের শুনানি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শুনানি চলবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে শুনানিতে অন্য নির্বাচন কমিশনারও আছেন।
গত আট দিনে ৪০০ জনের মতো প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
৪৭ দিন আগে
মন্ত্রীত্ব কেন, সমগ্র দুনিয়া দিলেও জনগণকে ছেড়ে যাব না: রুমিন ফারহানা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের একাংশ) স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির সাবেক সহ-আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, ‘আমার শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকতে মন্ত্রীত্ব তো দূরের কথা, সারা দুনিয়ার কোনো কিছুর জন্য আমার এই মানুষদের ছাইড়া যামু না।’
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ গ্রামের ইসলামাবাদ পাবলিক স্কুল মাঠে আয়োজিত উঠান বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
ধানের শীষের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের এক নেতাকে জোটের প্রার্থী ঘোষণা করেছে, তিনি খেজুর গাছ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন রুমিন ফারহানা। এরপর দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য এবং নিষেধ সত্ত্বেও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করায় দল থেকে তাকে বহিষ্কার করে বিএনপি।
এ বিষয়ে উঠান বৈঠকে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আজকে শুধু একটা কষ্টের কথা বলি। আমার প্রাণের দল, যে দলের হাত ধরে আমার রাজনীতিতে আসা, সেই দলটি হচ্ছে বিএনপি। আমার নেতা তিন বারের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি আমাকে রাজনীতিতে নিয়ে এসেছেন। বেগম খালেদা জিয়ার ভালোবাসার আশ্রয়ে ও সহযোগিতায় আমি এতদূর এসেছি।’
খালেদা জিয়াকে ‘মা’ সম্বোধন করে তিনি বলেন, ‘আমার মা যেদিন মারা গেছেন, সেইদিন আমি বহিষ্কার হয়েছি। আমার মা জীবিত থাকা অবস্থায় আমাকে বহিষ্কার করা যায় নাই। মা, দেশনেত্রী হাসপাতালে যাওয়ার তিন দিন আগে ২০ নভেম্বর বলেছিলেন, রুমিন আর সোহেলের খবরটা কী? কেন রুমিনকে নমিনেশন (মনোনয়ন) দেওয়া হইল না? দল তার কোনো জবাব দিতে পারেনি।’
রুমিন বলেন, ‘আমার দল আমাকে বহিষ্কার করেছে। এখন আমাকে সকাল-বিকাল টেলিফোন করে বলে— মন্ত্রীত্ব দিয়ে দেব, আসনটা ছেড়ে দেন। আমার জান থাকতে, আমার শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকতে মন্ত্রীত্ব তো দূরের কথা, সারা দুনিয়ার কোনোকিছুর জন্য আমার এই মানুষদের ছাইড়া যামু না।’
তিনি বলেন, ‘আজ আপনারা আমাকে মালা দিয়ে বরণ করেছেন। আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আল্লাহ যেন আমার ভাগ্যে এই মালা লিখে রাখেন।’
এই নেত্রী বলেন, ‘গত ১৭ বছর আমি কী করেছি? কার পক্ষে ছিলাম? কাদের জন্য লড়াই করেছি?—তা আপনারা সবাই জানেন। এখন হলো মিডিয়ার যুগ। সবার হাতে হাতে মোবাইল-টেলিফোন। সবই দেখা যায়— কে রাস্তায় লড়াই করেছে? কে পুলিশের বাধার মুখে গিয়েও রাস্তায় বসে পড়েছে? আওয়ামী লীগ কাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার পরও আবার সেখানে গিয়ে মিটিং করেছে? সংসদে দাঁড়িয়ে কে বলছে, এই সংসদ অবৈধ? এসব সকলেরই জানা।’
এদিন রুমিন ফারহানা আসার খবরে বিকাল ৩টার পর থেকে স্কুল মাঠে মানুষের ঢল নামে। উপস্থিতদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানিয়ে স্থানীয়দের নানাবিধ সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।
গ্রামবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের কাছে দোয়া ও সমর্থন চাই। আপনাদের সমর্থন পেলে আমি আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনাদের প্রতিনিধি হয়ে কাজ করতে পারব। উপরে আল্লাহ আর নিচে আপনারাই আমার ভরসার জায়গা।’
৪৭ দিন আগে
ইসির বিতর্কিত ভূমিকা সত্ত্বেও বিএনপি ধৈর্য দেখাচ্ছে: তারেক রহমান
গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথরুদ্ধ করার যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমরা সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের কিছু বিতর্কিত ভূমিকা বা অবস্থান দেখেছি। তারপরেও একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা ধৈর্যের পরিচয় দিতে চাই।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের বাধ্যবাধকতার কারণে আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে বিএনপির পরিকল্পনা বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না। কিন্তু, ইসি কিছু বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়েছে। এক্ষেত্রে আমরা রাজনৈতিক দল হিসেবে ধৈর্য্যের পরিচয় দিতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের তীব্রতা কখনো কখনো হয়তো কিছুটা স্তিমিত হয়েছে কিংবা আন্দোলন কখনো তুঙ্গে উঠেছে। এই আন্দোলন করতে গিয়ে বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য গুম-খুন, অপহরণ, মিথ্যা মামলার হয়রানি, নির্যাতনের পরও বিএনপির একজন নেতা-কর্মীও রাজপথ ছাড়েনি।
‘কোনো পরিবারের এক ভাই নির্যাতিত হলে আরেকজন রাজপথে নেমে এসেছে। কৌশলের নামে গুপ্ত বা সুপ্ত রূপ ধারণ করেনি বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তাই ভবিষ্যতে আমাদের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র করে লাভ হবে না।’
তিনি বলেন, গণতন্ত্রকামী প্রজন্মের উচিত শহিদ এবং যারা গুম হয়েছেন ও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের জন্য তাদের পরিবার এখনো অপেক্ষা করছে—তাদের ত্যাগ থেকে প্রেরণা গ্রহণ করা।
শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর উদ্দেশ্যে বিএনপির চেয়ারম্যান দলের দীর্ঘদিনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে জানান, জনগণের সমর্থনে বিএনপি যদি সরকার গঠন করে, তবে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও রাষ্ট্রীয় প্রধান প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম শহিদদের নামে রাখা হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের গর্বের সঙ্গে স্মরণ করতে পারে। তিনি তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, আমরা আপনাদের পাশে আছি।
তারেক রহমান আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় সহিংসতার শিকার পরিবারগুলোর যথাযথ রাষ্ট্রীয় সহায়তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, রাষ্ট্রকে সাধ্যমতো এসব পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হবে।
তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের সামনে এখন একটি মানবিক ও জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘স্বাধীনতাপ্রিয়, গণতন্ত্রপ্রিয় প্রতিটি মানুষের সামনে জনগণের প্রতি দায়িত্বশীল একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ আমাদের সামনে এসেছে। কেউ কেউ বিভিন্ন রকম কথা বলে একটি অবস্থা তৈরি করার চেষ্টা করছে, যেখানে এই গণতন্ত্রের পথ যেটি তৈরি হয়েছে সেটি যাতে বাধাগ্রস্ত হয়।
‘আমি অনুরোধ করব, বাংলাদেশের দলমত নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন; সেই প্রতিটি মানুষকে আজ সজাগ থাকার জন্য যারা বিভিন্ন উসিলা দিয়ে বিতর্ক তৈরি করে গণতন্ত্রের পথকে আবার নষ্ট করার বা ব্যহত করার চেষ্টা করছেন- তারা যাতে সফল না হয়।’
অতীতের সব অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করতে আগামীতে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা জরুরি মন্তব্য করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘এবার যদি আমরা একটি দায়িত্বশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং সরকার গঠনের সুযোগ হাতছাড়া, করি তাহলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আমাদের যে শহিদ—সেই শহিদদের প্রতি জুলুম করা হবে, তাদের আত্মত্যাগের প্রতি অমর্যাদা করা হবে।’
অশ্রুসিক্ত হয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারগুলোর স্বজনরা জানান, বিগত দিনে বাসা-অফিস বা রাস্তা থেকে তাদের স্বজনদের তুলে নেওয়া হয়েছে। তাদের শেষ পরিণতি কী হয়েছে, তা তারা জানে না। অনেক সন্তান তার বাবার ছবি নিয়ে এসেছেন। তারেক রহমানকে কাছে পেয়ে হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন। তাকে জড়িয়ে ধরেন। তারেক রহমানও এ সময় চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। তিনি তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দেন।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর স্বজনরা বাদেও অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কোষাধ্যক্ষ ও আমরা বিএনপি পরিবারের উপদেষ্টা রশিদুজ্জামান মিল্লাত, নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা, বিএনপির সহ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন ও মায়ের ডাক’র সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি।
