ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের একাংশ) স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির সাবেক সহ-আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, ‘আমার শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকতে মন্ত্রীত্ব তো দূরের কথা, সারা দুনিয়ার কোনো কিছুর জন্য আমার এই মানুষদের ছাইড়া যামু না।’
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ গ্রামের ইসলামাবাদ পাবলিক স্কুল মাঠে আয়োজিত উঠান বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
ধানের শীষের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের এক নেতাকে জোটের প্রার্থী ঘোষণা করেছে, তিনি খেজুর গাছ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন রুমিন ফারহানা। এরপর দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য এবং নিষেধ সত্ত্বেও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করায় দল থেকে তাকে বহিষ্কার করে বিএনপি।
এ বিষয়ে উঠান বৈঠকে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আজকে শুধু একটা কষ্টের কথা বলি। আমার প্রাণের দল, যে দলের হাত ধরে আমার রাজনীতিতে আসা, সেই দলটি হচ্ছে বিএনপি। আমার নেতা তিন বারের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি আমাকে রাজনীতিতে নিয়ে এসেছেন। বেগম খালেদা জিয়ার ভালোবাসার আশ্রয়ে ও সহযোগিতায় আমি এতদূর এসেছি।’
খালেদা জিয়াকে ‘মা’ সম্বোধন করে তিনি বলেন, ‘আমার মা যেদিন মারা গেছেন, সেইদিন আমি বহিষ্কার হয়েছি। আমার মা জীবিত থাকা অবস্থায় আমাকে বহিষ্কার করা যায় নাই। মা, দেশনেত্রী হাসপাতালে যাওয়ার তিন দিন আগে ২০ নভেম্বর বলেছিলেন, রুমিন আর সোহেলের খবরটা কী? কেন রুমিনকে নমিনেশন (মনোনয়ন) দেওয়া হইল না? দল তার কোনো জবাব দিতে পারেনি।’
রুমিন বলেন, ‘আমার দল আমাকে বহিষ্কার করেছে। এখন আমাকে সকাল-বিকাল টেলিফোন করে বলে— মন্ত্রীত্ব দিয়ে দেব, আসনটা ছেড়ে দেন। আমার জান থাকতে, আমার শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকতে মন্ত্রীত্ব তো দূরের কথা, সারা দুনিয়ার কোনোকিছুর জন্য আমার এই মানুষদের ছাইড়া যামু না।’
তিনি বলেন, ‘আজ আপনারা আমাকে মালা দিয়ে বরণ করেছেন। আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আল্লাহ যেন আমার ভাগ্যে এই মালা লিখে রাখেন।’
এই নেত্রী বলেন, ‘গত ১৭ বছর আমি কী করেছি? কার পক্ষে ছিলাম? কাদের জন্য লড়াই করেছি?—তা আপনারা সবাই জানেন। এখন হলো মিডিয়ার যুগ। সবার হাতে হাতে মোবাইল-টেলিফোন। সবই দেখা যায়— কে রাস্তায় লড়াই করেছে? কে পুলিশের বাধার মুখে গিয়েও রাস্তায় বসে পড়েছে? আওয়ামী লীগ কাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার পরও আবার সেখানে গিয়ে মিটিং করেছে? সংসদে দাঁড়িয়ে কে বলছে, এই সংসদ অবৈধ? এসব সকলেরই জানা।’
এদিন রুমিন ফারহানা আসার খবরে বিকাল ৩টার পর থেকে স্কুল মাঠে মানুষের ঢল নামে। উপস্থিতদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানিয়ে স্থানীয়দের নানাবিধ সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।
গ্রামবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের কাছে দোয়া ও সমর্থন চাই। আপনাদের সমর্থন পেলে আমি আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনাদের প্রতিনিধি হয়ে কাজ করতে পারব। উপরে আল্লাহ আর নিচে আপনারাই আমার ভরসার জায়গা।’