রাজনীতি
ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া যাবে না: ফখরুল
‘ফ্যাসিস্ট ও অপসারিত প্রধানমন্ত্রী’ শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে জায়গা না দিতে সব শ্রেণিপেশার মানুষকে আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘আজকের এই সমাবেশ থেকে আমাদের শপথ নিতে হবে—আর কখনও এই ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে আমরা দেশের রাজনীতিতে জায়গা দিতে দেব না। আমরা আরও শপথ করব, কারও কাছে মাথানত করব না। নিজেদের শক্তিতে আমরা একটি আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ব।’
রবিবার (৩ আগস্ট) জুলাই-আগস্ট মাসব্যাপী গণঅভ্যুত্থানের বার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির ছাত্রসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের শাহবাগের সমাবেশে তিনি এমন মন্তব্য করেন। ছাত্রসমাজ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন, সরকার দেশে বিভাজন ও অস্থিরতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ‘শেখ হাসিনা ও তার মিত্ররা, যারা এখন প্রতিবেশী ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন, তারা বাংলাদেশকে হুমকি দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, তারা নানাভাবে দেশের ভেতরেও অশান্তি সৃষ্টি করতে চাইছেন।’
বিএনপি নেতা বলেন, ‘দেশের ভবিষ্যতের দায়িত্ব নিতে হলে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা ও বৈজ্ঞানিক চিন্তা গড়ে তুলতে হবে। প্রজ্ঞা ছাড়া আমরা এগোতে পারব না। দেশের ভবিষ্যৎ গড়তে হলে শিক্ষা ও বিজ্ঞানের পথে হাঁটতে হবে।’
গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বিএনপির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ার পথে রয়েছি।’
ফখরুল জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—আগামী সাধারণ নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ সেই নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছে। তার আগেই তারা তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের প্রতীক্ষায় আছে।’
পড়ুন: এনসিপি: ‘মেরুদণ্ডহীন’ ইসি, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় না ফিরলে নির্বাচন বয়কট
ফখরুল বলেন, বিএনপির লক্ষ্য হলো শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্বপ্ন পূরণ করা। ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ব।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘শত শত ছাত্র, সাধারণ মানুষ ও শ্রমিক ন্যায়ভিত্তিক, বাসযোগ্য ও সুশাসনসম্পন্ন একটি দেশ গড়ার আশায় জীবন দিয়েছেন।’
বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে বিএনপি ৩১টি প্রস্তাবনা তুলে ধরেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি নতুন সূর্য উদিত হয়েছে, যা বাংলাদেশের জন্য নতুন আশা ও শুরু এনেছে। আমাদের ছাত্র ভাইয়েরা বিশাল ত্যাগ স্বীকার করেছে—দেশজুড়ে গ্রেপ্তার, নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আজকের এই সমাবেশ, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত আমাদের ঐক্য ও শক্তির বহিঃপ্রকাশ। আমরা এই মুহূর্ত উদযাপন করছি, একইসঙ্গে আমরা স্মরণ করছি সেই ভাইদের, যারা এক বছর আগে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।’
২১৫ দিন আগে
জামায়াত আমিরের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিলেন তারেক রহমান
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে বাইপাস সার্জারির পর বর্তমানে সেরে উঠছেন।
রবিবার (৩ আগস্ট) তারেক রহমানের পক্ষ থেকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শাহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও হাবিব-উন-নবী খান সোহেল জামায়াত আমিরের খোঁজখবর নিতে হাসপাতাল পরিদর্শনে যান।
