বিশ্ব
গবেষণায় ট্রাম্পের তহবিল বন্ধের প্রতিবাদে বিজ্ঞানীদের বিক্ষোভ
বিভিন্ন সংস্থা থেকে কর্মীছাঁটাই ও জীবন-রক্ষাকারী গবেষণার রাস টানতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপের প্রতিবাদে দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করেছেন বিজ্ঞানীরা।
দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর কেন্দ্রীয় সরকারের গবেষণা তহবিল কাটছাঁট করছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকেও যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
জবাবে শুক্রবার (৭ মার্চ) গবেষক, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী, প্রকৌশলী, নির্বাচিত কর্মকর্তারা রাস্তায় নেমে আসেন। নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, বোস্টন, শিকাগো, ম্যাডিসন ও উইসকনসিনে সড়কে নেমে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। এ সময়ে মার্কিন সরকারের এসব সিদ্ধান্তকে ‘নজিরবিহীন’ বলে আখ্যা দেন বিজ্ঞানী ও গবেষকরা।যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে সহস্রাধিক লোক বিক্ষোভ করছিলেন। তাদের সঙ্গে যোগ দেন বোস্টনের ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের গবেষক জেসি হেটনার। ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর নিজের রাগ ঝাড়তে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আর কখনোই এতো ক্ষুব্ধ হইনি। তারা সবকিছুতে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছেন।’
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উন্নয়নে মার্কিন তহবিল বাতিল
এ সময়ে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের প্রধান হিসেবে রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়রের নিয়োগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হেটনার। কারণ এরআগে টিকা নিয়ে ভুল তথ্য ছড়িয়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছিলেন কেনেডি জুনিয়র।
হেটনার বলেন, ‘আপনি যদি এমন একজনকে মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার দায়িত্ব দেন, যিনি মনে করেন পৃথিবীটা হচ্ছে সমতল ও গোল। সেটা তো ঠিক না। কাজেই বিজ্ঞানে অর্থ ঢালেন, ধনকুবেরদের না। বিজ্ঞানে ভর করেই গড়ে উঠেছে আমেরিকা।
গ্রোভার নামের এক বিজ্ঞানী বলেন, ‘বর্তমানে যা কিছু ঘটছে, তা নজিরবিহীন।’
৩৬২ দিন আগে
ট্রাম্পের গলফ রিসোর্টে হামলা
স্কটল্যান্ডে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টার্নবেরি গলফ রিসোর্টে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ট্রাম্পের গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের অন্যত্র সরানোর পরিকল্পনার প্রতিবাদে ফিলিস্তিনপন্থি ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন‘ নামের একটি সংগঠন এই হামলা চালিয়েছে বলে দায় স্বীকার করেছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (৮ মার্চ) এক বিবৃতির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সংগঠনটি।
ট্রাম্পের গাজা নিয়ে একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য ও পরিকল্পনার কারণে ক্ষুব্ধ ফিলিস্তিনি মানুষ ও তাদের সমর্থকরা। এরই জেরে এই হামলা ঘটিয়েছে বলে বিবৃতিতে জানিয়েছে প্যালেস্টাইন অ্যাকশন সংগঠনের সদস্যরা।-খবর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি)।
টার্নবেরি রিসোর্টটি ভাঙচুর করার পাশাপাশি রিসোর্টের দেয়ালে লাল রং দিয়ে ফিলিস্তিনের সমর্থনে বিভিন্ন গ্রাফিতি অঙ্কন করা হয়েছে। রিসোর্টের সবুজ মাঠে লাল রং দিয়ে লেখা হয়েছে ‘গাজা বিক্রির জন্য নয়।’
আরও পড়ুন: গাজায় মানবিক সহায়তা বন্ধের নির্দেশ দিলেন নেতানিয়াহু
সংগঠনটির কর্মীরা জানায়, ট্রাম্প গাজাকে নিজের সম্পত্তির মতো মনে করে, যা খুশি তাই করতে পারে না—তারই প্রতিবাদ এটা।
তারা বলেন, ‘আমরা ট্রাম্পকে স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিতে চাই, আমাদের প্রতিরোধ থেকে তার নিজের সম্পত্তিও নিরাপদ নয়।’
ফিলিস্তিনিনের এই হামলাকে ট্রাম্প ‘বাচ্চাসুলভ, অপরাধমূলক’ কার্যক্রম হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে তার পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন আসবে না। এই ঘটনায় স্কটল্যান্ড পুলিশ রিপোর্ট পেয়েছে বলে জানিয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলমান বলে নিশ্চিত করেছেন তারা।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তে হঠাৎ হামলা চালায় হামাস। সে সময় প্রায় ১ হাজার ২০০ অবৈধ বসতিস্থাপনকারী ইসরায়েলি নিহত হন। পাশাপাশি আরও প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যান হামাস যোদ্ধারা।
এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতে পরের দিন থেকে গাজাজুড়ে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। আকাশ ও স্থলপথে গত প্রায় ১৫ মাস ধরে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ৪৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এরপরে গত ১৯ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে ৩৩ ইসরায়েলি জিম্মিকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে আটক কয়েকশ ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তি পেয়েছেন। প্রথম ধাপ শেষ হলেও দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে গাজার মানুষের ভাগ্য।
এরইমধ্যে পুর্নগঠনের নামে উপত্যকাটির বাসিন্দাদের স্থায়ীভাবে অন্যত্র সরিয়ে গাজা দখলের প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। তবে তার এই প্রস্তাব দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন ফিলিস্তিনিরা।
৩৬২ দিন আগে
সিরিয়ায় প্রতিশোধমূলক হামলায় নিহত ১ হাজার ছাড়াল
সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী ও দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বাসার আল-আসাদের অনুগতদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ডে এক হাজারেরও বেশি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার (৯ মার্চ) যুদ্ধ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী একটি গোষ্ঠী এমন তথ্য দিয়েছে।
মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবর অনুসারে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির ১৪ বছরে গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের ঘটনা এটি।
ব্রিটিশভিত্তিক সিরীয় অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, ৭৪৫ বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর ১২৫ সদস্য ও আসাদসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গোষ্ঠীর ১৪৮ জন নিহত হয়েছেন। খুব কাছ থেকে গুলি করে তাদের হত্যা করা হয়েছে।
এছাড়া লাতাকিয়া শহরের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ ও খাবার পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই সংঘাতের শুরু হয়েছে। দামেস্কো সরকারের জন্য যা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করে মাসতিনেক আগে সিরিয়ার কর্তৃত্ব গ্রহণ করেছে তারা।
সরকার জানিয়েছে, আসাদ বাহিনীর অবশিষ্টাংশের হামলার জবাব দিচ্ছে তারা। আর ক্রমবর্ধমান সহিংসতার জন্য ব্যক্তিগত হামলার ঘটনাকে দায়ী করা হয়েছে।
আলবীয়দের ওপর প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ড
আলবীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সরকার-অনুগত সুন্নি মুসলমানরা শুক্রবার প্রথম এই প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ড শুরু করেছে, যা আসাদ সরকারকে ক্ষমতচ্যুত করতে নেতৃত্ব দেওয়া হায়াত তাহরির আল-শামের জন্য বড় ধাক্কা বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এপি জানিয়েছে, বাড়ির সামনের ফটক ও সড়কে আলবীয়দের গুলি করে হত্যা করেছে বন্দুকধারীরা। নিহতদের বেশিরভাগই পুরুষ। বিভিন্ন গ্রামে তাদের অনেক বাড়িঘর লুট করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য কয়েক হাজার আলবীয় বাসিন্দা পাহাড়ে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।
সহিংসতায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে উপকূলীয় শহর বানিয়াস। সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ‘রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে, বাড়ির ভেতরে, ঘরের ছাদেও পড়ে আছে মরদেহ। কবর দেওয়ার মতো সেখানে কেউ নেই।’
আরও পড়ুন: সিরিয়ায় এক সপ্তাহে নিহত অন্তত ৩৭০: জাতিসংঘ
একজন বাসিন্দা বলেন, ‘শুক্রবার খুবই কাছ থেকে পাঁচজনকে হত্যা করা হলেও তাদের মরদেহ কবর দিতে দেয়নি বন্দুকধারীরা।’
সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবার নিয়ে পালিয়ে যাওয়া বানিয়াসের ৫৭ বছর বয়সী বাসিন্দা আলী শেহা বলেন, ‘তাদের গ্রামে অন্তত ২০ প্রতিবেশী ও সহকর্মীকে বাড়ি কিংবা দোকানে হত্যা করা হয়েছে।’
আসাদ সরকারের অপরাধের দায়ে প্রতিশোধমূলকভাবে এসব মানুষকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বাসিন্দারা বলছেন, ‘আশপাশের শহর ও গ্রাম থেকে আসা বিদেশি যোদ্ধা ও জঙ্গিরা রয়েছেন বন্দুকধারীদের মধ্যে।’
আলী শেহা বলেন, ‘এটা খুবই খারাপ। রাস্তায় পড়ে আছে মরদেহ।’
