রাজনীতি
ভারতের দাদাগিরি আর দেখতে চাই না, পানির হিস্যা আমাদের ন্যায্য অধিকার: ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পাশের দেশ ভারত পানি বন্ধ করে দিবে, সীমান্তে মানুষ হত্যা করবে, যখনতখন চাল, পেয়াজ আমদানি বন্ধ করে দেবে—এই দাদাগিরি আমরা আর দেখতে চাই না। আমরা দেখতে চাই যে ভারত আমাদের সঙ্গে সমমর্যাদার ভিত্তিতে সহযোগিতা করবে, অন্যথায় বাংলাদেশের মানুষকে তারা বন্ধু হিসেবে পাবে না।
শনিবার (নভেম্বর) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে এক ঐতিহাসিক বিশাল গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাঁচাও পদ্মা, বাঁচাও দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ— ‘চলো জি ভাই হাঁরঘে পদ্মা বাঁচাই’ আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিএনপি এই সমাবেশের আয়োজন করে।
মওলানা ভাসানীর পর খালেদা জিয়া ভারতের কাছে পানির ন্যায্য হিস্যা দাবি করেছিলেন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, পানির হিস্যার আন্দোলন আরও জোরদার রাখতে হবে। আন্তর্জাতিক মহলকে বোঝাতে হবে, পানির হিস্যা আমাদের ন্যায্য অধিকার, কারো দয়া নয়। আগামী সরকার শক্তিশালী না হলে পদ্মা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যতক্ষণ না পানির ন্যায্য হিস্যা পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ আন্দোলন চলবে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, দিল্লিতে বসে হাসিনা জ্বালাও-পোড়াওয়ের হুকুম দিচ্ছে। হাসিনাকে কী এদেশে আমরা আর আসতে দেব? তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে, যার রায় আগামী ১৭ নভেম্বর।
এই রায়কে ঘিরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পায়তারা চলছে উল্লেখ করে বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাতে চাই, এই ফ্যাসিস্ট শক্তি যেন আগামীতে মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে; দেশের মানুষকে হত্যা করতে না পারে; দেশের সম্পদ নষ্ট করতে না পারে; বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে যেন ধ্বংস করতে না পারে। এসব দিকে আমাদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ্যে করে মির্জা ফখরুল বলেন, একটি রাজনৈতিক দল দেশকে গভীর সংকটে ঠেলে দিচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষ জামায়াতকে ভোট দেবে না, কারণ জামায়াতকে দেশের মানুষ বিশ্বাস করে না। এই নির্বাচন যদি না হয়, দেশের মানুষকে যদি আবার বোকা বানানোর চেষ্টা করা হয়, তাহলে বাংলাদেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, তারকে রহমান বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে ১৫ মাসের মধ্যে তিনি এক কোটি বেকারের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবেন। কৃষকদের ফার্মাস কার্ডের মাধ্যমে বিনামূল্যে সার ও বীজ দেবেন। তিনি বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করতে চান। জনগণের জন্য একটি নিরপেক্ষ প্রশাসন তিনি তৈরি করবেন।
এর আগে, এদিন দুপরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা নদীর ওপর নির্মিত রাবার ড্যাম পরিদর্শন শেষে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সমতার সম্পর্ক থাকবে, দাদাগিরির সুযোগ নেই। প্রত্যেক দেশ তার নিজের স্বার্থ দেখবে—এটাই স্বাভাবিক। তবে নির্বাচিত সরকার না থাকলে দাবি আদায় সম্ভব হয় না। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে পদ্মা-তিস্তার পানি বণ্টনকে গুরুত্ব দেবে। আমরা বিগত দিনে দেখেছি, তৎকালীন মন্ত্রী-এমপিরা ভারতে গিয়ে দেন দরবার করেছে, কিন্তু দেশের জন্য কেউ ভাবেনি। যে সরকারই আসুক, দেশের জন্য কাজ করতে হবে; দেশের স্বার্থ সবার আগে দেখতে হবে।
