যুক্তরাষ্ট্র
বিএনপি ও তারেক রহমানকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিনন্দন
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য বিএনপি এবং দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একইসঙ্গে একটি সফল ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশের জনগণকেও শুভেচ্ছা জানিয়েছে দেশটি।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই শুভাচ্ছে বার্তা জানানো হয়।
বার্তায় বলা হয়েছে, একটি সফল নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন। বিএনপি ও তারেক রহমানকে তাদের ঐতিহাসিক বিজয়ের শুভেচ্ছা। আমাদের দুই দেশের সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার অভিন্ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে আপনাদের সঙ্গে কাজ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী।
১ দিন আগে
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি সই হচ্ছে: বাণিজ্য উপদেষ্টা
আগামীকাল সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বাণিজ্য চুক্তি সই হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। পাশাপাশি পোশাক খাতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনার প্রচেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমান বাণিজ্য পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
উপদেষ্টা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন এই চুক্তির অংশ হিসেবে দেশটির বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে নতুন ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের বিশাল রপ্তানি বাজার (প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা) সুসংহত করতে এবং বাণিজ্যিক ভারসাম্য রক্ষায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বোয়িং থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কিনতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শুরুতে ৪৭টি উড়োজাহাজ বিক্রির প্রস্তাব দিলেও বর্তমান সরকার আপাতত ২৫টি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ সময় তিনি জানান, বাণিজ্য সম্পর্ক সুসংহত করার পাশাপাশি আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক কমানোর চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক খাতে শুল্কহার শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘আমাদের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, যেটা আমরা আলোচনা করে ২০ শতাংশে নামিয়েছিলাম। যদি আমাদের এই চুক্তিটা প্রকাশিত না হতো, আমার নিশ্চিত বিশ্বাস যে আমরা ২০ শতাংশের চেয়েও কম পেতাম। দুঃখজনকভাবে আমরা ওখানে বিব্রত হয়েছি। বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যেখান থেকে চুক্তির শর্তাবলি সারা দুনিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আগামীকাল (৯ ফেব্রুয়ারি) যে চুক্তি হবে, আমরা চেষ্টা করছিলাম শুল্ক আরও কত কমানো যায়। কতটুকু কমবে আমি এই মুহূর্তে বলতে পারছি না বা চাচ্ছি না। আমরা আলোচনার ভিত্তিতে দেখব। আমরা সামগ্রিক শুল্ক কমানোর চিন্তা করছি তা নয়, আমাদের প্রচেষ্টা রয়েছে আমাদের যে মূল পণ্য গার্মেন্টস (তৈরি পোশাক), এই জায়গায় যেন আমাদের শুল্ক শূন্য হয়। আমরা সেই প্রচেষ্টায় এখনও রত রয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ কোটি টাকার রপ্তানি সম্ভাবনা রয়েছে। এটা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এই সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগাতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভোটের মাত্র তিন দিন আগে এমন বড় চুক্তি কেন—এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে উপদেষ্টা বলেন, ‘আগামীতে যারা ক্ষমতায় আসবে, সেই নির্বাচিত সরকারকে বাড়তি চাপমুক্ত রাখতেই অন্তর্বর্তী সরকার এই চুক্তি সম্পন্ন করে যাচ্ছে।’ চুক্তির বিস্তারিত শর্তাবলি স্বাক্ষর শেষে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে বলেও তিনি জানান।
৬ দিন আগে
যুদ্ধ শেষ করতে জুনের মধ্যে চুক্তিতে পৌঁছানোর সময় বেঁধে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র: জেলেনস্কি