পালিয়ে যাওয়ার সময় ফোনে এপিকে এসব কথা বলছিলেন তিনি। তখন শহর থেকে তিনি ২০ কিলোমিটার দূরে। এই আলবীয় বলেন, ‘তার অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের ১০০ মিটারের কম দূরত্বে বন্দুকধারীরা জড়ো হচ্ছিল। বাড়িঘর ও বাসিন্দাদের ওপর তারা এলাপাতাড়ি গুলি ছুড়ছে।’
তার নিজের জানা একটি ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘হত্যার আগে ধর্ম নিশ্চিত হতে বাসিন্দাদের পরিচয়পত্র দেখেন বন্দুকধারীরা। কিছু বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে, লুটতরাজ করেছে ও গাড়ি চুরি করে নিয়ে গেছে তারা।’
সিরীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, আসাদ অনুগতদের কাছ থেকে অধিকাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সরকারি বাহিনী। সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে উপকূলীয় শহরটির সব সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বাসিন্দারা বলছেন, একদিন আগে নিহত ৩১ জনের মরদেহ শনিবার সকালে গণকবর দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৯টি শিশু ও চার নারী রয়েছেন।
আরও পড়ুন: রাশিয়ার বিরুদ্ধে সাইবার হামলা বন্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র
গেল কয়েক দশক ধরে আসাদের সমর্থকদের বড় একটি অংশ ছিল আলবীয়রা। শিয়া মুসলমানদের একটি শাখা হচ্ছেন তারা। আসাদ সরকারের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ পদে ছিলেন দেশটির এই সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর লোকজন।
নতুন সরকার দাবি করছে, তাদের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গেল কয়েক সপ্তাহ ধরে আসাদ অনুগতরাই এই হামলা চালিয়ে আসছে।
৩৬৩ দিন আগে
ট্রাম্পের মোকাবিলায় কানাডা কাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নিচ্ছে?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধ মোকাবিলায় কানাডায় নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক প্রধান মার্ক কার্নিকে বেছে নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় রবিবার ( ৯ মার্চ) ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতৃত্ব বাছাইয়ের ভোটে জয়ী হয়ে কানাডীয় প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ৫৯ বছর বয়সী সাবেক এই ব্যাংকারের।
এর আগে চলতি বছরের গত ৬ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে দলীয়প্রধানের পদ ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন জাস্টিন ট্রুডো। দীর্ঘ ৯ বছর ক্ষমতায় থাকার পর তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দল নতুন নেতা নির্বাচন করার পর দলীয়প্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেবেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন: কানাডা-মেক্সিকোর পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর, ঘোষণা ট্রাম্পের
কানাডায় খাদ্য ও বাসস্থানের মূল্যবৃদ্ধি, অভিবাসন বেড়ে যাওয়ায় ট্রুডোর ওপর পদত্যাগের চাপ দিতে থাকে বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির নেতারা। নিজ দলের মধ্যেও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তাকে। নানামুখী চাপের কারণে আগামী অক্টোবরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও জানুয়ারিতেই পদত্যাগের ঘোষণা দেন ট্রুডো।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার কথা জানান ট্রাম্প। এ ছাড়াও কানাডার পণ্যে ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন তিনি, যা গত সপ্তাহে কার্যকর হয়েছে।
কানাডার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ট্রাম্প মারাত্বক আঘাত হেনেছে বলে মনে করেন কানাডীয়রা। এতে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছেন উত্তর আমেরিকার দেশটির নাগরিকরা। তারা আমেরিকাতে ভ্রমন, এমনকি প্রতিবেশী দেশটির পণ্য কেনাও বন্ধ করে দিয়েছেন।এমন পরিস্থিতিতে বহুদিন ধরে চলা কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। কানাডাবাসী বর্তমানে এমন কাউকে ক্ষমতায় দেখতে চান, যিনি আমেরিকার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার পরিবর্তে ট্রাম্পকে মোকাবিলা করতে সক্ষম হবেন।
তবে এসবের মধ্যেও জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছে লেবার পার্টি। রবিবার লেবার পার্টি কাকে ট্রুডোর উত্তরসূরি হিসেবে বেছে নিবেন; তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে সবার ওপরে রয়েছে মার্ক কার্নির নাম।
কে এই মার্ক কার্নি?
কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাশাপাশি ইংল্যন্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সফলতার সঙ্গে অর্থনৈতিক নানা সংকট মোকাবিলা করেছেন।
কানাডাতে ব্যাংক সুদের হার সর্বনিম্ন ১ শতাংশে নামিয়ে এনে ঋণ দেওয়া অব্যাহত রেখে বাজারে অর্থের প্রবাহ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন মার্ক কার্নি, এ কারণে বেশ প্রশংসিত হয়েছেন।
তিনি যে কেবল ঋণ সম্পর্কে একটি ভালো নীতি তৈরি করেছিলেন, তাই নয়; জনগণের কাছে এমনভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করেছিলেন যা সবার বোধগম্য হয়। তিনিই প্রথম কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রধান যিনি সুদের হারকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এত কম রাখার অঙ্গীকার করেছিলেন। তার এই পদক্ষেপ পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ অনুসরণ করেছে বলে জানা যায়।
আরও পড়ুন: মাস্কের কানাডীয় নাগরিকত্ব বাতিলের পিটিশনে সই
জানুয়ারিতে কার্নিকে লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর পর থেকেই মন্ত্রিসভার মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে একের পর এক সমর্থন পেয়ে চলেছেন তিনি।
নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় কার্নির একক প্রাধান্য প্রতিষ্ঠায় তিনটি বিষয় মুখ্য ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক নেলসন ওয়াইজম্যান। তার ভাষ্যে, প্রথমত, ক্রিষ্টিয়া ফ্রিল্যান্ড (অন্য প্রার্থী) ট্রুডোর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।
ট্রুডোর জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ায় ফ্রিল্যান্ডও পিছিয়ে থাকতে পারেন বলে মনে করেন তিনি। দ্বিতীয়ত, সংসদে থাকা লিবারেল সদস্যদের সমর্থন আদায়ে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। তৃতীয়ত, ট্রাম্পের শুল্ক নীতি অন্যতম একটি বিষয়, কার্নির পেশাগত অভিজ্ঞতা এক্ষেত্রে ভুমিকা পালন করতে পারে বলে ধারণা দেন ওয়াইজম্যানে।
লিবারেল পার্টির যেসব নেতারা সংসদে নিজেদের পদ হারানোর ভয়ে ছিলেন এবং যারা মনে করেন ফ্রিল্যান্ডের নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা কম; তারা কার্নিকে সমর্থন দিয়েছেন বলে মনে করেন এই অধ্যাপক।
ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড্যানিয়েল বিল্যান্ড মনে করেন, ট্রাম্প যেভাবে কানাডার অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্বকে লক্ষ্য করে একের পর এক বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়ে চলেছেন ও বক্তব্য দিচ্ছেন, এরকম সংবেদনশীল একটি মুহূর্তে কার্নির শান্ত স্বভাব ও অসাধারণ পেশাদার জীবনবৃত্তান্ত অনেক কানাডিয়ানকে আশ্বস্ত করেছে।’
কার্নির এই শান্ত স্বভাব কনজারভেটিভ পার্টির নেতা পিয়েরে পলিয়েভ্রের সম্পূর্ণ বিপরীত বলে মনে করেন তিনি। বিল্যান্ডের মতে, পলিয়েব্র একদম পুরোদস্তুর একজন রাজনীতিবিদ। তিনিও ট্রাম্পের মতো জনপ্রিয়তাবাদী বক্তব্য দেন।
ট্রাম্পের শুল্কারোপের ফলে কানাডার অর্থনীতির নেতিবাচক প্রভাব রুখে দিয়ে অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো সমাধান করে দেশের উন্নতিকে ত্বরান্বিত করবে এমন এক সরকারপ্রধান চান কানাডার নাগরিকরা। কানাডার নির্বাচন উত্তর আমেরিকার ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা হয়ে উঠছে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
৩৬৩ দিন আগে
হাম নির্মূলের ঘোষণা দেওয়ার পরেও যুক্তরাষ্ট্রে বেড়েছে সংক্রমণ
যুক্তরাষ্ট্রে সচরাচর হামের প্রাদুর্ভাব দেখা না দিলেও চলতি বছরে উল্টো চিত্র দেখছে দেশটি। টিকার সাফল্যের কারণে ২০০০ সালে হাম নির্মূল হওয়ার ঘোষণা দিলেও আবারও যুক্তরাষ্ট্রে জেঁকে বসেছে হাম। সম্প্রতি টেক্সাস ও নিউ মেক্সিকোসহ বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে সংক্রামক এই ভাইরাসটি।
এমনকি গত সপ্তাহে ১৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে দেশটিতে। এতে উদ্বেগ বেড়েছে দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে।
গত সপ্তাহে মার্কিন রোগ নিযন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) ২০১৫ সালে পরে প্রথম হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। টেক্সাসে হামের আক্রান্ত হয়ে শিশু মারা যাওয়ার পর সেখানের নিজেদের টিম পাঠানোর ঘোষণা দেয় সিডিসি।
গত মঙ্গলবার সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সংস্থাটি জানায়, হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে টেক্সাসে কাজ করে যাচ্ছেন তারা।
আরও পড়ুন: নেভাডায় বার্ড ফ্লুর নতুন ধরন শনাক্ত: সিডিসি
