রাজনীতি
নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই: ডা. শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ১১ দলীয় জোটের প্রধান ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা জনগণের কাঙ্ক্ষিত বৈষম্যহীন বাংলাদেশ চাই। অতীতের বস্তাপঁচা, দুর্নীতিযুক্ত ফ্যাসিবাদী রাজনীতিকে লাল কার্ড দেখিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে ফেনী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে ফেনী জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, আমরা চাই জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত করে রাজার ছেলে রাজা হবে, মন্ত্রীর ছেলে মন্ত্রী হবে— এই নীতির পরিবর্তন। যোগ্য ব্যক্তির যথাযথ মূল্যয়ন করে যোগ্যতা ও মেধা বিকাশের মাধ্যমে রিকশা চালকের ছেলেও যেন প্রধানমন্ত্রী হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘অতীতের বস্তাপঁচা রাজনীতি ফ্যাসিবাদ উপহার দিয়েছে এবং দুর্নীতিতে দেশকে চ্যাম্পিয়ন করেছে। ওই রাজনীতিকে আমরা লাল কার্ড দেখিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই।’
এ সময় বিএনপির উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘মাথা গরম না করে মা-বোন ও জুলাই যোদ্ধাদের সম্মান করতে হবে। শহিদ হাদি, আবু সাঈদ, আবরার ফাহাদ আমাদের চেতনা। বীরেরা পালায় না, তারা সাহসিকতার সাথে বুক পেতে দেয়। আমরা বেকার ভাতা নয়, বেকারদের কর্মসংস্থানসহ মর্যাদা দিতে চাই। ঘরে ও কর্মস্থলে নারীদের সম্মান দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘জামায়াত ক্ষমতায় গেলে আলেম-ওলামা ও কওমী মাদ্রাসার সম্মান-মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে। ন্যায়-ইনসাফের ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে মানুষের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়তে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের আমলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বিগত ১৬ বছরে পিলখানা হত্যাকাণ্ড, জামায়াত-বিএনপি নেতা-কর্মীদের হত্যা, আলেম-ওলামা হত্যাসহ অপশাসন কায়েম করেছিল। চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে এই অপশাসনের হাত থেকে দেশবাসী মুক্তি পেয়েছে। ফেনীতে সংঘটিত স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় আমি এসেছিলাম দুর্গত মানুষকে সহযোগিতা করে মানবিক কাজে পাশে দাঁড়াতে। আবরার ফাহাদ ফেনী নদী নিয়ে দুটি কথা বলায় তাকে খুন করা হয়েছিল। তাই ফেনীবাসী তাকে আজীবন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ রাখতে হবে।’
জামায়াত আমির বলেন, ফেনীসহ ৩১টি জেলায় সরকারি মেডিকেল কলেজ করা হবে এবং বিশেষায়িত হাসপাতাল চালু, ফেনী নদীর তীরে বাঁধ নির্মাণ, অত্যাধুনিক স্টেডিয়ামসহ নানা উন্নয়ন কাজ করা হবে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে ফেনীর তিনটি আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীদের মিলেমিশে একাকার হয়ে বিজয়ী করতে হবে।’
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাসুম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, এবি পার্টির চেয়ারম্যান ও ফেনী-২ সদর আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) সভাপতি রাশেদ প্রধান।
ফেনী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ফেনী-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ফেনী-১ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কবির আহমদ, ফেনী জেলা জামায়াতের সাবেক আমির এ কে এম সামছুদ্দিন, শহর জামায়াতের আমির প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের ফেনী শহর সভাপতি ওমর ফারুক ও জেলা সভাপতি আবু হানিফ হেলাল প্রমুখ।
প্রধান অতিথি জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও ফেনীর তিনটি আসনের প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দেন।
