বিশ্ব
দ. কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইয়ুন সুক-ইওলকে গ্রেপ্তার করে তার বাসভবনে তল্লাশির জন্য পরোয়ানা জারি করেছে দেশটির একটি আদালত।
মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দুর্নীতি তদন্ত অফিস (সিআইও), জাতীয় তদন্ত অফিস (এনওআই) ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত ইউনিট।
পরোয়ানা জারি হলেও গ্রেপ্তার কার্যকর করার কোনো সময়সূচি নির্ধারণ করে দেয়নি আদালত। তবে দেশটিতে আদালতের এ ধরনের রায় কার্যকর করতে সাধারণত এক সপ্তাহ সময় থাকে।
এই রায়ের ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলো।
আরও পড়ুন: গ্রেপ্তারের পর আত্মহত্যার চেষ্টা দ. কোরিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষা প্রধানের
যৌথ তদন্ত ইউনিট ইয়ুনকে ১৮, ২৫ ও ২৯ ডিসেম্বর তিনবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হতে বলে, তবে অভিশংসিত এই প্রেসিডেন্ট ওই সমন গ্রহণ করতে এবং নিজের জন্য প্রতিরক্ষা আইনজীবী নিয়োগের নথি জমা দিতে অস্বীকার করেন। এরপর বিদ্রোহ ও অন্যান্য অভিযোগে সিউলের পশ্চিম জেলা আদালতে ইয়ুনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারির আবেদন করে ইউনিট।
পরোয়ানা জারির অনুরোধের কয়েক ঘণ্টা পরই অবশ্য ইয়ুনের পক্ষ থেকে লিখিত মতামত জমা এবং সিউল আদালতে প্রতিরক্ষা আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে।
৪৩০ দিন আগে
ইথিওপিয়ায় বরযাত্রীর ট্রাক নদীতে পড়ে নিহত ৬৬
ইথিওপিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে বরযাত্রীদের বহনকারী একটি ট্রাক নদীতে পড়ে অন্তত ৬৬ জন নিহত হয়েছেন।
সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) দেশটির একটি হাসপাতালের পরিচালক এই তথ্য জানিয়েছেন।
স্থানীয় সময় রবিবার(২৯ ডিসেম্বর) বিয়ের অতিথিদের ভাড়া করা পুরোনো একটি ট্রাক অতিরিক্ত যাত্রীদের নিয়ে গেলান সেতু থেকে পড়ে গেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। গ্রামবাসীরা বলছেন,এর আগেও এখানে দুর্ঘটনা ঘটেছে।
দক্ষিণাঞ্চলীয় সিদামা অঞ্চলের বোনা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক লেমা লাগিদে সোমবার বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, ঘটনাস্থলেই ৬৪ জন এবং হাসপাতালে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
তিনি বলেন, যেসব রোগী আরও জরুরি অত্যাধুনিক চিকিৎসা প্রয়োজন তাদের হাওয়াসার একটি বড় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
প্রত্যন্ত গ্রামটিতে উদ্ধার অভিযান দেরিতে হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা বেশি হয়েছে। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন,উত্তাল নদীতে পরে যাওয়া মানুষদের বাঁচাতে উদ্ধার কাজে তারা কেবল লাঠি দিয়ে চেষ্টা করেছিলেন।
সেরাক বোকো নামের এক গ্রামবাসী এপিকে বলেন, দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগে ট্রাকে গান বাজছিল এবং স্যুট পরা লোকজন নাচছিল ও হাত নাড়ছিল।
ইথিওপিয়ার গ্রামাঞ্চলের মানুষ বিয়ের মতো সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিবহনের জন্য বাসের পরিবর্তে ট্রাক ভাড়া করা সাধারণ ব্যাপার। কারণ, এতে তারা তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে এবং অনেক লোক বহন করতে পারে। ট্রাকের বেশিরভাগই পুরুষ ছিল। কারণ তাদের সাংস্কৃতিকভাবে কনেকে তার বাড়ি থেকে বরের বাড়িতে নিয়ে যেতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ফাসিল আতারা বলেন, 'সড়কটি ভালোভাবে নির্মাণ না করা এবং সতর্ক চিহ্ন না থাকায় নদীর আশপাশে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটে। ‘
দুর্বল অবকাঠামো এবং গণপরিবহনে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত বহনের কারণে ইথিওপিয়ায় অতীতেও একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত আগস্টে আমহারা অঞ্চলে একটি বাস উল্টে ৩৮ জনের মৃত্যু হয়।
৪৩১ দিন আগে
দক্ষিণ কোরিয়ায় বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ১৭৯
দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি বিমানবন্দরে অবতরণের সময় উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ১৭৯ জন নিহত হয়েছেন।
রবিবার মুয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় দুর্ঘটনা ঘটে বলে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
