বিশ্ব
চীনে ভূমিকম্পে নিহত ৫৩, আহত ৬২
চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রদেশ শিজাংয়ে ৬ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে ৫৩ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও ৬২ জন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) ৯টা ৫ মিনিটে জিগাজে শহরের ডিংরি কাউন্টিতে ভূমিকম্প আঘাত হানে।
চীনের বার্তা সংস্থা সিনহুয়া হতাহতের সংখ্যাটি নিশ্চিত করে খবর প্রকাশ করেছে।
এদিকে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ১। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। তবে চীনা কর্তৃপক্ষ এই হার ৬ দশমিক ৮ বলে জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বাংলাদেশের কিছু অংশ
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল তিব্বত অঞ্চলে। যেখানে ভারত ও ইউরেশিয়া টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের ফলে ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটে। এটি হিমালয়ের শৃঙ্গগুলোর উচ্চতাকেও প্রভাবিত করেছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উপকেন্দ্রের আশপাশের গড় উচ্চতা প্রায় ৪ হাজার ২০০ মিটার (১৩ হাজার ৮০০ ফুট)। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের চারপাশের ৫ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা বেশ কয়েকটি ছোট ছোট সম্প্রদায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৩৮০ কিলোমিটার (২৪০ মাইল) এবং এই অঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর জিগাজে থেকে ২৩ কিলোমিটার (১৪ মাইল) দূরে অবস্থিত।
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে ভূমিকম্পে বাসিন্দারা চমকে উঠেন। তারা তাদের বাড়িঘর থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হন। তবে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যায়নি।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, গত ১০০ বছরে এই অঞ্চলে ৬ বা তারও বেশি মাত্রার ১০টি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।
সূত্র: সিনহুয়া ও অন্যান্য
আরও পড়ুন: ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বাংলাদেশের কিছু অংশ
৪২৪ দিন আগে
ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ালেন ট্রুডো
জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় ও নেতৃত্ব নিয়ে দলের মধ্যে ক্রমাগত অসন্তোষের মুখে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন কানাডীয় প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। গেল ৯ বছর ক্ষমতায় থাকার পর সোমবার (৬ জানুয়ারি) লিবারেল পার্টির প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন তিনি।
তবে তার দল থেকে নতুন কাউকে স্থলাভিষিক্ত করার আগ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে যাবেন ৫৩ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ। আগামী নির্বাচনে তার দল বড় ধরনের ধসের মুখে পড়তে পারে বলে জনমত জরিপে উঠে আসলে সরে দাঁড়াতে আইনপ্রণেতারা তাকে চাপ দিয়ে আসছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আগামী ২৪ মার্চ পর্যন্ত সংসদ মুলতবি থাকবে। এর অর্থ হচ্ছে, মে মাসের আগেই দেশটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
২০ জানুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথের সময়ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থাকবেন ট্রুডো। কানাডীয় পণ্যের ওপর বড় ধরনের রাজস্ব আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প, এতে দেশটির অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
ট্রুডো বলেন, আগামী নির্বাচনে এই দেশ সত্যিকারের নেতা নির্বাচন করবে। কিন্তু আমাকে যদি আন্তঃকোন্দল নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হয়, তাহলে আগামী নির্বাচনে আমি সবচেয়ে ভালো বিকল্প হতে পারবো না।
২০১৫ সালের নভেম্বরে ক্ষমতায় আসেন তিনি। এরপর দুবার পুননির্বাচিত হয়ে কানাডার সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ট্রুডো। কিন্তু উচ্চমূল্য ও আবাসন ঘাটতির কারণে মানুষের মধ্যে তার নেতৃত্ব নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়। ধীরে ধীরে তার জনপ্রিয়তাও কমতে থাকে।
জনমতি জরিপে দেখা গেছে, আগামী নির্বাচনে বিরোধী কনজারভেটিভের কাছে তার দলের বড় পরাজয় ঘটবে। আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে এই নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল।
ট্রুডো বলেন, চারপাশে বিরোধ দূর করে উত্তাপ কমিয়ে আনার বিষয়টি তিনি ভেবেছেন। সেইসঙ্গে এমন সরকারের কথা তিনি ভাবেন, যেটি জটিল বিষয়গুলোর দিকে মনোযোগ দেবে।
তার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে উত্তরসূরি হিসেবে কে আসছেন, সেই প্রশ্নও এখন সামনে আসছে। এক্ষেত্রে সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড, ব্যাংক অব কানাডা ও ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সাবেক প্রধান মার্ক কার্নি ও ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সাবেক প্রিমিয়ার ক্রিস্টি ক্লার্ক।
৪২৪ দিন আগে
হীরা, পান্না আর জহরতে ঘুরে দাঁড়াবে আফগান অর্থনীতি!
