যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রে উৎসবে বন্দুক হামলায় অন্তত ১২ জন গুলিবিদ্ধ
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইয়োতে একটি জনাকীর্ণ উৎসবের কাছে ভয়াবহ এক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১২ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (৬ জুন) লাইভ মিউজিক ও বাড়ি পরিদর্শনের বার্ষিক আয়োজন ‘ওল্ড ওয়েস্ট এন্ড ফেস্টিভ্যালের’ কাছাকাছি এলাকায় এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
গুলির শব্দে উৎসবমুখর পরিবেশ মুহূর্তেই আতঙ্কে রূপ নেয়; কেউ কেউ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন, আবার অনেকে আহতদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন।
ঘটনার বেশ কয়েক ঘণ্টা পরও কোনো সন্দেহভাজনকে আটক করা যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় টলেডো পুলিশের ডেপুটি চিফ জো হেফার্নান। সেই সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে কোনো ছবি বা ভিডিও থাকলে, তা তদন্তের স্বার্থে পুলিশকে দিয়ে সহায়তা করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
হেফার্নান জানান, প্রাথমিক তদন্তে মনে হয়েছে, অন্তত দুজন ব্যক্তি গুলি ছুড়েছেন। তারা সম্ভবত একে অপরকে লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছিলেন।
আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। ভুক্তভোগীদের বয়স ১৪ থেকে ৬১ বছরের মধ্যে, তবে তাদের বেশিরভাগেরই বয়স ২০ থেকে ২৫ বছরের কাছাকাছি বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ ঘটনার পর এক বিবৃতিতে ওহাইয়োর গভর্নর মাইক ডিওয়াইন বলেছেন, ‘আজ রাতে টলেডোর পরিস্থিতি নিয়ে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। গ্রীষ্মকালীন উৎসবগুলো পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য একটি নিরাপদ স্থান হওয়া উচিত, যেখানে কোনো সহিংসতার ভয় থাকবে না।’
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে, গুলির শব্দ শুনে মানুষ দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করছেন। আরেক ভিডিওতে জরুরি বিভাগের কর্মীদের আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে দেখা যায়।
ফায়ার চিফ অ্যালিসন আর্মস্ট্রং জানান, রাস্তা বন্ধ থাকা এবং উৎসব ছেড়ে ঘরে ফিরে যাওয়া মানুষের গাড়ির ভিড়ের কারণে শুরুর দিকে হাসপাতালে পৌঁছানো বেশ কষ্টকর ছিল। তবে জরুরি উদ্ধারকর্মীরা এক ঘণ্টার মধ্যেই সব রোগীকে ঘটনাস্থল থেকে হাসপাতালে স্থানান্তর করতে সক্ষম হয়েছেন।
কেভিন বেরি নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী বন্ধুদের সঙ্গে উৎসবস্থলের একটি উদ্যানে বসে গান শুনছিলেন। ঠিক তখনই তিনি বেশ কয়েকটি গুলির শব্দ শুনতে পান বলে জানান।
তার ভাষ্যে, ‘গুলির শব্দ শোনামাত্রই সবাই মাটিতে শুয়ে পড়েন। এরপর যখন মাথা তুলে তাকাই, তখন দেখি যে আমার থেকে ৫০ ফুটেরও কম দূরত্বে একটি বন্দুক মাটিতে ছুড়ে ফেলা হচ্ছে। উৎসবে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তারা সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে উপস্থিত হন।’
নৌবাহিনীতে কাজের অভিজ্ঞতা এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কারও সাহায্যের প্রয়োজন আছে কি না, তা দেখতে এগিয়ে যান বেরি। সে সময় তিনি অন্তত পাঁচজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন বলে জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘যারা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তারা উদ্যান এলাকার বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলেন।’
টলেডোর ঐতিহাসিক জেলায় অনুষ্ঠিত ‘ওল্ড ওয়েস্ট এন্ড ফেস্টিভ্যাল’ মূলত দুই দিনব্যাপী একটি উৎসব। যেখানে লাইভ মিউজিক, খাবারের দোকান, ঘর সাজানোর প্রদর্শনী ও কেনাকাটার ব্যবস্থা থাকে। বেরি এটিকে ‘টলেডোর গ্রীষ্মকালীন উৎসব মৌসুমের আনুষ্ঠানিক সূচনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
শহরের নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক জর্জ ক্রাল জানিয়েছেন, উৎসবটি সপ্তাহের বাকি সময় চালু রাখা হবে কিনা, তা নিয়ে আয়োজকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, এটি টলেডোর অন্যতম একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসব। অত্যন্ত দুঃখজনক যে, এমন একটি ঘটনা পুরো আয়োজনটি নষ্ট করে দিল।
৮ দিন আগে
৩৯ দেশের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি আদালতে বাতিল
৩৯টি দেশের অভিবাসীদের ওপর প্রভাব ফেলা ট্রাম্প প্রশাসনের একটি অভিবাসন নীতি বাতিল করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক। ওই নীতির ফলে বহু দেশের অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান ও প্রবেশ কঠিন হয়ে পড়েছিল।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৫ মে) এক শুনানিতে প্রধান জেলা বিচারক জন ম্যাককনেল জুনিয়র ওই নীতিটি বাতিল করে রায় দেন।
রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই নীতি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অগণিত অভিবাসীদের জীবনকে ‘অনির্দিষ্ট আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যে’ ফেলে দিয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) আইন উপেক্ষা করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রায়ে বিচারক বলেন, ইউএসসিআইএস এমন আইনি ও নিয়ন্ত্রক ক্ষমতার দাবি করেছে, যা তাদের নেই। পাশাপাশি তারা প্রয়োজনীয় যৌক্তিক ব্যাখ্যা ছাড়াই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং আবেদনকারীদের স্বার্থ বিবেচনা করেনি। জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে সংস্থাটি এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, যা প্রকৃতপক্ষে অভিবাসীবিরোধী মনোভাবকে আড়াল করে।
তিনি বলেন, আইনের ভাষায় ইউএসসিআইএসের এসব পদক্ষেপ বেআইনি, খামখেয়ালি ও অযৌক্তিক।
তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস)।
গত বছর দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যের ওপর হামলার ঘটনার পর প্রণীত ওই নীতির আওতায় আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের ৩৯টি দেশের অভিবাসীদের আশ্রয়, কাজের অনুমতি, গ্রিন কার্ড ও নাগরিকত্বসহ বিভিন্ন আবেদনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি কার্যত স্থগিত রাখা হয়েছিল।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী সংগঠন ডেমোক্রেসি ফরোয়ার্ডের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্কাই পেরিম্যান বলেন, ‘এই রায় একটি মৌলিক নীতিকে পুনর্ব্যক্ত করেছে—ফেডারেল সরকার আইনি অভিবাসন পথ বন্ধ করতে পারে না বা মানুষ কোথা থেকে এসেছে তার ভিত্তিতে বৈষম্য করতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘এসব অবৈধ নীতি দেশজুড়ে পরিবার, কর্মী, আশ্রয়প্রার্থী এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ব্যাপক ক্ষতি করেছে। তারা প্রত্যেকে এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে আটকা পড়েছিলেন; কাজ করতে পারছিলেন না, আইনি সুরক্ষা পাচ্ছিলেন না এবং নিজেদের জীবন নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতেও পারছিলেন না।’