স্থানীয় সময় রবিবার সকাল ৯টা ৩ মিনিটে ১৭৫ জন যাত্রী নিয়ে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে ছেড়ে আসে জেজু এয়ারের ফ্লাইট ৭সি২২১৬। এর মধ্যে ১৭৩ জন দক্ষিণ কোরিয়ান এবং দুইজন থাই নাগরিক ছিলেন। এ ছাড়া ছয়জন ফ্লাইট ক্রু ছিলেন।
বিমানটি চাকা না খুলেই অবতরণ করে এবং রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে। ফলে রানওয়ের বাইরের দেয়ালে আঘাত করে। এই সংঘর্ষে বিমানটির মাঝের অংশ ভেঙে যায় এবং এতে আগুন ধরে যায়।
বিমানের পেছনের অংশ থেকে দুইজন ক্রুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তবে বিমানটির বেশিরভাগ অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বাকি ১৭৯ জন যাত্রী ও ক্রুর মৃত্যু হয়েছে।
দেশটির ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে, পাখির সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে ল্যান্ডিং গিয়ারের ত্রুটি দেখা দেয়। সেকারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
প্রথমবার অবতরণের চেষ্টা করার পর, ল্যান্ডিং গিয়ারের ত্রুটির কারণে বিমানটি পুনরায় আকাশে উঠে যায় এবং দ্বিতীয়বার পেটের অংশ দিয়ে অবতরণের চেষ্টা করে। এর পরই ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা।
টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা যায়, বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের বিমানটিতে আগুন ধরে যায়া। এরপর কালো ধোঁয়ার বড় কুণ্ডলি উঠতে শুরু করে। আরেকটি ফুটেজে দেখা যায়, অবতরণের চেষ্টা করার আগে বিমানের ডান দিকের একটি ইঞ্জিন থেকে ধোঁয়া ও আগুন বের হচ্ছে।
পরিবহন, ভূমি ও অবকাঠামো মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা একটি টেলিভিশন ব্রিফিংয়ে জানান, বিমান দুর্ঘটনার তদন্তের জন্য ফ্লাইট ডেটা ও ভয়েস রেকর্ডার উভয়ই উদ্ধার করা হয়েছে।
পরিবহন মন্ত্রণালয় আরও জানায়, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নির্ধারণ করতে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।
৪৩১ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার মারা গেছেন
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার মারা গেছেন।
স্থানীয় সময় রবিবার বিকেলে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে কার্টার সেন্টার।
রবিবার কার্টার সেন্টার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এ ক বার্তায় বলে, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার, আজ বিকেলে জর্জিয়ার প্লেইন্সে মারা গেছেন।’
১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জিমি কার্টার। তার বয়স হয়েছিল ১০০ বছর।
কার্টারের প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বর মাসে চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি যৌথ বিবৃতি জারি করে। এতে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ঘোষণা দেয়। ১৯৭৯ সালের ১ জানুয়ারি, উভয় দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে।
কার্টার ১৯৭৭ সালে পানামা খাল চুক্তি স্বাক্ষর করেন, যা ২০০০ সাল থেকে পানামাকে পানামা খাল অঞ্চলের পূর্ণ অধিকার ফিরিয়ে দেয় এবং এর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করে।
এছাড়াও, তিনি ১৯৭৮ সালে ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি স্বাক্ষরের সাক্ষী ছিলেন। এটি তৎকালীন মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী মেনাচেম বেগিন স্বাক্ষর করেছিলেন।
প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন শেষে, কার্টার ও তার স্ত্রী একটি বেসরকারি সংস্থা কার্টার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেন।
কার্টার ১৯২৪ সালের ১ অক্টোবর দক্ষিণ-পূর্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন একজন কৃষক, যিনি বিশালা এলাকাজুড়ে বাদাম খেতের মালিক ছিলেন।
কার্টারের স্ত্রী রোজালিন ২০২৩ সালের নভেম্বরে মারা গেছেন। ৭৭ বছর ধরে বৈবাহিক সম্পর্কে ছিলেন তারা। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো প্রেসিডেন্টের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী দাম্পত্য জীবন হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।
কার্টার ছিলেন দেশের সবচেয়ে দীর্ঘজীবী সাবেক প্রেসিডেন্ট।
৪৩১ দিন আগে
দক্ষিণ কোরিয়ায় বিমান বিধ্বস্ত: দুজন বাদে নিহত ১৭৯