এতদিন পপি ফুল চাষ ও আফিম উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল ছিল আফগানিস্তানের অর্থনীতি। কিন্তু আফিম নিষিদ্ধের পর এবার বিকল্প হিসেবে খনিজ ও রত্ন সংগ্রহের ওপর জোর দিয়েছে দেশটির তালেবান সরকার।
মার্কিন বাহিনী আফগান ছেড়েছে বছর তিনেক হলো। ২০২১ সালের আগস্ট থেকে আফগানিস্তানের প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে তালেবান সরকারের তত্ত্বাবধানে।
বিশ্ব ব্যাংকের হিসাব বলছে, শুধু আফিমই ছিল দেশটির জিডিপির ৮ শতাংশ। তালেবান সরকার আফিম নিষিদ্ধ করায় কৃষকরা প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। চাকরি হারিয়েছে এই চাষাবাদের সঙ্গে যুক্ত সাড়ে ৪ লাখ মানুষ।
জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এরইমধ্যে আফগানিস্তানে আফিম চাষ কমেছে ৯৫ শতাংশ। অর্থনৈতিক এ ঘাটতির সঙ্গে যোগ হয়েছে বিদেশি সাহায্যের অপ্রতুলতা। ২০২১ সালের আগ পর্যন্ত তালেবান এবং দেশটির তৎকালীন সরকারের যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র অবকাঠামোগত উন্নতি এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ১৪৩ বিলিয়ন ডলার সাহায্য দিয়েছে নিজেদের মদদপুষ্ট সরকারকে। এখন এসব সাহায্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিকল্প রাস্তা দেখতে হচ্ছে তালেবান সরকারকে।
ভৌগলিকভাবে আফগানিস্তান খনিজ সম্পদ এবং রত্নমণিতে পরিপূর্ণ একটি দেশ। মার্কিনিরা ২০ বছর ধরে আফগানিস্তানের খনিজ সম্পদ আহরণে বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। কিন্তু লাগাতার নিরাপত্তা ঝুঁকি, সরকারি দুর্নীতি, মন্দ অবকাঠামো এবং একের পর এক তৎকালীন আফগান সরকারের নীতিগত ভুল সিদ্ধান্তের কারণে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র।
এবার তালেবান সরকার নতুন উদ্যোমে কাজ শুরু করেছে। আফগানিস্তানের খনিজ খননে আগ্রহ প্রকাশ করেছে তুরস্ক, কাতার, চীন, রাশিয়া এবং ইরান। এরইমধ্যে উজবেকিস্তানের একটি বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে জ্বালানি তেল উত্তোলনের চুক্তি করেছে দেশটির জ্বালানি ও খনিজ মন্ত্রণালয়। চীন তাদের নতুন সিল্ক রোডের পরিকল্পনায় আফগান অর্থনীতির ওপর আলাদাভাবে জোর দিচ্ছে।
আফগানিস্তানের পাঞ্জসির প্রদেশ সবুজ পান্নার জন্য বিখ্যাত। প্রদেশটিতে পান্না উত্তোলন এবং এর ওপর রাজস্ব নির্ধারণের কাজ শুরু করেছে সরকার। তালেবান সরকার বলছে, শুধু পান্না না; রুবি, নীলকান্তমণি, স্বর্ণ, তামা এবং লোহার মতো খনিজ উত্তোলনেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
চুক্তি এবং বিনিয়োগের পাশাপাশি এরইমধ্যে লাইসেন্স প্রদান শুরু করেছে তালেবান সরকার। সবুজ পান্না উত্তোলনে এ পর্যন্ত ৫৬০টি লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে। একইভাবে রুবি উত্তোলনেও দেওয়া হচ্ছে লাইসেন্স।
বিশ্ব ব্যাংকের হিসাবনুযায়ী, গত দুই বছরে আফগানিস্তানের প্রবৃদ্ধি কমেছে ২৬ শতাংশ। অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে বর্তমান সরকার খনিজ সংক্রান্ত যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা কার্যকর হলে দেশটির অর্থনীতির চাকা ঘুরতে সময় লাগবে না বলে মত বিশ্লেষকদের।
৪২৪ দিন আগে
কার্টারের শেষকৃত্যে একসঙ্গে দেখা যাবে মার্কিন পাঁচ প্রেসিডেন্টকে
সবকিছু ঠিক থাকলে আমেরিকার ৩৯তম প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে একসঙ্গে দেখা যাবে দেশটির সাবেক এবং বর্তমান পাঁচ প্রেসিডেন্টকে। ওয়াশিংটনে জিমি কার্টারের চলমান শেষকৃত্যে বৃহস্পতিবার শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন তারা।
শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আমেরিকার এই শতবর্ষী প্রেসিডেন্টের মরদেহ রাখা হবে ওয়াশিংটন ন্যাশনাল ক্যাথেড্রালে। কার্টারের উদ্দেশ্য শেষকৃত্যের মূল ভাষণটি দিবেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। মৃত্যুর আগে এমনটাই ইচ্ছা ছিল জিমি কার্টারের।
তবে বাইডেন প্রথম সারিতে থাকলেও মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে। শপথের ১১ দিন আগে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকেও দেখা যাবে শেষকৃত্যে। একই অনুষ্ঠানে বাইডেন আর ট্রাম্প- সেখানে বাইডেনের প্রতি ট্রাম্পের আচারণ কেমন হবে তা নিয়েও চলছে জল্পনা-কল্পনা।
এছাড়াও শেষকৃত্যে থাকার কথা সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, জর্জ ডব্লিউ বুশ এবং বিল ক্লিনটনের। পাঁচজনকে একসঙ্গে এক মঞ্চে পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বিরল ঘটনা- এমনটাই বলছে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো।
আরও পড়ুন: মার্কিন দূতাবাসে ভিসাপ্রার্থীদের সাক্ষাৎকারের নতুন পদ্ধতি চালু
এর আগে ২০১৮ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট এইচডব্লিউ বুশের শেষকৃত্যে হাজির হয়েছিলেন ট্রাম্প। সে সময়ে বারাক ওবামার সঙ্গে হ্যান্ডশেক করলেও হিলারি ক্লিনটন এবং বিল ক্লিন্টনের সঙ্গে কোনো ধরনের করমর্দন বা বাক্যালাপ করেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বিগত কয়েক বছরে মার্কিন রাজনীতিতে সহনশীলতা এসে ঠেকেছে তলানিতে। একে অন্যের মুখ দেখাদেখি না করার এ রাজনৈতিক সংস্কৃতি হয়তো রাতারাতি বদলাবে না; তবে মানবতাবাদী হিসেবে বিখ্যাত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের শেষকৃত্য কিছুক্ষণের জন্য হলেও একই মঞ্চে নিয়ে আসবে রিপাবলিকান আর ডেমোক্রেটদের।
৪২৪ দিন আগে
ক্ষমতা ছাড়তে পারেন ট্রুডো
ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হতে পারেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। দিনকে দিন ট্রুডোর বিরুদ্ধে তার নিজের দল লিবারেল পার্টি বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠছে। তাদের অভিযোগ, ৯ বছর ক্ষমতায় থাকা এ প্রধানমন্ত্রী এখন আর দেশের অভ্যন্তরীণ সংকট সামাল দিতে পারছেন না।
বিগত কয়েক বছর ধরে বড় রকমের শ্রম সংকট চলছে কানাডায়। এর বাইরে কানাডার পণ্য আমদানির ওপর ২৫ শতাংশ করারোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কানাডার অর্থনীতির চ্যালেঞ্জিংয়ের এ সময়ে গত বছর ডিসেম্বরে পদত্যাগ করেন দেশটির অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড। এরপরেই ট্রুডো নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন।
ডিসেম্বর থেকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের সামনে আসেননি। জনসমক্ষে সেভাবে তার উপস্থিতি দেখা যায়নি। লিবারেল পার্টির ট্রুডো ঘনিষ্ঠরা বলছেন, তিনি রিসোর্টে ব্যক্তিগত সময় কাটাচ্ছেন। সেখান থেকে ফিরেই হয়তো পদে থাকা না-থাকা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
সংসদে ট্রুডোর দল লিবারেল পার্টির আসন ১৫৩টি। এর মধ্যে ২০ জন সাংসদ সরাসরি ট্রুডোর পদত্যাগ চেয়েছেন। বাকিদের অনেকেই পার্টি মিটিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিপক্ষে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।
এদিকে ট্রুডোর পদত্যাগের গুঞ্জনে ডলার বিপরীতে কানাডীয় মুদ্রার দাম বাড়তে শুরু করেছে। ২০২০ সালে ডলারের বিপরীতে দেশটির মুদ্রা ৭ শতাংশ অবমূল্যায়ন হলেও, বর্তমান অবস্থান করছে ডলারের মূল্যের ওপরে।
আরও পড়ুন: কানাডায় ভারতের সহিংসতার অভিযোগ ট্রুডোর
তবে ট্রুডো ক্ষমতা ছাড়ার পর লিবারেল পার্টির কোন নেতা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পাবেন, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। অনেকে ক্ষমতার চেয়ার নিয়ে দলীয় কোন্দলের শঙ্কাও করছেন।
দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, চাইলে দল সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগ পর্যন্ত ট্রুডো নিজ পদ ধরে রাখতে পারেন। এদিকে দেশটির বিরোধী দল জানিয়েছে, সংসদের আগামী অধিবেশনে তারা সরকার পতনের ডাক দেবে। সব মিলিয়ে কানাডা বড় রকমের অস্থিরতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।
৪২৪ দিন আগে
ভিসা ও ইকামাসহ সাতটি সেবায় ফি বাড়াল সৌদি
ভিসা ও ইকামাসহ সাতটি সেবায় ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্ম আবসারের মাধ্যমে এমন তথ্য দেওয়া হয়েছে।
গালফ নিউজের খবরে বলা হয়, সৌদিতে প্রবেশ ও বহির্গমনের ভিসা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০৩ দশমিক ৫ রিয়াল। আর বসবাসের অনুমতি ও চূড়ান্ত বহির্গমনের ফি পুনর্বিবেচনা করে যথাক্রমে ৫১ দশমিক ৭৫ রিয়াল ও ৭০ রিয়াল করা হয়েছে।
এছাড়া কর্মচারীদের রিপোর্ট ফি ধরা হয়েছে ২৮ দশমিক ৭৫ রিয়াল। আর পাসপোর্টের তথ্য হালনাগাদ করতে প্রবাসীদের দিতে হবে ৬৯ রিয়াল।
এক্স পোস্টে আবসার জানিয়েছে, ভ্রমণ ভিসায় প্রবেশ করার পর যদি কেউ হারিয়ে যান, তাহলে তাকে দেশটিতে যিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি এ বিষয়ে রিপোর্ট করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে তাকে।
সেটি হচ্ছে, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ভ্রমণ ভিসা হতে হবে। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার সাত দিন পর এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করা যাবে, কিন্তু ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার ১৪ দিন পর আবেদন করা যাবে না।
আর আবেদন তখনই করা যাবে, যখন ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। একজনের জন্য কেবল একটি রিপোর্টই করা যাবে। আবার রিপোর্ট দাখিল পর তা প্রত্যাহার করা যাবে না বলে ওই পোস্টে জানানো হয়েছে।
৪২৫ দিন আগে
ইসরায়েলকে ৮০০ কোটি ডলারের অস্ত্র দেবে বাইডেন প্রশাসন
বাইডেন প্রশাসন মেয়াদের শেষপ্রান্তে এসে ইসরায়েলের প্রধান মিত্র হিসেবে দেশটির কাছে ৮০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে কংগ্রেসকে অবহিত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
তবে অস্ত্র বিক্রির জন্য পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট কমিটির অনুমোদন লাগবে।
এসব অস্ত্রের চালানের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র, গোলা ও অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্র রয়েছে বলে এক মার্কিন কর্মকর্তা ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসিকে নিশ্চিত করেছেন।
বিবিসি জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতা ছাড়ার মাত্র ১৫ দিন আগে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। গাজায় যুদ্ধে বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার কারণে ইসরায়েলকে সামরিক সমর্থন স্থগিত করার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে ওয়াশিংটন।
এর আগে গত বছরের আগস্টে ইসরায়েলের কাছে ২ হাজার কোটি ডলারের যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
সর্বশেষ ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহের চালানটিতে এয়ার-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র, হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র, আর্টিলারি শেল এবং বোমা থাকবে বলে জানিয়েছেন ওই মার্কিন কর্মকর্তা।
আরও পড়ুন: যুদ্ধবিরতির মধ্যেই লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৫
বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র শনিবার(৪ জানুয়ারি) বিবিসিকে জানিয়েছে, 'প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে নিজেদের নাগরিকদের রক্ষা করার এবং ইরান ও এর মদদপুষ্ট সংগঠনগুলোর আগ্রাসন প্রতিহত করার অধিকার রয়েছে ইসরায়েলের।
তিনি বলেন, ‘আমরা ইসরায়েলের প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা প্রদান অব্যাহত রাখব।’
বাইডেন বরাবরই ইসরাইলের প্রতি মার্কিন সমর্থনকে দৃঢ় বলে বর্ণনা করে আসছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের বৃহত্তম অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ। এটি বিশ্বের সবচেয়ে প্রযুক্তিগতভাবে অত্যাধুনিক সামরিক বাহিনী গড়ে তুলতে সহায়তা করে আসছে।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রধান প্রচলিত অস্ত্রের ৬৯ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করেছে।
২০২৪ সালের মে মাসে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করেছিল, ইসরায়েল দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরে একটি বড় স্থল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে এমন উদ্বেগের কারণে তারা ২ হাজার পাউন্ড এবং ৫০০ পাউন্ড বোমার একক চালান স্থগিত করেছে। কিন্তু বাইডেন তাৎক্ষণিকভাবে ওয়াশিংটনে রিপাবলিকান এবং নেতানিয়াহুর কাছ থেকে প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হন। তারা এটিকে ‘অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার’ সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। এরপরই বাইডেন স্থগিতাদেশ আংশিক তুলে নিয়েছেন এবং এর পুনরাবৃত্তি করেননি।
আরও পড়ুন: ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটে দ্বি- রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানে সমর্থন ইতালির
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বাইডেন প্রশাসন যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তার মধ্যে এই পরিকল্পিত চালানটি অন্যতম। এর মাধ্যমে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট তার উত্তরাধিকারকে এগিয়ে নেওয়া চেষ্টা করছেন।
২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউস ছাড়ার আগে এটি সম্ভবত ইসরায়েলের কাছে শেষ পরিকল্পিত অস্ত্র বিক্রি হতে পারে। এরপরই তার উত্তরসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা গ্রহণ করবেন।
নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট পুনঃনির্বাচনের সময় ও এর আগে বৈদেশিক সংঘাত বন্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা কমানোর কথা বলেছেন।
নিজেকে ইসরায়েলের কট্টর সমর্থক হিসেবে তুলে ধরলেও গাজায় সামরিক অভিযান দ্রুত শেষ করতে মার্কিন মিত্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প।
ইসরায়েল ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে গোষ্ঠীটির অভূতপূর্ব হামলার প্রতিক্রিয়ায় হামাসকে ধ্বংস করার জন্য একটি অভিযান শুরু করো। হামাসের অভিযানে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন ইসরায়েলি নিহত হয় এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: গাজার ২ স্কুলে ইসরায়েলি হামলায় ১৭ জন নিহত
হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এরপর থেকে গাজায় ৪৫ হাজার ৫৮০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
ইসরায়েল হামাসের সঙ্গে যুদ্ধ ছাড়াও লেবাননভিত্তিক সংগঠন হিজবুল্লাহর সঙ্গেও যুদ্ধে জড়িয়েছে। সম্প্রতি একটি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে উভয় পক্ষ। এছাড়া সিরিয়ায় বাশার আল আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়া নিয়ন্ত্রিত গোলান মালভূমির দখল নিয়েছে আইডিএফ।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সেই গোলান মালভূমি পরিদর্শনও করেছেন। সিরিয়ার বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে দেশটির সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করার চেষ্টাও করেছে ইসরায়েলের আইডিএফ। সম্প্রতি সিরিয়ার অভ্যন্তরে ইরানের মিসাইল প্ল্যান্ট ধ্বংসের দাবি করেছে ইসরায়েল।
