রাষ্ট্রপতি
সাক্ষরতা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি: রাষ্ট্রপতি
সাক্ষরতা মৌলিক মানবাধিকার, ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে গতকাল (সোমবার) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।
দিবসটি উপলক্ষে দেশবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি। এ বছরের আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের প্রতিপাদ্য ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’কে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সাক্ষরতা একটি মৌলিক মানবাধিকার এবং ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। বর্তমান বিশ্বে সাক্ষরতার পরিধি শুধু পড়া, লেখা ও গণনার দক্ষতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জীবনদক্ষতা অর্জন, তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার, বিশ্লেষণমূলক চিন্তা, নৈতিক মূল্যবোধ, পরিবেশ সচেতনতা ও সমাজের সমৃদ্ধির মতো বিষয়ও যুক্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মানবকেন্দ্রিক উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য শিক্ষিত ও দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তোলা অপরিহার্য। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সাক্ষরতার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধারাবাহিকতায় সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা এবং জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বর্তমান সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, মানসম্মত ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ জানিয়ে তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ে আধুনিক ল্যাব, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, স্কুল ফিডিং কার্যক্রম ও রোবোটিক্স কর্নার চালু এবং শিক্ষাবৃত্তি দ্বিগুণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া পাঠদান মনিটরিং, পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার ও শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ততা বাড়াতে নানা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি আরও জানান, নতুন শিক্ষক নিয়োগ, তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি চালু এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অবসরকালীন সুবিধাপ্রাপ্তি সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নারী, শিশু, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য সাক্ষরতা ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এসব উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জ্ঞানসমৃদ্ধ, প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলে মনে করেন রাষ্ট্রপতি।
এছাড়া রাষ্ট্রপতি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যেখানে সাক্ষরতার আলো প্রতিটি মানুষের জীবনকে সমৃদ্ধ করবে এবং একটি শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে সবাই সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। এ লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং দেশের সর্বস্তরের জনগণকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
সবশেষে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন রাষ্ট্রপতি।
২ ঘণ্টা আগে
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন রাষ্ট্রপতি
ঠাকুরগাঁওয়ের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ মহাসড়কের পাশে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফলক উন্মোচন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টির নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।
প্রায় ৮৬ একর জমির ওপর এ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হলো। একটি বিশ্ববিদ্যালয় কেবল উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি অঞ্চলের জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও মানবসম্পদ উন্নয়নের কেন্দ্র।
রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত উচ্চশিক্ষার নতুন দ্বার উন্মোচন করবে এবং জাতীয় উন্নয়নে দক্ষ, যোগ্য ও মানবিক নাগরিক গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্ধারিত সময়ে উন্নত মান বজায় রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শিক্ষা খাতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
ফলক উন্মোচন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বাঙ্গীণ উন্নতি কামনা করে মোনাজাত ও দোয়া করা হয়।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মামুন আহমেদ, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. ইসরাফিলসহ পদস্থ কর্মকর্তারা।
এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
১ দিন আগে
মফস্বল সাংবাদিকদের দাবি পূরণে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস রাষ্ট্রপতির
সাংবাদিকদের বিভিন্ন অসুবিধা ও দাবি পূরণে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ঠাকুরগাঁও সফরের দ্বিতীয় দিনে নিজ বাসভবনে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের নির্বাহী পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ আশ্বাস দেন।
মতবিনিময়কালে ঠাকুরগাঁওয়ের সাংবাদিক নেতারা দেশের মফস্বল সাংবাদিকদের বিভিন্ন অসুবিধা ও দাবি রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন। বিশেষ করে মফস্বল এলাকার সাংবাদিকদের প্রকৃত অবস্থা, সাংবাদিকদের জীবনমান সম্পর্কে তারা রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
এছাড়া ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের ভবন সম্প্রসারণ, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে ঠাকুরগাঁওয়ের স্থানীয় নির্যাতিত সাংবাদিকদের জন্য সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ এবং সাংবাদিকদের জন্য ওয়েজবোর্ড গঠনের বিষয়ে রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।