৪৮ দিন আগে
কুমিল্লা-৪: বিএনপির মঞ্জুরুল মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিল, হাসনাতের বহাল
কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিল এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রার্থিতা বহাল রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের অডিটোরিয়ামে আপিল শুনানিতে একে অপরের বিরুদ্ধে দাখিল করা দুটি আপিল আবেদনের শুনানি শেষে কমিশন এই সিদ্ধান্ত জানায়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দীনের সভাপতিত্বে কমিশন আজ (শনিবার) বিকেলে উভয় আবেদনের শুনানি গ্রহণ করে এই আদেশ দেন।
এর আগে, ৯ জানুয়ারি একে অপরের মনোনয়নপত্র বাতিল চেয়ে ইসিতে আপিল করেন হাসনাত আবদুল্লাহ ও মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। কুমিল্লা-৪ আসনে তারা একে অপরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী।
নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, ইসি ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল আবেদনের শুনানি করে নিষ্পত্তি করবে। এরপর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি।
রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচার শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত, আর ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা থেকে শুরু হবে ভোটগ্রহণ।
৪৮ দিন আগে
সুনামগঞ্জ–৫: দুই দশক পর ধানের শীষের প্রত্যাবর্তনের লড়াই
সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক–দোয়ারাবাজার) আসনে প্রায় দুই দশক পর ধানের শীষের ঘরে ফেরার লড়াই এখন নির্বাচনি মাঠে সবচেয়ে আলোচিত ইস্যু। একসময় বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে ২০০৬ সালের পর আর কোনোদিন বিএনপির দলীয় প্রার্থী বিজয়ী হতে পারেননি। হারানো আসন পুনরুদ্ধারে এবার ভিন্ন কৌশল ও বাড়তি উদ্যমে মাঠে নেমেছে দলটি।
এই প্রত্যাবর্তনের মুখ্য ভরসা বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন মিলন। শুরুতে তার সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী। তার অনুসারীদের একটি প্রভাবশালী অংশ এলাকায় ‘ধানের শীষে ভোট যাবে না’—এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে দেয়, যা দলের ভেতরে অস্থিরতা তৈরি করে।
তবে দলীয় সিদ্ধান্ত ও তারেক রহমানের নির্দেশে মিজানুর রহমান মাঠ ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর পুরো সমীকরণই বদলে গেছে। তার পরপরই পরিস্থিতি ঘুরে গেছে মিলনের দিকে। দুই উপজেলা মিলিয়ে প্রায় ২০০টি কেন্দ্রভিত্তিক নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করে মিলনের নির্বাচন পরিচালনা কাঠামো এখন সংগঠিত ও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
হাটবাজার, চায়ের দোকান, পাড়া–মহল্লা—সর্বত্র ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার এখন স্পষ্ট। নেতা-কর্মীরা দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, সততা ও রাজনৈতিক পরিপক্বতা মিলনকে আবারও ভোটারদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। তিনবার সংসদ সদস্য হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ভূমিকা এবং ব্যক্তিগত সৌজন্য তাকে সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। তরুণ, কৃষক, শ্রমজীবী ও প্রবাসী—সব শ্রেণির মানুষের কাছেই তিনি এখন ‘হৃদয়ের মানুষের’ প্রতীক।
জেলা বিএনপির নেতা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মিলন ভাই মাঠে থাকলে গরিবের দোরগোড়ায় সাহায্য পৌঁছে যায়। তিনি এলাকার সুখ–দুঃখের মানুষ। এবার তিনিই এগিয়ে আছেন।’
দোয়ারাবাজারের কৃষক মুহরম আলী সুমন বলেন, ‘দুই দশক পর মনে হচ্ছে ধানের শীষের সময় এসেছে। মিলনকে আবার সংসদে দেখতে চাই।’
ত্রিমুখী লড়াই, কওমিপন্থী ভোটে টানাপোড়েন
