ইউক্রেনে এক বন্দুকধারী নিজস্ব অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে ৬ জনকে হত্যা করেছে। পরে পুলিশের ভয়ে জিম্মিদের নিয়ে একটি সুপারমার্কেটের ভেতর আত্মগোপন করেন তিনি। এরপর পুলিশ খোঁজ পেয়ে ওই স্থানে পৌঁছে তাকে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ১৪ জন আহত হয়েছেন এবং তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৮ এপ্রিল) দেশটির রাজধানী কিয়েভের হলোসিভস্কি জেলায় একটি শপিং সেন্টারের সামনে এই হামলা ঘটে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীর বয়স ৫৮ বছর। তবে তার নাম ও পরিচয় প্রাথমিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
২০২২ সালে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে কিয়েভে এমন গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেনি। এ হামলায় রাস্তায় মানুষের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পথচারীরা আতঙ্ক হয়ে পড়েন। প্রাণ বাঁচাতে তারা পালাতে থাকেন।
এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ‘হামলাকারীকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। তিনি কিছু মানুষকে জিম্মি করে রেখেছিলেন। দুঃখের বিষয় এই যে, তাদের মধ্যে একজনকে তিনি হত্যা করেন। এ ছাড়াও রাস্তায় আরও ৪ জনকে তিনি হত্যা করেছেন। জিম্মিদের মধ্যে এক নারীকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনিও মারা যান।’
তিনি আরও বলেন, একটা বিষয় নিশ্চিত যে, হামলাকারী রাস্তায় বের হওয়ার আগে একটি অ্যাপার্টমেন্টে আগুন লাগিয়েছিল। তার নামে আরও বেশ কিছু অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন এবং জন্মসূত্রে একজন রাশিয়ান।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহোর ক্লিমেঙ্কো জানান, ইউক্রেনের বিশেষ কৌশলগত পুলিশ ইউনিটগুলো আলোচনার মাধ্যমে তাকে আত্মসমর্পণে রাজি করানোর চেষ্টা করে। কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হলে পুলিশ দোকানটিতে অভিযান চালায়। দু্ষ্কৃতিকারী যাদের জিম্মি করেছিল, তারা ছিল ওই সুপারমার্কেটের ক্রেতা ও কর্মচারী।
তিনি বলেন, ‘আমরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কারণ আমরা ভেবেছিলাম, দোকানের ভেতরে কেউ আহত অবস্থায় রয়েছে। এমনকি রক্তপাত বন্ধ করার জন্য টুর্নিকেট দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলাম, তবুও তিনি কোনো সাড়া দেননি। ফলে বাধ্য হয়ে তাকে নিষ্ক্রিয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়। হামলাকারীর বৈধ অস্ত্রের লাইসেন্স ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউ এই হত্যাকাণ্ডকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আখ্যা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা হামলাকারীকে চিনতেন।
৭৫ বছর বয়সী হান্না কুলিক বলেন, ‘আমি তাকে চিনতাম। তিনি অত্যন্ত শিক্ষিত ও ভদ্র মানুষ বলে মনে হতো। আমি কখনও ভাবিনি যে তিনি কোনো অপরাধী হতে পারেন। লোকটি খুব বেশি মানুষের সঙ্গে মিশতেনও না। কারো সঙ্গে দেখা হলে শুধু শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি চলে যেতেন। একাই থাকতেন তিনি।