দক্ষিণ কোরিয়ার মুয়ান বিমানবন্দরের রানওয়েতে একটি বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৭৯ জনে দাঁড়িয়েছে।
দুর্ঘটনার পর ৯ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অগ্নিবিধ্বস্ত বিমানটি থেকে এ পর্যন্ত মাত্র দুজনকে উদ্ধার করতে পেরেছে উদ্ধারকর্মীরা; বাকিরা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা ৩ মিনিটে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয়।
রাজধানী সিউল থেকে প্রায় ২৯০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত মুয়ান শহরের বিমানবন্দরে ১৮১ জন আরোহী নিয়ে অবতরণ করছিল জেজু এয়ারের ওই ফ্লাইটটি। এ সময় রানওয়ে থেকে পিছলে ছিটকে গিয়ে কংক্রিটের দেওয়ালে ধাক্কা মারলে বিমানটিতে আগুন ধরে যায়।
দেশটির জাতীয় অগ্নিনির্বাপন সংস্থা জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩২টি ফায়ার ট্রাক ও বেশ কয়েকটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। প্রায় ১ হাজার ৫৬০ জন দমকলকর্মী, পুলিশ ও সেনাসদস্য উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
নিহতদের মধ্যে ৮৩ জন নারী, ৮০ জন পুরুষ এবং বাকি আগুনে পুড়ে যাওয়ায় ১১ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এমনকি, এখন পর্যন্ত বিমানটির আরোহীদের ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে পারেনি বলে জানিয়েছে অগ্নিনির্বাপন সংস্থা।
আরও পড়ুন: দ. কোরিয়ায় ১৮১ আরোহী নিয়ে বিমান বিধ্বস্ত, নিহত অন্তত ৮৫
মুয়ান অগ্নিনির্বাপন সংস্থা প্রধান লি জিয়ং-হিয়ন টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ব্রিফিংয়ে বলেন, উদ্ধারকর্মীরা হতাহতদের খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে। অগ্নিকাণ্ডে বিমানটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ধ্বংসাবশেষের মধ্যে কেবল বিমানের লেজের অংশটি শনাক্তযোগ্য ছিল।
লি বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটি, বিমানটি পাখির দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে কিনা- দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সরকারি তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিমান চলাচলের ইতিহাসে এটি অন্যতম ভয়াবহ দুর্ঘটনা। সর্বশেষ ১৯৯৭ সালে গুয়ামে কোরিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২২৮ আরোহী নিহত হওয়ার পর ২০২৪ সালের শেষ মুহূর্তে এমন বিমান দুর্ঘটনা দেখল দেশটি।
৪৩২ দিন আগে
দ. কোরিয়ায় ১৮১ আরোহী নিয়ে বিমান বিধ্বস্ত, নিহত অন্তত ৮৫
দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বিমানবন্দরের রানওয়েতে একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। রানওয়ে থেকে ছিটকে কংক্রিটের দেওয়ালে ধাক্কা মারার পর বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। এতে অন্তত ৮৫ যাত্রী নিহত হয়েছেন।
দেশটির জাতীয় অগ্নিনির্বাপন সংস্থা জানিয়েছে, রাজধানী সিউল থেকে প্রায় ২৯০ কিলোমিটার দক্ষিণে মুয়ান শহরের বিমানবন্দরে ১৮১ জন আরোহী নিয়ে অবতরণের সময় জেজু এয়ারের একটি ফ্লাইটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা ৩ মিনিটে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয়।
অগ্নিনির্বাপন সংস্থা জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ৪৬ জন নারী ও ৩৯ জন পুরুষ রয়েছেন। এছাড়া দুইজন ক্রুকে বিমান থেকে বের করে আনতে সক্ষম হয়েছেন জরুরি বিভাগের কর্মীরা।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩২টি ফায়ার ট্রাক ও বেশ কয়েকটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
মুয়ান অগ্নিনির্বাপন সংস্থা প্রধান লি জিয়ং-হিয়ন টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ব্রিফিংয়ে বলেন, উদ্ধারকর্মীরা হতাহতদের খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে। অগ্নিকাণ্ডে বিমানটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ধ্বংসাবশেষের মধ্যে কেবল বিমানের লেজের অংশটি শনাক্তযোগ্য ছিল।
লি বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটি, বিমানটি পাখির দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে কিনা- দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সরকারি তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন।
বিমানটি ব্যাংকক থেকে ফিরছিল এবং আরোহীদের মধ্যে দুজন থাই নাগরিক ছিলেন বলে জানিয়েছে পরিবহন মন্ত্রণালয়।