পদ্মা বাঁচাও আন্দোলেনের সমন্বয়ক চাঁপাইবাবগঞ্জ সদর আসনের সাবেক এমপি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুনুর রশিদের সভাপতিত্বে গণসাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও রাজশাহী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সাবেক এমপি বীরমুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক শাহজাহান মিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সাবেক এমপি আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, পদ্মা নদীর ন্যায্য পানিবণ্টন ও ভারতীয় আগ্রাসন বন্ধের দাবিতে জাতীয় জনমত গড়ে তোলার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে সমাবেশ করে আসছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। তাদের অভিযোগ, বর্ষাকালে বন্যা, ভয়াবহ নদীভাঙন, আর শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকটে ফসল উৎপাদনে বাধা—এই তিন দুর্যোগই এখন পদ্মাপাড়ের মানুষের নিত্যদিনের বাস্তবতা। ফারাক্কার বিরূপ প্রভাব থেকে বাঁচতে পানির ন্যায্য হিস্যার দাবি জানিয়ে আসছেন পদ্মাপাড়ের মানুষ। এ দাবিতে শনিবার ঐতিহাসিক সমাবেশের আয়োজন করে দলটি।
১১১ দিন আগে
নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ করতে সরকারের ৯ দিনের শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নয় দিনের জন্য বিশেষ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে নামবে। এর মধ্যে নির্বাচনের আগে পাঁচ দিন, নির্বাচনের দিন এক দিন এবং নির্বাচনের পরে তিন দিন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে। তবে দেশের পরিস্থিতি অনুযায়ী সময়সীমা সমন্বয় করা হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) দুপুর ২টার দিকে পটুয়াখালী সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘সেনাবাহিনী এখন মাঠে আছে ৩০ হাজার সদস্য। নির্বাচনের সময় প্রায় এক লক্ষ সেনা সদস্য মোতায়েন থাকবে। বিজিবি থাকবে প্রায় ৩৫ হাজার, নৌবাহিনী পাঁচ হাজার, কোস্টগার্ড চার হাজার, র্যাব প্রায় আট হাজার এবং আনসার বাহিনীর সদস্য থাকবে সাড়ে পাঁচ লাখের মতো। নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় আনসার এবার বড় ভূমিকা পালন করবে। তাদের জন্য অস্ত্র এবং বডিক্যামও সরবরাহ করা হবে।’
নিরাপত্তা নিয়ে কোনো সন্দেহের সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন খুবই শান্তিপূর্ণভাবে হবে—এ নিয়ে সন্দেহের কিছু নেই।’
সরকার পরিবর্তন বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের দেশে যে সরকার পতন হয়েছে, তা কোনো তিনজনের কারণে হয়নি। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের কারণেই সরকার পতন ঘটেছে। আপনারা দেখেছেন—কীভাবে তারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, তাদের আত্মীয়স্বজনরা পালিয়েছে। এটি একজন বা দুজনের কারণে হয়নি, হয়েছে জনগণের ইচ্ছার কারণে।’
মতবিনিময় শেষে তিনি পটুয়াখালী পুলিশ লাইন্স ও কোস্টগার্ড স্টেশন পরিদর্শন করেন। পরে কুয়াকাটা উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
১১১ দিন আগে
আওয়ামী লীগের যেকোনো কর্মকাণ্ড ও কর্মসূচিই অপরাধ বলে গণ্য হবে: অ্যাটর্নি জেনারেল
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আওয়ামী লীগ একটি নিষিদ্ধ সত্তার নাম। সেই নিষিদ্ধ সত্তার নামে যেকোনো কর্মকাণ্ড ও কর্মসূচিই অপরাধ বলে গণ্য হবে। গণহত্যার মামলার রায়কে ঘিরে আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী আইনগতভাবেই মোকাবিলা করবে।
ঝিনাইদহের শৈলকূপায় জাতীয় জাগরণের কবি গোলাম মোস্তফার জন্ম ও মৃত্যুদিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
আসাদুজ্জামান বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বিজয়ী শক্তি নির্ধারণ করবে আগামীর গণভোট কেমন হবে। তারাই আগামীর বাংলাদেশের গতিপথ নির্ধারণ করবে।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ী শক্তি ১৯৭২-এর সংবিধান এনেছিল। ১৯৯০-এর বিজয়ী শক্তি দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে এনেছিল।
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান আরও বলেন, কবি গোলাম মোস্তফা জাতীয় জাগরণের কবি। তাঁর লেখা কাব্যগ্রন্থ ও লেখনীতে বাঙালি মুসলমানের জীবনদর্শন, চেতনা ও সংগ্রামের চিত্র ফুটে উঠেছে। কবি গোলাম মোস্তফার সৃষ্টিকর্মের চর্চার মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ তাদের সংগ্রাম, অধিকার, ঐতিহ্য ও সাম্যবাদী চেতনা সমুন্নত রাখতে পারবে।
তিনি বলেন, অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব মিয়া মোশাররফ হোসেন এবং কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান বরেণ্য চিত্রশিল্পী মোস্তফা মনোয়ারকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
১১২ দিন আগে