বিএনপি নেতারা সেখানে উপস্থিত চিকিৎসক এবং জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও কথা বলেন।
পড়ুন: এনসিপি: ‘মেরুদণ্ডহীন’ ইসি, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় না ফিরলে নির্বাচন বয়কট
হাসপাতাল পরিদর্শনের পর এ্যানি সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে জামায়াত আমিরের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে এসেছি।”
সৌজন্য স্বরূপ তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পাঠানো ফুলের তোড়া জামায়াতের সহকারী মহাসচিব এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং আমিরের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়।
গত শনিবার ইউনাইটেড হাসপাতালে ড. শফিকুর রহমানের সফল করোনারি আর্টারি বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়।
২১৫ দিন আগে
এনসিপি: ‘মেরুদণ্ডহীন’ ইসি, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় না ফিরলে নির্বাচন বয়কট
বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে ‘মেরুদণ্ডহীন’ আখ্যা দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী বলেছেন, কমিশনের সামনে এখনও নিজেদের সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। শেষ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় না ফিরলে নির্বাচন বয়কট করবে এনসিপি।
রবিবার (৩ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসিরউদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমরা যতই এই নির্বাচন কমিশনকে দেখতে পাচ্ছি, ততই বুঝতে পারছি এটি মেরুদণ্ডহীন প্রতিষ্ঠান।’
নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, গত ১৫ বছরে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এখন তারা এমন পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করছে, যাতে নির্দিষ্ট একটি দল ছাড়া কেউ নির্বাচনে এলে সমস্যা তৈরি হয়।
এনসিপি নেতা বলেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশে যদি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট একটি দল ছাড়া কেউ ভোট দিতে আসে, তাহলে (নির্বাচন কমিশন বা কোনো দল) সেক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করবে। আর নির্বাচন কমিশন এখন ঠিক সেই দিকেই অগ্রসর হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পড়ুন: শাহবাগে ছাত্রদলের সমাবেশ চলছে
বর্তমান নির্বাচন কমিশন নিয়ে তার দলের এমন পর্যবেক্ষণের কারণ ব্যাখ্যা করে নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, নির্বাচন কমিশন এখন এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করছে, যেখানে কেউ যদি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণে অংশ নিতে চায়, তাহলে তারা (ইসি) সেই প্রক্রিয়ায় বাধা দিচ্ছে।
‘দ্বিতীয়ত, আমরা যতই এই নির্বাচন কমিশনকে দেখি, ততই বুঝতে পারি এটি একটি মেরুদণ্ডহীন নির্বাচন কমিশন। তৃতীয়ত, নির্বাচন কমিশন এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাপথের দিশা দেখাবে—কিন্তু যতটুকু এখন পর্যবেক্ষণ করছি, আরও দিন দিন আমরা দেখতে পাচ্ছি এটার (নির্বাচন) অধিকাংশ অঙ্গ জুড়ে হলো সামরিক উর্দি পরা পোশাকে এবং বাকি যতটুক আছে সেটা আবার দলীয় পোশাকে আবৃত্ত।’
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সমস্যাগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরছে তাদের দল এবং এই কমিশনের ‘মেরুদণ্ডহীনতা’ ধীরে ধীরে জাতির সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
এক প্রশ্নের জবাবে এনসিপি নেতা বলেন, ‘আমরা তাদের (নির্বাচন কমিশন) সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছি, কথা বলছি, তাদের ভুলগুলো দেখিয়ে দিচ্ছি এবং সংশোধনের সুযোগ দিচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি সামরিক উর্দি পরে দলীয় উর্দি পরে তার মেরুদণ্ড বিকিয়ে দিতে চায় এবং ভোট না দিতে চায়, তাহলে এনসিপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচন বয়কটের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে পারে।
