বিশ্ব
পাকিস্তানে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১৩
পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিক্রিয়ায় ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানের অন্তত ছয়টি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ১৩ জন নিহত ও ৩৫ জন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (৬ মে) দিবাগত রাতে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী।
তিনি জানান, ভারত মোট ২৪টি হামলা চালিয়েছে, এর মধ্যে সবচেয়ে বড় হামলার ঘটনা ঘটেছে (পাকিস্তানের) পাঞ্জাব প্রদেশের বাহাওয়ালপুরের কাছে আহমেদপুর শারকিয়ায়। সেখানে একটি মসজিদ প্রাঙ্গণে হামলায় এক শিশুকন্যাসহ ৫ জন নিহত হয়েছেন।
এছাড়া পাঞ্জাবের মুরিদকে শহর, শিয়ালকোটের কাছে একটি গ্রাম এবং শাকরগড়েও হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের মুজাফফরাবাদ ও কোটলিতেও হামলা হয়েছে। সেখানের হামলায় দুটি মসজিদ ধ্বংস হয়েছে। তাছাড়া এই হামলায় ১৬ বছর বয়সী এক তরুণী ও ১৮ বছর বয়সী এক তরুণও নিহত হয়েছে বলে জানান আহমেদ শরীফ।
আরও পড়ুন: কাশ্মীর ইস্যুতে চলমান উত্তেজনা নিরসনের আহ্বান পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতের
গত ২২শে এপ্রিল ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে কয়েকদিন ধরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এ হামলা চালানো হলো। শুরু থেকেই হামলার জন্য পাকিস্তানতে দায়ী করে আসছিল ভারত। যদিও পাকিস্থান এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিল।
এদিকে, ভারতের এই হামলার জবাবে হুমকি দিয়েছে পাকিস্তান। এই ঘটনায় পরমাণু শক্তিধর এই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বুধবার (৭ মে) সকালে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের সেনারা ভারতের ৫টি বিমান ভূপাতিত করেছে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের খবরে এমন বলা হয়েছে।
এছাড়া অধিকৃত কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) বরাবর ভারতীয় সেনাদের ওপর পাল্টা হামলার কথা জানিয়েছে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, কাশ্মীর সীমান্তে পাকিস্তানের গোলাবর্ষণে তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
সূত্র: বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম থেকে নেওয়া।
৩০৪ দিন আগে
কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন হতে গণভোটের প্রস্তাব আলবার্টার প্রধানমন্ত্রীর
পর্যাপ্ত সংখ্যক মানুষের সম্মতি পেলে কানাডা থেকে আলাদা হতে আগামী বছর একটি গণভোটের আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির তেলসমৃদ্ধ প্রদেশ আলবার্টার প্রধানমন্ত্রী ড্যানিয়েল স্মিথ।
সোমবার (৫ মে) সরাসরি সম্প্রচার হওয়া এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘প্রদেশটি কানাডা থেকে বিছিন্ন হয়ে যাক, আমি ব্যক্তিগতভাবে তা চাচ্ছি না।’ এ সময়ে ঐক্যবদ্ধ কানাডার মধ্যে একটি শক্তিশালী ও সার্বভৌম আলবার্টা নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ড্যানিয়েল স্মিথ বলেন, ‘গত এক দশকে আমাদের প্রদেশের ওপর অটোয়া যেভাবে চেপে বসেছে, সেটা চলতে থাকবে কিনা; আলবার্টার জনগণ সেই সিদ্ধান্ত নেবেন। আমি তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো।’
আরও পড়ুন: কানাডার নির্বাচনে জয় পেল প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির লিবারেল পার্টি
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির লিবারেল পার্টি টানা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় আসার এক সপ্তাহ পর ড্যানিয়েল স্মিথের এমন ঘোষণা এসেছে। এছাড়া প্রতিবেশী দেশের অর্থনীতির ওপর ক্রমাগত শুল্কারোপের হুমকি দিয়ে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কানাডাকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একান্নতম অঙ্গরাজ্য হিসেবে একীভূত করতে চাচ্ছেন।
মঙ্গলবার (৬ মে) হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে মার্ক কার্নির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
একটি প্রাদেশিক গণভোটের জন্য আবেদনকারীদের যেসব শর্ত পূরণ করতে হতো, সেই বাধা কমিয়ে আনতে একটি আইন প্রণয়ন করেছে আলবার্টার ক্ষমতাসীল দল ইউনাইটেড কনজারভেটিভ। তবে আইনটি এখনো পার্লামেন্টে পাস হয়নি।
আইনটি পাস হয়ে গেলে নাগরিকদের নেওয়া উদ্যোগে গণভোটের নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি গণভোটের জন্য ১০ শতাংশ ভোটারের সই লাগবে, আগে যেটা ছিল ২০ শতাংশ।
এছাড়া আবেদনে এক লাখ ৭৭ হাজার ভোটারের সইয়ের জন্য আগে যেখানে ৯০ দিন সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, সেটা বাড়িয়ে ১২০ দিন করা হয়েছে।