সরকার থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার পর গণভোট নিয়ে সিদ্ধান্ত: সিইসি
গণভোট প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছেন, সরকার থেকে গণভোট নিয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পেলে তারপর সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
এএমএম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমি এখানে সংলাপে ছিলাম। প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য শুনিনি। কী বলেছেন, কোন লাইনে বলেছেন, আমি জানি না। যেহেতু শুনিনি, বিস্তারিত না জেনে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
‘আমরা ফরমালি বিষয়গুলো জানলে, সবাই বসে কমিশনে আলাপ-আলোচনা করে আমাদের মতামত দিতে পারবো। এখন মতামত দেওয়া যথার্থ হবে না।’
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একইদিন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের গণভোট নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। ইসির মতামত কী, চ্যালেঞ্জ হবে কিনা, সংসদ নির্বাচনের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে কিনা প্রশ্নে সিইসি জানান, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে আয়োজন করলে যেমন কিছু সুবিধা পাওয়া যাবে, তেমনি কিছু চ্যালেঞ্জও তৈরি হতে পারে। তবে এতে ব্যয় অনেক কমবে।
নির্বাচন কমিশনের হিসাবে, আলাদা দিনে গণভোট আয়োজন করলে ৮০০ কোটি থেকে ১ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই একসঙ্গে গণভোট আয়োজন করলে ব্যয় ৩০০ কোটি থেকে ৪০০ কোটি টাকার মধ্যে সীমিত থাকবে।
ইসি এখন পর্যন্ত হিসাব করেছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য আনুমানিক ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।
১১৩ দিন আগে
বাংলার মাটিতে আওয়ামী লীগকে আর ফিরতে দেওয়া হবে না: আখতার
বাংলার মাটিতে আওয়ামী লীগকে কোনোভাবেই ফিরতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন। এ লক্ষ্যে তার দলের সব নেতা-কর্মীকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির এই শীর্ষ নেতা।
বুধবার (১২ নভেম্বর) বিকেলে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পারুল ইউনিয়নে নির্বাচনী উঠান বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, যারা বাংলাদেশের মানুষের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে, সেই আওয়ামী লীগ আবারও নাশকতা চালাচ্ছে। বাংলার মাটিতে আওয়ামী লীগকে কোনোভাবেই ফিরতে দেওয়া হবে না।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপি ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা আমাদের নিজস্ব সক্ষমতা ও অবস্থান থেকেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে জাতীয় স্বার্থে ও দেশের প্রয়োজনে বাংলাদেশকে নতুন পথে এগিয়ে নিতে হলে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়েও আমরা ওপেন (উন্মুক্ত) রয়েছি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে, যদিও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখিনি আমরা এককভাবেও নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত।
দলের প্রার্থী বাছাই প্রসঙ্গে এনসিপির এই নেতা বলেন, সারা দেশ থেকে এমন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে চাই যারা জনগণের কথা ভাববে। নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি টিম গঠন করা হয়েছে, তারা মনোনয়নপত্র বিতরণ করছে। সারা দেশের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ফরম সংগ্রহ করছেন। ইতোমধ্যে অনেক যোগ্য প্রার্থী মনোনয়নপত্র নিয়েছেন। যাচাই-বাছাই শেষে ১৫ নভেম্বরের পর প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হবে।
গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বিষয়ে দলের অবস্থান জানতে চাইলে আখতার হোসেন বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশটি সঠিকভাবে জারি করা। সরকার কীভাবে এই আদেশ জারি করবে, তাতে কী থাকবে আর কী থাকবে না—সেটি এখনো পরিষ্কার নয়। যদি সরকার জুলাই সনদের আদেশ যথাযথভাবে জারি করে, তাহলে সংকটের সমাধান সম্ভব এবং এর মাধ্যমেই গণভোটের প্রশ্ন নির্ধারিত হবে।
