ফিলিপাইন
ফিলিপাইনে নির্মাণাধীন ভবন ধসে ৪ জন নিহত, এখনও নিখোঁজ ১৭
ফিলিপাইনে নির্মাণাধীন ৯ তলা একটি ভবন ধসে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখনও ১৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
হতাতহত ও নিখোঁজদের বেশিরভাগই ছিলেন নির্মাণশ্রমিক। আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৪ মে) ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলের অ্যাঞ্জেলেস সিটিতে এই ভবন ধসের ঘটনা ঘটে।
উদ্ধার হওয়া তিনজনের মধ্যে দুজন পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আরেকজনকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনতে সক্ষম হন উদ্ধারকর্মীরা। সঙ্গে সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সে জরুরি সেবাকর্মীরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনিও মারা যান।
এ সময় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সাংবাদিকসহ আরও কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তারা দেখেন, শত শত উদ্ধারকর্মী, দমকলবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে কংক্রিটের স্ল্যাব, লোহার রড ও অ্যালুমিনিয়ামের স্ক্যাফোল্ডিংয়ের নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের বের করে আনার চেষ্টা করছেন। আটকে থাকা অবস্থায় তখনও তারা জীবিত ছিলেন। কিন্তু তাদের বের করে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আটকে পড়া এক ব্যক্তিকে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বাঁচিয়ে রাখতে উদ্ধারকারীরা তাকে পানি ও শিরায় ওষুধ দেওয়ার চেষ্টা করেন। আঞ্চলিক পুলিশ প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জেস মেন্দেজ এপিকে বলেন, আটকে পড়া ওই ব্যক্তিকে বাঁচাতে সব ধরনের চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।
সোমবার ধ্বংসস্তূপ থেকে যাদের উদ্ধার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে একজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তার সম্পর্কে অ্যাঞ্জেলেস সিটির প্রধান তথ্য কর্মকর্তা জে পেলায়ো জানান, উদ্ধার করা ওই ব্যক্তি নিখোঁজ ১৭ জনের তালিকায় ছিলেন না।
এছাড়া এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া চতুর্থ নিহত ব্যক্তি ছিলেন এক মালয়েশিয়ান পর্যটক। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসাবশেষের একটি অংশ পাশের একটি সরাইখানার ওপর গিয়ে পড়লে তিনি সেখানে আটকা পড়েন। পরে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
গতকাল (রবিবার) প্রবল বজ্রঝড়ের পর বিকট শব্দে ভবনটি ধসে পড়ে। এক দিন পার হয়ে গেলেও উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে। অ্যাঞ্জেলেস সিটির মেয়র কারমেলো লাজাতিন বলেন, আগে জীবিতদের উদ্ধার অভিযান চলবে। এরপর মরদেহগুলো উদ্ধার করা হবে।
তিনি বলেন, আমার এখনও আশা আছে, আমরা আরও মানুষকে জীবিত উদ্ধার করতে পারব। আমরা আটকে পড়া শ্রমিকদের পরিবারকে আশাহত করতে চাই না।
ধ্বংসস্তূপের পাশেই অস্থায়ীভাবে আশ্রয় তৈরি করে অপেক্ষা করে যাচ্ছেন নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজনরা। তাদের সবার মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক কাজ করছে।
