রাষ্ট্রপতি
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য রক্ষার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, অন্যায়, অত্যাচার, অসততা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং সেগুলো পরাজিত করাই দুর্গাপূজার মূল বার্তা।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকার রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা খুব দৃঢ় কণ্ঠে বলতে পারি, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক যে সম্প্রীতি রয়েছে, তা বিশ্বের আর কোথাও আছে বলে আমার জানা নেই।’
বিশ্বজুড়ে যখন সংঘাত, সহিংসতা ও বিদ্বেষ বিরাজ করছে, তখন বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, দুর্গাপূজা তাদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব ন্যায়বিচার, শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণের মূল্যবোধ তুলে ধরে।
তিনি আরও বলেন, এ দেশে বারবার অসুরের আবির্ভাব ঘটেছে, আর বাংলাদেশের মানুষ তাদের পরাজিত করেছে।
রমনা কালীমন্দিরের ইতিহাস স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭১ সালে মন্দিরটি ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয় এবং পরে ১৯৭৩ সালে এটি ভেঙে ফেলা হয়। যারা ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলত, তাদের হাতেই এই অপকর্ম হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় তিনি খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নির্দেশনায় বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের উদ্যোগে ২০০১ সালে মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করা হয়।
১৩ ঘণ্টা আগে
কৃষিশ্রমিক ধরে রাখতে কৃষিকে লাভজনক করার ওপর গুরুত্ব রাষ্ট্রপতির
কৃষিকাজ থেকে পর্যাপ্ত আয় না হওয়াই কৃষিশ্রমিক পাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ার প্রধান কারণ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ খাতকে লাভজনক করতে পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) গাজীপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বারি) সফরকালে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘মাঠে গিয়ে দেখবেন, শ্রমিক পাওয়া যায় না। কারণ কী? কারণ হচ্ছে, সে মাঠে একটু কাজ করে যে আয় করে, সেটা তার জীবনযাপনের জন্য যথেষ্ট নয়।’
তিনি আরও বলেন, কৃষিতে শ্রমিকের সংকটকে শুধু শ্রমিক খুঁজে পাওয়ার সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। মানুষকে এই পেশার প্রতি নিরুৎসাহিত করা মূল অর্থনৈতিক কারণগুলোরও সমাধান করতে হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, কৃষিকাজ এখন আর লাভজনক না হওয়ায় মানুষ এ পেশা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে আপনাদের কাজ করতে হবে এবং কৃষিকে লাভজনক করার উপায় খুঁজে বের করতে হবে।
দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের প্রসঙ্গ তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠে প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনে কাজ করার সময় এসেছে।
তরুণদের আত্মত্যাগ ও গণ-অভ্যুত্থান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বিরল সুযোগ তৈরি করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। সবাই একটু ধৈর্য ধরে ধীরে ধীরে যদি সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করি, তাহলে অবশ্যই আমরা সফল হতে পারব বলে বিশ্বাস করি।
সভায় কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিম রনি, কৃষি সচিব মো. সেলিম খান, বারির মহাপরিচালক ড. মো. মঞ্জুরুল কাদির ও ব্রির মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
বারির মহাপরিচালকের স্বাগত বক্তব্যের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রীও বক্তব্য দেন।
এর আগে সকাল সোয়া ১০টায় রাষ্ট্রপতি বারিতে পৌঁছালে বাংলাদেশ পুলিশের একটি দল তাকে গার্ড অব অনার দেয়।
পরে তিনি প্রতিষ্ঠানটির জিন ব্যাংক ও বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। এরপর উদ্ভিদ কৌলিসম্পদ কেন্দ্রে বারি কাঁঠাল-৬ জাতের একটি চারা রোপণ করেন।
৩ দিন আগে
৯ নভেম্বর বসছে ত্রয়োদশ সংসদের চতুর্থ অধিবেশন
আগামী ৯ নভেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন শুরু হবে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ওই দিন বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর সংসদ ভবনে অধিবেশন শুরু হবে। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন বলে সংসদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ১০ সেপ্টেম্বর মাত্র ৯টি বৈঠকের পর তৃতীয় অধিবেশন শেষ হয়। ৬০ দিনের বিরতি দিয়ে আবারও অধিবেশনে বসছে ত্রয়োদশ সংসদ।
এর আগে গত ১৫ জুলাই ২৭ কার্যদিবস শেষে দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপ্তি হয়, যা বাজেট অধিবেশন হিসেবেও পরিচিত। ওই অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পাস করে সংসদ। বর্তমান বিএনপি সরকারের অধীনে এটিই ছিল প্রথম বাজেট।
১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়, যা ২৫টি বৈঠকের পর ৩০ এপ্রিল শেষ হয়।
ওই অধিবেশনে সংসদে ৯৪টি বিল পাস হয়, যার মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশের বিপরীতে আনা ৯১টি বিলও ছিল। এছাড়া কয়েকটি সংসদীয় কমিটিও গঠন করা হয়।
৪ দিন আগে