প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইউক্রেন ও রাশিয়াকে জুন মাসের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জুনের সময়সীমার মধ্যে শর্ত পূরণ না হলে ইউক্রেন-রাশিয়া উভয় পক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমেরিকানরা প্রস্তাব করছে যে গ্রীষ্মের শুরুতেই যুদ্ধ শেষ না করলে তারা এই সময়সূচি অনুযায়ীই যুদ্ধরত পক্ষগুলোর ওপর চাপ দেবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বলছে যে জুনের মধ্যেই তারা এ বিষয়ে সবকিছু সমাধান করতে চায় এবং যুদ্ধ শেষ করতে যা যা করা প্রয়োজন, তার সবই তারা করার জন্য প্রস্তুত। তারা (যুক্তরাষ্ট্র) মূলত সব ঘটনার একটি স্পষ্ট সময়সূচি চায়।’
তবে স্থানীয় সময় শনিবার সকাল পর্যন্ত তার এ মন্তব্য প্রকাশ করা নিষেধ ছিল।
জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাব করেছে যে পরবর্তী ত্রিপক্ষীয় বৈঠক আগামী সপ্তাহে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে অনুষ্ঠিত হবে। ইউক্রেন সেখানে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে।
সম্প্রতি আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় একটি চুক্তিতে যুদ্ধরত দেশগুলোর অনঢ় অবস্থান দেখে যুদ্ধ অবসানে সময়সীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্র।
ইউক্রেনে লড়াই ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। ডনবাস অঞ্চল থেকে সরে যাওয়ার জন্য রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, যা কিয়েভ কখনোই মেনে নেবে না বলে জানিয়েছে। জেলেনস্কি বলেন, ‘জটিল বিষয়গুলো এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে। আমরা আমাদের অবস্থানেই অটল। আমাদের মতে, আজকের দিনে যুদ্ধবিরতির জন্য এটিই উত্তম পন্থা।’
তবে সবচেয়ে জটিল বিষয়গুলো ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের জন্য সংরক্ষিত থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
৬ দিন আগে
ওমানে পরোক্ষ বৈঠকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, যোগ দিয়েছেন মার্কিন সেনা কর্মকর্তা
তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সিদ্ধান্ত ঠিক করতে ওমানে পরোক্ষ আলোচনা শুরু করেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ ধরনের আলোচনায় প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ওমানের রাজধানী মাসকাটে বহুল প্রতীক্ষিত এই আলোচনা শুরু হয়। এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভবিষ্যতের কূটনৈতিক পথ নির্ধারণ।
আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক শীর্ষ সামরিক কমান্ডার, নৌবাহিনী অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার উপস্থিত ছিলেন। ইউনিফর্ম পরে বৈঠকে হাজির হন তিনি। এ বিষয়টি কূটনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বৈঠকে তার অবস্থান মার্কিন সেনাবাহিনীর শক্তি ও গুরুত্বের ইঙ্গিত দিয়েছে বলে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
মাসকাটে যখন বৈঠক চলছিল, তখন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ও অন্যান্য যুদ্ধজাহাজগুলো আরব সাগরে ইরানের উপকূলে অবস্থান করছিল।
বৈঠকের ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘খুব ভালো’ আলোচনা হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহের শুরুতে আরও কয়েকটি আলোচনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো চুক্তি করতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে এর পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান চুক্তি করতে খুবই আগ্রহী মনে হচ্ছে এবং তাদের আগ্রহী হওয়া উচিত।’ তিনি এ-ও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইরান আগের আলোচনার অপেক্ষাকৃত আরও বেশি কিছু করতে ইচ্ছুক। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি।
তেহরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করতে যুক্তরাষ্ট্র কত সময় অপেক্ষা করতে ইচ্ছুক—সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের সময়ের অভাব নেই। ভেনেজুয়েলার বিষয়টিই দেখুন, তাদের ব্যাপারে আমরা কিন্তু কম সময় অপেক্ষা করিনি! এ ক্ষেত্রেও (ইরান) আমাদের কোনো তাড়া নেই।
গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার আগে ক্যারিবীয় সাগরে মাসের পর মাস ধরে শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি গড়ে তুলেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানকে ট্রাম্পের হুমকি
ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তি করতে বাধ্য করতে একাধিকবার শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। এর আগে ইরানে দেশজুড়ে চলা বিক্ষোভে হাজারো মানুষ নিহত এবং আরও অসংখ্য মানুষ গ্রেপ্তার হন। সে সময় আন্দোলনকারীদের ওপর তেহরানের কঠোর দমন-পীড়নের মাঝেই ইরানের সীমান্তবর্তী উপকূলে বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র।
এসবের পরিপ্রেক্ষিতে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরু হতে পারে এবং সেই যুদ্ধে তারা নিজেরাও জড়িয়ে পড়তে পারে।
ওইসব দেশগুলোর আশঙ্কা অমূলক নয়। শুক্রবার ওমানে বৈঠক শুরু হওয়ার কয়েকদিন আগে ইউএসএস লিঙ্কনের কাছাকাছি চলে যাওয়া একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করে মার্কিন বাহিনী। একই সময়ে হরমুজ প্রণালীতে একটি মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজের গতিরোধের চেষ্টা চালায় ইরান।
পরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা লক্ষ করেছি যে পারমাণবিক আলোচনা এবং মূল বিষয়গুলোর সমাধান অবশ্যই শান্ত, উত্তেজনাহীন ও হুমকিমুক্ত পরিবেশে হওয়া প্রয়োজন।’ তিনি আরও বলেন, ‘যেকোনো সংলাপের পূর্বশর্ত হলো হুমকি এবং চাপ থেকে বিরত থাকা।’
প্রথম পর্বের এই আলোচনা শেষ হয়েছে জানিয়ে আরাগচি বলেন, কূটনীতিকরা নিজ নিজ দেশে ফিরে যাবেন। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন দেশটির মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
৭ দিন আগে
‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ ফুরাচ্ছে, বাড়ছে অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক প্রতিযোগিতার আশঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সর্বশেষ পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’-এর মেয়াদ আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) শেষ হওয়ার কথা। এর মধ্য দিয়ে অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে বিদ্যমান অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির অবসান হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বের দুই বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্র ভাণ্ডারের ওপর আর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকছে না। ফলে নিয়ন্ত্রণহীন একটি নতুন পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার পথ খুলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সীমাহীন অস্ত্র প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, নিউ স্টার্ট (New START) চুক্তির অবসান হলে নিয়ন্ত্রণহীন পারমাণবিক প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এমনকি নিয়ন্ত্রণহীন পারমাণবিক প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা নতুন মাত্রায় পৌঁছাতে পারে, যেখানে চীনের অস্ত্র ভাণ্ডারও যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এ ব্যাপারে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ওয়াশিংটন সম্মত হলে আরও এক বছরের জন্য চুক্তির বিধিনিষেধ মেনে চলতে তিনি প্রস্তুত। তবে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে এখনও সুস্পষ্ট অবস্থান নেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গেল সোমবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর সীমা বজায় রাখতে চান বলে বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। সেইসঙ্গে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনায় চীনকেও তিনি অন্তর্ভুক্ত করতে আগ্রহী। তবে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের সময়সীমা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে চীনের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার তুলনামূলক ছোট হলেও ক্রমেই এর পরিসর বাড়ছে। তবে নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর কোনো বিধিনিষেধ আরোপে বরাবরই আপত্তি জানিয়ে আসছে বেইজিং।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর কোনো সীমা না থাকলে বিশ্ব আরও ‘বিপজ্জনক’ হয়ে উঠবে।
