রাষ্ট্রপতি
চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্য গেলেন রাষ্ট্রপতি
ফলো-আপ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আজ শনিবার সকালে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
শনিবার (৯ মে) সকাল পৌনে ৮টায় রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট বিজি-২০১ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করে।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ডিপ্লোমেটিক কোরের ডিন ইউসুফ এস ওয়াই রমাদান, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানান।
রাষ্ট্রপতির পরিবারের সদস্য, তার চিকিৎসক, স্টাফ নার্স ও বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাষ্ট্রপতির সফরসঙ্গী হয়েছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে মো. সাহাবুদ্দিনের কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়। চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে ফলো-আপ হিসেবে যুক্তরাজ্যের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে রাষ্ট্রপতির প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে।
চিকিৎসা শেষে আগামী ১৮ মে রাষ্ট্রপতির দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
২০ ঘণ্টা আগে
কর্মস্থলে নারীদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সমতা নিশ্চিত করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
নারী শ্রমিকদের মর্যাদা, নিরাপত্তা, সমান মজুরি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা একটি নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব বলে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সকলকে এ বিষয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
শুক্রবার (১ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘মহান মে দিবস এবং জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং সমান কাজে সমান মজুরি নিশ্চিত করে একটি মানবিক কর্মসংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন। আমি আশা করি, সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডার শ্রম খাতে সরকারের উদ্যোগ ও নির্দেশনা বাস্তবায়নে এবং সেগুলোর কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।
বিশ্বের সকল শ্রমিকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি মে দিবসকে শ্রম অধিকারের জন্য ত্যাগ, সংহতি ও সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, শ্রমিকদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ রক্ষায় সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। নিরাপদ ও শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব।
১৮৮৬ সালে শিকাগোতে আট ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে শ্রমিক আন্দোলনে নিহতদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাদের সেই সংগ্রাম বিশ্বব্যাপী মেহনতি মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার এক নতুন অধ্যায় সূচনা করেছিল। একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ, শ্রম অধিকার আন্দোলন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত, আহত ও নির্যাতিত শ্রমিকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
দেশের উন্নয়নে শ্রমিকদের অবদানের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় শ্রমজীবী মানুষের অবদান অপরিসীম। শ্রমিকেরাই দেশের উন্নয়নের মূল কারিগর। দেশের শিল্পকলকারখানা, কৃষি, পরিবহন, গৃহকর্ম ও নির্মাণসহ প্রতিটি খাতে তাদের নিরলস পরিশ্রম আমাদের সমাজ, অর্থনীতি, সভ্যতা ও উন্নয়নকে বেগবান ও সমৃদ্ধ করছে।
তিনি আরও বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো বিশাল রেমিট্যান্স এবং তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিকদের শ্রম ও ঘামের বিনিময়ে অর্জিত আয় আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থনীতির প্রাণশক্তি।
শ্রমিক কল্যাণে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত ত্রিপক্ষীয় শ্রমনীতি ও সংস্কার শ্রমকল্যাণের ভিত্তিকে শক্তিশালী করেছে। ১৯৭৬ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন মিনিস্ট্রি অব ম্যানপাওয়ার। এ সময় তিনি মধ্যপ্রাচ্যসহ ৩৩টি দেশে বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। এই উদ্যোগই পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহের নতুন যুগের সূচনা করে।
মো. সাহাবুদ্দিন আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ‘শ্রম আইন ২০০৬’ প্রণয়ন ও শ্রম কল্যাণ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠাসহ শ্রমিকের অধিকার, কর্মসংস্থান ও কল্যাণের ভিতকে আরও বিস্তৃত করেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার দেশের শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণ, ন্যায্য অধিকার রক্ষা, শারীরিক ও মানসিক সুস্বাস্থ্য এবং নিরাপদ ও শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নানাবিধ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
