মালয়েশিয়ায় কাজ করতে যেতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রায় ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হওয়াকে কোনোভাবেই ন্যায্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি প্রবাসী শ্রমবাজারে মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে বিদেশগামী কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, অন্যান্য দেশের কর্মীদের তুলনায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের মালয়েশিয়ায় যেতে অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। প্রায় ৮ লাখ টাকা খরচ করে একজন কর্মীকে বিদেশে যেতে হলে সেটি কোনোভাবেই ন্যায্য বা সমান সুযোগের পরিস্থিতি হতে পারে না।
প্রবাসী শ্রমবাজারের অনিয়মের পাশাপাশি বিমান টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এনসিপির এই নেতা।
তার ভাষ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সৌদি আরবের বিমান টিকিটের দাম প্রায় ৩৫০ ডলার বা ৪০ হাজার টাকায় নেমে এসেছিল। এখন একই টিকিটের দাম সিন্ডিকেটের কারণে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা, এমনকি ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে।
দেশের বিভিন্ন খাতে নতুন করে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।’
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, কৌশলগত স্বাধীনতা ও ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন এনসিপির এই মুখপাত্র।
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে সরকারের উদ্যোগকে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবার সঙ্গে সম্পর্ক রাখার দরজা খোলা রাখা উচিত। তবে কোনো বাণিজ্যিক বা সামরিক চুক্তিতে যাওয়ার ক্ষেত্রেও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
আসিফ মাহমুদ বলেন, কোনো একটি পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে গিয়ে অন্য কোনো রাষ্ট্র বা অঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, পররাষ্ট্রনীতি সেভাবেই পরিচালনা করা প্রয়োজন।
দেশের তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অতিরিক্ত দাম ও বিভিন্ন ধরনের বিল পরিশোধ করার পরও নাগরিকেরা পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। এতে দেশের পরিস্থিতি আবার সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে।
এ সময় তিনি গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কথাও জানান তিনি।
১১ দলীয় জোট ঘোষিত লংমার্চ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আসিফ বলেন, এটি একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি। বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক শক্তি মূলত তাদের প্রতিবাদ করার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে।
লংমার্চের মাধ্যমে জনগণের দুর্ভোগের বিষয়গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি শুধু সংস্কারের প্রতিশ্রুতির অংশ নয়, বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার বিরুদ্ধেও একটি প্রতিবাদ।’
ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরে দেশবাসী, সহযোদ্ধা, প্রবাসী বাংলাদেশি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এনসিপির মুখপাত্র।