আলবার্টার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কোনো বিশেষ সুবিধা কিংবা সহায়তা চাচ্ছি না, বরং উন্নয়ন এগিয়ে নিতে আলাদা হতে চাচ্ছি, যাতে আমাদের বিপুল সম্পদ আমরা রফতানি করতে পারি।’
‘জনগণকে কীভাবে আমরা স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সামাজিক সুবিধা দেব, আমরা সেটা বেছে নেওয়ার জন্য স্বাধীনতা চাই; এমনকি সেটা যদি অটোয়ার পরিকল্পনার তুলনায় ভিন্নভাবেও করা হয়,’ বলেন তিনি।
কেন্দ্রীয় সরকারের যেসব নীতির কারণে আলবার্টার লোকজন ক্ষুব্ধ, সেগুলোর অবসানে একটি আলোচক টিম গঠন করবেন বলেও জানিয়েছেন ড্যানিয়েল স্মিথ। আলবার্টাবাসীর কষ্ট ও আইডিয়ার কথা শুনতে ধারাবাহিকভাবে একটি প্যানেল আলোচনা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এডমন্টনের ম্যাকইওয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জন সরোসকি বলেন, ‘মানুষের মধ্যে ক্ষোভ থাকতে পারে। সেটা যে একেবারে বিচ্ছিন্নতার দিকে যাবে, তা আমি বলতে পারছি না। তাদের অভাব-অনুযোগ গুরুতর। কিন্তু বিচ্ছিন্নতার শঙ্কা একেবারে অসম্ভব।’
আরও পড়ুন: মরক্কো ছেড়ে কানাডায় যাওয়া রাষ্ট্রদূত হারুনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার
এরআগে ১৯৮০ ও ১৯৯৫ সালে কানাডা থেকে আলাদা হয়ে যেতে গণভোটের আয়োজন করে ফরাসিভাষী প্রদেশ কুইবেক। কিন্তু দুবারই তারা ব্যর্থ হয়েছে।
এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলেন, ‘আমি মনে করি না, স্মিথ বিচ্ছিন্নতা চাচ্ছেন। যেহেতু আলবার্টার লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ আছে, সেই ভাবনা থেকে কানাডার কাছ থেকে কিছু সুবিধা আদায় করতে চাচ্ছেন তারা।’
৩০৪ দিন আগে
পোপ ফ্রান্সিসের উত্তরসূরি নির্বাচন করা হবে যেভাবে
পোপ ফ্রান্সিসের উত্তরসূরি নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হবে আগামীকাল বুধবার। তবে নতুন পোপ নির্বাচন সম্পন্ন করতে অনুসরণ করা হবে কয়েক শতাব্দীর পুরোনো একটি জটিল ও দীর্ঘ আনুষ্ঠানিকতাকে। সেই আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে ভ্যাটিকানের সিস্টিন চ্যাপেলে অনুষ্ঠিত হবে কনক্লেভ (পোপ সম্মেলন)। সেখানেই কঠোর গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে নির্বাচন করা হবে নতুন পোপ।
কারা করবেন পোপ নির্বাচন?
ক্যথলিক চার্চসমূহের শীর্ষ ধর্মযাজকরা ‘কলেজ অব কার্ডিনালস নামে’ পরিচিত। এসব কার্ডিনালসদের সকলেই পুরুষ এবং সরাসরি পোপ কর্তৃক নিযুক্ত হন। মূলত তারাই ভোটাভুটি করে নতুন পোপ নির্বাচন করেন। তবে, নতুন ভোটে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়মকানুন বেঁধে দেওয়া আছে। কার্ডিনালদের বয়স ৮০ বছরের বেশি হলে তারা সরাসরি ভোটে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। তাই, বর্তমানে সারাবিশ্বে মোট ২৫২ জন ক্যাথলিক কার্ডিনাল থাকলেও্র নতুন পোপ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন ১৩৫ জন। বাকি কার্ডিনালরা নতুন পোপ হিসেবে কাকে নির্বাচিত করা উচিত, সেই বিতর্কে অংশ নিয়ে তারা নিজেদের মতামত জানাতে পারবেন।
আরো পড়ুন: নতুন পোপ নির্বাচন শুরু ৭ মে
তবে, ভ্যাটিকান সূত্র মতে, ৮০ বছর অনূর্ধ ১৩৫ জনের মধ্যে ইতোমধ্যে ২ জন কার্ডিনাল স্বাস্থ্যজনিত কারণে নাম প্রত্যাহার করেছেন বলে জানা যায়। ভ্যাটিকানের সিস্টিন চ্যাপেলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের কনক্লেভে অংশ নিবেন ৭১টি ভিন্ন ভিন্ন দেশের ১৩৩ জন কার্ডিনাল, ফলে এটি হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে ভৌগোলিকভাবে বৈচিত্র্যময় পোপ নির্বাচনী সম্মেলন।
এবার, এশিয়া, আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপ থেকে আসা ধর্মযাজকদের মধ্যে থেকেই পরবর্তী পোপ নির্বাচনের সম্ভাবনা বেশি। পোপ নির্বাচিত হতে হলে দুই-তৃতীয়াংশ কার্ডিনালসদের ভোট পেতে হয়। ফলে এবারের কনক্লেভে পোপ নির্বাচিত হতে হলে ৮৯টি ভোট পেতে হবে।
এবারের কনক্লেভে ইতালি থেকে সবোর্চ্চ সংখ্যক (১৭ জন) কার্ডিনাল অংশ নেবেন। এছাড়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১০ জন, ব্রাজিলের ৭ জন, ফ্যান্স ও স্পেন থেকে ৫ জন করে এবং আর্জন্টিনা, কানাডা, ভারত, পোলান্ড এবং পর্তুগাল থেকে ৪ জন করে ভোটার অংশ নেবেন।
মহাদেশভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী ইউরোপের কার্ডিনালসদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। এবারের কনক্লেভে ইউরোপ মহাদেশ থেকে ৫৩ জন কার্ডিনাল অংশ নেবেন। এছাড়া, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে ২৩ জন, আফ্রিকা থেকে ১৮ জন, মধ্য আমেরিকা থেকে ৪ জন, দক্ষিণ আমেরিকা ও উত্তর আমেরিকা থেকে যথাক্রমে ১৭ ও ১৬ জন এবং ওশেনিয়া মহাদেশ থেকে ৪ জন কার্ডিনাল কনক্লেভে অংশ নিয়ে নতুন ক্যাথলিক ধর্মগুরু নির্বাচন করবেন।
আরো পড়ুন: ব্যর্থ প্রেমিক থেকে যেভাবে পোপ ফ্রান্সিস হয়ে ওঠেন হোর্গে বারগোগ্লিও
