কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় পরপর দুই দিনে পৃথক ঘটনায় দুই বৃদ্ধের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) ও মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) উপজেলার পান্ডুল ও গুনাইগাছ ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— গুনাইগাছ ইউনিয়নের পূর্ব কালুডাঙ্গা গ্রামের মৃত মেহের আলীর ছেলে মো. আব্দুল জব্বার (৬৫) এবং উপজেলার পান্ডুল ইউনিয়নের ঢেঁকিয়ারাম গ্রামের মৃত বানছার আলীর ছেলে আব্দুল আখের ওরফে ফাকের (৬০)।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, আজ (মঙ্গলবার) সকালে বসতঘর থেকে আব্দুল জব্বারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
জব্বারের পরিবারের সদস্যরা জানান, গতকাল (সোমবার) রাত ৯টার দিকে প্রতিদিনের মতো খাওয়া-দাওয়া শেষে নিজ ঘরে ঘুমাতে যান জব্বার। আজ সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তার বোনের স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিম বকস খোঁজ নিতে গিয়ে ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। পরে ঘরে ঢুকে তাকে ঘরের ধরনার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তিনি। তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে আসেন এবং পুলিশকে খবর দেন।
স্থানীয়রা জানান, জব্বারের পারিবারিক জীবনে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিশেষ করে দ্বিতীয় স্ত্রী ফরিদা বেগমের নামে জমি লিখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথম পক্ষের ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে প্রায়ই বিরোধ লেগে থাকত তার। গত ১২ এপ্রিল এ নিয়ে নতুন করে বিরোধ সৃষ্টি হলে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যান।
অন্যদিকে, গতকাল (সোমবার) উপজেলার পান্ডুল ইউনিয়নের ঢেঁকিয়ারাম গ্রাম থেকে আব্দুল আখের ওরফে ফাকেরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ভোরে বাড়ির আঙিনায় একটি কূলগাছ ও বাঁশের সঙ্গে বাঁধা দোলনার প্লাস্টিকের রশিতে তিনি গলায় ফাঁস দেন। সকালে তার পুত্রবধূ মাজেদা বেগম তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় সেখানে দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশকে খবর দেন তিনি।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানান, দুটি ঘটনায় মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। ঘটনাগুলো গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।