এবারের নির্বাচনে মাঠে ত্রিমুখী লড়াই জমে উঠেছে। ধানের শীষের প্রার্থী কলিম উদ্দিন মিলনের পাশাপাশি আলোচনায় রয়েছেন জামায়াত-ই-ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী এবং খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল কাদির। কওমি মাদরাসাভিত্তিক এলাকাগুলোতে তারা সক্রিয় রয়েছেন। বিশেষ করে সালাম আল মাদানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক ভোটে প্রভাব আছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থীর সংখ্যা যতই থাকুক, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর মধ্যে।
জামায়াত প্রার্থী মাওলানা সালাম আল মাদানী বলেন, ‘যোগাযোগ, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কৃষি—এই চারটি সংকট ছাতক–দোয়ারাবাজারের বড় সমস্যা। নির্বাচিত হলে এগুলো সমাধানই হবে আমার প্রথম অগ্রাধিকার।’
কেন্দ্র থেকে গ্রাম—মিলনের অগ্রযাত্রা
বিদ্রোহী ইস্যুর অবসানের পর বিএনপির ভোটব্যাংক আবারও সংগঠিত হচ্ছে। ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল ও কৃষক দলের সমন্বিত তৎপরতা মিলনের প্রচারণায় নতুন গতি এনেছে।
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সম্পাদক রিপন তালুকদার বলেন, ‘মাঠের চিত্র পুরো বদলে গেছে। ছাতক-দোয়ারাবাজারে ধানের শীষের পক্ষে সুবাতাস বইছে। গ্রাম থেকে মহল্লা—সবখানেই মিলনের গণজোয়ার।’
দীর্ঘদিন পর হাড্ডাহাড্ডি ভোটের আবহে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও আগ্রহ বেড়েছে। অনেকেই বলছেন, এবার প্রতীক নয়, প্রার্থী দেখেই ভোট দেবেন। মানুষের পাশে যিনি থাকবেন, তাকেই ভোট দেবেন। স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর রাজনীতি, প্রতিশ্রুতির ফানুস আর মুখোমুখি দেখাটাই হবে এবার পরীক্ষার জায়গা।
ছাতকের রজব আলী নামের এক বৃদ্ধ ভোটার বলেন, ‘এবার প্রার্থী দেখেই ভোট দেব। যিনি এলাকার কষ্ট বোঝেন, তাকেই সুযোগ দেওয়া উচিত।’
শেষ মুহূর্তের সমীকরণ
ধানের শীষের প্রার্থী কলিম উদ্দিন মিলন বলেন, ‘সারা সুনামগঞ্জজুড়েই ধানের শীষের গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। পাঁচটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হবেন—মানুষের সাড়া সেটাই প্রমাণ করে। আগামী ২২ তারিখ থেকে প্রচারণার নতুন অধ্যায় শুরু হলে সিলেটজুড়ে ধানের শীষের ঢেউ দেখা যাবে।’
মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত কিছু পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকলেও, আপাতত মাঠের চিত্র বলছে—দুই দশকের অপেক্ষা ঘোচাতে সুনামগঞ্জ-৫ আসনে ধানের শীষের সবচেয়ে বড় ভরসা কলিম উদ্দিন মিলন। দলীয় ঐক্য, ভোটারদের আগ্রহ ও বিদ্রোহী সংকট কাটিয়ে ওঠার ফলে এই আসনে নির্বাচনি উত্তাপ এখন তুঙ্গে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, দুই দশকের খরা কাটিয়ে ধানের শীষের ভাগ্যে সত্যিই বিজয়ের সূর্য উদিত হচ্ছে কি না, তা আগামী কয়েক দিনেই স্পষ্ট হবে।
৪৮ দিন আগে
দেশকে ভালো থাকতে হলে খালেদা জিয়াকে ধারণ করতে হবে: আসিফ নজরুল
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, বাংলাদেশকে ভালো থাকতে হলে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ধারণ করতে হবে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া যখন জীবিত ছিলেন, আমি তার জন্য বিভিন্ন প্রোগ্রামে যেতাম। তখন একটা কথা বলতাম, বেগম জিয়া ভালো থাকলে, ভালো থাকবে বাংলাদেশ। আমি বিশ্বাস করি, অবশ্যই উনি এখন ভালো আছেন। কিন্তু বাংলাদেশ কি ভালো আছে? বা ভালো থাকবে? যদি বাংলাদেশকে ভালো থাকতে হয় তাহলে বেগম জিয়াকে ধারণ করতে হবে।’
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া যখন জীবিত ছিলেন, বন্দি ছিলেন, ওনার পক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কথা বলার সুযোগ হয়েছে। তখন ওনার পক্ষে কথা বলার মানুষ খুঁজে পাওয়া যেত না।
আসিফ নজরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়ার অনেক অসাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য ছিল। তিনি সৎ, পরমতসহিষ্ণু ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। আত্মত্যাগী ভূমিকার জন্য ছিলেন অনন্য। তার মধ্যে দেশপ্রেম ছিল, রুচির এক অবিস্মরণীয় প্রকাশ ছিল।’
তিনি আরও বলেন, আজকে আমার ভালো লাগছে, সবাই আমরা মুক্তভাবে বেগম জিয়ার প্রতি ভালোবাসা জানাতে পারছি। আল্লাহর কাছে হাজার শোকর এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা যে, বাংলাদেশের মানুষ আজকে স্বাধীনভাবে ঘৃণাও প্রকাশ করতে পারছে, স্বাধীনভাবে ভালোবাসাও প্রকাশ করতে পারছে।
