ভূমিকম্প
ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসিতে ৬.৭ মাত্রার ভূমিকম্প
ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি প্রদেশে আজ মঙ্গলবার ৬.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে দেশটির বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ভূমিকম্পে বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেলেও হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনও সংগ্রহ করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল পালু শহর থেকে ৪৩ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণপূর্বে। এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার।
রাজধানী পালু ও আশপাশের এলাকায় মূল ভূমিকম্পের পর আরও কয়েকটি পরাঘাত অনুভূত হয়েছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী পরাঘাতটির মাত্রা ছিল ৫.২।
ভূমিকম্পের পর সুনামি সৃষ্টি হতে পারে, এমন আশঙ্কায় দেশটির উপকূলীয় এলাকাগুলোর বাসিন্দারা নিরাপদ স্থানে সরে যান।
তবে ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের কারণে সুনামির কোনো ঝুঁকি নেই। যদিও সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, আরও কিছু সময় পরাঘাত অনুভূত হতে পারে।
আট বছর আগে ইন্দোনেশিয়ার পালু শহর বিধ্বংসী ভূমিকম্প ও সুনামিতে বিধ্বস্ত হয়েছিল। এবারের ভূমিকম্পের প্রবল কম্পনে সুলাওয়েসি প্রদেশের রাজধানী পালু ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে পালু শহর ও আশপাশের এলাকার মানুষ দ্রুত খোলা স্থানে আশ্রয় নেন। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কয়েকটি হাসপাতাল রোগীদের বাইরে সরিয়ে নেয়। রোগীদের মধ্যে অনেকের শরীরে তখনও স্যালাইনের নল লাগানো ছিল।
ভূমিকম্প-কবলিত এলাকা থেকে সংগ্রহ করা ছবিতে দেখা যায়, এ ভূমিকম্পে বেশ কয়েকটি স্থাপ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও আংশিকভাবে ছাদ ধসে পড়েছে, কোথাও দেওয়াল ভেঙে গেছে। এছাড়া রাস্তাজুড়ে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, কেউ হতাহত হয়েছেন কি না এবং কত মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, এসব তথ্য এখনও সংগ্রহ করা হচ্ছে।
পালুর একটি চার তারকা হোটেলের মহাব্যবস্থাপক এফেন্দি নাতালি বলেন, ‘আমরা হোটেলের সব অতিথিকে সরিয়ে নিয়েছি। এমনকি যারা নিজ নিজ কক্ষে অবস্থান করছিলেন তাদেরও বের করে আনা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ভূমিকম্পের পর সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। ভয় পাওয়াটা এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক। বর্তমানে সবাই নিরাপদ আছেন।’
তিনি আরও জানান, ভূমিকম্পে হোটেলটিতে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
পালুর বাসিন্দা মুখতার আহমাদ জানান, ‘এবারের ভূমিকম্পের কম্পন ছিল খুবই শক্তিশালী। আগের ভয়াবহ ভূমিকম্পের স্মৃতি এখনও আমাদের মনে রয়েছে। তাই পরাঘাতের আশঙ্কায় আমরা বাইরে অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
ইন্দোনেশিয়া ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। দেশটির ভূখণ্ডের নিচ দিয়ে বেশ কয়েকটি সক্রিয় ফল্টলাইন চলে গেছে। ফলে সেখানে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে।
সুলাওয়েসির অনেক বাসিন্দা এখনও ২০১৮ সালের সেই ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পের স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন। ওই ভূমিকম্পে পালু শহর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই ভূমিকম্পের পরপরই ৩ মিটার উঁচু সুনামি আঘাত হেনেছিল। এছাড়া সে বছর ‘লিকুইফ্যাকশন’ নামে একটি বিরল ভূতাত্ত্বিক ঘটনা ঘটেছিল। এর ফলে সুলাওয়েসি অঞ্চলে মাটি নরম হয়ে ধসে পড়েছিল, যা পুরো এলাকাকে গ্রাস করে।
সেই দুর্যোগে সুলাওয়েসিতে ৪ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। মাটিধসের ঘটনায় পুরো এলাকা মাটির নিচে তলিয়ে যাওয়ার সময় অনেক মানুষ মাটির নিচে চাপা পড়েছিলেন।
এর আগে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে সুলাওয়েসি দ্বীপের মামুজু শহরের কাছে ৬.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে অন্তত ১০০ জন নিহত হন। পরাঘাতের আতঙ্কে তখন হাজার হাজার মানুষ কয়েক দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে বাধ্য হয়েছিলেন।
৩ দিন আগে
ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত ১৯
ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত ১৯ জন নিহত এবং দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (৮ জুন) সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে এই কম্পন অনুভূত হয়।
ফিলিপাইনের ভূকম্পবিদ্যা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল সারাঙ্গানি প্রদেশের মাসিম শহর থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে সাগরের তলদেশে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ৩৩ কিলোমিটার।
ভূমিকম্পের পর উপকূলবর্তী এলাকায় প্রায় এক মিটার (তিন ফুট) উচ্চতার সুনামি আঘাত হানে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে প্যাসিফিক সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে, ভূমিকম্পের প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর সুনামির আশঙ্কা অনেকটাই কেটে গেছে।
ভূমিকম্পে হতাহতদের বেশিরভাগই ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের নিচে বা ভবনসংক্রান্ত দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। টুনা মাছ রপ্তানি ও অন্যান্য বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বন্দরনগরী জেনারেল সান্তোসও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে।
তবে সুনামির কারণে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ফিলিপাইনের আগ্নেয়গিরি ও ভূকম্পবিদ্যা ইনস্টিটিউটের পরিচালক তেরেসিতো বাকোলকল।
তিনি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, ‘এটি একটি বড় ধরনের ভূমিকম্প। আমরা ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছি এবং ইতোমধ্যে বিভিন্ন ভিডিওতে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন দেখতে পেয়েছি।’
ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র বলেন, ‘জাতীয় সরকার কাজ শুরু করেছে এবং আমরা মিন্দানাওকে একা ছেড়ে দেব না।’
প্রথম কম্পনটি আঘাত হানার পর অসংখ্য আফটারশক অনুভূত হয়। ভূমিকম্পটির তীব্রতা এতই শক্তিশালী ছিল যে মালয়েশিয়াতেও তা অনুভূত হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার উপকূলে ছোট আকারের সুনামি ঢেউও শনাক্ত করা হয়েছে।
ভূমিকম্পে জেনারেল সান্তোসে অন্তত সাতজন নিহত এবং প্রায় ১৩০ জন আহত হয়েছেন। সেখানে কয়েকটি ছোট ভবন আংশিক ধসে পড়েছে এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতুসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনায় বিপজ্জনক ফাটল দেখা দিয়েছে বলে সিভিল ডিফেন্স দপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক রড সোসমেনা জানিয়েছেন।
এছাড়া দক্ষিণ কোটাবাটো, দাভাও অক্সিডেন্টাল প্রদেশ এবং বালুট দ্বীপে আরও পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সোসমেনা বলেন, জেনারেল সান্তোসে একটি দ্বিতল স্কুল ভবন ধসে পড়ার ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আটকা পড়েছে বলে পাওয়া খবর যাচাই করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাতে না পারলেও দেশটির জাতীয় পুলিশ জানিয়েছে, শহরটিতে অন্তত সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন।
গ্রীষ্মকালীন ছুটি শেষে সোমবার দেশজুড়ে সরকারি স্কুলগুলো পুনরায় খুলেছে। কর্মকর্তা এডনার দায়াংহিরাং জানান, সকালে পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ১০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী আতঙ্কে ছোটাছুটি করতে গিয়ে আহত হয়েছেন এবং কয়েকজন জ্ঞান হারান।
জেনারেল সান্তোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ১৭টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
রড সোসমেনা বলেন, ‘আমাদের পিকআপ গাড়িটি হঠাৎ প্রবলভাবে কেঁপে ওঠে। প্রথমে মনে হয়েছিল টায়ার পাংচার হয়েছে। মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসে।’
দায়াংহিরাং বলেন, দাভাও শহরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তিনি মাটির কম্পনে ঠিকমতো দাঁড়িয়ে থাকতে বা ভারসাম্য রক্ষা করতে পারছিলেন না।