এ সময় জামায়াত-শিবির ও ১১ দলীয় জোটের জেলা পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতা ও জুলাইযোদ্ধা এবং শহিদ পরিবারের লোকজনসহ দলটির হাজার হাজার নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
১২৫ দিন আগে
পৈতৃক জমি বিক্রি করে রাজনীতি করছি, ব্যবসা করতে আসিনি: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তিনি কখনো রাজনীতিকে অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেননি; বরং রাজনীতির খরচ জুগিয়েছেন পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে। নিজের সততা ও ত্যাগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘রাজনীতি করে ব্যবসা করি না। বাপের জমিজমা, বাড়িঘর বিক্রি করে রাজনীতি করছি। এটা আপনারা ভালো করেই জানেন।’
বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের চণ্ডীপুরসহ কয়েকটি এলাকায় আয়োজিত নির্বাচনি সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
আবেগাপ্লুত হয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘২০০১ সালের নির্বাচনে আপনারা মা–বোনেরা ডিম, মুরগি ও সবজি বিক্রি করে জমানো টাকার মালা বানিয়ে আমাকে দিয়েছিলেন। আমাকে নির্বাচিত করেছিলেন। আমি আপনাদের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছি।’
তিনি বলেন, ‘জমিজমাগুলো ছিল আমার বাবা চখা মিয়ার (মির্জা রুহুল আমিনের)। অর্ধেকের বেশি জমি শেষ—বেচে দিতে হয়েছে। এমনকি বাড়ির সামনের জমিটাও বিক্রি করতে হয়েছে।
‘আমি নিজে কখনো দুর্নীতিতে জড়াইনি। রাজনীতি ব্যবহার করে কখনো অর্থ উপার্জন করিনি। আমার স্ত্রী ও সন্তানরা অত্যন্ত কষ্ট করে লেখাপড়া করেছে, সংসার চালিয়েছে।’
নিজের সাদামাটা জীবনযাত্রার কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ঢাকায় আমি যে গাড়িটিতে চড়ি, সেটি ২০ বছর আগের পুরনো। এখন পর্যন্ত সেই গাড়িটা বদলাতে পারিনি। আমরা কোনো দয়া বা ভিক্ষার ওপর নির্ভর করে বাঁচতে চাই না; বরং কাজের সুযোগ ও আত্মনির্ভরশীলতার ওপর জোর দিচ্ছি।’
গত দেড় দশকের রাজনৈতিক বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘১৫ বছর ধরে আমরা কোনো কথা বলতে পারিনি। আমাদের পিটিয়েছে, মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে অস্থির করে রেখেছে। সেই দুঃসময় পার করে এসেছি। এখন সময় ঘুরে দাঁড়ানোর।
প্রতিহিংসার রাজনীতি চান না উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচিত হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিমানবন্দর চালু ও মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে। কৃষিমন্ত্রী থাকার সময় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্প, গভীর নলকূপ চালু ও কৃষি উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
জামায়াতে ইসলামের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে এবং এখনও ক্ষমা চায়নি, তারা দেশের মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারবে না। তার ভাষায়, জামায়াতে ইসলাম শুধু ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধিতা করেনি; ইতিহাস বলছে, তারা ১৯৪৭ সালেও পাকিস্তানের বিরোধিতা করেছিল।
মির্জা ফখরুল বলেন, অনেক মানুষ এসব ইতিহাস জানেন না, কিন্তু বইপত্রে এর সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। ‘যে দল বাংলাদেশ রাষ্ট্রকেই বিশ্বাস করেনি, তারা কি এই দেশকে নিরাপদে রাখতে পারবে? তারা ক্ষমতায় গেলে কি এ দেশের মানুষ ভালো থাকবে?’—প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘যে দল অতীতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং এখনও সে ভূমিকার জন্য ক্ষমা চায়নি, এমন দলকে সমর্থন করা যায় না। যারা বাংলাদেশের ক্ষতি করেছে, তাদের কখনোই ভোট দেওয়া উচিত নয়।’
স্থানীয় উন্নয়নের প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, কোনো এলাকা তখনই এগোয়, যখন সেখান থেকে ভালো, সৎ ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব তৈরি হয়। নেতৃত্ব ভালো হলে উন্নয়ন আসবেই।
