চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে কলার পাতা কাটাকে কেন্দ্র করে আবুল বাশার (৬৩) নামে এক ব্যক্তির এক ঘুষিতেই তার প্রতিবেশী বিল্লাল হোসেনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের ইছাপুর গ্রামে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। আজ (শনিবার) গ্রেপ্তার তিনজনকে চাঁদপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দীন।
নিহত বিল্লাল হোসেন (৫০) ইছাপুর গ্রামের মৃত সোনা মিয়ার ছেলে ছিলেন। সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, তিন সন্তানের বাবা বিল্লাল ও আবুল বাশার প্রতিবেশী হলেও জমিজমা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। গত বৃহস্পতিবার তা নিয়ে থানায় অভিযোগ করেছিলেন আবুল বাশার।
গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে স্থানীয় রমজান আলীর দোকানের সামনে দুজনের মধ্যে এসব নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আবুল বাশার হঠাৎ পেছন দিক থেকে বিল্লাল হোসেনের ঘাড়ে ঘুষি দেন। এতে ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে জ্ঞান হারান বিল্লাল। পরে উপস্থিত কয়েকজন তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এরপর এ ঘটনা নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ওসি হেলাল উদ্দীন ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এদিকে, ঘটনার পরপরই আবুল বাশার এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়।
ওসি হেলাল উদ্দিন বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। চাঁদপুর পুলিশ সুপারের নির্দেশে ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ফরিদগঞ্জ-হাজীগঞ্জ সাকের্ল) মুকুর চাকমার দিকনির্দেশনায় এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ও মামলার এজহারভুক্ত তিন আসামি—আবুল বাশার, তার দুই ছেলে শাহাদাত হোসেন (৪০) ও ইমাম হোসেনকে (৩০) আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে গতকাল রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ (শনিবার) তাদের চাঁদপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।