সরকারি ক্রয়ে আরও স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, সমান আচরণ ও অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
সোমবার (২ নভেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার ২৬তম বৈঠকে খসড়াটির নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিফিংয়ে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি।
সরকারি ক্রয়ের প্রধান আইনি কাঠামো হিসেবে ব্যবহৃত পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬ এ পর্যন্ত ছয়বার সংশোধন করা হয়েছে।
সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর জারি করা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর মাধ্যমে আইনটি সংশোধন করা হয়।
দেশীয় শিল্পের স্বার্থ সুরক্ষা ও ক্রয় কার্যক্রমে আরও বেশি প্রতিযোগিতা সৃষ্টির লক্ষ্যে যুগোপযোগী বিধান যুক্ত করতে অধ্যাদেশটি জারি করা হয়েছিল।
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে নতুন, ক্ষুদ্র ও অতি ক্ষুদ্র, নারী এবং সুবিধাবঞ্চিত দরপত্রদাতাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিশেষ বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আরও ন্যায্যভাবে সম্পদের বণ্টন নিশ্চিত করতে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন এবং সীমিত দরপত্র পদ্ধতির প্রয়োগ বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে এতে।
পেশাগত অসদাচরণ-সংক্রান্ত বিধানগুলো স্পষ্ট করা এবং রাষ্ট্রের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে বিকল্প ক্রয়ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যও রয়েছে খসড়া আইনে।
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়াটি জনমত যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) এবং বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছিল।
সংবিধানের ৯৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ৯৩(১) অনুচ্ছেদের আওতায় কোনো অধ্যাদেশ জারির পর অনুষ্ঠিত সংসদের প্রথম বৈঠকে তা উপস্থাপন করতে হয়।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক বিভাগের যাচাই-বাছাইয়ের শর্তে খসড়া আইনটিতে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।