রাষ্ট্রপতি সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, সাংবাদিকদের অসুবিধা ও দাবিগুলো পূরণে তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এ সময় সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজনই আজ সাংবাদিকগণ ক্ষতিগ্রস্ত, এটিই তাদের দুর্দশার কারণ। শুধু ঠাকুরগাঁওয়ে নয়, ঢাকাতেও একই অবস্থা। এই বিভাজন কাম্য নয়। সুবিধাবাদীরা এর সুযোগ নেন। এই বিভাজন দূর করতে হবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম গণতন্ত্র, সুশাসন এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য। মফস্বল সাংবাদিকদের তৃণমূল ও প্রান্তিক মানুষের কথা নিষ্ঠার সঙ্গে যথাযথভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সরওয়ার আলম, ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সভাপতি লুৎফর রহমান মিঠু ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান তানু, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা এবং ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের নির্বাহী পরিষদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিন জেলা স্কাউটস নেতাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন রাষ্ট্রপতি। মতবিনিময়কালে স্কাউটস আন্দোলন এগিয়ে নেওয়ার জন্য করণীয় সম্পর্কে আলোকপাত করেন রাষ্ট্রপতি।
এ সময় বক্তব্য দেন লিডার ট্রেনার আঞ্জুমান আরা বেবী, মো. জালাল উদ দীন, ও স্কাউটসের জেলা সেক্রেটারি লুৎফর রহমান।
পরে জেলা স্কাউটসের উদ্যোগে ঠাকুরগাঁও জেলায় এক লাখ বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা করা হয়। বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি একটি গাছের চারা রোপনের জন্য তাদের হাতে তুলে দেন এবং চলতি মাসেই বৃক্ষরোপণ শুরু করার নির্দেশ দেন।
১ দিন আগে
সংঘাত এড়িয়ে সমঝোতার রাজনীতির আহ্বান রাষ্ট্রপতির
রাজনৈতিক দল ও ঠাকুরগাঁওয়ের জনগণকে সংঘাত ও সংঘর্ষ এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে রাজনীতি করার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রথম নিজ জেলা সফর উপলক্ষে নাগরিক কমিটি ও স্থানীয় সুধীসমাজ এ সংবর্ধনার আয়োজন করে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ সংঘাত চায় না। রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণভাবে রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে রাজনীতি করতে হবে। ‘গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় বিষয় হলো সহিষ্ণুতা,’ তিনি বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা আর কোনো সংঘাত বা রক্তপাত দেখতে চাই না। আমরা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছি এবং অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। এখন আমরা সেই গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’
তিনি দেশে সমঝোতার রাজনীতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে বলেন, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ যেন সমান বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে একসঙ্গে বসবাস করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, জেলায় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়েছে। ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি হয়ে গেছে এবং ভাইস চ্যান্সেলরও দায়িত্ব নিয়েছেন। ইনশাআল্লাহ, আগামীকাল আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করব।’
তিনি বলেন, জেলায় একটি মেডিকেল কলেজও প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং আগামী বছর থেকে সেখানে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু করার আশা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, স্থানীয় জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দুটি পৃথক উপজেলা গঠন করা হয়েছে এবং সেসব উপজেলার ইউএনওরা যোগ দিয়ে কাজ শুরু করেছেন।
ঠাকুরগাঁওয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য আরও শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বিমানবন্দর চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। তবে বিমানবন্দরটি দীর্ঘমেয়াদে চালু রাখতে হলে জেলায় শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে হবে।
‘আমাদের এখানে প্রায় কোনো কলকারখানা বা শিল্প নেই। মানুষের কাজের সুযোগও পর্যাপ্ত নেই,’ তিনি বলেন।
রাষ্ট্রপতি জানান, জেলায় কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনের জন্য বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা চলছে। অর্থ উপদেষ্টা ও বাণিজ্যমন্ত্রী ইতোমধ্যে এলাকা পরিদর্শন করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে চীন থেকেও বিশেষজ্ঞ ও বিনিয়োগকারীদের ঠাকুরগাঁওয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
জনগণকে শুধু চাকরি বা ঠিকাদারির ওপর নির্ভর না করে নিজেদের উদ্যোগে কর্মসংস্থান সৃষ্টির আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ‘নিজের পায়ে নিজে না দাঁড়ালে কেউ আপনাকে দাঁড় করাতে পারবে না। আপনাকেই নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে।’
নারীদের আরও বেশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, অনেক নারী ইতোমধ্যে নিজেদের উদ্যোগে কাজ শুরু করেছেন। তাদের অংশগ্রহণ আরও বাড়লে কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।
১ দিন আগে
দুই দিনের সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি
দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো দুই দিনের সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১ টায় রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে।
হেলিপ্যাডে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম, রংপুরের রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক ও পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন এবং ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন ও সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী।
নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ড. আবু মোহাম্মদ খায়রুল কবির ও সদস্য সচিব ড. শহিদুজ্জামানও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
পরে ঠাকুরগাঁও সার্কিট হাউসে রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার প্রদান করে বাংলাদেশ পুলিশের একটি দল। গার্ড পরিদর্শনের পর মা-বাবার কবর জিয়ারতের জন্য সেনুয়া কবরস্থানে যাওয়ার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। জিয়ারত ও মুনাজাত শেষে ঠাকুরগাঁও শহরে নিজ বাসভবনে যাবেন রাষ্ট্রপতি।
ঠাকুরগাঁও সফরের প্রথম দিনে আজ (রবিবার) বিকেল সাড়ে ৩টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠে তার সম্মানে আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর দ্বিতীয় দিন সোমবার ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি।
২ দিন আগে
রাষ্ট্রপতির আগমন ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ে উৎসবের আমেজ
রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর আগামীকাল রবিবার প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও সফরে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার সফর ঘিরে পুরো জেলায় বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নিতে শহরের সড়ক, সড়ক বিভাজক ও বিভিন্ন স্থাপনায় রঙের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শেষ হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আগমনে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি জেলার উন্নয়ন নিয়েও নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে মানুষের মধ্যে।
আগামী ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি। তার সফরকে সামনে রেখে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা সাজিয়ে তোলা হয়েছে। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক সংবর্ধনার মঞ্চ নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। দিন-রাত কাজ করে শ্রমিকরা মঞ্চ তৈরির কাজ শেষ করেছেন। ঢাকা থেকে প্রয়োজনীয় উপকরণ নিয়ে তারা ঠাকুরগাঁওয়ে এসেছেন।
শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কের ডিভাইডারগুলোতে নতুন করে রঙ করা হয়েছে। রাতেও চলছে রঙের কাজ। সড়কবাতিগুলো মেরামত করা হয়েছে। পাশাপাশি সড়কের পাশের বিভিন্ন এলাকা পরিষ্কার করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়কগুলোকে আরও দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে চলছে নানা প্রস্তুতি। রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নিতে সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা গেছে উৎসাহ-উদ্দীপনা।
ঠাকুরগাঁও রোড কাজিপাড়ার বাসিন্দা আজমত রানা বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমাদের জেলার সন্তান। তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। তাকে স্বাগত জানাতে শহর সাজানো হচ্ছে, মানুষের মধ্যেও উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।’
ব্যবসায়ী জহির ইসলাম বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে শহরের চেহারা অনেকটাই বদলে যাচ্ছে। রাস্তাঘাট পরিষ্কার করা হচ্ছে, ডিভাইডার (বিভাজক) ও বিভিন্ন স্থাপনায় রঙ করা হচ্ছে। আমরা চাই, তার এই সফর শুধু উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠুক।’
গত ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন জেলার মানুষ। এবার রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো নিজ জেলায় আসায় সেই আনন্দ আরও বেড়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রপতির সফরের মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা।
শিক্ষার্থী আয়শা আক্তার বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি আমাদের জেলার মানুষ হওয়ায় আমরা গর্বিত। তার কাছে আমাদের প্রত্যাশাও অনেক। বিশেষ করে শিক্ষার সুযোগ আরও বাড়ানো, উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে তিনি ভূমিকা রাখবেন বলে আমরা আশা করি।’
স্থানীয়রা জানান, মির্জা ফখরুল স্বল্পসময় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী থাকাকালীন ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। তার উদ্যোগের মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং বিমানবন্দর চালুর বিষয়টি রয়েছে। এসব উদ্যোগের কাজ চলমান রয়েছে বলেও তারা জানান।
তবে স্থানীয়দের মতে, ঠাকুরগাঁওয়ে স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগব্যবস্থার আরও উন্নয়ন প্রয়োজন। অনেক সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। রাষ্ট্রপতির কাছে তাদের প্রত্যাশা, তিনি এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন এবং জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে উদ্যোগ নেবেন।
রাষ্ট্রপতির প্রথম সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকরা বলছেন, দলমত-নির্বিশেষে এতে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ থাকবে। সংবর্ধনা সফল করতে দিনরাত কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মো. খয়রুল কবির বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির প্রথম সফরকে ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। নাগরিক সমাজের উদ্যোগে তাকে সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করা হয়েছে। দলমত-নির্বিশেষে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে বলে আমরা আশা করছি। সংবর্ধনা সফল করতে আমাদের প্রস্তুতি চলছে।’
৩ দিন আগে
দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
দেশের উন্নয়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের দেশে বিনিয়োগ ও বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাতকালে এ আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রতিনিধিদলটি দেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করে।
যুক্তরাজ্যের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন এ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। তারা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
এ সময় রাষ্ট্রপতি দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, ফ্যাসিবাদবিরোধী ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী প্রবাসীদের অর্থ, শ্রম ও মেধা দিয়ে অসামান্য অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, দেশ ও জাতি প্রবাসীদের এই অবদান ও ভূমিকা চিরদিন স্মরণ রাখবে।
সাক্ষাৎকালে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল বিমানবন্দরে হয়রানি, ভোটদানের অধিকারসহ ব্যবসায়িক ও নাগরিক বিভিন্ন সুবিধা বৃদ্ধির জন্য রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন।
এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। প্রবাসীদের পূর্ণাঙ্গ সেবার ব্যবস্থা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রবাসী কার্ড চালু হয়েছে।
সরকার প্রবাসীদের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে আরও কাজ করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবেই আপনারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রয়েছেন। আপনারা দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি বিদেশে তুলে ধরবেন।
প্রবাসীদের রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।
৪ দিন আগে
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি আরও ভারসাম্যপূর্ণ করার সুযোগ আছে: রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও স্বার্থ বিবেচনায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও দুই দেশের জন্য লাভজনক করার সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে এই চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
