ভূমিকম্প
ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতা দিবসেও শোকের ছায়া, ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৫৫
আজ ১৭ আগস্ট, ৮১তম স্বাধীনতা দিবস পালন করছে ইন্দোনেশিয়া। তবে স্বাধীনতা দিবসের এই দিনটিতেও দেশটির ফ্লোরেস দ্বীপে ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপের নিচে স্বজনদের খুঁজছেন বহু মানুষ। শনিবারের শক্তিশালী ভূমিকম্পে দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৩৫ জন।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবর অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ১ হাজার ৩০০টির বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫০টি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে প্রায় ৫ হাজার মানুষ অস্থায়ী আশ্রয়ে ঠাঁই নিয়েছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের মধ্যেই ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধার অভিযান চলছে। দুর্গত এলাকায় সেনা ও পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। পৌঁছানো হয়েছে শত শত টন ত্রাণও। তবে দুর্গম এলাকা এবং যোগাযোগ ও সরবরাহ ব্যবস্থার নানা সমস্যার কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কিছু এলাকায় সময়মতো সহায়তা পৌঁছানো যাচ্ছে না। ফলে হাজারো মানুষ এখনও খাবার, ওষুধ, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ত্রাণের অপেক্ষায় রয়েছেন।
শনিবারের ভূমিকম্পে পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাংগারাই অঞ্চল। ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বিবেচনায় প্রদেশটির গভর্নর গতকাল রবিবার ১৪ দিনের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, শনিবার ভোর ৬টার দিকে ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। আতঙ্কে বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। এ সময় সুনামির সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়।
ভূমিকম্পের পর দেশটির কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৯৫টি পরাঘাত বা আফটার শক রেকর্ড করেছে। এর মধ্যে ৪৬টি পরাঘাত স্থানীয় বাসিন্দারা অনুভব করেছেন। নতুন করে ভূমিকম্পের আশঙ্কায় ফ্লোরেসের হাজারো মানুষ ধসে পড়া বাড়িঘরের বাইরে ত্রিপলের তাঁবু টাঙিয়ে রাত্রিযাপন করছেন।
১ দিন আগে
ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৫১, বাস্তুচ্যুত হাজারো মানুষ
ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার একদিন পর আর রবিবার উদ্ধারকারীরা আরও চারটি মরদেহ উদ্ধার করেছেন। এতে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৬ আগস্ট) সকাল ৫টা ৫৮ মিনিটে দেশটির পূর্বাঞ্চলের ফ্লোরেস অঞ্চলে ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে বলে জানায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)।
ভূমিকম্পের পর সুনামির সতর্কতা জারি করা হলে আতঙ্কে বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটে যান। পরে ওই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের পর অন্তত ২৩৫টি পরাঘাত (আফটার শক) অনুভূত হয়েছে।
রবিবার উদ্ধারকারীরা ফ্লোরেসের ছয়টি এলাকায় ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট ভূমিধসে ধসে পড়া স্থাপনা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের সন্ধানে অভিযান চালান। ভূমিকম্পের কারণে ভূমিধসে বিচ্ছিন্ন ও দুর্গম হয়ে পড়া সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি অঞ্চল—মাংগারাই, পূর্ব মাংগারাই ও নাগেকেওকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মাউমেরে শহরভিত্তিক সিক্কা অঞ্চলের অনুসন্ধান ও উদ্ধার অফিসের প্রধান ফাতুর রহমান বলেন, ‘আমরা বেশিরভাগ ভূমিধসের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া গ্রামগুলোর সড়ক আবার খুলে দিয়েছি। তবে যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা উদ্ধার তৎপরতায় এখনও বাধা সৃষ্টি করছে।’
দেশটির জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ১০১ জন আহত হয়েছেন। ৯০০টির বেশি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ৪৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৫ হাজার মানুষকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে হয়েছে।
২ দিন আগে
ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত অন্তত ৩৮
ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে আজ শনিবার ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। এতে বহু ভবন ও বাড়িঘর ধসে পড়েছে। ভূমিকম্পের পর ওই অঞ্চলে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এই দুর্যোগের কবলে পড়ে আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ৫টা ৫৮ মিনিটে ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস অঞ্চলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। এর উৎপত্তিস্থল ছিল পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের এনদে শহর থেকে ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর-পশ্চিমে। মূল ভূমিকম্পের পর বেশ কয়েকটি পরাঘাত অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পের পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সুনামি সতর্কতা জারি করে উপকূলীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানায়। তবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতায় উপকূলীয় জনপদের জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে—এমন উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন না পাওয়ায় পরে সতর্কতা প্রত্যাহার করে ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা।
দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান সুহারিয়ান্তো জানান, উদ্ধারকারীরা অন্তত ৩৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। নিহতদের বেশির ভাগই সিক্কা, মাংগারাই ও পূর্ব মাংগারাইয়ের তিনটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দা। মাংগারাইয়ের রেওক গ্রামে ভূমিধসে চাপা পড়ে থাকা ১৬ জনের মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি জানান, ভূমিকম্পে আহত অন্তত ১৩ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।
৩ দিন আগে
কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ২৬৫, নিখোঁজ ৪ হাজারের বেশি
কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তবে সময় যত যাচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ততই কমে আসছে।
স্থানীয় সময় সোমবার ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি শহরে ভবন ধসে পড়ে, সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বহু মানুষ হতাহত হন। এ ঘটনায় বুধবার পর্যন্ত অন্তত ২৬৫ জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও কয়েক হাজার মানুষ।
এই পরিস্থিতিতে নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলারদো দে লা এসপ্রিয়েইয়ার সরকারকে একদিকে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে গৃহহীন হয়ে পড়া হাজারো মানুষের আশয়, খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সহায়তা পৌঁছে দিতে নাগরিক সমাজও কাজ করছে।
স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েইয়া জানান, সোমবার দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ২৬৫ জন নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারি হিসেবে এতে প্রায় ৫০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। তবে বেসামরিকভাবে পরিচালিত ডাটাবেসের হিসেবে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা সংখ্যা ৪ হাজার ১০০ এর বেশি। সব মিলিয়ে এ ভূমিকম্পে ২৫ হাজার ৮০০টির বেশি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।
কলম্বিয়ার রাজধানীতে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘নিখোঁজদের উদ্ধারের জন্য আমারা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।’
এদিকে, সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কালি, পেরেইরা, মানিসালেস ও কিবদো শহরে উদ্ধারকর্মীরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খুঁজছেন।
উদ্ধার ও ত্রাণ সংস্থাগুলোর মতে, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষকে জীবিত উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। তবে আটকে থাকা মানুষদের কাছে খাবার ও পানি পৌঁছে দিতে পারলে এই সময়ের পরও তাদের জীবিত উদ্ধারের সুযোগ থাকে।
বুধবার বিকেলে কালির মেয়র আলেহান্দ্রো এদের সাংবাদিকদের বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও জীবিত মানুষের উপস্থিতির আলামত পাওয়া যাচ্ছে। তাদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত কাজ করছেন।
তিনি বলেন, ‘এখনও জীবিত মানুষদের উদ্ধারের জন্য পরবর্তী ২০ ঘণ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই মুহূর্তে প্রতিটি মিনিটই গুরুত্বপূর্ণ।’
৫ দিন আগে
কলম্বিয়ার ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৮১, নিখোঁজ ১৯৫
কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮১ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ২ হাজার ৫৯৫ জন। সরকারি হিসাবে ভূমিকম্পের পর এখনও অন্তত ১৯৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী, নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার।
শক্তিশালী এ ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিতদের খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটির সরকার ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া জীবিতদের উদ্ধারে ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছিল। এ সময়সীমা দ্রুত ফুরিয়ে আসায় উদ্ধারকারীরা জীবিতদের সন্ধানে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