এই নির্বাচন প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করে থাকেন ৯ জন কার্ডিনাল। তবে ঐতিহ্যগতভাবে পোপ নির্বাচনের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন হয়। তবে এই শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ভোটের কার্যক্রম কয়েক পর্বে অব্যাহত থাকে। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রতিটি পর্বে ব্যালট কেমিক্যাল দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। এসময় কালো বা সাদা ধোঁয়া তৈরি হয়। যেটি মূলত ফলাফলের সংকেত দেয় বিশ্ববাসীকে। এরমধ্যে কালো ধোঁয়া সংকেত দেয় যে সিদ্ধান্ত হয়নি। আর সাদা ধোঁয়া সংকেত দেয় সিদ্ধান্ত হয়েছে। সর্বশেষ পোপ নির্বাচিত হওয়ার পর একজন শীর্ষ কার্ডিনাল সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকা থেকে নতুন পোপের নাম ঘোষণা করবেন।
এবারের পোপ নির্বাচনকে স্বচ্ছ করতে ভ্যাটিকান কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। পোপ কনক্লেভ শুরু উপলক্ষে স্থানীয় সময় বুধবার বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ভ্যাটিকানে সকল প্রকার মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই সময়ে কার্ডিনালসরা যাতে বাইরের কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারেন। অথবা বাইরে থেকে পোপ নির্বাচনকে যাতে কেউ প্রভাবিত করতে না পারেন- মূলত সেজন্যই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
৩০৪ দিন আগে
পুরো গাজার নিয়ন্ত্রণ নিতে নতুন পরিকল্পনা ইসরায়েলের
গাজা উপত্যকার পুরো অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থানের নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। এই পরিকল্পনায় ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে বলে জানিয়েছেন দুই কর্মকর্তা। নতুন এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলে ফিলিস্তিনি ভূখন্ডে আরও ব্যাপক হারে অভিযান প্রসারিত করবে ইসরায়েল। এতে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক বিরোধিতার মুখেও পড়বে দখলদার বাহিনীটি।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর প্রধান হাজার হাজার রিজার্ভ সৈন্য সমাবেশ করার নতুন পরিকল্পনা ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই সোমবার ভোরে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভায় ভোটাভুটির মাধ্যমে পরিকল্পনাটি অনুমোদিত হয়।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরায়েলের নতুন পরিকল্পনা হামাসকে ধ্বংস করা ও গাজায় বন্দী থাকা ইসরায়েলিদের মুক্ত করার লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে। এর ফলে লাখ লাখ ফিলিস্তিনিকে দক্ষিণ গাজায় ঠেলে দেওয়া হবে। যেখানে ইতোমধ্যে ভয়াবহ মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুন: মার্কিন বিমান হামলায় ইয়েমেনে কারাগারে ৬৮ অভিবাসী নিহত
চলতি বছরের ১৮ মার্চ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় পুনরায় ব্যাপকহারে সামরিক অভিযান শুরু করে। এতে ওই অঞ্চলে বিমান হামলায় শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন, নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন আরও লাখো মানুষ। এখন পর্যন্ত গাজার প্রায় ৫০ শতাংশ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ)।
বাস্তবতা হলো যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ইসরায়েল গাজায় খাদ্য, জ্বালানি ও পানিসহ সমস্ত মানবিক সহায়তা প্রবেশ বন্ধ করে দেয়। ফলে প্রায় ১৯ মাসের যুদ্ধের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখে পড়েছে অঞ্চলটির বাসিন্দারা।
হামাসের উপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টায় ইসরায়েল
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন পরিকল্পনায় অঞ্চলটি দখলের বিষয়টি রয়েছে। একই সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার চেষ্টাও করা হবে। কারণ, তাদের এই কার্যক্রমগুলো গাজায় হামাসের শাসনকে শক্তিশালী করেছে বলে মনে করে ইসরায়েল। এই পরিকল্পনায় হামাসের স্থাপনাগুলোতে শক্তিশালী হামলা চালানোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা দখল এবং সেখানকার ফিলিস্তিনিদের অন্যত্র স্থানান্তর করার পরিকল্পনা সম্পর্কে ইসরায়েল বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এটিকে ইসরায়েল ‘স্বেচ্ছায় অভিবাসন’ বলে অভিহিত করেছে। ইসরায়েলের এই পরিকল্পনাটি ইউরোপ এবং আরব বিশ্বে নিজেদের মিত্রদের কাছে ব্যাপক নিন্দিত হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উভয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সামরিক পরিকল্পনাটি ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা হবে।
হামাসকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির আলোচনায় নমনীয় করতে কয়েক সপ্তাহ ধরে চাপ প্রয়োগ করে আসছে ইসরায়েল। কিন্তু আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা হামাসকে নমনীয় পর্যায়ে নিতে পারেনি। ইসরায়েলের পদক্ষেপগুলোর কারণে হামাস আলোচনা থেকে সরে যেতেও পারে বলে মনে হচ্ছে।
ইসরায়েলের নতুন পরিকল্পনা হামাসের হাতে জিম্মি থাকা ইসরায়েলিদের পরিবারগুলোতে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। জিম্মি পরিবারগুলোর ফোরাম সোমবার বলেছে, নতুন পরিকল্পনাটি প্রতিটি জিম্মিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। জিম্মিদের মুক্তিকে অগ্রাধিকার দিতে ইসরায়েল সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সোমবার নেসেট কমিটির বৈঠক থেকে আইনব জাঙ্গাউকার ‘সৈন্যদের আদর্শিক ও নৈতিক কারণে ডিউটিতে না ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। জাঙ্গাউকার জিম্মি থাকা মাতানের বাবা।
মানবিক সহায়তা বিতরণ থেকে হামাসকে বিরত রাখতে চায় ইসরায়েল
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বিস্তারিত বিবরণ না দিয়ে বলেন, মানবিক সাহায্য বিতরণে হামাসকে সম্পৃক্ত হওয়া থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করবে ইসরায়েল। কর্মকর্তাদের একজন বলেন, ‘মন্ত্রীরা সহায়তা বিতরণের বিকল্প অনুমোদন করেছেন।’
আন্তুর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলোর একটি অভ্যন্তরীণ চিঠিতে এপি দেখতে পেয়েছে, ইসরায়েল জাতিসংঘকে জানিয়েছে যে, তারা গাজায় সাহায্য বিতরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য বেসরকারি নিরাপত্তা কোম্পানিগুলোকে কাজে লাগাবে। তবে রবিবার জাতিসংঘ ইসরায়েলের এমন পরিকল্পনায় অংশগ্রহণ করবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে- কারণ এটি তাদের নীতিবিরুদ্ধ।
আরও পড়ুন: গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৩৬
এদিকে গতরাতে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন বলে গাজার হাসপাতাল সূত্র নিশ্চিত করেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাস অভিযান চালানোর পর থেকে যুদ্ধ শুরু হয়। সেই অভিযানে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন ইসরায়েলি নিহত হন। ২৫০ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যায় হামাস যোদ্ধারা। ইসরায়েল বলছে, জিম্মিদের মধ্যে এখনো ৫৯ জন গাজায় হামাসের হাতে রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের মধ্যে ৩৫ জন মারা গেছেন।
অন্যদিকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫২ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। তবে নিহতদের সামরিক ও বেসামরিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।
১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় গাজা দখল করে নিয়েছিল আইডিএফ। পরে ২০০৫ সালে বসতিস্থাপনকারী ও সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয় ইসরায়েল। দুই বছর পর হামাস অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।
৩০৫ দিন আগে
কুখ্যাত সেই কারাগারটি ফের চালু করার নির্দেশ ট্রাম্পের
ষাট বছরেরও বেশি সময় আগে বন্ধ হওয়া একটি কুখ্যাত কারাগার নতুন করে চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকোর দুর্গম দ্বীপ আলকাট্রাজে ১৯৩৪ সালে এই কারাগারটি স্থাপন করা হয়েছিল। পরে ১৯৬৩ সালে সেটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
এবার কারাগারটি কেবল চালু করাই না, এটিকে আরও বড় করে পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। রবিবার (৪ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘এক সময় আমেরিকার জনগণকে রক্ষায় দেশটির বিপজ্জনক অপরাধীদের আলকাট্রাজ কারাগারে আটকে রাখা হতো। সেই কারাগারটিই আবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকা হিংস্র ও সহিংস অপরাধীদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। এমনকি কিছু কিছু অপরাধী বারবারই সহিংস কার্যকলাপ করে দেশটির ক্ষতি করে আসছেন। আমি বিচার বিভাগ, ফেডারেল ব্যুরো অব আমেরিকা (এফবিআই) ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সঙ্গে কারাগার ব্যুরোকে একীভূত করে আলকাট্রাজ কারাগারটি ফের চালু ও সম্প্রসারণের নির্দেশ দিয়েছি। সেখানে আমেরিকার সবচেয়ে নিষ্ঠুর ও সহিংস অপরাধীদের রাখা হবে।’
এ বিষয়ে ফ্লোরিডা থেকে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘কারাগারটির একটি দীর্ঘ ইতিহাস আছে। এটি আইন ও শৃঙ্খলার প্রতীক।’
আরও পড়ুন: বাংলাদেশিসহ ১০ অভিবাসীকে গুয়ান্তানামো বে পাঠানোর সিদ্ধান্ত, মামলা