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি চান রাষ্ট্রপতি
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকা মাদকমুক্ত রাখতে এবং শিক্ষার্থী ও তরুণদের মাদকের অপব্যবহার থেকে সুরক্ষায় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরা লেখার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
সাক্ষাৎকালে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
প্রতিনিধিদল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধা ও সমস্যার বিষয়েও রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এ সময় রাষ্ট্রপতি প্রতিনিধিদলকে এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।
উপাচার্য উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আচার্য হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্যও রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানান।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার বিষয়ে তাদের আশ্বস্ত করেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা, সহকারী অধ্যাপক ও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
৪ দিন আগে
দুর্যোগ মোকাবিলায় জনসচেতনতা ও আগাম প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ রাষ্ট্রপতির
প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রস্তুতি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দুর্যোগসহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব বিষয় তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি।
দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে সরকার, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও জনগণকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, ভূমিধস, খরা, বজ্রপাত ও ভূমিকম্প মানুষের জীবন ও জীবিকার জন্য নিয়মিত হুমকি তৈরি করছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অবদান সামান্য হলেও এর ক্ষতিকর পরিণতির বড় বোঝা বহন করতে হচ্ছে আমাদের।
১৯৭০ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহ পরিণতির সাক্ষ্য বহন করে। এসব দুর্যোগে শুধু প্রাণহানিই ঘটে না, মানুষের জীবিকা, অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামগ্রিক উন্নয়নও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়েই দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।
তাই শুধু দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে আলোচনা না করে আগেভাগেই প্রস্তুতি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন বলে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বলেও জানান তিনি।
উন্নত আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ক ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ফলে দুর্যোগে প্রাণহানি কমানো সম্ভব হচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগ আরও কার্যকর করা প্রয়োজন বলে তিনি মির্জা ফখরুল।
এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়ন এবং তাদের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
এছাড়া পরিকল্পনাহীন নগরায়ণ ও দুর্বল অবকাঠামোর কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ঢাকায় ভূমিকম্প হলে তার সম্ভাব্য পরিণতি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বড় ধরনের দুর্যোগের সময় অপরিকল্পিত নির্মাণ ও অপর্যাপ্ত নগর পরিকল্পনার কারণে প্রাণহানি বাড়তে পারে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ভবন নির্মাণের নিরাপত্তাবিধি নিশ্চিত করার পাশাপাশি যথাযথ নগর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।
দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা, নদীদূষণ রোধ, নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।
এসব সমস্যা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, সিলেটের হাওরাঞ্চলের মানুষ আগাম সতর্কতা পেয়ে আগেভাগে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে অত্যন্ত সচেতনতার পরিচয় দিচ্ছেন।
এ ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রতিটি পরিবারকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও জরুরি সামগ্রী নিরাপদ স্থানে রাখা, আগাম সতর্কবার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাড়া দেওয়া এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। দুর্যোগের আগে ঝুঁকি কমানো এবং পরে দ্রুত পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করতে এসব উদ্যোগ আন্তরিকতা ও কার্যকর পরিকল্পনার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দুর্যোগসহনশীল বাংলাদেশ গড়তে প্রতিটি ঘর নিরাপদ, প্রতিটি পরিবার প্রস্তুত এবং প্রতিটি জনগোষ্ঠীকে সক্ষম করে তুলতে হবে।
উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে দুর্যোগের ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
দুর্যোগ মোকাবিলায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের মাধ্যমে এমন একটি দুর্যোগসহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব, যেখানে মানুষ দুর্যোগের প্রভাব থেকে সুরক্ষিত থাকবে এবং দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।
অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুন্সী রফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
