খেলাধুলা
কোনোমতে জিতে শীর্ষে উঠল ‘ছন্দহীন’ লিভারপুল
নিউক্যাসল ইউনাইটেডের মাঠে দিনের শুরুতে হোঁচট খেয়ে প্রতিপক্ষ দলগুলোকে যে সুযোগ করে দিয়েছিল ম্যানচেস্টার সিটি, তা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে লিভারপুল। চেনা ছন্দে নিজেদের মেলে ধরতে না পারলেও কোনোমতে জয় তুলে নিয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠেছে আর্নে স্লটের দল।
প্রিমিয়ার লিগের ষষ্ঠ রাউন্ডের ম্যাচে মলিনো স্টেডিয়ামে উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্সকে ২-১ গোলে হারিয়েছে লিভারপুল।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ডিফেন্ডার ইব্রাহিমা কোনাতে লিভারপুলকে এগিয়ে নেওয়ার পর বিরতির পর মাঠে নেমেই উলভসকে সমতায় ফেরান রায়ান আইত-নুরি। এরপর ৬১তম মিনিটে পেনাল্টি পেলে স্পট কিক থেকে লিভারপুলের জয়সূচক গোলটি করেন মোহাম্মদ সালাহ।
আরও পড়ুন: এবার নিউক্যাসলের বিপক্ষেও সিটির হোঁচট
এর ফলে ছয় ম্যাচে পাঁচ জয়ে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে সিটিকে টপকে টেবিলের শীর্ষে উঠল লিভারপুল। ১৪ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে রয়েছে পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা। সিটির সমান পয়েন্ট নিয়েও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে তৃতীয় স্থানে রয়েছে আর্সেনাল। আর ব্রাইটনের বিপক্ষে ৪-২ ব্যবধানে জিতে ১ পয়েন্টে পিছিয়ে থেকে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে এনসো মারেসকার চেলসি।
উল্লেখ্য, এক ম্যাচ কম খেলে ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পঞ্চম স্থানে রয়েছে অ্যাস্টন ভিলা। রবিবার ইপসউইচ টাউনের বিপক্ষে মাঠে নামবে উনাই এমেরির শিষ্যরা। ম্যাচটি জিততে পারলে লিভারপুলের সমান ১৫ পয়েন্ট নিয়ে সিটিকে তিনে ঠেলে দুইয়ে উঠে আসবে বার্মিংহ্যামের এই দলটি।
আরও পড়ুন: পালমারের চার গোল, চেলসিতে বিধ্বস্ত ব্রাইটন
লেস্টারের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের পর শেষ সময়ের গোলে জিতল আর্সেনাল
৫২৪ দিন আগে
উড়তে থাকা বার্সেলোনাকে মাটিতে নামাল ওসাসুনা
একের পর এক দুর্দান্ত জয়ে লা লিগায় উড়ে চলেছিল হান্সি ফ্লিকের বার্সেলানা। এবার সেই উড়তে থাকা দলটিকে মাটিতে নামাল ওসাসুনা।
লা লিগার অষ্টম রাউন্ডের ম্যাচে ওসাসুনার এল সাদার স্টেডিয়ামে বার্সেলোনাকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে স্বাগতিকরা।
এর ফলে লিগে সাত ম্যাচ পর বার্সেলোনা প্রথম হারের মুখ দেখেছে। অন্যদিকে, চলতি মৌসুমে ঘরের মাঠে নিজেদের অপজেয় যাত্রা আরও একটু লম্বা করেছে ওসাসুনা (তিন জয়, এক ড্র)।
শুধু তা-ই নয়, লিগে এক যুগ পর নিজেদের মাঠে বার্সেলোনার বিপক্ষে জয় পেল ওসাসুনা। সর্বশেষ ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘরের মাঠে কাতালানদের হারিয়েছিল দলটি।
চোটজর্জর দল নিয়ে ভুগতে থাকায় এদিন বেশকিছু পরিবর্তন নিয়ে একাদশ সাজিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে চেয়েছিলেন বার্সা বস ফ্লিক। তবে ওসাসুনার শারীরিকভাবে সামর্থ্যবান ফুটবলারদের সামনে সেই পরীক্ষায় চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: বার্সেলোনা ও সমর্থকদের উয়েফার শাস্তি
এদিন ওসাসুনার হয়ে জোড়া গোল করে ম্যাচসেরা হয়েছেন দলটির ফরোয়ার্ড আন্তে বুদিমির। এছাড়া দুই অর্ধে দুটি গোল করেন যথাক্রমে উইঙ্গার ব্রায়ান সারাগোসা এবং আবেল ব্রেতোনেস।
বার্সেলোনার গোলদুটি করেন পাউ ভিক্তর ও লামিন ইয়ামাল।
এদিন গত ম্যাচের একাদশের চার খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দিয়ে নতুন একাদশ সাজান হান্সি ফ্লিক। রক্ষণভাগে লেফট ব্যাক আলেক্স বালদের পরিবর্তে ক্লাবটির ‘বি’ টিমের খেলোয়াড় জেরার্দ মার্তিন এবং সেন্টার ব্যাক ইনিগো মার্তিনেসের পরিবর্তে আরেক তরুণ সের্জি দমিঙ্গেসকে সুযোগ দেন তিনি। এছাড়া আক্রমণ ভাগের কার্যকর দুই উইঙ্গার রাফিনিয়া ও লামিন ইয়ামালকে বেঞ্চে বসিয়ে তাদের পরিবর্তে যথাক্রমে পাউ ভিক্তর ও ফেররান তোরেস দিয়ে ম্যাচ শুরু করান এই জার্মান কোচ।
মাঠে নামার পর থেকেই খেলায় দক্ষতার অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে বার্সেলোনার। আর তা দেখে গোল পেতে শুরু থেকেই মরিয়া হয়ে ওঠে ওসাসুনা।