আওয়ামী লীগের শাসনামলে দীর্ঘ ১৭ বছরে ১১৭টি মিথ্যা মামলা ও নানা নির্যাতনের শিকার হলেও জনগণ থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন হননি বলে দাবি করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সভায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যের শেষাংশে তিনি আসন্ন নির্বাচনে জনগণের সমর্থন ও দোয়া কামনা করেন।
১২৬ দিন আগে
রাজশাহীতে পদ্মা ব্যারেজ পুনরুজ্জীবিত করার আশ্বাস তারেক রহমানের
রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি বিপ্লবকে টেকসই করতে থমকে যাওয়া পদ্মা ব্যারেজ ও বরেন্দ্র প্রকল্প উন্নয়ন পুনরুজ্জীবিত করার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ জয়যুক্ত হলে এই প্রকল্পের সুফল রাজশাহী থেকে শুরু হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উত্তরবঙ্গের কৃষি ও অর্থনীতি নিয়ে এই মেগা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
তারেক রহমান বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে শুরু হওয়া খাল খনন কর্মসূচি এবং পরবর্তীতে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলে গৃহীত বিশাল সেচ প্রকল্পগুলো উত্তরবঙ্গের কৃষিকে সমৃদ্ধ করেছিল।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, পদ্মা নদীকে কেন্দ্র করে যে বিশাল সেচ প্রকল্পের নিজস্ব বাজেট ছিল প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা, গত ১৬ বছরে সেটি পরিকল্পিতভাবে থামিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে আজ সেই প্রকল্প বন্ধপ্রায়। আমরা পদ্মা ব্যারেজের কাজে হাত দিতে চাই। আমাদের লক্ষ্য হলো এই ঐতিহাসিক প্রকল্পটিকে আবার পূর্ণ শক্তিতে সচল করা।
উত্তরবঙ্গের কৃষকদের আশ্বস্ত করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, এই সেচব্যবস্থা শুধু রাজশাহীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এই প্রকল্পের সুবিধা রাজশাহী থেকে শুরু করে সেই পঞ্চগড় পর্যন্ত কৃষকরা যেন পায়, সেই ব্যবস্থা আমরা করব।
তিনি বলেন, উৎপাদন বাড়লে কৃষকের আয় বাড়বে, আর কৃষক হাসলে হাসবে বাংলাদেশ। আমরা চাই উত্তরের প্রতিটি প্রান্তরে সেচের পানি পৌঁছে যাক, যাতে আমাদের মায়েরা ও কৃষাণীরা সমৃদ্ধির মুখ দেখতে পান।
তারেক রহমান বলেন, কৃষক ভালো থাকলে দেশের মানুষ ভালো থাকবে। এজন্য আমরা কৃষি কার্ড দেব। আমরা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সূদসহ মওকুফ করব।
রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমচাষিদের দুর্দশার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে আম সংরক্ষণের কোনো আধুনিক ব্যবস্থা নেই। আমরা ক্ষমতায় গেলে আমের জন্য বিশেষায়িত কোল্ড স্টোরেজ বা গুদাম তৈরি করব। এতে চাষিরা মৌসুমে আম পচে যাওয়ার ভয় থেকে মুক্তি পাবেন এবং নায্যমূল্য নিশ্চিত হবে।
সেচ প্রকল্পের পাশাপাশি তারেক রহমান এই অঞ্চলে যাতায়াত ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের জন্য পদ্মা নদীর ওপর নতুন একটি পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি জানান, এটি হবে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। এছাড়া প্রান্তিক নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য প্রতিটি পরিবারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে মা-বোনেরা সরাসরি সরকারি সুবিধা পাবেন, যা দিয়ে তারা স্বাবলম্বী হতে পারবেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আজ কারো সমালোচনা করতে চাই না। কিন্তু একটি কথা বলতে চাই, বিএনপির বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে সরকাকে বলবো, আপনারা সঠিক তদন্ত করে বের করুন।
২২ বছর পর রাজশাহীর জনসভায় তারেক রহমানের সশরীরে উপস্থিতি নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। জনসভায় তিনি উপস্থিত দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দেন এই উন্নয়নের বার্তা প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে। তিনি বলেন, ‘ধানের শীষ শুধু একটি প্রতীক নয়, এটি উত্তরবঙ্গের কৃষকের ভাগ্য বদলের চাবিকাঠি।’