অস্ত্র নিয়ন্ত্রণপন্থীরা দীর্ঘদিন ধরেই ‘নিউ স্টার্ট’-এর মেয়াদ শেষ হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র–রাশিয়ার অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে, যা বিদ্যমান বৈশ্বিক অস্থিরতার পাশাপাশি পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়াবে।
৯ দিন আগে
পর্যবেক্ষক না এলেও নির্বাচনের সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখবে যুক্তরাষ্ট্র: ইসি সচিব
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যবেক্ষক না পাঠালেও নিজ উদ্যোগে, অনানুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন বিষয়ে সার্বিক খোঁজ খবর রাখবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের এক বৈঠক চলাকালে এ আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে আখতার আহমেদ বলেন, তারা আমাদের জানিয়েছেন যে নির্বাচন উপলক্ষে তাদের কোনো পর্যবেক্ষক দল আসবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্বাধীন একটি দল আসবে এবং মার্কিন দূতাবাস থেকে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও খুলনায় নিজ উদ্যোগে, নিজেদের মতো করে তারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যাবেন।
তিনি বলেন, তবে এটি আনুষ্ঠানিক কোনো পরিদর্শন নয়। তারা এমনিতেই দেখতে যাবেন—ভোটের অবস্থাটা কী। এ বিষয়ে আমাদের তাদের ইচ্ছাটা জানিয়েছেন এবং নির্বাচন কমিশন সাদরে তাদের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।
ইসি সচিব বলেন, বৈঠকে তারা নির্বাচনের সার্বিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। এর মধ্যে উনাদের বেশি কৌতুহল ছিল পোস্টাল ব্যালট নিয়ে। আমরা এ বিষয়ে আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে তাদের জানিয়েছি, সেইসঙ্গে নমুনা ব্যালট দেখিয়েছি। তারা বলেছেন যে এটি জটিল, বেশ কষ্টসাধ্য একটি ব্যাপার। তবে তারা আমাদের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের সার্বিক সফলতা কামনা করেছেন।
প্রতিনিধি দলটি নির্বাচনি আচরণবিধি বাস্তবায়ন এবং লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কেও জানতে চান উল্লেখ করেন আখতার আহমেদ। জবাবে নির্বাচন কমিশনে জানিয়েছে, অভিযোগ ব্যবস্থাপনা সেল, তদন্ত কমিটি এবং ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে অভিযোগ মোকাবিলা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত বা বাড়াবাড়ি ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে কি না—এ বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রের দূত জানতে চান। এর জবাবে নির্বাচন কমিশন জানায়, কমিশন পর্যায়ে এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। কোথাও কোনো স্থানীয় সমস্যা থাকলে তা স্থানীয় পর্যায়েই সমাধান করা হয়েছে বলে কমিশন জানিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তারা এটাও জানতে চেয়েছিলেন যে আমরা আমাদের আইনশৃংখলা ব্যবস্থাপনা কী হতে যাচ্ছে। আমরা বলেছি যে আমাদের আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় সাড়ে ৯ লাখ কর্মী বিভিন্ন স্তরে কাজ করবেন।
ইসি সচিব জানান, মার্কিন রাষ্ট্রদূত আমাদের জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে সন্তুষ্ট। তারা একটি সফল নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদী।
উল্লেখ্য, গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশের ওপর গণভোট একযোগে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠানের তফসিল ঘোষণা করে।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, বেগম তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ (অবসরপ্রাপ্ত) এবং মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা ডেভিড মু ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ফিরোজ আহমেদ।
১৭ দিন আগে
হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন ট্রাম্প-সমর্থিত নাসরি আসফুরা
হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন ট্রাম্প-সমর্থিত ব্যবসায়ী নাসরি আসফুরা। শপথ নেওয়ার পর তিনি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অপরাধ দমন এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সেবার মান উন্নয়নের অঙ্গীকার করেছেন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) দেশটির পার্লামেন্ট ভবনে একটি অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে অন্যান্য দেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত না থাকলেও কূটনৈতিক মহল ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
শপথ গ্রহণের পর ৬৭ বছর বয়সী নতুন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমাদের প্রিয় হন্ডুরাসের প্রতিটি প্রান্তে বাস্তব সমাধান পৌঁছে দিতে যে পূর্ণ অঙ্গীকার প্রয়োজন, তা নিয়েই আমি দেশ পরিচালনা করব।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের আগে হন্ডুরাসের এই রক্ষণশীল প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন দেওয়ার পর আসফুরার ক্ষমতায় উত্থান ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। ভোট গ্রহণের পর গণনা শেষ করতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যায়। এরপর ফল ঘোষণায় দেখা যায়, খুব অল্প ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন তিনি। এক শতাংশেরও কম ব্যবধানে জয় পান আসফুরা। নির্বাচনে কারসাজির অভিযোগ তোলেন প্রতিদ্বন্দ্বীরা।
হন্ডুরাস কর্তৃপক্ষ জানায়, আসফুরা ৪০ দশমিক ২৭ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রক্ষণশীল প্রার্থী সালভাদোর নাসরাল্লা পান ৩৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ ভোট। নাসরাল্লা দাবি করে আসছেন, প্রকৃত প্রেসিডেন্ট তিনিই।
মঙ্গলবার আসফুরা বলেন, দক্ষতা বাড়াতে তিনি রাষ্ট্রযন্ত্রের আকার ছোট করবেন এবং দারিদ্র্যপীড়িত জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দেবেন।
১৭ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ বর্জন আন্দোলনে এবার সাবেক ফিফা সভাপতি
গ্রিনল্যান্ড দখলের পায়তারা, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং অভিবাসন নীতির ব্যাপারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের মতো কিছু কারণে সম্প্রতি সমালোচিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ধারাবাহিকতায় দেশটিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ বর্জনে আন্দোলন শুরু হয়েছে। সেই আন্দোলনে এবার যোগ দিয়েছেন সাবেক ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটার।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৬ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ ম্যাচ বর্জনের প্রস্তাবে সমর্থন দেন ব্লাটার। ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আচরণের প্রতিবাদেই এই বর্জনের ডাক দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে ব্লাটার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাগতিক দেশ হওয়ার উপযুক্ততা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে সুইস পত্রিকা ডেয়ার বুন্ড-এ দেওয়া মার্ক পিয়েথের মন্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত বিশ্বকাপ বর্জনের আহ্বান জানান তিনি।
হোয়াইট-কলার অপরাধ (ক্ষমতাসীনদের পেশাগত অবস্থান ব্যবহার করে করা অপরাধ) বিশেষজ্ঞ ও দুর্নীতিবিরোধী সুইস আইনজীবী মার্ক পিয়েথ এক দশক আগে ফিফা সংস্কারের স্বাধীন গভর্ন্যান্স কমিটির তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে ছিলেন। অন্যদিকে, ১৯৯৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ফিফার সভাপতি ছিলেন ব্লাটার। তবে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তের মুখে পদত্যাগ করেছিলেন তিনি।
ডেয়ার বুন্ড-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে পিয়েথ বলেন, ‘আমরা যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি, সবকিছু বিবেচনায় নিলে ভক্তদের জন্য একটাই পরামর্শ—যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরে থাকুন! টেলিভিশনে দেখলেই ভালো। আর সেখানে পৌঁছালে ভক্তদের ধরে নিতে হবে, কর্মকর্তাদের মনঃপূত না হলে সরাসরি পরের ফ্লাইটেই দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে—যদি তারা ভাগ্যবান হন।’
এক্স পোস্টে ব্লাটার পিয়েথের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, ‘এই বিশ্বকাপ নিয়ে প্রশ্ন তোলায় মার্ক পিয়েথ সঠিক বলেই আমি মনে করি।’