মেয়র লাজাতিন বলেন, উদ্ধারকারীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছেন। কারণ বিশাল কংক্রিটের স্ল্যাবগুলো অ্যালুমিনিয়ামের স্ক্যাফোল্ডিংয়ের স্তুপের ওপর ঝুঁকিপূর্ণভাবে আটকে আছে। যেকোনো সময় সেগুলো ভেঙে পড়ে উদ্ধারকর্মীদের ওপর আছড়ে পড়তে পারে।
তিনি আরও জানান, ভবন ধসের সময় সেখানে থাকা ২৬ জন শ্রমিক উদ্ধার হয়েছেন, অথবা নিজেরাই দৌড়ে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন। যারা ভবনের নিচতলায় ছিলেন, তারা দ্রুতেই বের হয়ে আসতে পেরেছেন বলে জানান তিনি।
দেশটির জাতীয় পুলিশ প্রধান জেনারেল হোসে মেলেনসিও নারতাতেজ জুনিয়র বলেন, ভবন ধসে পড়ার কারণ এবং ভবন নির্মাণে কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করবে পুলিশ।
১২ দিন আগে
ফিলিপাইনে নির্মাণাধীন ৯ তলা ভবন ধস, বহু শ্রমিক নিখোঁজ
ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার উত্তরের একটি শহরে নির্মাণাধীন ৯ তলা একটি ভবন ধসে পড়েছে। এ ঘটনায় ২২ জন শ্রমিক বের হয়ে আসতে সক্ষম হলেও আরও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৪ মে) ভোরে ঝড়বৃষ্টির সময় ম্যানিলার উত্তরে পাম্পাঙ্গা প্রদেশের অ্যাঞ্জেলেস সিটিতে ভবনটি ধসে পড়ে।
ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে শতাধিক পুলিশ সদস্য ও সরকারি কর্মী অভিযান চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জেস মেনডেজ।
ঘটনাস্থল থেকে মেনডেজ জানান, তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে ভবন থেকে বের হয়ে আসা ২২ শ্রমিকের মধ্যে কয়েকজন আহত হয়েছেন। ধসে পড়া ভবনের নিচে ঠিক কতজন শ্রমিক আটকা পড়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি তিনি।
তবে অ্যাঞ্জেলেস সিটির তথ্য দপ্তরের প্রধান জে পেলায়ো বলেন, অন্তত ৩০ জন শ্রমিক এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারেন। এক নির্মাণ তদারককারীর বরাত দিয়ে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন, যিনি ভবনটি ধসে পড়ার সময় দ্রুত বের হয়ে আসতে সক্ষম হন।
অ্যাঞ্জেলেস সিটিতে একসময় যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের বাইরে সবচেয়ে বড় মার্কিন বিমানঘাঁটিগুলোর একটি ছিল। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে ওই এলাকা এবং আশপাশের শহরগুলো উত্তর ফিলিপাইনের প্রধান অঞ্চল লুজনে বিনোদন ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে।
বর্তমানে ক্লার্ক ফ্রিপোর্ট জোন নামে পরিচিত এই সাবেক মার্কিন বিমানঘাঁটি অ্যাঞ্জেলেস সিটিতে অবস্থিত। ম্যানিলা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তরে এর অবস্থান।
১৩ দিন আগে
ফিলিপাইনে মেয়ন আগ্নেয়গিরিতে লাভা উদগীরণ, ঘরবাড়ি ছেড়েছে ৩ শতাধিক পরিবার
ফিলিপাইনে গত সপ্তাহের শেষে মেয়ন আগ্নেয়গিরিতে ফের লাভা উদগীরণ শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় আশপাশের ৩ শতাধিক পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় সোমবার (৪ মে) আগ্নেয়গিরির ঢালে জমে থাকা লাভার স্তর ধসে পড়ায় বিপুল পরিমাণ ছাই আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।