তিনি আরও বলেন, গণভোট নির্বাচনের দিনই হোক বা আগে, তাতে তেমন প্রভাব পড়বে না, যদি জুলাই সনদের আদেশ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়। কিন্তু আদেশটি সঠিকভাবে জারি না হলে গণভোটও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াকে টেকসই করতে পারবে না। আমরা আশা করি, সরকার দ্রুত জুলাই সনদের আদেশ জারি করবে এবং জনগণের পক্ষেই অবস্থান নেবে।
এর আগে উঠান বৈঠকে আখতার হোসেন বলেন, নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হওয়াই বড় সংকট। নির্বাচনের আগে এ বিষয়ে সুরাহা না হলে নির্বাচনের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন উঠবে। তাই এনসিপি নির্বাচনের আগে গণভোটের পক্ষে।
১১৪ দিন আগে
নভেম্বরের শেষে দেশে ফিরতে পারেন তারেক রহমান: সালাহউদ্দিন
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান চলতি নভেম্বরের শেষ দিকে দেশে ফিরতে পারেন বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার রাতে (১১ নভেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ ইউএনবিকে বলেন, ‘আমরা আশা করছি এই মাসের শেষ নাগাদ তিনি দেশে ফিরতে পারেন। নাহলে কমপক্ষে দুয়েকদিন এদিক-ওদিক হতে পারে হয়ত, আশা করছি।’
২০০৮ সালে জরুরি অবস্থার মধ্যে পরিবার নিয়ে দেশ ছাড়ার পর গত ১৭ বছর লন্ডনে বসবাস করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক। জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তারেকের মামলা জটিলতার অবসান হলেও তিনি এখনো ফেরেননি।
গত কয়েক মাস ধরেই বিএনপির নেতারা বলে আসছেন যে, শিগগিরই দেশে ফিরবেন তারেক রহমান। নভেম্বরের শেষ নাগাদ তিনি আসতে পারেন বলেও খবর পাওয়া যাচ্ছিল। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো তারিখ বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।
গত ৬ অক্টোবর প্রকাশিত বিবিসি বাংলার এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তিনি কবে দেশে ফিরছেন। এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ খুব দ্রুতই ইনশাআল্লাহ।’
নির্বাচনের আগে দেশে থাকবেন কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে মনে করি, নির্বাচনের সঙ্গে রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই যখন জনগণের প্রত্যাশিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তখন জনগণের মাঝেই থাকব ইনশাআল্লাহ। আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা, ইচ্ছা ও আগ্রহ থাকবে সেই প্রত্যাশিত নির্বাচনে জনগণের সঙ্গে থাকার।’
প্রায় দুই দশক ধরে দল ও নির্বাচন পরিচালনায় নিবিড়ভাবে জড়িত থাকলেও তিনি কখনো সরাসরি ভোটের মাঠে প্রার্থী হননি। তবে এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে প্রার্থী হচ্ছেন তারেক রহমান।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ১৯৯১ সাল থেকে বগুড়া-৭ (গাবতলী ও শাহজাহানপুর) এবং ১৯৯৬ (জুন) সাল থেকে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে নির্বাচন করছেন। এ দুটি আসনে তিনি কখনো পরাজয়ের মুখ দেখেননি। মায়ের সেই পুরনো আসনেই আগামী সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী হবেন তারেক রহমান।
১১৪ দিন আগে
নির্বাচন পেছালে বাংলাদেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে: মির্জা ফখরুল
এবারের জাতীয় নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া হলে বাংলাদেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়নের কিশমত কেশুরবাড়ি লক্ষ্মীরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “সংস্কারের ক্ষেত্রে যে বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি, এর বাইরে কিছু জোর করে চাপিয়ে দিলে এর সমস্ত দায় সরকারকেই নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, একটি দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারীদের কাছে ধর্মের অপব্যাখ্যা দিচ্ছে। যারা মুনাফেকি করে, তাদের থেকে সাবধান থাকতে হবে।
মির্জা ফখরুল আশ্বাস দেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে ১৫ মাসের মধ্যে এক কোটি বেকারের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করা হবে বলেও জানান তিনি।