তথ্যসূত্র: বিবিসি ও অন্যান্য
৪২৬ দিন আগে
২০২৪ সালে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম কমেছে ২.১ শতাংশ: এফএও
খাদ্যশস্য ও চিনির দাম কমার কারণে ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম আগের বছরের গড়ের তুলনায় ২ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)।
শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) সংস্থাটির প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়।
এতে বলা হয়, ২০২৪ সালের পুরো বছরের জন্য এফএও ফুড প্রাইস ইনডেক্স দাঁড়িয়েছে ১২২ পয়েন্ট, যা ২০২৩ সালের গড় মূল্যের চেয়ে ২ দশমিক ৬ পয়েন্ট কম।
যদিও ২০২৪ সালের সূচকটিতে দুগ্ধ, মাংস এবং উদ্ভিজ্জ তেলের দামের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একটি স্থির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ছিল তবুও এই বৃদ্ধি ধারাবাহিকতা এবং চিনির দামের পতনকে পুরোপুরি ভারসাম্যের জন্য অপর্যাপ্ত ছিল। ২০২৪ সালের জন্য এফএও ধারাবাহিক মূল্য সূচক ২০২৩ সালের তুলনায় ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। এতে, এফএও চিনির মূল্য সূচক বছরে ১৩ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে।
এফএওর মতে, ২০২৪ সালে খাদ্যশস্যের দাম কমেছিল মূলত গম এবং মোটা শস্যের দাম কম হওয়ার কারণে হয়েছিল।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের জন্য এফএও ফুড প্রাইস ইনডেক্স গড়ে ১২৭ পয়েন্ট ছিল। যা মাসভিত্তিক শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, তবে বছরভিত্তিক তা ৬ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
৪২৬ দিন আগে
গোপন লেনদেন, ট্রাম্পের মামলার রায় ১০ জানুয়ারি
যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে প্রবেশের মাত্র কয়েকদিন আগে ১০ জানুয়ারি তার বিরুদ্ধে ঘুষের মামলায় রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন বিচারক। তবে ট্রাম্পকে জেলে যেতে হবে না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন ওই বিচারক।
এই সিদ্ধান্তের ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে অপরাধমূলক কাজের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন প্রথমবারের মতো ট্রাম্প। ম্যানহাটনের বিচারক জুয়ান এম মার্চেনে এই বিচার কাজের নেতৃত্ব দিয়েছেন। একটি লিখিত রায়ে বলেছেন, তিনি তাকে ‘নিঃশর্ত অব্যাহতি’ দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এর অর্থ ট্রাম্পের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি রেকর্ডে থাকবে, তবে তাকে জেল, জরিমানা বা প্রবেশনের মুখোমুখি হতে হবে না। সাজা ঘোষণার সময় ট্রাম্পকে ভার্চুয়িালি যুক্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
বিচারক মারচান প্রেসিডেন্টের দায়মুক্তি এবং তার আসন্ন দ্বিতীয় মেয়াদের ভিত্তিতে রায় খারিজ করার ট্রাম্পের প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি আইনের সামনে সমতা রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। একই সঙ্গে জুরির সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধার জনসাধারণের প্রত্যাশার বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ না করে ট্রাম্পের শাসন করার ক্ষমতার ভারসাম্য রেখে বিষয়টি শেষ করার চেষ্টা করছেন।
ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে এই রায়কে রাজনৈতিক আক্রমণ এবং ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অ্যালভিন ব্র্যাগের পরিকল্পিত ‘কারচুপিপূর্ণ প্রতারণা’ বলে অভিহিত করেছেন। এই সিদ্ধান্ত বহাল রাখলে প্রেসিডেন্সি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিন্সে বর্ষবরণ উৎসবে ট্রাক নিয়ে হামলা, নিহত ১৫
ব্র্যাগের অফিস মন্তব্য করতে রাজি হয়নি তবে আইন বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, ট্রাম্প তার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিরুদ্ধে আপিল করতে পারেন। তবে মামলাটি রাষ্ট্রীয় আইনের আওতায় পড়ায় তিনি নিজেকে ক্ষমা করতে পারবেন না।
২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার সময় পর্ন তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে গোপনে অর্থ প্রদানের বিষয়টি গোপন করার পরিকল্পনা থেকেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। ট্রাম্প কীভাবে তার প্রাক্তন অ্যাটর্নি মাইকেল কোহেনকে অর্থ প্রদানের জন্য সরবরাহ করেছিলেন সেটিকে কেন্দ্র করেই মামলাটি শুরু হয়েছিল। একটি কথিত সম্পর্কের দাবিকে গোপন থামানোর জন্য এই অর্থ দেওয়া হয়েছিল, যা ট্রাম্প অস্বীকার করেছেন।
প্রাথমিকভাবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ট্রাম্পের সাজা ঘোষণার কথা থাকলেও তা আর হয়নি। নভেম্বরের নির্বাচনে জয়লাভের পর উভয় পক্ষই তার আসন্ন প্রেসিডেন্ট হওয়ার তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেছে। ট্রাম্পের আইনজীবীরা তার শাসন ব্যবস্থায় বিঘ্নের কথা উল্লেখ করে মামলাটি খারিজের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন, অন্যদিকে প্রসিকিউটররা এখনও সাজা বহাল রাখার পক্ষে।
মার্চান মামলাটি খারিজ করার বিরুদ্ধে রায় দিয়ে বলেছেন, একজন নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে এই জাতীয় দায়মুক্তি দেওয়া আইনের শাসনকে ক্ষুণ্ন করবে। তিনি সুপ্রিম কোর্টের দায়মুক্তির রায়কে এই মামলার সঙ্গে যুক্ত করার যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে উল্লেখ করেছেন, ট্রাম্পের পদক্ষেপগুলো প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার প্রথম মেয়াদের আগে এবং সময়ে ঘটেছিল।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনা চারটি ফৌজদারি অভিযোগের মধ্যে এটিই একমাত্র মামলা যা চূড়ান্ত বিচার পর্যন্ত গড়িয়েছে। নির্বাচনে হস্তক্ষেপ এবং শ্রেণিবদ্ধ নথি সম্পর্কিত ফেডারেল অভিযোগ বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে জর্জিয়ার একটি রাজ্য নির্বাচনের মামলা অমীমাংসিত রয়েছে। ট্রাম্পের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছেন, এই পর্যায়ে নিউইয়র্কের মামলাটি খারিজ করার দিকে পরিচালিত করা উচিত। তবে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর স্বতন্ত্র পর্যায়ে এ জাতীয় সমাধানের কোনো ভিত্তি খুঁজে পাননি বলেও জোর দেন মার্চেন।
আরও পড়ুন: ইলন মাস্কের নজর দক্ষিণ এশিয়ায়, বড় সুযোগ বাংলাদেশের
৪২৭ দিন আগে
নতুন ভাইরাস এইচএমপিভি, মহামারীর আতঙ্ক
নতুন আতঙ্ক দ্য হিউম্যান মেটানিউমোভাইরাসের (এইচএমপিভি) দৌরাত্ম্য বেড়েছে চীন ও জাপানে। এরইমধ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জা ধাঁচের এই ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন অনেকে। ভাইরাসটি করোনার মতোই ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।পাঁচ বছর হলো করোনাকাল পার হয়েছে। এবার নতুন মহামারী নিয়ে বার্তা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেকেরই শঙ্কা, ২০২৫ সালে ফের করোনার মতো নতুন কোনো মহামারীর উদ্ভব হতে পারে। যদিও কোন রোগটি মহামারী আকার ধারণ করবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বার্তা এখনই দেয়া সম্ভব না। তবে এইচএমপিভির প্রাদুর্ভাব ভাবাচ্ছে বিশেষজ্ঞদের।