পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ত্যাগ, সাম্য, সহমর্মিতা ও সামাজিক সম্প্রীতির মূল্যবোধ ধারণ করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদের শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ঈদুল আজহা শুধু মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসবই নয়, এটি হিংসা-বিদ্বেষ, অহংকার ও মনের পশুত্বকে কুরবানি করার এক চিরন্তন ও সর্বজনীন আহ্বান।
তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তা’আলার প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ, ইসলামের সাম্য, সম্প্রীতি ও ত্যাগের অনুপম মহিমায় আমরা আজ পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করছি। ঈদের শিক্ষা আমাদের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ, আত্মত্যাগ, সৌহার্দ্য ও সামাজিক সংহতি সুদৃঢ় করতে উদ্বুদ্ধ করে।
মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, কুরবানির ঈদ সমাজের অসচ্ছল মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির গতিসঞ্চারে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে।
তিনি বলেন, আজকের এই পবিত্র দিনে আমি সমাজের সচ্ছল ও বিত্তবান মানুষের প্রতি আহ্বান জানাই, আপনারা কুরবানির আনন্দ, বঞ্চিত ও দরিদ্র মানুষ, এতিম, অভাবগ্রস্ত আত্মীয়-স্বজন এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে ভাগাভাগি করে নিন। তাদের ন্যায্য হক আদায়ে এগিয়ে আসুন এবং মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করুন।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে কুরবানির বর্জ্য দ্রুত ও যথাযথভাবে অপসারণ এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সবাই সচেতন থাকুন।
তিনি আরও বলেন, বিভেদ নয়, ঐক্য; হিংসা নয় সহমর্মিতা; স্বার্থপরতা নয়, ন্যায়পরায়ণতা; বৈষম্য নয়, সাম্য—পবিত্র ঈদুল আজহার এই মহান আদর্শ ও মূল্যবোধ হৃদয়ে ধারণ করে আসুন, আমরা একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে একযোগে কাজ করি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহার মহিমান্বিত বার্তা মানবতার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করুক। আমাদের সবার জীবনে বয়ে আনুক প্রশান্তি, সৌহার্দ্য ও সমৃদ্ধি—এই প্রার্থনা করি। মহান আল্লাহ তা’আলা আমাদের সকলের কুরবানি কবুল করুন।
এর আগে, আজ সকালে জাতীয় ঈদগাহে দেশের প্রধান ঈদ জামাতে অংশ নিয়ে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তার সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থিত জাতীয় ঈদগাহে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও বয়সের মানুষ নামাজে অংশ নেন এবং মহান আল্লাহর দরবারে মোনাজাতে হাত তোলেন।