ম্যাচের পঞ্চদশ মিনিটে ডান পাশ দিয়ে দুর্দান্ত এক আক্রমণে উঠে বার্সেলোনার বক্সের সামান্য বাইরে থেকে কাছের পোস্টে বুলেট শট নেন উইং ব্যাক হেসুস আরেসো। তবে শটটি লক্ষ্যে রাখতে ব্যর্থ হন তিনি।
এর তিন মিনিট পরই গোল পেয়ে যায় ওসাসুনা। বাঁ পাশ ধরে আক্রমণে উঠে কর্নার স্পটের কাছ থেকে গোলমুখে ক্রস বাড়ান উইঙ্গার ব্রায়ান সারাগোসা। তা থেকে হেডারে ঠিকানা খুঁজে নেন আন্তে বুদিমির।
৫২৪ দিন আগে
চার গোল করে ইতিহাসের পাতায় পালমার
প্রিমিয়ার লিগে শনিবার ব্রাইটনের বিপক্ষে দারুণ এক জয় পেয়েছে চেলসি। আর তাতে একাই চার গোল করে অনন্য এক কীর্তি গড়েছেন ব্লুসদের ইংলিশ মিডফিল্ডার কোল পালমার।
প্রিমিয়ার লিগে শনিবার স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিয়নকে ৪-২ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে চেলসি।
চেলসির চারটি গোলই করেছেন ২২ বছর বয়সী ইংলিশ প্রতিভা কোল পালমার। মাত্র দশ মিনিটের ব্যবধানে হ্যাটট্রিক করার পর ২০ মিনিটের মধ্যে ওই চার গোল করেন তিনি।
পালমারের চারটি গোলই এসেছে বিরতির আগে। আর তাতেই ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছেন এই প্রতিভাবান তরুণ।
প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে প্রথমার্ধে চার গোল করার রেকর্ড আর কারও নেই। লিগের ৩২ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ফুটবলার এই কীর্তি গড়ল বলে জানিয়েছে প্রিমিয়ার লিগের পরিসংখ্যান প্রকাশকারী সাইট অপটা।
আরও পড়ুন: পালমারের চার গোল, চেলসিতে বিধ্বস্ত ব্রাইটন
এদিন ম্যাচের ২১, ২৮, ৩১ ও ৪১তম মিনিটে গোলগুলো করেন পালমার। এর মধ্যে তার দ্বিতীয় গোলটি আসে পেনাল্টি থেকে।
অবশ্য ওই চার গোলের পর দ্বিতীয়ার্ধে আর কোনো গোলের দেখা পায়নি চেলসি। দ্বিতীয়ার্ধে গোল পায়নি ব্রাইটনও। ফলে ৪-২ গোলে জিতে ম্যাচ শেষ করে চেলসি।
এর আগে, গত মৌসুমেও প্রিমিয়ার লিগে চার গোল করেন পালমার। এভারটনের বিপক্ষে চলতি বছরের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচটি ৬-০ গোলে জেতে চেলসি।
এদিকে, আজকের হ্যাটট্রিকের ফলে লিগে তার মোট হ্যাটট্রিক সংখ্যা হলো তিনটি। এর মাধ্যমে প্রিমিয়ার লিগে তিন হ্যাটট্রিক করা চেলসির চতুর্থ ফুটবলার হিসেবে দিদিয়ের দ্রগবা, ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড ও জিমি ফ্লয়েডের পাশে বসলেন তিনি।
আজকের পারফরম্যান্সের পর লিগে ৬ ম্যাচে পালমারের গোলসংখ্যা হলো ৬টি। এর পাশাপাশি চারটি অ্যাসিস্টও করেছেন তিনি।
দশ গোল নিয়ে লিগে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতা ম্যানচেস্টার সিটির আর্লিং হালান্ড। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন পালমার। আর সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের তালিকায় লেস্টার সিটির উইলফ্রেদ এনদিদি ও লিভারপুলের মোহাম্মদ সালাহর সঙ্গে যৌথভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন তিনি। ৬ অ্যাসিস্ট নিয়ে এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন আর্সেনালের ইংলিশ উইঙ্গার বুকায়ো সাকা।
৫২৪ দিন আগে
পালমারের চার গোল, চেলসিতে বিধ্বস্ত ব্রাইটন
বল দখলে লড়াইয়ে পরিষ্কার দাপট দেখাল ব্রাইটন, কিন্তু কোল পালমারের প্রতিভার কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হলো ফাবিয়ান হুরসেলারের শিষ্যদের। ফলে জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে চেলসি।
প্রিমিয়ার লিগে শনিবার স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিয়নকে ৪-২ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে চেলসি।
ব্লুসদের চারটি গোলই করেছেন ২২ বছর বয়সী ইংলিশ প্রতিভা কোল পালমার। অন্যদিকে ব্রাইটনের গোলদুটি করেছেন জর্জিনিয়ো রুটার ও কার্লস বালেবা। এদিন ৬টি গোলোরর সবগুলো হয়েছে ম্যাচের প্রথমার্ধে।
আরও পড়ুন: লেস্টারের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের পর শেষ সময়ের গোলে জিতল আর্সেনাল
ম্যাচের সপ্তম মিনিটে গোল করে ব্রাইটনকে এগিয়ে নেন রুটার। কিন্তু সেই ব্যবধান বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি তারা। ২১তম মিনিটেই নিকোলাস জ্যাকসনের অ্যাসিস্ট থেকে প্রথম গোলটি করে দলকে সমতায় ফেরান পালমার।
