বিশ্ব
গণমাধ্যমকর্মী ছাঁটাইয়ের পদক্ষেপ ট্রাম্পের
ভয়েস অব আমেরিকা (ভিওএ), রেডিও ফ্রি এশিয়া, রেডিও ফ্রি ইউরোপ এবং অন্যান্য গণমাধ্যমের আউটলেটের শত শত কর্মীকে ছাটাই করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত একটি ইমেল করা হয়েছে এসব কর্মীদের। একই সঙ্গে তাদের প্রেস পাস এবং সরঞ্জাম জমা দিতে বলা হয়েছে। শনিবার(১৫ মার্চ) স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে বার্তা সংস্থা সিনহুয়া এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার(১৪ মার্চ) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক নির্বাহী আদেশে ইউএস এজেন্সি ফর গ্লোবাল মিডিয়াকে (ইউএসএজিএম) 'অপ্রয়োজনীয়' ফেডারেল আমলাতন্ত্রের অংশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
ভয়েস অব আমেরিকার মূল সংস্থা ইউএসএজিএম। সংস্থাটিতে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কর্মী রয়েছে। কংগ্রেসে পেশ করা সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংস্থাটির জন্য ২০২৪ সালে ৮৮ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার বরাদ্দ ছিল।
স্থানীয় গণমাধ্যমটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রেডিও ফ্রি ইউরোপ ও রেডিও ফ্রি এশিয়াসহ বেসরকারিভাবে অন্তর্ভুক্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রচারকদের সব চুক্তি বাতিল করেছে সংস্থাটি।
ভয়েস অব আমেরিকার পরিচালক মাইকেল আব্রামোভিৎজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, তার ১৩০০ সাংবাদিক, প্রযোজক ও সহকারীকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
হোয়াইট হাউস বলেছে, এই কাটছাঁট নিশ্চিত করবে যে ‘করদাতারা আর উগ্রবাদী প্রচারণার শিকার হবেন না।’
প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে এই সিদ্ধান্তটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে বলে আশা করা হচ্ছে, কারণ কংগ্রেস, প্রেসিডেন্টর হাতে নয়, কংগ্রেসের হাতে সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ ঝড়ে ৩২ জনের মৃত্যু
৩৫৬ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ ঝড়ে ৩২ জনের মৃত্যু
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে অন্তত ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ধ্বংস হয়ে গেছে স্কুলগুলো এবং বেশ কয়েকটি রাজ্যে সেমিট্রাক্টর-ট্রেইলার উল্টে গেছে।
দেশটির কর্তৃপক্ষ স্থানীয় সময় শনিবার গভীর রাতে আরও তীব্র ঝড়ের আশঙ্কা করছে বলে বার্তা সংস্থা অ্যাসেসিয়েটেড প্রেস(এপি) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।
শুক্রবার(১৪ মার্চ) শেরম্যান কাউন্টিতে ধূলোঝড়ের কারণে ৫০টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ ৮ জনের মৃত্যুর পর হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায় বলে জানিয়েছে কানসাস হাইওয়ে পেট্রোল।
মিসিসিপির গভর্নর টেট রিভস জানিয়েছেন, তিনটি কাউন্টিতে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ রাত্রিকালীন একটি পোস্টে তিনি আরও জানান, গোটা রাজ্যে ২৯ জন আহত হয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মিসৌরি অন্য যেকোনো রাজ্যের চেয়ে বেশি প্রাণহানির নথিভুক্ত করেছে। কারণ, এটি রাতভর থেমে থেমে বয়ে যাওয়া প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের মুখোমুখি হয়। এতে কমপক্ষে ১২ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে এক ব্যক্তিও রয়েছেন যার বাড়ি ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে।
ডাকোটা হেন্ডারসন জানান, শুক্রবার রাতে তিনি ও অন্যরা বাড়িতে আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধার করতে গিয়ে মিসৌরির ওয়েইন কাউন্টিতে তার খালার বাড়ির বাইরে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে পাঁচটি মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন।
গত রাতটি খুবই কঠিন ছিল উল্লেখ করে শনিবার তিনি বলেন, ‘গত রাতে লোকজনের সঙ্গে যা ঘটেছে, হতাহতের ঘটনা ঘটেছে তা সত্যিই উদ্বেগজনক।’ তিনি বলেন, গাছপালা উপড়ে ঘরবাড়ির উপর পড়েছিল।
হেন্ডারসন বলেন, তারা তার খালাকে একটি শয়নকক্ষ থেকে উদ্ধার করেছিল। ঝড়ের পর তার বাড়িতে একমাত্র অবশিষ্ট ঘর ছিল এটি। তাকে জানালা দিয়ে বাইরে নেওয়া হয়। তারা আরও একজন লোককে উদ্ধার করেছেন—যার হাত-পা ভেঙে গেছে।
আরকানসাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঝড়ের কারণে ইন্ডিপেন্ডেন্স কাউন্টিতে ৩ জন নিহত ও আটটি কাউন্টিতে ২৯ জন আহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: ঝড়ের কারণে মার্সিসাইড ডার্বি স্থগিত
আরকানসাসের গভর্নর সারাহ হাকাবি স্যান্ডার্স এক্সে বলেন, 'গত রাতের ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে আমাদের দল কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য উদ্ধারকর্মীরা মাঠে রয়েছে।’