ম্যানিলাভিত্তিক ডিজেডআরএইচ রেডিও জানিয়েছে, তাদের প্রাদেশিক স্টেশন অবস্থিত একটি ছোট বাণিজ্যিক ভবনের অংশ ধসে পড়েছে। কর্মীরা দ্রুত নিচতলায় নেমে আসায় কেউ আহত হননি। তবে চারতলা ভবনের ধ্বংসস্তূপে অন্য কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আশপাশের অন্যান্য ভবন থেকেও ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ে পার্ক করা গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, সুলতান কুদারাত ও সারাঙ্গানি প্রদেশে প্রায় এক মিটার উচ্চতার সুনামি রেকর্ড করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর মালয়েশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের সাবাহ অঙ্গরাজ্যের জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ। সাবাহ ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চল থেকে নৌপথে অল্প দূরত্বে অবস্থিত। এদিকে, সুলাওয়েসি দ্বীপের উপকূলে ৮৩ সেন্টিমিটার উচ্চতার সুনামি ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থানের কারণে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্যোগপ্রবণ দেশগুলোর একটি ফিলিপাইন। দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। এছাড়া প্রতিবছর প্রায় ২০টি টাইফুন ও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় দেশটিতে আঘাত হানে।
১১ দিন আগে
চীনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ২ জন নিহত, ৭ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে
চীনে ৫.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে ২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪ জন। এ দুর্যোগে একাধিক ভবন ধসে পড়েছে এবং লিউঝো শহর থেকে ৭ হাজারের বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৮ মে) ভোরে দক্ষিণ চীনের গুয়াংশি অঞ্চলে এ ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
নিখোঁজ কয়েকজন বাসিন্দার অনুসন্ধান কাজ আজ (সোমবার) দুপুরের দিকে শেষ হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সর্বশেষ আটকে পড়া ৯১ বছর বয়সী একজন বৃদ্ধ জীবিত এবং সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারক সিসিটিভি প্রচারিত ছবিতে দেখা গেছে, এক্সকেভেটর দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানো হচ্ছে। সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৩টি ভবন ধসে পড়েছে এবং ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট ভূমিধস এলাকার রাস্তাগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। লিউঝো এলাকায় ট্রেন চলাচলও বাতিল বা বিলম্বিত করা হয়েছে।
দক্ষিণ চীনে মাঝে মাঝে ভূমিকম্প হয়ে থাকে, তবে তীব্র ভূমিকম্প সাধারণত পশ্চিমের পার্বত্য অঞ্চলে অথবা তাইওয়ানের দিকে পূর্বাঞ্চলে বেশি দেখা যায়।
সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বিধ্বংসী ভূমিকম্পটি ছিল ২০০৮ সালে দক্ষিণ-পশ্চিমের সিচুয়ান প্রদেশে, যেখানে ৭.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ৮৭ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত এবং নিখোঁজ হয়েছিলেন।
৩২ দিন আগে
জাপানে শক্তিশালী ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামির সতর্কতা জারি
জাপানের উত্তর উপকূলের কাছে ৭.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এরপর ওই অঞ্চলে সুনামির সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা।
সোমবার (২০ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বিকেল প্রায় ৪টা ৫৩ মিনিটে জাপানের উত্তরাঞ্চলের সানরিকু উপকূলের কাছে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানায়, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটি মাত্রা ছিল ৭.৭। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে এটি আঘাত হানে।
সুনামির বিষয়ে সতর্ক করে জাপানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, অল্প সময়ের মধ্যেই ওই এলাকায় সর্বোচ্চ ৩ মিটার (১০ ফুট) উচ্চতার সুনামি আঘাত হানতে পারে।
এর আগে জাপানে ২০১১ সালের ১১ মার্চ ৯.০ মাত্রার একটি ভূমিকম্প ও এর ফলে সৃষ্ট সুনামিতে ২২ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ হারান। ওই দুর্যোগে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।
সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্ত ফুকুশিমা দাইইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত বিকিরণের কারণে ফুকুশিমা এলাকা থেকে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। বিকিরণ নিয়ে উদ্বিগ্নতায় প্রায় ২৬ হাজার মানুষ সেখানে আর ফিরে আসেননি। এসব মানুষ নিজের এলাকা ছেড়ে এখন অন্যত্র স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন।
৬০ দিন আগে
ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ৪৪৫ আশ্রয়স্থল চিহ্নিত