৭ মিনিট পর পেনাল্টি থেকে পালমারের দ্বিতীয় গোলে ম্যাচে প্রথমবার এগিয়ে যায় চেলসি। তার তিন মিনিট পর পেশাদার হ্যাটট্রিক পূরণ করেন এই প্রতিভাবান অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার।
এরপর ৩৪তম মিনিটে বালেবার গোলে ঘুরে দাাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয় ব্রাইটন। তবে ৪১তম মিনিটে চতুর্থ গোলটি করে ফের ব্যবধান বাড়িয়ে নেন পালমার।
দ্বিতীয়ার্ধেও বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ রেখে সুযোগ খুঁজেছিল ব্রাইটন, কিন্তু বল পেলেই ক্ষুরধার আক্রমণে উঠে উল্টো তাদের রক্ষণেই ভীতি ছড়িয়েছে স্যানচো-জ্যাকসন-এনকুঙ্কুরা। তবে পরে আর কোনোপাশেই গোল হয়নি। ফলে প্রথমার্ধের স্কোরলাইন অপরিবর্তিত রেখেই শেষ হয় ম্যাচ।
আরও পড়ুন: এবার নিউক্যাসলের বিপক্ষেও সিটির হোঁচট
এই জয়ে ৬ ম্যাচে চারটি জয় ও একটি ড্রয়ে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে এনসো মারেসকার শিষ্যরা।
৬ ম্যাচে ৪ জয় ও দুটি ড্রয়ে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। সমান সংখ্যক ম্যাচে সমান জয় ও ড্রয়ে সমান পয়েন্ট নিয়েও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় দুইয়ে আর্সেনাল।
দিনের অপর ম্যাচে নিউক্যাসলের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছে পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা। আর ৪-২ গোলের জয় পেয়েছে মিকেল আর্তেতার দল।
৫২৪ দিন আগে
লেস্টারের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের পর শেষ সময়ের গোলে জিতল আর্সেনাল
প্রথমার্ধ প্রবল পরাক্রম প্রদর্শনের মাধ্যমে ২ গোলে এগিয়ে গিয়েও দ্বিতীয়ার্ধে খেই হারিয়ে ফেলল আর্সেনাল। তবে ম্যাচ যখন সমতায় শেষ হওয়ার পথে, ঠিক তখনই আরও দুটি গোল করে দারুণ এক জয় তুলে নিয়েছে মিকেল আর্তেতার শিষ্যরা।
এমিরেটস স্টেডিয়ামে শনিবার প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে লেস্টার সিটির বিপক্ষে ৪-২ গোলে জিতেছে আর্সেনাল।
দলের হয়ে জোড়া গোল করেন আর্সেনাল মিডফিল্ডার লেয়ান্দ্রো ত্রোসা, আর প্রথমে ও শেষে বাকি গোলদুটি করেন গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি ও কাই হাভার্টস। অন্যদিকে, লেস্টারের দুটি গোলই আসে জেমস জাস্টিনের পা থেকে।
এদিন দুর্দান্ত পারফর্ম করে প্রথমার্ধে ম্যাচের পুরোটা সময় লেস্টারের রক্ষণে ত্রাস ছড়ায় আর্সেনাল। এরই ধারাবাহিকতায় ২০তম মিনিটে দলকে এগিয়ে নেন মার্তিনেল্লি।
এ সময় ডান পাশ দিয়ে আক্রমণে উঠে বক্সের মধ্যে নিচু ক্রস বাড়ান টমাস পার্টি। তা থেকে প্রথম ছোঁয়াতেই ঠিকানা খুঁজে নেন ২৩ বছর বয়সী এই ব্রাজিলীয় উইঙ্গার।
এরপর বিরতির ঠিক আগমুহূর্তে মার্তিনেল্লির গোলমুখে বাড়ানো নিচু ক্রসে প্রথম টোকাতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ত্রোসা।
আরও পড়ুন: এবার নিউক্যাসলের বিপক্ষেও সিটির হোঁচট
বিরতির পর মাঠে নেমেই ব্যবধান কমায় লেস্টার। ৪৭তম মিনিটে বাঁ পাশে বক্সের বেশ বাইরে থেকে নেওয়া ফ্রি কিকে গোলমুখের উদ্দেশে শূন্যে বল ভাসিয়ে দেন ফাকুন্দো বুয়োনানোত্তে, সেই ক্রসে জেমস জাস্টিন মাথা ছোঁয়ালে বল কাই হাভার্টসের কাঁধে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়িয়ে যায়। ফলে দ্বিতীয়ার্থেধের শুরুতেই লড়াইয়ের রসদ পেয়ে যায় লেস্টার।
এরপর আর্সেনালের আক্রমণ সামলে ম্যাচের ৬৩তম মিনিটে দ্বিতীয় গোলে সমতায় ফেরে লেস্টার। এবারও নায়ক জাস্টিন।
এবার বাঁ পাশ থেকে উইলফ্রেদ এনদিদি বিপরীত পাশে থাকা জাস্টিনকে উড়ন্ত ক্রস দিলে প্রথম ছোঁয়াতেই দর্শনীয় এক ভলিতে দ্বিতীয়বারের মতো সাফল্য পান এই ফরোয়ার্ড।
তবে ম্যাচটি যখন সমতায় শেষ হওয়ার দিকে একটু একটু করে এগোচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে গোল করে জয় ছিনিয়ে নেয় আর্সেনাল। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা ক্রস বিপরীত পাশে চলে এলে বক্সের মধ্যে ফাঁকায় পেয়ে যান ত্রোসা। প্রথম ছোঁয়াতেই তিনি গোলে নিচু শট নিলে গোলমুখে প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে জালে জড়িয়ে যায় বল, আর উচ্ছ্বাসে মাতে এমিরেটসের গ্যালারিভর্তি দর্শক।