তিনি এবং জর্জিয়ার গভর্নর ব্রায়ান কেম্প নিজ নিজ রাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। কেম্প বলেন, শনিবারের শেষের দিকে খারাপ আবহাওয়ার পূর্বাভাসের কারণে তিনি এই ঘোষণা দিচ্ছেন।
এদিকে গত শুক্রবার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টেক্সাস প্যানহ্যান্ডেলের আমারিলোতে ধুলোঝড়ের সময় গাড়ি দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত হয়েছেন।
৩৫৬ দিন আগে
এসিড বর্জ্যে জাম্বিয়ার বৃহত্তম নদীটি এখন প্রাণহীন
চীনা-মালিকানাধীন খনি থেকে এসিড ছড়িয়ে পড়ে দূষিত হয়েছে জাম্বিয়ার সবচেয়ে বড় নদীটি। এতে লাখ লাখ মানুষের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দেশটির কর্তৃপক্ষ ও পরিবেশবিদরা।
নদীর ভাটিতে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূষণ শনাক্ত করা হয়েছে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দেশটির উত্তরাঞ্চলের তামার খনি থেকে এসিডিক বর্জ্যের একটি টেইলিং ড্যাম (বাঁধ) ভেঙে গেলে এই দূষণ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটে। খনিজ উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বর্জ্য রাখার জন্য এই টেইলিং ড্যাম ব্যবহার করা হয়।
দক্ষিণ-পূর্ব আফ্রিকার এই দেশটির ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, ঘনীভূত এসিড, দ্রবীভূত কঠিন বস্তু ও ভারী ধাতবের অন্তত পাঁচ কোটি লিটার বর্জ্য কাফু নদীর স্রোতে মিশে গেছে। জাম্বিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এই নদীটি।
দেশটির কপারবেল্ট প্রদেশের পরিবেশকর্মী চিলিকওয়া মুম্বা বলেন, ‘এটি একটি পরিবেশগত দুর্যোগ যা ভয়াবহ বিপর্যয় নিয়ে আসবে।’
দক্ষিণ-পূর্ব আফ্রিকার দেশটিতে তামার খনি উত্তোলনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে চীন। বিশ্বের শীর্ষ ১০ তামা উৎপাদনকারী দেশের মধ্যে জাম্বিয়া একটি। স্মার্টফোন উৎপাদনের ক্ষেত্রে তামা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান।
বিশেষজ্ঞদের সহায়তার আহ্বান জানিয়ে জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হাকাইন্দি হিচিলেমা বলেন, ‘এটি এমন একটি সংকট, যা কাফু নদীর আশপাশের লাখ লাখ মানুষ ও বন্যপ্রাণীর জন্য হুমকি তৈরি করছে।’
দেশটির ভেতর দিয়ে দেড় হাজার কিলোমিটারজুড়ে প্রবাহিত এই নদী। বর্তমানে পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির পরিধি নির্ণয়ে তদন্ত করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
৩৫৬ দিন আগে
৪৩ দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র
নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ৪৩টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে বিধিনিষেধ আরোপ করার কথা ভাবছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্টের আগের মেয়াদের চেয়ে নতুন এই নিষেধাজ্ঞার পরিধি বড় হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে মার্কিন দৈনিক নিউ ইয়র্ক টাইমস এমন খবর দিয়েছে।
কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এরইমধ্যে ‘লাল’, ‘কমলা’ ও ‘হলুদ’—এই তিন ক্যাটাগরিতে খসড়া তালিকা তৈরি করেছে। এতে তিনটি ধাপে ৪৩টি দেশের নাম রয়েছে।
তালিকায় প্রথম ধাপের ১১টি দেশ হলো—আফগানিস্তান, ভুটান, কিউবা, ইরান, লিবিয়া, উত্তর কোরিয়া, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া, ভেনিজুয়েলা ও ইয়েমেন। এসব দেশের নাগরিকদের পূর্ণাঙ্গ ভিসা বাতিল হতে পারে।
আরও পড়ুন: নিষেধাজ্ঞার মুখে অভিবাসীবাহী মার্কিন ফ্লাইট অবতরণে অনুমতি দিল কলোম্বিয়া
দ্বিতীয় ধাপের দেশগুলোর—বেলারুশ, ইরিত্রিয়া, হাইতি, লাওস, মিয়ানমার, পাকিস্তান, রাশিয়া, সিয়েরা লিওন, দক্ষিণ সুদান ও তুর্কমেনিস্তান—ওপর আংশিক ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া এসব দেশের পর্যটন ভিসা, শিক্ষার্থী ভিসা, অভিবাসন ভিসায় প্রভাব পড়তে পারে।
অর্থাৎ বিধিনিষেধ আরোপ হলেও এসব দেশের ভিসা পুরোপুরি বাতিল করা হবে না। এই ১০ দেশের ধনী ব্যবসায়ীরা ভ্রমণ করতে পারলেও ভ্রমণ কিংবা অভিবাসন ভিসায় সাধারণ নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে পারবেন না।
শেষ গ্রুপে থাকা দেশগেুলোর সরকার নিরাপত্তা তথ্য সংক্রান্ত ঘাটতি মেটাতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নিলে এসব দেশের নাগরিকদের ভিসায় আংশিক নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন।
দেশগুলো হলো, অ্যাঙ্গোলা, অ্যান্টিগা ও বার্বুডা, বেলারুশ, বেনিন, ভুটান, বুরকিনা ফাসো, কেপ ভার্দে, কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, চাদ, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র অব দ্য কঙ্গো, ডোমেনিকা, বিষুবীয় গিনি, গাম্বিয়া, লাইবেরিয়া, মালাউই, মৌরিতানিয়া, রিপাবলিক অব দ্য কঙ্গো, সেন্ট কিট্স ও নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সাঁউ তুমি ও প্রিন্সিপি, সিয়েরা লিওন, পূর্ব তিমুর, তুর্কমেনিস্তান, লাইবেরিয়া, মালি, জিম্বাবুয়ে ও ভানুয়াতু।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এই তালিকা তৈরি করেছেন। হোয়াইট হাউসে পৌঁছার আগে তালিকায় কিছুটা রদবদল হতে পারে এবং এখনো পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ ট্রাম্প প্রশাসনের অনুমোদন মেলেনি।’