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পাইতংতার্ন সিনাওয়াত্রা সামাজিক প্ল্যাটফর্ম এক্সে একটি পোস্টের মাধ্যমে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিমান চলাচলের ইতিহাসে এটি অন্যতম ভয়াবহ দুর্ঘটনা। সর্বশেষ ১৯৯৭ সালে গুয়ামে কোরিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২২৮ আরোহী নিহত হওয়ার পর ২০২৪ সালের শেষ মুহূর্তে এমন বিমান দুর্ঘটনা দেখল দেশটি।
৪৩৩ দিন আগে
বিমান হামলার পর ইয়েমেন ছেড়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রধান
ইয়েমেনের সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় জাতিসংঘের এক কর্মী আহত হওয়ার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস দেশ ছেড়েছেন।
হামলার পর সরিয়ে নেওয়া আহত কর্মীর কথা উল্লেখ করে তেদ্রোস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমরা এখন জর্দানে রয়েছি। সেখানে তাকে আরও চিকিৎসা দেওয়া হবে।’
বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) টেড্রোস ও জাতিসংঘের অন্য কর্মকর্তারা যখন ইয়েমেন ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই এ বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল।
হুথিদের হাতে আটক জাতিসংঘের ১৩ কর্মীর মুক্তির লক্ষ্যে জাতিসংঘের নেতৃত্বে আলোচনায় অংশ নিতে দেশটিতে যাওয়া টেড্রোস এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, সব জায়গায় বেসামরিক নাগরিক ও মানবতাবাদীদের ওপর হামলা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য ও পরিচর্যার ক্ষেত্রে বৈশ্বিক সংকটের মূলে লিঙ্গ বৈষম্য: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছে, তারা ইরানি অস্ত্র চোরাচালানে ব্যবহৃত হুথিদের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
হুথি পরিচালিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশন বিমান হামলায় হতাহতের কথা জানিয়ে বলেছে, এতে বিমানবন্দর ও অন্যান্য স্থানের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পুরো পরিমাণ এবং হতাহতের সংখ্যা এখনও স্পষ্ট করতে পারেনি তারা।
৪৩৩ দিন আগে
আফগান সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ১৯ পাকিস্তানি সেনাসহ নিহত ২২
আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ১৯ পাকিস্তানি সেনা এবং তিন বেসামরিক আফগান নাগরিক নিহত হয়েছেন।
পাকিস্তানের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে তোলো নিউজ জানিয়েছে, আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় খোস্ত ও পাকিস্তান সীমান্তবর্তী পাকতিয়া প্রদেশে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ চলছে।
আফগান সীমান্তরক্ষী বাহিনী খোস্ত প্রদেশের আলি শির জেলায় বেশ কয়েকটি পাকিস্তানি সামরিক পোস্টে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এছাড়া পাকতিয়া প্রদেশের দান্দ-ই-পাতান জেলায় দুটি পাকিস্তানি পোস্ট দখল করেছে তারা।
আরও পড়ুন: আফগানিস্তানে বন্দুকধারীদের গুলিতে ১৪ জন নিহত
সূত্রটি জানিয়েছে, দান্দ-ই-পাতান জেলায় পাকিস্তানি সেনাদের ছোড়া মর্টার শেলে তিন আফগান নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।
গত মঙ্গলবার রাতে পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানি সেনাদের বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ ৫১ জন নিহত হওয়ার পর এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
৪৩৩ দিন আগে
মনমোহন সিংয়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন
রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচির স্থপতি হিসেবে খ্যাত সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।
বৃহস্পতিবার ৯২ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের পর শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়।
এদিন সকালে প্রয়াত এই প্রধানমন্ত্রীর লাশ নয়াদিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দলের নেতাকর্মীরা তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
দেশটির সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ও পরিবারের সদস্যরা তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তার কফিন ফুল দিয়ে সজ্জিত এবং ভারতীয় পতাকায় মোড়ানো ছিল। নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে আনুষ্ঠানিক গান স্যালুট দিয়ে সম্মানিত করেন।