শেষে নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ‘আমরা তাদের এখনও সুযোগ দিচ্ছি, তাদের সে শুভোদয় হোক এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আসুক। ভোট নেওয়ার প্রক্রিয়া তারা শুরু করুক, যেন বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নিয়ে যাওয়ার জন্য তারা সচেষ্ট হয়।’
২১৫ দিন আগে
শাহবাগে ছাত্রদলের সমাবেশ চলছে
বিপুল জনসমাগমের মধ্য দিয়ে রাজধানীর শাহবাগে ছাত্রদলের সমাবেশ চলছে। জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের বার্ষিকী উপলক্ষে রবিবার (৩ আগস্ট) বিকেল ৩টা ১৬ মিনিটে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
এরপর বক্তব্য দেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ছাত্রদলকে রুখে দেওয়ার ক্ষমতা বাংলাদেশে কারও নেই।’
রাকিবুল ইসলাম আরও বলেন, ‘দেশকে যারা অস্থিতিশীল করতে চায়, ছাত্রদল চাইলে সেই ষড়যন্ত্রকারীদের বিষদাঁত উপড়ে ফেলতে পারে। ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান যদি নির্দেশনা দেন, নেতাকর্মীরা সারা দেশ অবরোধ করে দিতে পারে।’
সমাবেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান বিকেল ৩টা ১৪ মিনিটে ভার্চুয়ালি সমাবেশে যুক্ত হন।
ঢাকার বাইরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে নিহত ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের পরিবার-পরিজনেরাও এ সমাবেশে অংশ নিয়েছেন। সকাল থেকেই হাজার হাজার নেতাকর্মী শাহবাগে জড়ো হতে শুরু করেন।
সমাবেশের জন্য শাহবাগ মোড়ে একটি মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে এবং চারদিকে মাইক বসানো হয়েছে। মৎস্য ভবন থেকে কাঁটাবন পর্যন্ত পুরো সড়ক নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে পূর্ণ হয়ে গেছে। সমাবেশ পর্যবেক্ষণের সুবিধার্থে বেশ কয়েকটি বড় পর্দা ও প্রজেক্টর বসানো হয়েছে।
ছাত্রদল নেতারা জানিয়েছেন, আজিজ সুপার মার্কেট ও পিজি হাসপাতালের মাঝের গলি দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে কোনো ছাত্রদল নেতাকর্মী বহনকারী যানবাহনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের ব্যক্তিগত মিছিল বা শোডাউন না আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে প্রতিটি ইউনিটকে নিজ নিজ অবস্থান পরিষ্কার করে তবেই এলাকা ত্যাগ করতে বলা হয়েছে। সমাবেশস্থলে প্রয়োজনে চিকিৎসাসেবা দিতে ১০টি মেডিকেল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে।
ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ভিড়ে শাহবাগের আশপাশের সড়কে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। সমাবেশ উপলক্ষে সকাল থেকেই শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও মৎস্য ভবন এলাকার সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ।
২১৫ দিন আগে
সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণে বিএনপির পর্যালোচনা কমিটি
নির্বাচন কমিশনের চলমান সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ কার্যক্রমের প্রেক্ষাপটে বিএনপি এ বিষয়ে পর্যালোচনা ও দলের অবস্থান নির্ধারণে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে।
রবিবার (৩ আগস্ট) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে।
কমিটির অন্যান্য সদস্য হলেন— বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, নির্বাচন কমিশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. জাকারিয়া, সাবেক উপসচিব শামসুল আলম এবং বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য বেলায়েত হোসেন মৃধা।
