খেলাধুলা
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নতুন ফরমেট: যা জানা প্রয়োজন
নতুন মৌসুমে নতুন আঙ্গিকে শুরু হতে চলেছে ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের অভিজাতদের লড়াই উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হবে নতুন মৌসুমের গ্রুপপর্বের ড্র। এর আগে চলুন জেনে নেই, নতুন আঙ্গিকের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ আসরের খুঁটিনাটি।
এতদিন ধরে ৩২ দল আটটি গ্রুপে ভাগ হয়ে গ্রুপপর্ব খেলার রীতি থাকলেও ২০২৪-২৫ মৌসুমে এই ধারায় পরিবর্তন আসতে চলেছে। নতুন মৌসুম থেকে ৩৬ দল নিয়ে শুরু হবে ক্লাব ফুটবলে ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লড়াই।
মোনাকোর গ্রিমালদি ফোরামে বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নতুন ফরমেটের গ্রুপপর্বের ড্র অনুষ্ঠিত হবে। উয়েফা ডটকমে সরাসরি দেখা যাবে এই আসরের ড্রয়ের অনুষ্ঠান।
গ্রুপপর্বে এসেছে আমূল পরিবর্তন
২০০৩ সাল থেকে গ্রুপপর্বে হোম ও অ্যাওয়ে ম্যাচ হিসেবে প্রতিটি দল তিন প্রতিপক্ষের সঙ্গে ছয়টি করে ম্যাচ খেলত। এর মধ্যে থেকে টেবিলের শীর্ষ দুই দল শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিত। এছাড়া তৃতীয় দল ইউরোপা লিগের প্লে-অফ খেলার সুযোগ পেত, আর তলানির দল সরাসরি বাদ পড়ত।
তবে নতুন মৌসুমে প্রতিটি প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এসব সুবিধা থাকছে না।
৩৬টি দলের প্রত্যেকে গ্রুপপর্বে আটটি করে ম্যাচ খেলবে। ফলে গত মৌসুমেও গ্রুপপর্বে যেখানে মোট ৯৬টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতো, এই মৌসুম থেকে তা বেড়ে দাঁড়াবে ১৪৪ ম্যাচ। তবে এবারের প্রতিটি ম্যাচই হবে নকআউট, অর্থাৎ এক প্রতিপক্ষের সঙ্গে একবার করেই খেলার সুযোগ পাবে ক্লাবগুলো।
গ্রুপপর্বের সবগুলো ম্যাচ শেষে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ ৮ দল সরাসরি শেষ ষোলো নিশ্চিত করবে, এর পরের ১৬ দল থেকে দুই লেগের প্লে-অফ পর্ব খেলে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেবে বাকি ৮ দল। এছাড়া শেষ ১২ দল গ্রুপপর্ব থেকে সরাসরি বাদ পড়বে। তারা আর ইউরোপা লিগে খেলার সুযোগ পাবে না।
প্লে-অফ পর্বে ৯-১৬তম দলগুলো ঘরের মাঠে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচ খেলার সুবিধা পাবে।
নতুন ফরমেটের শেষ ষোলো থেকে ফাইনাল পর্যন্ত অবশ্য আগের নিয়মেই অনুষ্ঠিত হবে। তবে দলের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ফরমেটে পরিবর্তন আনায় টুর্নামেন্টের মোট ম্যাচ সংখ্যা ১২৫ থেকে বেড়ে ১৮৯-এ দাাঁড়াবে। আবার ছয় ম্যাচের পরিবর্তে একেকটি দল এবার কমপক্ষে আটটি করে ম্যাচ খেলবে, আর ফাইনালিস্ট দুই দলের খেলা মোট ম্যাচের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৭টি।
অতিরিক্ত চার ক্লাব যেভাবে বাছাই হবে
ইউরোপের যে দুই দেশের ক্লাবগুলো গত মৌসুমে উয়েফার সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সম্মিলিতিভাবে সবচেয়ে ভালো পারফর্ম করেছে, সেই দুই দেশ থেকে অতিরিক্ত একটি করে দল পরের মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জায়গা করে নেবে।
এই হিসাবে ইতালির সেরি-আ এবং জার্মানির বুন্দেসলিগার পয়েন্ট টেবিলের পঞ্চম দল যথাক্রমে বোলোনিয়া ও বরুশিয়া ডর্টমুন্ড এবারের আসরে সুযোগ পাচ্ছে।
গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল খেলে ডর্টমুন্ড। এছাড়া লেভারকুজেন খেলে ইউরোপা লিগের ফাইনাল। ফলে লিগ টেবিলের পঞ্চম দল হয়েও এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জায়গা পেয়েছে ডর্টমুন্ড। অন্যদিকে, গত আসরের ইউরোপা লিগের শিরোপা জেতে ইতালির ক্লাব আতালান্তা। কিন্তু তারা প্রথম চার দল হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সরাসরি জায়গা করে নেওয়ায় পঞ্চম দল হয়েও বোলোনিয়ার কপাল খুলেছে।
তৃতীয় দল আসবে ইউরোপের সেরা পাঁচ ঘরোয়া লিগের পঞ্চম লিগ থেকে। সেই হিসেবে ফ্রান্সের লিগ-১ থেকে দুটি দল সুযোগ পেলেও এবার তৃতীয় দল হিসেবে সরাসরি জায়গা পেয়েছে ব্রেস্ত।