এরপর যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে লেস্টারের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন হাভার্টস। তিনি একক নৈপুণ্যে লক্ষ্যভেদ করলে ৪-২ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্সেনাল।
আরও পড়ুন: সিটি সমর্থকদের জোড়া দুঃসংবাদ দিলেন গার্দিওলা
এই জয়ে ৬ ম্যাচে ৪ জয় ও দুটি ড্রয়ে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে উঠল আর্সেনাল। অবশ্য সমান সংখ্যক ম্যাচে সমান জয় ও ড্রয়ে সমান পয়েন্ট নিয়েও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শীর্ষ সিটি। দিনের অপর ম্যাচে নিউক্যাসলের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছে পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা।
৫২৪ দিন আগে
গত মৌসুমের হারের প্রতিশোধ নেওয়াই রিয়ালের লক্ষ্য: আনচেলত্তি
ঘরোয়া লিগে সব মিলিয়ে গত মৌসুমে মাত্র দুই ম্যাচ হারে রিয়াল মাদ্রিদ; দুটিই নগর প্রতিদ্বন্দ্বী আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে। তাই এ মৌসুমের প্রথম মাদ্রিদ ডার্বিতেই তার শোধ তুলতে চান আনচেলত্তি।
মাদ্রিদের সিভিতাস মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে রবিবার রাতে লা লিগায় মৌসুমের প্রথম মাদ্রিদ ডার্বিতে মুখোমুখি হবে স্প্যানিশ রাজধানীর দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী। এই ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে আসেন রিয়াল কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
তিনি বলেন, ‘আমাদের গত বছরের ভুলগুলো এবার কোনোভোবেই পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া যাবে না। ওই শিক্ষাটা (গত মৌসুমের) আগামীকাল কাজে লাগাতে হবে। সেখানে (মেত্রোপলিতানোয়) খেলা সবসময়ই কঠিন।’
আরও পড়ুন: মাদ্রিদ ডার্বির আগে রিয়াল শিবিরে দুঃসংবাদ
কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করে বেশকিছু খেলোয়াড় কিনে এবার লিগ জয়ের উদ্দেশ্যেই নতুন মৌসুম শুরু করেছে আতেলেতিকো মাদ্রিদ। হুলিয়ান আলভারেস, আলেকজান্ডার সোর্লথ, কনর গ্যালাগার, রবিন লে নরমান্দ, হুয়ান মুসোর মতো তারকা খেলোয়াড় দলে ভিড়িয়েছে তারা। সেইসঙ্গে ক্লাবটির পুরনো খেলোয়াড়রাও ছন্দে রয়েছেন। এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে পয়েন্ট টেবিলেও, রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে মাত্র দুই পয়েন্টে পিছিয়ে রয়েছে তারা। ৭ ম্যাচের চারটি জয় ও তিনটি ড্র করলেও হারেনি এখন পর্যন্ত। তাদের সে শক্তিমত্তার কথা ঝরল আনচেলত্তির কণ্ঠেও।
‘এ বছর তারা অনেক উন্নতি করেছে। বেশকিছু দারুণ খেলোয়াড়ও কিনেছে তারা। ফলে লিগের শেষ পর্যন্ত যে ওরা আমাদের ও বার্সেলোনাকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে যাবে, তা একপ্রকার নিশ্চিত।’
তবে নিজের শিষ্যদের বোঝাপড়া নিয়েও আত্মবিশ্বাসী ৬৫ বছর বয়সী এই কোচ।
‘আমাদের দলও আগের চেয়ে অনেক ঐক্যবদ্ধ ও কার্যকর এবং আগামীকাল তাদের খুবই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা দিতে হবে।’
তবে সর্বোপরি এমন একটি লড়াই হবে, যা থেকে দর্শক আনন্দ পাবে বলে মনে করেন আনচেলত্তি।
আরও পড়ুন: জয়ে আনচেলত্তির ৩০০তম ম্যাচ রাঙাল রিয়াল মাদ্রিদ
৫২৪ দিন আগে
সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপ: টাইব্রেকারে পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ
ম্যাচের ৭২ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকার পর শেষ সময়ে অসাধারণভাবে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ। এরপর টাইব্রেকারে পাকিস্তানকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেছে সাইফুল বারী টিটুর দল।
শনিবার ভুটানের চ্যাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় সেমি ফাইনালের ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র করার পর টাইব্রেকারে ৮-৭ ব্যবধানে পাকিস্তানকে হারিয়েছে বাংলাদেশ।
এদিন ম্যাচের ৩২তম মিনিটে কর্নার থেকে আসা ক্রসে মাথা লাগিয়ে পাকিস্তানকে এগিয়ে নেন শাহাব আহমেদ। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আব্দুল রেহমান।