এখন খসড়া তালিকা পর্যালোচনা করছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দূতাবাস, আঞ্চলিক ব্যুরো, বিভিন্ন বিভাগ ও গোয়েন্দা সংস্থার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেও ৭টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন। তার ওই পদক্ষেপ অনেক আইনি লড়াই পেরিয়ে ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন পায়।
দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি এক নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি শনাক্তে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ইচ্ছুক সব বিদেশির ক্ষেত্রে নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য যাচাই-বাছাই জোরদারের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছেন ট্রাম্প
ওই নির্দেশে ‘নিরাপত্তা যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যাবে না’ এমন দেশগুলো শনাক্তে করে সেগুলোর মধ্যে কোনগুলোর ওপর পূর্ণাঙ্গ, কোনগুলোর ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যায় তার তালিকা ২১ মার্চের মধ্যে জমা দিতে মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্যকে বলাও হয়েছিল।
এ দফায় ক্ষমতায় আসার পর রিপাবলিকান ট্রাম্প অভিবাসনবিরোধী একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে যাচ্ছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে দেওয়া এক বক্তৃতায় তিনি গাজা ভূখণ্ড, লিবিয়া, সোমালিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেন এবং ‘আমাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি যে কারও’ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ আটকে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন।
৩৫৬ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রদূতকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম রসুলকে আর ‘স্বাগত জানানো হবে না’ বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এমন এক সময় এই সিদ্ধান্ত এসেছে, যখন আফ্রিকান দেশগুলোর বিরুদ্ধে সম্প্রতি বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে।
সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কো রুবিও বলেন, ‘ইব্রাহিম রসুল একজন ‘জাতি-বিদ্বেষী’ রাজনীতিবিদ, যিনি আমেরিকা ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘৃণা করেন। তার সঙ্গে আমাদের আলোচনার কিছু নেই, এখন থেকে তাকে পারসোনা নন গ্রাটা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।’-খবর এপি ও নিউ ইয়র্ক টাইমসের
এরমধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রদূত হিসেবে তার ভূমিকার ইতি ঘটেছে। গেল ১৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের তখনকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে নিজের পরিচয়পত্র দেন ইব্রাহিম রসুল। যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রদূত হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিলেন তিনি।
এরআগে ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত একই পদে দায়িত্ব পালন করেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই রাজনীতিবিদ।
সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গ নেতৃত্বাধীন সরকারের সমালোচনা করতে দেখা গেছে ট্রাম্প ও তার মিত্র ইলন মাস্ককে। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকায়ই বেড়ে উঠেছেন ইলন মাস্ক। তাদের দাবি, দেশটিতে নতুন ভূমি আইনে শ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে বৈষম্য করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের ঘটনা খুবই অস্বাভাবিক। কখনো-কখনো নিম্ন পদ-মর্যাদার কূটনীতিকদের ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা করা হয়।আরও পড়ুন: দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাপোসার অফিস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই বহিষ্কারের ঘটনা দুঃখজনক।’ এতে এ ঘটনায় প্রচলিত কূটনৈতিক রীতিনীতি অনুসরণ করতে কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক গড়তে দক্ষিণ আফ্রিকা অঙ্গীকারাবদ্ধ।’
শৈশবে কেপ টাউনের একটি গ্রাম থেকে ইব্রাহিম রসুলের পরিবারকে উচ্ছেদ করে সেখানকার শ্বেতাঙ্গরা। পরবর্তীতে তিনি বর্ণবাদবিরোধী প্রচারে নামেন। দেশটির বর্ণবাদবিরোধী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা তাকে ‘বন্ধু’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। ম্যান্ডেলার আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন ইব্রাহিম রসুল।