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র।
আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে উদ্বেগের কারণ হিসেবে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড ঘিরে দখরদারি অবস্থান, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং অভিবাসন নীতির প্রয়োগবিরোধী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে আগ্রাসী কৌশলের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরেও এসব নিয়ে বিক্ষোভ হচ্ছে।
জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতিদ ওকে গ্যোটলিখ শুক্রবার হামবুর্গার মর্গেনপোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, বিশ্বকাপ বর্জনের বিষয়টি এখন গুরুত্বের সঙ্গে ভাবার সময় এসেছে।
সপ্তাহ দুয়েক আগে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের ওপর ভিসা নেওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে আফ্রিকা মহাদেশের অধিকাংশ দেশের ওপর নেমে আসে এই ‘ভিসা বন্ড’ নীতির খড়গ। এতে করে সেনেগাল ও আইভরি কোস্টের মতো ফুটবল অঙ্গনের প্রভাবশালী দুই দেশের ভক্তদের বিশ্বকাপ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ পরিকল্পনা এলোমেলো হয়ে যায়। ওই দুই দেশের নাগরিকদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিশ্বকাপ উপলক্ষে ভ্রমণের বিষয়ে দেশদুটির নাগরিকদের বলা হয়েছে, আগে থেকে ভিসা না থাকলে নতুন করে কেউ ভিসা পাবে না।
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করলেও একই ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে ইরান ও হাইতির নাগরিকদেরও। ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত প্রথম দফার ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় এই দুই দেশও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
১৮ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে তুষার ঝড়ের প্রভাবে ৩০ জনের মৃত্যু
ভয়াবহ তুষার ঝড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তীব্র ঠান্ডা ও ঝড়ের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দেশটির দুই-তৃতীয়াংশ এলাকায় তাপমাত্রার চরম অবনতি হয়। ঝড়ের কারণে গতকাল দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক তুষারপাত হয়েছে এবং দক্ষিণের বিভিন্ন অঞ্চল তুষারের চাদরে ঢেকে যায়। বহু মানুষ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ভয়াবহ ঠান্ডার মধ্যে রাত কাটাতে বাধ্য হন।
বাতাসের মান নির্ণয়কারী প্রতিষ্ঠান ও দেশটির আবহাওয়া অফিসের প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়, আরকানসাস থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকাজুড়ে ১ ফুটের বেশি তুষারের আস্তরণ জমেছে। এর ফলে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, অসংখ্যক ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায় এবং বেশিরভাগ স্কুলগুলোই বন্ধ হয়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা দপ্তর জানায়, পিটসবার্গের উত্তরের এলাকাগুলোতে কোথাও কোথাও ২০ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষারপাত হয়েছে। সোমবার গভীর রাত থেকে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত বাতাসের সঙ্গে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যেতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, এই প্রচণ্ড শীত শিগগিরিই কমার কোনো লক্ষণ নেই। সোমবার জানানো হয়, নতুন করে আর্কটিক অঞ্চল থেকে হিমশীতল বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় ইতোমধ্যে বরফ ও তুষারে ঢাকা এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা আরও দীর্ঘ সময় ধরে হিমাঙ্কের নিচে থাকবে। এ ছাড়া চলতি সপ্তাহে দেশটির পূর্ব উপকূলে আবারও একটি তুষার ঝড় আঘাত হানতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিউইয়র্ক সিটিতে তীব্র ঠান্ডায় সপ্তাহজুড়ে মোট আটজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ম্যাসাচুসেটস ও ওহাইয়োতে তুষার পরিষ্কারকারী গাড়ির (স্নোপ্লো) চাপায় নিহত দুই ব্যক্তিও রয়েছেন। এছাড়া রয়েছে আরকানসাস ও টেক্সাসে স্লেডিং দুর্ঘটনায় নিহত কয়েকজন কিশোর। সর্বশেষ কানসাসে একটি পানশালার বাইরে এক নারীর মরদেহ তুষারে ঢাকা অবস্থায় পাওয়া যায়।