তিনি জানান, সরকার প্রতিশ্রুতি অনুসারে শ্রমিকদের কল্যাণে ঘোষিত কর্মপরিকল্পনার সব কটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করছে। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই মাসের মধ্যে সরকারি মালিকানাধীন বন্ধ চিনিকল, রেশম ও পাটকলসহ শিল্পকলকারখানা চালু করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ছয় মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ছয়টি পাটকল চালু করার চিন্তাভাবনা রয়েছে।
সুষ্ঠু শিল্প সম্পর্কের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, শ্রমিক ও মালিকের পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ কর্মপরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি টেকসই শিল্প উন্নয়ন ও সুরক্ষিত কর্মসংস্থান দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। শ্রম খাতে শিল্প সম্পর্ক বজায় রাখা এবং শ্রমিক-মালিকের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ট্রেড ইউনিয়নের কার্যক্রমকে উৎসাহ দিতে এই সরকার সচেষ্ট।
আইনি সংস্কারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শ্রমিকদের অধিকার ও সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করতে আন্তর্জাতিক শ্রম মানদণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন-২০২৬’ পাস করা হয়েছে। শ্রম মান উন্নয়নে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ৩৯টি কনভেনশন এবং একটি প্রটোকল অনুসমর্থন করেছে।
সম্প্রতি মিরপুরের রূপনগরে একটি কেমিক্যাল গুদামে আগুনে ১৩ জন শ্রমিকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। কর্মস্থলে দুর্ঘটনা রোধে কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সমন্বিত পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি। শিল্প-কারখানার নিরাপত্তা ত্রুটি দূর করতে শ্রম মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন, বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ-সহ সংশ্লিষ্ট সকল সংগঠনকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এ বছরের মে দিবসের প্রতিপাদ্য— ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’—এর কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতীয় সমৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জনে শ্রমিকের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন উপস্থিত ছিলেন।
৮ দিন আগে
সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের ধারক-বাহক হিসেবে নববর্ষ উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম: রাষ্ট্রপতি
আগামীকাল পহেলা বৈশাখ, বাংলা ১৪৩৩ সনের প্রথম দিন। নববর্ষের উৎসব নিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, আমাদের গৌরবময় ঐতিহ্য, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং আত্মপরিচয়ের ধারক ও বাহক হিসেবে এ উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে তিনি এ কথা বলেছেন।
দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, পহেলা বৈশাখের এই শুভক্ষণে বাংলা নতুন বছরকে স্বাগত জানাই। এই উৎসবমুখর দিনে প্রিয় দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে জানাই নববর্ষের উষ্ণ শুভেচ্ছা ও প্রাণঢালা অভিনন্দন।
তিনি বলেন, বাংলা নববর্ষ আমাদের প্রাণের সর্বজনীন উৎসব। এটি আমাদের ঐক্য, সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। জাতি, ধর্ম ও বর্ণের ভেদাভেদ অতিক্রম করে পহেলা বৈশাখ আমাদের সবার জন্য হয়ে ওঠে এক আনন্দ ও মিলনের দিন। আমাদের গৌরবময় ঐতিহ্য, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং আত্মপরিচয়ের ধারক ও বাহক হিসেবে এ উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম। বৈশাখের আগমনে আমাদের জীবনে জাগে নতুন প্রত্যাশা, নব প্রতিশ্রুতি ও অসীম সম্ভাবনার স্বপ্ন। অতীতের গ্লানি, বেদনা ও ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে আমরা এগিয়ে চলি নব উদ্যমে ও নব প্রত্যয়ে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের নতুন পথচলা শুরু হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বেশ কিছু জনকল্যাণমুখী ও দূরদর্শী কর্মসূচি চালু করেছে। কৃষিনির্ভর এ দেশের প্রেক্ষাপটে মুঘল আমলে ফসলি সনের প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে যে বাংলা সনের যাত্রা শুরু, সেই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় পহেলা বৈশাখে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির সূচনা এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এ উদ্যোগ কৃষি খাতের উন্নয়ন এবং কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় আজ আমরা নানাবিধ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এ প্রেক্ষাপটে আমাদের আরো সংযমী, ধৈর্যশীল ও দায়িত্বশীল হতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে সক্ষম হব—এই প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।