ইউএসসিআইএস যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত আবেদন অনুমোদনের দায়িত্বে রয়েছে। সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ব্যক্তিদের আশ্রয় আবেদনও মঞ্জুর করে থাকে। তবে সীমান্তে আটক ব্যক্তিদের আশ্রয় আবেদনের বিষয়ে অভিবাসন বিচারকেরা সিদ্ধান্ত দেন। ফলে বর্তমান রায় তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
আমেরিকান ইমিগ্রেশন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শেভ দালাল-ধেইনি বলেন, এই রায়ের ফলে শুধু মামলার বাদীরা নন, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাভুক্ত দেশগুলোর ইউএসসিআইএসে বিচারাধীন সব আবেদনকারী উপকৃত হবেন।
তিনি বলেন, ‘আইনি অভিবাসনের পথগুলো যেন খোলা থাকে এবং ইউএসসিআইএস যেন কংগ্রেসের দেওয়া নির্দেশ অনুযায়ী আবেদনগুলো নিষ্পত্তির দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে, তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিজয়।’
ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও অভিবাসনের মানদণ্ড কঠোর করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সমালোচকদের মতে, এসব পদক্ষেপ বিভিন্ন দেশের মানুষের জন্য অন্যায্য ভ্রমণ ও অভিবাসন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে।
থ্যাঙ্কসগিভিংয়ের ছুটির মধ্যে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সেনাকে গুলি করার ঘটনায় একজন আফগান নাগরিককে গ্রেপ্তারের পর প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছিল যে তারা এই নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়াবে।
মামলাটি খারিজ করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে একটি আবেদন করা হয়েছিল। সরকার তাদের আবেদনে যুক্তি দিয়েছিল, অভিবাসন নীতির ক্ষেত্রে কংগ্রেস নির্বাহী শাখাকে ব্যাপক ক্ষমতা দিয়েছে। এর মধ্যে বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং বিভিন্ন সুবিধা প্রদান বা প্রত্যাহারের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত। তবে আদালত সেই আবেদন নাকচ করে দেয়।
রায়ের পর অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।
ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের সভাপতি জামাল আবদি বলেন, ‘এই রায় একটি শক্তিশালী নজির স্থাপন করল যে প্রশাসন কংগ্রেসের তৈরি করা আইনকে উপেক্ষা করতে পারে না এবং ডিক্রি জারির মাধ্যমে জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসন সুবিধাগুলোকে খামখেয়ালিভাবে বন্ধ করতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘সৌভাগ্যবশত এটি এখনও আইনের দেশ এবং যারা আমেরিকার মূল্যবোধকে ধারণ করেন, তাদের এই ধরনের বৈষম্যমূলক ও স্বেচ্ছাচারী নীতিকে চ্যালেঞ্জ করার এবং প্রতিহত করার অধিকার রয়েছে।’
আফগান পুনর্বাসন সহায়তা জোট আফগানইভ্যাকের (#AfghanEvac) প্রধান ও মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক সদস্য শন ভ্যানডাইভার বলেন, ‘টি আইনের শাসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের হাজারো আফগান মিত্রসহ অন্যান্য অভিবাসীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজয়।’
ভ্যানডাইভার বলেন, ‘এই সপ্তাহেই ডালাস ও ফোর্ট ওর্থে আমরা এমন মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি, যারা কাজের অনুমতি নবায়নে বিলম্বের কারণে চাকরি হারানোর আশঙ্কায় ছিলেন। অনেক পরিবার তাদের শিক্ষা, ভ্রমণ এবং বাড়ি কেনার পরিকল্পনা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছিল, কারণ তারা জানত না যে তাদের আবেদন কবে নিষ্পত্তি হবে। এমনকি নাগরিকত্ব পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা অনেকের আবেদনও কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে ছিল।’
১০ দিন আগে
বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের
জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশসহ অন্তত ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মঙ্গলবার (২ জুন) এক ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর) এই প্রস্তাব প্রকাশ করেছে।
সংস্থাটির দাবি, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় পরিচালিত তদন্তে দেখা গেছে, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করা বা কার্যকরভাবে তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টি করছে এবং মার্কিন শ্রমিকদের জন্য অসম প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করছে।
এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে ইউএসটিআর।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, ‘আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদাররা জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি বন্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। এতে মার্কিন শ্রমিকরা বৈশ্বিক বাজারে অসাম্য প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আর এই বৈষম্য মেনে নেব না। কিছু দেশ ইউএসএমসিএ এবং পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় প্রাথমিক পদক্ষেপ নিলেও জোরপূর্বক শ্রমকে উৎসাহিত ও স্থায়ী করে তোলে—এমন বাণিজ্যিক পরিবেশ রোধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।’
ইউএসটিআরের প্রস্তাব অনুযায়ী, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করেছে, অথবা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাদের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
অন্যদিকে, বাকি দেশগুলোর পণ্যের ওপর অতিরিক্ত সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ছাড়া নির্দিষ্ট কিছু দেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্রপণ্যের জন্য একটি বিশেষ ব্যবস্থা প্রস্তাব করা হয়েছে, যার আওতায় নির্ধারিত পরিমাণ আমদানি কম হারের শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে।
ইউএসটিআর জানিয়েছে, প্রস্তাবিত পদক্ষেপ নিয়ে জনমত গ্রহণের জন্য আগামী ৭ জুলাই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। শুনানিতে অংশ নিতে আগ্রহীদের ২২ জুনের মধ্যে আবেদন ও সাক্ষ্যের সারসংক্ষেপ জমা দিতে হবে। লিখিত মতামত জমা দেওয়ার শেষ সময় ৬ জুলাই।
চলতি বছরের ১২ মার্চ ইউএসটিআর স্বপ্রণোদিত হয়ে ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে জনমত গ্রহণ ও প্রকাশ্য শুনানির আয়োজন করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৬০ জন সাক্ষীর বক্তব্য এবং ৫০০টির বেশি পাল্টাপাল্টি মন্তব্য গ্রহণ করা হয়।