উল্লেখ্য, উয়েফার প্রতিযোগিতায় পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে ইংল্যান্ড, স্পেন, ইতালি, জার্মানি ও ফ্রান্সের মধ্যে থেকে পঞ্চম দল নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।
এছাড়া চতুর্থ ক্লাবটি আসবে র্যাঙ্কিংয়ের নিচের সারির দেশগুলোর সেরা ক্লাবগুলোর মধ্যে প্লে-অফ পর্ব থেকে। গত আসর পর্যন্ত চারটি দেশের চার ক্লাব প্রতিযোগিতা করলেও এই মৌসুম থেকে পাঁচটি ক্লাবের মধ্যে হবে শেষ জায়গাটি পাওয়ার লড়াই।
যেভাবে হবে ড্র
আগের মৌসুমের মতো ৩৬টি ক্লাবকে চারটি পাত্রে ভাগ করে ড্র অনুষ্ঠিত হবে। তবে এখানেও আছে পরিবর্তন।
আগে লিগের পয়েন্ট টেবিলের চার দলকে চারটি পাত্রে রাখলেও এবার উয়েফার প্রতিযোগিতায় গত পাঁচ মৌসুমে সবচেয়ে সেরা ৯টি ক্লাবকে প্রথম পাত্রে এবং পরবর্তী পাত্রগুলোতেও একই বিবেচনায় রাখা হবে ক্লাবগুলোকে।
এই হিসাবে এবারের ড্রয়ের প্রথম পাত্রে সম্প্রতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল খেলা দলগুলোও ছাড়াও রয়েছে বার্সেলোনা ও লাইপসিগ।
প্রথম পাত্র থেকে একটি দলের নাম ঘোষণার পর কম্পিউটার সফটওয়্যারের মাধ্যমে দ্বৈবচয়ন পদ্ধতিতে চারটি পাত্র থেকেই দুটি করে মোট আট প্রতিপক্ষের নাম স্ক্রিনে ভেসে উঠবে। এই দুই দলের একটির সঙ্গে হোম এবং অন্যটির সঙ্গে অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলবে নির্ধারিত দলটি।
কোন পাত্রে কারা রয়েছে
এবারের ড্রয়ে কোন কোন ক্লাব কোন পাত্রে রয়েছে, চলুন দেখে নেই-
পাত্র-১: রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার সিটি, বায়ার্ন মিউনিখ, প্যারিস সেন্ত জার্মেই, লিভারপুল, ইন্টার মিলান, বরুশিয়া ডর্টমুন্ড, আরবি লাইপসিগ ও বার্সেলোনা।
পাত্র-২: বায়ের লেভারকুজেন, আতলেতিকো মাদ্রিদ, আতালান্টা, ইউভেন্তুস, বেনফিকা, আর্সেনাল, ক্লাব ব্রুজ, শাখতার দোনেৎস্ক ও এসি মিলান।
পাত্র-৩: ফেয়েনুর্দ, স্পোর্টিং লিসবন, পিএসভি আইন্দোহভেন, ডায়নামো জাগরেব, জালসবুর্গ, লিল, ক্রভেনা জাভেজদা, ইয়াং বয়েজ ও সেল্টিক।
পাত্র-৪: স্লোভান ব্রাতিস্লাভা, মোনাকো, স্পার্তা প্রাহা, অ্যাস্টন ভিলা, বোলোনিয়া, জিরোনা, স্টুটগার্ট, স্ট্রাম গ্রাজ ও ব্রেস্ত।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সময়সূচি
গ্রুপপর্ব
ম্যাচ ডে ১: ১৭-১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
ম্যাচ ডে ২: ১-২ অক্টোবর, ২০২৪
ম্যাচ ডে ৩: ২২-২৩ অক্টোবর, ২০২৪
ম্যাচ ডে ৪: ৫-৬ নভেম্বর, ২০২৪
ম্যাচ ডে ৫: ২৬-২৭ নভেম্বর, ২০২৪
ম্যাচ ডে ৬: ১০-১১ ডিসেম্বর, ২০২৪
ম্যাচ ডে ৭: ২১-২২ ডিসেম্বর, ২০২৪
ম্যাচ ডে ৮: ২৯ জানুয়ারি, ২০২৫
নকআউট পর্ব
নকআউট প্লে-অফ: ১১-১২ এবং ১৮-১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
শেষ ষোলো: ৪-৫ এবং ১১-১২ মার্চ, ২০২৫
কোয়ার্টার ফাইনাল: ৮-৯ এবং ১৫-১৬ এপ্রিল, ২০২৫
সেমিফাইনাল: ২৯-৩০ এপ্রিল এবং ৬-৭ মে, ২০২৫
ফাইনাল: ৩১ মে, ২০২৫
ইউরোপা লিগ ও কনফারেন্স লিগের ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার পর শনিবার (৩১ আগস্ট) প্রতিটি ক্লাবের খেলার সময়সূচি ঘোষণা করবে উয়েফা।
বিলিয়ন ইউরোর প্রাইজমানি
নতুন এই ফরমেট করার পেছনে আর্থিক অঙ্কটা যে বড় একটি কারণ, উয়েফা কর্মকর্তারাই সেটি নিশ্চিত করেছেন। গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন দল ১৩৫ মিলিয়ন ইউরো আর্থিক পুরস্কার পেলেও এবারের চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ১৫০ মিলিয়ন ইউরো।
টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দলগুলো প্রাথমিকভাবে ১৮.৬ মিলিয়ন ইউরো করে পাবে। এরপর প্রতিটি ম্যাচ জিতলে আরও ২.১ মিলিয়ন ইউরো করে বাড়বে এই অঙ্ক। তবে ড্র করলে অর্থের পরিমাণ হবে এক-তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ ৭ লাখ ইউরো।
এছাড়া নকআউট পর্বে নাম লেখানো দলগুলোর প্রত্যেকে ১১ মিলিয়ন ইউরো করে বোনাস পাবে। সব মিলিয়ে বিলিয়ন ইউরোর টুর্নামেন্ট হতে চলেছে নতুন আঙ্গিকের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ।
৫৫৪ দিন আগে
সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নদের সংবর্ধনা দেবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার
