বিশ্ব
আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান তেহরানের, লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৩১
লেবানন ও ইরানজুড়ে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে পারমাণবিক আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত নতুন করে আলোচনা শুরু করার দাবিকে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা করবে না। কারণ, তাদের সশস্ত্র বাহিনী এই সংঘাত শুরু করেনি, বরং দেশটি এখন আত্মরক্ষার কাজ করছে।
মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেস (এপি) জানায়, রবিবার (১ মার্চ) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান যে ইরানের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, দেশটি দুইবার কূটনৈতিক প্রচেষ্টার চেষ্টা করেছিল; প্রথমবার ২০২৫ সালের স্থগিত আলোচনার সময় এবং দ্বিতীয়বার পুনরায় মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার সময়।
এদিকে, ইরানের পাল্টা হামলায় তেল আবিব, জেরুজালেম ও বেইত শেমেশে আঘাত হানে। এতে মধ্য ইসরায়েলে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন।
হিজবুল্লাহবিরোধী অভিযান ঘোষণা ইসরায়েলের
ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর রকেট হামলার পর এক বৈঠকে ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ ইয়াল জামির বলেন, আমরা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে একটি আক্রমণাত্মক অভিযান শুরু করেছি।
লেবানন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ১৪৯ জন আহত হয়েছেন।
লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানায়, বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহর ও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় রাজধানীর উপশহরে ২০ জন নিহত ও ৯১ জন আহত হয়েছেন এবং দক্ষিণাঞ্চলে ১১ জন নিহত ও ৫৮ জন আহত হয়েছেন।
ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার ফলে সৃষ্ট সংঘাতের রেশ ধরে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট ছুড়লে ইসরায়েল এই হামলা শুরু করে। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদের হুমকির কারণে ইতোমধ্যে দক্ষিণ লেবাননের লাখ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।
ট্রাম্প বলেছেন, ওয়াশিংটনের সব লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর মার্কিন হামলা অব্যাহত থাকবে। তিন মার্কিন সেনার মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
এদিকে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে মার্কিন স্থাপনাগুলোতে হামলা অব্যাহত রেখেছে, যার ফলে বাহরাইনে একজন নিহত হয়েছেন। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং প্রায় ৪০ জন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর ইরাক ও কুয়েতেও ইরানের হামলার খবর পাওয়া গেছে।
কুয়েতে মার্কিন দূতাবাসের সতর্কতা
কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, দেশটির ওপর ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার হুমকি রয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন দূতাবাস কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে আহ্বান জানিয়েছে। হামলার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিকল্পনা পর্যালোচনার এবং সতর্ক থাকার আহ্বানও জানাচ্ছে। দূতাবাসের কর্মীরাও বর্তমানে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন।
ইরানের সানান্দাজে হামলায় নিহত ২
ইরানের সংবাদ সংস্থা ফারস জানিয়েছে, সানান্দাজ শহরে শত্রু পক্ষের হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে পুলিশ স্টেশনের কাছে কয়েকটি আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়েছে।
এছাড়া তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী জনবহুল এলাকাগুলোসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
আল জাজিরার যাচাইকৃত ফুটেজে একটি হামলার সময় আকাশে আগুন এবং বিশাল ধোঁয়ার মেঘ দেখা গেছে।
‘আমেরিকা ফার্স্ট’ থেকে ‘ইসরায়েল ফার্স্ট’
আলি লারিজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বলেন, ট্রাম্প তার ভ্রান্ত কল্পনার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যকে বিশৃঙ্খলার মধ্যে ঠেলে দিয়েছেন এবং এখন আরও মার্কিন হতাহতের ভয় পাচ্ছেন।
তিনি বলেন, ট্রাম্প তার নিজের তৈরি ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ স্লোগানকে ‘ইসরায়েল ফার্স্ট’-এ রূপান্তর করেছেন এবং ইসরায়েলের উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য আমেরিকান সেনাদের বলি দিয়েছেন।
মার্কিন সেনা ও তাদের পরিবারকে এর মূল্য দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
৪ দিন আগে
‘সংঘাত গভীরতর’, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর তিনি দেশটির অবশিষ্ট নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।
স্থানীয় সময় রবিবার (১ মার্চ) তিনি এ কথা জানান। এমন সময়ে তিনি এ মন্তব্য করেন যখন ইরানের শহরগুলোতে দ্বিতীয় দিনের ব্যাপক বোমাবর্ষণ চলছে এবং তেহরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ভীতি তৈরি করেছে।
আজ (সোমবার) লেবাননে হিজবুল্লাহকে লক্ষ্যবস্তু করে বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল। আগের দিন খামেনির হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছিল হিজবুল্লাহ।
ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি বলেন, বর্তমানে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসবে না। আমরা নিজেদের রক্ষা করছি এবং আমাদের সশস্ত্র বাহিনী সংঘাত শুরু করেনি। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার প্রচেষ্টা চালানোর খবর অস্বীকার করেন।
জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির-সাঈদ ইরাভানি শনিবার নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে জানান যে, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় শত শত বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, তারা একাধিক শহরের বেসামরিক এলাকাগুলোকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, বোমাবর্ষণের দ্বিতীয় দিনের পর মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবার দক্ষিণের শহর মিনাবের একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বোমা হামলায় ১৬৫ জন নিহত হয়েছে।