তিনি বলেন, নববর্ষের এই উৎসব ও আনন্দমুখর মুহূর্তে আন্তরিক প্রত্যাশা—সকল অশুভ ও অসুন্দর দূরীভূত হোক; সত্য ও সুন্দরের গৌরবগাথা প্রতিধ্বনিত হোক সর্বত্র। বিদায়ী বছরের সকল দুঃখ-বেদনা মুছে যাক; নতুন বছর ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি।
তিনি আরও বলেন, এই আনন্দঘন দিনে আমি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাই আসুন, আমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করি; ভেদাভেদ ভুলে গড়ে তুলি একটি অসাম্প্রদায়িক, ঐক্যবদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ। আবারও সবাইকে জানাই ‘শুভ নববর্ষ’।
২৬ দিন আগে
রাষ্ট্রপতির উপ-প্রেস সচিব ও সহকারী প্রেস সচিব নিয়োগ
মো. সাহাবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতির উপ-প্রেস সচিব এবং এ এফ এম মাহফুজুর রহমান খানকে সহকারী প্রেস সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা, কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তাদের এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
উপ-প্রেস সচিব গ্রেড-৫ বেতন স্কেলে ও সহকারী প্রেস সচিব গ্রেড-৬ বেতন স্কেলে এই নিয়োগ পেয়েছেন। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্র দিয়ে নির্ধারিত হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।
৩১ দিন আগে
পাবনা সফর শেষে আগামীকাল ঢাকায় ফিরবেন রাষ্ট্রপতি
চার দিনের সরকারি সফর শেষে আগামীকাল মঙ্গলবার নিজ জেলা পাবনা থেকে ঢাকায় ফিরবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুর ১২টায় পাবনা ক্যাডেট কলেজ থেকে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তার।
সফরকালে রাষ্ট্রপতি গতকাল (রবিবার) সকাল ১১টা ১০ মিনিটে আরিফপুর সদর কবরস্থানে গিয়ে তার বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন। পরে সন্ধ্যা ৭টায় তিনি পাবনা প্রেসক্লাবে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
এছাড়া আজ তিনি ভবানীপুর মসজিদ পরিদর্শন করেন এবং সন্ধ্যায় জুবিলী ট্যাংক এলাকায় নিজের বাসভবনে স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে তার।
গত ২৮ মার্চ চার দিনের সফরে পাবনা যান রাষ্ট্রপতি। সেদিন দুপুরে বঙ্গভবন থেকে হেলিকপ্টারে রওনা হয়ে পাবনার শহিদ অ্যাডভোকেট আমিন উদ্দিন স্টেডিয়ামে অবতরণ করেন তিনি। সেখানে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
এ সময় পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশিদ, রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. শাহজাহান, পাবনার জেলা প্রশাসক ড. শাহেদ মোস্তফা, পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আঁখিনূর ইসলাম রেমন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
স্টেডিয়াম থেকে পাবনা সার্কিট হাউসে গিয়ে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি।
৪০ দিন আগে
স্পিকারের স্ত্রীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক
জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সহধর্মিণী দিলারা হাফিজের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (২৮ মার্চ) পৃথক শোকবার্তায় তারা শোক প্রকাশ করেন।
শোকবার্তায় স্পিকার ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান এবং মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে মরহুমা দিলারা হাফিজের অসামান্য অবদানের কথা জাতি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ রাখবে।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার শোকবার্তায় বলেন, মরহুমা দিলারা হাফিজ একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবী ছিলেন। তার মৃত্যুতে জাতি একজন সজ্জন শিক্ষাবিদকে হারাল।
তিনিও মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
দিলারা হাফিজ সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ (শনিবার) স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২৯ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তিনি স্বামী, এক ছেলে, এক মেয়ে ও নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, শনিবার সন্ধ্যায় তার মরদেহ দেশে আনা হবে। তিনি জানান, আগামী ৩০ মার্চ বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তার প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের কেন্দ্রীয় মসজিদে জোহরের নামাজের পর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাকে বনানী সামরিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
কর্মজীবনে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন দিলারা হাফিজ। তিনি ইডেন মহিলা কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তী সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা দপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে তিনি অবসর গ্রহণ করেন।
৪২ দিন আগে
জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহিদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোর ৫টা ৫৬ মিনিটে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তারা এ শ্রদ্ধা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভোর ৫টা ৫৩ মিনিটে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে পৌঁছান। রাষ্ট্রপতি স্মৃতিসৌধে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তাকে স্বাগত জানান।
পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তারা বীর শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায় এবং বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং তিন বাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে পুনরায় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
পরবর্তীতে বিএনপি চেয়ারম্যান হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলীয় শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান তারেক রহমান। এরপর তারা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করেন। এছাড়া প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার শান্তি এবং দেশের উত্তরোত্তর কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে প্রার্থনা করা হয়।
রাষ্ট্রীয় অতিথিতের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবাবের সদস্যরা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বিদেশি কূটনীতিকরা পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তাদের শ্রদ্ধা জানান।
এর আগে, ভোরে রাজধানীতে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ভিআইপিদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষ হওয়ার পর জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
৪৪ দিন আগে
রাষ্ট্রপতির উপ-প্রেস সচিব ও সহকারী প্রেস সচিব নিয়োগ
তথ্য ক্যাডারের দুইজন কর্মকর্তাকে রাষ্ট্রপতির উপ-প্রেস সচিব এবং সহকারী প্রেস সচিব পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে তথ্য অধিদপ্তরের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা মোল্লা আহমদ কুতুবুদ-দ্বীনকে প্রেষণে রাষ্ট্রপতির উপ-প্রেস সচিব নিয়োগ দিয়ে তার চাকরি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে ন্যস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
একই আদেশে তথ্য অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা এস এম রাহাত হাসনাতকে প্রেষণে রাষ্ট্রপতির সহকারী প্রেস সচিব নিয়োগ দিয়ে তার চাকরিও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
মো. সরওয়ার আলম সচিব পদমর্যাদায় রাষ্ট্রপতির সচিবের দায়িত্বে আছেন। এবার নতুন করে রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ে দুইজন কর্মকর্তাকে যুক্ত করল সরকার।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ের সব কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বিএনপি সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আগের প্রেস সচিব সরওয়ার আলমকে একই পদে নিয়োগ দেয়।
৪৫ দিন আগে
একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করলেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (২১ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এই জামাতে অংশ নেন তারা।
এই জামাতকে কেন্দ্র করে ভোর থেকেই ঈদগাহ ময়দান মুসল্লিদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য এখানে জড়ো হন।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী নির্ধারিত সময়ের আগেই ঈদগাহে পৌঁছান। এসময় পুরো এলাকা জুড়ে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি অন্যান্য সংস্থার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করেন।
ঈদের এই প্রধান জামাতে আরও অংশ নেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, কূটনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সাধারণ মুসল্লিদের উপস্থিতিতে ঈদগাহ পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।
নামাজ শেষে খুতবা পাঠ করা হয় এবং দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় করা হয় বিশেষ মোনাজাত।
মোনাজাত শেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত মুসল্লিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ঈদের শুভেচ্ছা জানান। পরে তারা নিজ নিজ বাসভবনের উদ্দেশে ঈদগাহ ত্যাগ করেন।
৪৯ দিন আগে
জাতীয় ঈদগাহে নামাজ আদায় করবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী
পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত রাজধানীর হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। ওই জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তিনি বলেন, জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে নারীসহ ৪০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। নামাজে অংশগ্রহণ করা মুসল্লিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে পারবেন।
তবে আবহাওয়ার কারণে ঈদগাহ ময়দান নামাজ আদায়ের অবস্থায় না থাকলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।
জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রধান ঈদ জামাতের আয়োজন করেছে ঢাকা সিটি করপোরেশন। এ উপলক্ষে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম জাতীয় ঈদগাহ পরিদর্শন করেন।
৫১ দিন আগে