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৭ মার্চ) টেক্সাসের স্বাস্থ্য কর্মকতারা জানিয়েছেন, পশ্চিম টেক্সাসে আক্রান্তের সংখ্যা এরইমধ্যে ২০০-তে পৌঁছেছে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে প্রতিবেশি নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যেও। সেখানে ৩০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলে স্বাথ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট হেলথ ডিপার্টমেন্টের তথ্য মতে, টেক্সাসের পাশাপাশি নিউ মেক্সিকোতেও হামের সংক্রমণ শুরু হয়েছে। তবে এই দুটি রাজ্যের সংক্রমণের মধ্যে সরাসরি কোনো সংযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে নিউ মেক্সিকোর স্থাস্থ্য কর্মকর্তারা।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) নিউ মেক্সিকোর স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা টিকা নেয়নি এমন একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন। ওই ব্যক্তি কোনো চিকিৎসা সেবা নেননি, মৃত্যুর পরে তার সংক্রমণের বিষয়টি ধরা পড়েছে।
যদিও নিউ মেক্সিকোর মেডিকেল পর্যবেক্ষক মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেননি। তবে ওই ব্যক্তি হাম আক্রান্ত হয়েই মারা গেছেন বলে শুক্রবার জানিয়েছে অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ।
এই দুই অঙ্গরাজ্যের পাশাপাশি হাম ছড়াতে শুরু করেছে আলাস্কা, ক্যালিফোর্নিয়া, জর্জিয়া, কেন্টাকি, নিউ জার্সি, নিউ ইর্য়ক, পেনসালভ্যানিয়া ও রোড আইল্যান্ডেও ধরা পড়েছে হামের সংক্রমণ।
হাম ভাইরাসজনিত একটি সংক্রামক রোগ। মূলত বাতাসের মাধ্যমে এটি ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির নিশ্বাস, হাঁচি-কাশির মাধ্যমে তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিরা সংক্রমিত হয়ে থাকেন। সিডিসির তথ্যমতে, আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৯ জনেরই আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা থাকে।
৩৬৩ দিন আগে
ব্রিটেনে গর্ভপাতের পর ‘শোক ছুটি’ পাবেন মা-বাবা
ব্রিটেনে গর্ভপাতের পর দুই সপ্তাহের ‘শোক ছুটি’ পেতে যাচ্ছেন মা-বাবারা। দেশটির লেবার পার্টির শ্রমিক অধিকার সংস্কারের অংশ হিসেবে এই ছুটি চালু করতে যাচ্ছে ব্রিটেন।
গর্ভধারণের ২৪ সপ্তাহের আগে গর্ভপাত হলে এই শোক ছুটি পাবেন তারা। নতুন আইনের মাধ্যমে শ্রমিক অধিকার সংক্রান্ত বিলটিতে এই পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে লেবার পার্টি। আগামী সপ্তাহে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বিলটি ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে উত্থাপনের কথা রয়েছে।
এই বিলটি চূড়ান্ত হলে ইংল্যান্ড, ওয়েলস ও স্কটল্যান্ডের বাসিন্দারা এই ছুটি পাবেন। এর আগে দেশটিতে গর্ভধারণের ২৪ সপ্তাহ অতিক্রম হওয়ার পর গর্ভপাত হলে কিংবা মৃত বাচ্চার জন্ম দিলে শোক ছুটি পেতেন। সংশোধিত বিলের আওতায় এখন ২৪ সপ্তাহের আগে গর্ভপাত হলেও শোক ছুটি পাওয়া যাবে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাতের অধিকারের দাবিতে বিক্ষোভ
সংশোধিত এই বিলটিরে প্রচার চালিয়েছিলেন লেবার পার্টির এমপি সারাহ ওয়ান। তার নের্তৃত্বাধীন নারী ও সমতা বিষয়ক কমিটি চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে এই দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এই বিলটি সারাহর জন্য একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সন্তান হারানোর পর বাবা-মায়ের শারীরিক ও মানসিক কষ্ট লাঘবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।
ব্রিটেনে প্রতিবছর প্রায় আড়াই লাখ গর্ভবতী মহিলা গর্ভপাতের শিকার হন। গর্ভধারণের প্রথম ১২ সপ্তাহের মধ্যেই ১০ থেকে ২০ শতাংশ গর্ভপাত হয়ে থাকে।
গর্ভপাতের কষ্টের অভিজ্ঞতা নিয়ে ব্রিটেনের এক ব্যবসায়ী জোনাথান রেনল্ডষ বলেন, ‘আমি জানি এই সময়টা কতটা কষ্টকর। অনেকের মতো আমিও এই অভিজ্ঞতা করেছি। এটি অত্যন্ত কঠিন সময়।’
সংশোধিত বিলে যেসব বাচ্চার জন্মদানের সময় তার মা মারা গেছেন; তবে শিশু জীবিত রয়েছেন ওই বাচ্চার বাবাও এই শোক ছুটি পাবেন বলে জানা গেছে।
৩৬৫ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘যেকোনো যুদ্ধ’ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার চীনের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ যখন বাড়িয়ে দিয়েছেন, তখন শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা বলছে বেইজিং। বুধবার (৫ মার্চ) সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এতে রাজস্ব যুদ্ধ, বাণিজ্য যুদ্ধ কিংবা যেকোনো যুদ্ধই হোক—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাওয়ার অঙ্গীকারের কথা রয়েছে। এরমধ্য দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে হোয়াইট হাউসে ঢোকার পর থেকে এ পর্যন্ত সবচেয়ে জোরালো মন্তব্যটি এসেছে চীনের পক্ষ থেকে।