সমাবেশে রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলার বিভিন্ন পর্যায় থেকে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে।
এর আগে, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বিমানে করে ঢাকা থেকে রাজশাহীতে পৌঁছান তারেক রহমান। এরপর নগরীর দরগাপাড়ায় হজরত শাহ মখদুম (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করে রাজশাহীর মাদরাসা মাঠের জনসভায় যোগ দেন।
১২৬ দিন আগে
হবিগঞ্জে এনসিপি থেকে ১২ জনের পদত্যাগ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) হবিগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক কমিটির ১২ জন সদস্য পদত্যাগ করেছেন। এদের মধ্যে ২ জন যুগ্ম আহ্বায়ক, ৪ জন যুগ্ম সদস্য সচিব ও ৬ জন সদস্য ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) জেলা আহ্বায়কের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক বরাবর দেওয়া পদত্যাগ পত্রে তারা ব্যক্তিগত অসুবিধার কথা উল্লেখ করেছেন। জেলা আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পদত্যাগকারীরা হচ্ছেন— যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক টিপু ও আব্দুল পয়াহি মনির, যুগ্ম সদস্য সচিব সিরাজুল হক সজীব, শেখ রুবেল আহমদ, সালমা আহসান ও সঞ্জয় দাশ, সদস্য হারুন মিয়া, কামাল উদ্দিন আহমেদ, জসিম উদ্দিন, শফিউল আলম খান, জাহিদ মিয়া ও সোফায়েল আহমদ।
এ ব্যাপারে যুগ্ম আহ্বায়ক এডভোকেট আব্দুল ওয়াহেদ মনির বলেন, ‘স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যক্রম নিয়ে মতবিরোধের কারণে আমাদের এ দলে থাকা সম্ভব না হওয়ায় আমরা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
উল্লেখ বিগত ১৯ নভেম্বর ৯১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেয় এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটি।
১২৬ দিন আগে
২২ বছর পর রাজশাহীতে তারেক রহমান, নেতা-কর্মীতে পূর্ণ নগরী
দীর্ঘ প্রায় ২২ বছর পর রাজশাহী বিভাগ সফরে গেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। উত্তরাঞ্চলে তিন দিনের সফরের অংশ হিসেবে আজ রাজশাহীতে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এরইমধ্যে তিনি রাজশাহীতে পৌঁছেছেন।
তারেক রহমানের নির্বাচনি জনসভায় যোগ দিতে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেছেন নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা। সকাল থেকেই দূর-দুরান্ত থেকে তারা সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন। বেলা ১১টার দিকেই কানায় কানায় পূর্ণ হতে শুরু করে মাদরাসা মাঠ। দুপুর ১২টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সভা শুরু হয়েছে।
তারেক রহমানের রাজশাহী সফর উপলক্ষে সকাল থেকেই মাদরাসা মাঠে ঢাক-ঢোল, পতাকা হাতে নিয়ে জড়ো হতে শুরু করেন বিভিন্ন উপজেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। মাঠজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ, ঢল নেমেছে সমর্থকদের। তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে দলীয় সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ করা যাচ্ছে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, তারেক রহমান তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানকে নিয়ে বেলা ১১টা ৫ মিনিটে ঢাকার বাসভবন ছাড়েন। পরে বিমানযোগে রাজশাহী পৌঁছান দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে। সেখানে তার শাহ মখদুম (রহ.)-এর মাজারে নামাজ জিয়ারত করার কথা রয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে রাজশাহী মহানগর ও জেলা বিএনপি যৌথভাবে একটি বড় জনসমাবেশের আয়োজন করেছে। মাঠের চারপাশে টাঙানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার। স্লোগান আর মিছিলের মাধ্যমে নেতা-কর্মীরা তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন।