ফিলিপাইন আগ্নেয়গিরি ও ভূমিকম্পবিদ্যা প্রতিষ্ঠানের পরিচারক তেরেসিতো বাকোলকল জানান, মেয়ন আগ্নেয়গিরিতে এখন পর্যন্ত কোনো বিস্ফোরণ ঘটেনি। তবে জানুয়ারি থেকে কয়েকবার অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছে। স্থানীয় সময় শনিবার (২ মে) সন্ধ্যার আগে আগ্নেয়গিরির দক্ষিণ-পশ্চিম ঢালে জমে থাকা বিপুল লাভা হঠাৎ ধসে পড়ে। এর ফলে গরম পাথর, ছাই ও গ্যাসের প্রবল ধারা নিচে নামতে থাকে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে অগ্ন্যুৎপাতে সৃষ্ট ঘন ছাই তিনটি শহরের ৮৭টি গ্রামের ওপর ছড়িয়ে পড়ে। এতে ওইসব এলাকার মানুষেরা হঠাৎ বিপাকে পড়েন। ছাইয়ের কারণে দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় সড়কে যান চলাচলও ধীর হয়ে যায়।
মেয়ন আগ্নেয়গিরির পাদদেশের কাছে অবস্থিত কামালিগ শহরের মেয়র ক্যালয় বালদো বলেন, ‘ছাই পড়ার পর পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে গিয়েছিল যে মহাসড়কে কোনো কিছু দেখা যাচ্ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনায় ওইসব এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। তাদের শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’
ক্যালয় বালদো জানান, ছাই ছড়িয়ে পড়ার কারণে কামালিগ শহরে সবজির খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দম বন্ধ করা গ্যাসে চারটি মহিষ ও একটি গরু মারা গেছে।
কামালিগ শহরটি আলবাই প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত ৮ হাজার জনসংখ্যার একটি শহর। ইতোমধ্যে এখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু হয়েছে।
তেরেসিতো বাকোলকল বলেন, ‘এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে। তবে মেয়নে অগ্ন্যুৎপাতের ঝুঁকি এখনও রয়ে গেছে।’
উল্লেখ্য, মেয়ন আগ্নেয়গিরি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২ হাজার ৪৬২ মিটার (৮ হাজার ৭৭ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত। নিখুঁত শঙ্কু আকৃতির হওয়ায় আগ্নেয়গিরিটি ফিলিপাইনের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ। তবে দেশটির ২৪টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরির মধ্যে এটি অগ্ন্যুৎপাতে সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। তাই এই আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাতের ঝুঁকিও বেশি।
আগ্নেয়গিরিটি থেকে জানুয়ারিতে ধারাবাহিক অগ্ন্যুৎপাত, বড় আকারের পাথর গড়িয়ে পড়া এবং প্রাণঘাতী পাইরোক্লাস্টিক প্রবাহ দেখা গেছে।
৩৩ দিন আগে
ফিলিপাইনে আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাত, ৪ গ্রামের স্কুল বন্ধ
ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলের একটি আগ্নেয়গিরি অল্প সময়ের জন্য সক্রিয় হয়েছিল। এর ফলে আকাশে চার কিলোমিটার (২.৪ মাইল) উঁচু ছাই এবং ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে।
কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) আগ্নেয়গিরিটির অগ্ন্যুৎপাতের ছাই ছড়িয়ে পড়লে কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত নিকটবর্তী চারটি গ্রামের স্কুলের ক্লাস বাতিল করেছে।
ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অব ভলকানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজির তথ্য অনুযায়ী, কানলাওন পর্বতের অগ্ন্যুৎপাত এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে। ছাই নেগ্রোস দ্বীপের আগ্নেয়গিরির দক্ষিণ-পশ্চিমে কমপক্ষে চারটি কৃষি গ্রামে পৌঁছেছিল। তবে এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে ডিসেম্বরে আগ্নেয়গিরিটিতে অগ্ন্যুৎপাতের ফলে হাজার হাজার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সিভিল ডিফেন্স অফিস জানিয়েছে, বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাদের অনেকেই আজ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। কারণ, কানলাওন যেকোনো সময় সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে—এমন লক্ষণ প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে।
আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মেরাপিতে অগ্ন্যুৎপাত
ফিলিপাইনের প্রধান আগ্নেয়গিরি বিশেষজ্ঞ তেরেসিতো বাকোলকোল অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) বলেছেন, আগ্নেয়গিরির ভূমিকম্প বৃদ্ধির মতো উচ্চতর আগ্নেয়গিরির ক্রিয়াকলাপের কোনো উল্লেখযোগ্য নতুন সূচক নেই। এজন্য সতর্কতার বর্তমান স্তর ৩ থেকে বাড়ানোর প্রয়োজন হবে—যা ‘উচ্চ স্তরের আগ্নেয়গিরির অস্থিরতা’ নির্দেশ করে। সর্বোচ্চ সতর্কতা স্তর ৫ সংকেতটি তখনি দেওয়া হয়—যখন একটি ‘বিপজ্জনক অগ্ন্যুৎপাত হয়’।
জনগণকে সতর্ক থাকতে এবং আগ্নেয়গিরির চারপাশে ৬ কিলোমিটার (৩.৭ মাইল) স্থায়ী বিপদজনক অঞ্চল এড়াতে পরামর্শ দিয়ে বেকোলকোল বলেন, ‘বড় অগ্ন্যুৎপাতের সম্ভাবনা সবসময়ই থাকে।’
মাউন্ট কানলাওন ২ হাজার ৪৩৫ মিটার (৭৯৮৮ ফুট) লম্বা এবং ফিলিপাইনের ২৪টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরির মধ্যে একটি।
কর্মকর্তারা স্মরণ করেন যে, ১৯৯৬ সালে চূড়ার কাছে অপ্রত্যাশিত অগ্ন্যুৎপাতের পর তিনজন পর্বতারোহী মারা যান এবং বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয়।
ফিলিপাইন প্রশান্ত মহাসাগরের 'রিং অব ফায়ার' বরাবর অবস্থিত। এর ফলে ঘন ঘন ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের জন্য পরিচিত দেশটি। ফিলিপাইনে বছরে প্রায় ২০টি টাইফুন এবং ঝড়ের কবলে পড়ে। আর একারণে এটি সারা বিশ্বের মধ্যে একটি অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চল।
৪২৪ দিন আগে
আইসিসির পরোয়ানায় ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট দুতার্তে গ্রেপ্তার
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) নির্দেশে ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ মার্চ) ম্যানিলার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ফিলিপাইন সরকার তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
দেশটির প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোসের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হংকং থেকে দেশে আসার পর আইসিসির নির্দেশে পুলিশ দুতার্তেকে গ্রেপ্তার করেছে। অবৈধ মাদকের বিরুদ্ধে সাবেক এই প্রেসিডেন্টের চালানো অভিযানে ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে।
আরও পড়ুন: ফিলিপাইনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন সারা দুতার্তে