শুক্রবার জোহানেসবার্গের একটি ইনস্টিটিউটের ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে ইব্রাহিম রসুল বলেন, ‘ক্ষমতার বিরুদ্ধে, দক্ষিণ আফ্রিকায় যারা ক্ষমতায় আছেন, তাদের বিরুদ্ধে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীদের আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।’
তিনি বলেন, ‘ক্ষমতার ওপর শ্রেষ্ঠত্ববাদী হামলা—আমরা এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি হিসেবে দেখি, এমএজিএ আন্দোলন, দ্য মেইক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন আন্দোলন—কেবল শ্রেষ্ঠত্বাবাদী প্রবৃত্তি থেকেই আসছে না, সুস্পষ্ট উপাত্ত বলে দিচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক জনমিতিক পরিবর্তনের কথা, যুক্তরাষ্ট্রে শ্বেতাঙ্গ নির্বাচকমণ্ডলীর সংখ্যা ৪৮ শতাংশ হতে যাচ্ছে।’
সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও প্রিটোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। গেল ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকায় মার্কিন সহায়তা বন্ধ করার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। শ্বেতাঙ্গদের কাছ থেকে ভূমি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করে গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষকদের যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানানো হচ্ছে।’
সামাজিকমাধ্যম ট্রুথে তিনি বলেন, ‘যদি কোনো কৃষক নিরাপত্তার কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে পালিয়ে আসতে চান, তাকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানানো হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাকে মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।’
৩৫৬ দিন আগে
এক মার্কিন জিম্মিকে মুক্তি দেবে হামাস, ইসরায়েলের সন্দেহ
ইসরাইলের বংশোদ্ভুত এক মার্কিন জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এছাড়া আরও চার দ্বৈত নাগরিকের মৃতদেহ হস্তান্তর করতে মধ্যস্থতাকারীদের প্রস্তাব গ্রহণ করেছে সংগঠনাটি। তবে শুক্রবার (১৪ মার্চ) হামাসের এই ঘোষণাটিকে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতির পরবর্তী পর্যায়ে কাতারে চলমান আলোচনাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হিসেবে দেখছে ইসরায়েল। একই সঙ্গে হামাসের বিরুদ্ধে এই প্রস্তাব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী হামাস এখনো নিশ্চিত করেনি সৈন্য এদান আলেকজান্ডারকে কখন মুক্তি দেবে এবং মৃতদেহ চারটি কখন হস্তান্তর করবে—আর জিম্মি মুক্তি ও লাশ হস্তান্তরের বিনিময়ে তারা কী আশা করছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের অভিযানের সময় ১৯ বছর বয়সি সৈনিক আলেকজান্ডারকে দক্ষিণ ইসরায়েলের গাজা সীমান্তে তার ঘাঁটি থেকে জিম্মি করা হয়। ওই অভিযানটির পর ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে মারাত্মক এবং সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের শুরু হয়।
তবে কোন মধ্যস্থতাকারী কী প্রস্তাব করেছে এবং হামাস কী নিয়ে আলোচনা করছে—তা যেমন স্পষ্ট নয়। মিশর, কাতার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার দিকনির্দেশনা দিচ্ছে এবং শুক্রবার রাত পর্যন্ত কেউই এই পরামর্শ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
আরও পড়ুন: ১ মার্কিন জিম্মিকে মুক্তি দেবে হামাস, ইসরায়েলের সন্দেহ
রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফসহ মার্কিন কর্মকর্তারা শুক্রবার বলেছেন, তারা বুধবার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও কয়েক সপ্তাহ বাড়ানোর প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন। কর্মকর্তারা এক বিবৃতিতে বলেছেন, হামাস প্রকাশ্যে নমনীয়তা দাবি করছে। তবে এটি ব্যক্তিগতভাবে ‘সম্পূর্ণ অবাস্তব’ দাবি।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় বলেছে, ইসরায়েল ‘উইটকফের রূপরেখা গ্রহণ করেছে এবং নমনীয়তা দেখিয়েছে’, কিন্তু হামাস তা করেনি।
জিম্মি পরিবারগুলোরে কাছে সরকারের পাঠানো একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘একই সময়ে, এটি কারসাজি এবং স্নায়ুযুদ্ধ অব্যাহত রেখেছে। আমেরিকান জিম্মিদের মুক্তি দিতে হামাসের ইচ্ছার প্রতিবেদনগুলো আলোচনাকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।’
৩৫৭ দিন আগে
খলিল মাহমুদকে আটক: ট্রাম্প টাওয়ারে ইহুদিদের বিক্ষোভ
ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী খলিল মাহমুদকে আটকের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প টাওয়ারে বিক্ষোভ করেছেন এক দল ইহুদি। বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) ‘জিউস ভয়েস ফর পিস’ নামের একটি সংগঠন এই বিক্ষোভ করেছে।