শিক্ষা খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শরীরচর্চা শিক্ষক ও সংগীত শিক্ষক বাদ দেওয়া ঠিক হয়নি। এটি শিক্ষাব্যবস্থায় এক ধরনের অসম্পূর্ণতা তৈরি করছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একটি উজ্জ্বল নাম। রাজনীতিতে নতুন দর্শনের সূচনা করেছিলেন শহীদ জিয়া, তার দর্শন আজও প্রাসঙ্গিক।
সভায় বড়গাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ডা. আহম্মদ আলীর সভাপতিত্বে জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
১১৫ দিন আগে
জুলাই সনদের বাইরে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত দিলে স্বাক্ষরকারী দলগুলো মানতে বাধ্য নয়: খন্দকার মোশাররফ
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা শেষে যে জুলাই সনদে রাজনৈতিক দলগুলো স্বাক্ষর করেছে, সেই স্বাক্ষরিত সনদের বাইরে কোনো ব্যাপারে সরকার ইচ্ছামত সিদ্ধান্ত নিলে তা রাজনৈতিক দলগুলো মানতে বাধ্য নয় বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেছেন, এমন কিছু ঘটলে তার সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব সরকারের ওপরই বর্তাবে।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বেলা ১২টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই যে, জুলাই জাতীয় সনদে উল্লেখিত বিষয়ের বাইরে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলে সনদে স্বাক্ষরকারী কোনো দলের জন্য তা মান্য করার বাধ্যবাধকতা থাকবে না।'
তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, 'এমন কিছু ঘটলে এর দায়িত্ব সরকারের ওপরই বর্তাবে। এ ব্যাপারে সতর্ক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।'
মোশাররফ হোসেন জানান, ঐকমত্য কমিশন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে প্রায় এক বছরের আলোচনার পর ১৭ অক্টোবর জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে।
তার ভাষ্য, সম্প্রতি নির্ধারিত সনদের বাইরে সরকারি কিছু সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা মন্তব্য করেছেন। এই ধরনের মন্তব্য বিভ্রান্তিকর এবং সবার সম্মতিতে নেওয়া আগের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করার সমতুল্য বলে মনে করেন তিনি।
বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এর আগে গতকাল রাতে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে যুক্তরাজ্য থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ এবং হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
১১৫ দিন আগে
মুক্তিযুদ্ধকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে: মির্জা ফখরুল
একটি মহল সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (১০ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আয়োজনে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে মুক্তিযুদ্ধটাকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ১৯৭১ হয়নি, আমরা কিছুই করি নাই। দেশটার জন্য কোনো অবদানই রাখি নাই। চব্বিশ যারা করেছে, তারাই সব করেছে, এমন ধারণা এখন মিলছে। ঠিক না?’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘আজকে সুপরিকল্পিতভাবে একটি চক্র, একটি মহল, যারা ওই একাত্তর সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে যোগসাজশ করে এ দেশে মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেছিল, তাদের পরিবারকে হত্যা করেছিল, তাদের মেয়েদের তুলে দিয়েছিল খান বাহিনীর হাতে, তাদের সঙ্গে দেশের মানুষ কি আপস করতে পারে? এই কথাগুলো জোর গলায় বলতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের গর্জে উঠতে হবে।’
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘এরা আজকে দেশটাকে গিলে খাওয়ার চেষ্টা করছে, গ্রাস করার চেষ্টা করছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমান ভাইদের ধর্মীয় অনুভূতিকে বিক্রি করে তারা ওই কাজগুলো করতে চাচ্ছে। আমরা সেটা হতে দিতে পারি না। আজকে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সামনে আনতে হবে।’
হিন্দু-মুসলমান বিভেদ রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে দেবেন না। হিন্দু-মুসলমান ভাগ করতে দিবেন না। আমরা হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই। একসঙ্গে আছি, যুদ্ধও করেছি একসঙ্গে। তাদের যেন কেউ ভাগ করতে না পারে।’