ম্যাচের ৬০তম মিনিটে বক্সের মধ্যে সিয়াম অমিতের হাতে বল লাগলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। এরপর স্পট কিক থেকে নির্ভুল শটে ঠিকানা খুঁজে নেন রেহমান।
দুই গোল হজম করেও হতাশ না হয়ে ব্যবধান কমাতে মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশের যুবারা। এর ফল তারা পেয়ে যায় ১২ মিনিট পরই।
আরও পড়ুন: এএফসি অনূর্ধ্ব ২০ এশিয়ান কাপ: ভিয়েতনামের কাছে হেরে বাছাইপর্ব থেকেই বাংলাদেশের বিদায়
৭২তম মিনিটে বদলি নামা মানিকের কোনাকুনি শট কর্নারের বিনিময়ে প্রতিহত করেন পাকিস্তানের গোলরক্ষক। তবে কর্নার থেকে আসা ক্রস থেকে বাংলাদেশকে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উপলক্ষ এনে দেন ফরোয়ার্ড মিঠু চৌধুরী।
৮০তম মিনিটে আরও একটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করেন মানিক। তবে অতিরিক্ত যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত গোলটি পেয়ে যায় বাংলাদেশ। রিফাত কাজীর বাড়নো ক্রসে মানিকের নিখুঁত শটে শেষ সময়ে সমতায় ফেরে বাংলাদেশ।
এরপর টাইব্রেকারে প্রথম পাঁচটি শট থেকেই গোল আদায় করে দুদল। অষ্টম শটের সময় নৈপুণ্য দেখান বদলি নামা গোলরক্ষক আলিফ রহমান ইমতিয়াজ। পাকিস্তানের আব্দুল ঘানির শট তিনি ডান দিকে ঝাঁপিয়ে সেভ করার পর নিজের কাজ সারেন আশিকুর রহমান। ফলে ৮-৭ গোলের ব্যবধানে শ্বাসরুদ্ধকার টাইব্রেকার শেষে জয়ের আনন্দে মাতে বাংলাদেশ।
আগামী সোমবার শিরোপার লড়াইয়ে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। শনিবার প্রথম সেমি ফাইনালে নেপালকে ৪-২ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত।
৫২৪ দিন আগে
‘আপত্তিকর’ আচরণের শাস্তি পেলেন মার্তিনেস
আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ তুলে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেসকে দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। এর ফলে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে আগামী ১০ অক্টোবর ভেনিজুয়েলা এবং ১৫ অক্টোবর বলিভিয়ার বিপক্ষে তাকে পাবে না আর্জেন্টিনা।
শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তার শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশন (এএফএ)।
এ মাসের শুরুতে অনুষ্ঠিত কলম্বিয়া ও চিলির বিপক্ষে ম্যাচে তার বিরুদ্ধে আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ এনেছে ফিফা।
বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে গত ৫ সেপ্টেম্বর চিলির বিপক্ষে জয়ের পর কোপা আমেরিকার রেপ্লিকা ট্রফি নিয়ে অশালীন ভঙ্গিতে উদযাপন করেন দিবু। ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পর ট্রফি নিয়ে তিনি যেভাবে উদযাপন করেছিলেন, তারেই পুনরাবৃত্তি করেন তিনি। তার এই উদযাপন সে সময়ই সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।
আরও পড়ুন: আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে কলম্বিয়ার মধুর প্রতিশোধ
এর পরের ঘটনাটি পাঁচ দিন পরের। সেদিন কলম্বিয়ার বিপক্ষে হেরে ১২ ম্যাচের অপরাজিত পথচলা থামে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যদের। ওই ম্যাচে একজন ক্যামেরাম্যানের সরঞ্জামে ধাক্কা মেরে ফের খবরের শিরোনাম ৩২ বছর বয়সী এই গোলকিপার।
সামজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি কারও দিকে চাপ মারছেন।
পরে জনি জ্যাকসন নামের ওই ক্যামেরাম্যান কলম্বিয়ান সংবাদমাধ্যমে অভিযোগ করেন, মার্তিনেস তার গায়ে হাত তুলেছেন।
আরও পড়ুন: নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় ভক্তদের সতর্ক করল আর্জেন্টিনা
এসব ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে আচরণভঙ্গের দায়ে মার্তিনেসকে শাস্তি দিয়েছে ফিফা। তবে ফিফার এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয় বলে জানিয়েছে এএফএ।
বিশ্বকাপের দক্ষিণ আমেরিকা বাছাইপর্বের ৮ ম্যাচ শেষে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে আর্জেন্টিনা। দুই পয়েন্ট কম নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে কলম্বিয়া এবং ১৫ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় উরুগুয়ে। এছাড়া আট ম্যাচ তিন জয় ও এক ড্রয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পঞ্চম স্থানে রয়েছে ব্রাজিল।