স্বাগতিক নেপালকে ৪-১ গোলে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাজয়ী ফুটবলারদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠক শেষে এ কথা জানান তিনি। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে তার সরকারি বাসভবন যমুনায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
রিজওয়ানা হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের খেলার অঙ্গন থেকে দুইটা ভালো খবর এসেছে। একটা হচ্ছে সাফ অনূর্ধ্ব ২০ চ্যাম্পিয়ন ২০২৪, এটাতো বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আজকে উপদেষ্টা পরিষদের সভার সিদ্ধান্ত যে, আমরা তাদের জন্য একটা সংবর্ধনার আয়োজন করব।’
আরও পড়ুন: সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ: নেপালকে হারিয়ে প্রথম শিরোপা জিতল বাংলাদেশ
তিনি বলেন, ‘আরেকটি হলো- বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল পাকিস্তানকে হারিয়েছে। আমরা মনে করছি খেলোয়াড়দের মধ্যে এই যে একটা উদ্যোম এসেছে, এটাকে ধরে রাখার জন্য তাদের অভিনন্দন জানানো দরকার। সেজন্য আমাদের উপদেষ্টা পরিষদের পক্ষ থেকে সকল খেলোয়াড়, কোচ এবং বোর্ডকে অভিনন্দন জানিয়েছি।’
সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বয়সভিত্তিক এই প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে ১০ উইকেটের স্মরণীয় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের প্রথম জয়।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানের মাটিতে ঐতিহাসিক জয় টাইগারদের
৫৫৪ দিন আগে
সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ: নেপালকে হারিয়ে প্রথম শিরোপা জিতল বাংলাদেশ
স্বাগতিক নেপালকে উড়িয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। এর ফলে বয়সভিত্তিক এই প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশ।
নেপালের কাঠমান্ডুর ললিতপুরের আনফা কমপ্লেক্সে বুধবার (২৮ আগস্ট) স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৪-১ গোলের জয় পেয়েছে মারুফুল হকের দল।
ফাইনাল ম্যাচে জোড়া গোল করেন মিরাজুল ইসলাম। এছাড়া রাব্বি হোসেন রাহুল ও পিয়াস আহমেদ নোভা একটি করে গোল করেন।
চার গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়েছেন মিরাজুল ইসলাম।
শ্রীলঙ্কাকে ২-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপপর্ব শুরুর পর নেপালের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে হেরে গ্রুপ রানার্স-আপ হয়েছিল বাংলাদেশ। এবার ফাইনালে সেই নেপালকে হারিয়ে মধুর প্রতিশোধ নিয়েছে বাংলাদেশ।
সাফের বয়সভিত্তিক অন্য সব প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হলেও অনূর্ধ্ব-২০ এর ট্রফিটি এতদিন অধরা ছিল বাংলাদেশের। শেষ পর্যন্ত এই শিরোপাটি ছুঁয়ে সাফ অঞ্চলে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল বাংলাদেশের যুবারা।
৫৫৫ দিন আগে
দ্বিতীয় টেস্ট স্কোয়াডে শক্তি বাড়াল পাকিস্তান
দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে ১০ উইকেটের ব্যবধানে হেরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। তাই দ্বিতীয় টেস্টের আগে স্কোয়াড শক্তিশালী করছে তারা।
রাওয়ালপিন্ডিতেই দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে শুক্রবার (৩০ আগস্ট)। তার আগেই এই ম্যাচের জন্য দলে ডাক পেয়েছেন লেগ স্পিনার আবরার আহমেদ, পেস অলরাউন্ডার আমির জামাল ও ব্যাটার কামরান গুলাম। এছাড়া ছুটিতে যাওয়া শাহিন শাহ আফ্রিদিকেও স্কোয়াডে ফেরানো হয়েছে।
বুধবার (২৮ আগস্ট) দ্বিতীয় টেস্টের জন্য পাকিস্তানের স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে। এতে এই পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। তবে এই তিন খেলোয়াড়কে যুক্ত করা হলেও প্রথম টেস্টের স্কোয়াড থেকে কাউকে বাদ দেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানের মাটিতে ঐতিহাসিক জয় টাইগারদের