বৈঠকে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ও সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন। এর মধ্যে তিনি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটকে দেওয়া সহায়তার কথাও উল্লেখ করেন।
একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের কৃষি খাতে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা আরও বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক শেভরনের বিনিয়োগ ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন এবং দেশের জ্বালানি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা ও উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেই সঙ্গে প্রযুক্তি ও দক্ষতা হস্তান্তরের গুরুত্বের ওপরও জোর দেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও প্রকৃত পর্যটকদের জন্য বিদ্যমান ‘ভিসা বন্ড’ ব্যবস্থা পর্যালোচনা ও সহজ করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এছাড়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসইভাবে নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহযোগিতা চান তিনি।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত রাষ্ট্রপতিকে অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং এ বিষয়ে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলামকে অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান। এ সময় রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও বাণিজ্যিক অংশীদারদের একটি।
তিনি আরও বলেন, দুই দেশের বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা এবং দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণে বিশ্বাসী।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ, পারস্পরিক সম্মান ও সমতার নীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।
রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক সম্মান ও অভিন্ন স্বার্থ সুরক্ষার মাধ্যমে আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর ও বিস্তৃত করার বিষয়ে তার দেশের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে রাষ্ট্রপতির সচিব ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৫ দিন আগে
জ্বালানিমন্ত্রী টুকুকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি
অসুস্থ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে দেখতে রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে গেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে হাসপাতালে গিয়ে তিনি মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ ইউনুস আলী জানান, আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাষ্ট্রপতি হাসপাতালে যান এবং জ্বালানিমন্ত্রীর শয্যার পাশে কিছু সময় অবস্থান করেন।
তিনি বলেন, এ সময় তিনি মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তার চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে জানেন। তার ছেলে আবেদ হাসান মাহমুদের সাথেও কথা বলেছেন রাষ্ট্রপতি।
ওই সময়ে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিত, রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন, রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত চিকিৎসক কর্ণেল এ কে এম ফয়জুল হক, রাষ্ট্রপতির সহকারি একান্ত সচিব মো. ইউনুস আলী উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গতকাল (মঙ্গলবার) রাত সাড়ে ১০টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়লে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তার ছেলে আবেদ হাসান মাহমুদ জানান, গত কয়েকদিন ধরে তার বাবা তীব্র জ্বরে ভুগছিলেন। পরবর্তীতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে জ্বালানিমন্ত্রীর চিকিৎসা চলছে।
৬ দিন আগে
আনসার-ভিডিপিকে দেশ গঠনমূলক কাজে আরও ভূমিকা রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি দেশ গঠনমূলক কাজে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি (গ্রাম প্রতিরক্ষা দল) সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আনসার ও ভিডিপি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।
এ সময় বিগত গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী জননিরাপত্তা বিধান ও ত্রয়োদশ সাধারণ নির্বাচনসহ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে আনসার বাহিনীর কাজের প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি।
এছাড়া বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারত্ব, শৃঙ্খলা, জনসম্পৃক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি বিদেশি ভাষা, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ ও কর্মসংস্থান উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি।
সাক্ষাৎকালে আনসার ও ভিডিপি মহাপরিচালক রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
এ সময় তিনি বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম, বিশেষ করে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে আনসার সদস্যের মানসম্মত প্রশিক্ষণ, সদস্যদের ডেটাবেজ তৈরি, ক্ষুদ্রঋণ প্রদান কার্যক্রম ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রান্তিক পর্যায়ে বাহিনীর গৃহীত কর্মসূচি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে জানান।
আনসার ও ভিডিপি মহাপরিচালক দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা কামনা করেন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আনসার ও ভিডিপি দেশের সব থেকে বড় জনসম্পৃক্ত নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বাহিনী।
তিনি এ সময় আনসার ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠায় শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং বাহিনীর আধুনিকায়ন, বিভিন্ন আইন প্রণয়ন ও আনসার ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
রাষ্ট্রপতি এ সময় সৌরশক্তি উৎপাদন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অর্জন এবং জনমুখী কার্যক্রমে বাহিনীর অবদানের প্রশংসা করে আগামী দিনে আরও কর্মসূচি ও তৎপরতা গ্রহণের আহ্বান জানান।
দায়িত্ব পালনকালে বাহিনীর উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও আনসার ও ভিডিপি প্রধানকে আশ্বস্ত করেন রাষ্ট্রপতি।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবগণ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৬ দিন আগে