ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে থামিয়ে দিয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
স্থানীয় সময় শনিবার (৩০ মে) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, গাম্বিয়ার পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ‘লিয়ান স্টার’ একটি ইরানি বন্দরে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। এ সময় মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে ২০টিরও বেশি সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও জাহাজটি সেগুলো উপেক্ষা করে।
সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর জাহাজটির ইঞ্জিনকক্ষে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে সেটিকে থামিয়ে দেওয়া হয়।
এই সামরিক অভিযান সম্পর্কে অবহিত এক মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জাহাজটি বর্তমানে ওমান উপসাগরে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। মার্কিন বাহিনী এখন পর্যন্ত জাহাজটিতে চড়েনি।
সেন্টকম জানিয়েছে, সর্বশেষ এই অভিযানের মাধ্যমে অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা মোট ছয়টি জাহাজকে থামানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজকে গন্তব্যে যেতে দেওয়া হয়। এছাড়া আরও ১১৬টি জাহাজকে অন্য পথে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় এর প্রতিক্রিয়ায় ১৭ এপ্রিল থেকে এই অবরোধ কার্যকর করে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে পাকিস্তানের প্রচেষ্টায় ৭ এপ্রিল থেকে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। বর্তমানে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয় কি না, তা নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছে সব পক্ষ। ওই সময়ের মধ্যে ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং সারসহ সংশ্লিষ্ট পণ্যের বড় অংশের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ভোক্তা ও খাদ্য উৎপাদকদের ওপর চাপ বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধের লক্ষ্য হচ্ছে, ইরানের নিজস্ব রপ্তানি সীমিত করা এবং দেশটির অর্থনীতিতে নগদ অর্থের প্রবাহ আরও কমিয়ে আনা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার তার উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে তিনি এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। ইরান জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো চুক্তি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় অনেক কম হলেও প্রণালিটি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। যদিও ইরান দাবি করে আসছে, এই পথে যেকোনো নৌযান চলাচলের জন্য তাদের অনুমোদন প্রয়োজন।
শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড সতর্ক করে বলেছে, ‘এই বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট জাহাজের নিরাপদ চলাচল গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়বে।’ পাশাপাশি তারা হুঁশিয়ারি দেয়, এ বিষয়ে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা যেকোনো সামরিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
ইরান হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত টোল আদায় করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শান্তিপূর্ণ নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের একটি মৌলিক নীতির পরিপন্থী।
কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী শেখ সৌদ বিন আবদুর রহমান বিন হাসান বিন আলী আল থানি শনিবার বলেন, তারা প্রণালি ব্যবহারে ফি আরোপের বিরোধী। তবে সাময়িকভাবে মাইন অপসারণ বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট কাজে ওই অর্থ ব্যবহার করা হলে তা আলোচনার বিষয় হতে পারে এবং তা হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল পুনরুদ্ধারেও সহায়ক হতে পারে।
এর আগে, একই মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র কোনো মাইন শনাক্ত বা ধ্বংস করতে পারেনি।