সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অসত্য তথ্য ছড়িয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা চালানোর বিষয়ে সতর্ক করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিভিন্ন বিরোধকে ধর্মীয় হামলা বলে অপপ্রচারের চেষ্টা করা হয়, যা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে।
এছাড়া চলমান দুর্গোৎসব যেভাবে নিরাপদ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উৎসবও একইভাবে শান্তিপূর্ণ ও আড়ম্বরপূর্ণভাবে উদযাপিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সবাইকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অসত্য তথ্য ছড়িয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, অভ্যন্তরীণ, ছোটখাটো ও ব্যক্তিগত, জায়গা বা পরিচালনা কমিটি-সংক্রান্ত বিরোধকে ধর্মীয় হামলা বলে চালিয়ে অপপ্রচার করার চেষ্টা করা হয়, যা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে।
দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা এবং সব ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব নিরাপদে পালন নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান সাংবিধানিক দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি জানান, আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা এবং তার পর থেকে মাসব্যাপী আয়োজিত কঠিন চীবর দান উৎসবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য করার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও উপাসনা স্বাধীন এবং নিরাপদে পালন করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে।
সরকার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও নাগরিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে দেশের শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আসন্ন প্রবারণা পূর্ণিমা, বিশেষ করে সন্ধ্যায় ফানুস ওড়ানোর উৎসবকে কেন্দ্র করে যেন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পার্বত্য তিন জেলা (খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান) এবং সমতলের পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও রংপুর অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলার ওপর বিশেষ নজর রাখা হবে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
এছাড়া চলমান দুর্গাপূজার নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বডি ওর্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহারসহ অ্যাপভিত্তিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের মনিটরিং সেলের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টা করা হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং কেউ অপকর্ম করে পার পাবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সভায় উপস্থিত বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ প্রবারণা পূর্ণিমার তাৎপর্য, সংযম, মন-চেতনার শুদ্ধি এবং ঐতিহ্যগত ফানুস ওড়ানো ও কঠিন চীবর দানের পবিত্রতা তুলে ধরেন। এ সময় তারা সারা দেশের বৌদ্ধ বিহারগুলোর একটি তালিকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তরের আশ্বাস দেন।
মন্ত্রী জানান, তালিকা পেলে তা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হবে।
এ সময় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ধর্মমিত্র মহাথের, বোধিজ্ঞান ভাবনা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ আসিন জিন রক্ষিত মহাথের, উত্তরা মহাবিহারের অধ্যক্ষ মুদিতাপাল ভিক্ষু এবং ধর্মরাজিক মহাবিহারের উপাধ্যক্ষ স্বরূপানন্দ ভিক্ষুসহ বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।