৫২৪ দিন আগে
এবার নিউক্যাসলের বিপক্ষেও সিটির হোঁচট
গত ম্যাচে দশজনের আর্সেনালের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের গোলে কোনোমতে হার এড়ানোর পর নিউক্যাসলের মাঠে গিয়ে আজও জয়ের দেখা পেল না ম্যানচেস্টার সিটি। ফলে টানা দুই ম্যাচে পয়েন্ট হারিয়ে শীর্ষস্থান নড়বড়ে হয়ে গেছে পেপ গার্দিওলার দলের।
প্রিমিয়ার লিগের ষষ্ঠ রাউন্ডের ম্যাচে সেন্ট জেমস পার্কে শনিবার স্থানীয় সময় দুপুরে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপেক্ষ ১-১ গোলের ড্র করেছে সিটি।
ম্যাচের ৩৫তম মিনিটে ইয়োস্কো গেভারদিওলের গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করলেও দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি থেকে গোল হজম করতে হয় গার্দিওলার শিষ্যদের।
আরও পড়ুন: সিটি সমর্থকদের জোড়া দুঃসংবাদ দিলেন গার্দিওলা
৫৮তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে উঠে সিটি গোলরক্ষককে একপ্রকার ফাঁকায় পেয়ে যান অ্যান্থনি গর্ডন। ড্রিবল করে এগোনোর সময় তাকে ফাউল করে বসেন এদেরসন, ফলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। এরপর স্পট কিক থেকে দলকে সমতায় ফেরান ২৩ বছর বয়সী এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড।
এরপর দুই দলই এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু গোল কোনোভাবেই আসছিল না। শেষের দিকে স্বাগতিকদের চেপে ধরে সিটি, কিন্তু আর গোল না পেলে ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচ।
এর ফলে ৬ ম্যাচে চার জয় ও দুই ড্রয়ে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থানেই রয়েছে সিটি। এক ম্যাচ কম খেলে লিভারপুল অ্যাস্টন ভিলার পয়েন্ট ১২ করে। আর ১১ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে আর্সেনাল।
ফলে ষষ্ঠ রাউন্ডে স্ব স্ব ম্যাচ জিতে এই তিন দলের প্রত্যেকের সিটিকে টপকে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে আর্সেনোলের জন্য এই লক্ষ্যটি একটু কঠিন। কারণ গার্দিওলার শিষ্যদের টপকাতে হলে অন্তত তিন গোলের ব্যবধানে জিততে হবে মিকেল আর্তেতার শিষ্যদের।
আরও পড়ুন: বার্সেলোনা ও সমর্থকদের উয়েফার শাস্তি
৫২৪ দিন আগে
দাবাগুরু রাণী হামিদ: আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশি নারীদের অনন্য অনুপ্রেরণা
আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে নারীদের ভূমিকার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণার শতাব্দী ২১ শতক। সেখানে বাংলাদেশি নারীদের উপস্থিতি অনেকটাই সীমিত। এরপরেও বিস্তৃত এই মঞ্চে অল্প যে দুয়েকটি পদচিহ্ন পড়ছে তা অনেকখানি এগিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশকে। তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বর্ষিয়ান দাবাড়ু রাণী হামিদ। ৮০ বছর বয়সেও এই দাবাগুরু নিজের সপ্রতিভার সাক্ষর রেখে বিশ্ব দরবারে দেশের মুখ উজ্জ্বল করে চলেছেন। ৪০ বছরের সুদীর্ঘ ক্রীড়া জীবনে দাবা খেলাকে ঘিরে তার নামের পাশে যুক্ত হয়েছে একাধিক বিশেষণ। এগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নারী মাস্টার, কমনওয়েলথের শীর্ষ দাবা খেলোয়াড় এবং ব্রিটিশ নারী দাবা চ্যাম্পিয়ন। চলুন, রাণী হামিদের একজন সফল দাবাড়ু হয়ে ওঠার গল্প এবং তার অর্জনগুলো সম্বন্ধে বিশদ জেনে নেওয়া যাক।
দাবাগুরু রাণী হামিদের ব্যক্তিগত জীবন
ভালো নাম সৈয়দা জসিমুন্নেসা খাতুন, পরিজনদের কাছে যিনি পরিচিত রাণী নামে। তার জন্ম ১৯৪৪ সালের ১৪ জুলাই ব্রিটিশ ভারতীয় শাসনামলে আসাম প্রদেশে (বর্তমান সিলেট)। বাবা সৈয়দ মমতাজ আলী ছিলেন তৎকালীন সময়ের একজন পুলিশ কর্মকর্তা, আর মা মোসাম্মাৎ কামরুন্নেসা খাতুন ছিলেন গৃহিণী।
শৈশবে রাণীর শিক্ষাজীবন শুরু হয় ১৯৫২ সালে চট্টগ্রামের নন্দনকানন গার্লস হাইস্কুলে। যেখানে তিনি সরাসরি দ্বিতীয় শ্রেনিতে ভর্তি হয়েছিলেন। বাবার চাকরির সুবাদে কয়েক বার স্কুল বদলের পর অবশেষে ১৯৬০ সালে সিলেট বালিকা বিদ্যালয় থেকে তিনি ম্যাট্রিক পাশ করেন। এরপর ঢাকার ইডেন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট এবং ডিগ্রি পরীক্ষা দেন।
