আজ ১৭ আগস্ট, ৮১তম স্বাধীনতা দিবস পালন করছে ইন্দোনেশিয়া। তবে স্বাধীনতা দিবসের এই দিনটিতেও দেশটির ফ্লোরেস দ্বীপে ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপের নিচে স্বজনদের খুঁজছেন বহু মানুষ। শনিবারের শক্তিশালী ভূমিকম্পে দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৩৫ জন।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবর অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ১ হাজার ৩০০টির বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫০টি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে প্রায় ৫ হাজার মানুষ অস্থায়ী আশ্রয়ে ঠাঁই নিয়েছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের মধ্যেই ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধার অভিযান চলছে। দুর্গত এলাকায় সেনা ও পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। পৌঁছানো হয়েছে শত শত টন ত্রাণও। তবে দুর্গম এলাকা এবং যোগাযোগ ও সরবরাহ ব্যবস্থার নানা সমস্যার কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কিছু এলাকায় সময়মতো সহায়তা পৌঁছানো যাচ্ছে না। ফলে হাজারো মানুষ এখনও খাবার, ওষুধ, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ত্রাণের অপেক্ষায় রয়েছেন।
শনিবারের ভূমিকম্পে পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাংগারাই অঞ্চল। ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বিবেচনায় প্রদেশটির গভর্নর গতকাল রবিবার ১৪ দিনের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, শনিবার ভোর ৬টার দিকে ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। আতঙ্কে বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। এ সময় সুনামির সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়।
ভূমিকম্পের পর দেশটির কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৯৫টি পরাঘাত বা আফটার শক রেকর্ড করেছে। এর মধ্যে ৪৬টি পরাঘাত স্থানীয় বাসিন্দারা অনুভব করেছেন। নতুন করে ভূমিকম্পের আশঙ্কায় ফ্লোরেসের হাজারো মানুষ ধসে পড়া বাড়িঘরের বাইরে ত্রিপলের তাঁবু টাঙিয়ে রাত্রিযাপন করছেন।