চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনসহ চার আসামির ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
ফটিকছড়িতে হত্যা ও অস্ত্র আইনে দায়ের করা দুই মামলায় ৭ দিন করে মোট ১৪ দিন রিমান্ডে আবেদন করে পুলিশ। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আদালত দুই মামলায় ওই আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোতাসিম বিল্লাহর আদালত এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। তাদের রিমান্ড শুনানীকে ঘিরে আদালত এলাকাতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে যশোরের কোতোয়ালী থেকে গ্রেপ্তার ইমনসহ ৪ জনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফটিকছড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের তথ্যমতে, ইমনের বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্রসহ মোট ১৩টি মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়া একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও তদন্তাধীন।
মোবারক হোসেন ইমন প্রকাশ ডেভিড ইমন (২৫) ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা।
রিমান্ডে নেওয়া ডেভিড ইমন ছাড়াও এই মামলার অপর আসামিরা হলেন— তার সহযোগী মো. শামীম, সাফায়েত হোসেন এবং আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল।
পুলিশ জানায়, গত ২৯ জুলাই যশোরের কোতোয়ালী থানার ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থানায় হত্যা ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় পৃথক মামলা করা হয়েছে।
জেলা পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডেভিড ইমনের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে গ্রেপ্তার আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ জানান, ফটিকছড়ি থানায় দায়ের করা হত্যা ও অস্ত্র মামলায় আসামি ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রতিটি মামলায় ৭ দিন করে মোট ১৪ দিন রিমান্ডে আবেদন করা হয়েছে। তবে আদালত শুনানি শেষে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আসামিদের কাছ থেকে অপরাধ জগতের আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও অস্ত্র উদ্ধারের উদ্দেশ্যে এই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।