কমিটি নির্বাচন কমিশনের আসনসীমা-সংক্রান্ত সর্বশেষ সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করবে এবং দলকে প্রাসঙ্গিক সুপারিশ দেবে।
২১৫ দিন আগে
শাহবাগের সমাবেশে দলে দলে জড়ো হচ্ছে ছাত্রদল
বিএনপির ছাত্রসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের (ছাত্রদল) হাজার হাজার নেতাকর্মী সকাল থেকেই রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় ছাত্রসমাবেশে যোগ দিতে জড়ো হতে শুরু করেছেন।
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে এই সমাবেশে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শাহবাগে জড়ো হচ্ছেন।
সমাবেশটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে বিকেল ২টা ৩০ মিনিটে, পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ নেতারা এই সমাবেশে ভাষণ দেবেন।
শাহবাগ মোড় ও আশপাশের সড়কগুলো এখন ছাত্রদলকর্মীদের উপস্থিতিতে সরগরম, যার কারণে ওই এলাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। ছাত্রদল ইতিমধ্যে শাহবাগ মোড়ে একটি বড় মঞ্চ স্থাপন করেছে এবং সমাবেশের জন্য লাউডস্পিকার বসিয়েছে।
স্থানটিতে কয়েকটি প্রজেক্টর ও বড় স্ক্রিনও বসানো হয়েছে। সমাবেশে আগতদের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দিতে একটি মেডিকেল বুথ স্থাপন করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার ছাত্রদল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পূর্বনির্ধারিত সমাবেশটি শাহবাগে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়, যদিও তারা শহীদ মিনারে সমাবেশের জন্য পূর্বেই অনুমতি পেয়েছিল।
আরও পড়ুন: যেসব সড়কে আজ যান চলাচল সীমিত থাকবে
২১৫ দিন আগে
গণতান্ত্রিক উত্তরণ বিলম্বিত হলে জনগণ আবার ফুঁসে উঠতে পারে: ড. মঈন খান
গণতন্ত্রের উত্তরণ আরও বিলম্বিত হলে বাংলাদেশের জনগণ আবার জেগে উঠতে পারে বলে অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক করে দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নেতা ড. আব্দুল মঈন খান।
শনিবার (২ আগস্ট) রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মঈন বলেন, ‘আমি অন্তর্বর্তী সরকারকে অনুরোধ করছি, দয়া করে গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথ দীর্ঘায়িত করবেন না। যদি আপনি তা করেন, তাহলে বাংলাদেশের জনগণ আবার জেগে উঠবে।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ড. মঈন বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জনগণ স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিল, কারণ তারা বুঝতে পেরেছিল যে পাকিস্তানের শাসনামলে গণতন্ত্র কখনও বিকশিত হতে পারবে না।
বাংলাদেশের জনগণ এবং গণতন্ত্রপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য গত পনের থেকে ষোল বছর ধরে সংগ্রাম করে আসছে বলেও সরকারকে স্মরণ করিয়ে দেনে বিএনপির এই নেতা।
তিনি বলেন, ‘সেই প্রত্যাশা কি পূরণ হয়েছে? না... গত এক বছরেও হয়নি। কেন নয়? আমরা অতীতে এমন উদাহরণ দেখেছি যেখানে ৯০ দিনের মধ্যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের চোখের সামনে সেই নজির রয়েছে।’
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে ‘ফিরে দেখা রক্তাক্ত জুলাই-আগস্ট: প্রত্যাশা এবং বাস্তবতা’ শীর্ষক আলোচনার আয়োজন করে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি।
এক বছর পরও কেন দেশ তার গণতান্ত্রিক উত্তরণে এগিয়ে যেতে পারেনি—এমন প্রশ্নও তোলেন ড. মঈন।
তিনি বলেন, ‘আমি প্রায়শই ভয় পাই যে এই নতুন ব্যবস্থা স্থায়ী ব্যবস্থায় পরিণত হতে পারে কিনা। আমরা পরিবর্তন চাই, কিন্তু সমস্ত পরিবর্তনই প্রকৃত পরিবর্তন নয়। ১/১১-এর সময়, আমরা ঢাকা জুড়ে ব্যানার এবং ফেস্টুন দেখেছি যাতে সবকিছু পরিবর্তন করার, সবকিছু পুনর্গঠনের আহ্বান জানানো হয়েছে। কিন্তু বিশ্বের সবকিছু পরিবর্তন করা যায় না বা করা উচিত নয়।’