নির্বাচনকে বানচালের চেষ্টা চলছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একটা কথা পরিষ্কার করে বলতে চাই, আজকে নির্বাচনকে বানচাল করে দেওয়ার, নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত ষড়যন্ত্র চলছে। নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া মানে আমাদের সর্বনাশ, এ দেশের সর্বনাশ হওয়া। আমরা চাই অন্তর্বর্তী সরকার কালবিলম্ব না করে দ্রুত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ব্যবস্থা করবে, একটা নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করবে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঠাকুরগাঁও জেলা ইউনিট কমান্ড মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর করিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নাঈম জাহাঙ্গীর, সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আহম্মদ খান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মনসুর আলী সরকার, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন এবং সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী।
১১৬ দিন আগে
এটাই আমার শেষ নির্বাচন: মির্জা ফখরুল
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনই নিজের শেষ জাতীয় নির্বাচন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঠাকুরগাঁওয়ের জনগণের কাছে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, এবার আপনারা আমাকে সুযোগ দিন, আমি যেন আপনাদের জন্য কিছু উন্নয়নকাজ করতে পারি।
নির্বাচনি প্রচারের অংশ হিসেবে রবিবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে মির্জা ফখরুলের নিজ নির্বাচনি এলাকা ঠাকুরগাঁওয়ের জগন্নাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে দৌলতপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নিজের বয়স এবং শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এটাই আমার শেষ নির্বাচন। পরের নির্বাচন করার সময় আর শক্তি থাকবে না। আমার শেষ নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে সহযোগিতা করবেন আপনারা। এবার আপনারা আমাকে সুযোগ দিন, আমি যেন আপনাদের জন্য কিছু উন্নয়নকাজ করতে পারি।’
এ সময় জামায়াতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা আপনারা চেনেন। দাঁড়িপাল্লাও এখানে নির্বাচন করছে। বিগত সময়ে আমরা কী করেছি আর তারা কী করেছে—এটা বিবেচনা করে ধানের শীষ আর দাঁড়িপাল্লার মধ্যে আপনাদের বেছে নিতে হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে এই বিএনপি নেতা বলেন, এ সরকারের পেছনে জনগণ নেই, তাই তারা জনগণের দুঃখ-কষ্ট বোঝে না। সরকার জনগণের কথা বোঝে না বলেই কৃষক আজ তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পায় না। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের জন্য ন্যায্য দামের ব্যবস্থা করা হবে, ফ্যামিলি কার্ড করা হবে।
গণভোটের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে যত সংকট দেখছেন সব তৈরি করা, সাজানো নাটক। জনগণ এসব বোঝে না; তারা শুধু ভোট দিতে চায়। আমরা চাই নির্বাচনের দিনে গণভোট হোক। আপনারা সত্যি বলুন, সাধারণ মানুষ কি গণভোট-সনদ বোঝেন?
তিনি বলেন, নির্বাচনের দিনই গণভোট হবে। সব সংস্কারে আমরা রাজি আছি, যাতে রাজি হবো না, তা সংসদে গিয়ে পাস হবে।
গণহত্যা ও গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৯৭১ সালেও গণহত্যা হয়েছে, ২০২৪ সালেও হয়েছে। পার্থক্য হলো, সে সময় পশ্চিম পাকিস্তানিরা আমাদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে, আর এবার আমার দেশের ফ্যাসিস্ট নেতারাই আমাদের ওপর, আমাদের সন্তানদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে।
বক্তৃতার একপর্যায়ে তিনি দুর্বলতা অনুভব করেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে তার কণ্ঠ আটকে যায়, তিনি কাঁপতে থাকেন। এ সময় তিনি পাশে থাকা নেতা-কর্মীদের তাকে ধরতে বলেন। পরে উপস্থিত সবার অনুমতি নিয়ে চেয়ারে বসে বক্তব্য শেষ করেন এই প্রবীণ রাজনীতিক।
জগন্নাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. তোফাজ্জল হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, জেলা সদর বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদসহ দলটির অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
১১৭ দিন আগে