প্রসঙ্গত, সান ফ্রান্সিসকো উপসাগরে অবস্থিত আলকাট্রাজ কারাগারটি ৬৩ বছর ধরে বন্ধ ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অফ প্রিজনসের ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, ভঙ্গুর অবকাঠামো ও উচ্চব্যয়ের কারণে ১৯৬৩ সালে কারাগারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। দ্বীপে অবস্থিত হওয়ার কারণে এটি পরিচালনার খরচ ছিল অন্য যেকোনও ফেডারেল কারাগারের তুলনায় প্রায় তিনগুণ।
এছাড়া দ্বীপের অবস্থান, তীব্র স্রোত এবং বরফ শীতল পানির কারণে আলকাট্রাজকে আমেরিকার সবচেয়ে নিরাপদ কারাগার হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
এমনকি আনুষ্ঠানিকভাবে এ কারাগার থেকে কোনো বন্দির পালানোর রেকর্ডও নেই। এফবিআইয়ের তথ্যমতে, কারাগারটি চালু থাকাকালীন ৩৬ জন আসামি অন্তত ১৪ বার পালানোর চেষ্টা করেও সফল হননি। সবাই কর্তৃপক্ষের হাতে ধরা পড়েছেন। এটি বর্তমানে সান ফ্রান্সিসকোর অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ।
এদিকে, ট্রাম্পের ঘোষণার পর থেকেই নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে দ্বিমত পোষণ করেছেন সাবেক হাউস স্পিকার ও ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতা ন্যান্সি পেলোসি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া পোস্টে তিনি বলেন, ‘ষাট বছরেরও বেশি সময় আগে আলকাট্রাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এটি এখন অত্যন্ত জনপ্রিয় জাতীয় উদ্যান এবং প্রধান পর্যটন আকর্ষণ। ট্রাম্পের প্রস্তাবটি যথোচিত নয়।’
শুরুতে আলকাট্রাজ একটি নৌ প্রতিরক্ষা দুর্গ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ২০ শতকের প্রথম দিকে এটিকে একটি সামরিক কারাগারে রূপান্তর করা হয়। ১৯৩০-এর দশকে বিচার বিভাগের অধীনে নেওয়া হয় এই কারাগারটি। এরপর থেকে ফেডারেল বন্দিদের এ কারাগারে পাঠানো শুরু করা হয়।
আরও পড়ুন: হত্যা মামলায় ৩০ বছর জেল খাটার পর নির্দোষ প্রমাণিত
এখানে রাখা কয়েদিদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কুখ্যাত গ্যাংস্টার আল কাপোন, মিকি কোহেন এবং জর্জ মেশিন গান কেলি।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, ১৯৬২ সালে বার্ট ল্যাঙ্কাস্টার অভিনিত ‘বার্ডম্যান অফ আলকাট্রাজ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমেও বিখ্যাত হয়েছিল কারাগারটি। এছাড়াও ১৯৯৬ সালের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘দ্যা রকে’র শুটিংও হয় এই দ্বীপে। ওই মুভিতে বিখ্যাত অভিনেতা শন কনারি ও নিকোলাস কেজ অভিনয় করেন।
৩০৫ দিন আগে
মার্কিন বিজ্ঞানীদের টানতে প্রণোদনা ঘোষণা করতে যাচ্ছে ইউরোপ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নানা বিতর্কিত পদক্ষেপে ক্ষতিগ্রস্ত বিজ্ঞানীদের ইউরোপে নিয়ে যেতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে ফ্রান্স ও ইউরোপীয় কমিশন (ইইউ)। তাদের ইউরোপে থিতু করতে প্রণোদনা ঘোষণা করতে যাচ্ছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল ম্যাঁখো ও ইইউ প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন দার লিয়েন।
স্থানীয় সময় সোমবার (৫ মে) সকালে প্যারিসের সোরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃবৃন্দ ও গবেষকদের সঙ্গে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই প্রণোদনার ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর তহবিল কাঁটছাটসহ মার্কিন প্রশাসনের আরোপিত বেশ কিছু নীতির ফলে নিজেদের কাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত দেশটির অনেক গবেষক। সেসব মার্কিন গবেষকদেরই ইউরোপে আমন্ত্রণ জানাতেই ইউরোপীয় কমিশনার ও একাডেমিকদের মিলিত উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, একাডেমিক স্বাধীনতা হুমকির মুখে থাকায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ইউরোপকে একটি আকর্ষণীয় মহাদেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এই বিবৃতিতে।
দেশটির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ইউরোপ এমন একটি জায়গা, যেখানে গবেষণার স্বাধীনতা রয়েছে, কোনো বিষয়ই এখানে নিষিদ্ধ নয়।’
ফ্রান্স ও ইউরোপের এই উদ্যোগ গবেষণার স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেবে বলে মনে করেন তিনি। সোমবারে আয়োজিত ‘চুজ ইউরোপ ফর সায়েন্স’ শীর্ষক অনুষ্ঠানটিতে স্বাস্থ্য (সংক্রামক রোগ), জলবায়ু গবেষণা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক বিজ্ঞানীদের আকৃষ্ট করতে ফ্রান্স বিশেষভাবে আগ্রহী বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: গবেষণায় ট্রাম্পের তহবিল বন্ধের প্রতিবাদে বিজ্ঞানীদের বিক্ষোভ এর আগে, এ বিষয়ে ইউরোপীয় কমিশনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়ে চিঠি দেয় ১৩টি ইউরোপীয় দেশ। পরে এপ্রিল মাসে ফ্রান্স নিজস্ব উদ্যোগে চুজ ফ্রান্স ফর সায়েন্স চালু করা হয়। এই উদ্যোগের আওতায় আন্তর্জাতিক গবেষকদের জন্য আবেদন প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়।