পরে সেনাবাহিনীর ঢাকঢোল পিটিয়ে শেষকৃত্যের জন্য তার দেহ শ্মশানে নিয়ে যায়।
আরও পড়ুন: ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং মারা গেছেন
কংগ্রেস নেতা অভিষেক বিষ্ণোই বলেন, ‘মনমোহন সিংয়ের মৃত্যু দেশের জন্য বড় ক্ষতি। তিনি খুব কম কথা বলতেন, কিন্তু তার প্রতিভা ও কাজ তার কথার চেয়ে জোরে কথা বলত।’
ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীসহ বেশ কয়েকজন ক্যাবিনেট মন্ত্রীকে শেষকৃত্যে অংশ নিতে দেখা যায়।
শ্মশানে মনমোহন সিংয়ের দেহ একটি চিতায় তোলা হয়। সে সময় পাশ থেকে ধর্মীয় স্তোত্র বাজানো হয় এবং লাশের দাহ সম্পন্ন করা হয়।
আরও পড়ুন: মনমোহন সিংয়ের মৃত্যু, ভারতে ৭ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা
৪৩৩ দিন আগে
মনমোহন সিংয়ের মৃত্যু, ভারতে ৭ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা
ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের মৃত্যুতে দেশটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ৯২ বছর বয়সে বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) দিল্লির একটি হাসপাতালে মারা যান তিনি।
ভারতের অর্থনৈতিক উদারীকরণের স্থপতি হিসেবে পরিচিত মনমোহন সিং রূপান্তরমূলক অর্থনৈতিক সংস্কারের পথপ্রদর্শক। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সাত দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। ঘোষণা অনুযায়ী শুক্রবারের নির্ধারিত সমস্ত সরকারি কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। একইভাবে কংগ্রেস পার্টির সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনসহ সকল অনুষ্ঠান আগামী সাত দিনের জন্য স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: রবিবার সিলেটে মুক্তিযোদ্ধা হারিছ চৌধুরীকে দাফন করা হবে: মেয়ে সামিরা
রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ব্যবস্থা
শনিবার সকাল ১১টায় দিল্লির শক্তি স্থলের কাছে সিং-এর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকে আনুষ্ঠানিক ২১ বার বন্দুকের স্যালুটসহ সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া হবে। তার লাশ জাতীয় পতাকায় মুড়ে দেওয়া হবে এবং তার শেষ যাত্রায় সামরিক ব্যান্ড ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা একটি ঐতিহ্যবাহী পদযাত্রার সঙ্গী হবেন।
জাতির প্রতি তার অবদানকে শ্রদ্ধা জানাতে একটি বিশেষ প্রোটোকল পালন করা হচ্ছে, যা রাজনৈতিক সীমারেখার ঊর্ধ্বে উঠে তার প্রতি শ্রদ্ধাকে চিহ্নিত করে।
একজন দূরদর্শী নেতার মৃত্যু
হাসপাতালের অফিসিয়াল একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ২৬ ডিসেম্বর বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সে (এইমস) ভর্তি করা হয়।
এতে বলা হয়, ‘বার্ধক্যজনিত শারীরিক অসুস্থতার জন্য তার চিকিৎসা চলছিল এবং বাড়িতে হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা শুরু করা হয়েছিল। পরে রাত ৮টা ৬ মিনিটে তাকে দিল্লির এইমসের জরুরি বিভাগে আনা হয়েছিল। সমস্ত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও রাত ৯টা ৫১ মিনিটে মারা যান তিনি।
কর্ণাটকের বেলাগাভিতে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের সময় সিং-এর মৃত্যু হয়। এই খবর পেয়েই দলের শীর্ষ নেতারা দিল্লি ছুটে যান।
অর্থনীতির সংস্কারক
১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসিমা রাওয়ের অধীনে অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন মনমোহন সিং ভারতের ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক সংস্কারের স্থপতি হিসাবে আবির্ভূত হন। তার নীতিগুলো ভারতকে অর্থনৈতিক দেউলিয়াত্বের পর্যায় থেকে উদ্ধার করে উদারীকরণ ও প্রবৃদ্ধির যুগের ভিত্তি গড়ে তোলে,যা দেশের অর্থনৈতিক গতিপথকে রূপান্তরিত করেছিল।
২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সিং দ্রুত উন্নয়নের সঙ্গে ভারতকে পরিচালনা করেছিলেন। সেসময় তিনি তার শান্ত আচরণ এবং বিচক্ষণ নেতৃত্বের জন্য প্রশংসিত হন।
তার মৃ্ত্যুতে ভারতীয় রাজনীতি ও অর্থনীতির একটি যুগের অবসান হলো। তার প্রতি সারা দেশের শ্রদ্ধা ভারতের ইতিহাস এবং এর ভবিষ্যতের উপর তার কাজের গভীর প্রভাবকে প্রতিফলিত করে।
সূত্র: ভারতীয় গণমাধ্যম ও অন্যান্য
আরও পড়ুন: ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং মারা গেছেন
৪৩৪ দিন আগে