রাজশাহী বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকত বলেন, রাজশাহী ছাড়াও আশপাশের জেলা ও উপজেলার নেতা-কর্মীরাও সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন প্রবেশপথে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
রাজশাহী মহানগর কমিটি বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ‘ধানের শীষের প্রার্থীর জন্য তিনি আসছেন, জনগণের জন্য তিনি আসছেন। তিনি আসছেন এই জন্য আমাদের যে ভোট ছিল তার চেয়ে আমাদের দ্বিগুণ ভোট বৃদ্ধি পাবে।’
সব মিলিয়ে সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি ও উৎসাহে মাদরাসা মাঠ ইতোমধ্যে পরিণত হচ্ছে এক বিশাল জনসমুদ্রে। দলের নেতারা আশা করছেন, এই সমাবেশ বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।
সর্বশেষ, ২০০৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি জেলা স্টেডিয়ামে বিএনপির রাজশাহী বিভাগের তৃণমূলের প্রতিনিধি সভায় যোগ দিতে রাজশাহী গিয়েছিলেন তারেক রহমান।
১২৬ দিন আগে
এক মঞ্চে জনগণের মুখোমুখি চুয়াডাঙ্গা-১-এর সব প্রার্থী: দুর্নীতিমুক্ত শাসন ও জবাবদিহির অঙ্গীকার
ভোটের রাজনীতির চিরাচরিত প্রথা ভেঙে ভোটারদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সরাসরি জবাবদিহির এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বিপরীতে পানি উন্নয়ন বোর্ড-সংলগ্ন মুক্ত মঞ্চে ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক’-এর জেলা কমিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় ‘জনগণের মুখোমুখি’ শীর্ষক সংলাপ। এতে এক মঞ্চে দেখা যায় তিনজন প্রার্থীকে।
২০২৬ সালের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সকল প্রার্থীরা কেবল নিজেদের ইশতেহারই তুলে ধরেননি, বরং দুর্নীতিমুক্ত ও জনকল্যাণমুখী আগামীর চুয়াডাঙ্গা গড়ার ১৫ দফার এক কঠোর ‘অঙ্গীকারনামায়’ স্বাক্ষর করেছেন।
শীতের সকাল উপেক্ষা করে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাড়ে ৪ শতাধিক সাধারণ ভোটার এই সংলাপে অংশ নিয়ে প্রার্থীদের কাছে তাদের প্রত্যাশা ও স্থানীয় সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
সংলাপে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ, জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী জহুরুল ইসলাম আজিজি একই মঞ্চে বসে দীর্ঘ সময় ভোটারদের সরাসরি বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এ সময় প্রার্থীরা অঙ্গীকার করেন, নির্বাচিত হলে চুয়াডাঙ্গাকে সন্ত্রাস, মাদক ও টেন্ডারবাজিমুক্ত একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলবেন।
বিএনপির প্রার্থী শরীফ তার বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গাকে একটি আধুনিক ও নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি আজ আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে অঙ্গীকার করছি, নির্বাচিত হলে চুয়াডাঙ্গাকে সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজমুক্ত এলাকায় পরিণত করব। আমরা এমন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়তে চাই যেখানে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে তাদের মতামত জানাতে পারবে। বিশেষ করে শিক্ষিত বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কৃষিভিত্তিক এই অঞ্চলের কৃষকদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে আমি সংসদে সোচ্চার থাকব। ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব প্রতি বছর জনসমক্ষে প্রকাশ করার যে নতুন ধারার রাজনীতির ডাক সুজন দিয়েছে, আমি তা সানন্দে গ্রহণ করছি।’
