জিম্বাবুয়ের কারিবা হ্রদে ফেরিডুবির ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮ জনে ।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জাম্বিয়ার সীমান্তবর্তী কারিবা হ্রদে ফেরিটি ডুবে যায়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন থেকে এ খবর জানা গেছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে প্রবল বাতাসের মধ্যে ফেরিটি উল্টে যায়।
সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, এটি জিম্বাবুয়ের ইতিহাসে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে বড় প্রাণঘাতী নৌদুর্ঘটনা।
এদিকে, সর্বশেষ দেশটির সিভিল প্রোটেকশন ইউনিট (সিপিইউ) জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ৭৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে টিকিট বিক্রির তথ্যের সূত্র দিয়ে সিপিইউ জানিয়েছিল, ফেরিটিতে ৯০ জন যাত্রী বহনের সক্ষমতা থাকলেও দুর্ঘটনার সময় এতে ১১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী ও পাঁচজন ক্রু ছিলেন। এছাড়া বেশকিছু শিশুও ফেরিটিতে ছিল।
উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত নৌবাহিনীর ইউনিটের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল জোসেফ মুচেচেসি বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত আমরা ২২টি মরদেহ উদ্ধার করতে পেরেছি। আশা করি আমরা সব মরদেহ উদ্ধার করতে পারব।’
জিম্বাবুয়ের পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১৮টি শিশু রয়েছে। প্রাথমিকভাবে তারা ধারণা করছেন, যাত্রীদের বেশিরভাগই কারিবা শহরের আশপাশের এলাকার বাসিন্দা ও মাছ ব্যবসায়ী চিরৈণ।
দুর্ঘটনার দিন কারিবা শহরের জেলা হাসপাতালে স্বজনদের মরদেহ শনাক্ত করতে শত শত মানুষ জড়ো হন।
গত বৃহস্পতিবার কারিবা শহরে একটি গণ-স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর শহরটিতে একে একে মরদেহ দাফন শুরু হয়।
এ দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা জানিয়েছেন, ফেরিটি ছাড়ার পরপরই পানি ঢুকতে শুরু করলে তারা চালককে ফিরে যেতে অনুরোধ করেছিলেন।
বেঁচে যাওয়া যাত্রী ৪৫ বছর বয়সী চান্সে সিয়ামাভু বলেন, ‘সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ। একটি ঢেউ ডুবে যাওয়া ফেরিটিকে আবার ভাসিয়ে তুললে আমরা সেটির ওপর উঠে প্রাণে বাঁচতে পেরেছিলাম।’
তিনি বলেন, ‘নৌকাটি উল্টে যাওয়ার পর বেশিরভাগ মানুষ লাইফ জ্যাকেট নেওয়ার জন্য ছোটাছুটি করছিলেন। কিন্তু তাদের অধিকাংশই সেগুলো কীভাবে ব্যবহার করতে হয় তা জানতেন না। বেশিরভাগ মানুষই বাঁচতে পারেননি।’
কারিবা হ্রদ আয়তন ও ধারণক্ষমতার দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম মানবসৃষ্ট হ্রদ। এটি ২০০ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ এবং এর প্রস্থ ৪০ কিলোমিটার।
জিম্বাবুয়ের উত্তর সীমান্ত বরাবর জাম্বিয়ার সঙ্গে প্রায় ২৪১ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত এই হ্রদটি ১৯৫০-এর দশকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে জাম্বেজি নদীতে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে সৃষ্টি করা হয়। হ্রদটি তৈরির সময় প্রায় ৫৭ হাজার মানুষকে তাদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল।
এর আগে হ্রদটির জিম্বাবুয়ে অংশে ২০২১ সালের একটি নৌদুর্ঘটনায় পাঁচ যাত্রী ডুবে মারা যান।
তার আগে ২০১৪ সালে হ্রদের জাম্বিয়া অংশে ২৬ জন ডুবে মারা যান, যাদের মধ্যে ২৪ জনই ছিল শিশু। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তাদের বহনকারী নৌকাটি উল্টে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।