নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, এবারের নির্বাচন হবে ‘লাইনচ্যুত ট্রেনকে’ লাইনে ফিরিয়ে আনার নির্বাচন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনজিও ব্যুরোর সম্মেলনকক্ষে ৮১টি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থার মোর্চা ‘এলায়েন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’র (এএফইডি) একটি প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
উদাহরণ দিয়ে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘২০২৬ সালের নির্বাচনকে আমি যদি একটু রূপকভাবে বলি—এটা অনেকটা লাইনচ্যুত একটি ট্রেনকে আবার লাইনে ফিরিয়ে এনে চালু করার মতো। ন্যূনতম রিপেয়ার করে, কিছু যন্ত্রাংশ বদলে অন্তত গতি দেওয়ার চেষ্টা। যদি আমরা এটা করতে পারি, তাহলে এটাকেই আমরা প্রথম বড় সাফল্য হিসেবে ধরতে পারি। এরপর পরবর্তী দিকনির্দেশনায় আরও উন্নতির দিকে এগোতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা অনেক এবং যৌক্তিক প্রত্যাশা। তবে ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আমরা যে প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি, দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে আমাদের একটা বিরাট ভ্যাকুয়াম (শূন্যতা) হয়ে গিয়েছে। এই ভ্যাকুয়ামের কারণে আমরা এখনো বলতে পারি, আমরা ২০০৮ সালের আগে পড়ে আছি।’
বিগত নির্বাচনগুলোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, গত তিনটি নির্বাচনে যেসব ঘাটতি ও ক্ষতি হয়েছে, সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে আমরা সম্মিলিতভাবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করছি। নির্বাচন কমিশনের প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর যৌক্তিক প্রত্যাশার মধ্যে সমন্বয় ঘটানো জরুরি।
তিনি বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ফেরাতে নির্বাচন কমিশন বাস্তবসম্মত ও অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করতে চায়। এক্ষেত্রে সব পক্ষের সহযোগিতা অপরিহার্য।
বিগত তিনটি নির্বাচনে পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো যথাযথ দায়িত্ব পালন করেনি মন্তব্য করে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ৩০০টি সংস্থা আবেদন করেছিল, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে ৮১টিকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। বিগত তিনটি নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা সংস্থাগুলো যেভাবে দায়িত্ব পালন করেছিল তা যথাযথ ছিল না।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনি পর্যবেক্ষকদের ন্যূনতম বয়স ২১ বছর করা হয়েছে। এটি অংশগ্রহণকে আরও বিস্তৃত করবে। তবে অভিজ্ঞতার অভাবের কারণে কিছু উদ্বেগও প্রকাশ করেন তিনি। তিনি সকল অংশীজনকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান যাতে ২০২৬ সালের নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য হয়।
পোস্টাল ভোটিংয়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশ-বিদেশের প্রায় ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ভোটার ইতোমধ্যেই নিবন্ধন সম্পন্ন করেছে।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশে প্রবাসীদের নভোটার নিবন্ধনেরর হার ২.৭ শতাংশ, তবে বাংলাদেশে প্রবাসী ভোটারের নিবন্ধন ইতোমধ্যেই ৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে।
এ সময় আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সবাই একসঙ্গে আমরা জাতীয় প্রত্যাশা পূরণ করতে পারব এবং দেশের জনগণকে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পারব।
অনুষ্ঠানে ডেমোক্রেসি ওয়াচের চেয়ারপারসন তালেয়া রহমান খান, ফাউন্ডেশনের কো-চেয়ার রোকসানা খন্দকার, সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।