জামায়াতের প্রার্থী রাসেল তার বক্তব্যে সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, ‘জনগণ যদি আমাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করে, তবে আমি আইনসভার মর্যাদা রক্ষায় সচেষ্ট থাকব। স্থানীয় প্রশাসনের ওপর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা হবে না যাতে তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। এলাকার আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমার প্রধান দায়িত্ব হবে। আমরা চাই একটি বৈষম্যহীন সমাজ, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার পাবে। টেন্ডারবাজি ও নিয়োগ বাণিজ্যের মতো সামাজিক ব্যাধিগুলো উপড়ে ফেলাই হবে আমার অন্যতম লক্ষ্য।’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আজিজি নৈতিকতা ও মূল্যবোধের রাজনীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা ক্ষমতার জন্য নয়, বরং জনসেবার মানসিকতা নিয়ে নির্বাচনে এসেছি। নির্বাচিত হলে আমি এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ও মানোন্নয়নে কাজ করব। টেন্ডারবাজি ও দখলদারত্বের রাজনীতিকে চুয়াডাঙ্গা থেকে চিরতরে বিদায় করতে হবে।
‘আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, বিজয়ী হই বা না হই, সবসময় জনগণের পাশে থাকব এবং মুক্তিযোদ্ধাসহ সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করব। আমাদের লক্ষ্য হলো একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে কোনো সাধারণ মানুষ সরকারি দপ্তরে গিয়ে হয়রানির শিকার হবে না।’
১২৭ দিন আগে
আ.লীগ ১৭ বছরে যে নির্যাতন করেছে, ১৭ মাসে আরেকটি দল তা করছে: আসিফ মাহমুদ
এনসিপির নির্বাচনি প্রধান সমন্বয়ক ও সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব বলেছেন, ‘আমরা ১৭ বছর হত্যা, গুম ও জুলুমের নির্যাতন দেখিছি। আমরা চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসের স্বীকার হয়েছি। বর্তমানে গেল ১৭ মাসেও একটি দল ক্ষমতায় না থাকা সত্ত্বেও এসব অভিজ্ঞতা আমাদের দিয়েছে।’
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লার দেবিদ্বারে এনসিপির ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা গাড়িবহর কুমিল্লার দেবিদ্বারে পৌঁছালে সেখানে আয়োজিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা ১৭ বছরের নিপীড়ন দেখেছি। বাংলাদেশের মানুষ ১৭ বছরের নিপীড়নের পর গত ১৭ মাসে আবার আরেক ধরণের নিপীড়নের শিকার হয়েছে। ১৭ বছরে আমরা দেখেছি গুম, খুন, নির্যাতন, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি, যত ধরণের অন্যায়, অনাচার আছে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের পক্ষ থেকে সেগুলো আমরা পেয়েছি। কিন্তু গত ১৭ মাসে ক্ষমতায় না থাকা স্বত্ত্বেও একটি দল ঠিক একই রকমের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জনগণকে দিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রত্যন্ত অঞ্চলের অলিগলি থেকে উঠে আসা নেতৃত্ব। আমরা মানুষকে ভয় দেখিয়ে নয়, মানুষের দরজায় দরজায় গিয়ে ম্যান্ডেট চাওয়া নেতৃত্ব। আমরা জুলাই অভ্যুত্থানে বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের অংশগ্রহণে শেখ হাসিনার মতো শক্তিশালী ফ্যাসিবাদকে বিতাড়িত করেছি। আমরা তাদের মতো বিভিন্ন আজগুবি বক্তব্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাই না। আমরা মাটি থেকে উঠে এসেছি। আমরা জানি মাটি ও মানুষের কী কী সমস্যা আছে এবং তার কী কী বাস্তবসম্মত সমাধান হতে পারে।’
এ সময় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অলিগলি, রাস্তাঘাট একটু হেঁটে দেখুন। বাংলাদেশকে আগে চিনুন, তারপর আমরা ভরসা করতে পারব যে, আপনি আমাদের জন্য কিছু করতে পারবেন কি না।
এনসিপির এই নির্বাচনি সমন্বয়ক বলেন, মুরাদনগর আমার জন্মস্থান। আমি বাংলাদেশের যেখানেই থাকি সব সময় আপনাদের কথা আমার হৃদয়ে থাকে। গত বছর দায়িত্বে ছিলাম, উন্নয়নবঞ্চিত বৈষম্যের স্বীকার মুরাদনগরের জন্য কাজ করে গেছি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা দেখলাম, এক দলের জনপ্রতিনিধি ছিল এবং সামনেও হতে চায়, তারা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নালিশ দিয়েছিল—কেন এত বাজেট দেওয়া হয়। যারা আপনাদের উন্নয়ন চায় না, তাদের কি ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন?