আইসিসি দুতার্তের শাসনামলে মাদক নির্মূলের নামে চালানো অভিযানে হত্যাকাণ্ডগুলোকে সম্ভাব্য মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে তদন্ত করছে। এর মধ্যে ২০১১ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ১৬ মার্চ পর্যন্ত দেশটির প্রেসিডেন্ট ও দক্ষিণাঞ্চলের শহর দাভাওয়ের মেয়র থাকাকালীন সময় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, হত্যাকাণ্ডের দায় এড়াতে ২০১৯ সালে ফিলিপাইনকে রোম সংবিধি থেকে প্রত্যাহার করে নেন দুতার্তে।
দুতার্তে প্রশাসন ২০২১ সালের শেষের দিকে আন্তর্জাতিক আদালতের তদন্ত স্থগিত করার পদক্ষেপ নিয়েছিল। আইসিসির আদালত হলো সর্বশেষ অবলম্বন। আইসিসির আর বিচার করার এখতিয়ার নেই—এমন যুক্তি দিয়ে সেসময় তার প্রশাসন বলেছিল, ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে একই অভিযোগ খতিয়ে দেখছে।
আরও পড়ুন: ঈশ্বরের অস্তিত্বের প্রমাণ দিতে পারলে পদত্যাগ করবেন দুতার্তে
৪৫২ দিন আগে
নিখোঁজ যুদ্ধবিমানের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে ফিলিপাইন
সোমবার দিবাগত রাতে কৌশলগত অভিযানের সময় নিখোঁজ হওয়া একটি এফএ-৫০ যুদ্ধবিমানের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে ফিলিপাইনের বিমান বাহিনী।
মঙ্গলবার (৪ মার্চ) দেশটির বিমান বাহিনী (পিএএফ) এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ‘লক্ষ্যস্থলে পৌঁছানোর কয়েক মিনিট আগে অভিযানে অংশ নেওয়া অন্যান্য বিমানের সঙ্গে বিমানটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।’
অন্য বিমানগুলো মধ্য ফিলিপাইনের সেবু প্রদেশের ম্যাকটানে ফিরে না আসা পর্যন্ত বারবার নিখোঁজ বিমানটির সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেছিল।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘পিএএফ নিখোঁজ জেট ফাইটার বিমানটি শনাক্ত করতে সমস্ত সুবিধা ও উপকরণ ব্যবহার করে বিস্তৃত এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান অভিযান পরিচালনা করছে।’
আরও পড়ন: ভারতের নাগপুরে ফ্লাইটের জরুরি অবতরণ ও ঘটনার বিষয়ে বিমানের ব্যাখ্যা
পিএএফ জানিয়েছে, তাদের প্রাথমিক উদ্বেগ বিমানের বিমানকর্মীদের নিরাপদে ফিরে আসা নিয়ে।
ফিলিপাইনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, ‘ আমরা আশা করছি খুব শিগগিরই তাদের ও বিমানটিকে খুঁজে বের করা সম্ভব হবে।’
৪৫৯ দিন আগে
ফিলিপাইনে বন্যায় নিহত ৩, নিখোঁজ ২
ফিলিপাইনে বন্যার পানিতে একটি ভ্যানগাড়ি ডুবে গিয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে নিখোঁজ রয়েছেন আরও দুইজন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এসব হতাহতের বিষয় নিশ্চিত করেছে।
রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় পালাওয়ান প্রদেশে এসমব হতাহতের ঘটনা ঘটে।
পালাওয়ান প্রদেশের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ের ম্যাক ভিলারোসা সোমবার রাতে বলেন, ১২ জন যাত্রী বহনকারী ভ্যানটি রবিবার রাতে বন্যার পানিতে আটকা পড়ে।
আরও পড়ুন: ফিলিপাইনে জাহাজে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২
ম্যাক ভিলারোসা বলেন, ওই গাড়িতে থাকা ১২ যাত্রীর মধ্যে সোমবার ৩ জনের লাশসহ সাতজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন দুইজন। নিখোঁজরা হলেন ভ্যানের চালক ও তার স্ত্রী।