এ সময়ে তাদের পরনে থাকা লাল টি-শার্টে লেখা ছিল, ‘ইহুদিরা বলছে, ইসরাইলকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করুন’। তাদের হাতে ছিল ব্যানার আর ‘এখনই খলির মাহমুদকে মুক্তি দিন’ বলে স্লোগান দিচ্ছিলেন। গাজা যুদ্ধের সময় কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসরাইলবিরোধী বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন খলিল।-খবর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি)।
পুলিশ প্রথমে বিক্ষোভকারীদের সরে যেতে বলে, এরপরও যারা রয়ে গেছেন, তাদের মধ্য থেকে ৯৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ‘অনধিকার প্রবেশ, গ্রেফতারে বাধা ও প্রতিরোধের’ অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা খলিল (৩০) বিয়ে করেন এক মার্কিন নাগরিককে। তার বিরুদ্ধে কোনো আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ নেই। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দিতে শনিবার নিউইয়র্কের সিটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তাকে আটক করা হয়েছে।
লুইজিয়ানার একটি অভিবাসন আটক কেন্দ্রে তাকে রাখা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, খলিলকে প্রথম আটক করা হয়েছে। আরও অনেককে ধরা হবে। যারা ‘সন্ত্রাসের পক্ষে, ইহুদিবিদ্বেষী ও আমেরিকাবিরোধী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত, সেই সব শিক্ষার্থীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া হবে।
খলিলকে আটকের বিরুদ্ধে যারা বিক্ষোভ করেছেন, তাদের মধ্যে অভিনেতা ডেবরা উইংগারও আছেন। যদিও তাকে আটক করা হয়নি। অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘ইহুদিদের নিরাপত্তায় ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো আগ্রহ নেই। আমি অধিকারের পক্ষে দাঁড়িয়েছি, আমি খলিলের পক্ষে দাঁড়িয়েছি।’
আরও পড়ুন: পুতিন কি রাজি হবেন এক মাসের যুদ্ধবিরতিতে?
৩৫৮ দিন আগে
পাকিস্তানে ট্রেন ছিনতাই: জিম্মি সংকটের অবসান, ঝরল ২১ বেসামরিক প্রাণ
পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের বোলান জেলায় ছিনতাই হওয়া ট্রেনটি উদ্ধারে ৩০ ঘণ্টার অভিযান শেষ হয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার (১২ মার্চ) রাতে শতাধিক জিম্মিকে মুক্তির মধ্য দিয়ে অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। এ ঘটনায় ২১ জন বেসামরিক ও চার সেনা নিহত হয়েছেন বলে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
পৃথক আরেক বিবৃতিতে ট্রেনটি উদ্ধার ও সব যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী ও তথ্যমন্ত্রী আত্তা তারার।-খবর ডন ও এক্সপ্রেস ট্রিবিউনেরলেফটেন্যান্ট জেনারেল শরীফ তার বক্তব্যে জানান, মাশকাফ টানেলের কাছে আটকে থাকা ট্রেনটি থেকে অবশিষ্ট সব যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে ৩৩ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে ট্রেন ছিনতাই: ১৫০ যাত্রী উদ্ধার, ২৭ বিছিন্নতাবাদী নিহত
ট্রেনটিতে প্রায় ৪৪০ জন যাত্রী থাকার কথা উল্লেখ করলেও কতোজন জিম্মিকে উদ্ধার করা হয়েছে তা নির্দিষ্ট করে জানাননি তিনি।
তবে নিরাপত্তা বাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ডনকে জানান, উদ্ধার অভিযান কয়েক পর্বে ভাগ করে পরিচালনা করা হয়েছিল। প্রথম পর্বে শতাধিক যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়, পরে আরও ৮০ যাত্রীকে উদ্ধারের পর মাখ শহরে সরিয়ে নেওয়া হয়।
প্রায় এক ডজনের মতো যাত্রী ও দুই রেলওয়ে পুলিশ অপহরণকারীদের হাত থেকে পালিয়ে নিরাপদে বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটায় ফিরতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানা যায়।
আইএসপিআরের ডিজি পাকিস্তানি গণমাধ্যম দুনিয়া নিউজকে জানান, সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, ফ্রন্টিয়ার কর্পস ও এসএসজির সেনারা এই অভিযানে অংশ নিয়েছেন।
তিনি জানান, সড়কপথে যোগাযোগ ও জনবসতি থেকে অনেক দূরের এলাকায় ঘটনাটি ঘটার কারণে সেখানে পৌঁছানো অনেক কঠিন ছিল। ছিনতাইকারীরা নারী ও শিশুদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে ট্রেন থামিয়ে প্রায় ৫০০ যাত্রী জিম্মি, দাবি না মানলে হত্যার হুমকি
নিরাপত্তা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকতা জানান, এএসজি কমান্ডো অতি সতর্কতার সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জিম্মিকারী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পরাজিত করে ৬৮ জন জিম্মিকে মুক্ত করে।
তিনি জানান, প্রায় সব অভিযান সম্পন্ন হয়েছে আর নিরাপত্তা বাহিনী এখন অভিযানের সমাপ্তি পর্বে রয়েছে।
এর আগে, মঙ্গলবার (১১ মার্চ) সকালে স্থানীয় গুদালার ও পিরু কোনেরি এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় পাকিস্তানের কোয়েটা থেকে পেশওয়ারমুখী জাফর এক্সপ্রেস নামের একটি ট্রেনের প্রায় ৫০০ যাত্রীকে জিম্মি করে দেশটির বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। তাদের দাবি না মানা হলে সব জিম্মিকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেয় তারা।