শুরু থেকেই পাকিস্তান স্কোয়াডে ছিলেন আবরার ও কামরান। তবে প্রথম টেস্টের আগে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য তাদের ছেড়ে দেয় পিসিবি। আর আমির জামাল বাদ পড়েন ইনজুরির কারণে। তাবে ফেরানো হলেও দ্বিতীয় টেস্টে তার খেলা নির্ভর করছে ফিটনেসের ওপর।
এছাড়া, প্রথম টেস্ট চলাকালে বাবা হন শাহিন আফ্রিদি। গুঞ্জন ছিল দ্বিতীয় টেস্টে তিনি না-ও খেলতে পারেন। তবে দশ উইকেটে হারের পর বদলে গেছে পরিস্থিতি। তাই প্রথম টেস্ট শেষে ছুটিতে গেলেও মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় তিনি আবার দলে ফিরে এসেছেন।
প্রথম টেস্ট একাদশে কোনো স্পিনার না রেখেই সর্বাত্মক পেস আক্রমণ নিয়ে মাঠে নামে পাকিস্তান। তবে এই সিদ্ধান্তের খেসারত দিতে হয়েছে তাদের। অন্যদিকে, বাংলাদেশ তিন পেসার নিয়ে খেললেও দ্বিতীয় ইনিংসে চমক দেখায় স্পিনাররা। তাই দ্বিতীয় টেস্টের জন্য আবরারকে ফিরিয়েছে পাকিস্তান।
রাওয়ালপিন্ডিতে এই লেগ স্পিনারের রেকর্ডও দারুণ। ঘরোয়া ক্রিকেটে এই মাঠে পাঁচটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে ১৭ দশমিক ২৫ গড়ে মোট ৪০টি উইকেট শিকার করেছেন তিনি।
পাকিস্তান স্কোয়াড: শান মাসুদ (অধিনায়ক), সৌদ শাকিল (সহ-অধিনায়ক), আমির জামাল (ফিটনেস সাপেক্ষে), আবরার আহমেদ, আব্দুল্লাহ শফিক, বাবর আজম, কামরান গুলাম, খুররাম শাহজাদ, মির হামজা, মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ হুরাইরা, মোহাম্মদ রিজওয়ান, নাসিম শাহ, সাইম আইয়ুব, সালমান আলী আগা, সরফরাজ আহমেদ, শাহিন শাহ আফ্রিদি।
আরও পড়ুন: ক্রিকেট ইতিহাসের সফলতম বাঁহাতি স্পিনার এখন সাকিব
৫৫৫ দিন আগে
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরে মালান
৩৬ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলেন ইংলিশ ব্যাটার ডাওইড মালান।
বুধবার (২৮ আগস্ট) অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট ও ঘরোয়া ক্রিকেটে তাকে দেখা যাবে।
অবসরের ঘোষণা দিয়ে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘২০১৭ সাল থেকে শুরু হওয়া একটি অসাধারণ যাত্রা শেষ হলো। ইংল্যান্ডের হয়ে ক্রিকেটের তিন সংস্করণেই খেলতে পেরে আমি কৃতজ্ঞ।’
‘ইংল্যান্ডের বিভিন্ন দলের কোচ ও কর্মীরা, যারা আমাকে সহযোগিতা ও সমর্থন করেছেন এবং এই সাত বছরে পাওয়া আমার সব ইংল্যান্ড সতীর্থ- সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’
আরও পড়ুন: সব ধরনের ক্রিকেট থেকে শিখর ধাওয়ানের বিদায়
ক্রিকেটের তিন সংস্করণেই সেঞ্চুরি করা মাত্র দুই ইংলিশ ব্যাটারদের মধ্যে মালান একজন। তিনি ছাড়া এই কীর্তি আছে কেবল জস বাটলারের। এছাড়া টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম হাজার রানের রেকর্ডও তার। মাত্র ২৪ ম্যাচে এক হাজার রান সংগ্রহ করেন তিনি।
ইংল্যান্ডের হয়ে তিনি ২২টি টেস্ট ৩০টি ওয়ানডে ও ৬২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। এর মধ্যে ২২ টেস্টের ৩৯ ইনিংস খেলে ১ সেঞ্চুরি ও ৯ ফিফটিতে তার সংগ্রহ ১ হাজার ৭৪ রান। ওয়ানডে ক্রিকেটে ৩০ ইনিংসে ৬ সেঞ্চুরি ও ৭ ফিফটিতে ৫৫.৭৬ গড়ে তিনি করেন ১ হাজার ৪৫০ রান। আর টি-টোয়েন্টির ৬০ ইনিংসে ১ সেঞ্চুরি ও ১৬ ফিফটিতে মালানের সংগ্রহ ১ হাজার ৮৯২ রান।
২০২০ সালে তিনি টি-টোয়েন্টির ব্যাটার র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান দখল করেন। এরপর ২০২২ সালে ইংল্যান্ডের হয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতেন মালান।
৫৫৫ দিন আগে
ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়ে সৌদি প্রো লিগে কান্সেলো
ম্যানচেস্টার সিটির ফুটবলার হয়েও একপ্রকার যাযাবরের মতো জীবন কাটাচ্ছিলেন জোইয়াও কান্সেলো। অবশেষে ইউরোপীয় ফুটবল ছেড়ে নতুন ঠিকানা খুঁজে নিলেন ৩০ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ ফুলব্যাক। সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল-হিলালে যোগ দিয়েছেন তিনি।
দলবদলের মৌসুমে বার্সেলোনাসহ বেশকিছু ইউরোপীয় ক্লাব তার ওপর নজর রাখছে বলে গুঞ্জন ছিল। তবে শেষমেষ আল-হিলালেই থিতু হয়েছেন এই ফুটবলার।
মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) তাকে দলে টানার ঘোষণা দিয়েছে আল-হিলাল।