প্রাদেশিক জরুরি অপারেশন সেন্টার জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট ব্যাপক বন্যার কারণে সোমবার বিকাল পর্যন্ত পালাওয়ানের কমপক্ষে চারটি শহর থেকে ১ হাজার ৪৫৪টি পরিবারকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ফিলিপাইনে ট্রাকচাপায় নিহত ৭
৪৮০ দিন আগে
ফিলিপাইনে জাহাজে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২
ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার শিপইয়ার্ডে জাহাজ মেরামতের সময় অগ্নিকাণ্ডে জাহাজের স্টোরেজ রুমে আটকে পড়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) দেশটির অগ্নিনির্বাপক ব্যুরো এই তথ্য জানিয়েছে।
দমকল কর্মী রোনালদো সানচেজ জানান, সোমবার স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে আগুন লেগে নাভোটাস সিটির শিপইয়ার্ডে জাহাজ মেরামতের কাজে নিয়োজিত ২৫ শ্রমিকের মধ্যে দুই ওয়েল্ডার নিহত হয়েছেন।
সানচেজ আরও জানান, জাহাজের ব্যালাস্ট ট্যাঙ্কের কাছে স্টোরেজ রুমের ভিতরে নিহতদের লাশ পাওয়া গেছে।
আগুন নেভাতে দমকল কর্মীদের পাঁচ ঘণ্টা সময় লেগেছে বলেও জানান এই দমকল কর্মী।
সানচেজ বলেন, আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: ফিলিপাইনে ট্রাকচাপায় নিহত ৭
৪৯৪ দিন আগে
ফিলিপাইনের ভিগান ভ্রমণ গাইড : ঘুরে আসুন ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান
অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি গোটা বিশ্বে এশিয়ার দেশগুলোর ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিরও রয়েছে ব্যাপক সমাদর। তারমধ্যে সবচেয়ে ব্যতিক্রমী সংস্কৃতির ভূখণ্ডগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ফিলিপাইন। জাঁকজমক শহর থেকে শান্ত দ্বীপ পর্যন্ত বিচিত্রতার সঙ্গে এখানে এমন এক ভিন্নতা রয়েছে, যার সঙ্গে এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর কদাচিৎ সাদৃশ্য মেলে। পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরের কোলঘেঁসে দেশের বৃহত্তম দ্বীপ লুজোনের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত ভিগান ঠিক তেমনি একটি শহর। প্রায় ৩ শতাব্দি পূর্ব স্প্যানিশ শিল্পকলা ও ঔপনিবেশিক স্থাপত্য এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছে এই দ্বীপ নগরীতে। চলুন, ফিলিপাইন্সের সাগর পাড়ের ছবির মতো শহর ভিগানের সেরা পর্যটন আকর্ষণগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই।
ভিগান শহরের বিশেষত্ব
ফিলিপাইনের ইলোকোস সুর প্রদেশের এই রাজধানী দেশের অবশিষ্ট স্প্যানিশ ঔপনিবেশিক শহরগুলোর মধ্যে একটি, যার পুরোনো অবকাঠামোগুলোর বেশিরভাগই অক্ষত আছে। এর পায়ে হাঁটা পথ থেকে শুরু করে প্রায় প্রতিটি স্থাপনায় স্পষ্ট চোখে পড়ে স্প্যানিশ ঔপনিবেশিক যুগের অনন্য স্থাপত্যশৈলী। ইউনেস্কো প্রথমে নগরীটিকে তাদের বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষণা করে। পরবর্তীতে এটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী শহর হিসেবেও স্বীকৃতি পায়। ২০১৫ সালের মে মাসে ভিগানকে নিউ ৭ ওয়ান্ডার সিটিগুলোর মধ্যে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।
ভিগান শহরের জনপ্রিয় কয়েকটি দর্শনীয় স্থান
.
কালি ক্রিসলগো