তদন্ত শেষে ইউএসটিআর সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, সংশ্লিষ্ট প্রতিটি দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করা এবং সেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে।
বাংলাদেশসহ ৫৪টি এমন দেশ চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করার ব্যবস্থা গ্রহণেই ব্যর্থ হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, চীন, জাপান, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আরও অনেক দেশ।
অন্যদিকে কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান ও ইকুয়েডরকে এমন দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
ইউএসটিআরের মতে, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ ও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা বৈশ্বিকভাবে শ্রম শোষণ নির্মূলের প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে। একই সঙ্গে এটি জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কম খরচে উৎপাদনের সুযোগ দিয়ে বাজারে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য নষ্ট করে এবং শ্রম মানদণ্ড মেনে চলা প্রতিষ্ঠানগুলোর লাভজনকতা কমিয়ে দেয়।
এ ছাড়া এই ব্যর্থতা মার্কিন বাজার ও রপ্তানি বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদকদের জন্য অন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৩ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে একাধিক গাড়ির সংঘর্ষে ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাসচালকের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৯ মে) রাত আড়াইটার দিকে ভার্জিনিয়ার স্ট্যাফোর্ড কাউন্টিতে ইন্টারস্টেট ৯৫ মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থলে গাড়িতে চড়ে একটি পরিবার ম্যাসাচুসেটস থেকে দক্ষিণ ক্যারোলিনায় বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিল। এ দুর্ঘটনায় ওই পরিবারের ৪ সদস্যই নিহত হয়েছেন।
ক্যারোলিনা বুবলিক নামের ওই পরিবারের এক সদস্য বলেন, দক্ষিণ ক্যারোলিনায় নির্ধারিত বিয়ের অনুষ্ঠানটি রবিবার অনুষ্ঠিত হওয়া কথা ছিল। তবে আনন্দের এই আয়োজনের মধ্যেই দিমিত্রি ও একাতেরিনা দোনচেভ এবং তাদের দুই সন্তান এমিলি ও মার্কের মৃত্যুতে আমাদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা খুব প্রিয় মানুষদের হারিয়েছি। পুরো একটি পরিবারকে হারিয়ে ফেললাম। তারা আমাদের খুব কাছের মানূষ ছিল।’
পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার রাত প্রায় ২টা ৩৫ মিনিটে ভার্জিনিয়ার স্ট্যাফোর্ড কাউন্টিতে আন্তঃরাজ্য ৯৫ মহাসড়কে সড়ক মেরামতকাজ চলায় সেখানে কয়েকটি গাড়ি ধীরগতিতে চলছিল। এ সময় একটি মোটরকোচ বাস গাড়িগুলোর মধ্যে ঢুকে পড়ে। এর ফলে একাধিক গাড়ির সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষ ঘটে।
পুলিশ আরও জানায়, বাসটি প্রথমে একটি শেভ্রোলেট গাড়িকে ধাক্কা দেয়। এ দুর্ঘটনায় শেভ্রোলেট গাড়িতে থাকা ম্যাসাচুসেটসের উরচেস্টারের বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী প্রিসিলা মাফালদাও নিহত হন। পরে সেটি গিয়ে দোনচেভ পরিবারের গাড়িটিকে আঘাত ধাক্কা দেয়। এতে তাদের পরিবারের ৪ জন নিহত হন।
মেরি ওয়াশিংটন হেলথকেয়ার জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে আহতদের বেশিরভাগকে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় বাসচালক ৪৮ বছর বয়সী জিং এস. দংয়ের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি নিউইয়র্কের স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের বাসিন্দা। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ যুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্ট্যাফোর্ড কাউন্টির প্রসিকিউটরদের কার্যালয় জানিয়েছে, বাসচালক জিং এস দংকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত হওয়ায় হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি পুলিশি হেফাজতেই থাকবেন।
মামলার প্রসিকিউটররা এক বিবৃতিতে জানান, হাসপাতাল থেকে ছাড়া না পাওয়া পর্যন্ত দংয়ের প্রথম আদালতে হাজিরার তারিখ নির্ধারণ করা হবে না। এরই মধ্যে একজন ম্যাজিস্ট্রেট তাকে জামিন না দিয়ে হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দং যে অবহেলায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন, তার যথেষ্ট প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারীরা।
১৫ দিন আগে
অবরোধ ভাঙার চেষ্টা: বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে থামিয়ে দিয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
স্থানীয় সময় শনিবার (৩০ মে) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, গাম্বিয়ার পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ‘লিয়ান স্টার’ একটি ইরানি বন্দরে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। এ সময় মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে ২০টিরও বেশি সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও জাহাজটি সেগুলো উপেক্ষা করে।
সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর জাহাজটির ইঞ্জিনকক্ষে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে সেটিকে থামিয়ে দেওয়া হয়।
এই সামরিক অভিযান সম্পর্কে অবহিত এক মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জাহাজটি বর্তমানে ওমান উপসাগরে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। মার্কিন বাহিনী এখন পর্যন্ত জাহাজটিতে চড়েনি।
সেন্টকম জানিয়েছে, সর্বশেষ এই অভিযানের মাধ্যমে অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা মোট ছয়টি জাহাজকে থামানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজকে গন্তব্যে যেতে দেওয়া হয়। এছাড়া আরও ১১৬টি জাহাজকে অন্য পথে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় এর প্রতিক্রিয়ায় ১৭ এপ্রিল থেকে এই অবরোধ কার্যকর করে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে পাকিস্তানের প্রচেষ্টায় ৭ এপ্রিল থেকে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। বর্তমানে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয় কি না, তা নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছে সব পক্ষ। ওই সময়ের মধ্যে ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং সারসহ সংশ্লিষ্ট পণ্যের বড় অংশের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ভোক্তা ও খাদ্য উৎপাদকদের ওপর চাপ বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধের লক্ষ্য হচ্ছে, ইরানের নিজস্ব রপ্তানি সীমিত করা এবং দেশটির অর্থনীতিতে নগদ অর্থের প্রবাহ আরও কমিয়ে আনা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার তার উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে তিনি এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। ইরান জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো চুক্তি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় অনেক কম হলেও প্রণালিটি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। যদিও ইরান দাবি করে আসছে, এই পথে যেকোনো নৌযান চলাচলের জন্য তাদের অনুমোদন প্রয়োজন।
শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড সতর্ক করে বলেছে, ‘এই বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট জাহাজের নিরাপদ চলাচল গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়বে।’ পাশাপাশি তারা হুঁশিয়ারি দেয়, এ বিষয়ে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা যেকোনো সামরিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
ইরান হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত টোল আদায় করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শান্তিপূর্ণ নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের একটি মৌলিক নীতির পরিপন্থী।
কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী শেখ সৌদ বিন আবদুর রহমান বিন হাসান বিন আলী আল থানি শনিবার বলেন, তারা প্রণালি ব্যবহারে ফি আরোপের বিরোধী। তবে সাময়িকভাবে মাইন অপসারণ বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট কাজে ওই অর্থ ব্যবহার করা হলে তা আলোচনার বিষয় হতে পারে এবং তা হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল পুনরুদ্ধারেও সহায়ক হতে পারে।
এর আগে, একই মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র কোনো মাইন শনাক্ত বা ধ্বংস করতে পারেনি।
১৬ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে আবাসিক ভবনে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ নিহত ৩
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে গ্যাস বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ডে এক শিশুসহ অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৫ জন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৮ মে) টেক্সাসের ডালাস শহরের কেন্দ্রস্থলের দক্ষিণে ওক ক্লিফ এলাকার একটি দোতলা আবাসিক ভবনে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
গ্যাস লিকের খবর পেয়ে দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই বিস্ফোরণটি ঘটে বলে জানিয়েছে ডালাস অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার কর্তৃপক্ষ।
ডালাস অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার বিভাগের মুখপাত্র জেসন ইভানস জানান, এ ঘটনায় আহত হয়ে আরও অন্তত পাঁচজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ওই ভবনে কতজন বাসিন্দা ছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ভবনটিতে আগুন লাগার পর অনেক দূর থেকেও বিশাল কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।
ইভানস জানান, ভবনটির ধ্বংসস্তূপে দমকলকর্মীরা এখনও তল্লাশি চালাচ্ছেন। সেখানে আরও হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলের অর্ধেকেরও কম অংশে অনুসন্ধান চালাতে পেরেছেন। এই ভবনের কিছু অংশ সরাতে উদ্ধারকর্মীরা খননযন্ত্রও ব্যবহার করবেন বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ভবনটিতে ভয়াবহ মাত্রায় আগুন লেগেছিল।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অসংখ্য দমকলকর্মী কাজ করছেন। ধোঁয়া ওঠা ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি পুড়ে যাওয়া ভবনের ধ্বংসাবশেষে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে।
ডালাস অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার বিভাগের সহকারী প্রধান জেমস রাস বলেন, ‘ভবনে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে আমাদের সদস্যরা এখনও ঘটনাস্থলে প্রাথমিক অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন।’
এ ঘটনায় প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস এনার্জি এক বিবৃতিতে জানায়, দমকল বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের জানিয়েছেন যে কোম্পানির সঙ্গে সম্পর্কহীন একটি নির্মাণকর্মী দল ঘটনাস্থলের কাছাকাছি একটি গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কোম্পানির কর্মকর্তারা তদন্তকারীদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে কাজ করছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
ভবনটির বাসিন্দা ক্যাসি প্রোক্টর বলেন, বিস্ফোরণের এক দিন আগে তার মা ঘরের ভেতরে গ্যাসের গন্ধ পেয়েছিলেন। তবে তখন বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
তিনি জানান, বিস্ফোরণের সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। তবে তার পোষা বিড়াল শার্ল ভবনের ভেতরে আটকে পড়েছে।
প্রোক্টর বলেন, ‘আমি কয়েক ঘণ্টা ধরে এখানে বসে কাঁদছি। কী করব বুঝতে পারছি না। এই মুহূর্তে আমার কাছে গায়ে থাকা এই কাপড় ছাড়া আর কিছু নেই।’
অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার কর্তৃপক্ষ কাছের একটি হাইস্কুলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করেছে।
১৮ দিন আগে
ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের সঙ্গে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য আলোচনা শুরু হওয়ার মধ্যেই নতুন করে দেশটির ওপর হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ মে) মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, হরমুজ প্রণালির আশপাশে হুমকি তৈরি করা ইরানের চারটি একমুখী হামলাকারী ড্রোন ভূপাতিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বাহিনী। এছাড়া পঞ্চম একটি ড্রোন উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল—এমন অভিযোগে ইরানের বন্দর আব্বাস এলাকায় একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনেও হামলা চালায় তারা।
সোমবার দক্ষিণ ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও মাইন পেতে রাখা নৌযানে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলা চালানোর পর এবার নতুন করে এই সামরিক পদক্ষেপ নিল যুক্তরাষ্ট্র।
পেন্টাগন জানিয়েছে, চলমান নাজুক যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই সংযতভাবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এর আগে, স্থানীয় সময় বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান প্রায় তিন মাসের সংঘাত নিরসনে তার প্রশাসন অগ্রগতি অর্জন করছে। তবে আলোচনা এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
ট্রাম্প মূলত এমন একটি সমঝোতা চান যার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হবে এবং তিনি দাবি করতে পারবেন যে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করা গেছে। রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিকভাবে অজনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই সংঘাতের ইতি টানতেও তিনি আগ্রহী।