শোকসভায় যোগ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা। সাবেক এই সরকারপ্রধানের স্মরণে আয়োজিত সভায় যোগ দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ, মনির হায়দার প্রমুখ।
এ ছাড়াও শোকসভায় যোগ দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, সেলিমা রহমান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা।
৪৯ দিন আগে
সত্যিকার অর্থেই মানুষ ও দেশের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন খালেদা জিয়া: নূরুল কবীর
সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেছেন, খালেদা জিয়া কেবলমাত্র একটি জাতীয়তাবাদী দলের নেত্রী ছিলেন না; তিনি সত্যিকার অর্থেই মানুষ ও দেশের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন, যা দল-মত নির্বিশেষে লাখ লাখ মানুষের জানাজায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় নূরুল কবীর এ কথাগুলো বলেন। এতে দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মী, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সম্পাদক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ যোগ দেন।
নূরুল কবীর বলেন, ‘মানুষ ও রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার যে গুণটি আমাকে বরাবরই আকৃষ্ট করেছে, তা হলো তার রুচিশীলতা ও পরিমিতিবোধ। বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে শালীনতা ও সংযমের ঘাটতি প্রকট ছিল। তখন আমি লক্ষ্য করেছি—তিনি নিরন্তর ও বিনা ব্যতিক্রমে একজন রাজনীতিক হিসেবে নিজের ওপর ও তার পরিবারের ওপর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাছ থেকে যে আঘাত ও দুর্ভোগ নেমে এসেছে, সেসবের প্রতিক্রিয়ায় তিনি কখনোই প্রকাশ্যে নিজের বেদনা, ক্ষোভ কিংবা নিন্দাসূচক কোনো বক্তব্য উচ্চারণ করেননি।’
তিনি বলেন, ‘আপাতদৃষ্টিতে এটি খুব সহজ কথা হতে পারে। কিন্তু এই যে সংযম, পরিমিতিবোধ এবং আত্মমর্যাদা—রাজনীতিতে অনেক অনুসারী থাকতে পারেন, অনেক মত ও পথদর্শন থাকতে পারে; কিন্তু যিনি যেই রাজনীতির, যেই সংস্কৃতিরই অনুসারী হন না কেন, বিষয়টি আজকের বাংলাদেশের অসহিষ্ণুতার সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি।’
সম্পাদক পরিষদের সভাপতি জানাজার বিশাল জনসমুদ্রে বিএনপি নেতাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার গণতান্ত্রিক আদর্শে দল পরিচালনার যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা যেন রক্ষা করা হয়। এমন কিছু যেন করা না হয়, যাতে মানুষ বলতে বাধ্য হয়; তিনি বেঁচে নেই বলেই এসব দেখতে হচ্ছে।’
শোকসভায় যোগ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা। সাবেক এই সরকারপ্রধানের স্মরণে আয়োজিত সভায় যোগ দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ, মনির হায়দার প্রমুখ।
এ ছাড়াও শোকসভায় যোগ দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, সেলিমা রহমান, সালাহউদ্দিন আহমদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা।
৪৯ দিন আগে
ইসির সীমানা অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারিই পাবনার দুটি আসনে নির্বাচন
গত ৪ সেপ্টেম্বর সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে নির্বাচন কমিশনের জারি করা গেজেটের সীমানা অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পাবনা-১ ও ২ আসনের নির্বাচন করতে বাধা নেই বলে আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
পাবনা-১ আসন থেকে বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বাদ দিয়ে পাবনা-২ আসনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া-সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গেজেট অবৈধ ঘোষণার করে হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।
আদেশ অনুযায়ী, সাথিয়া উপজেলাকে পাবনা-১ আসন এবং সুজানগর ও বেড়া মিলে পাবনা-২ আসন বলে গণ্য হবে।
আদালতে ইসির পক্ষে শুনানি করেন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী। বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী।
এর আগে, বুধবার (১৪ জানুয়ারি) পাবনা-১ আসন থেকে বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বাদ দিয়ে পাবনা-২ আসনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া-সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গেজেট অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলের শুনানির জন্য আজ (বৃহস্পতিবার) দিন ধার্য করা হয়েছিল।