এর আগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহতদের মধ্যে খামেনি ছিলেন। ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে শাসন করছিলেন তিনি।
বেশ কয়েকটি মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিআইএ গত কয়েক মাস ধরে খামেনির গতিবিধি অনুসরণ করছিল।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, খামেনি যখন তেহরানে তার কার্যালয়ে শীর্ষ প্রতিরক্ষা সহযোগীদের নিয়ে বৈঠক ডাকেন, তখন সিআইএ ইসরায়েলকে সে তথ্য দেয়, যা হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের নেতৃত্বকে অপ্রস্তুত রাখতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী একটি কৌশল অবলম্বন করেছিল। অভিযানের দিন সকালে সেনা কর্মকর্তাদের বলা হয়েছিল, তারা যেন তাদের গাড়িগুলো নিয়মিত জায়গায় পার্ক না করেন, যাতে ইরানের গোয়েন্দারা কিছু বুঝতে না পারে। এমনকি সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির বাড়িতেই অবস্থান করছেন—এমন ভুল তথ্যও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
কর্মকর্তাদের বরাতে চ্যানেলটি জানিয়েছে, হামলার প্রথম ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই ইসরায়েলি বিমানবাহিনী ৩০ জন উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তাকে হত্যা করে।
৪ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তেহরানের পাল্টা হামলার জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটেছে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হঠাৎ করে বেড়ে গেছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২ মার্চ) থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে।
ব্যবসায়ীরা ধারণা করছেন, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে তেলের সরবরাহ ধীর হয়ে যেতে পারে বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ওই অঞ্চলজুড়ে হামলার কারণে পারস্য উপসাগরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী দুইটি জাহাজেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেল রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের হামলা দীর্ঘস্থায়ী হলে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসোলিনের দাম আরও বাড়তে পারে।
সিএমই গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালেই যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭২ দশমিক ৭৯ ডলারে পৌঁছায়। শুক্রবার এর দাম ছিল প্রায় ৬৭ ডলার, যা থেকে সোমবার ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সোমবার সকালেই ব্যারেলপ্রতি ৭৯ দশমিক ৪১ ডলারে লেনদেন হয়। ফ্যাক্টসেটের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার এর দাম ছিল ৭২ দশমিক ৮৭ ডলার, যা ছিল সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। সোমবার এর দাম প্রায় ৯ শতাংশ বেড়েছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে ভোক্তাদের পাম্পে গিয়ে বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হবে। একইসঙ্গে নিত্যপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দামও বাড়তে পারে। এমন সময় এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে, যখন অনেক দেশেই মানুষ ইতোমধ্যে উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাবে ভুগছে।
জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিস্ট্যাড এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। এটি বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ। ফলে এই নৌপথকে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হিসেবে ধরা হয়। ইরানের উত্তরে অবস্থিত এই প্রণালী দিয়ে সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইরান থেকে তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল করে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে সামরিক মহড়ার কথা বলে ইরান সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালীর কিছু অংশ বন্ধ করে দেয়। এর পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে যায়।
এ পরিস্থিতির মধ্যেই ওপেক প্লাস জোটভুক্ত আটটি দেশ রোববার অপরিশোধিত তেল উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। যুদ্ধ শুরুর আগেই নির্ধারিত বৈঠকে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক জানায়, এপ্রিল মাসে তারা প্রতিদিন ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়াবে। বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়েও এই পরিমাণ বেশি। উৎপাদন বাড়ানো দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাজাখস্তান, আলজেরিয়া ও ওমান।
রিস্ট্যাড এনার্জির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান জর্জ লিওন এক ইমেইল বার্তায় বলেন, ‘বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ। ফলে ওপেকের অতিরিক্ত তেল উৎপাদন এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়, বাজারে মূল উদ্বেগ হলো তেলের চালান ঠিকভাবে চলাচল করতে পারছে কি না’
তিনি জানান, ‘যদি উপসাগরীয় অঞ্চল দিয়ে তেল পরিবহন সীমিত হয়ে যায়, তাহলে অতিরিক্ত তেল উৎপাদ তাৎক্ষণিকভাবে খুব বেশি স্বস্তি দিতে পারবে না। সে ক্ষেত্রে উৎপাদন লক্ষ্য নয়, বরং রপ্তানি পথ সচল থাকা অনেক বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে উঠবে।’
এদিকে, ইরান প্রতিদিন প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করে, যার বেশিরভাগই যায় চীনে। ইরানের তেল রপ্তানি ব্যাহত হলে চীনকে বিকল্প উৎস খুঁজতে হতে পারে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, চীনের কাছে পর্যাপ্ত কৌশলগত তেল মজুত রয়েছে। পাশাপাশি দেশটি চাইলে রাশিয়া থেকেও তেল আমদানি বাড়াতে পারে।
৪ দিন আগে
ইরানে হামলা চালাতে ট্রাম্পের কি কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন ছিল?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেওয়ার পর ওয়াশিংটনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে—এ হামলার আগে হোয়াইট হাউসের কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া প্রয়োজন ছিল কিনা!