তিনি আরও বলেন, যারা প্রবীণ আছেন আপনারা তো আরও ভালো বলতে পারবেন। মুরাদনগরে একটা বাহিনী ছিল দাদা বাহিনী। বাহিনীর সদস্যদের নাম ছিল টার্মিনাল অমুক, পিস্তল তমুক। মুরাদনগরে আর কোন অমুক তমুকের জায়গা হবে না। আপনাদের শুধু নিশ্চিত করতে হবে মুরাদনগরের জনগণ যেন ভয়ডরহীনভাবে ভোট দিতে পারে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন, কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম শহীদ, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখ্য সমন্বয়কারী ও যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব লুৎফর রহমান, যুগ্ম সদস্যসচিব ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাত প্রমুখ।
১২৭ দিন আগে
১২ ফেব্রুয়ারি ভোট ডাকাতি করতে দেবেন না: গাজীপুরে তারেক রহমান
চব্বিশের জুলাই আন্দোলনকে স্মরণ করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে গাজীপুরের মানুষের বিরাট একটা ভূমিকা রয়েছে। লাখ লাখ মানুষ রাজপথে অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করেছেন। এই যে গণতন্ত্রের লড়াই হয়েছে সেটি রক্ষা করতে আগামী ১২ তারিখ সবাই ভোরে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। ফজরের নামাজ ভোটকেন্দ্রের সামনে জামাত করে পড়বেন। যাতে আগে থেকেই কেউ সেখানে অবস্থান না করতে পারে। বিগত বছরে যেভাবে ভোট ডাকাতি হয়েছে এবার সেই ডাকাতি করতে দেবেন না। নিজ অধিকার নিশ্চিত করেই ফিরবেন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত পৌনে ১২টার দিকে গাজীপুরের ঐতিহাসিক রাজবাড়ী মাঠে মহানগর বিএনপির আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এসব কথা বলেছেন।
তারেক রহমান গাজীপুরকে বাংলাদেশের গার্মেন্টসের রাজধানী উল্লেখ করে বলেন, এদেশে এই গার্মেন্টস শিল্প এনেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার হাত ধরেই শিল্পের প্রসার ঘটেছিল বাংলাদেশে। এর ফলে দেশের লক্ষ লক্ষ মা-বোন ও ভাইদের কর্মসংস্থান হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এদেশ থেকে বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর কাজটিও বিএনপি সরকার করেছিল। এদেশের খেটে খাওয়া মানুষের উন্নয়নের জন্য জন্য যদি কেউ চিন্তা করে থাকে সেটিও বিএনপি সরকার। এই শিল্পকে নিয়ে আমাদের একটা বড় পরিকল্পনা রয়েছে। গাজীপুরে যাতে আরও লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হয় সেই জন্য আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক ভাইদের কৃষিকার্ড প্রদান বাস্তবায়ন করব। শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করব।’
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, গাজীপুরের জয়দেবপুর রেল গেইট এলাকায় তীব্র যানজটে দুর্ভোগে পড়ে সাধারণ মানুষ। এই দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত এখানে ফ্লাইওভার করতে হবে।
তারেক রহমান আরও বলেন, গাজীপুরের মধ্যে বড় বড় কয়েকটি খাল রয়েছে সেগুলো হলো তুরাগ, লবনদহ ও চিলাই। আগামী ১২ তারিখ নির্বাচন শেষে এই তিন খাল খনন শুরু করব। সাথে আপনারা থাকবেন। দূষিত পানি যাতে আর গাজীপুরে না থাকতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়াও শিল্প কারখানায় মা-বোনদের নিরাপত্তার পাশাপাশি শ্রমিকদের আবাসনের জন্য কাজ করতে হবে।
বক্তব্যের মাঝে তারেক রহমান গাজীপুরের ৫টি আসনে মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীদের সম্মুখে এনে পরিচয় করিয়ে দেন। এ সময় তিনি প্রার্থীদের জন্য ভোট প্রার্থনা করে বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে আমি এই মাঠে অনেক খেলেছি। শিশু কাল আমার এখানে কেটেছে। সে হিসেবে আমার ভোটের হক আছে। গাজীপুর নিয়ে আমাদের যেসব পরিকল্পনাগুলো রয়েছে সেগুলো বাস্তবায়ন করতে এই প্রার্থীদের পাশে থাকবেন। তাদের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।’
এর আগে সন্ধ্যা ৬টায় ময়মনসিংহ থেকে গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন তারেক রহমান। গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে জয়দেবপুর সড়ক ধরে নেতা-কর্মীদের ভিড় ঠেলে দীর্ঘসময় পর রাত পৌনে ১২টার দিকে স্ত্রী ডা.জোবায়দা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে সভামঞ্চে ওঠেন তারেক রহমান।