চীনা পণ্যে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্কারোপ করেছেন ট্রাম্প। এতে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা পণ্য প্রবেশে ক্রমবর্ধমান শুল্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ শতাংশ। জবাবে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, ‘চীনের ওপর চরম চাপ প্রয়োগ করা হলে সেটা ভুল নিশানা ও ভুল হিসাব হবে...যদি যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকে এবং শুল্কযুদ্ধ, বাণিজ্য যুদ্ধ কিংবা অন্য যেকোনো যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায়, চীন শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাবে।’
‘কাজেই যত দ্রুত সম্ভব ঔদ্ধত্যপূর্ণ চেহারা দূরে রেখে সংলাপের ও সহযোগিতার সঠিক পথে ফিরে আসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে পরামর্শ দিচ্ছে চীন।’
‘যেকোনো যুদ্ধের’ এই মন্তব্য পরে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস থেকেও রিপোস্ট করে লিখেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র যে যুদ্ধই চায় না কেন, হোক সেটা রাজস্ব যুদ্ধ, বাণিজ্য যুদ্ধ কিংবা অন্য যে কোনো যুদ্ধ—আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে প্রস্তুত আছি।’আরও পড়ুন: দেশগুলো ট্রাম্পের শুল্কারোপের পাল্টা জবাব দেবে কীভাবে?
যেকোনো যুদ্ধ বলতে এখানে কী বোঝানো হয়েছে, জানতে চাইলে লিন জিয়ান বলেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্রের ভিন্ন কোনো অভিপ্রায় থাকে এবং চীনা স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করার প্রতি জোর দেয়, আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাবো।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফক্স নিউজকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিটার হেগসেথ বলেন, ‘যদিও চীনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কোনো যুদ্ধ চাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র, তবে আমরা প্রস্তুত।’
‘আমরা এক বিপজ্জনক বিশ্বে বাস করছি, যেখানে শক্তিশালী ও উদীয়মান দেশগুলোর ভিন্ন আদর্শ রয়েছে,’ যোগ করেন তিনি। ‘যদি আমরা চীনা কিংবা অন্যদের সঙ্গে যুদ্ধ নিবৃত্ত করতে চাই, আমাদের শক্তিশালী হতে হবে,’ বলেন তিনি।
চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ ফেনটানিল প্রবেশ নিয়ে মার্কিন শুল্কারোপ চেষ্টায় কঠোর আপত্তি জানিয়েছে বেইজিং। অতিমাত্রায় ফেনটালিন সেবনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। আর এই ভয়াবহ মাদক সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয় চীন ও মেক্সিকোতে। তবে ফেনটালিন সংক্রান্ত শুল্কারোপকে ‘ঠুনকো অজুহাত’ বলে উল্লেখ করেছে চীন।
চলতি সপ্তাহে মার্কিন কৃষি পণ্যে পনেরো শতাংশ পর্যন্ত শুল্কারোপ করে প্রতিশোধ নিয়েছে বেইজিং। সয়াবিনসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যই চীনে সবচেয়ে বেশি রফতানি করে যুক্তরাষ্ট্র।
সর্বশেষ চীন-মার্কিন বাণিজ্য যুদ্ধের সময় ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা থেকে সয়াবিন কিনেছে চীনা আমদানিকারকরা।
৩৬৫ দিন আগে
কালাল্লিত নুনাত আমাদের: ট্রাম্পকে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী
‘গ্রিনল্যান্ড আমাদের, আমরা বিক্রির জন্য না, আমেরিকানও হতে চাই না’—এমন বার্তাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দিয়েছেন দ্বীপটির প্রধানমন্ত্রী মুৎসি বোওরব এয়েদে। বুধবার (৫ মার্চ) সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে কংগ্রেসের এক যৌথ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ‘যে করেই হোক; গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার’ অভিলাষের কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প।
‘কালাল্লিত নুনাত আমাদের,’ বলেন মুৎসি বোওরব। নিজেদের গ্রিনল্যান্ডিক ভাষায় এই নামেই ডাকেন তারা। যার অর্থ, গ্রিনল্যান্ডবাসীদের দেশ।
‘আমরা আমেরিকান হতে চাই না, ডেনিসও না; আমরা কালাল্লিত। আমেরিকান ও তাদের নেতাদের এই বিষয়টি বুঝতে হবে। আমরা বিক্রির জন্য না এবং তারা আমাদের নিয়ে নিতেও পারবে না।’
তিনি বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডবাসীরাই আমাদের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন।’ মুষ্টিবদ্ধ হাতের ইমোজি ও জাতীয় পতাকা দিয়ে ফেসবুক পোস্টটি শেষ করেন গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: প্রায় চল্লিশ বছরের যাত্রা শেষে আটকে পড়ল সেই হিমদানব
দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের মসনদে বসেই নানা সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখল করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। কংগ্রেসের ভাষণেই সেই অভিব্যক্তিরই পুনরাবৃত্তি করেছেন তিনি।গ্রিনল্যান্ডের জনগণের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই নির্ধারণ করবেন, এতে আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তবে আপনারা যদি চান, আমেরিকা আপনাদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রয়েছে।’
‘আমরা আপনাদের নিরাপদে রাখবো, আপনাদের ধনী বানাবো। একসঙ্গে কাজ করে গ্রিনল্যান্ডকে এমন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হবে; যা কেউ কখনো ভাবেননি। তার প্রশাসন গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টায় সংশ্লিষ্ট সবার সাথে কাজ করছে।’
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড আমেরিকার প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ‘আমি মনে করি, এটা (গ্রিনল্যান্ড) আমরা পেতে যাচ্ছি। যেভাবেই হোক, আমরা এটা (গ্রিনল্যান্ড) পেতে যাচ্ছি।’
গ্রিনল্যান্ডের দিকে নজর ট্রাম্পের এবারই প্রথম নয়। এর আগেও ২০১৯ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম মেয়াদের সময় গ্রিনল্যান্ডকে মার্কিন নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। ওই সময়ও ডেনমার্ক তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল।
সম্পতি জনমত জরিপে দেখা গেছে, বেশিরভাগ গ্রিনল্যান্ডবাসী যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে চান না, তারা বরং ডেনমার্ক থেকে স্বাধীনতা চায়।
গ্রিনল্যান্ড সরকার বর্তমানে একটি তত্ত্বাবধায়ক প্রশাসনের অধীনে রয়েছে। ১১ মার্চ সেখানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে গ্রিনল্যান্ডের পূর্ণ স্বাধীনতার প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বরফের চাদরে ঢাকা গ্রিনল্যান্ড কানাডার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। বিশ্বের বৃহত্তম এই দ্বীপে মাত্র ৬০ হাজার মানুষের বসবাস। গ্রিনল্যান্ড ১৯৭৯ সাল থেকে ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল।
আরও পড়ুন: কানাডা-মেক্সিকোর পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর, ঘোষণা ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউরোপের মধ্যবর্তী কৌশলগত অবস্থানে এই দ্বীপটি অবস্থিত। দেশটিতে প্রচুর খনিজ সম্পদ রয়েছে। ২০২৩ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ডে লিথিয়াম ও গ্রাফাইটসহ ৩১ ধরনের খনিজের বিশাল মজুদ থাকতে পারে, যা বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যাটারি উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য। এসব কারণে এই ভূমিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করতে নারাজ ডেনমার্ক প্রশাসন। ট্রাম্পের বক্তব্যের বিষয়ে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লুকে রাসমুসেন বলেন, ‘আমি মনে করি না গ্রিনল্যান্ডের মানুষ ডেনমার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আমেরিকার অঙ্গরাজ্য হতে চায়।’
তিনি বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডের মানুষ যেটা চাইবে; সেটাই হবে। তারা যদি ডেনমার্কের সঙ্গে সম্পর্ক শিথিল করতে চায়, সেক্ষেত্রেও ডেনিস সরকার কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে।
কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই গ্রিনল্যান্ডের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক বলে চান লার্স লুকে।
৩৬৫ দিন আগে
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছেন ট্রাম্প
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশদুটির নিরাপত্তা ও যাচাই-বাছাইয়ের ঝুঁকি পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে এমন সিদ্ধান্ত আসতে যাচ্ছে।
পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডন এমন খবর দিয়েছে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক তিনটি সূত্রের বরাতে খবরে বলা হয়েছে, ‘এই দুই দেশের বাইরেও অনেক দেশ এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় পড়তে পারে। তবে সেই সব দেশের নাম জানা যায়নি। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এই নিষেধাজ্ঞা আসতে যাচ্ছে।’
প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের সময় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ সাতটি দেশের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। পরবর্তীতে জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ২০২১ সালে এই নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের জাতীয় চেতনার ওপর কালো দাগ।’
এতে শরণার্থী হিসেবে ও বিশেষ অভিবাসন ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ছাড়পত্র পাওয়া কয়েক হাজার আফগান বিপাকে পড়তে পারেন। ২০ বছর ধরে চলা আফগান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হয়ে কাজ করার কারণে তারা তালেবানের প্রতিশোধের শঙ্কার মধ্যে আছেন।
