ফিলিপাইনে নির্মাণাধীন ৯ তলা একটি ভবন ধসে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখনও ১৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
হতাতহত ও নিখোঁজদের বেশিরভাগই ছিলেন নির্মাণশ্রমিক। আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৪ মে) ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলের অ্যাঞ্জেলেস সিটিতে এই ভবন ধসের ঘটনা ঘটে।
উদ্ধার হওয়া তিনজনের মধ্যে দুজন পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আরেকজনকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনতে সক্ষম হন উদ্ধারকর্মীরা। সঙ্গে সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সে জরুরি সেবাকর্মীরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনিও মারা যান।
এ সময় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সাংবাদিকসহ আরও কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তারা দেখেন, শত শত উদ্ধারকর্মী, দমকলবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে কংক্রিটের স্ল্যাব, লোহার রড ও অ্যালুমিনিয়ামের স্ক্যাফোল্ডিংয়ের নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের বের করে আনার চেষ্টা করছেন। আটকে থাকা অবস্থায় তখনও তারা জীবিত ছিলেন। কিন্তু তাদের বের করে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আটকে পড়া এক ব্যক্তিকে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বাঁচিয়ে রাখতে উদ্ধারকারীরা তাকে পানি ও শিরায় ওষুধ দেওয়ার চেষ্টা করেন। আঞ্চলিক পুলিশ প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জেস মেন্দেজ এপিকে বলেন, আটকে পড়া ওই ব্যক্তিকে বাঁচাতে সব ধরনের চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।
সোমবার ধ্বংসস্তূপ থেকে যাদের উদ্ধার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে একজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তার সম্পর্কে অ্যাঞ্জেলেস সিটির প্রধান তথ্য কর্মকর্তা জে পেলায়ো জানান, উদ্ধার করা ওই ব্যক্তি নিখোঁজ ১৭ জনের তালিকায় ছিলেন না।
এছাড়া এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া চতুর্থ নিহত ব্যক্তি ছিলেন এক মালয়েশিয়ান পর্যটক। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসাবশেষের একটি অংশ পাশের একটি সরাইখানার ওপর গিয়ে পড়লে তিনি সেখানে আটকা পড়েন। পরে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
গতকাল (রবিবার) প্রবল বজ্রঝড়ের পর বিকট শব্দে ভবনটি ধসে পড়ে। এক দিন পার হয়ে গেলেও উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে। অ্যাঞ্জেলেস সিটির মেয়র কারমেলো লাজাতিন বলেন, আগে জীবিতদের উদ্ধার অভিযান চলবে। এরপর মরদেহগুলো উদ্ধার করা হবে।
তিনি বলেন, আমার এখনও আশা আছে, আমরা আরও মানুষকে জীবিত উদ্ধার করতে পারব। আমরা আটকে পড়া শ্রমিকদের পরিবারকে আশাহত করতে চাই না।
ধ্বংসস্তূপের পাশেই অস্থায়ীভাবে আশ্রয় তৈরি করে অপেক্ষা করে যাচ্ছেন নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজনরা। তাদের সবার মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক কাজ করছে।
মেয়র লাজাতিন বলেন, উদ্ধারকারীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছেন। কারণ বিশাল কংক্রিটের স্ল্যাবগুলো অ্যালুমিনিয়ামের স্ক্যাফোল্ডিংয়ের স্তুপের ওপর ঝুঁকিপূর্ণভাবে আটকে আছে। যেকোনো সময় সেগুলো ভেঙে পড়ে উদ্ধারকর্মীদের ওপর আছড়ে পড়তে পারে।
তিনি আরও জানান, ভবন ধসের সময় সেখানে থাকা ২৬ জন শ্রমিক উদ্ধার হয়েছেন, অথবা নিজেরাই দৌড়ে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন। যারা ভবনের নিচতলায় ছিলেন, তারা দ্রুতেই বের হয়ে আসতে পেরেছেন বলে জানান তিনি।
দেশটির জাতীয় পুলিশ প্রধান জেনারেল হোসে মেলেনসিও নারতাতেজ জুনিয়র বলেন, ভবন ধসে পড়ার কারণ এবং ভবন নির্মাণে কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করবে পুলিশ।