ভূমিকম্পসহ বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় রাজধানীর দুই সিটিতে মোট ৪৪৫টি আশ্রয়স্থল চিহ্নিত করেছে সরকার। একইসঙ্গে প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের একটি খসড়া তালিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মিলিয়ে ৪৪৫টি আশ্রয়স্থল নির্ধারণ করা হয়েছে।
পাশাপাশি ভূমিকম্প সচেতনতা বাড়াতে শিক্ষা কারিকুলামে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার বিষয়েও সরকার ভাবছে।
তিনি আরও বলেন, ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সংস্থা থেকে ১ লাখ ৪৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের খসড়া তালিকা তৈরি হয়েছে।
৭৮ দিন আগে
ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় এক লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রবিবার (১ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ঘন ঘন যে ভূমিকম্প দেখা দিচ্ছে, সে কারণে ঢাকা শহরে এক লাখ স্বেচ্ছাসেবক রাখা প্রয়োজন। যেটা উপকূলীয় এলাকায় আছে, সে মডেলে আমাদের তৈরি করার নির্দেশনা দিয়েছেন। ভূমিকম্পের সময় লোকজনকে সরিয়ে নিতে ঢাকা শহরে বিভিন্ন খেলার মাঠ ও স্কুলকে চিহ্নিত করার জন্য আমাদের বলা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আরও কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
স্বেচ্ছাসেবক কি শুধু ঢাকার জন্য থাকবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা ঢাকা শহরে এক লাখ। যেভাবে ভলান্টিয়ার উপকূলীয় এলাকায় আছে, ঠিক একই মডেলে আমরা ঢাকায় করব; সেটি নিয়ে আমরা কাজ করছি।’
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, কিছু সরঞ্জাম দ্রুত গতিতে যাতে আমরা ক্রয় করতে পারি এবং সচেতনতা তৈরি করার জন্য অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমরা কাজ করি সে ব্যপারে আমাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এগুলো নিয়ে আমরা কাজ করে আগামী ১১ তারিখ আবার বসে এটার ফলোআপ দেব।
ভূমিকম্প হলে উদ্ধার সক্ষমতার বিষয়ে জানতে চাইলে জবাবে তিনি বলেন, ‘এই সক্ষমতা বাড়ানোর জন্যই আলোচনাগুলো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত আমরা যে সরঞ্জামগুলো কিনেছি, এগুলোর কিছু আর্মড ফোর্সেস বিভাগে দিয়েছি, কিছু ফায়ার সার্ভিসকে দিয়েছি।'
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা কী এ বিষয়ে আসাদুল হাবিব বলেন, ১৮০ দিনের একটা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আছে, এর মধ্যে যেগুলো আওতাভুক্ত সেটা আমরা করব।
রাজউকের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বহুতল ভবন বা ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণ বা এই ধরনের কোনো কঠোর নির্দেশনা কি আপনাদের মন্ত্রণালয়ের আওতায় থাকে—এ প্রশ্নের উত্তরে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ, এটা আমাদের আওতায় অন্তর্ভুক্ত। যেগুলো আলোচনায় থাকে, সেগুলো গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের, সেক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে আমরা সমন্বয় করে কাজ করি।’
১১০ দিন আগে
ভূমিকম্পে আবারও কাঁপল দেশ, উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরা
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে এ কম্পন অনুভূত হয়।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৪।
বিএমডির আবহাওয়াবিদ শাহনাজ সুলতানা জানান, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলায়।
ইউরোপীয়-মেডিটেরানিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানায়, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল খুলনা জেলা শহর থেকে ৪৭ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং সাতক্ষীরা থেকে ২৯ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে।
তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ইউএনবির খুলনা প্রতিনিধি জানান, বেলা ১টা ৫২ মিনিটের দিকে খুলনা এবং সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলাতেও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
খুলনা আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়া কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ভূমিকম্পটির তীব্রতা ছিল মাঝারি।