তবে, সম্ভাব্য চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে ইতোমধ্যে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। এমনকি তার নিজ দলের কয়েকজন সমর্থকও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এতে ইরানের কট্টরপন্থি নেতৃত্ব দুর্বল হলেও আরও সাহসী হয়ে উঠতে পারে।
অবশ্য নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ইরান নীতিতে এর কোনো প্রভাব নেই বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘তারা ভেবেছিল, আমাকে অপেক্ষায় রেখে দেবে। বলছিল, তার তো মধ্যবর্তী নির্বাচন আছে, কিন্তু আমি মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে ভাবি না।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তারা চায় একটি চুক্তি হোক, তা খুব করে চায়। তবে এখনও সেখানে (চুক্তির বিষয়ে সমঝোতায়) পৌঁছানো যায়নি। বিষয়টিতে আমরা সন্তুষ্ট নই, তবে হব; নতুবা আমাদের কাজ শেষ করতে হবে।’
সম্ভাব্য সমঝোতার বিভিন্ন শর্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এখনও মতপার্থক্য রয়েছে। রিপাবলিকান সিনেটর রজার উইকার, লিন্ডসে গ্রাহাম ও টেড ক্রুজসহ ট্রাম্পের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ মিত্র প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানিয়েছেন যে, আলোচনায় উঠে আসা শর্তগুলো তেহরানের জন্য অতিরিক্ত সুবিধাজনক হতে পারে।
তাদের অভিযোগ, সম্ভাব্য এই চুক্তির কিছু অংশ সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে হওয়া পারমাণবিক চুক্তির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যা ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে বাতিল করেছিলেন।
সম্ভাব্য সমঝোতা অনুযায়ী, তেহরান তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ করবে এবং এর বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক দুই কর্মকর্তা ও ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
এক কর্মকর্তা জানান, ৬০ দিনের আলোচনায় ঠিক হবে কীভাবে ইরান ইউরেনিয়াম ছাড়বে। ইউরেনিয়ামের কিছু অংশ পাতলা করা হতে পারে এবং বাকি অংশ তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো হতে পারে।
তবে ট্রাম্প বুধবার বলেন, রাশিয়া বা চীনের কাছে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর নিয়ে তিনি ‘স্বস্তিবোধ করবেন না’।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তথ্যমতে, ইরানের কাছে বর্তমানে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় সমৃদ্ধ ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা অস্ত্রমানের ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় পৌঁছাতে খুব অল্প প্রযুক্তিগত ধাপ দূরে। তবে ইরান এখনও প্রকাশ্যে এই ইউরেনিয়াম ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
১৮ দিন আগে
আজকের মধ্যেই ইরান সংঘাত নিয়ে ‘দৃঢ় চুক্তি’ সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা রুবিওর
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকদের কাছে বর্তমানে চলমান সংঘাতের ‘ভালো একটি প্রস্তাব’ রয়েছে এবং আজকের (সোমবার) মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
সোমবার (২৫ মে) ভারত সফরকালে রুবিও বলেন, ‘আমরা এখনও এ বিষয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচকদের এই চুক্তির জন্য ‘তাড়াহুড়া না করার’ নির্দেশ দেওয়ার পর রুবিও এই মন্তব্য করলেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি। অবশ্য ট্রাম্প নিজেই আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে চুক্তিটি সম্পাদন হওয়ার খুব কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে।
খবর অনুযায়ী, এই চুক্তির মধ্যে রয়েছে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী আলোচনার একটি পরিকল্পনা।
চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক খবরে আজ (সোমবার) বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেশ কমে গেছে এবং এশিয়ার শেয়ার বাজারগুলোর সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
নয়া দিল্লিতে রুবিও বলেন, ‘আমরা এখনও এ চুক্তির বিষয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আপনারা জানেন যে আমি বলেছিলাম, গতরাতেই হয়তো কোনো খবর পাব। তবে আজ পেতে পারি।’
হরমুজ প্রণালির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় তাদের প্রণালিটি খুলে দেওয়ার সামর্থ্যের ব্যাপারে আমাদের কাছে বেশ ভালো একটি প্রস্তাব রয়েছে।’ উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ, যা দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল এবং তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হয়। ইরান এটি অবরুদ্ধ করে রেখেছিল।
তবে, এ নিয়ে এখনই ‘অতিরিক্ত কিছু না ভাবার’ জন্য সতর্ক করে রুবিও বলেন, ‘ইরানের কাছ থেকে উত্তর আসতে কিছুটা সময় লাগবে।’
এদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা, ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি কোনো এক অজ্ঞাত স্থানে লুকিয়ে আছেন। এর ফলে তার প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও আলোচনা ধীরগতিতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই গত সপ্তাহের জানিয়েছিলেন, দুই পক্ষই চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছানোর ক্ষেত্রে একইসঙ্গে ‘খুব কাছে এবং আবার খুব দূরে’ অবস্থান করছে।
মার্কিন গণমাধ্যমের মতে, এই চুক্তিটি কোনো চূড়ান্ত সমাধান নয়, বরং ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পরিধি ও সময়সীমা, ইরানের অবরুদ্ধ করে রাখা তহবিল মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণে ওয়াশিংটনের দাবির মতো কিছু জটিল বিষয় পরবর্তীতে আলোচনার জন্য তুলে রাখা হচ্ছে।
এই প্রস্তাবিত চুক্তিটি ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের মধ্যেই বিভেদ তৈরি করেছে। দলটির কিছু সদস্য প্রকাশ্যে যুক্তি দিচ্ছেন যে এটি ইরানের প্রতি অতিরিক্ত শৈথিল্য দেখানো হয়ে যাচ্ছে।
সিনেটর টেড ক্রুজ বলেছেন, এটি হবে একটি ‘বিপর্যয়কর’ ভুল। অন্যদিকে, সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান রজার উইকার বলেন, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির অর্থ হবে, অপারেশন এপিক ফিউরির মাধ্যমে যা কিছু অর্জিত হয়েছে, তার সব বৃথা হওয়া।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামও এমন যেকোনো চুক্তির সমালোচনা করেছেন, যার ফলে ইরান এই অঞ্চলে একটি প্রভাবশালী শক্তি হিসেবেই রয়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘এতে মনে প্রশ্ন জাগে, তাহলে যুদ্ধটা শুরু হয়েছিলই বা কেন?’
এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি সেইসব হেরে যাওয়া মানুষদের কথা শোনেন না, যারা নিজেরা কিছু না জেনেও সমালোচনা করে। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘আমি যদি ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি করি, তবে সেটি একটি ভালো এবং যথাযথ চুক্তিই হবে।’
তবে সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতি হলেও, এই চুক্তির প্রভাব এখনই সরাসরি দেখা যাবে না।
ভেসপুচ্চি মেরিটাইমের প্রধান নির্বাহী এবং শিপিং কোম্পানি মার্সকের সাবেক পরিচালক লার্স জেনসেন বিবিসি রেডিও ৪-এর 'টুডে' অনুষ্ঠানে বলেন, শিপিং শিল্পের সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ শৃঙ্খল সংকটের আগের অবস্থায় সশরীরে ফিরে যেতে আরও কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে।
তিনি বিষয়টির ব্যাখ্যা করেন এভাবে, আগামী দিনগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো চুক্তি ঘোষণা করা হলেও, এই শিল্প খাতটি কোনো ‘বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক বা পরিচালনগত পরিবর্তন’ আনার ক্ষেত্রে এখনও ‘সতর্ক এবং দ্বিধাগ্রস্ত’ থাকবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালায় এবং কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এই পদক্ষেপের কারণে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম হু হু করে বেড়ে গিয়েছিল।
এপ্রিলের শুরুতে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে, যা সম্পর্কে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘একটি চুক্তি চূড়ান্ত, প্রত্যয়িত এবং স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত এটি পূর্ণ শক্তিতে বহাল থাকবে।’ রবিবারের ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প আবারও পুনর্ব্যক্ত করেন যে ইরানকে ‘অবশ্যই বুঝতে হবে’ যে তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। তবে তেহরান বারবার বলে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে।
মার্কিন গণমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনে আভাস দেওয়া হয়েছে, এই চুক্তির আওতায় ইরান শেষ পর্যন্ত তাদের উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে রাজি হতে পারে।
ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধ শুরুর সময় ইরানের কাছে প্রায় ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম ছিল যা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ। এই স্তর থেকে অস্ত্রের উপযোগী ৯০ শতাংশ মাত্রার সমৃদ্ধকরণে পৌঁছাতে আর অল্প কিছু সময়ের প্রক্রিয়াই বাকি থাকে, যা দিয়ে হিসাব অনুযায়ী একটি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেছেন, ‘ইরান বিশ্বকে এই নিশ্চয়তা দিতে প্রস্তুত যে আমরা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চাচ্ছি না।’
২১ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা উপেক্ষা করে জলবায়ু সংকটবিষয়ক আইসিজে মতামতের পক্ষে জাতিসংঘের প্রস্তাব গৃহীত
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় রাষ্ট্রগুলোর আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে—আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) এমন উপদেষ্টা মতামতকে সমর্থন জানিয়ে ১৪১-৮ ভোটে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক কার্বন নিঃসরণকারী যুক্তরাষ্ট্র এ প্রস্তাবের বিরোধিতাকারী দেশগুলোর মধ্যে ছিল।
দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুর উত্থাপিত প্রস্তাবটি আইসিজের জুলাই ২০২৫-এর উপদেষ্টা মতামতকে সমর্থন করে। ওই মতামতে বলা হয়, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন মোকাবেলায় রাষ্ট্রগুলোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ২৮টি দেশ অংশ নেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও সৌদি আরব, রাশিয়া, ইসরায়েল, ইরান, ইয়েমেন, লাইবেরিয়া ও বেলারুশ প্রস্তাবটির বিরোধিতা করে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। কপ৩১ জলবায়ু সম্মেলনের আয়োজক তুরস্ক, ভারত এবং তেল উৎপাদনকারী কাতার ও নাইজেরিয়া ভোটদানে বিরত থাকে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ভোটের পর এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনে আইসিজের উপদেষ্টা মতামত সংক্রান্ত সাধারণ পরিষদের প্রস্তাব গ্রহণকে আমি স্বাগত জানাই। এটি আন্তর্জাতিক আইন, জলবায়ু ন্যায়বিচার, বিজ্ঞান এবং জনগণকে ক্রমবর্ধমান জলবায়ু সংকট থেকে রক্ষার রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের একটি শক্তিশালী স্বীকৃতি বলা যায়।’
তিনি আরও বলেন, সরকারগুলো নাগরিকদের ‘ক্রমবর্ধমান জলবায়ু সংকট’ থেকে রক্ষার দায়বদ্ধতার স্বীকৃতি দিয়েছে।
যদিও আইসিজের এ মতামত আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়, তবু এটি ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে জলবায়ুবিষয়ক মামলায় ব্যবহার হচ্ছে এবং বিভিন্ন আদালতের বিচারকরা রায়ে এর উল্লেখ শুরু করেছেন। তবে কূটনৈতিক পর্যায়ে এটি জটিলতা তৈরি করেছে। বেলেমে গত বছরের ইউএনএফসিসিসি জলবায়ু আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি; সৌদি আরব চূড়ান্ত নথিতে এর অন্তর্ভুক্তিকে ‘লাল, লাল রেখা’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল।
ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রকে প্যারিস জলবায়ু চুক্তিসহ বেশ কয়েকটি পরিবেশবিষয়ক চুক্তি থেকে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর নীতি অনুসরণ করেছে।
জাতিসংঘে মার্কিন উপরাষ্ট্রদূত ট্যামি ব্রুস বলেন, ‘প্রস্তাবটিতে জীবাশ্ম জ্বালানি সংক্রান্ত অনুপযুক্ত রাজনৈতিক দাবি রয়েছে।’
২৫ দিন আগে
ইরান যুদ্ধের জের: আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের শঙ্কায় আরব আমিরাত
সহিংসতা ও অস্থিরতায় ভরা মধ্যপ্রাচ্যে একটি দীর্ঘ সময়জুড়ে আরব আমিরাত নিজেদের ‘আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ের একটি নিরাপদ আশ্রয়’ হিসেবে প্রচার করে আসছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় শুরু হওয়া যুদ্ধের জেরে ইরানের চক্ষূশূল হওয়ায় ধীরে ধীরে মুখ থুবড়ে পড়ছে দেশটির অর্থনীতি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র আরব আমিরাত যুদ্ধ চলাকালে অন্যান্য যেকোনো দেশের তুলনায় সব থেকে বেশি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। এই হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ আমিরাতের অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি অর্ধেকেরও বেশি কমিয়ে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, পর্যটন ও সম্মেলন খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পারস্য উপসাগরের ওপারে অবস্থিত ইরানের ঠিক বিপরীত দেশ আরব আমিরাত নিজেদের শক্তিশালী ও অবিচল দেখানোর চেষ্টা করলেও দেশটির অর্থনৈতিক মন্দা ধীরে ধীরে প্রকাশ পাচ্ছে। সম্প্রতি তারা হরমুজের ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। এ ছাড়াও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি উৎপাদন বাড়াতে তারা ওপেক তেল কার্টেল থেকে সরে এসেছে। অবশ্য যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে থেকেই তারা এই পরিকল্পনা করেছিল।
প্রথম থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রত্যক্ষভাবে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ করছে। তবে আস্তে আস্তে এর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ছে আরব আমিরাত। বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয় যখন যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় সময় রবিবার (১৭ মে) আরব আমিরাতের বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইরান ড্রোন হামলা করে।
তবে এই প্রতিকূল অবস্থা ও সংকটের মধ্যেও দেশটির অর্থনীতি টিকে আছে। চলমান এই সংকট এখনও কর্মসংস্থান হ্রাস বা বৈদেশিক বাণিজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে বেশি প্রভাব ফেলতে পারেনি। একটি বিশাল পরিমাণে নগদ উদ্বৃত্তের সঞ্চয় দেশটিকে এই সম্ভাব্য মন্দা থেকে অনেকটা বাঁচিয়ে রেখেছে।
তবে এই সংকট যত দীর্ঘ হবে, ততই আমিরাতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হবে। ধীরে ধীরে আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে দেশটি তার গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে ফেলবে।
বর্তমানে আরব আমিরাতের কর্মকর্তারা ইরানের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমানভাবে জলদস্যুতা এবং এমনকি সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ তুলছেন এবং সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন।
রবিবার (১৭ মে) রাতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘কোনো পরিস্থিতিতেই আমিরাত নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি কোনো প্রকার হুমকি সহ্য করবে না। যেকোনো হুমকি, অভিযোগ বা শত্রুতার জবাব দিতে এটি তার পূর্ণ, সার্বভৌম, বৈধ, কূটনৈতিক ও সামরিক অধিকারের প্রয়োগ করবে আমিরাত।
আমিরাতের শাসক পরিবারও আরও আক্রমণাত্মক পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করার পরিকল্পনা করছে।
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বারাকাহ হামলায় আমিরাত কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এই হামলায় আবুধাবির সুদূর পশ্চিমের মরুভূমিতে অবস্থিত পারমাণবিক কেন্দ্রটিতে তেজস্ক্রিয়তা নির্গমন হয়নি এবং এর কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
আমিরাত মূলত সাতটি স্বৈরতান্ত্রিকভাবে শাসিত শেখ শাসনের একটি ফেডারেশন, যার মধ্যে রয়েছে দুবাই ও আবুধাবি। দেশটির শীর্ষ শাসক সংস্থা হলো ফেডারেল সুপ্রিম কাউন্সিল, যা সাতটি আমিরাতের বংশানুক্রমিক শাসকদের নিয়ে গঠিত। তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে আবুধাবির শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ও তার পরিবারের আধিপত্য বেশি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শাসক পরিবারটি গত কয়েক দশক ধরে আক্রমণাত্মক পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করছে, যার মধ্যে রয়েছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ইয়েমেন যুদ্ধে অংশগ্রহণ। আমিরাত ২০১৩ সালে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে ক্ষমতায় আনতে সহায়তা করেছিল। সঙ্গে সঙ্গে সুদান ও লিবিয়ার গৃহযুদ্ধে বিভিন্ন পক্ষে অস্ত্র পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে দেশটির বিরুদ্ধে। তবে তারা এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