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে যুক্তরাষ্ট্র ‘এপিক ফিউরি’ নামে ব্যাপক আকারের বিমান হামলা শুরু করে। অপরদিকে, ইসরায়েল তাদের অভিযানকে ‘লায়নস র্যোর’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার দুই দিন পর এ হামলা হয় এবং এরপর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের পাল্টা হামলা দেখা যায়।
মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। তবে এই ক্ষেত্রে কংগ্রেস যুদ্ধ ঘোষণা করেনি। একইসঙ্গে সংবিধানের কিছু বিধান প্রেসিডেন্টকে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিস্তৃত ক্ষমতা দেয়, যা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের একটি ধূসর ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
ক্যাপিটল হিলে প্রতিক্রিয়া মূলত দলীয় বিভাজন অনুযায়ী এসেছে। বর্তমানে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণে থাকা রিপাবলিকানরা বেশিরভাগই হামলাকে সমর্থন দিয়েছেন।
স্পিকার মাইক জনসন জানান, অভিযানের আগে প্রশাসন ‘গ্যাং অব এইট’ নামে পরিচিত উভয় দলের জ্যেষ্ঠ কংগ্রেস নেতাদের একটি গোষ্ঠীকে ব্রিফ করেছিল।
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই তিনি যুদ্ধ শুরু করেছেন। তারা অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্টের সামরিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষমতা সীমিত করতে ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজল্যুশন’ আনার আহ্বান জানান। অবশ্য রিপাবলিকানদের সীমিত সমর্থনের কারণে তা পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতে তিনজন মার্কিন সেনা নিহত এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশজুড়ে বিমান হামলায় ২০০ জনের বেশি নিহত এবং ৭০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একটি স্কুলে বিস্ফোরণে অন্তত ১৫৩ জন নিহত হয়েছে, যাদের অনেকেই শিশু।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলীয় শহর বেইত শেমেশে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছে এবং তেল আবিবেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে।
এছাড়া বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। আবুধাবি ও দুবাই বিমানবন্দরেও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
ট্রাম্প হামলার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে হামলা পরিচালনা করছে। তিনি ১৯৭৯ সালে তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখল এবং ১৯৮৩ সালে বৈরুতে মার্কিন মেরিন ব্যারাকে বোমা হামলার ঘটনাকেও সামরিক পদক্ষেপের যৌক্তিকতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
এই সংঘাতে ইতোমধ্যে ইরানের শীর্ষ নেতারা প্রাণ হারিয়েছেন। ট্রাম্প দাবি করেন, হামলায় সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত হয়েছেন—যা পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করে এবং ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে।
ট্রাম্প আরও বলেন, অভিযানে ইরানের ১০-১২ জন জ্যেষ্ঠ নেতাকে নির্মূল করা হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানে স্থলবাহিনী মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা নেই। এর বদলে অভিযানটি দীর্ঘমেয়াদি বিমান ও নৌ-অভিযানের ওপর নির্ভর করবে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের দশ হাজারের মতো সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং ওই অঞ্চলে দুটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানো হয়েছে।
ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে—এ অভিযোগ অস্বীকার করলেও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ এখনও তীব্র। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বলছে, জরুরি হুমকি দূর করতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। এদিকে ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ ক্ষমতার সীমা ও সামরিক অভিযানে কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
৪ দিন আগে
দক্ষিণ ইরানে মেয়েদের স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত অন্তত ১৫৩
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দক্ষিণ ইরানের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে অন্তত ১৫৩ জন নিহত হয়েছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি স্কুলে এই হামলা চালানো হয়।
ইরান কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদ্যালয়টি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) একটি ঘাঁটির কাছাকাছি অবস্থিত। অতীতেও আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইউনাইটেড স্টেটস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি নিয়ে পর্যালোচনা করছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, ওই এলাকায় কোনো ইসরায়েলি অভিযানের বিষয়ে তারা অবগত নয়।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, শনিবার থেকে দেশজুড়ে বিমান হামলায় অন্তত ২০১ জন নিহত এবং ৭৪৭ জন আহত হয়েছেন।
জেনেভায় রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্টের কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার পরপরই জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
এক কর্মকর্তা জানান, মিনাবের ওই স্কুলটিতে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে এবং এটি আইআরজিসি ঘাঁটি থেকে প্রায় ৬০০ মিটার দূরে অবস্থিত।
বিবিসির যাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে ধোঁয়া উঠছে এবং চারপাশে আতঙ্কিত মানুষ জড়ো হয়ে চিৎকার করছে। তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ থাকায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে একে ‘বর্বরোচিত কাজ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আরেকটি কালো অধ্যায় যোগ করার অভিযোগ তুলেছেন।
মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সেন্টকমের মুখপাত্র টিম হকিন্স বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতি কমাতে সব ধরনের সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার পর ইরানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ বিদেশি শক্তিকে দোষারোপ করেছেন; আবার কেউ বিমান হামলার সতর্কতা, আশ্রয়কেন্দ্র ও ইন্টারনেট সুবিধার অভাবের জন্য ইরানি কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করেছেন।
এ হামলা এমন সময়ে ঘটল, যখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডারের মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক বিমান হামলা ইরানের বিভিন্ন শহরে অব্যাহত রয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
৫ দিন আগে
ট্রাম্পের ইরান হামলার নেপথ্যে
ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ অভিযানে ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যে, তারা একসঙ্গে দেশটির শীর্ষ নেতা এবং আলেমদের লক্ষ্য করতে পারবে।
দুইজন পরিচিত সূত্রের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানায়, ইসরায়েলিরা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির চলাচল পর্যবেক্ষণ করছিল। এরই মধ্যে তারা দেখতে পায়, শীর্ষস্থানীয় আলেম ও কমান্ডারদের একত্রিত অবস্থায় হামলা চালানোর একটি সুযোগের জানালা খোলা রয়েছে।
ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) খামেনির প্রতি অত্যন্ত বিশ্বস্ত হলেও তাদের ধারণা ছিল যে, খামেনির মৃত্যুর পর কেউ তার উত্তরসূরীর প্রতি একইভাবে অনুগত থাকবে না।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে একজন মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে, তেহরানের একটি স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলায় খামেনি এবং ৫ থেকে ১০ জন শীর্ষ ইরানি নেতা নিহত হয়েছেন। ট্রাম্প পরে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করেন যে, খামেনি নিহত হয়েছেন। পরবর্তীতে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনাও তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।
ওইদিন এক ভিডিওবার্তায় কয়েক দিনব্যাপী চলতে পারে—এমন এই অভিযানের ঘোষণা দেওয়ার সময় ট্রাম্প কেন যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা শুরু করেছে, তার নির্দিষ্ট কোনো কারণ বলেননি। তবে খামেনিকে লক্ষ্যবস্তু করার সুযোগটি হামলার সময়সীমাকে ত্বরান্বিত করেছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও আলোচনার প্রেক্ষাপট
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। ওমান দুই দেশের আলোচনায় মধ্যস্থতা করতে সহায়তা করছিল। এক্স পোস্টে তিনি বলেন, আমি হতাশ। সক্রিয় ও গুরত্বপূর্ণ আলোচনা পুনরায় ব্যর্থ হয়েছে। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ বা বৈশ্বিক শান্তির জন্য ভালো নয়।
হামলাগুলো ঘটেছে দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে, যখন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জেরাড কুশনার জেনেভায় ওমানের রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন। তারা বুঝতে চেষ্টা করছিলেন যে ইরান আলোচনায় বিলম্ব করছে কি না।
গত বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী চলা আলোচনায় উইটকফ এবং কুশনার ইরানকে তাদের তিনটি প্রধান পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র ফোরডো, ইসফাহান এবং নাতাঞ্জ ধ্বংস করতে চাপ দেন। এ কেন্দ্রগুলো গত বছর ট্রাম্পের হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। এ ছাড়াও অবশিষ্ট মজুদ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানান তারা।
তারা বলেছিলেন, যেকোনো চুক্তি হতে হবে স্থায়ী। ২০১৫ সালে ওবামা প্রশাসনের সময় করা চুক্তির মতো কোনো ‘সানসেট প্রোভিশন’ (যে ধারার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময় পর বিধিনিষেধ উঠে যায়) রাখা যাবে না। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে সেই চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন।
কিন্তু দিনশেষে উইটকফ এবং কুশনার হতাশ হন। পরবর্তীতে ট্রাম্পকে তার সামরিক বিকল্পগুলো সম্পর্কে ব্রিফ করেন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার।
কুপার এই হামলার সাফল্যের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী ছিলেন।
হামলার পেছনের যুক্তি
শনিবার ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প অনেক কারণ বিবেচনা করে হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তার মধ্যে প্রধান কারণ ছিল ইরানের প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্রসমূহ।
ওই কর্মকর্তা বলেন, তারা প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছে। তারা এমনকি আমাদের সঙ্গে বা আমাদের আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গেও এ নিয়ে কথা বলতে চায়নি।
অন্য একজন কর্মকর্তা বলেন, পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ ‘শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে’—ইরানের এমন দাবি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সন্দেহ ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে চিরস্থায়ীভাবে বিনামূল্যে পারমাণবিক জ্বালানি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু ইরান তা প্রত্যাখ্যান করে।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল যে ইরান তাদের সেই পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো পুনর্নির্মাণ করছে যা গত বছর ট্রাম্পের ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এ ধ্বংস হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করত, ইরান আংশিক সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ করছে এবং শেষ পর্যন্ত তারা কোনো চুক্তি চায় না।
ওই কর্মকর্তা বলেন, সত্যি বলতে প্রেসিডেন্টের কাছে কোনো বিকল্প ছিল না। আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করতে পারি না, যেখানে এই লোকগুলোর কাছে কেবল ক্ষেপণাস্ত্রই নেই, বরং প্রতি মাসে ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতাও রয়েছে। আমরা তাদের কাছে জিম্মি হয়ে থাকব না এবং আমাদের আগে তারা আমাদের আঘাত করুক, সেটি হতে দেব না।
৫ দিন আগে
ইরানে উত্তরসূরী নির্বাচন প্রক্রিয়া কেমন, কে হতে চলেছেন দেশের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা?