পরে জিম্মিদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।
৩৫৮ দিন আগে
ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সেই যুবক এখন বিপাকে
গত বসন্তে যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গাজায় ইসরায়েলি সহিংসতা বন্ধে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়, যা পরবর্তীতে দেশটির অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় নির্ভীক চাহনির এক ফিলিস্তিনি যুবকের মুখ বেশ পরিচিত হয়ে ওঠে। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে আন্দোলনের সংবাদে দেখা যায় ওই যুবকের দীপ্ত চেহারা।
সম্প্রতি আবার আলোচনায় ফিরেছে সেই চেহারা। কারণ তখনকার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার ‘অপরাধে’ তাকে এবার আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
ওই যুবকের নাম মাহমুদ খলিল। তিনি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ বিষয়ের শিক্ষার্থী। যে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় গাজায় নির্বিচারে বোমা বর্ষণ করেছিল ইসরায়েল, সেই যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই উপক্যতাটিতে হামলা বন্ধে গত এপ্রিলের সংঘঠিত তীব্র আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক এই যুবক।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সেরা আটটি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে গঠিত গ্রুপ ‘আইভি লীগের’ একটি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অভিবাসী শিক্ষার্থী হিসেবে খলিলের এই সাহসিকতা বাস্তবিকই প্রশংসার দাবিদার বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে। আবার অনেক সমালোচকদের লক্ষ্যবস্তুও হয়েছে তার এই কর্মকাণ্ড।
খলিল কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানহ্যাটন ক্যাম্পাসের আন্দোলনে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতেন। পাশাপাশি তিনি যুদ্ধে ইসরায়েলকে সমর্থনকারী কোম্পানিগুলোর সঙ্গে এই আইভি লিগ বিশ্ববিদ্যালয়টির আর্থিক সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবিতে আন্দোলনরতদের মুখপাত্র ও আলোচকের ভূমিকা পালন করেন। আন্দোলন চলাকালে খলিল বলেছিলেন, ‘আমরা সবার নজর কাড়তে চাই।’
খলিল সত্যিই যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের নজর কেড়েছিলেন, যার ফলস্বরূপ এই শনিবার (৮ মার্চ) দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তথাকথিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ইহুদিবিদ্বেষী বিক্ষোভ বন্ধের অভিযানের প্রথম শিকার ৩০ বছর বয়সী এই ফিলিস্তিনি যুবক।
মাহমুদ খলিলের মতো একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর চেহারা বোধহয় দেশটির প্রশাসনের বুকে শেলের মতোই বিঁধেছিল। এ কারণেই গ্রিনকার্ডধারী স্থায়ী বাসিন্দা এবং এক মার্কিনকে বিয়ে করার পরও তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করতে উঠেপড়ে লেগেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
গত শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসভবন থেকে খলিলকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) কর্মকর্তারা। বর্তমানে তাকে লুইজিয়ানার জেনায় একটি অভিবাসী আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, খলিলকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে ইহুদি শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাসে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করায় অভিযুক্ত বিদেশি শিক্ষার্থীদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযানের শুরু হয়েছে।
তবে ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় আঘাত ও ফিলিস্তিনপন্থি মতামত দমনের চেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন অনেক মানবাধিকার কর্মী ও খলিলের আইনজীবীরা।
খলিলের গ্রেপ্তারের খবরে মর্মাহত হয়েছেন আন্দোলন চলাকালে তার সহকর্মীরাও। তারা জানান, খলিল তার কূটনৈতিক জ্ঞানের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বিক্ষোভের উতপ্ত দিনগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে মধ্যস্ততার চেষ্টা করেছেন।
অ্যান্ড্রু ওয়ালার নামে খলিলের এক সহকর্মী বলেন, ‘তিনি (খলিল) ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সিরিয়ার সঙ্গে যু্ক্তরাজ্যের কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করেছেন। সিরিয়াতে একটি বৃত্তির ফান্ডও পরিচালনা করেছিলেন খলিল।’
এ ধরনের দায়িত্ব দেওয়ার আগে নিশ্চয়ই খলিলের অতীত নিয়ে পর্যাপ্ত অনুসন্ধান করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ওয়ালার আরও জানান, খলিলের স্ত্রী গর্ভবতী; অল্প কিছুদিনের মধ্যেই পৃথিবীতে আসতে চলেছে তাদের প্রথম সন্তান।
গত সপ্তাহে খলিলের সঙ্গে তার আলাপ হয়েছে উল্লেখ করে ওয়ালার বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসনের নিশানা হওয়ার আশঙ্কা তিনি (খলিল) আগেই করেছিলেন।’