এই দুর্যোগ কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলারদো দে লা এসপ্রিয়েইয়া সরকারকে বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। দেশটিতে ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার হিমশিম খাচ্ছে। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতায় দেশটির নাগরিক সমাজও একযোগে কাজ করছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েইয়া জানান, ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে অন্তত ১৮১ জন নিহত এবং আরও ২ হাজার ৫৯৫ জন আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, এখনও অন্তত ১৯৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে বেসামরিকভাবে পরিচালিত বিভিন্ন ডেটাবেসের হিসেবে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার।
এদিকে, ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কালি, পেরেইরা, মানিসালেস ও কিবদো শহরে রাতভর ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালিয়েছেন উদ্ধারকারীরা। সময় যত গড়াচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের খুঁজে বের করে উদ্ধারের সম্ভাবনাও তত কঠিন হয়ে পড়ছে।
ত্রাণ সংস্থাগুলোর মতে, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিতদের উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। তবে আটকে পড়াদের কাছে খাবার ও পানি পৌঁছানোর সুযোগ করা গেলে এই সময়সীমা আরও বাড়তে পারে।
এই পরিস্থিতেও ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধারের কিছু ঘটনায় উদ্ধারকারীরা এখনও আশা রাখছেন। একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারকারীরা কংক্রিটের দেওয়ালের সরু ফাঁক দিয়ে একটি শিশুকে বের করে আনেন। শিশুটির পুরো শরীর ধুলোয় ঢাকা ছিল। আরেক স্থানে ধ্বংসস্তূপ আটকে পড়া এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করে স্ট্রেচারে তুলতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা।
৬ দিন আগে
কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১১১
কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে স্থানীয় সময় সোমবার ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১১১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৮৭ জন। ভূমিকম্পে দেশটির কালি শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় শত শত ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন।
দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালিতে ধসে পড়া ভবনগুলোর ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাস্থলে স্বেচ্ছাসেবীরা সারিবদ্ধভাবে বড় বড় কংক্রিটের টুকরা ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নিচ্ছেন।
আলভারো লোপেস নামে এক ব্যক্তি নিজের কুকুরকে কোলে নিয়ে উদ্ধারকাজ দেখছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ভবনটি পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। পাশের ভবনটিও পুরোপুরি ধসে পড়েছে।’
কলম্বিয়ায় উদ্ধারকাজের এই দৃশ্য প্রতিবেশী দেশ ভেনেজুয়েলায় কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা উদ্ধার তৎপরতার কথা মনে করিয়ে দেয়। দেশটিতে কিছুদিন আগে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক বিপর্যয় নেমে আসে।
কলম্বিয়ার ভূমিকম্পে কালি শহর ছাড়াও দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের পেরেইরা, কিবদো ও মানিসালেসসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাশের দেশ ইকুয়েডর ও পানামায়ও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা—ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমার এলাকায়। সান হোসে দেল পালমার প্রায় ৪ হাজার ৮০০ জনসংখ্যার একটি জনপদ। চোকো অঞ্চল কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত।
এমন দুর্যোগ পরিস্থিতিতে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েইয়া জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে অন্তত ৮৭ জন আহত হয়েছেন এবং প্রায় ১ হাজার ৬০০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৬১টি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে। উদ্ধার ও পুনর্বাসন তৎপরতায় দ্রুত অর্থ বরাদ্দের জন্য তিনি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।
প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েইয়া বলেন, ‘আমরা মানুষকে এই পরিস্থিতিতে একা ছেড়ে যাব না। আমরা দৃড় সংকল্প নিয়ে মানুষকে সহায়তা করব।’
কলম্বিয়ায় শতাব্দীর সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প