৫ দিন আগে
কন্যাশিশুর নিরাপত্তা ও শিক্ষা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি
মেয়েদের নিরাপত্তা ও শিক্ষা নিশ্চিত করা, বাল্যবিবাহ বন্ধ করা এবং তাদের সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে সরকার, পরিবার ও সমাজকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’ প্রতিপাদ্যে এ বছর দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বাল্যবিবাহ শুধু একটি বিয়ে নয়। এটি শৈশবের অবসান, শিক্ষার ব্যাঘাত ও সম্ভাবনার অপচয়।’
তিনি মেয়েদের স্কুলে যাতায়াতের পথ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ অনলাইন জগতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, কার্যকর বিচার ও আইনের কঠোর প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।
জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা পেতে জাতীয় হেল্পলাইন ১০৯, ১০৯৮ ও ৯৯৯ সম্পর্কে পরিবার ও শিশুদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, সঠিক সময়ে করা একটি ফোনকল শিশুর জীবন ও শৈশব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মেয়েদের শিক্ষা মৌলিক অধিকার, আর তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবার সম্মিলিত দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি আরও বলেন, ‘কন্যাশিশুর জন্ম কোনো বোঝা নয়; এটি অফুরন্ত সম্ভাবনার সূচনা।’
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, বাল্যবিবাহের ফলে অল্প বয়সে মাতৃত্ব, স্বাস্থ্যঝুঁকি, অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা ও সহিংসতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে মেয়েরা নিজেদের সক্ষমতা বিকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়।
তিনি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তনের পাশাপাশি মেয়েদের কল্যাণে ধারাবাহিক ও সুপরিকল্পিত বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, মেয়েদের আকাঙ্ক্ষা ও ভবিষ্যৎ পেশা নিয়ে আলোচনার সময় ছেলেদের পাশাপাশি তাদেরও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
এছাড়া প্রতিটি উপজেলায় কিশোরীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
বাল্যবিবাহের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দারিদ্র্যের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, মেয়েদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
দরিদ্র পরিবারের মেয়েরা যাতে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, সে জন্য বিনা মূল্যে শিক্ষা, উপবৃত্তি, বিদ্যালয়ে পুষ্টিকর খাবার এবং সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জন্মনিবন্ধন যাচাইব্যবস্থা শক্তিশালী করা, মেয়েদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর জন্য সামাজিক সুরক্ষার আওতা সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি।
নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উদ্যোগগুলোর কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে ১৯৭৬ সালে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এবং ১৯৭৮ সালে মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এ ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রযাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে মন্ত্রণালয়টির নাম পরিবর্তন করে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় করা হয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারের সময় বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচি এবং উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মেয়েদের বিনা মূল্যে শিক্ষা ও উপবৃত্তি দেওয়ার উদ্যোগ মেয়েদের শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকারও মেয়েদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
রাষ্ট্রপতি জোর দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের সুফল প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়েসহ প্রত্যেক কন্যাশিশুর কাছে পৌঁছাতে হবে, যাতে লিঙ্গপরিচয়, নিরাপত্তার উদ্বেগ কিংবা পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা তাদের স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।
বাংলাদেশের নারীদের অর্জনের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি পর্বতারোহী নিশাত মজুমদারের এভারেস্ট জয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জাতীয় নারী ফুটবল দলের সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ, দেশের দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং বিশেষ করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নারীরা সাহসিকতা দেখিয়েছেন ও নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেছেন।
শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি, গণমাধ্যম, ব্যবসা, জনপ্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নারীরা নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়ে চলেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি প্রশ্ন করেন, ‘শৈশবে এসব মেয়ের হাতে বইয়ের বদলে যদি বিয়ের শাড়ি তুলে দেওয়া হতো, তাহলে কি আজ আমরা তাদের এই অর্জনগুলো দেখতে পেতাম?’