এই সমাবেশে গাজীপুর মহানগর বিএনপি সভাপতি শওকত হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ছাইয়্যেদুল আলম বাবুল, সাবেক সংসদ সদস্য হাসান উদ্দিন সরকারসহ মঞ্চে উপস্থিত বিএনপির অন্যান্য নেতারা।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তারেক রহমানের এই জনসভাকে ঘিরে সকাল থেকেই বিএনপির সমর্থকদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছিল। দীর্ঘ ২০ বছর পর তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে ব্যানার, ফেস্টুনে ছেয়ে যায় পুরো রাজবাড়ী ময়দান। দুপুরের পর থেকে দলে দলে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে মাঠে আসতে শুরু করেন। সন্ধ্যার আগে পুরো রাজবাড়ী মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। এছাড়া সংসদীয় আসনে মনোনীত প্রার্থীর পক্ষের কর্মী সমর্থকরা আলাদা ক্যাপ, হ্যান্ডবিল ও দলীয় প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে আলাদা আলাদা ভাবে জড়ো হয়েছেন।
১২৭ দিন আগে
ভোটগ্রহণ-সংশ্লিষ্টদের পক্ষপাতিত্ব নিয়ে ইসি সানাউল্লাহর হুঁশিয়ারি
ফেনী, ২৭ জানুয়ারি ( ইউএনবি)— নির্বাচনে ভোটগ্রহণ-সংশ্লিষ্টদের কারো পক্ষপাতিত্ব প্রমাণিত হলে পরিণতি খুব খারাপ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
তিনি বলেছেন, ‘নিরপেক্ষতার প্রশ্নে আমরা সামান্যতম কোনো বিচ্যুতি গ্রহণ করব না। এর কারণ, অতীতে যেসব প্রতিষ্ঠানগুলো ভাবমূর্তি সংকটে পড়েছে, সেটির মূল কারণ ছিল নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার অভাব। এজন্য এক সুতো পরিমাণ কোনো পক্ষপাতিত্ব আমরা মেনে নেব না।’
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে ফেনী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচন কমিশন বা সরকারের পক্ষ থেকে পক্ষপাতিত্বমূলক কোনো নির্দেশনা কখনোই দেওয়া হবে না। তারপরও কেউ যদি নিজের পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠতে না পারেন এবং সেটা পক্ষপাতিত্ব বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে কিন্তু পরিণতি খুব খারাপ হবে! এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত শক্ত থাকবে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মনির হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম, ফেনী জেলার ৪ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোশারফ হোসেনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের সদস্য ও সরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
সমাপ্ত/ইউএনবি/জেপ্র/কেকে/একেডি
১২৮ দিন আগে
বেকারদের ভাতা দিলে বেকারত্ব বাড়বে, আমরা কর্মসংস্থান করব: ডা. শফিকুর
বেকারদের বেকারভাতা দিলে দেশে বেকারত্ব বেড়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, আমরা নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করে বেকারদের সাবলম্বী করে তুলব।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে যশোরের ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের আমির এসব কথা বলেন।
জনসভায় শফিকুর রহমান বলেন, ‘একটা দল সরকারে আসার আগে ১০ টাকা কেজি দরে চাল খাওয়ার কথা বলছে। বলছে কৃষক কার্ড দেবে, দেবে বেকারভাতা। ওই সব ধোঁকা আর বাংলাদেশের জনগণ দেখতে চায় না। বেকারদের বেকারভাতা দিলে বেকারত্ব বেড়ে যাবে। আমরা নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করে বেকারদের সাবলম্বী করে তুলব।’
তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ তাআলা যদি আমাদের দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেন, আমরা এই যশোরকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করব, ৫শ’ বেড হাসপাতাল, ভবদহ সমস্যার সমাধান করা হবে। যশোরবাসীর এসব ন্যায্য অধিকার।’
পরে তিনি যশোরের বিভিন্ন আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের হাতে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন।
১২৮ দিন আগে