দেশটির ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, সোমবারের এই ভূমিকম্প এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, এটি ২১ শতকে দেশটিতে সংঘটিত হওয়া সব ভূমিকম্পের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এই ভূমিকম্পের পর কয়েকটি পরাঘাতও (আফটার শক) অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থলের আশপাশের কলম্বিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলটি ‘রিং অব ফায়ার’ নামে পরিচিত। প্রশান্ত মহাসাগরকে ঘিরে থাকা এই ভূমিকম্পপ্রবণ রেখায় বিশ্বের অধিকাংশ ভূমিকম্প ঘটে থাকে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত চোকো কলম্বিয়ার অন্যতম দরিদ্র অঞ্চল। চোকো অঞ্চলটি ঘন জঙ্গলে ঘেরা। চোকোর বেশিরভাগ এলাকায় নৌকা বা বিমানে যাতায়াত করতে হয়। ফলে সেখানে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র নিরূপণ করা কঠিন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কলম্বিয়র রিসারালদা অঞ্চলে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া, ভায়ে দেল কাউকা অঞ্চলে নিহত হয়েছেন ২৭ জন। ভায়ে দেল কাউকা অঞ্চলের কালি শহরে নিহতদের মধ্যে তিনটি শিশুও রয়েছে।
এ ছাড়াও দেশটির চোকো অঞ্চলে ৯ জন, কালদাস অঞ্চলে ২ জন ও আনতিওকিয়া অঞ্চলে ৭৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহতদের বাকি ৩২ জনের কোথায় মৃত্যু হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
গত জুনের শেষ দিকে প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি ভূমিকম্পে শত শত ভবন ধসে পড়ে। এতে ৬ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন। এরপর কলম্বিয়ায় নতুন এই ভূমিকম্পে আন্দীয় এই দেশটির মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে, সোমবার বিকেলে কলম্বিয়ার বাসিন্দারা নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে তাদের তথ্য ডিজিটাল ডেটাবেসে দিতে শুরু করেছেন। ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের পরও সাধারণ মানুষ একইভাবে নিখোঁজ স্বজনদের তথ্য দিয়েছিলেন। একটি ডেটাবেসে ২ হাজারেরও বেশি মানুষের নাম যুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে বেশিরভাগই কালি ও পেরেইরা শহরের বাসিন্দা। এই সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
অপরদিকে, ভূমিকম্পে ভবন ধসে পড়ার পর পরিবারের সদস্যরা মরিয়া হয়ে নিখোঁজদের সন্ধান চালাচ্ছেন। পেরেইরার এক তরুণী মা ও তার শিশুর ছবি নিয়ে স্বজনরা তাদের খুঁজছেন। এদিকে, কালি শহরের ৮০ বছর বয়সী এক নারীর ছবি নিয়ে তার খোঁজ করছেন স্বজনরা।
৭ দিন আগে
জাপানে ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩৪
জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। পানির সংকট, জ্বালানির অভাব এবং তীব্র গরমের মধ্যে হাজারো দুর্গত মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা ব্যক্তিগত গাড়িতে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ফলে তীব্র গরমের মাঝে অসুস্থতার আশঙ্কাও বাড়ছে।
কুমামোতোর স্থানীয় সরকার শুক্রবার (৩১ জুলাই) এ তথ্য জানায়।
এদিকে, শনিবার (১ আগস্ট) নিখোঁজদের উদ্ধারে চতুর্থ দিনের মতো অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ভূমিকম্পে একটি শপিংমলে বিস্ফোরণ, একটি কারখানার চিমনি ধসে পড়া এবং অসংখ্য বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, যেকোনো মূল্যে দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য সামরিক বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
ভূমিকম্পে হাজারো বাড়ি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হলেও শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যে সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনঃস্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।
গত মঙ্গলবার জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রধান দ্বীপ কিউশুতে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। উদ্ধার অভিযান চতুর্থ দিনে গড়ালেও এখনও ঠিক কতজন নিখোঁজ রয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাবে, ভূমিকম্পে দেড় হাজারের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৭৯টি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এই দুর্যোগে অন্তত ৯৬ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পানি ও জ্বালানির সংকটে বাড়ছে দুর্ভোগ
কুমামোতো প্রশাসন জানিয়েছে, প্রায় ৮০ হাজার বাড়িতে এখনও পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ৯ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। সেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর জন্য অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অনেক পেট্রোল পাম্প অচল হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে অন্যান্য এলাকা থেকে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।
গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার কারণে অনেকেই নিজেদের গাড়িতে রাত কাটাচ্ছেন। তবে জ্বালানির অভাবে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালিয়ে রাখা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার কুমামোতো শহরের জন্য চরম তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়। সেদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়।