তিনি আরও বলেন, ‘কন্যাশিশুরা জয় করবে বিশ্ব’ স্লোগানটি নিছক কাব্যিক কথা নয়; এটি বাংলাদেশের বাস্তব সম্ভাবনার প্রতিফলন।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, মানবসভ্যতা ও এর অগ্রগতিতে নারী ও পুরুষ পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে অবদান রেখেছেন।
মেয়েদের বোঝা নয়, সম্ভাবনা হিসেবে বিবেচনা করতে এবং ছেলে ও মেয়ের জন্য সমান মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। ছেলেদের ছোটবেলা থেকেই মেয়েদের সম্মান করতে এবং তাদের মতামতের মূল্য দিতে শেখানোর পরামর্শ দেন তিনি।
কন্যাশিশুদের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে, পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে, দক্ষতা অর্জন করতে হবে এবং স্বাবলম্বী হওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। পাশাপাশি বড় স্বপ্ন দেখতে ভয় না পেয়ে লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ় থাকারও আহ্বান জানান তিনি।
অন্যায়, নির্যাতন বা হয়রানির শিকার হলে নীরব না থেকে বিশ্বস্ত অভিভাবক, শিক্ষক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরামর্শ দেন রাষ্ট্রপতি। প্রয়োজনে উপযুক্ত হেল্পলাইনের মাধ্যমে সহায়তা নিতেও বলেন তিনি।
মেয়েদের সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক অঙ্গীকার, প্রশাসনিক দক্ষতা, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং সর্বোপরি জনসাধারণের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক, বিবাহ নিবন্ধক, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যেখানে প্রতিটি কন্যাশিশু নিরাপদে জন্ম নেবে, ভয়হীন পরিবেশে বেড়ে উঠবে, শিক্ষা গ্রহণ করবে, দক্ষতা অর্জন করবে, স্বাবলম্বী হবে এবং নিজের দেশ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গর্ব করতে পারবে।
তিনি বলেন, ‘আর কোনো বাল্যবিবাহ নয়। আর কোনো বৈষম্য নয়। কোনো কন্যার স্বপ্ন থামিয়ে দেওয়া হবে না। কন্যা এগিয়ে যাবে। কন্যারাই বিশ্ব জয় করবে।’
বাংলাদেশের সব কন্যাশিশুর সুস্থ, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব শিশুর নিরাপদ, সফল ও কল্যাণময় জীবন কামনা করেন তিনি।
৬ দিন আগে
সেবার মান বাড়লে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা কমবে: রাষ্ট্রপতি
দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাব্যবস্থা রয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সেবার মান আরও বাড়ানো গেলে রোগীদের বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা আরও কমে আসবে।
রবিবার (১১ অক্টোবর) বাংলাদেশের হেপাটোলজি সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলমের নেতৃত্বে সাত সদস্যের প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, পেশাজীবীদের রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে পেশাগত দায়িত্ব পালন করা উচিত, যাতে তারা আরও ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম রাষ্ট্রপতিকে জানান, দেশেই এখন লিভার ট্রান্সপ্লান্টের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ডায়াবেটিস, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে দেশে ফ্যাটি লিভারের রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এবং হেপাটাইটিস-বি রোগীর সংখ্যাও ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।
এ সময় অধ্যাপক শাহিনুল আলম আসন্ন এশিয়ান প্যাসিফিক অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য স্টাডি অব দ্য লিভার (এপাসল) সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।
রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার বিষয়ে প্রতিনিধিদলকে আশ্বাস দেন।
বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও বাংলাদেশের হেপাটোলজি সোসাইটির সদস্য লিভার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।
৭ দিন আগে
গঠনমূলক সমালোচনা, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য: রাষ্ট্রপতি
মতপার্থক্য, গঠনমূলক সমালোচনা ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (৭ অক্টোবর) হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (এইচএসটিইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এনামুল্লাহর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি গণতন্ত্রের বিকাশকে ব্যাহত করে।’
বৈঠকে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দের বিষয়টিও রাষ্ট্রপতিকে জানান।
শিক্ষক পদে শূন্য পদ পূরণ, ছাত্রীদের আবাসন সংকট নিরসনসহ অন্যান্য বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন উপাচার্য।