সূত্রের বরাত দিয়ে ইএসপিএনের জানিয়েছে, কান্সেলোকে দলে পেতে সিটিকে ২৫ মিলিয়ন ইউরো দিয়েছে আল-হিলাল। তিন বছরের চুক্তিতে ক্লাবটিতে নাম লিখিয়েছেন কান্সেলো, যেখানে প্রতি বছর প্রায় ১৮ মিলিয়ন ইউরো উপার্জন করবেন এই ফুটবলার।
আরও পড়ুন: বার্সেলোনা থেকে আবারও সিটিতে গুন্ডোগান
সিটি বস পেপ গার্দিওলার সঙ্গে মতানৈক্যের কারণে ২০২২-২৩ মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধ বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ধারে খেলেন কান্সেলো। এরপর ২০২৩-২৪ মৌসুমের পুরোটাই তিনি কাটিয়েছেন বার্সেলোনায়।
কাতালুনিয়ায় তার ধারে খেলার সময় শেষে ফের ম্যানচেস্টারে ফেরেন তিনি। এরপর গার্দিওলা জানিয়েছিলেন, ক্লাবের প্রয়োজনে দলে ডাক পেতে পারেন তিনি। কিন্তু প্রিমিয়ার লিগের প্রথম দুই ম্যাচে তাকে মাঠে নামানো হয়নি। এরপর আল-হিলালের সঙ্গে তার চুক্তিবদ্ধ হওয়ার খবর প্রকাশ্যে এলো।
২০১৮-১৯ মৌসুমে ইউভেন্তুসের সেরি-আ জয়ে মৌসুমজুড়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করেন কান্সেলো। এরপর ২০১৯ সালের গ্রীষ্মকালীন দলবদলে ৬০ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করে তাকে দলে টানে সিটি। ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দিয়েও দারুণ পারফর্ম করেন তিনি। সিটির হয়ে টানা তিনটি প্রিমিয়ার লিগ জেতার পর দলে তার জায়গা নড়বড়ে হয়ে যায়। এ কারণেই কোচের ওপর প্রকাশ্যে ক্ষোভ ঝাড়েন তিনি, যার ফলে ক্লাব ছাড়াটা তার জন্য ছিল একপ্রকার সময়ের ব্যাপার মাত্র।
আরও পড়ুন: অবশেষে ‘ঠিকানা’ খুঁজে পেলেন ফেলিক্স
ম্যানচেস্টার সিটির জার্সিতে ১৫৪ ম্যাচ খেলে ৯ গোল করেছেন এই উইংব্যাক, জিতেছেন তিনটি প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ ও লিগ কাপের শিরোপা।
আল-হিলালে তিনি নেইমার, ম্যালকম, নিজ দেশের রুবেন নেভেস, সেনেগালের কালিদু কুলিবালি ও মরোক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনোর মতো তারকাদের সঙ্গে খেলবেন।
৫৫৫ দিন আগে
২৭ বছরেই চলে গেলেন উরুগুয়ে ডিফেন্ডার ইসকিয়ের্দো
ফুটবল খেলতে খেলতেই মাঠে লুটিয়ে পড়েন উরুগুয়ের ক্লাব নাসিওনালের ডিফেন্ডার হুয়ান ইসকিয়ের্দো। তারপর থেকেই হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল তার। তবে মাঠে আর ফেরা হলো না এই ফুটবলারের। মাত্র ২৭ বছর বয়সেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন তিনি।
কোপা লিবের্তাদোরেসের ম্যাচে গত ২২ আগস্ট ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সাও পাওলোর বিপক্ষে নাসিওনালের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন ইসকিয়ের্দো। অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের কারণে ম্যাচের ৮৪তম মিনিটে তিনি কোনো খেলোয়াড়ের সংস্পর্শে না এসেই অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।
তারপর থেকে সাও পাওলোর অ্যালবার্ট আইনস্টাইন হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে (আইসিইউ) চিকিৎসা চলছিল তার। পরে নাসিওনালের পক্ষ থেকেও প্রাথমিকভাবে বলা হয়েছিল, তার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। কিন্তু পাঁচ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হলো তার।
আরও পড়ুন: প্রেমিকাকে নির্যাতনের অভিযোগ: ব্রাজিল পুলিশের তদন্তে নির্দোষ আন্তোনি
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কার্ডিয়াক অ্যারিথমিয়ার সঙ্গে যুক্ত কার্ডিওপালমোনারি অ্যারেস্টের পর মস্তিষ্কের সেল অকার্যকর হয়ে ইসকিয়ের্দোর মৃত্যু হয়েছে। তবে এর আগে হৃদরোগজনিত কোনো সমস্যা ছিল না এই ফুটবলারের।
তার মৃত্যুতে উরুগুয়ের ফুটবল অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নাসিওনালের পক্ষ থেকে এক শোকবার্তায় বলা হয়েছে, গভীর দুঃখের সঙ্গে ক্লাব নাসিওনাল আমাদের প্রিয় খেলোয়াড় হুয়ান ইসকিয়ের্দোর মৃত্যুর খবর ঘোষণা করছে। আমরা তার পরিবার, বন্ধুবান্ধব, সহকর্মী ও প্রিয়জনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। তার অপূরণীয় ক্ষতির জন্য পুরো নাসিওনাল পরিবার শোকাহত।
দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবলের সভাপতি আলেহান্দ্রো দোমিঙ্গেস বলেছেন, তার মৃত্যুর খবরে দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল গভীরভাবে শোকাহত।
ইসকিয়ের্দোর উদ্দেশে বুধবার ফেডারেশন আয়োজিত প্রতিটি ম্যাচে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি এদনাল্দো রদ্রিগেস।
আরও পড়ুন: এবার বিদায় বলে দিলেন নয়ার
এছাড়া, ইসকিয়ের্দোর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে ইন্টার মায়ামির উরুগুয়ে তারকা লুইস সুয়ারেস বলেছেন, ‘দুঃখ, বেদনা, এগুলো ব্যাখ্যা করা কঠিন। তার আত্মার শান্তি কামনা করছি। ইসকিয়ের্দোর পরিবার-পরিজন শোক সইবার শক্তি পাক- এই কামনা করি।’
স্প্যানিশ সংবাদপত্র এল পাইসের খবর অনুসারে, দশ দিন আগে তাদের দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দিয়েছেন ইসকিয়ের্দোর স্ত্রী।
৫৫৫ দিন আগে
অভিষেক ম্যাচে গোল করে বার্সেলোনাকে জেতালেন অলমো
লাইপসিগ থেকে দলে ভিড়িয়েও যাকে লিগে নিবন্ধন করাতে পারছিল না বার্সেলোনা, সেই দানি অলমোই অভিষেক ম্যাচে মাঠে নেমে পার্থক্য গড়ে দিলেন। কাতালুনিয়ান জায়ান্টদের তৃতীয় জয়ের রাতে তাই নায়ক বনে গেলেন এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার।
মাদ্রিদের ভায়েকাস স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাতে রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় পেয়েছে বার্সেলোনা।
ম্যাচের নবম মিনিটে গোল করে স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন উনাই লোপেস। তবে দ্বিতীয়ার্ধের ৬০তম মিনিটে গোল করে বার্সাকে পেদ্রি সমতায় ফেরানোর পর ৮২তম মিনিটে দানি অলমোর গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে কাতালানরা।
এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই বার্সেলোনার সঙ্গে সমানে টক্কর দিকে থাকে রায়ো। দুই পক্ষেরই পাল্টাপাল্টি আক্রমণের মাঝে নবম মিনিটে গোল পেয়ে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
আরও পড়ুন: বিলবাওয়ের বিপক্ষে ঘাম ঝরানো জয় বার্সেলোনার
শুরুতেই গোল পেয়ে এরপর থেকে শারীরিক খেলায় মেতে ওঠে রায়োর খেলেয়াড়রা। তারুণ্যনির্ভর বার্সেলোনার ফুটবলাররা তাই প্রতিপক্ষের সামনে খুব বেশি সুবিধা করে উঠতে পারছিলেন না।
বারবার আক্রমণে উঠলেও প্রতিপক্ষের প্রবল চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে হয় বল হারিয়ে ফেলছিলেন, নতুবা ভুল পাস দিয়ে বলের ওপর দখর হারাচ্ছিলেন তারা। এর মাঝে সুযোগ পেলেই তীব্র গতিতে আক্রমণে উঠছিল রায়োর খেলোয়াড়রা।
এভাবে সময় গড়িয়ে যেতে থাকলে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে বার্সেলোনা। এরপর ৩৭তম মিনিটে রায়োর বক্সের দিকে এগিয়ে গিয়ে দূরের পোস্টে বাঁকানো শট হানেন লামিন ইয়ামাল, কিন্তু শটটি ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক।
৪৩তম মিনিটে একটি পাল্টা আক্রমণে ওঠে রায়ো। তবে শেষ মুহূর্তে বার্সেলোনার ডিফেন্ডারদের প্রচেষ্টায় গোলরক্ষক মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগেনকে ভোগাতে পারেনি তারা।
এরপরও গোলের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করে বার্সেলোনা, তবে রায়োর জমাট রক্ষণ ভাঙতে ব্যর্থ হয়ে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় তারা।
৫৫৬ দিন আগে
লা লিগায় ফিরলেন হামেস রদ্রিগেস
২০২০ সালে রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার পর অনেকটা পর্যটকের মতো ইংল্যান্ড, গ্রিস ও ব্রাজিলে খেলে অবশেষে লা লিগায় ফিরলেন ২০১৪ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটজয়ী কলম্বিয়ান ফুটবলার হামেস রদ্রিগেস।
ফ্রি ট্রান্সফারে স্প্যানিশ ক্লাব রায়ো ভায়েকানোয় যোগ দিয়েছেন তিনি। এক অফিশিয়াল বিবৃতিতে রদ্রিগেসকে দলে টানার কথা জানিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। তবে বিবৃতিতে তার সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