১৯৫৯ সালে তার বিয়ে হয় তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল এবং ক্রীড়া সংগঠক এম এ হামিদের সঙ্গে। সেই থেকে তিনি হয়ে যান রাণী হামিদ এবং পরবর্তীতে এই নামেই সবার কাছে পরিচিত হন।
হামিদ দম্পতির জ্যেষ্ঠ ছেলে কায়সার হামিদ ছিলেন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের একজন ফুটবল খেলোয়াড়। ১৯৮০ এবং ১৯৯০-এর দশকে তিনি অধিনায়কত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের। মেজো ছেলে সোহেল হামিদ ছিলেন জাতীয় স্কোয়াশ চ্যাম্পিয়ন। কনিষ্ঠ ছেলে শাজাহান হামিদ ববি ছিলেন জাতীয় হ্যান্ডবল এবং ফার্স্ট ডিভিশন ফুটবল লীগ খেলোয়াড়। সর্ব কনিষ্ঠ সন্তান একমাত্র মেয়ে জাবিন হামিদ।
দাবাড়ু হিসেবে রাণী হামিদের পথচলা
১৯৭৪ থেকে ১৯৭৫ সালে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট কোয়ার্টারে থাকার সময় হামিদদের প্রতিবেশী ছিলেন জাতীয় দাবা চ্যাম্পিয়ন ড. আকমল হোসেন। তার সহযোগিতায় ১৯৭৬ সালে মহসিন দাবা প্রতিযোগিতায় নাম লেখান রাণী। এটিই ছিলো তার জীবনে প্রথমবারের মতো বড় কোনো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ।
১৯৭৭ সালে নারীদের জন্য প্রথম পৃথক দাবা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে নবদিগন্ত সংসদ দাবা ফেডারেশন। ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সংগঠনটি ১৯৭৮ ও ১৯৭৯ সালেও একই আয়োজন করে, আর তিনবারই তাতে চ্যাম্পিয়ন হন রাণী।
১৯৭৯ থেকে ১৯৮৪ পর্যন্ত টানা ৬ বছর জাতীয় শিরোপা ছিল রাণীর দখলে। ১৯৭৯ সালে তিনি ঢাকার একটি ওপেন কম্পিটিশনে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। আর তার জন্য এটিই খুলে দিয়েছিল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের দুয়ার। দেশের বাইরে তার প্রথম পা রাখেন ১৯৮১ সালে ভারতের হায়দারাবাদে অনুষ্ঠিত এশীয় চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণের মাধ্যমে। ১৯৮৩ সালে তিনি হেলেন মিলিগানের সঙ্গে যৌথভাবে ব্রিটিশ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেন। ইউরোপের প্রসিদ্ধ দাবা প্রতিযোগিতাটিতে এটি ছিল প্রথম এক বাংলাদেশি নারীর শিরোপা জয়। এরপরের ১৯৮৫ এবং ১৯৮৯-এর বৃটিশ শিরোপা তিনি এককভাবেই জিতেছিলেন।
১৯৮৪ সালে তিনি যোগ দেন বিশ্বের সর্বোচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন দাবা প্রতিযোগিতা ওয়ার্ল্ড দাবা অলিম্পিয়াডে। গ্রীসে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে ওপেন সেকশনে তিনি মুখোমুখি হয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের থেকে আগত বিশ্বের ৪র্থ গ্র্যান্ডমাস্টারের। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই খেলাটি রাণীর দাবা ক্যারিয়ারে ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেখানে তাকে এক মজার অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। প্রথম দর্শনে তাকে দেখে খেলার মূল প্রাঙ্গনে তাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছিল না। তাকে বলা হচ্ছিল যে, এই জায়গাটি শুধুমাত্র পুরুষ খেলোয়াড়দের জন্য। মূলত এই পুরুষ খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধেই যে তিনি ওপেন সেকশনে খেলতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ভাষাগত সমস্যার কারণে এই বিষয়টি বোঝাতে যেয়ে তার অনেকটা সময় লেগে গিয়েছিল।
রাণী ছিলেন দাবা অলিম্পিয়াডের ৫ম মহিলা, যিনি তার নিজ যোগ্যতায় অলিম্পিয়াডে জাতীয় পুরুষ দলে স্থান পেয়েছিলেন। ১৯৮৫ সালে তার নামের সঙ্গে যুক্ত হয় ওমেন ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার (ডব্লিউআইএম) খেতাব।
১৯৮৯-এ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় কাসেদ আন্তর্জাতিক মহিলা দাবা, যেখানে যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বেশ সুনাম অর্জন করেন রাণী। ২০১৬ সালের ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ স্পোর্ট্স প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে নারীদের ক্রীড়াঙ্গনে অগ্রণী ভূমিকা পালনের জন্য তাকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়। ২০১৭ সালে দিল্লিতে আয়োজিত কমনওয়েল্থ দাবা’য় দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শনের জন্য তিনি লাভ করেন স্বর্ণপদক লাভ করেন। এরপর রাশিয়ায় দাবা বিশ্বকাপ ২০১৮-তে জোনাল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর তিনি ‘জার্নালিস্ট চয়েস অ্যাওয়ার্ড’-এ ভূষিত হন।