প্রায় চার দশক ক্ষমতায় থাকার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তিনি নিহত হওয়ার পরপরই দেশের উত্তরাধিকার প্রক্রিয়ার রূপরেখা স্পষ্ট হতে শুরু করেছে, যা জটিল এবং গভীর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
অস্থায়ী কাউন্সিলের দায়িত্বভার গ্রহণ
রবিবার (১ মার্চ) সংবিধানের রূপরেখা অনুযায়ী ইরান দেশ পরিচালনার জন্য একটি কাউন্সিল গঠন করেছে। এ কাউন্সিল ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন সদস্যকে নিয়ে গঠিত। গার্ডিয়ান কাউন্সিলের এই সদস্যকে বেছে নেয় ইরানের এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিল যা সর্বোচ্চ নেতাকে পরামর্শ দেয় এবং পার্লামেন্টের সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তি করে।
ইরানের সংস্কারপন্থি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং কট্টরপন্থি বিচার বিভাগীয় প্রধান গোলামহোসেইন মহসেনি এজেয়ি এ কাউন্সিলের সদস্য, যারা সাময়িকভাবে নেতৃত্বের সমস্ত দায়িত্ব পালন করবেন।
নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করবে আলেমদের প্যানেল
অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব কাউন্সিল দেশ শাসন করবে। তবে ইরানের আইন অনুযায়ী, ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ নামক ৮৮ সদস্যের একটি প্যানেল যত দ্রুত সম্ভব একজন নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করবে।
এ প্যানেলটি সম্পূর্ণভাবে শিয়া আলেমদের নিয়ে গঠিত, যারা প্রতি আট বছর অন্তর জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন। তবে তাদের প্রার্থিতা অনুমোদিত হতে হয় ইরানের সাংবিধানিক নজরদারি সংস্থা গার্ডিয়ান কাউন্সিল দ্বারা। এই সংস্থাটি বিভিন্ন নির্বাচনে প্রার্থীদের অযোগ্য ঘোষণা করার জন্য পরিচিত। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে তারা সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিকে এ প্যানেলের নির্বাচনে লড়তে বাধা দিয়েছিল।
খামেনির ছেলে সম্ভাব্য প্রার্থী
উত্তরাধিকার নিয়ে আলেমদের মধ্যে আলোচনা ও কৌশলগুলো সাধারণত লোকচক্ষুর আড়ালে ঘটে থাকে। ফলে শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী কে হতে পারেন তা আগে থেকে বলা যায় না।
আগে ধারণা করা হতো, খামেনির শিষ্য কট্টরপন্থি প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি এই দায়িত্ব নিতে পারেন। তবে ২০২৪ সালের মে মাসে এক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় তিনি নিহত হন। এর ফলে খামেনির ছেলে ৫৬ বছর বয়সী শিয়া আলেম মোজতবা খামেনি একজন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন। তবে এর আগে, তিনি কখনও সরকারি কোনো পদে ছিলেন না।
সর্বোচ্চ নেতার ক্ষেত্রে বাবার পর ছেলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর ইরানিদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করতে পারে। অনেকে একে ইসলাম-বহির্ভূত এবং ১৯৭৯ সালে মার্কিন সমর্থিত শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির পতনের পর একটি নতুন ‘ধর্মীয় রাজবংশ’ তৈরির চেষ্টা হিসেবে দেখতে পারেন।
আগে একবারই ঘটেছে
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক বা সর্বোচ্চ নেতার পদে ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘটনা আগে মাত্র একবারই ঘটেছে।
১৯৮৯ সালে গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি ৮৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ছিলেন ইরানে ইসলামী বিপ্লবের রূপকার। ইরাকের সঙ্গে আট বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এই নেতা।
বর্তমান এ ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে ২০২৫ সালের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকে।
সর্বোচ্চ নেতার ক্ষমতা
ইরানের জটিল শিয়া ধর্মতন্ত্রের কেন্দ্রে থাকেন সর্বোচ্চ নেতা এবং রাষ্ট্রের সমস্ত বিষয়ে তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হয়।
তিনি দেশটির সামরিক বাহিনী এবং শক্তিশালী রেভল্যুশনারি গার্ডের প্রধান কমান্ডার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। রেভল্যুশনারি গার্ড হলো একটি আধাসামরিক বাহিনী যেটিকে ২০১৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছিল।
খামেনি তার শাসনামলে এই বাহিনীকে ব্যাপক শক্তিশালী করেছিলেন। এ বাহিনীটি ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ নামে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিস্তৃত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী ও মিত্র নেটওয়ার্কের নেতৃত্ব দেয়। ইরানে তাদের বিশাল সম্পদ ও ব্যবসায়িক মালিকানা রয়েছে।
৫ দিন আগে
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সম্পর্কে যা জানা প্রয়োজন
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। প্রায় চার দশক ধরে ইসলামিক রিপাবলিক শাসন করা এ নেতার মৃত্যুতে দেশটিকে এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, কারণ বর্তমানে তার কোনো নির্ধারিত উত্তরসূরি নেই।
স্থানীয় সময় রবিবার (১ মার্চ) ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা ৮৬ বছর বয়সী এই নেতার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর ঘোষণা দিয়ে বলেন, এটি ইরানি জনগণের জন্য দেশ ‘পুনরুদ্ধারের সর্বোত্তম সুযোগ’। তিনি ইরানিদের এই শাসনতন্ত্রকে উৎখাত করারও আহ্বান জানান।
খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তেহরানের কিছু এলাকার বাসিন্দাদের ছাদের ওপর গিয়ে আনন্দ প্রকাশ করতেও দেখা গেছে।
তার মৃত্যু এমন এক সময়ে হলো যখন খামেনির নেতৃত্বের ওপর বছরের পর বছর ধরে চাপ বাড়ছিল। ক্ষমতার শেষ প্রদর্শন হিসেবে তিনি তার শাসনের সবচেয়ে ভয়াবহ দমন-পীড়নের তদারকি করেছিলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল দেশব্যাপী বিক্ষোভ দমন করা। সেই বিক্ষোভে আন্দোলনকারীরা সরাসরি ‘খামেনির মৃত্যু চাই’ বলে স্লোগান দিয়েছিলেন।
শনিবারের হামলার প্রাথমিক লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে তার কম্পাউন্ড ছিল বলে জানা গেছে। তবে এর আগেও খামেনি প্রচণ্ড চাপের মধ্যে ছিলেন। গত এক বছর ধরে ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন যে, তিনি চাইলে ইরানি নেতাকে হত্যা করতে পারেন।