ফরাসি গবেষণা মন্ত্রণালয় জানায়, কিছু বিদেশি গবেষক ইতোমধ্যেই ফ্রান্সে এসে দেশটির অবকাঠামোর সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন এবং তারা তহবিল ও প্ল্যাটফর্মের অপেক্ষায় আছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে হুমকির মুখে রয়েছেন এমন ও বিদেশে ফরাসি গবেষকদের আকৃষ্ট করতে নতুন একটি কর্মসূচি চালু করেছে ফ্রান্সের শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস)।
সিএনআরএসের প্রেসিডেন্ট আঁতোয়ান পেতি বলেন, ‘ট্রাম্পের আমেরিকায় যেসব গবেষকরা নিজেদের সন্তানদের বড় করতে চান না, তাদের ফিরিয়ে আনতে এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।’
এদিকে, মার্চে চালু হওয়া এক্স-মার্সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সেইফ প্লেস ফর সায়েন্স’ কর্মসূচির অধীনে জুন মাসে প্রথম বিদেশি গবেষকরা সেখানে যোগ দেবেন।
মার্চ মাসে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে লেখা এক চিঠিতে ফ্রান্সের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণামন্ত্রী ফিলিপ বাতিস্তে বলেন, ‘অনেক নামকরা গবেষক এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আমরা স্বাভাবিকভাবেই তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যককে স্বাগত জানাতে চাই।’
তবে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে যুক্তরাষ্ট্রে গবেষণায় বিনিয়োগ বহু বছর ধরেই ইউরোপের চেয়ে বেশি। দশকের পর দশক ধরে ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা কেন্দ্রগুলো বিনিয়োগের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পেছনে রয়েছে।
তাছাড়া তুলনামূলকভাবে কম বেতন ও অনিরাপদ চুক্তির মতো সমস্যাগুলো নিয়ে প্রায়শই অভিযোগ জানিয়ে আসছে ফরাসি গবেষকরা। গড় হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকদের চেয়ে কম বেতন পান ফরাসি গবেষকরা।
আরও পড়ুন: চাঁদের দূরবর্তী অংশের অজানা তথ্য দিলেন বিজ্ঞানীরা
গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ভালো চুক্তি, উন্নত বেতন কাঠামো ও সার্বিকভাবে আরও বেশি অর্থায়নের দাবি জানিয়ে আসছে ফ্রান্সের বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন।
জার্মানির আসন্ন চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎসে গত মাসে বলেন, ‘আমেরিকান সরকার বর্তমানে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর বলপ্রয়োগ করছে, যার ফলে এখন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা ইউরোপের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এটি আমাদের জন্য একটি বিশাল সুযোগ।’
৩০৬ দিন আগে
দীর্ঘ জীবনের রেসিপি দিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি
দক্ষিণ ইংল্যান্ডের শিপটন বেলিঙ্গার গ্রামের বাসিন্দা ইথেল ক্যাটেরহাম, বয়স ১১৫ বছর। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি তিনি। কারও সঙ্গে তর্ক না করা— এটিই তার এই দীর্ঘ জীবনের রহস্য বলে জানিয়েছেন এই নারী।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান জেরেন্টোলজি রিসার্চ গ্রুপের (জিআরজি) তথ্যমতে, গত বুধবার (৩০ এপ্রিল) ব্রাজিলিয়ান সিস্টার ইনাহ কানাবারো ১১৬ বছর বয়সে মারা যান। এরপর থেকে ইথেলই বর্তমানে বিশ্বে সবচেয়ে প্রবীণ ব্যক্তি।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধেরও পাঁচ বছর আগে অর্থাৎ ১৯০৯ সালের ২১ আগস্ট শিপটন বেলিঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ইথেল। আট ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়।
নিজের এই দীর্ঘ জীবনের রহস্য জানতে চাইলে ইথেল বলেন, ‘আমি কখনো কারও সঙ্গে তর্ক করি না। আমি সবার কথা শুনি, তবে যেটা আমার ভালো লাগে সেটিই করি।’
ইথেল তার জীবনে বেশ ঘোরাঘুরিও করেছেন। তিনি মাত্র ১৮ বছর বয়সে একটি ব্রিটিশ পরিবারে সঙ্গে শিশুদের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে ভারতে এসেছিলেন। তিন বছর থাকার পরে আবার ইংল্যান্ডে ফিরে যান।
আরও পড়ুন: বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক জীবিত ব্যক্তির খেতাব পেলেন ১১৫ বছর বয়সী মারিয়া ব্রানিয়াস
জিআরজির ভাষ্যে, ইথেলের স্বামী নরম্যান ব্রিটিশ আর্মিতে মেজর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৩১ সালে একটি ডিনার পার্টিতে তাদের পরিচয় হয়েছিল। চাকরি সূত্রে পরে হংকং ও জিব্রাল্টারেও ছিলেন তারা। এই দম্পতির দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। নরম্যান ১৯৭৬ সালে মারা গিয়েছিলেন।
ইথেল বর্তমানে হলমার্ক লেকভিউ লাক্সারি কেয়ার হোম নামক একটি পরিচর্যাকেন্দ্রে রয়েছেন। সেখান থেকেই গত বৃহস্পতিবার (১ মে) ১১৫ লেখা একটি মুকুট পরিয়ে কেক কাটা অবস্থায় তার একটি ছবি দেওয়া হয় ফেসবুকে।