সাতক্ষীরায় কম্পন অনুভূত হওয়ার পর আতঙ্কে অনেক বাসিন্দা ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে, বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকা, সিলেট ও আশপাশের এলাকায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ইএমএসসি জানায়, রাত ১০টা ৫৩ মিনিটে অনুভূত ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ১।
এছাড়া বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৪ মিনিটে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে আরেকটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র জানায়, ওই কম্পনের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ৬।
১১২ দিন আগে
সিলেটে ভূমিকম্প, উৎপত্তি ছাতকে
সিলেটে ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিটে এ কম্পন অনুভূত হয়।
ইউরোপিয়ান-মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১।
ইএমএসসি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায়। আর মাই আর্থকোয়েক অ্যালার্ট জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উত্তপত্তিস্থল ঢাকা থেকে ১৮১ কিলোমিটার দূরে সুনামগঞ্জের ছাতকে।
জানা গেছে, সিলেট নগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় কয়েক সেকেন্ড ধরে কম্পন অনুভূত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সিলেট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শাহ মোহাম্মদ সজীব হোসাইন জানান, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ১ এবং এর গভীরতা স্বল্পমাত্রার হওয়ায় আশপাশের এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৬২৬ কিলোমিটার গভীরে।
১২০ দিন আগে
ভোরে ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ, উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরা
দেশে আবারও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল দক্ষিণের জেলা সাতক্ষীরা। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১ ।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টা ৩৬ মিনিটে এ কম্পন অনুভূত হয়।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র সাতক্ষীরার কলারোয়া। কেন্দ্র থেকে এর গভীরতা ১৫০ কিলোমিটার।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণাকেন্দ্র থেকে ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থলের দূরত্ব ছিল ১৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে।
এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
১৩৬ দিন আগে
ভোরে ভূমিকম্পে কাঁপল সিলেট
সিলেট ও আশপাশের এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটের দিকে এ কম্পন অনুভূত হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ইউরো-মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) ও আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৪।
মার্কিন ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস ও ইউরো-মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ভারতের আসাম রাজ্যের ধিং শহর থেকে ১৪ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে এবং গুয়াহাটি থেকে ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল প্রায় ৩৫ কিলোমিটার।
নগরীর কুমারপাড়া, জিন্দাবাজার, উপশহর, আম্বরখানা, টিলাগড়, শাহপরান থানা এলাকা ছাড়াও দক্ষিণ সুরমা, জৈন্তাপুর ও কোম্পানিগঞ্জ উপজেলায়ও কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
এদিকে ভূকম্পনের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই পোস্ট দিয়ে জানান, তারা ভোরে ভূকম্পন অনুভব করেছেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ভূকম্পনের মাত্রা ও উৎপত্তিস্থল সম্পর্কে কিছু জানায়নি। বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সর্বশেষ গত ১০ ডিসেম্বর মধ্যরাতে সিলেটে মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দুইবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ওই দিন দিবাগত রাত ২টা ২০ মিনিট ৩১ সেকেন্ডে প্রথম ভূকম্পন অনুভূত হয়। এর ঠিক পাঁচ মিনিট পর ২টা ২৫ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে দ্বিতীয়বার কেঁপে উঠে সিলেট। দুটি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী অঞ্চলের বিয়ানিবাজারে।
উল্লেখ্য, সিলেট অঞ্চল ভূতাত্ত্বিকভাবে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এর আগে বিভিন্ন সময়ে এখানে মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে।
১৬৫ দিন আগে