আরও পড়ুন: ফিলিস্তিনি অ্যাক্টিভিস্ট আটক: যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন
যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে
সিরিয়ায় একটি ফিলিস্তিনি পরিবারে খলিলের জন্ম। সেখানেই উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করেন তিনি। এভিয়েশন ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়তে চেয়েছিলেন এই যুব্ক, কিন্তু তার স্বপ্নে বাধ সাধে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ।
২০১৭ সালে একটি আন্তর্জাতিক শিক্ষা সহায়তায় খলিলের দেওয়া এক নিবন্ধ থেকে জানা যায়, সিরিয়া থেকে পালিয়ে গিয়ে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে শিশুশিক্ষা নিয়ে কাজ করে—এমন একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজে যোগ দেন তিনি। পরে লেবাননের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখানে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক সম্পন্ন করে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন খলিল।
কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় গাজায় যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভের সময়ে তিনি মার্কিন প্রশাসনসহ সমালোচকদের নজরে আসেন।
শিক্ষার্থী বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কেউ কেউ গত বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায় তাঁবু স্থাপন করেছিলেন। কয়েক ঘণ্টার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি একাডেমিক ভবনের নিয়ন্ত্রণও নিয়েছিলেন তারা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের হটাতে পুলিশের শরণাপন্ন হয়।
বিক্ষোভ চলাকালে ফিলিস্তিনি সমর্থক ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত মুসলিম শিক্ষার্থীদের পক্ষে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেন খলিল। এরপর বিক্ষোভের মাঝে উঁচু স্বরে প্রতিবাদ জানানোর ফলে দ্রুতই নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন তিনি। এই আন্দোলনকে যারা ইহুদীবিদ্বেষী হিসেবে দেখেছিলেন, তিনি তাদের চক্ষুশূল হয়ে ওঠেন।
গত সপ্তাহে অ্যাসোসিয়েট প্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খলিল বলেন, ‘এই ফিলিস্তিনির দিকে তাকান, যে কখনও নিজের মুখ লুকায়নি—বলে আমি আসলে বলির পাঁঠা হয়ে গিয়েছি।’
অন্যদিকে, খলিলকে ক্যাম্পাসে ‘অরাজকতার হোতা’ হিসেবে বলে আখ্যা দিয়েছে কলাম্বিয়া ইহুদি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি শৃঙ্খলা কমিটি তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তদন্ত করছে।
সর্বশেষ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ডিনকে ‘নরহত্যাকারী’ বলে সম্বোধন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি ভঙ্গ করেছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের নিশানায় খলিল
ট্রাম্প গত ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় দফায় হোয়াইট হাউসে ফিরেই অঙ্গীকার করেছিলেন, গত বছর কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনে জড়িত কিছু বিদেশি শিক্ষার্থীকে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেবেন। এই আন্দোলনকে তিনি ‘ইহুদিবিদ্বষী’ বলে অভিহিত করেন।
ট্রাম্পের মতে, গাজার ক্ষমতায় থাকা ‘সন্ত্রাসী সংগঠন হামাসকে’ সমর্থন করে ওই শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অধিকার হারিয়েছেন।
ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশেই মাহমুদ খলিলকে শনিবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন অভিবাসন কর্মকর্তারা।
শনিবার আটকের পর খলিলকে লুইজিয়ানার একটি অভিবাসী আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছে। সেখানে তিনি পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন।
এ ঘটনার পর রবিবার (৯ মার্চ) এক্সে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘আমেরিকায় হামাস সমর্থকদের ভিসা ও গ্রিনকার্ড বাতিল করবে প্রশাসন, যাতে তাদের নির্বাসন দেওয়া যায়।’
পরে মঙ্গলবার (১১ মার্চ) সংবাদ সম্মেলনে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ‘মাহমুদ খলিলকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্বাসিত করা উচিত।’
লেভিটের ভাষ্যে, ‘খলিল এমন একটি বিক্ষোভ সংগঠিত করেছেন, যা শুধু কলেজ ক্যাম্পাসের শিক্ষা কার্যক্রমকে ব্যাহত করেনি, আমেরিকার ইহুদি শিক্ষার্থীদেরও হয়রানি করেছে। এছাড়া তাদের নিজ ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীনতার পরিস্থিতি তৈরি করেছে বিক্ষোভকারীরা।’
হামাসের সমর্থনে খলিল প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছে বলেও অভিযোগ করেন লেভিট।
তবে লেভিটের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তার সঙ্গে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য শিক্ষার্থীরা।