সেখানে পৃথিবীর প্রবীণতম ব্যক্তি হওয়ার জন্য ইথেলকে অভিনন্দন জানানো হয়। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী, ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী ব্যক্তি ছিলেন ফ্রান্সের জ্যাঁ কালমঁ, যিনি বেঁচে ছিলেন ১২২ বছর ১৬৪ দিন।
৩০৬ দিন আগে
নির্বাচনে জিতে সিঙ্গাপুরের ক্ষমতায় আবারও পিএপি
সিঙ্গাপুরের পার্লামেন্ট নির্বাচনে আবারও জয় পেয়েছে পিপলস অ্যাকশন পার্টি (পিএপি)। এর মধ্য দিয়ে টানা ৬৬ বছরের মতো দেশটির ক্ষমতায় টিকে থাকল দলটি। এই জয়কে প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওয়াংয়ের একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এক বছর আগে ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন তিনি।
শনিবার (৩ মে) অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, দেশটির পার্লামেন্টের ৯৭টি আসনের মধ্যে ৮৭টি পেয়েছে পিএপি। এছাড়া ৩৩টি নির্বাচনি এলাকার বেশিরভাগেই বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে দলটি।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ৬৫ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে পিএপি। এর আগে ২০২০ সালের নির্বাচনে ৬১ শতাংশ ভোট পেয়েছিল তারা। ফলাফল ঘোষণার পরপরই পতাকা নেড়ে ও আনন্দ করে বিজয় উদযাপন করেন পিএপির সমর্থকরা।
১৯৫৯ সাল থেকে সিঙ্গাপুরের শাসনক্ষমতায় রয়েছে এই দলটি।
নির্বাচনে জয় পেয়ে সিঙ্গাপুরের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওয়াং। তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন অর্থনীতিবিদ।
দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফিরে একের পর এক শুল্কারোপের ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, তার ওই তালিকা থেকে বাদ যায়নি সিঙ্গাপুরও। এ কারণে নির্বাচনি প্রচারের সময় এই অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বাণিজ্যনির্ভর দেশটি পরিচালনার জন্য জনগণের সমর্থন চেয়েছিলেন লরেন্স।
এবার নির্বাচন জিতে তিনি বলেন, ‘এই ফলাফল সিঙ্গাপুরকে বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে আরও ভালো অবস্থানে রাখবে।’
সিঙ্গাপুর ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটির আইন অধ্যাপক ইউজিন তান বলেন, ২০২০ সালের পর বিরোধীদের কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়াটা বিস্ময়কর। তবে দীর্ঘদিন ধরে যারা সেবা দিয়ে আসছে, জনগণ তাদের প্রতিই আস্থা রেখেছেন বলেন মন্তব্য করেন তিনি।
গত বছর সিঙ্গাপুরের চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন লরেন্স ওয়াং। এর আগে দুই দশক ধরে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী ছিলে লি হসিং লুং। তিনি আধুনিক সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠাতা লি কুয়ান ইয়েওয়ের ছেলে। লিয়ের পদত্যাগের মাধ্যমে লি কুয়ান ইউয়ের শুরু করা পারিবারিক রাজনীতির অবসান ঘটে।
গতকালের ফলাফল অনুযায়ী, নির্বাচনে মূল বিরোধী দল ওয়ার্কার্স পার্টি ১০টি আসনে জয় পেয়েছে। গত নির্বাচনেও তারা ১০টি আসন পেয়েছিল। সিঙ্গাপুরে কোনো বিরোধী দলের এটি সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়ার ঘটনা।
আরও পড়ুন: কানাডার নির্বাচনে জয় পেল প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির লিবারেল পার্টি
বিশ্লেষকদের ধারণা, কঠোর সরকারি নিয়ন্ত্রণ, জীবিকার উচ্চ ব্যয়, আয় বৈষম্য, নাগালের বাইরে চলে যাওয়া আবাসন ব্যবস্থা ও মত প্রকাশের সীমাবদ্ধতা—এসব বিষয় বিশেষত তরুণদের মধ্যে পিএপির জনপ্রিয়তায় প্রভাব ফেলেছে।
বিরোধীদলগুলো জানিয়েছে, পার্লামেন্টে তাদের শক্তিশালী উপস্থিতি একটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে। তবে অনেক সময় সম্পদের অভাব, বিভক্ত সমর্থন ও দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের ঘাটতির কারণে তাদের পিছিয়ে থাকতে হয় বলে মন্তব্য করেন তারা। তাছাড়া, নির্বাচনি এলাকার সীমার পুনর্বিন্যাস পিএপিকে বাড়তি সুবিধা দেয় বলেও অভিযোগ করেন অনেকে।
ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা প্রীতম সিং জানান, তারা আরও ভারসাম্যপূর্ণ পার্লামেন্টের জন্য লড়াই অব্যাহত রাখবেন। তিনি বলেন, ‘ফলাফল যা হয়েছে তা ভুলে আমরা আগামীকাল থেকেই আবার কাজ শুরু করব।’
ওয়ার্কার্স পার্টি তাদের সংসদীয় উপস্থিতি বাড়াতে না পারলেও কিছু এলাকায় শেয়ার ভোট বাড়িয়ে নিজেদের সমর্থন আরও সুসংহত করেছে বলে করেন মন্তব্য করেন দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় রাজনীতি বিশ্লেষক ব্রিজেট ওয়েলশ। তবে অন্য ছোট বিরোধী দলগুলো উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি বলে মনে করেন তিনি।