বিএনপি নেতা বলেন, যখন অনেকে পরিবর্তনের কথা বলেন, তখন পরিবর্তনের জন্য এটি পরিবর্তন করা উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, ‘যখন আমরা সংস্কারের কথা বলি, তখন আমি বলি সংস্কারগুলো ভাসাভাসা হওয়া উচিত নয়। বাহ্যিক পরিবর্তন ১৮ কোটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করবে না। আপনি সংবিধানের কয়েকটি লাইন সংশোধন করতে পারেন - এমনকি পুরো দলিলটিও পুনর্লিখন করতে পারেন—তবে এটি কোনো কাজে আসবে না, যদি না এই দেশ পরিচালনাকারী মানুষের হৃদয় পরিবর্তন হয়।’
পড়ুন: বিষাক্ত রাজনীতি এড়াতে দলগুলোর পারস্পরিক বোঝাপড়ার আহ্বান ফখরুলের
২১৬ দিন আগে
লন্ডন বৈঠকের ঘোষণা অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন দিতে হবে: মুরাদ
ঢাকা জেলা যুবদলের সভাপতি ইয়াছিন ফেরদৌস মুরাদ বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের লন্ডন বৈঠকের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিতে হবে।
শনিবার (২ আগস্ট) ঢাকার ধামরাই উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে বালিথা চেয়ারম্যানবাড়ির সামনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সভায় ইউপি চেয়ারম্যান ও ধামরাই উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রমিজুর রহমান চৌধুরী রুমার সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা জেলা মহিলা দলের আহ্বায়ক সাবিনা ইয়াসমিন, বিএনপি নেতা বর রহমান, হাফিজুর রহমান, ছাত্রদলের ইবাদুল হক জাহিদ, ইসমাইল হোসেন সুমন, স্বেচ্ছাসেবকদলের শাহজাহান হোসেন শিপু, যুবদলের এসএম জামান ও সাবেক ছাত্রদল নেতা মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।
ইয়াছিন ফেরদৌস মুরাদ বলেন, স্বৈরাচার হাসিনা সরকার গণতন্ত্র হত্যা করে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিল। গত ১৬ বছরে দেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। স্বৈরাচারের পতনের পর মানুষ ভোট দেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। সরকারকে নির্বাচন দিয়ে মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দিতে হবে। লন্ডন বৈঠকের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারের দোসররা এখনও রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বসে দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। এই ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
২১৬ দিন আগে
বিএনপি বিজয়ী হলে ফ্যাসিবাদবিরোধীদের নিয়ে জাতীয় সরকার হবে: নজরুল ইসলাম
আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হলে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী সব পক্ষকে নিয়ে একটি জাতীয় বা ঐকমত্যের সরকার গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। এ সময় তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যের ওপর জোর দেন।
শনিবার (২ আগস্ট) রাজধানীর এফডিসিতে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য ও জুলাই চেতনা নিয়ে একটি ছায়া সংসদ বিতর্ক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, গত ১৬ বছরের অব্যাহত প্রচেষ্টার ফলেই সংঘটিত হয়েছে জুলাই অভ্যুত্থান। আমরা বারবার লড়াই করে বিজয়ী হলেও সেই বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
পড়ুন: গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার রূপকল্প হচ্ছে জুলাই ঘোষণাপত্র: তথ্য উপদেষ্টা
‘চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের বীর সেনানীদের সবাইকে আমাদের ধারণ করতে হবে। এরাই রক্ত দিয়ে, জীবন দিয়ে আমাদের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের সুযোগ করে দিয়েছেন।’