ভূমিকম্পে ঘর হারানো হিরোকাজু সাতো বলেন, অস্থায়ী বাসস্থানে যাওয়ার সুযোগ না পাওয়া পর্যন্ত তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে গাড়িতেই থাকবেন।
তিনি বলেন, ‘কবে অস্থায়ী বাসায় উঠতে পারব, জানি না। দিন-রাত এয়ার কন্ডিশনার চালিয়ে রাখতে হচ্ছে, এতে প্রচুর জ্বালানি খরচ হচ্ছে।’
শিল্প উৎপাদনেও প্রভাবের আশঙ্কা
কুমামোতো জাপানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর ও গাড়ির যন্ত্রাংশ উৎপাদনের জন্য অঞ্চলটি পরিচিত। ফলে ভূমিকম্পের কারণে এ খাতগুলোর সরবরাহ ব্যবস্থা কয়েক মাস ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির (টিএসএমসি) কুমামোতোতে একটি গবেষণাগার রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের সব কর্মী নিরাপদ আছেন। ভূমিকম্প-পরবর্তী প্রাথমিক পরিদর্শনে ভবন কাঠামো নিরাপদ পাওয়া গেছে এবং ধীরে ধীরে কার্যক্রম পুনরায় শুরু হচ্ছে। তবে বিস্তারিত মূল্যায়ন এখনও চলছে।
নিখোঁজের সংখ্যা এখনও অজানা
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্ঘটনার পর প্রথম তিন দিন জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় শুক্রবার বিকেলকে উদ্ধার অভিযানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন জাপানি কর্মকর্তারা।
উদ্ধারকারী কুকুরের সহায়তায় কুমামোতোজুড়ে ধ্বংসস্তূপে জীবিত মানুষের সন্ধান চলছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোর একটি কাশিমা শহরের ধসে পড়া এইয়ন শপিংমলেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের সময় শপিংমলটিতে হাজারো মানুষ ছিলেন। বিস্ফোরণের আগে প্রায় তিন হাজার ক্রেতাকে পার্কিং এলাকায় সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হলেও ভবনের অন্য অংশে কর্মরত কিছু কর্মী ভেতরেই রয়ে যান। পরে ভবনের দ্বিতীয় তলা ধসে পড়ে।
সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া ১১ জনের মধ্যে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে আরও কেউ নিখোঁজ রয়েছেন কি না, তা জানায়নি কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে ইয়াতসুশিরোর নিপ্পন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজ কারখানায় ধসে পড়া চিমনির নিচে উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে। সেখানে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া ১১ জনের মধ্যে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
এ ছাড়াও দক্ষিণ কুমামোতোর বিভিন্ন শহরে ধসে পড়া বাড়িঘরে ছোট পরিসরে উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে। তবে মোট কতজন নিখোঁজ রয়েছেন, সে বিষয়ে এখনও কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
১৭ দিন আগে
ভূমিকম্প প্রস্তুতিতে জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন ও এক লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ভূমিকম্প-পরবর্তী জরুরি সাড়া ও উদ্ধার কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন এবং ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য এক লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল ৪টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভূমিকম্প বিষয়ক প্রস্তুতি সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় ভূমিকম্প-পরবর্তী জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে ঢাকা ও আশপাশের এলাকার জন্য এক লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত, তাদের প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এ সময় জানানো হয়, ইতোমধ্যে ৭০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের ডাটাবেজ প্রস্তুত করা হয়েছে। বাকি ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকও শিগগিরই অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
বৈঠকে ভূমিকম্প মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ভূমিকম্প প্রস্তুতি বিষয়ক একটি বিশেষ সেল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ ছাড়া সম্ভাব্য দুর্যোগের সময় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার উপায় এবং ঢাকা শহরে হিউম্যানিটারিয়ান স্টেজিং এরিয়া (এইচএসএ) বা মানবিক সহায়তা প্রস্তুতি কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়।
সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মো. সাইদুর রহমান খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২০ দিন আগে
দেশে ভূমিকম্পজনিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতার আহ্বান গণপূর্তমন্ত্রীর
বাংলাদেশে ভূমিকম্পজনিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা জোরদারের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ আর্থকোয়েক সেফটি অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বিইএসআরআই)’ প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা কামনা করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।