ম্যারিয়ান আলওয়ান নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘অন্য কেউ বিক্ষোভ-সংশ্লিষ্ট নয়—এমন কিছু প্রচার করলে সেই দায় যাতে খলিলের ওপর না বর্তায়, এ কারণেই তিনি (খলিল) মুখ খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেন।’
এদিকে, খলিলের স্ত্রী আট মাসের গর্ভবতী বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। নিজের নাম না প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে খলিলের স্ত্রী বলেছেন, ‘আমার চোখে মাহমুদ খলিল একজন স্নেহপরায়ণ স্বামী এবং আমার গর্ভের সন্তানের বাবা।’
খলিলকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের হাত থেকে ছাড়িয়ে নিজের কাছে ফিরিয়ে নিতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি তাকে ঘরে ফিরিয়ে আনতে চাই। আমার প্রথম সন্তান যখন পৃথিবীতে আসবে, তখন আমার স্বামীকে আমি পাশে চাই। এজন্য সবার সহযোগিতা চাই।’
৩৫৯ দিন আগে
ট্রাম্পের হুমকি: গ্রিনল্যান্ডে অবিশ্বাস্য জয় পেল ডেমোক্র্যাটিট পার্টি
গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্ট নির্বাচনে অবিশ্বাস্য জয় পেয়েছে অঞ্চলটির মধ্য-ডানপন্থি ডেমোক্র্যাটিট পার্টি। এমন এক সময় এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই দ্বীপটিকে ‘যে করেই হোক’ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে নালেরাখ পার্টি। দুই দলই ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ডের স্বাধীনতা চাইলেও মতভিন্নতা রয়েছে। মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান এমন খবর দিয়েছে।
পার্লামেন্টে সবচেয়ে বড় দল ইনুইট আতাকাতিগিটের (আইএ) স্থলাভিষিক্ত হবে বিজয়ী ডেমোক্র্যাটিট পার্টি। গ্রিনল্যান্ডের সম্প্রচারমাধ্যম কেএনআর টিভি জানিয়েছে, ডেমোক্র্যাটিট পার্টি এবার ৩০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অথচ চার বছর আগে তাদের এই ভোটের সংখ্যা ছিল ৯ শতাংশ।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের মোকাবিলায় কানাডা কাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নিচ্ছে?
বিপরীতে নালেরাখ পেয়েছে ২৫ শতাংশ ভোট। ২০২১ সালের নির্বাচনে তাদের ভোট ছিল ১২ শতাংশ। অর্থাৎ নালেরাখ দলের ভোট বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। মার্কিন সহযোগিতার ক্ষেত্রে এই দলটির মনোভাব উদার।
ডেনমার্ক থেকে স্বাধীনতার জন্য আকস্মিক ভোটেও সমর্থন জানিয়েছে তারা। স্বাধীনতার প্রশ্নে নালেরাখের মনোভাব আগ্রাসী হলেও ডেমোক্র্যাটিটরা আরও মাঝারি গতিতে এগোতে চাচ্ছে।
ডেমোক্র্যাটিট এমন সব দলের ওপর বিজয় অর্জন করেছে, যারা বহু বছর ধরে অঞ্চলটি শাসন করে আসছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, সেখানকার স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সামাজিক নীতির ওপরই বেশি জোর দিচ্ছেন বাসিন্দাদের অনেকে।
ডেমোক্র্যাটিট দলের নেতা জেনস-ফ্রেডেরিক নেইলসেন (৩৩) বলেন, ‘আমি মনে করি, গ্রিনল্যান্ডের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি একটি ঐতিহাসিক বিজয়।’
নিজেদের ‘সোশ্যাল লিবারেল’ বলে পরিচয় দেন তিনি। স্বাধীনতার দাবি করলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে চাচ্ছেন সাবেক এই ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়ন।
দেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ গতি নির্ধারণে এখন তিনি অন্য দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে দ্য ডেনিশ ব্রোডকাস্টিং কর্পোরেশন ডিআর জানিয়েছে। নেইলসেন বলেন, ‘নির্বাচনে এতো ভালো ফল করবো, তা আমাদের কল্পনারও বাইরে ছিল। আমি খুবই খুশি।’
বাইরের দেশ যখন গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাচ্ছে, তখন আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। গেল ফেব্রুয়ারিতে আগাম ভোটের ডাক দিয়েছেন গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মুৎসি বোওরব এয়েদে। তিনিও এই কঠিন সময়ে সবার ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর জোর দেন।
আরও পড়ুন: গবেষণায় ট্রাম্পের তহবিল বন্ধের প্রতিবাদে বিজ্ঞানীদের বিক্ষোভ
তার দল ইনুইট আতাকাতিগিট ২১ শতাংশ ভোট পেয়েছে এবারের নির্বাচনে। গতবারের চেয়ে তাদের ভোট এবার উল্লেখযোগ্যহারে কমেছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে দলটির ভোট ছিল ৩৬ শতাংশ।
এবার বড় ধরনের বিজয় প্রত্যাশা করেছিল ইনুইট আতাকাতিগিট, তারপরেই থাকার কথা ছিল সুইমুটের। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রিনল্যান্ডের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে আসছে এই দুই দল। সুইমুট ভোট পেয়েছে ১৪ শতাংশ।
বিজয়ী ডেমোক্র্যাটিট পার্টিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ট্রোয়েলস লুন্ড পৌলসেন। তিনি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে আসা বড় ধরনের চাপে থাকতে হবে অঞ্চলটির ভবিষ্যৎ সরকারকে।
৩৫৯ দিন আগে