কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাঁধের অন্তত ৩১টি স্থানে বড় ধরনের গর্ত ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ঘাঘট নদীর পানির চাপে বাঁধ ভেঙে জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য বন্যার আতঙ্কে রয়েছেন বাঁধসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা জানান, বাঁধ ভেঙে গেলে শহরের অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। পরিস্থিতি পরিদর্শনে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো প্রতিকার হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
গাইবান্ধা পৌর বিএনপির নেতা শহিদুজ্জামান শহীদ জানান, শহর রক্ষা প্রকল্পের আওতায় ঘাঘট নদীর লুপ কাটিং করে শহরের শেষ প্রান্ত দিয়ে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা হয়। এরপর গাইবান্ধা শহরকে বন্যার কবল থেকে রক্ষা করতে ঘাঘট নদীতে শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়।
তিনি বলেন, নদীর তীর রক্ষায় প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকায় কংক্রিটের (সিসি) ব্লক স্থাপন করা হয়। বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রতি বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কোটি কোটি টাকা জরুরি মেরামতের নামে ব্যয় করলেও তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও ২০১৯ সালে বন্যার পানির তোড়ে গাইবান্ধা পৌর এলাকার কুঠিপাড়া এলাকায় ঘাঘট নদীর শহর রক্ষা বাঁধ ভেঙে যায়। তখন পানির স্রোতে বেশকিছু বাড়িঘর ও অবকাঠামো ভেসে যায়। প্রবল স্রোতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বুকসমান ও কোথাও কোমরসমান পানি জমে যায়।
সেদিন ঘাঘট নদীর পানি উপচে ডেভিট কোম্পানি পাড়া, স্টেশন রোড, ডিবি রোড, কাচারি বাজার, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, হাসপাতাল, ভি-এইড রোড, মুন্সিপাড়া, পূর্বপাড়াসহ শহরের অধিকাংশ এলাকার বাড়িঘর, স্কুল-কলেজ ও সরকারি-বেসরকারি অফিস পানিতে তলিয়ে যায়। এতে গাইবান্ধা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়ে।