গত ৫ জানুয়ারি পাবনার-১ ও ২ সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে ২৪ ডিসেম্বরের জারি করা গেজেট স্থগিত করেন আপিল বিভাগ। এ সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলের শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
এরপর গত ৬ জানুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীমানা সংক্রান্ত আপিল বিভাগের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে পাবনা-১ ও পাবনা-২ সংসদীয় আসনের নির্বাচন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই দুটি আসনের নির্বাচন স্থগিত থাকবে বলে জানানো হয়।
পরে গত ১৩ জানুয়ারি পাবনা-১ ও ২ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম স্থগিত রাখতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়। আবেদনে পাবনা-১ ও ২ আসনে যথাসময়ে নির্বাচন ও নির্বাচনি কার্যক্রম শুরুর করার নির্দেশনা চাওয়া হয়। পাবনা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এ আবেদন করেন।
গত ২৪ ডিসেম্বরের গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, পাবনা-১ (নির্বাচনি এলাকা: ৬৮) আসনের সীমানায় সাথিয়া উপজেলা এবং বেড়া উপজেলার বেড়া পৌরসভা, হাটুরিয়া নাকালিয়া ইউনিয়ন, নতুন ভারেঙ্গা ইউনিয়ন, চাকলা ইউনিয়ন ও কৈটোলা ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পাবনা-২ (নির্বাচনি এলাকা: ৬৯) আসনের সীমানায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সুজানগর উপজেলা এবং উল্লিখিত একটি পৌরসভা ও চারটি ইউনিয়ন (বেড়া পৌরসভা, হাটুরিয়া নাকালিয়া ইউনিয়ন, নতুন ভারেঙ্গা ইউনিয়ন, চাকলা ইউনিয়ন ও কৈটোলা ইউনিয়ন) ব্যতীত বেড়া উপজেলা। ওই গেজেটের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
এর আগে, গত ১৮ ডিসেম্বর পাবনা-১ আসন থেকে বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বাদ দিয়ে পাবনা-২ আসনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া–সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গেজেটের অংশটুকু আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে পাবনার সংসদীয় আসন দুটি আগের মতো পুনর্বহাল করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গেজেট প্রকাশ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
৫০ দিন আগে
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সন্ধ্যায় বৈঠকে বসছেন তারেক রহমান
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় এ বৈঠক হবে বলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে।
তারা জানিয়েছেন, বৈঠকে তারেক রহমানের সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য উপস্থিত থাকবেন। আলোচনায় নির্বাচনকালীন পরিবেশ-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় উঠে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এটি হবে প্রধান উপদেষ্টা ও বিএনপি চেয়ারম্যানের মধ্যে দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিক বৈঠক।
এর আগে, গত বছরের ১৩ জুন লন্ডনে অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে তারেক রহমানের প্রথম একান্ত বৈঠক হয়। তখন তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন। ডরচেস্টার হোটেলে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের পর উভয় পক্ষ যৌথ বিবৃতি দেয়।
যুক্তরাজ্যে ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ভিআইপি লাউঞ্জ থেকে তিনি অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং তার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান।
এরপর গত ৩১ ডিসেম্বর সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় তাদের মধ্যে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ হলেও দেশে ফেরার পর আজকের বৈঠকই হবে দুজনের প্রথম আনুষ্ঠানিক আলোচনা।
গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মারা যান।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে সংস্কার বিষয়ে গণভোট এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সম্পর্কিত গণভোট হওয়ার কথাও রয়েছে।
৫০ দিন আগে