স্প্যানিশ শৈলীর চিহ্নগুলো সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ভিগানের মেস্টিজোতে, যার প্রাণকেন্দ্র এই কালি ক্রিসলগো। এখানকার বাড়িগুলো মূলত ১৭ শতকের ফিলিপিনো-চীনা ব্যবসায়ীদের পরিবারের। সারিবদ্ধ মুচির এই রাস্তাগুলোর ওপর দিয়েই বিপণী হতো সেই সময়কার বিখ্যাত অ্যাবেল কাপড়, সোনা ও তামাকের।
আরো পড়ুন: দার্জিলিংয়ের টংলু ও সান্দাকফু যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
ঘরগুলোর ছাদের লাল টাইলস, অত্যধিক মোটা দেয়াল, বৃহদাকৃতির দরজা, সিঁড়ির ধাপ, উঁচু সিলিং এবং জানালা পর্যন্ত স্লাইডিং ক্যাপিজ শেল ছবি তোলার দারুণ ব্যাকগ্রাউন্ড দেয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এগুলো টিকে রয়েছে শত শত প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগের ভেতর দিয়ে। যে অংশগুলো ভেঙে গেছে তা অবিলম্বে মেরামত করে নিয়েছে বসবাসরত পরিবারগুলো। কেবল পূর্বসূরীদের ভিটে-বাড়ি বলেই নয়, বিগুয়েনরা (ভিগানের স্থানীয়দের জাতিগত নাম) বেশ শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গির।
কিছু কিছু স্থাপনা পরিণত হয়েছে দোকান, জাদুঘর, সরাইখানা ও রেস্তোরাঁয়। অথচ এগুলোর গ্রিল এবং কাঠের সুক্ষ্ম কারুকাজ এখনও দর্শনার্থীদের মনে করিয়ে দেয় ৩ শতাব্দির আগের সময়ের কথা।
সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে সৃষ্টি হয় সেই ১৮ শতকের প্রদীপ জ্বালানো রাস্তার আলো-আধারী পরিবেশ যা পর্যটকদের আরও বিমোহিত করে তোলে।
প্লাজা সালসেডো
ভিগানের একদম কেন্দ্রে অবস্থিত এই প্লাজা ও এর আশপাশ শহরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ট্যুরিস্ট স্পট।
মধ্যযুগীয় স্প্যানিশ ঘরানায় বানানো প্লাজা সালসেডোকে ঘিরে রয়েছে টাউন হল, শপিং সেন্টার, গির্জা এবং ফুড কোর্ট।
আরো পড়ুন: নেপালের অন্নপূর্ণা ট্রেকিংয়ে যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
প্লাজার ঠিক কেন্দ্রে রয়েছে একটি কৃত্রিম ফোয়ারা। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটের জন্য চালু করা হয় এই শো। সপ্তাহান্তে এটি শুরু হয় রাত সাড়ে ৮টায়।
৫৫১ দিন আগে
জাতিসংঘের আলোচনায় কৃষকদের জন্য জলবায়ু তহবিলের অংশ দাবি
অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে এ বছর ফিলিপাইনের এসথার পেনুনিয়ার ছোট খামারে আনারস নষ্ট হয়ে গেছে।
এশিয়ান ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল পেনুনিয়া জীবিকা নির্বাহের জন্য খামারের উপর নির্ভর করেন না। তাই তিনি বিপর্যস্ত হওয়ার চেয়ে বেশি হতাশ হয়েছেন।
তবে পেনুনিয়া চিন্তিত তার মতো বিশ্বব্যাপী লাখো ক্ষুদ্র কৃষকদের নিয়ে। কারণ তারা ধানখেত, নারকেল বাগান এবং সবজি খেতের উপর নির্ভরশীল। অথচ সবই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হুমকির মুখে।
এটাই কারণে এ বছরের জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করতে বরাদ্দের কিছু অংশ কৃষি খাতে দেবে বলে আশা করছেন তিনি। বিশেষ করে যারা বিশ্বের অনেক অঞ্চলে অধিকাংশ মানুষকে খাদ্য সরবরাহ করে, এমন কৃষিজীবী পরিবারের জন্য।
তিনি বলেন, ‘আপনি যদি ক্ষুদ্র কৃষকদের সাহায্য না করেন, তাহলে আপনি খাবার কোথা থেকে পাবেন? কে আপনার জন্য কৃষিকাজ করবে? কে মাছ ধরবে, কে মধু সংগ্রহ করবে, কে আপনার সবজি রোপণ করবে?’