সাম্প্রতিক সময়ে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চাপ দিতে এই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করছিল, তখন খামেনি হামলা ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন। তিনি সতর্ক করেছিলেন যে, যেকোনো মার্কিন হামলা আঞ্চলিক যুদ্ধ ডেকে আনবে। একইসঙ্গে তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনায় বসার অনুমতিও দিয়েছিলেন।
তবে বছরের পর বছর ধরে চলা নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতি আগে থেকেই ইরানের অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে দিয়েছিল। এরপর সাম্প্রতিক বিক্ষোভে তার কঠোর দমন-পীড়ন জনরোষ আরও স্পষ্ট করে তোলে।
গত বছর ইসরায়েলি এবং মার্কিন হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলায় গাজার হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ে গঠিত ইরানের আঞ্চলিক মিত্র নেটওয়ার্কও দুর্বল হয়ে পড়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের প্রভাব কমিয়ে দিয়েছে।
ইসলামিক রিপাবলিকে রূপান্তর
১৯৮৯ সালে খামেনি যখন ক্ষমতায় বসেন, তখন তার কর্তৃত্ব নিয়ে অনেকের মনে সন্দেহ ছিল। সে সময় তিনি তুলনামূলকভাবে ছোটমানের আলেম ছিলেন এবং তার পূর্বসূরী আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মতো ধর্মীয় উচ্চতা তার ছিল না। তা সত্ত্বেও, খামেনি খোমেনির চেয়ে অনেক বেশি সময় শাসন করেছেন এবং দেশটির ওপর আরও গভীর প্রভাব রেখে গেছেন।
তিনি ধর্মীয় পরিষদের শাসনকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন এবং রাজনৈতিক পদমর্যাদার শীর্ষে শিয়া মুসলিম আলেমদের অবস্থান নিশ্চিত করেছিলেন।
কট্টরপন্থিদের কাছে খামেনি ছিলেন চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী, মর্যাদায় যার স্থান ছিল ঈশ্বরের পরেই। এছাড়া তিনি আধাসামরিক বাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ডকে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন। সামরিক এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতি উভয় ক্ষেত্রেই এই বাহিনীর আধিপত্য রয়েছে। এর বিনিময়ে তারা খামেনির সবচেয়ে বিশ্বস্ত রক্ষক হিসেবে কাজ করেছে।
অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জসমূহ
খামেনির ক্ষমতার ওপর প্রথম গুরুতর চ্যালেঞ্জ আসে সংস্কারবাদী আন্দোলনের সময়। তবে খামেনি আলেম সমাজকে সংগঠিত করেন এবং অনির্বাচিত সংস্থাগুলোর মাধ্যমে সংস্কার বাধাগ্রস্ত করেন।
২০০৯ সালের নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগে দেশব্যাপী বিশাল বিক্ষোভ শুরু হয়। নিষেধাজ্ঞার ভারে ২০১৭ এবং ২০১৯ সালে অর্থনৈতিক বিক্ষোভও ছড়িয়ে পড়ে। ২০২২ সালে মাহশা আমিনির মৃত্যুর পর আরও বিক্ষোভ দেখা দেয়।
প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিরাপত্তারক্ষীদের কঠোর দমন-পীড়নে শত শত মানুষ নিহত হয় এবং ব্যাপক গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে।
সাম্প্রতিক দমন-পীড়ন
সাম্প্রতিক বিক্ষোভ শুরু হয় গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে তেহরানের প্রধান বাজারে, যখন ইরানি মুদ্রা রিয়ালের মান মার্কিন ডলারের বিপরীতে রেকর্ড ১ কোটি ৪২ লাখে নেমে আসে।
খামেনি তখন ঘোষণা করেছিলেন, দাঙ্গাকারীদের তাদের উপযুক্ত শিক্ষা দিতে হবে। ৮ ও ৯ জানুয়ারির বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনী সরাসরি গুলি চালায়।
আন্দোলনকারীদের মতে, গুলিতে নিহতের সংখ্যা ৭ হাজার ছাড়িয়ে গেছে, যদিও সরকার ৩ হাজার জনের বেশি মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে।
পারমাণবিক আলোচনা
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় সম্মত হয়ে খামেনি মূলত মার্কিন হামলা ঠেকানোর জন্য সময়ক্ষেপণ করতে চেয়েছিলেন। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা এবং মজুত হস্তান্তর করার মতো ওয়াশিংটনের মূল দাবিগুলো তেহরান প্রত্যাখ্যান করেছিল।
ট্রাম্প প্রথমে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন এবং পরে সেই হুমকি ব্যবহার করেই ইরানকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন।
কোনো উত্তরসূরি নেই
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, শিয়া আলেমদের একটি কাউন্সিল পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করার দায়িত্বে রয়েছে। খামেনির ছেলেসহ বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় এলেও কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত হননি।
ইসরায়েলের নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের ইরান বিশেষজ্ঞ ড্যানি সিট্রিনোভিচ বলেন, খামেনি মৃত্যুর পরে ক্ষমতার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা জরুরি। প্রয়োজন হলে ক্ষমতা সাময়িকভাবে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ছোট কমিটিতে স্থানান্তরিত হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খামেনি হয়তো রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কোনো উত্তরসূরির নাম নির্দেশ করে গেছেন।
তবে যুদ্ধের এই সংকটময় সময়ে উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ক্ষমতার লড়াই শুরু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে অত্যন্ত শক্তিশালী রেভল্যুশনারি গার্ড সরাসরি ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করতে পারে, যা প্রায় সাড়ে ৮ কোটি মানুষের এই খনিজ তেলসমৃদ্ধ দেশে ভয়াবহ সংঘাতের সৃষ্টি করতে পারে।
৫ দিন আগে
ইসরায়েলসহ কয়েকটি দেশে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর ব্যাপক প্রতিশোধের অঙ্গীকার করেছিল তেহরান। এবার সেই জবাব দিতে শুরু করেছে তারা।
রবিবার (১ মার্চ) ইসরায়েল ও উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান।
এর ফলে চলমান যুদ্ধ-উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে তেহরানকে উত্তেজনা আরও না বাড়াতে হুঁশিয়ার দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শনিবার তেহরানে খামেনির কার্যালয়ে যৌথ ইসরায়েলি-মার্কিন বিমান হামলায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা। এই ঘটনায় ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