‘দুর্নীতি-অনাচার থেকে যদি আমরা জাতিকে রক্ষা করতে না পারি, তাহলে আমাদের সব অর্জন ব্যর্থ হয়ে যাবে। এজন্য অবশ্যই আমাদের ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য প্রয়োজন—যে ঐক্য জুলাইয়ের চেতনাকে সমুন্নত রাখবে,’ যোগ করেন তিনি।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা নির্বাচিত হলে, আমাদের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে যারা ছিলেন—স্বৈরাচারবিরোধী, ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে যারা ছিলেন—তাদের সবাইকে নিয়ে একটি জাতীয় সরকার বা ঐক্যমতের সরকার গঠন করা হবে। পতিত আওয়ামী লীগ এখনো দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত করছে। এ বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন থাকতে হবে।
“বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ অন্যান্য দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব যতই থাকুক না কেন, এরা কেউই অগণতান্ত্রিক দল নয়। সবাই গণতান্ত্রিক দল। কাজেই নির্বাচনের ব্যাপারে কারো কোনো বাধা আছে বলে আমি মনে করি না। নির্বাচনের প্রস্তুতি ও জনগণের আকাঙ্ক্ষা সবই নির্বাচনের পক্ষে আছে। তাই আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নির্বাচন চাই,” বলেন এই প্রবীণ রাজনীতিক।
‘ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’ নামের একটি বিতার্কিক সংগঠন এই ছায়া সংসদের আয়োজন করে। এতে তেজগাঁও কলেজকে পরাজিত করে ইডেন মহিলা কলেজের বিতার্কিকরা বিজয়ী হন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
২১৬ দিন আগে
জামায়াত আমিরের বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাইপাস সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (২ আগস্ট) রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের নেতৃত্বে এ সার্জারি হয়েছে।
পরে ডা. জাহাঙ্গীর কবির নিজেই বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, জামায়াত আমিরের সার্জারি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোনো জটিলতা ছাড়াই চারটি বাইপাস করা হয়েছে। তার তিনটি বাইপাস করার কথা ছিল, আমরা চারটা বাইপাস করেছি, যেন কোনো দিকে কোনো সমস্যা না হয়।
আগামী সাত দিন পর জামায়াত আমির বাসায় যেতে পারবেন জানিয়ে তিনি বলেন, এখন তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছেন। আইসিইউতে তাকে দুই দিন রাখা হবে। দরকার হলে তিন দিন বা চার দিন অথবা যত দিন লাগে রাখা হতে পারে। সবকিছু সুন্দরভাবে হয়েছে।
তার রোগের সময়োপযোগী অপারেশন হয়েছে জানিয়ে এই চিকিৎসক বলেন, তার হার্টের রক্তনালিতে প্রবাহ তেমন ভালো ছিল না, যা হয় সাধারণত। ঠিক সময়ে ঠিক কাজটি হয়েছে।
ডা. জাহাঙ্গীর কবির আরও বলেন, জামায়াত আমির বাংলাদেশের চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এত বড় সার্জারির বিষয়টি দেশের চিকিৎসক সমাজকে অনুপ্রাণিত করেছে।
আরও পড়ুন: জামায়াত আমির ডা. শফিকুরের হার্টে ব্লক, দেশেই করবেন বাইপাস সার্জারি
এরআগে শুক্রবার (১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক ব্রিফিংয়ে বলেন, দলের আমির শফিকুর রহমানের আর্টারিতে (ধমনি) ছোট-বড় মোট পাঁচটি ব্লক ধরা পড়েছে। এর মধ্যে তিনটি ব্লক বড় (প্রায় ৮৬ শতাংশ)। বাকি দুটি ব্লকের একটি ৬০ এবং অন্যটি ৬৭ শতাংশ।
গত ৩০ জুলাই ইউনাইটেড হাসপাতালে এনজিওগ্রাম করা হলে এই ব্লকগুলো শনাক্ত হয়। ১৯ জুলাই রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলের জাতীয় সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি দুবার মঞ্চে ঢলে পড়েন। এরপর তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।
মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, জামায়াত আমিরের পরিবার ও দলের পরামর্শ ছিল দেশের বাইরে অস্ত্রোপচারের। কিন্তু তাতে আমির সম্মত হননি। তিনি দেশের চিকিৎসকদের প্রতি আস্থা রেখেছেন।
জামায়াতের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, সুচিকিৎসার সুবিধার্থে দর্শনার্থীদের হাসপাতালে ভিড় না করতে। সবাইকে দোয়ার আহ্বান জানানো হয়।
২১৬ দিন আগে