ওয়েলশের মতে, ‘বৈশ্বিক অস্থিরতা ও যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সিঙ্গাপুরের ভোটাররা স্থিতিশীলতাকে বেছে নিয়েছেন। তরুণদের সঙ্গে ওয়াংয়ের সহজ-সরল বোঝাপড়া এবং পিএপিতে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নতুন মুখ নিয়ে আসাও ভোটে প্রভাব ফেলেছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি এই ফলাফলকে বলি, লরেন্স ও ট্রাম্পের প্রভাব। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ লরেন্সের ম্যান্ডেটকে আরও শক্তিশালী করেছে।’
এদিকে, সিঙ্গাপুর ও লরেন্স ওয়াংকে এই বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুর প্রায় ৬০ বছর ধরে একটি শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী কৌশলগত অংশীদারত্বের সম্পর্ক বজায় রেখেছে।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের হুমকি: গ্রিনল্যান্ডে অবিশ্বাস্য জয় পেল ডেমোক্র্যাটিট পার্টি
নবনির্বাচিত সরকার ও প্রধানমন্ত্রী ওয়াংয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
৩০৭ দিন আগে
অস্ট্রেলিয়ার ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন করলেন আলবানিজ
নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়ের মধ্যদিয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন লেবার পার্টির নেতা অ্যান্থনি আলবানিজ।
আনুষ্ঠানিক ভোট গণনা কয়েকদিনের মধ্যে শেষ হবে না। তবে সারা দেশে লিবারেল ন্যাশনাল জোটের শোচনীয় পরাজয়ের পর আলবানিজের বামপন্থী সরকার নাটকীয়ভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে।
আরও পড়ুন: গোয়েন্দাদের ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ইরাকে যুদ্ধ হয়: অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী
শনিবার (৩ মে) আলবানিজ বলেছেন, ‘আজ অস্ট্রেলিয়ার জনগণ মূল্যবোধের পক্ষে ভোট দিয়েছেন, ন্যায্যতা, আকাঙ্ক্ষা ও সুযোগ সৃষ্টির জন্য। এটি প্রতিকূলতায় সাহস দেখানোর শক্তি এবং যাদের প্রয়োজন তাদের প্রতি দয়া দেখানো।’
জোট নেতা পিটার ডাটন নিজের ২৪ বছর ধরে জয় পাওয়া নিজের আসনে হেরেছেন। তিনি দলের পরাজয়ের জন্য নিজের সম্পূর্ণ দায় স্বীকার করে দলীয় এমপিদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন।
সূত্র: বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা
৩০৭ দিন আগে
কাশ্মীর ইস্যুতে চলমান উত্তেজনা নিরসনের আহ্বান পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতের
অধিকৃত কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য এ পরিস্থিতিকে হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে উত্তেজনা নিরসনের আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত ও জাতিসংঘে দেশটির স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমদ।
শুক্রবার (২ মে) নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব বলেন।
আসিম ইফতিখার জানান, জাতিসংঘ মহাসচিব, সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেছে পাকিস্তান। পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গেও দেশটি তাদের উদ্বেগ ও কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেছে।
উত্তেজনা এড়াতে পাকিস্তানের সদিচ্ছার কথা উল্লেখ তিনি বলেন, ‘দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষায় পাকিস্তান পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।’
পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে আসিম বলেন, ‘নিরাপরাধ বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’
এ সময় পাকিস্তানের শান্তিপূর্ণ, সহযোগিতামূলক ও সুসম্পর্কপূর্ণ প্রতিবেশী নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
আরও পড়ুন: কাশ্মীর ইস্যুতে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার আভাস, উদ্বেগ
আসিম বলেন, ‘পারস্পরিক সম্মান ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে যেকোনো বিরোধ নিষ্পত্তি করতে চায় পাকিস্তান। এমনকি ভারতের সঙ্গেও একই নীতি অনুসরণ করতে চায় দেশটি।’
তিনি বলেন, ‘২২ এপ্রিল পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর হামলার পর থেকে ভারত-পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করছে।’
চলমান পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণে উত্তেজনা নিরসন প্রয়োজন বলে মনে করেন আসিম। এ লক্ষ্যে একতরফা যেকোনো পদক্ষেপ ও উস্কানিমূলক বক্তব্য থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান তিনি।
এ সময় জাতিসংঘ মহাসচিব ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোকে আলোচনা ও উত্তেজনা কমানের পক্ষে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান আসিম। সেইসঙ্গে ভবিষ্যতে যেকেনো সংঘাত এড়াতে এ ধরনের প্রচেষ্টা আরও জোরদার করা উচিত বলে মন্তব্য করেন পাকিস্তানের এই রাষ্ট্রদূত।
৩০৭ দিন আগে