৮৬ বছর বয়সী খামেনির নিজ কার্যালয়ে নিহত হওয়াকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ব্যাখ্যা করেছে এভাবে, ‘এটি প্রমাণ করে যে, যাকে কর্মকর্তারা বৈশ্বিক ঔদ্ধত্য বলে অভিহিত করেন, তার মোকাবিলা করতে গিয়ে তিনি সবসময় জনগণের মাঝে এবং দায়িত্ব পালনে সামনের সারিতে অবস্থান করেছেন।’
ইরানের মন্ত্রিসভা ঘোষণা দিয়েছে, ‘এই মহা অপরাধের জবাব না দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে না।’ আধাসামরিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তারা ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ‘সবচেয়ে তীব্র আক্রমণাত্মক অভিযান’ শুরু করবে।
রবিবার টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের ক্বালিবাফ বলেন, ‘আপনারা আমাদের লাল রেখা (রেড লাইন) অতিক্রম করেছেন, এর মূল্য দিতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন বিধ্বংসী আঘাত হানব যে আপনারাই করুণা প্রার্থনা করতে বাধ্য হবেন।’
ট্রাম্প পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় লেখেন, ‘ইরান বলেছে তারা আজ খুব কঠোরভাবে আঘাত হানবে, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কঠোরভাবে। তারা যেন তা না করে। কারণ যদি করে, আমরা এমন শক্তি প্রয়োগ করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’
ইরানের পাল্টা হামলা
প্রাথমিক হামলার পরপরই ইসরায়েল এবং বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে ইরান।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, ইরান বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার অনেকগুলো ভূপাতিত করা হয়েছে।
ইসরায়েলের ম্যাগেন ডেভিড আদম উদ্ধারসেবা সংস্থা জানায়, তেল আবিব এলাকায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত এক নারী নিহত হয়েছেন।
পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক রাজধানী দুবাইয়ে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোলার শব্দ শোনা যায় এবং বিস্ফোরণের শব্দ রবিবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।
দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, আমিরাতের রাজধানীতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ধ্বংসাবশেষে একজন নিহত হয়েছেন। আকাশ প্রতিরোধের পর সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষে শহরের প্রধান বন্দর ও আইকনিক বুর্জ আল আরব হোটেলের সামনের অংশে আগুন লাগে।
সৌদি আরব জানায়, তাদের রাজধানী ও পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালালেও তা প্রতিহত করা হয়েছে। বাহরাইন জানায়, দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এছাড়া রাজধানী মানামা ও মুহাররাক শহরে ড্রোন হামলা ও ভূপাতিত ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষে তিনটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে একটি ড্রোন হামলা হয়েছে, এতে কয়েকজন কর্মচারী আহত হন।
দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে হামলার ধ্বংসাবশেষে তিন সেনা আহত হয়েছেন।
কাতারেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। জর্ডান জানায়, তারা ৪৯টি ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘মোকাবিলা’ করেছে।
ইরানে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের এক নতুন ও বিস্ময়কর অধ্যায় খুলে দিয়েছে। এতে প্রতিশোধমূলক সহিংসতা এবং বৃহত্তর যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন এক মার্কিন প্রেসিডেন্টের সময় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো, যিনি ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে ক্ষমতায় এসে ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’ থেকে দূরে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
৫ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলি হামলায় খামেনি নিহত, ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চিয়তায় ইরান
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। এতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বেড়েছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (১ মার্চ) ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ইরনা’ ৮৬ বছর বয়সী এই নেতার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর ঘোষণা দিয়ে বলেন, এটি ইরানি জনগণের জন্য দেশ ‘পুনরুদ্ধারের সর্বোত্তম সুযোগ’।
ইরানের সামরিক ও সরকারি স্থাপনা লক্ষ্য করে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলার পর এই ঘোষণাগুলো আসে। ট্রাম্প বলেন, এ হামলা এক সপ্তাহ ধরে বা প্রয়োজন অনুযায়ী আরও দীর্ঘ সময় চলবে।
এই হামলা ইরানে মার্কিন হস্তক্ষেপের একটি বিস্ময়কর নতুন অধ্যায় শুরু করেছে। গত আট মাসের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলাকালীন দেশটিতে হামলা চালাল।
কয়েক দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা খামেনির মৃত্যুতে ইরানে একটি বড় নেতৃত্বশূন্যতা তৈরি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, কারণ এখন পর্যন্ত তার কোনো উত্তরসূরি নির্ধারিত নেই।
এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের আধাসামরিক বাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ড ইসরায়েল এবং মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে তীব্র আক্রমণাত্মক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছে।
ইরান থেকে নাগরিকদের সরিয়ে নিচ্ছে চীন
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের একটি সংস্থা ইরানে অবস্থানরত চীনা নাগরিকদের পার্শ্ববর্তী দেশে সরিয়ে নেওয়ার জন্য নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করেছে। ইরানে ছড়িয়ে থাকা দুইশর বেশি চীনা নাগরিককে সরিয়ে নিতে দূতাবাসের নির্দেশে প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।
ইরানে অবস্থিত চীনা দূতাবাস জানায়, নাগরিকদের নিরাপদে ইরান থেকে সরে যেতে আজারবাইজান, আর্মেনিয়া ও তুরস্কের স্থলসীমান্ত খোলা রয়েছে।
আইআরজিসি প্রধানসহ শীর্ষ নিরাপত্তা উপদেষ্টা নিহত
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলি হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর ও খামেনির শীর্ষ নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলি শামখানি নিহত হয়েছেন।