যুক্তরাজ্যের সাউথ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র গবেষক ড. মাইকেল হেড বলেন, 'একটি মহামারীর আশঙ্কা করা হচ্ছে, ‘তবে এখনো কোন রোগটি মহামারী আকার ধারণ করবে, সেটি নিশ্চিত না বলে আগাম মহামারীর নাম দেয়া হয়েছে ডিজিস-এক্স।’হাম, কলেরা, বার্ড-ফ্লু এবং স্ক্যাবিসের মতো প্রায় ১১টি রোগকে সম্ভাব্য মহামারীর তালিকায় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে এইচএমভির সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাব চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে চিকিৎসকদের কপালে।চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, করোনার সময়ে হাসপাতালে যেভাবে ভিড় তৈরি হয়েছিল, একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এইচএমপিভির প্রাদুর্ভাবেও। একই অবস্থা দেখা যাচ্ছে জাপানের। দেশটির সংবাদমাধ্যম বলছে, চলতি মৌসুমে দেশটিতে ঠান্ডাজনিত সংক্রমণ ছাড়িয়েছে ৭ লাখেরও বেশি।হেড বলেন, ‘আগামীর মহামারীর প্রধান বৈশিষ্ট্য হবে মারাত্মক ছোঁয়াচে এবং মানুষের মৃত্যুহার পৌঁছাবে সর্বোচ্চে।’চীনের বর্তমান অবস্থাচীনে প্রতিনিয়ত এইচএমপিভি প্রকট হয়ে উঠলেও এখন পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা দেশটির সরকার সতর্কতা জারি করেনি। তবে যেভাবে ভাইরাসটি ছড়াচ্ছে, তাতে করে যেকোনো সময়ে দেশটির সরকার জরুরি অবস্থা জারি করতে পারে বলে দাবি বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের।দেশটিতে সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছে শিশু এবং বৃদ্ধরা। বিশেষ করে আগে যাদের শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা ছিল, তারা এই ভাইরাসের আক্রমণে নাজুক অবস্থায় আছেন।জ্বর, নাকবন্ধ, কাশি বা শ্বাসকষ্টের মতো সাধারণ ঠান্ডাজনিত সমস্যা দিয়ে শুরু হলেও এই ভাইরাসের তীব্রতায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। অনেক সময় রোগের তীব্রতা ব্রঙ্কাইটিস, নিউমোনিয়া, অ্যাজমা বা কানে ইনফেকশনের মতো সমস্যা সৃষ্টি করতে সক্ষম বলে অভিমত চিকিৎসকদের।সতর্ক অবস্থানে ভারতএইচএমপিভি ভাইরাস চীন থেকে যাতে করোনার মতো ভারতেও ছড়িয়ে না পরে, তাই আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে আছে দেশটি। ভারতের স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালক ড. অতুল গয়াল জানিয়েছেন, শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত কোনো সমস্যা এখন থেকে ছোট করে দেখার উপায় নেই। এ ধরনের জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।গয়াল বলেন, ‘আপাতত ভয় পাওয়ার কিছু নেই। প্রাথমিকভাবে এটিকে সাধারণ ফ্লু ভাইরাস বলেই মনে হচ্ছে। এখন পর্যন্ত শঙ্কাজনক কোনো বার্তা আমাদের কাছে আসেনি। তবে যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নির্দেশ দেয়া আছে।’প্রতিরোধ ও প্রতিকারপ্রায় দুই দশক আগে প্রথমবারের মতো এইচএমপিভি ভাইরাস উপস্থিতি জানান দিলেও এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি কোনো টিকা। চিকিৎসকরা বলছেন, করোনা মোকাবেলায় যেসব সতর্কতা নেয়া হয়েছিল, একই পদক্ষেপে এই ভাইরাস প্রতিরোধ করা সম্ভব।২০ সেকেন্ড ধরে সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়া, অপরিষ্কার হাতে নাক-মুখ স্পর্শ না করা এবং আক্রান্তদের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখে এইচএমপিভি থেকে নিরাপদ থাকার পরামর্শ চিকিৎসকদের।করোনা মহামারীতে বিশ্বে মোট ১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪০ কোটিরও বেশি। এ অবস্থায় নতুন এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে জনসাধারণের মনে।
৪২৭ দিন আগে