এ সময় রাষ্ট্রপতি প্রতিনিধিদলকে এসব সমস্যা সমাধানে তার সহযোগিতার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে দেশের তুলনামূলকভাবে কম উন্নত উত্তরাঞ্চলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি শিক্ষার মান বজায় রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়া উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতিকে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানালে তিনি তা গ্রহণ করেন।
বৈঠকে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ ও রেজিস্ট্রার উপস্থিত ছিলেন।
১১ দিন আগে
রাষ্ট্রপতির সই-সিল জাল, মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ গ্রেপ্তার ২
সাভারের আশুলিয়ায় রাষ্ট্রপতির সই ও সিল জাল করার অভিযোগে একটি মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৭ অক্টোবর) আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভোরে আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ নিয়ামতুল্লাহ (৫০) ও উপপরিচালক (প্রশাসন) সৈয়দ সানজিদ (৪৫)।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এজাহারভুক্ত পাঁচজনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন মাদরাসার পরিচালক সৈয়দ আলী রায়হান ওরফে রুন্নান, জামগড়ার বাসিন্দা গাজী লিটন ও বিপ্লব।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকায় অবস্থিত তাহফিজুল কুরআনিল কারিম ফাজিল মাদরাসার প্রস্তাবিত এডহক কমিটির একটি তালিকা অনুমোদনের জন্য মাদরাসার নিজস্ব প্যাডে একটি আবেদন তৈরি করা হয়। এরপর রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সিল ও রাষ্ট্রপতির সই জাল করে আবেদনটি ঢাকার বছিলায় অবস্থিত ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দেওয়া হয়।
প্রক্রিয়ার একপর্যায়ে বিষয়টি রাষ্ট্রপতির নজরে আসার পর তিনি এ নিয়ে অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সইটি তার নয় এবং এটি জাল। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের পুলিশ লিয়াজোঁ অফিসারের (পিএলও) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপার (এসপি) ও ডিআইজি কার্যালয়কে বিষয়টি অবহিত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর আশুলিয়া থানার একটি দল অভিযান চালিয়ে দুজনকে হেফাজতে নেয়।
আসামিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে কোনো এক সময়ে মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কার্যালয়ে বসেই আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে রাষ্ট্রপতির সই ও সিল জাল করেন।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ এজাহারভুক্ত দুজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
১১ দিন আগে
গণতন্ত্রের জন্য অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন ও বিরোধীদের পরিসর জরুরি: রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে ধাপে ধাপে গণতন্ত্রের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। সেই সঙ্গে তিনি গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং বিরোধী দল ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের পর্যাপ্ত পরিসর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রবিবার (৪ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎ শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে ধাপে ধাপে গণতন্ত্রের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। এ জন্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অপরিহার্য।’
গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে বিরোধী দল ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের পর্যাপ্ত পরিসর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ‘এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। গণতন্ত্রকে তার নিজস্ব গতিতে কার্যকরভাবে চলতে দিতে হবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু দেশের শীর্ষ বিদ্যাপীঠই নয়, বাংলাদেশের রাজনীতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিরও কেন্দ্রবিন্দু।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার মান আরও উন্নত করে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎকালে উপাচার্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন ৫৪তম সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান উপাচার্য ওবায়দুল ইসলাম। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করেন, তিনি সমাবর্তনে উপস্থিত থাকবেন।
সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ উপস্থিত ছিলেন।
১৪ দিন আগে