বুধবার (১৫ জুলাই) সচিবালয়ে তার দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকালে তিনি এ আহ্বান করেন ।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বাংলাদেশের আবাসন খাত, জাতীয় বিল্ডিং কোড, নগর উন্নয়ন, সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন ব্যবস্থা এবং পাবলিক প্লেস ও পার্কের উন্নয়নসহ দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, তার দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের আবাসন খাতের উন্নয়নে কাজ করতে আগ্রহী।
এ সময় গৃহায়নমন্ত্রী বাংলাদেশে ভূমিকম্পজনিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা জোরদারের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ আর্থকোয়েক সেফটি অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বিইএসআরআই)’ প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল মতিন, যুগ্ম সচিব আবুল বাকের মো. তৌহিদ এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
মার্কিন প্রতিনিধিদলের পক্ষে পলিটিক্যাল কাউন্সিলর এরিক গিলান, পলিটিক্যাল কর্মকর্তা জশ পোপ এবং যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পাবলিক কূটনৈতিক শাখার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৩৪ দিন আগে
ভূমিকম্পের ৬ দিন পর ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত শিশু উদ্ধার
ভেনেজুয়েলায় গত সপ্তাহে আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পের ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একটি শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানের ষষ্ঠ দিনে একমাত্র এই শিশুটিকেই জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভোরে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। তার নাম ক্লিবার মোরান।
ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৯৪৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন ১০ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। কারণ প্রতিদিনই ধ্বংসস্তূপ থেকে নতুন নতুন মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। এ ঘটনার পর অতিরিক্ত মরদেহর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে মর্গগুলো।
ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জানান, উদ্ধারকারীরা লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যের লস কোরালেস গার্ডেন-১ ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে ক্লিবার মোরানকে উদ্ধার করেন। শিশুটির বয়স ৩ বছর বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। তবে, জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ বলেছেন, শিশুটির বয়স ২ বছর।
উদ্ধার হওয়ার পর মোরানকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডন্ট।
গত বুধবার এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে ভেনেজুয়েলায় ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে সেখানে অসংখ্য ভবন ধসে পড়ে। এর ফলে হাজার হাজার মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন।
হোর্হে রদ্রিগেজ টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষকে জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আজ ভোরে ধ্বংসস্তূপ থেকে দুই বছর বয়সী এক শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে সে কারাকাসের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছে।’
এদিকে, মঙ্গলবার ভেনেজুয়েলার এই ভূমিকম্পের পর জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফের একটি দল ৪৭ টন সহায়তাসামগ্রী নিয়ে ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছে। এ বিষয়ে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক জানান, এসব সরঞ্জাম সংকটে থাকা শিশু ও পরিবারগুলোর সহায়তায় ব্যবহার করা হবে।
তিনি আরও জানান, জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য ভেনেজুয়েলায় স্বাস্থ্য কিট পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিরাপদ প্রসব, নবজাতকের পরিচর্যা, রোগ প্রতিরোধ এবং চিকিৎসাসামগ্রী।
এদিকে, ভূমিকম্প থেকে বেঁচে যাওয়া মানুষের মধ্যে মানবিক সংকট ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, বাস্তুচ্যুত হাজার হাজার মানুষ কয়েক দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে। অস্বাস্থ্যকর ও অতিরিক্ত ভিড়পূর্ণ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করায় তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পে প্রায় ৫৯ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা কয়েক লাখে পৌঁছাতে পারে।
ইউনিসেফ মঙ্গলবার জানিয়েছে, দেশটিতে বর্তমানে ছয় লাখ ৮০ হাজার শিশু মানবিক সহায়তার প্রয়োজনের মধ্যে রয়েছে।
৪৮ দিন আগে