লাখো মানুষ বিদ্যুৎহীন
সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫ লাখ ৬০ হাজারের বেশি বাড়ি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল বলে জানিয়েছে ‘পাওয়ার আউটেজ ডটকম’। এর মধ্যে বেশিরভাগ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ঘটনাই ঘটেছে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে। সপ্তাহজুড়ে হিমবৃষ্টি ও ঝড়ে গাছের ডাল ভেঙে পড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি করেছে সেখানে। উত্তর মিসিসিপি ও টেনেসির কিছু এলাকায়ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি হয়েছে।
বিদ্যুৎ পরিষেবার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরোপুরি বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হতে কয়েক দিন লেগে যেতে পারে।
১৯৯৪ সালের পর সবচেয়ে ভয়াবহ তুষার ঝড়ের কবলে পড়েছে মিসিসিপি। সেখানকার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খাট, কম্বল, বোতলজাত পানি ও জেনারেটর পাঠাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
মিসিসিপির গভর্নর টেট রিভস জানান, অন্তত ১৪টি বাড়ি, একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ২০টি সরকারি সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
১৮ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে ৮ আরোহীসহ ব্যক্তিগত বিমান বিধ্বস্ত
যুক্তরাষ্ট্রের মেইন অঙ্গরাজ্যে ৮ আরোহী নিয়ে একটি ব্যক্তিগত বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। ঝড়ের কবলে পড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাত পৌনে ৮টার দিকে ব্যাঙ্গর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বোম্বার্ডিয়ার চ্যালেঞ্জার ৬০০ নামের বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) এ তথ্য জানিয়েছে। তবে বিমানের যাত্রীদের অবস্থা সম্পর্কে তারা প্রাথমিকভাবে কোনো তথ্য দিতে পারেনি। এফএএ ও জাতীয় পরিবহন সুরক্ষা বোর্ড দুর্ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করছে।
রবিবার দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে ব্যাঙ্গরেও টানা তুষারপাত হয়। এই মধ্যে নিউ ইংল্যান্ডসহ দেশটির বেশিরভাগ অঞ্চলে রাতে ঝড় হয়। ঝড়ের মধ্যে পড়ে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
এক বিবৃতিতে ব্যাঙ্গর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানটি উড্ডয়নের সময় জরুরি কর্মীরা বিমানবন্দরে ছিলেন। তবে বিমানটি ছেড়ে যাওয়ার পর বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এই বিমানবন্দরটি ওরল্যান্ডো, ফ্লোরিডা, ওয়াশিংটন, ডিসি এবং শার্লট, উত্তর ক্যারোলিনার মতো শহরগুলোতে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। বোস্টন থেকে এটি প্রায় ৩২০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত।
গত সপ্তাহজুড়ে প্রবল ঝড়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলের বেশিরভাগ অংশে শিলাবৃষ্টি এবং তুষারপাত হয়েছে। এর ফলে বহু বিমান ও সড়ক যোগাযোগ বন্ধ করা হয়েছে এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অসংখ্য বাড়িঘর এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে দেশটির বেশিরভাগ অংশে বাণিজ্যিক বিমান চলাচলও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
বিমানের ফ্লাইট শনাক্তকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটওয়্যার ডটকমের তথ্য অনুসারে, রবিবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১২ হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং আরও অন্তত ২০ হাজার ফ্লাইট ছাড়তে দেরি হয়েছে। ঝড়ের কারণে ফিলাডেলফিয়া, ওয়াশিংটন, বাল্টিমোর, উত্তর ক্যারোলিনা, নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সির বিমানবন্দরগুলোতেও দৈনন্দিন কার্যক্রম প্রভাবিত হয়েছে।
বোম্বার্ডিয়ার চ্যালেঞ্জার ৬০০ হলো একটি চওড়া আকৃতির ব্যবসায়িক জেট বিমান যা ৯ থেকে ১১ জন যাত্রীর জন্য তৈরি। এটি ১৯৮০ সালে ওয়াক-অ্যাবাউট কেবিনসহ প্রথম ব্যক্তিগত জেট হিসেবে চালু হয় এবং এয়ারচার্ট সার্ভিস ডটকমের তথ্য অনুসারে, এটি বর্তমানে একটি জনপ্রিয় ব্যক্তিগত বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
১৯ দিন আগে