ভোক্তাপর্যায়ে এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৩৫৭ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ৫২৮ টাকা। জুন মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল এক হাজার ৮৮৫ টাকা।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) নতুন এ দাম ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
নতুন দর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে কার্যকর হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম ও জাহাজভাড়া (ফ্রেইট চার্জ) কমে আসায় এ মূল্য হ্রাস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিইআরসি।
বিইআরসি জানিয়েছে, চলতি (জুলাই) মাসে অটোগ্যাসের দাম ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা থেকে কমিয়ে ৭০ টাকা ৪০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজারে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যায়। এ মাসে প্রতি কেজি এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১২৭ টাকা ৩০ পয়সা, যা আগে ছিল ১৫৭ টাকা ৬ পয়সা।
এদিকে, সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা এলপিজির সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
এর আগে ১৯ এপ্রিল ১২ কেজি এলপিজির দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১,৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তার ১৭ দিন আগে, ২ এপ্রিল, ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে দাম করা হয়েছিল ১,৭২৭ টাকা।
অর্থাৎ, দুই দফায় ১২ কেজি এলপিজির দাম মোট ৫৯৯ টাকা বাড়ানো হয়। এরপর জুন মাসে ১২ কেজির দাম ১,৯৪০ টাকা থেকে কমিয়ে ১,৮৮৫ টাকা এবং অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৮৯.৫০ টাকা থেকে কমিয়ে ৮৬.৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে এলপিজি খাতে নজিরবিহীন অরাজকতা চলছে। বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম আদায় করছেন। মার্চ মাসে নির্ধারিত মূল্য ছিল ১,৩৪১ টাকা। তবে বাজারে ১২ কেজির সিলিন্ডার ১,৮০০ থেকে ২,০০০ টাকায় বিক্রির খবরও রেকর্ড করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল প্রথমবারের মতো এলপিজির দর ঘোষণা করে বিইআরসি। তখন জানানো হয়, সৌদি আরবের কনট্রাক্ট প্রাইস (সিপি) অনুযায়ী ভিত্তিমূল্য প্রতি মাসে সমন্বয় করা হবে। আর কমিশন, জাহাজভাড়া, আমদানিকারক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার কমিশনে পরিবর্তন আনতে হলে গণশুনানির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ওই ঘোষণার পর থেকেই প্রতি মাসে এলপিজির নতুন দর ঘোষণা করে আসছে বিইআরসি।