প্রকাশ্যে খুব কম কথা বলা শেখ মোহাম্মদ মার্চ মাসে একটি হাসপাতালে ইরানি হামলায় আহতদের দেখতে গিয়ে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে যুদ্ধ নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করেছিলেন।
তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘আমিরাত আকর্ষণীয়, আমিরাত সুন্দর, আমিরাত একটি আদর্শ। কিন্তু আমি তাদের বলব, আমিরাতের চেহারা দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। আমিরাতের চামড়া কিন্তু অত্যন্ত মোটা এবং মাংস তিতা। আমাদের ঘায়েল করা অত সহজ নয়।’
অর্থনৈতিক সতর্কতার লক্ষণ
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়া আমিরাতের অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিক্রির ক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করেছে, যদিও কয়েকটি ট্যাংকার ওই নৌপথ দিয়ে বের হতে সক্ষম হয়েছে। প্রণালির বাইরে ওমান উপসাগরে অবস্থিত তেল টার্মিনালসহ ফুজাইরাহ শহরে একটি পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ১৮ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করা যাচ্ছে। আমিরাত সেই সক্ষমতা দ্বিগুণ করতে দ্বিতীয় পাইপলাইন দ্রুত নির্মাণ করার চেষ্টা করছে।
তবে ইরান যুদ্ধের জেরে আমিরাতের পর্যটন ও সম্মেলন বাজার কঠিন আঘাতের মুখে পড়েছে। এটি দেশটির মোট অর্থনৈতিক উৎপাদনের ১২ শতাংশেরও বেশি বলে ধারণা করা হয়ে থাকে।
কাতারভিত্তিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠান নর্থবোর্ন অ্যাডভাইজরির তথ্য অনুযায়ী, যারা যুদ্ধের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আমিরাতে ৭০টিরও বেশি নির্ধারিত অনুষ্ঠান স্থগিত, বাতিল বা অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমিরাত সরকার অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সাধারণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি, তবে আয়োজকরা সম্ভবত ‘বীমা প্রত্যাহার ও দায়বদ্ধতার ঝুঁকির’ কারণে পরিকল্পনাগুলো পরিবর্তন করেছেন।
দুবাইয়ে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের বিষয়ে গত ৪ মে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানসংস্থা এমিরেটস ঘোষণা করে যে তাদের প্রায় সম্পূর্ণ ফ্লাইট সূচি পুনরায় চালু হয়েছে। কিন্তু সেই একই দিন ইরান একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এ ঘটনার পর মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠানো হয় যা আমিরাতে অবস্থানরত দেশে ফিরতে আগ্রহী ব্যবসায়ী সমাজে হাহাকার সৃষ্টি করে।
বিমানবন্দরটি এখন তার জেট জ্বালানি ট্যাংকের চারপাশে একটি প্রতিরক্ষামূলক আবরণ তৈরি করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সেখানকার কর্মকর্তারা আলোচনা করতে রাজি হননি।
দখলের হার প্রায় ২০ শতাংশে নেমে আসায় দুবাইয়ের আইকনিক বুর্জ আল আরবসহ একাধিক হোটেলের সংস্কার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষক সংস্থা মুডিজ অ্যানালিটিক্স অনুমান করছে, এই হার জুন প্রান্তিকে ১০ শতাংশে নামবে, যা যুদ্ধের আগে ছিল ৮০ শতাংশ।
মুডিজ সতর্ক করেছে যে, দখলের হার সম্ভবত ২০২৬ সালের বাকি সময় আরও নিম্নমুখী থাকবে, কারণ যুদ্ধ থামলেও পর্যটকরা ভ্রমণে দ্বিধাগ্রস্ত থাকবেন।
সোমবার (১৮ মে) প্রকাশিত ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স ইনস্টিটিউটের একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দুবাইয়ের উন্মুক্ততা এটিকে ভ্রমণ, লজিস্টিক্স ও আস্থার ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলে, তবে আবুধাবির ব্যালেন্স শিট ও জ্বালানি সম্পদ ফেডারেশনকে আঘাত সামলে নেওয়ার সক্ষমতাও দেয়।
কয়েন-চালিত যুদ্ধবিমানের শিল্পকর্ম
দুবাই বিশেষভাবে দেখানোর চেষ্টা করছে যে দেশটি এখনও সক্রিয়। গত সপ্তাহের শেষে দুবাই তার বার্ষিক আর্ট দুবাই শোয়ের একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণ আয়োজন করেছে। সেখানে একটি শিল্পকর্ম ছিল। শিল্পকর্মটি একটি কয়েন-চালিত কালো যুদ্ধবিমান। এটি একটি কালো নাইকি টেনিস জুতা দিয়ে ঢাকা ছিল।
স্পেনের শিল্পী সুলিমান লোপেস একটি ধাতু-সমৃদ্ধ গ্রহাণুর মালিকানা দাবির ধারণাকে কেন্দ্র করে একটি শিল্পকর্ম নিয়ে এসেছিলেন, যেটি নাসার একটি মিশনের লক্ষ্যকে ইঙ্গিত দেয়। দেশ ও কোম্পানিগুলো কীভাবে তেল ও অন্যান্য পণ্য আহরণ করে, শিল্পকর্মটি তার প্রতিফলন ঘটায়।
তবে চলমান এই যুদ্ধাবস্থা লোপেসকে তার শিল্পকর্ম নিয়ে দুবাইয়ে যোগ দেওয়ার বিষয়টি কঠিন করে তুলেছিল। এই শিল্পী বলেন, ‘তবে আমি বললাম, আমাকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে, কারণ আমি সত্যিই বিশ্বাস করি যে এই অঞ্চলে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য এটিই উপযুক্ত জায়গা।’
বৈরুতের শিল্পী আলফ্রেড তারাজি উল্লেখ করেন, তার দাদা-দাদি দুটি বিশ্বযুদ্ধ পার করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বযুদ্ধেও জীবন থেমে থাকে না। আমরা সহিংসতার বিরুদ্ধে সংস্কৃতি দিয়েই লড়াই করব।’
২৭ দিন আগে