২০১৯-এর সেপ্টেম্বরে ২০ বারের মতো বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা শিরোপা জিতেন রাণী। এটি এখন পর্যন্ত অর্জিত দেশের সর্বাধিক নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জয়।
দাবা অলিম্পিয়াড ২০২৪-এ রাণী হামিদের সাফল্য
বিশ্বের তুখোড় তুখোড় দাবাড়ুদের স্বর্গরাজ্য হলো দাবা অলিম্পিয়াড, যে প্রতিযোগিতা প্রতি দুই বছরে একবার অনুষ্ঠিত হয়। এই আয়োজনের সংগঠক আন্তর্জাতিক দাবা ফেডারেশন, যার ফরাসি ভাষায় সংক্ষিপ্ত রূপ ফিদে। এই ফিদে অলিম্পিয়াড টুর্নামেন্ট পরিচালনা এবং খেলাগুলো কোন দেশে হবে তা নির্ধারণ করে থাকে। বিভিন্ন দেশের ফিদে-স্বীকৃত দাবা সংস্থা থেকে কেবল একটি দল অলিম্পিয়াডে প্রবেশ করতে পারে। প্রতিটি দলে চারজন নিয়মিত এবং একজন রিজার্ভ খেলোয়াড় নিয়ে মোট পাঁচ সদস্য থাকে।
ফিদের অধীনে নারীদের জন্য রয়েছে আলাদা প্রতিযোগিতা, যেটি ওমেন্স চেস অলিম্পিয়াড নামে পরিচিত। বিভিন্ন দেশের জাতীয় মহিলা দলগুলোর কৃতিত্ব স্বরূপ দাবাড়ুদের ভূষিত করা হয় স্বর্ণ, রৌপ্য এবং ব্রোঞ্জ পদকে। চূড়ান্তভাবে বিজয়ী দলের জন্য থাকে বিশেষ ট্রফি, যার নাম ‘ভেরা মেনচিক কাপ’।
৪৫তম দাবা অলিম্পিয়াডের আসর বসে ২০২৪ সালের ১০ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বরে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে। টুর্নামেন্টের ৩য় রাউন্ডের ম্যাচে বার্বাডোসের লিশে স্প্রিংগারকে পরাজিত করেন রাণী। ম্যাচ জয়ী বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৩ দশমিক ৫, অপরদিকে পরাজিত বার্বাডোসের পয়েন্ট ছিলো শূন্য দশমিক ৫।
এছাড়াও টুর্নামেন্টে পরপর ৬টি ম্যাচে একটানা জয় পান রাণী। অবশ্য গত শুক্রবার নবম রাউন্ডে বাংলাদেশ নারী দাবা দল হার মানে আর্জেন্টিনার কাছে। রাণী এককভাবে সারকিস মারিয়া বেলেনকে হারালেও বাকি তিন ডুয়েলে আর্জেন্টাইনদের সঙ্গে সুবিধা করে উঠতে পারেনি বাংলাদেশিরা।
এই আসরে দ্বীপরাষ্ট্র গার্নসির ৮৩ বছর বয়সী পোলিন উডওয়ার্ডের পরে রাণী ছিলেন দ্বিতীয় বর্ষিয়ান দাবাড়ু। তাই চেস কমিউনিটি থেকে তাকে ভালবেসে ‘দাদু’ সম্বোধন করা হয়।
এই অর্জনের নেপথ্যে রাণী হামিদের মূল শক্তি
দাবা খেলায় যাত্রার শুরু থেকেই প্রতিটা মুহূর্তে দাবার প্রতি এক অমোঘ আকর্ষণ ছিল রাণীর। বড় কোনো চ্যালেঞ্জ নয়, বরং সবসময় খেলে গেছেন আনন্দ নিয়ে। খেলার প্রতি নিগূঢ় ভালোবাসার কারণে বয়সের বিষয়টি একদমি আমলে নেন না এই বয়স্ক দাবাড়ু। বরং প্রতিটি চাল দেওয়ার সময় তার উদ্দীপনা থাকে একদম তরুণদের মতোই। প্রতিপক্ষ কতটা শক্তিশালী বা অভিজ্ঞ তা নিয়ে কখনোই কোনো চিন্তা কাজ করে না তার মাঝে। তার ভাষ্যমতে, এমনও সময় গেছে যে, তিনি তার প্রতিপক্ষকে ঠিক করে চেনেনই না।
এই অর্জনগুলোর মধ্য দিয়ে বেশ কয়েকজন তারকা দাবাড়ুদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে উঠেছে রাণীর। এদের মধ্যে রয়েছেন ব্রিটিশ চ্যাম্পিয়ন সুসান ক্যাথরিন এবং হাঙ্গেরিয়ান-আমেরিকান দাবা গ্র্যান্ডমাস্টার সুসান পোল্গারসহ আরও অনেকে। সম্প্রতি পোল্গার তার সঙ্গে একটি ছবি তুলে তা তার এক্স প্রোফাইলে শেয়ার করেন।
পরিশিষ্ট
স্থানীয় মহসিন দাবা প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে ২০ বার জাতীয় নারী শিরোপা জয়। তারপর একে একে ব্রিটিশ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ, অলিম্পিয়াড, এবং কমনওয়েলথ স্বর্ণপদকপ্রাপ্তি। সব মিলিয়ে রাণী হামিদের এই দীর্ঘ যাত্রায় মূল শক্তি হিসেবে কাজ করেছে দাবা খেলার প্রতি তার অগাধ ভালবাসা এবং অসামান্য দক্ষতা। এই অর্জনগুলোর উপরি পাওনা হিসেবে তিনি পেয়েছেন বিশ্বখ্যাত দাবা তারকাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক; বিশেষ করে দাবা কমিউনিটিতে ‘দাদু’ সম্বোধন। বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের নারী দাবা উৎসাহীদের জন্য তার এই অভাবনীয় সাফল্য নিঃসন্দেহে এক বিরাট অনুপ্রেরণা।
আরো পড়ুন: শেষ টেস্ট খেলে দেশ ছাড়ার ইঙ্গিত সাকিবের
৫২৪ দিন আগে