আরও পড়ুন: কানাডা-মেক্সিকোর পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর, ঘোষণা ট্রাম্পের
নিরাপত্তা ঝুঁকি শনাক্তে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে যাওয়া বিদেশিদের যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করতে গেল ২০ জানুয়ারি একটি নির্বাহী আদেশ সই করেন ট্রাম্প।
যেসব দেশের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করা রয়েছে, সেই তালিকায় আফগানিস্তানের নাম থাকবে বলে জানিয়েছে সূত্র। পাকিস্তানকেও এই তালিকায় রাখতে সুপারিশ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিচার মন্ত্রণালয়, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ও জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের কার্যালয় কোনো সাড়া দেয়নি।
একটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী হিসেবে পুনর্বাসনে ও বিশেষ ভিসা প্রক্রিয়ায় যেসব আফগান ছাড়পত্র পেয়েছেন, মারাত্মক যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে তাদের। বিশ্বের যে কোনো দেশের নাগরিকের চেয়ে অনেক বেশি যাচাইয়েরে মধ্যে পড়তে হবে এসব আফগানকে।
আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, ‘ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থেকে বিশেষ অভিবাসন ভিসাধারী আফগানদের অব্যাহতি চাচ্ছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কিন্তু তাদের এই দাবি হয়ত মেনে নেওয়া হবে না।’
দুই দশকের যুদ্ধ শেষে ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এরপর দেশটিতে ক্ষমতায় আসে তালেবান সরকার। যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ অভিবাসন ভিসায় প্রায় দুই লাখ আফগান নাগরিকের আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে কিংবা মার্কিন শরণার্থী ও বিশেষ অভিবাসন ভিসা আবেদন স্থগিত হয়ে আছে।
আরও পড়ুন: ইউক্রেনে মার্কিন সামরিক সহায়তা স্থগিত করেছেন ট্রাম্প
তারা আফগানিস্তান ও ৯০টি দেশে আটকা পড়ে আছেন। তাদের মধ্যে পাকিস্তানে রয়েছেন ২০ হাজার। ২০ জানুয়ারি শরণার্থী আবেদন অনুমোদন ও তাদের ফ্লাইটের জন্য বিদেশি সহায়তা ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
৩৬৫ দিন আগে
১৫ বছরে প্রথমবার ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
গেল ১৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ফায়ারিং স্কোয়াডে কারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। অপরাধী নিজেই এই পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির প্রশাসন।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৭ মার্চ) নিজের সাবেক প্রেমিকার মা-বাবাকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি ব্রাড সিগমনের মৃত্যুদণ্ড ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে কার্যকর করার কথা রয়েছে।
ব্রাড ২০০১ সালে সাবেক প্রেমিকার মা-বাবাকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেয়। তিনি সাউথ ক্যারোলিনার একটি কারাগারে রয়েছেন।
সিগমনের আইনজীবীরা এই মাসের শুরুতেই তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার তারিখ পেছানোর জন্য সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছিলেন।
কিন্তু স্থানীয় সময় বুধবার (৫ মার্চ) আপীল খারিজ করে দেয় আদালত। এরপর সাউথ ক্যারোলিনার নিয়মানুযায়ী তিনি বৈদ্যুতিক চেয়ার কিংবা বিষাক্ত ইনজেকশন—কোন পদ্ধতিতে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর চান জানতে চাওয়া হলে তিনি ফায়ারিং স্কোয়াডে দণ্ড কার্যকর চান বলে জানান।
আমেরিকাতে ঔপনিবেশিক শাসনামলে বিদ্রোহের শাস্তি ও গৃহযুদ্ধ থেকে পলায়ন নিরুৎসাহিত করতে এই পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হত। বর্তমান সময়ে এভাবে মৃত্যুদণ্ডের চেয়ে বিষাক্ত ইনজেকশনের মাধ্যমে তা কার্যকর করাকে তুলনামূলক বেশি মানবিক বলে মনে করা হয়। ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বেশ বিতর্ক রয়েছে।
সাউথ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক মার্ক স্মিথ বলেন, ‘গৃহযুদ্ধ চলাকালে উভয় পক্ষই সৈন্যদের শৃঙ্খলায় রাখতে; জনসমক্ষে ভীতিকর দৃশ্য তৈরি করার উদ্দেশ্যে ফায়ারিং স্কোয়াড ব্যবহার করত।
১৯৭৬ সাল থেকে এ অবধি যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র তিন জন কয়েদিকে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ পদ্ধতিতে ৬৭ বছর বয়সী সিগমন-কে ‘ডেথ চেম্বারে’ একটি চেয়ারে বেঁধে রাখা হবে, মাথা কালো কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হবে। এরপর তার হৃদপিণ্ড লক্ষ্যবস্তু করে ১৫ ফুট (৪.৬ মিটার) দূরত্ব থেকে তিনজন তার দিকে গুলি চালাবেন।
৩৬৫ দিন আগে