২০১৮ বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর বিশ্বের বড় বড় ক্লাবগুলোর নজরে পড়েন রদ্রিগেস। ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত ওই টুর্নামেন্টজুড়ে ৬ গোল করে কলম্বিয়াকে বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা দৌড় কোয়ার্টার ফাইনালে তোলেন তিনি। দারুণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ জেতেন গোল্ডেন বুটও। এছাড়া শেষ ষোলোয় উরুগুয়ের বিপক্ষে দারুণ এক ভলিতে করা তার গোলটিই পরে পুসকাস পুরস্কার জিতে নেয়।
এরপরই প্রায় ৮০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে সান্তিয়াগো বের্নাবেউতে নাম লেখান হামেস। এটি ছিল সে সময়কার সর্বোচ্চ দলবদলগুলোর একটি। ২০২০ সাল পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদে কাটিয়ে তিনি যোগ দেন কার্লো আনচেলত্তির দায়িত্ব নেওয়া ইংলিশ ক্লাব এভারটনে। এর মাঝে অবশ্য ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ধারে বায়ার্ন মিউনিখে খেলেন তিনি।
আরও পড়ুন: ভিনিসিউসের জন্য সৌদির ৫০০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব ফেরাল রিয়াল
এভারটন অধ্যায় শেষ করে গ্রিক ক্লাব অলিম্পিয়াকোস ও সবশেষ ব্রাজিলের ক্লাব সাও পাওলোয় যোগ দেন ৩৩ বছর বয়সী এই তারকা মিডফিল্ডার। তবে ইউরোপে ফেরার আশায় গত গ্রীষ্মেই সাও পাওলোর সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে ফ্রি এজেন্ট ছিলেন তিনি।
এরপর সদ্য সমাপ্ত কোপা আমেরিকায় অসাধারণ পারফর্ম করে ফের আলোচনায় আসেন এই তারকা ফুটবলার। দলকে ফাইনালে তোলার পথে একটি গোল ও ছয়টি অ্যাসিস্ট করেন তিনি। ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে কলম্বিয়ার হৃদয় ভাঙলেও হামেস জিতে নেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার।
কোপা আমেরিকার পর স্পেনে ফেরার ইচ্ছার কথা জানান তিনি। এরপর রায়োর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলেন। রায়ো ভায়েকানোর হয়ে খেলতে সৌদি আরবের বড় অঙ্কের প্রস্তাবও তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
চলতি মৌসুমে ক্লাবের শতবর্ষ উদযাপন করছে রায়ো ভায়েকানো। ঐতিহাসিক এই মৌসুমের শুরুটাও দারুণ হয়েছে তাদের। লিগের প্রথম ম্যাচে রিয়াল সোসিয়েদাদকে ২-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে পরের ম্যাচে গেতাফের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছে তারা।
আরও পাড়ুন: অবসরের বিষয়ে আগে কাউকে কিছু জানাবেন না রোনালদো
ক্লাবটির এমন স্মরণীয় মুহূর্তে যোগ দিতে পেরে উচ্ছ্বসিত হামেসও। তিনি বলেন, ‘রায়োর মতো একটি ঐতিহাসিক ক্লাবে যোগ দিতে পেরে আমি দারুণ অনুভব করছি। আমি সত্যিই এখানে ভালো কিছু করতে চাই। আমি যেখানেই যাই, এক ধরনের দায়িত্ব অনুভব করি।’
‘আমি জিততে পছন্দ করি। আর ক্লাবের এমন বিশেষ মৌসুমে তো অবশ্যই সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’
আজ রাত দেড়টায় ঘরের মাঠে বার্সেলোনাকে আতিথ্য দেবে রায়ো ভায়েকানো।
৫৫৬ দিন আগে
ভিনিসিউসের জন্য সৌদির ৫০০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব ফেরাল রিয়াল
ভিনিসিউস দলের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বুঝিয়ে দিল রিয়াল মাদ্রিদ। সম্প্রতি ২৪ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারকে প্রো লিগে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা শুরু করেছে সৌদি আরব। এর জন্য বিরাট অঙ্কের আর্থিক প্রস্তাব করলেও তা ফিরিয়ে দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।
এল চিরিঙ্গিতোর বরাত দিয়ে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মুন্দো দেপর্তিভো জানিয়েছে, ভিনিসিউসকে পেতে ৫০০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তবে সে প্রস্তাব গ্রহণ করেনি বর্তমান স্পেন ও ইউরোপ চ্যাম্পিয়নরা।
অবশ্য ভিনিসিউসের জন্য রাখা ১ বিলিয়ন ইউরো রিলিজ ক্লসের অর্থ পরিশোধে সম্মত হলে রিয়াল মাদ্রিদের পক্ষ থেকে সাড়া মিলতে পারে বলেও প্রতিবদনে বলা হয়েছে।
এর আগে, পাঁচ মৌসুমের জন্য ব্রাজিলের এই প্রতিভাকে মোট ১ বিলিয়ন ইউরো দেওয়া হয়েছিল বলে এক প্রতিবদনে জানায় রয়টার্স।