খামেনির মৃত্যুর পর ইরান পরিচালনায় কাউন্সিল
খামেনির মৃত্যুর পর ইরান পরিচালনার জন্য একটি কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। এই কাউন্সিলে রয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মহসেনি এজেয়ি এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন সদস্য।
ইরানের আইন অনুযায়ী, তাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন একজন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করতে হবে।
দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দরে আগুন
দুবাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি ড্রোন হামলা প্রতিহত করার পর তার ধ্বংসাবশেষ থেকে জেবেল আলি বন্দরে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এছাড়া বুর্জ আল আরব হোটেলের সামনের অংশেও এর ধ্বংসাবশেষের কারণে আগুনের খবর পাওয়া গেছে। এতে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৪ জন কর্মী আহত হয়েছেন।
আইআরজিসির হুমকি: ইতিহাসের সবচেয়ে তীব্র আক্রমণ শিগগিরই
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটির আধাসামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) তাদের ইতিহাসের ‘সবচেয়ে তীব্র আক্রমণাত্মক অভিযান’ শুরু করার হুমকি দিয়েছে।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে তীব্র আক্রমণাত্মক অভিযান মুহূর্তের মধ্যেই শুরু হবে, যা ইসরায়েল ও আমেরিকার সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হবে।’
বৈশ্বিক শিপিং সংস্থাগুলোর সতর্কতা
আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীতে চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে গ্লোবাল শিপিং ফার্ম সিএমএ ও সিজিএম পারস্য উপসাগরে থাকা তাদের জাহাজগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। সুয়েজ খাল দিয়ে চলাচল স্থগিত করে জাহাজগুলোকে ‘কেপ অব গুড হোপ’ হয়ে ঘুরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খামেনির মেয়ে ও জামাতা নিহত
ইরানের একটি আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থার মতে, হামলায় খামেনির মেয়ে ও জামাতা নিহত হয়েছেন। এছাড়া তার এক নাতি এবং পুত্রবধূও নিহত হয়েছেন বলে ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে।
ইরানের মন্ত্রিসভার সতর্কবার্তা
খামেনি নিহত হওয়ার পর রবিবার ভোরে ইরানের মন্ত্রিসভা সতর্ক করে বলেছে, এই মহা অপরাধের জবাব দেওয়া হবেই।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, ৮৬ বছর বয়সী খামেনি তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত তার কম্পাউন্ড লক্ষ্য করে চালানো এক বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে একজন সংবাদ উপস্থাপক সরাসরি সম্প্রচারের মাঝেই খামেনির মৃত্যুর ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, ‘মর্যাদাবান ও গর্বিত ইরানি জনগণকে গভীর শোক ও বেদনার সঙ্গে জানানো যাচ্ছে যে, আমেরিকার অপরাধী সরকার এবং দুষ্ট জায়োনিস্ট শাসনের বর্বর হামলার পর, ইমান, জিহাদ ও প্রতিরোধের প্রকৃত প্রতীক বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ খামেনি শহিদের মর্যাদা লাভ করেছেন।’
৪০ দিনের শোক ঘোষণা
খামেনির মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং ৭ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
ট্রাম্পের মন্তব্য
ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খামেনিকে ‘ইতিহাসের অন্যতম শয়তান ব্যক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, খামেনি আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা ও অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং সিস্টেম থেকে বাঁচতে পারেননি। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের অধিকাংশ ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব এখন নিশ্চিহ্ন।
ইসরায়েলের অবস্থান
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক ভাষণে বলেন, খামেনি যে আর বেঁচে নেই তার ক্রমবর্ধমান প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। জাতিসংঘে ইসরায়েলের দূত ড্যানি ড্যানন বলেন, তারা একটি অস্তিত্ব রক্ষার হুমকি রুখতে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং কূটনীতি যখন ব্যর্থ হয়, তখনই এটিই করা হয়।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ মার্কিন পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছেন।
এদিকে, আরব লীগ বলেছে, ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা এমন এক মুহূর্ত নির্দেশ করছে, যখন আরব-ইসরায়েল সংঘাত পূর্ণমাত্রার আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে।
২২ সদস্যবিশিষ্ট এই জোটের জাতিসংঘ পর্যবেক্ষক মাজেদ আবদেলআজিজ অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল ইরান যুদ্ধকে ব্যবহার করছে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে তাদের দখলদারত্বের অবসান এড়াতে এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ঠেকাতে।
একইসঙ্গে তিনি বলেন, সামরিক শক্তি ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
অপরদিকে, সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নিন্দা জানিয়েছে, যা নতুন সিরীয় সরকারের পরিবর্তিত পররাষ্ট্রনীতির ইঙ্গিত দেয়।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস অবিলম্বে সংঘাত বন্ধ করে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উভয় পক্ষের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের নিন্দা করেন।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে
পাল্টাপাল্টি মিসাইল হামলায় ইসরায়েলের তেল আবিবে এক নারী নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রদূত দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনে শত শত বেসামরিক লোক নিহত বা আহত হয়েছেন।
এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে বসছেন এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) ভিয়েনায় বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করেছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে বলে পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা।
৫ দিন আগে