আরও পড়ুন: মিয়ানমারের রাখাইনে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের পূর্বাভাস জাতিসংঘের
গ্লোবাল সাউথের অনেক দেশের জন্য অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন। বিশেষ করে টাইফুনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মাঠের পুনরুদ্ধার, কৃষকদের অত্যাধিক খরা থেকে সুরক্ষিত রাখতে এবং উষ্ণ পৃথিবীর জন্য ভালো বীজ, ভালো সার ও উন্নত সেচ অবকাঠামো প্রস্তুত করতে এই অর্থ প্রয়োজন।
তবে, বিশ্ব সম্পদ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞদের মতে, দরিদ্র দেশগুলোর প্রয়োজন ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের জলবায়ু অর্থায়ন। অর্থাৎ ধনী দেশগুলো যে পরিমাণ অর্থ দিতে প্রস্তুত তার মধ্যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে।
যে চুক্তিই হোক না কেন, এটা নিশ্চিত যে টাকা সংগ্রহ করতে হবে। এখানে একটি বিষয় নিয়ে বিতর্ক রয়েছে-ঠিক কতটুকু অর্থ কৃষির জন্য এবং কতটুকু অর্থ জীবাশ্ম জ্বালানির নির্গমন কমানোর জন্য বরাদ্দ দেওয়া উচিত।
ক্লাইমেট পলিসি ইনিশিয়েটিভের গত বছরের রিপোর্ট অনুযায়ী, ক্ষুদ্র কৃষকরা জলবায়ু অর্থায়নের ১ শতাংশেরও কম পান। একই সময়, খাদ্য ব্যবস্থা—অর্থাৎ খাবার তৈরি, পরিবহন ও নিষ্পত্তির সব প্রক্রিয়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত। পৃথিবীর এক তৃতীয়াংশ উষ্ণায়নের জন্য গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন দায়ী।
উষ্ণ হয়ে যাওয়া জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে কৃষকদের প্রচেষ্টা আরও কঠিন হয়ে ওঠছে বলে মন্তব্য করেছেন সিজিআইএআরের নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইসমাহানে এলৌফি। কপ২৯-এ ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য জলবায়ু-স্মার্ট সমাধান নিয়ে একটি প্যানেল আলোচনা চলাকালে তিনি বলেন, ‘যদি আমরা এই সমস্যার সমাধান করতে চাই, তবে আমরা কীভাবে এমন একটি খাতে বিনিয়োগ না করে থাকব, যা সমস্যার তৃতীয়াংশের জন্য দায়ী?’
জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে কৃষির অভিযোজনের জন্য কেন দেশগুলোকে সহায়তা করা উচিত তার একটি সহজ কারণ তুলে ধরেন সেভ সয়েল নামে একটি আন্দোলনের প্রধান বৈজ্ঞানিক এবং কারিগরি কর্মকর্তা প্রবীনা শ্রীধর।
যেখানে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানোর ব্যাপারে সম্মত হওয়া অনেক কঠিন, সেখানে কৃষি সমাধানগুলোর জন্য সহায়তা প্রদান করা তুলনামূলকভাবে সহজ হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, ‘আমরা এখনও ধাঁধাটি সমাধান করতে পারিনি। কিন্তু সেসব ধাঁধার যেটুকু সমাধান করতে পেরেছি আমরা, সেগুলো দেখে কাজ শুরু করছি না কেন?’
তবুও অন্যরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন, এর ফলে জীবাশ্ম জ্বালানি মোকাবিলান মতো সবচেয়ে বড় সমস্যা থেকে মনোযোগ সরে যাবে।
বার্কলে আর্থের একটি গবেষণা সংস্থার বিজ্ঞানী জেক হাউসফাদার একটি ইমেইল বার্তায় বলেন, কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গমন কমাতে ভূমি ব্যবস্থাপনার পরিবর্তনে ‘সত্যিকার সম্ভাবনা’ রয়েছে।
তবে তিনি বলেন, বৈশ্বিকভাবে এর মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় এক বিলিয়ন টন কার্বন ডাইঅক্সাইড কমানো সম্ভব। যদিও বিশ্বে প্রতি বছর যে ৪০ বিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয়, এটি তার একটি ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ মাত্র।
আরও পড়ুন: যেকোনো হত্যাকাণ্ডের তদন্ত হওয়া উচিত: জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান
৫৬৪ দিন আগে