সূত্রের বরাতে বার্তাসংস্থাটি জানিয়েছিল, বেতন-বোনাসসহ ভিনিসিউসকে প্রতি মৌসুমে ২০০ মিলিয়ন ইউরো করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (পিআইএফ) কর্মকর্তারা। পাশাপাশি ব্রাজিলের এই ফরোয়ার্ডকে ২০৩৪ সালে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের দূত হওয়ারও একটি বিশেষ প্রস্তাব রাখা হয়েছিল চুক্তিতে।
এরপর এজেন্টের সঙ্গে এ নিয়ে ভিনি আলোচনা করেছেন বলেও জানা যায়। তার এজেন্ট তখন বলেন, মাদ্রিদে সুখে থাকলেও এই ধরনের বিরাট অঙ্কের প্রস্তাব অবশ্যই সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা উচিৎ।
আরও পড়ুন: সৌদির বিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব গ্রহণে ‘রাজি’ ভিনিসিউস
তবে এ ব্যাপারে রিয়াল মাদ্রিদ ভিনিসিউসকে নিয়ে এসব ভাবছে না। কিন্তু আগামী দলবদলের মৌসুমেও যদি সৌদি আরব এই তারকা ফুটবলের আশা না ছাড়ে, তবে পরিস্থিতি বেশ জটিল হয়ে পড়তে পারে।
চলতি মৌসুমে শেষে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ দুই বছর অবশিষ্ট থাকবে ভিনিসিউসের। সাধারণত এমন পর্যায়ে খেলোয়াড়দের সঙ্গে নতুন চুক্তির বিষয়ে আলোচনা করে থাকে ক্লাবগুলো। নতুন শর্তে না মিললে ওই খেলোয়াড় বিক্রি করে দিয়ে লাভের চেষ্টা করে থাকে ক্লাব।
সেক্ষেত্রে ভিনিসিউস রিয়ালকে কী ধরনের বেতন-বোনাসের প্রস্তাব দেবেন, আর তার পরিপ্রেক্ষিতে ক্লাবের পক্ষ থেকে তাকে কতটা আশ্বস্ত করতে পারবে, সেদিকে চেয়ে থাকবে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে নতুন চুক্তি আলোচনায় সৌদি আরবের দেওয়া প্রস্তাবটি যে দুই পক্ষকেই প্রভাবিত করবে, তা আগে থেকেই বলে দেওয়া যায়।
সৌদির প্রস্তাবের পর ভিনিসিউস নিশ্চয়ই বেতন-বোনাস নিয়ে বেশ বড় লাফ দিতে চাইবেন, আর তাতে না পোষালে রিয়াল তাকে বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা করলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
আরও একটি বিষয় রিয়াল মাদ্রিদ ও ভিনিসিউস উভয় পক্ষকেই ভাবাতে পারে। আর তা হচ্ছে, এমবাপ্পের রিয়ালে যোগদান। দুজনে একই পজিশনের ফুটবলার হওয়ায় লা লিগার গত দুই ম্যাচেই রিয়ালকে আক্রমণভাগের বাঁ পাশে ভুগতে দেখা গেছে।
ভিনিসিউসকে বাঁয়ে খেলিয়ে এমবাপ্পেকে মাঝে, অর্থাৎ ৯ নম্বর পজিশনে খেলানো হলেও বারবার নিজের সহজাত পজিশনে চলে যেতে দেখা যায় এমবাপ্পেকে। ফলে বাঁ পাশে একপ্রকার নিষ্প্রভ ছিলেন ভিনিসিউস। আবার দুই পজিশনের বিড়ম্বনায় পড়ে নিজের স্বভাবসুলভ ফুটবল খেলতে পারেননি এমবাপ্পেও। ফলে রিয়াল বস কার্লো আনচেলত্তি যদি পজিশনের এই জটিলতার সমাধান না করতে পারেন, তবে ভিনিসিউসের জন্য ভিন্ন কিছু ভাবা অপ্রাসঙ্গিক হবে না।
আরও পড়ুন: আক্রমণভাগে পরিবর্তন আসায় দলে ভারসাম্যের অভাব দেখছেন আনচেলত্তি
প্রসঙ্গত, নিজ দেশের ফুটবল লিগকে জনপ্রিয় করতে গত কয়েক বছর ধরে কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করে বিশ্বের নামকরা সব ফুটবলারদের কিনে চলেছে সৌদি প্রো লিগের ক্লাবগুলো। এই তালিকায় ইতোমধ্যে নাম লিখিয়েছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, নেইমার, করিম বেনজেমার মতো তারকা ফুটবলাররা।
এর আগে, ফুটবলের আর্জেন্টাইন মায়েস্ত্রো লিওনেল মেসি, ফ্রান্সের তারকা ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পেদেরও সৌদি আরবে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে পিআইএফ। তবে লিওনেল মেসি বার্সেলোনা থেকে পিএসজি হয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলছেন। আর এমবাপ্পে পিএসজির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এই মৌসুমে নিজের স্বপ্নের ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে নাম লিখিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে পাঁচ বছরের জন্য রিয়াল মাদ্রিদে চুক্তির মেয়াদ বাড়ান ভিনিসিউস। ক্লাবটির জার্সিতে গত মৌসুমে লা লিগা, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতে এ বছরের ব্যালন দ’র জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে ফুটবলবোদ্ধাদের বিবেচনায় রয়েছেন তিনি।
৫৫৬ দিন আগে